জাতীয়
৫০ কোটি টাকা চাঁদাবাজির তথ্য কোথা থেকে এলো, পুলিশ-মিডিয়া কেউ জানে না!
গত ২৫ ডিসেম্বর রাতে গাজীপুরে যৌথ অভিযানে তাহরিমা জান্নাত সুরভী নামে এক তরুণীকে চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তার গ্রেফতারের ঘটনা নিয়ে বিগত কয়েকদিন ধরে দেশব্যাপী ব্যাপক আলোচনার পর ৫ জানুয়ারি আদালত তাকে জামিন দিলে তিনি মুক্ত হোন। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয় থাকায় সুরভীকে ‘জুলাইযোদ্ধা’ হিসেবে অনেকে চেনেন।
গবেষণামূলক অনুসন্ধানভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম দ্য ডিসেন্ট-এর প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
সুরভীকে গ্রেফতারের খবরটি দেশের শীর্ষ স্থানীয় মিডিয়ায় ফলাও করে প্রচারিত হয় এবং বেশিরভাগ সংবাদমাধ্যম ওইদিন জানায় যে, সুরভীর একটি চাঁদাবাজ চক্র আছে এবং “চক্রটি ইতিমধ্যে প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্ল্যাকমেইলিং ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে বিভিন্ন ভুক্তভোগীর কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে”।
পরবর্তী সময়ে যখন সুরভীকে যে মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে সেটির এজাহার সামনে আসে তখন দেখা যায়, তাতে ৫০ কোটি টাকা চাঁদাবাজির কোন অভিযোগ সুরভী বা তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে নেই।
এজাহারে কী বলা হয়েছে, তাহরিমা জান্নাত সুরভীকে গ্রেফতার করা হয় গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানায় গত ২৬ নভেম্বর দায়ের করা একটি মামলায়। মামলাটি করেছেন সুরভীর পরিচিত সাংবাদিক নাইমুর রহমান দুর্জয়, যিনি ঢাকার একটি সংবাদমাধ্যমে মোজো রিপোর্টার হিসেবে কর্মরত।
নাইমুর রহমান দুর্জয়ের করা মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ঘটনার দিন “সংবাদ সংক্রান্ত তথ্য দেওয়ার কথা বলে দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার নাইমুর রহমান দুর্জয়কে গাজীপুরের চান্দরা চৌরাস্তা এলাকায় ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে কালিয়াকৈরের সফিপুর এলাকায় নেওয়া হয়। সেখানে তাকে মারধর করে আটকে রাখা হয় এবং তার মোটরসাইকেল, মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়।”
এজাহারে আরও উল্লেখ আছে, মৃত্যুর হুমকি দিয়ে পরিবারের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় এবং তার বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ৪৪,৭০০ টাকা তুলে নেওয়া হয়। এছাড়া তাকে জোরপূর্বক ইয়াবা ব্যবসার স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য করে ছবি ও ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হলেও বিষয়টি প্রকাশ করলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
নাইমুর রহমান দুর্জয় বলেছেন, তিনি ৫০ কোটি টাকার চাঁদাবাজির কোনো অভিযোগ করেননি; সুরভীর বিরুদ্ধে তার সকল অভিযোগ তার মামলার এজাহারে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা আছে।
পুলিশও ৫০ কোটির তথ্যের সূত্র জানে না
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, তারা তাহরিমা জান্নাত সুরভীকে ৫০ কোটি টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার করেননি। নাইমুর রহমান দুর্জয় করা মামলায় তার বিরুদ্ধে ৪৪,৭০০ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির কথা বলা আছে। কিন্তু এই টাকা তারা আদায় করতে পারেনি।
“৫০ কোটি টাকার তথ্য মিডিয়া কোথা থেকে পেল তা আমরা জানি না। পুলিশ এ ধরনের কোনো তথ্য দেয়নি। আমরা তাকে শুধু দুর্জয়ের করা মামলায় গ্রেফতার করেছি”, বলেছে ওসি নাসির উদ্দিন।
সুরভীর বিরুদ্ধে অন্য কোন মামলায় ৫০ কোটি টাকা চাাঁবাজির অভিযোগ আছে কিনা– প্রশ্ন করা হলে ওসি জানান, অন্য কোন মামলার তথ্য তার কাছে নেই।
৫০ কোটি টাকার খবরটি যেভাবে এসেছে: একটি টাইমলাইন
দ্য ডিসেন্ট অনুসন্ধান করে দেখার চেষ্টা করেছে কীভাবে এরকম একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেশের শীর্ষ স্থানীয় বহু সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হলো। এজন্য প্রথমে অনলাইনে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে দ্য ডিসেন্ট আলোচ্য সংবাদটি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার একটি টাইমলাইন তৈরি করেছে। পরবর্তীতে বেশ কিছু সংবাদামাধ্যম তাদের এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন ঘোষণা ছাড়া সংশোধন এবং সরিয়ে ফেলায় কিছু প্রতিবেদন এই টাইমলাইন থেকে বাদ পড়েও থাকতে পারে।
সুরভীকে গ্রেফতার করা হয় ২৪ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে। অনলাইনে খুঁজে গ্রেফতার সংক্রান্ত প্রথম সংবাদটি পাওয়া গেছে বাংলাদেশ বুলেটিন নামের একটি ওয়েবসাইটে। ওই রাতে ভোর ৩টা ৫৪ মিনিটে (২৫ ডিসেম্বর) “আলোচিত সেই জুলাইযোদ্ধা তাহরিমা গ্রেফতার” শিরোনামে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে বাংলাদেশ বুলেটিন। রিপোর্টার হিসেবে ‘টঙ্গী প্রতিনিধি’ লেখা রয়েছে।
প্রতিবেদনের শুরুতে বলা হয়েছে, “ব্ল্যাকমেইল, মামলা বাণিজ্য ও প্রতারণার অভিযোগে আলোচিত জুলাইযোদ্ধা তাহরিমা জান্নাত সুরভীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আজ রাতে গাজীপুরের টঙ্গীর নিজ বাসা থেকে তাহরিমাকে গ্রেফতার করা হয়।”
এরপর আরও লেখা হয়েছে, “সম্প্রতি গুলশানের এক ব্যবসায়ীর কাছে জুলাই আন্দোলনের মামলার ভয় দেখিয়ে প্রায় আড়াই কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় এক সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র। এই চক্রের মূল নেতৃত্বে ছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত ভাইরাল জুলাইযোদ্ধা তাহরিমা। তদন্তে আরও জানা গেছে, এই চক্রটি ইতিমধ্যে প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্ল্যাকমেইলিং ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে বিভিন্ন ভুক্তভোগীর কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে।”
লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো, এই প্রতিবেদনে সুরভীকে গ্রেফতারের তথ্য এবং একাধিক ছবি ব্যবহার করা হলেও এসব তথ্যের কোন সূত্র উল্লেখ করা হয়নি।
পুরো প্রতিবেদনে ‘সূত্র’ বলতে তিনবার নামহীন সুত্রের কথা লেখা হয়েছে। সেগুলো হলো: “তদন্তে আরও জানা গেছে”, “অভিযোগ সূত্রে জানা যায়” এবং “অভিযোগ রয়েছে”।
যেসব ব্যবসায়ীর কাছ থেকে থেকে সুরভী এবং তার চক্র ‘টাকা হাতিয়েছেন’ তাদেরও কোন নাম পরিচয়ও উল্লেখ করা হয়নি।
এরপর এই খবরের দ্বিতীয় প্রকাশকারী হিসেবে পাওয়া গেছে বাংলাদেশ টাইমস নামে একটি অনলাইন পোর্টালকে। তারা ভোর ৫টা ৪৮ মিনিটে ‘মোজো ডেস্ক’ উল্লেখ করে হুবহু শিরোনামসহ বাংলাদেশ বুলেটিন এর রিপোর্টটি প্রকাশ করে।
একই প্রতিবেদনের তৃতীয় প্রকাশকারী হিসেবে পাওয়া গেছে অনলাইন পোর্টাল বার্তা বাজার’কে। এই পোর্টালটি সকাল ৭টায় “৫০ কোটি টাকার মামলাবাণিজ্য ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ, গ্রেফতার আলোচিত জুলাইযোদ্ধা সুরভী” শিরোনামে ‘ডেস্ক রিপোর্ট’ উল্লেখ করে হবহু ওই রিপোর্টটি প্রকাশ করেছে।
এর প্রায় দেড় ঘন্টা পরে, সকাল ৮টা ২৮ মিনিটে দৈনিক কালের কণ্ঠে ‘অনলাইন ডেস্ক’ “৫০ কোটি টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগে কথিত ‘জুলাইযোদ্ধা’ সুরভী গ্রেফতার” শিরোনামে বাংলাদেশ বুলেটিনের ওই প্রতিবেদনটি প্রায় হুবহু প্রকাশ করা হয়। তবে কয়েক জায়গায় বাক্য কিছুটা পরিবর্তন করা হয়েছে। দ্য ডিসেন্ট এর সার্চে প্রাপ্ত তথ্য মতে, কালের কণ্ঠ এই প্রতিবেদনের চতুর্থতম প্রকাশকারী।
এই চারটি সংবাদমাধ্যমের কর্তৃপক্ষের সাথে তাদের এই প্রতিবেদন নিয়ে কথা বলেছে দ্য ডিসেন্ট।
প্রথম প্রকাশকারী ৪ সংবাদমাধ্যমের রহস্যজনক সূত্র
বাংলাদেশ বুলেটিন এর ম্যানেজিং এডিটর সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে বুধবার দুপুর একটায় ফোনে কথা বলেন দ্য ডিসেন্ট এর প্রতিনিধি। তখন জনাব সাখাওয়াত জানান, এই রিপোর্ট সম্পর্কে তিনি কিছু জানেন না।
“আমাদের এখানে চারটি মিডিয়া আছে। আমি চারটিরই দায়িত্বে আছি। আমরা রিপোর্টারের ওপর নির্ভর করি। তারা যা পাঠায় সেটাই প্রকাশ করি। আমি রিপোর্টারের সঙ্গে কথা বলব, পরে আপনাকে জানাতে পারব”, বলেন সাখাওয়াত।
কখন জানাবেন এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “রাত আটটার পরে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা রিপোর্টারের সঙ্গে ফোনে কথা বলি না। অফিসে আসলে কথা বলব।”
এরপর বুধবার সন্ধ্যায় আবার ফোন করে সাখাওয়াত হোসেনের কাছে তাদের এই প্রতিবেদনের রিপোর্টার ‘টঙ্গী প্রতিনিধি’র নাম ও যোগাযোগ নম্বর চাওয়া হয়। তখন তিনি জানান, তাদের কোন টঙ্গী প্রতিনিধি নেই।
তাহলে ‘টঙ্গী প্রতিনিধি’র নামে খবরটি প্রকাশ করা হলো কেন, এমন প্রশ্নের জবাব তিনি বলেন, ‘এটা ডেস্ক থেকে কেউ করেছে।’
এরপর তিনি আরও জানান, প্রকৃতপক্ষে খবরটি তারা দৈনিক কালের কণ্ঠ থেকে কপি করেছেন।
যদিও ওয়েবসাইটে প্রদত্ত সময় অনুযায়ী, বাংলাদেশ বুলেটিনের প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে রাত ৩টা ৫৪ মিনিটে আর কালের কণ্ঠের প্রতিবেদন তার প্রায় সাড়ে ৪ ঘণ্টা পর সকাল ৮টা ২৮ মিনিটে প্রকাশিত হয়েছে।
নিজের বক্তব্যের পক্ষে প্রমাণ হিসেবে জনাব সাখাওয়াত কালের কণ্ঠের ফেসবুক পেইজে শেয়ার করা এ সংক্রান্ত একটি ফটোকার্ডে স্ক্রিনশট এবং সেটি যে মোবাইলে নেয়া হয়েছে সেটির মেটাডাটার স্ক্রিনশট শেয়ার করেছেন।
দ্য ডিসেন্ট কালের কণ্ঠের ওই ফটোকার্ডটি তাদের ফেসবুক পেইজে খুঁজে পেয়েছে যেটি পোস্ট করা হয়েছে ২৫ ডিসেম্বর ভোর রাত ২টা ১০ মিনিটে। তবে ফটোকার্ডে যে শিরোনাম রয়েছে তাতে সুরভীর গ্রেফতারের তথ্য থাকলেও ‘৫০ কোটি টাকার’ কথা নেই। এবং কালের কণ্ঠের ফটোকার্ডে ‘বিস্তারিত লিংকে’ লেখা থাকলেও কমেন্ট সেকশনে ওয়েবসাইটের কোন লিংক পাওয়া যায়নি। কালের কণ্ঠের ওয়েবসাইটেও ফটোকার্ডে উল্লিখিত শিরোনামের কোন প্রতিবেদনও পাওয়া যায়নি। হতে পারে, এরকম শিরোনামের প্রতিবেদন করে পরে ডিলিট করা হয়েছে। ডিলিট করা হয়ে থাকলে তাতে ‘৫০ কোটি টাকার’ প্রসঙ্গ ছিল কিনা তা যাচাই করা সম্ভব হচ্ছে না। এক্ষেত্রে কালের কন্ঠের প্রতিবেদন থেকে বাংলাদেশ বুলেটিন কপি করেছে কিনা তাও নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ নেই।
কালের কণ্ঠের অনলাইনে দায়িত্বরত একাধিকজনের সাথে কথা বললে তারা জানান, ওই রাতের শিফটে যিনি দায়িত্বে ছিলেন তিনি এখন আর পত্রিকাটিতে চারকিরত নেই। ফলে, তারা এই শিরোনামের কোন প্রতিবেদন কেন এখন নেই তার ব্যাখ্যা দিতে পারছেন না।
অনলাইনে থাকা প্রতিবেদনগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ বুলেটিন-ই প্রথম ৫০ কোটি প্রসঙ্গ নিয়ে রিপোর্ট করে বলে পাওয়া যাচ্ছে। এবং কালের কণ্ঠ পরবর্তীতে তাদের প্রতিবেদনটিই যে, কপি করে নতুন করে প্রকাশ করেছে সেটিও প্রমাণিত।
৫০ কোটি চাঁদাবাজির খবরটি বাংলাদেশ টাইমস কোথা থেকে পেয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিষ্ঠানটির মোজো এডিটর সাব্বির আহমেদ বলেন “আমার এই নিউজ সম্পর্কে জানা নেই। আপনি যদি আমার কাছে নিউজের লিঙ্ক দিতে পারেন, আমি খোঁজ নিয়ে জানাতে পারব।”
পরবর্তীতে নিউজের লিংক পাঠানোর তিনি জানান, তারা তথ্যটি বাংলাদেশ বুলেটিন পত্রিকা থেকে নিয়েছেন। যদিও বাংলাদেশ টাইমস এর প্রতিবেদনে বাংলাদেশ বুলেটিন এর ক্রেডিট দেয়া ছিল না।
বার্তা বাজার খবরটি কোথায় পেয়েছে প্রশ্ন করলে পোর্টালটি সম্পাদক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী দ্য ডিসেন্টকে বলেন, “আমরা নিউজটি বাংলাদেশ টাইমস থেকে কপি করেছি। এই ধরনের নিউজগুলো যখন আমরা অন্যদের থেকে সংগ্রহ করি, তখন ডেস্ক রিপোর্ট হিসেবে উল্লেখ করি।”
৫০ কোটি টাকা চাঁদাবাজির তথ্য যুক্ত যে প্রতিবেদনটি কালের কণ্ঠ ২৫ তারিখ সকাল ৮টা ২৮মিনিটে প্রকাশ করেছে সেটির সূত্র কী জানতে চাইলে পত্রিকাটির নির্বাহী সম্পাদক হায়দার আলী বলেন, “আমি এই রিপোর্ট সম্পর্কে কিছু জানি না। খোঁজ নিতে হবে, তারপর আপনাকে জানাতে পারব।”
এর কিছুক্ষণ পর কালের কণ্ঠের অনলাইনে কর্মরত একজন প্রতিবেদকের সাথে কথা বললে তিনি জানান, তারা প্রতিবেদনটি বার্তা বাজার থেকে সংগ্রহ করেছেন।
তবে অন্য একটি অনলাইন পোর্টাল থেকে খবর নিয়ে কোন প্রকার যাচাই এবং ক্রেডিট উল্লেখ করা ছাড়াই তা প্রকাশের বিষয়ে জানতে হায়দার আলীর সঙ্গে পরবর্তীতে যোগাযোগ করলে তিনি সাড়া দেননি।
অন্যান্য সংবাদমাধ্যমগুলো যেভাবে প্রকাশ করেছে এই খবর
কালের কণ্ঠের পরে ৯টা ১০ মিনিটে ‘নিজস্ব প্রতিবেদক’ এর বরাতে “৫০ কোটি টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগে ‘জুলাইযোদ্ধা’ সুরভী গ্রেফতার” শিরোনামে খবরটি প্রকাশ করে বাংলা ভিশন। ‘নিজস্ব প্রতিবেদক’ এর বরাত দেয়া হলেও প্রতিবেদনটি বাংলাদেশ বুলেটিন এর প্রতিবেদনের হুবহু কপি-পেস্ট; শুধু কয়েকটি বাক্য আগ-পিছ করা হয়েছে।
এরপর ৯টা ৩৫ মিনিটে ‘গাজীপুর প্রতিনিধি’ এর বরাতে খবরটি প্রকাশ করে বাংলা ট্রিবিউন। “জুলাইযোদ্ধা তাহরিমা জান্নাত সুরভী গ্রেফতার” শিরোনামের ভেতরে ৫০ কোটি চাঁদাবাজির তথ্য বাংলাদেশ বুলেটিনে যেভাবে ছিল সেভাবেই হাজির করা হয়েছে। বাকি প্যারাগুলোও একই রকম। শুধু এখানে একটি সূত্র যুক্ত করা হয়েছে, “টঙ্গী পূর্ব থানার ওসি মেহেদী হাসান জানান” বলে।
বাংলা ট্রিবিউনের গাজীপুর প্রতিনিধি রায়হানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ৫০ কোটির তথ্যটি তাকে জানানি টঙ্গী পূর্ব থানার ওসি মেহেদী হাসান। অন্য কোন সাংবাদিকের কাছ থেকে জেনে তিনি ওসির বরাতে এটি লিখেছিলেন। এখন আর ওই সাংবাদিকের নাম মনে নেই।
২৫ ডিসেম্বর ১০টা ৩ মিনিটে দৈনিক ইত্তেফাক ‘ইত্তেফাক ডিজিটাল রিপোর্ট’ এর বরাতে খবরটি প্রকাশ করে শিরোনাম দেয়, “৫০ কোটি টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগে আলোচিত ‘জুলাইযোদ্ধা’ সুরভী গ্রেপ্তার”।
১০টা ৫৩ মিনিটে দৈনিক যুগান্তর ‘যুগান্তর প্রতিবেদন, গাজীপুর’ এর বরাতে শিরোনাম করে “কথিত জুলাইযোদ্ধা তাহরিমা গ্রেফতার, ৫০ কোটি টাকার চাঁদাবাজি”।
১০টা ৫৩ মিনিটে দেশ রূপান্তরও ডেস্ক এর বরাতে শিরোনাম করেছে, “৫০ কোটি টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ, আলোচিত ‘জুলাইযোদ্ধা’ সুরভী গ্রেপ্তার”।
১০টা ৫৪ মিনিটে আরটিভি অনলাইনে ‘আরটিভি নিউজ’ এর বরাতে “৫০ কোটি টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ ‘জুলাইযোদ্ধা’ সুরভীর বিরুদ্ধে, আরও যা জানা গেল” শিরোনামে খবরটি প্রকাশ করা হয়েছে।
বিকাল ৩টা ৬ মিনিটে ‘টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি’ উল্লেখ করে দৈনিক সমকাল তাদের ওয়েবসাইটে ও পরে মাল্টিমিডিয়া স্টোরি প্রকাশ করে। শিরোনাম ছিল, “৫০ কোটি টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ কথিত ‘জুলাইযোদ্ধা’ তাহরিমা গ্রেপ্তার।”
যেহেতু ‘টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি’ দেয়া আছে, তাই সমকালের টঙ্গী প্রতিনিধি মুসার সাথে যোগাযোগ করা হয়। তিনি জানান, এই তথ্য তাকে কেউ বলেনি। মুসা বলেন, “খালি আমি নই তো। আরও অনেক সংবাদমাধ্যম এই তথ্য প্রকাশ করেছে।”
এছাড়া চ্যানেল আই অনলাইন, ডিবিসি নিউজ, কালবেলা, জাগো নিউজ সহ আরও বেশ কিছু গণমাধ্যম এই নিউজ প্রকাশ করে। সবার এই সংক্রান্ত প্রতিবেদনের প্যারাগুলো প্রায় হুবহু মিলে যায়। সূত্রগুলোও সব জায়গায়ই নাম পরিচয়হীন।
এ বিষয়ে কথা বলার জন্য সমকালের অনলাইন সম্পাদকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি অবগত নই। খোঁজ নিয়ে জানাতে পারব।”
এরপর কল করা হলে তিনি জানান, রিপোর্টটি প্রতিনিধির তথ্যের ভিত্তিতে করা হয়েছে এবং ইতোমধ্যেই সংশোধন করা হয়েছে।
এ ছাড়াও বাংলাভিশনের হেড অফ নিউজ আব্দুল হাই সিদ্দিক বলেন, “আমি এ ব্যাপারে কিছু জানি না। অনলাইন বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।”
দ্য ডিসেন্ট বাংলাভিশনের অনলাইনে দায়িত্বে থাকা কারো সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি।
যুগান্তরের অনলাইন শিফট ইনচার্জ আতাউর রহমান বলেছেন, খবরটি আমাদের দৃষ্টিতে আসার পর তাতে গরমিল আছে বলে মনে হয়েছে। এ বিষয়ে আমরা সংশোধনী দেব।
ইত্তেফাকের অনলাইন সম্পাদক সহ বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও পাওয়া যায়নি।
দ্য ডিসেন্ট এই প্রতিবেদক কর্তৃক যোগাযোগের পর বাংলাদেশ বুলেটিন, সমকালসহ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম তাদের এ সংক্রান্ত প্রতিবেদগুলো সরিয়ে নিয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ সংশোধনী নোটিশও দিয়েছেন।
জাতীয়
সব সরকারি অফিসের জন্য জরুরি নির্দেশনা
নির্বাচন পর্যন্ত সরকারি যোগাযোগে গণভোটের লোগো ব্যবহার এবং এ সংক্রান্ত ব্যানার দৃষ্টিনন্দন স্থানে প্রদর্শনের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সব মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব/সচিব, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসকের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
এর আগে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে গত ৫ জানুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় হতে প্রাপ্ত নিম্নবর্ণিত লোগো সব ধরনের পত্র যোগাযোগে (পত্রের উপরে ডান পাশে) ব্যবহার করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।
জাতীয়
বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের ‘ভিসা বন্ড’ থেকে অব্যাহতি বিবেচনা করবে যুক্তরাষ্ট্র
অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান স্থানীয় গতকাল শুক্রবার ওয়াশিংটন ডিসিতে পররাষ্ট্র দপ্তরের রাজনৈতিকবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি অ্যালিসন হুকার ও সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তারা বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক, রোহিঙ্গা সমস্যা এবং আঞ্চলিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
আজ শনিবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, সম্প্রতি আরোপিত মার্কিন ‘ভিসা বন্ড’ ব্যবস্থার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যাতায়াত সহজ করার অনুরোধ জানিয়েছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান।
ওয়াশিংটন ডিসিতে শুক্রবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের রাজনৈতিকবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি অ্যালিসন হুকারের সঙ্গে এক বৈঠকে এ অনুরোধ জানান তিনি।
প্রেস উইং জানায়, সম্ভব হলে বি-১ (স্বল্পমেয়াদী ব্যবসা) ভিসার ক্ষেত্রে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের এই ‘ভিসা বন্ড’ থেকে অব্যাহতি দিতে বিশেষ অনুরোধ করেন ড. খলিলুর রহমান।
জবাবে অ্যালিসন হুকার বিষয়টি আমলে নেন এবং মার্কিন সরকার এই পদক্ষেপটি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে বলে আশ্বাস দেন।
ভবিষ্যতে যদি পর্যটকদের নির্ধারিত সময়ের চেয়ে অতিরিক্ত অবস্থানের (ওভারস্টে) হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে, তবে যুক্তরাষ্ট্র এই বন্ডের প্রয়োজনীয়তা পুনর্বিবেচনা করতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি। এছাড়া নথিপত্রহীন বাংলাদেশিদের স্বদেশে ফিরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে ঢাকার আন্তরিক সহযোগিতার ভূয়সী প্রশংসা করেন হুকার।
বৈঠকে বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক, রোহিঙ্গা সংকটসহ আঞ্চলিক গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
ড. রহমান আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি ও আয়োজন সম্পর্কে হুকারকে অবহিত করেন। একইসঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদে নির্বাচনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
হুকার জানান, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে যুক্তরাষ্ট্রের জোরালো সমর্থন অব্যাহত থাকবে এবং তারা আগামী ফেব্রুয়ারিতে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশা করেন।
ড. খলিলুর রহমান যুক্তরাষ্ট্র থেকে কৃষিপণ্য আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ার ফলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধির সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।
তিনি বাংলাদেশে আশ্রিত বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রতি নিরবচ্ছিন্ন সহায়তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
রোহিঙ্গাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্র সবচেয়ে বড় দাতা দেশ উল্লেখ করে তিনি এই সহায়তা ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখারও অনুরোধ করেন। বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ যে বড় দায়িত্ব বহন করছে, তার জন্য ধন্যবাদ জানান হুকার।
তিনি এই সংকটের সমাধান এবং দায়ভার সবার মধ্যে ভাগ করে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
পাশাপাশি বাংলাদেশে থাকাকালে রোহিঙ্গাদের জীবনমানের সুযোগ বাড়ানোরও অনুরোধ জানান তিনি।
জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের জন্য ডিএফসি অর্থায়নে প্রবেশাধিকার এবং দেশের সেমিকন্ডাক্টর উন্নয়নে বিশেষ আর্থিক সহায়তা দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি অনুরোধ জানান।
আন্ডার সেক্রেটারি হুকার প্রস্তাবগুলো গুরুত্বের সাথে বিবেচনার আশ্বাস দেন। এছাড়া, গাজায় মোতায়েন হতে যাওয়া ‘আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা বাহিনী’র অংশ হতে বাংলাদেশের নীতিগত আগ্রহের কথা জানান জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা।
হুকার বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এই বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী।
এদিকে, পৃথক এক বৈঠকে মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে ড. খলিলুর রহমান দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। এতে বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, রোহিঙ্গা সংকট, ভিসা বন্ড ও বাণিজ্য-বিনিয়োগসহ আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পায়।
বাংলাদেশে নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের শপথ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগ দেন ড. খলিলুর রহমান। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর আয়োজিত এ শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবস্থাপনা ও সম্পদবিষয়ক উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইকেল জে রিগাস।
অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত, দূতাবাসের কর্মকর্তা, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ও সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত এবং শীর্ষ ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় মার্কিন উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের উজ্জ্বল গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের পথে সহায়তা করে যাবে। আমি নির্বাচনের ফলাফলের অপেক্ষায় আছি এবং নবনির্বাচিত সরকারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এগিয়ে নিতে কাজ করতে চাই।’
সব অনুষ্ঠানে দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে ছিলেন।
জাতীয়
এই সরকার ভারতের আধিপত্য থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করেছে: আইন উপদেষ্টা
অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, এই সরকার এসে ভারতের আধিপত্য থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করেছে। ভারতের যে আগ্রাসী একটা ভূমিকা ছিল সব জায়গায়, সেখান থেকে স্বাধীন কন্ঠে কথা বলতে পারছে।
তিনি বলেন, অবশ্যই সমালোচনার কিছু কিছু যৌক্তিক দিক আছে। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে সমালোচনাটা নির্দয় পর্যায়ে চলে যায়। ১০টা জিনিসের যদি সরকার ৪টা জিনিস করে, ৪টা করেছে সেটা বলেন, এরপর যে ৬টা করতে পারে নাই সেটার জন্য সমালোচনা করেন। কিন্তু এরকম কিছুই দেখবেন না।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘রাজনৈতিক দল, মানবাধিকার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা’ শীর্ষক পলিসি ডায়ালগে তিনি এসব কথা বলেন।
বিচার বিভাগের সংস্কারের কথা উল্লেখ করে আসিফ নজরুল বলেন, এখন বিচার বিভাগে পদ সৃষ্টি, বদলি, পদোন্নতি, বাজেট অ্যালোকেশনসহ সবকিছু উচ্চ আদালতে দিয়ে দেওয়া হয়েছে। এটা কি সংস্কার না? রাষ্ট্রের এত বড় একটা অঙ্গের বাংলাদেশের ৫৪ বছরের ইতিহাসে এটা কোনো সংস্কার না? এটা কি আপনাদের মনে হয় না বাংলাদেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় একসময় ভূমিকা রাখবে? সংস্কার ম্যাজিক লাইট না যে সঙ্গে সঙ্গে ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, আমরা একটা গুম কমিশন করেছি। এটা অসাধারণভাবে কাজ করেছে। এই কমিশনের অভিজ্ঞতার আলোকে আমরা একটা হিউম্যান রাইটস কমিশন ল করেছি। আমি আপনাদের প্রত্যয়ের সঙ্গে বলি, দক্ষিণ এশিয়ার যে কোনো হিউম্যান রাইটস আইনের চেয়ে আমাদের আইনটা বেটার হয়েছে। আমরা এই আইন অনুযায়ী অচিরেই হিউম্যান রাইটস কমিশনে নিয়োগ দিতে যাচ্ছি। এটা কি কোনো সংস্কার না? আমাদের এই বিপ্লব পরবর্তী সময়ে প্রত্যাশা ম্যানেজমেন্ট একটা বিশাল ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের আরও কিছু কাজের বিবরণ দিয়ে শ্রোতাদের উদ্দেশে প্রশ্ন উত্থাপন করে উপদেষ্টা বলেন, আমাদের যে রিজার্ভ বেড়েছে, আমাদের যে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ আছে, আমাদের যে ব্যাংকিং খাতে ভগ্নপ্রায়, বিধ্বস্ত ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা এবং আস্থা ফিরে এসেছে এগুলি কোনো সাফল্য না? আমাদের যে ২০ হাজারেরও বেশি হয়রানিমূলক মামলা, যেখানে প্রায় ৫ লাখ আসামি ছিল বিরোধীদলের, ভিন্নমতের। সেই মামলা প্রত্যাহার হয়েছে। এগুলো কি কোনো সাফল্য না?
জাতীয়
দেশে চালের ঘাটতি নেই, তারপরও কেন দাম বাড়ে- প্রশ্ন সিপিডির
আন্তর্জাতিক বাজারে চালের দাম ৪০ শতাংশ কমেছে। দেশে চাল উৎপাদনেও ঘাটতি নেই। তারপরও কেন দাম বাড়ে— এ প্রশ্ন রেখে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) বলছে, এ ক্ষেত্রে চালের উৎপাদন খরচ ও ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট বড় কারণ।
শনিবার ধানমন্ডিতে প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ে ‘বাংলাদেশ অর্থনীতি ২০২৫-২৬: নির্বাচনী বাঁকে বহুমাত্রিক ঝুঁকি’ শীর্ষক মিডিয়া বিফ্রিংয়ে সিপিডি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন এ বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করেন।
এ সময়ে সিপিডির সম্মানীয় ফেলো প্রফেসর মোস্তাফিজুর রহমান ও গবেষণা পরিচালক গোলাম মোয়াজ্জেম উপস্থিত ছিলেন।
সিপিডির গবেষণা প্রবদ্ধ উপস্থাপনকালে ফাহমিদা খাতুন বলেন, ২০২৩ সাল থেকে উচ্চ মূল্যস্ফীতি এখনও চলমান রয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মূল্যস্ফীতি কমছে, তবে কমার হার ধীর। লক্ষ্যমাত্রা থেকে অনেক পিছিয়ে রয়েছে। ডিসেম্বর মাসে মূল্যস্ফীতি ৮.৪৯ শতাংশ। খাদ্য মূল্যস্ফীতি আরও কমে এসেছে। তবে খাদ্য বহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশ। সুতরাং খাদ্যের মূল্য কিছুটা কমলেও অন্যান্য পণ্যের দাম বেশি।
তিনি বলেন, খাদ্যের দাম কেন কমছে না? যেমন: চালের মূল্যের সঙ্গে অন্যান্য পণ্যের মূল্যস্ফীতির সম্পৃক্ততা রয়েছে। তথ্যে পাওয়া যায় চালের চাহিদা ৩১ মিলিয়ন মেট্রিক, আর উৎপাদন ৪৪ মিলিয়ন টন। অর্থাৎ চালের উৎপাদনে ঘাটতি নেই। তারপরও কেন দাম বাড়ে। এ ক্ষেত্রে চালের উৎপাদন খরচ ও ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট বড় কারণ হিসাবে দেখতে পাচ্ছি। অথচ আন্তর্জাতিক বাজারে চালের দাম ৪০ শতাংশ কমেছে, কিন্তু আমাদের দেশে কমছে না। চিনি ও তেলের ক্ষেত্রেও দেখা গেছে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলেও আমাদের দেশে কমছে না।
সামনে নির্বাচন, অর্থনৈতিক গতিপ্রকৃতিও মন্থর এই অবস্থায় রাজস্ব লক্ষমাত্রা বৃদ্ধি কতটা যৌক্তিক এমন প্রশ্ন রেখে সিপিডির ফাহমিদা খাতুন বলেন, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনমাসে রাজস্ব প্রবৃদ্ধি ১৬.৭ শতাংশ হলেও লক্ষ্যমাত্রা থেকে অনেক পিছিয়ে রয়েছে। যতটুকু জানতে পেরেছি নভেম্বর পর্যন্ত রাজস্ব আদায়ের প্রবৃদ্ধি ১৫.০২ শতাংশ। এনবিআরকে যদি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হয়, তাহলে বাকি সময়ে প্রায় ৩৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হবে। বর্তমান বাস্তবতায় খুবই কঠিন হবে। অন্যদিকে সংশোধিত বাজেটে এনবিআরের লক্ষ্যমাত্রা ৫৫ হাজার কোটি টাকা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু আমাদের অতীত অভিজ্ঞতা বলে মূল বাজেটে যে লক্ষ্যমাত্রা থাকে সেটা অর্জন করতেই এনবিআরকে হিমশিম খেতে হয়। সামনে নির্বাচন, অর্থনৈতিক গতিপ্রকৃতিও মন্থর। এই অবস্থায় লক্ষ্যমাত্রা বৃদ্ধি কতটা যৌক্তিক, সেই প্রশ্ন রয়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, অন্যদিকে সরকারি ব্যয়ে দেখতে পাই সরকারি ব্যয় বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে গত ১০ বছরের মধ্যে সর্বনিন্ম। জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত এডিপি বাস্তবায়নের হার সাড়ে ১১ শতাংশ। বড় বড় মন্ত্রণালয়ের এডিপি বাস্তবায়ন হার অনেক কম। যেমন- সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, বিদ্যুৎ বিভাগ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ ইত্যাদি। আবার বাজেট ঘাটতি নিয়ে যদি বিশ্লেষণ করা যায়, তাহলে ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরের প্রথম তিন মাসে জুলাই–সেপ্টেম্বর সময়ে অনুদান বাদে বাজেটে উদ্বৃত্ত দেখা যাচ্ছে। ওই সময়ে বাজেট উদ্বৃত্তের পরিমাণ ১২ হাজার ১৫৩ কোটি টাকা, যেখানে আগের অর্থবছরের একই সময়ে উদ্বৃত্ত ছিল ৫ হাজার ১৬৬ কোটি টাকা। তবে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের ধীরগতিই ওই উদ্বৃত্তের প্রধান কারণ।
একই সময়ে সরকারের বৈদেশিক উৎস থেকে নিট ঋণ গ্রহণ কমেছে। তবে ব্যাংক খাত থেকে সরকারের ঋণ নির্ভরতা বেড়েছে। প্রথম তিন মাসে সরকার ব্যাংক খাত থেকে নিট ১ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে, বিপরীতে আগের অর্থবছরের একই সময়ে সরকার ব্যাংক খাতকে ১ হাজার ৬৪ কোটি টাকা পরিশোধ করেছিল। অব্যাংকিং খাত থেকে সরকারের নিট ঋণ গ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে ঋণাত্মক অবস্থায় নেমে এসেছে। জুলাই–সেপ্টেম্বর সময়ে সরকারের নিট ঋণ দাঁড়িয়েছে মাইনাস ৯ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা। অব্যাংকিং উৎসগুলোর মধ্যে জাতীয় সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি প্রায় ৯০ শতাংশ কমে যাওয়ায় এই প্রবণতা আরও স্পষ্ট হয়েছে।
সিপিডি বলছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে সরকারের অর্থায়নে ব্যাংক খাতের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। যা ভবিষ্যতে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ এবং সুদের হারের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। আর একটি বিষয় হচ্ছে সরকার ৫টি দূর্বল ইসলামী ব্যাংককে একত্রিত করতে গিয়ে ২০ হাজার কোটি টাকা পেইড অব ক্যাপিটাল দিয়েছে। আবার বিদ্যুৎ খাতের বকেয়া পরিশোধ করতে হবে ২০ হাজার কোটি টাকা। যদি সামনের গ্রীষ্মের লোডশেডিং কমাতে হয়, তাহলে ওই টাকা পরিশোধ করতে হবে। আর একটি বিষয় হচ্ছে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পে-স্কেল চলতি অর্থ বছরে হয়তো বাস্তবায়ন করতে হবে। সেক্ষেত্রে সরকারকে চাপের মুখে পড়তে হবে।
সুপারিশের ক্ষেত্রে সিপিডি বলছে, রাজস্ব বাড়াতে ডিজিটাল অর্থনীতি, সম্পদ ও সম্পত্তির ওপর কার্যকর কর আরোপ জরুরি। বাস্তব বাজারমূল্যের ভিত্তিতে সম্পত্তি কর হালনাগাদ করে এনবিআরের সম্পদ করের সঙ্গে সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তোলা যেতে পারে। একই সঙ্গে অকার্যকর কর ছাড় ও অব্যাহতিগুলো নিয়মিত পর্যালোচনা করে বাতিল করতে হবে এবং খেয়ালখুশিমতো কর সুবিধা দেওয়ার প্রবণতা কমাতে হবে। পাশাপাশি অবৈধ আর্থিক প্রবাহ রোধে নীতিগত ও বাস্তব প্রয়োগ—উভয় পর্যায়ে কর কর্তৃপক্ষের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।
জাতীয়
হজযাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষ করতে হবে ২৫ জানুয়ারির মধ্যে
হজযাত্রীদের টিকা নেওয়ার আগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নির্ধারিত ১১ ধরনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা আগামী ২৫ জানুয়ারির মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। এসব পরীক্ষার ভিত্তিতে তাদের টিকা নিতে হবে।
গত ৬ জানুয়ারি হজযাত্রীদের টিকা গ্রহণের পূর্বে স্বাস্থ্য পরীক্ষা সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়।
এতে বলা হয়, ২০২৬ সালের হজযাত্রীদের টিকা গ্রহণের আগে আগামী ২৫ জানুয়ারির মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্ধারিত স্বাস্থ্য পরীক্ষাগুলো সম্পন্ন করতে হবে।
রিপোর্টগুলোর মধ্যে রয়েছে- Urine R/M/E, Random Blood Sugar (RBS), X-Ray Chest P/A view (রিপোর্টসহ), ECG (রিপোর্টসহ), Serum Creatinine, Complete Blood Count (CBC with ESR) ও Blood Grouping and Rh Typing।
এছাড়াও দুরারোগ্য ব্যাধি (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) নির্ণয়ের জন্য আরও কিছু পরীক্ষা সম্পন্নের কথা বলা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে-
>> সন্দেহজনক হৃদপিন্ডের অকৃতকার্যতার পরীক্ষা- Echocrdiography।
>> কিডনি জটিলতার ক্ষেত্রে- S. Creatinine, USG of KUB।
>> সন্দেহজনক লিভার সিরোসিস রোগের ক্ষেত্রে- USG Whole abdomen, Endoscopy of upper GIT.
>> দীর্ঘস্থায়ী ফুসফুসের রোগ শনাক্তকরণে-Sputum for AFB, CTScan of chest, Serum bilirubin, SGPT, Albumin Globubin ratio।
হজযাত্রীর স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্ট ও ই-হেলথ প্রোফাইল কপি টিকা কেন্দ্রে মেডিকেল টিমের কাছে দাখিল করে টিকা গ্রহণ করে স্বাস্থ্য সনদ নিতে হবে।
যে কোনো তথ্যের জন্য হজের কল সেন্টার ১৬১৩৬ নম্বরে যোগাযোগ করা যেতে পারে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৬ মে সৌদি আরবে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে। এবার বাংলাদেশ থেকে প্রাথমিক নিবন্ধিত সাড়ে ৭৮ হাজার হজযাত্রী হজ পালন করতে পারবেন।




