Connect with us

মত দ্বিমত

শুধু বেসরকারি ব্যাংকাররাই বঞ্চিত হবেন কেন?

Published

on

বন্ড

চলতি বছরের গত ৯ ডিসেম্বর ব্যাংক কোম্পানীর কর্মকর্তা কর্মচারীগণের উৎসাহ বোনাস প্রদান প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিআরপিডি একটি সার্কুলার জারি করেছে। সেখানে বলা হয়েছে “ব্যাংকিং খাতের বর্তমান পরিস্থিতি এবং আর্থিক সক্ষমতা পর্যালোচনায় অ্যাক্রুড বা আনরিয়ালাইজড আয়ের ভিত্তিতে প্রণোদনা প্রদান করা ব্যাংকের আর্থিক সুশাসন এবং সুদক্ষ ব্যাংকিং ব্যবস্থাপনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এক্ষণে তফসিলী ব্যাংকসমূহকে তাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনুকূলে উৎসাহ প্রদানের পূর্বে নিম্নোক্ত সকল বিষয়ে নিশ্চিত করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হলো।

কোনো আর্থিক বছরে শুধুমাত্র প্রকৃত আয়-ব্যয়ের ভিত্তিতে নির্ণীত মুনাফা অর্জিত হলে উৎসাহ বোনাস দেয়া যাবে পুঞ্জিভূত মুনাফা হতে উৎসাহ প্রদান করা যাবে না। রেগুলেটরি মূলধন সংরক্ষণে কোন ঘাটতি বা কোনরূপ সঞ্চিতি ঘাটতি থাকতে পারবে না এবং এ ক্ষেত্রে কোনরূপ বিলম্ব করার সুবিধা প্রদান প্রদত্ত হলে তা মুনাফা নির্ণয়ের ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেয়া যাবেনা। বিভিন্ন সূচকে উন্নতির শ্রেণিকৃত পাবলিক অবলোপনকৃত ঋণ আদায়ে পর্যাপ্ত অগ্রগতি এই বোনাস প্রদানের ক্ষেত্রে বিবেচনায় নিতে হবে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংক ও তফশিলী বিশেষায়িত ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের কর্মরত কর্মচারীদের উৎসাহ প্রদান নির্দেশিকা ২০২৫ অনুসরণীয় হবে। ব্যাংক কোম্পানি আইন ১৯৯১ এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করা হলো।”

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

ব্যাংক মুনাফা না করলেও সরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মন্ত্রণালয়ের অনুমিতি নিয়ে প্রণোদনা বোনাস গ্রহণ করতে পারবেন কিন্তু বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সেটা পারবেন না এটা কি একটা বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত নয়? যেসকল বেসরকারি ব্যাংকে পর্যাপ্ত তারল্য রয়েছে এবং বছরের আয়-ব্যয় হিসাবে মুনাফা করতে সক্ষম হয়েছে কিন্তু অতীতের মন্দ ঋণের কারণে প্রভিশন ঘাটতিতে রয়েছে সেসব ব্যাংকের কর্মীরা প্রণোদনা বোনাস পেলে তাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কি ক্ষতি হবে?

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

সরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারিরা এমন বিশেষ কী সৎকাজ করেছেন এবং বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তারা কী এমন তিরস্কারযোগ্য কাজ করলেন সেটা কোন প্যারামিটারে যাচাই করা হলো বাংলাদেশ ব্যাংক সেটার কোন ব্যাখা দেয় নাই। সরকারি ব্যাংকগুলোতে বিনিয়োগ প্রদান করা বা রিকভারির কাজে কর্মকর্তা কর্মচারিদের যে তৎপরতা রয়েছে তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি কাজ করেন বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারিরা। সম্প্রতি পত্রপত্রিকার খবরে বলা হয়েছে সরকারি ব্যাংকগুলোতে খেলাপী ঋণের অবস্থা ভয়াবহ। সেখানে রয়েছে বিপুল পরিমাণে প্রভিশন ঘাটতি। শুধুমাত্র জনতা ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতির পরিমাণ ৪৮ হাজার ৩১ কোটি টাকা। একই ভাবে সোনালী, অগ্রণী, রূপালী, কৃষি এবং রাকাবেরও।

যেসব ব্যাংক বড় ধরণের প্রভিশন ঘাটতিতে পড়েছে তাদের এ সমস্যার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক সমানভাবে দায়ী। খেলাপী গ্রাহকদের সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন ভাবে সহায়তা করেছে। এখন তাদের সমস্যা থেকে উত্তরণের সহজ ব্যবস্থা না করে ব্যাংকারদের উপর আরো নিপীড়ণমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। ব্যাংকগুলো থেকে বড় বড় লুটেরা ব্যবসায়ী যেসব টাকা লুট করেছে সেগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাহায্য নিয়েই করেছে। এসব অপরাধে ব্যাংকাররা শাস্তি ভোগ করছেন কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের কোন কর্মকর্তাকে এখনো পর্যন্ত শাস্তির আওতায় আনা হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকের যারা এসব অপকর্মে জড়িত ছিলেন তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার ব্যবস্থা করা না হলে আগামীতে এ ধরণের অপরাধ আরো মহামারি আকার ধারণ করবে।

একাত্তর টেলিভিশনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে “সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালি, কৃষি ও রাকাব- এই ছয় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের মোট মূলধন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার কোটি টাকারও বেশি। ২০১৯ সালে যেখানে ঘাটতি ছিল মাত্র ৩১ হাজার কোটি টাকা। সবচেয়ে বেশি চাপে রয়েছে জনতা ব্যাংক, যাদের মূলধন ঘাটতি একাই ৬৫ হাজার কোটি টাকার ওপরে। এই বিপুল অঙ্কের বড়ো অংশই আটকে আছে বেক্সিমকো, এস আলম, অ্যাননটেক্সসহ শীর্ষ ২০ খেলাপির কাছে।” খবরে আরো বলা হয়েছে, ছয় ব্যাংক মিলিয়ে ৩২ হাজার ২৩৯ কোটি টাকার প্রভিশন ঘাটতি ডেফারেল সুবিধা নিয়ে সাময়িকভাবে আড়াল করা হয়েছে।”

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খানের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে “রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো থেকে বিপুল অর্থ বের করে নিয়েছে অল্প কিছু ব্যবসায়ী। ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে এসব ব্যাংকগুলোর কর্মকর্তারা তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারেনি। এর জন্য সংকটে পড়েছে প্রতিষ্ঠানগুলো। ইতোপূর্বেও এসব ব্যাংকে মূলধন যোগান দিয়েছিল সরকার। কিন্তু ব্যাংকগুলোর সম্মিলিত যে নেতিবাচক ধারা তৈরি হয়েছে এই মুহূর্তে সরকারের মূলধন প্রদান করার সক্ষমতা নেই। এছাড়া এসব ব্যাংকে নতুন করে মূলধন দেয়ার নীতি থেকেও বেরিয়ে এসেছে সরকার। তাই ব্যাংক কর্মকর্তারাই এই সংকট থেকে বেরিয়ে আসার কর্মপরিকল্পনা ঠিক করতে হবে। তিনি বলেন, ঋণ বিতরণের পর যত ভালো গ্রাহকই হোক ঐ ঋণ তদারকি করা ব্যাংকের অন্যতম প্রধান কাজ। কিন্তু ব্যাংকগুলো সে কাজ যথাযথভাবে পালন করেনি।

জুন পর্যন্ত ছয় ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬১ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের মোট খেলাপির প্রায় এক-চতুর্থাংশ। শীর্ষে রয়েছে জনতা ব্যাংক, যেখানে প্রতি ১০০ টাকার ঋণের ৭১ টাকা ঝুঁকিপূর্ণ। ছয় ব্যাংকের গড় খেলাপি হার প্রায় ৪৯ শতাংশ। অর্থাৎ সরকারি ব্যাংকের খেলাপীর হার বেসরকারি ব্যাংকগুলোর তুলনায় সবসময় বেশি।

প্রভিশন ঘাটতির সংকট নিয়ে সরকারি ব্যাংকগুলো মুনাফা না করে লস করলেও কর্মকর্তাদের জন্য প্রণোদনা বোনাস প্রদান করা হবে আর বেসরকারি ব্যাংকগুলো মুনাফা করেও কর্মকর্তারা বোনাস পাবেন না। এ কেমন নীতি! ব্যাংকগুলোর যদি পর্যাপ্ত তারল্য থাকে তাহলে বাংলাদেশ ব্যাংকের উচিৎ হবে এ ধরণের নিষেধজ্ঞা তুলে দিয়ে বোনাস প্রদানের বিষয়টি ব্যাংক কর্তৃপক্ষের উপর ছেড়ে দেয়া। সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকারদের মধ্যে বৈষম্যমূলক নীতি পরিহার করাই হবে সুবিচার।

তাছাড়া ব্যাংকগুলোর এই বিপুল খেলাপীর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের দায় কোন অংশে কম নয়। ব্যাংকগুলোর রেগুলেটর হিসেবে এস আলম, বেক্সিমকো এবং অ্যাননটেক্সের মত বড় বড় খেলাপীরা যেন বেশি বেশি টাকা পাচার এবং অবৈধ বিনিয়োগ সুবিধা নিতে পারে সেজন্য সিঙ্গেল পার্টি এক্সপোজার লিমিট পরিবর্তন সহ নানাবিধ অবৈধ সুযোগ তৈরি করে দিতে বার বার নতুন নতুন আইন তৈরি করেছে এবং সার্কুলার দিয়ে ব্যাংকগুলোকে বাধ্য করেছে সেগুলো বাস্তবায়নের জন্য। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের বেসরকারি ব্যাংকারদের উপর ছড়ি ঘুরানোর কোন সীমা পরিসীমা নাই। দেশের ব্যাংকখাতের এতবড় ঋণ খেলাপী ও প্রভিশন ঘাটতির সমান দায় নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা প্রতি বছর ৫ থেকে ৮টি বোনাস ভোগ করেন কোন নৈতিক শক্তির বলে? বেসরকারি ব্যাংকারদের সুযোগ সুবিধা বন্ধ করার আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সুযোগ সুবিধা বন্ধ করতে হবে। অভিভাবক হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বোনাস সবার শেষে নেয়া উচিত।

সুসাশন প্রতিষ্ঠার জন্যই বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলার দিয়ে থাকে। কিন্তু এই বিভাজনমূলক সার্কুলারের ফলে সরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তারা আগামীতেও খেলাপী ঋণের বিষয়ে উদাসীন থাকবে। বাড়তে থাকবে খেলাপী ঋণ। ব্যংকারদের থাকবেনা কোন মাথা ব্যাথা। ক্ষতিগ্রস্ত হবে ব্যাংক খাতের সুসাশন। ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশ। বেসরকারি ব্যাংকগুলোতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়া অমূলক নয়। তাই এই সার্কুলার বাতিল করে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর প্রণোদনামূলক বোনাস ব্যাংকগুলোর উপর ছেড়ে দেয়াই উত্তম। আর একই সমস্যার দুই ধরণের সমাধান দিয়ে জটিলতা বৃদ্ধি না করে বেসরকারি ব্যাংকারদেরও বিশেষ উপায়ে প্রণোদনা বোনাসের আওতায় আনা হোক।

লেখক: জাওয়াদ কারীম, গবেষক
ইমেইল: karimjawad1979@gmail.com

এমকে

শেয়ার করুন:-

মত দ্বিমত

গণতন্ত্র নিষ্ঠুর, কিন্তু অন্ধ নয়

Published

on

বন্ড

বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের যেন ১৮ কোটি মতামত, যা গণমাধ্যমে প্রতিনিয়ত উচ্চারিত হচ্ছে। তারপরও বাংলাদেশের নবনির্বাচিত ও মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে বিএনপির গণজোয়ার যেন একটি স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে, জনমতকে চিরদিন উপেক্ষা করা যায় না। এবার আর বলার সুযোগ নেই যে দিনের ভোট রাতে হয়েছে বা জনগণ নিজের ভোট নিজে দিতে পারেনি। অজুহাতের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে বাস্তবতাকে গ্রহণ করার সময় এখন, যার যার মুল্লুক তার শক্তি। তবে এই বাক্যটির আরেকটি গভীর পাঠ আছে। ক্ষমতা কখনো শূন্য থেকে জন্মায় না, এটি শেষ পর্যন্ত সমাজের ভেতর থেকেই উঠে আসে। একটি জাতি শেষ পর্যন্ত তার মনের মতো নেতৃত্বই খুঁজে পায়। যেমন জাতি তেমন নেতা, কারণ আম গাছের তলায় আমই পড়ে। তাই প্রশ্নটা শুধু কে ক্ষমতায় গেল তা নয়, আমরা কেমন সমাজ তৈরি করেছি, কেমন রাজনীতি সহ্য করেছি, আর কেমন নেতৃত্বকে নীরবে অনুমোদন দিয়েছি। নেতৃত্ব আসলে জাতিরই আয়না, সেখানে প্রতিফলিত হয় আমাদের সাহস, আমাদের ভয়, আমাদের নৈতিকতা এবং আমাদের সীমাবদ্ধতা।

প্রকৃতপক্ষে গণতন্ত্রের মতো নিষ্ঠুর আচরণ আর কোনো ব্যবস্থায় নেই। কারণ কি জানেন? ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে, মাত্র একটি ভোটের ব্যবধানে কেউ হেরে গেছে, কেউ জিতে গেছে। সেই একটি ভোটই কখনো একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দিয়েছে, কখনো একটি প্রজন্মের স্বপ্নকে নতুন দিক দেখিয়েছে। অনেকেই তাই বলেন, এটিই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। কিন্তু এই সৌন্দর্যের ভেতরেই লুকিয়ে আছে কঠোর জবাবদিহি, নির্মম বাস্তবতা এবং জনগণের নীরব অথচ চূড়ান্ত ক্ষমতা।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

আজ এই ক্ষণে আমার ছোটবেলার একটি গল্প খুব মনে পড়ছে। গ্রামে বিষাক্ত সর্প দংশনে একজন প্রতিবেশী মৃত্যুবরণ করেছিলেন। চারদিকে কান্নার রোল উঠেছিল। পাড়া প্রতিবেশীরা এসে সান্ত্বনা দিচ্ছিলেন, নানা জন নানা ভাবে স্মৃতিচারণ করছিলেন। হঠাৎ এক বয়স্ক মহিলা এসে লক্ষ করলেন, সাপে কামড় দিয়েছে চোখের একটু উপরে। গভীর দুঃখ প্রকাশ করে তাকে বলতে শুনেছিলাম, “ইশ, একটুর জন্য চোখটা বেঁচে গেছে।”

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

সেদিন প্রথম বুঝেছিলাম, মানুষ কখনো কখনো সবচেয়ে বড় ক্ষতির মাঝেও অদ্ভুত এক সান্ত্বনা খোঁজে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আমরা কি বারবার একইভাবে নিজেদের সান্ত্বনা দিয়ে যাব, নাকি সত্যের মুখোমুখি দাঁড়াব?

সদ্য বাংলাদেশের নির্বাচন শেষ হয়েছে। বিজয়ের ঘণ্টা বেজেছে, সেই সাথে পরাজয়েরও। তারপরও জল্পনা কল্পনা চলছে, চলবেই। কী করণীয় ছিল, কী করা উচিত ছিল না, এই আলোচনা গণতন্ত্রেরই অংশ। জয় পরাজয় থাকবেই, অতীতেও ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে। কিন্তু যে শিক্ষা সবচেয়ে জরুরি, সেটি হলো অজুহাত নয়, সমাধান খুঁজুন।

রাজনীতি কেন করবেন? উদ্দেশ্য কি? সেবা দেবেন, নাকি সেবা নেবেন? শাসন করবেন, নাকি শোষণ করবেন? স্বৈরাচারী হবেন, নাকি কর্মচারীর মতো জনগণের পাশে দাঁড়াবেন? একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবেন, নাকি গণতন্ত্রকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাবেন? দেশ গড়বেন, নাকি শুধু নিজেকে গড়বেন?

এই প্রশ্নগুলো শুধু রাজনীতিবিদদের জন্য নয়, একটি জাতির আত্মপরিচয়ের প্রশ্ন। কারণ রাজনীতি শেষ পর্যন্ত ক্ষমতার খেলা নয়, এটি আস্থার সম্পর্ক।

এ ধরনের চিন্তা ভাবনাকে ব্রেনস্টর্মিং করতে হবে। একটি টু ডু লিস্ট তৈরি করতে হবে। তারপর নিজেকেই প্রশ্ন করতে হবে, গো অর নট গো। কারণ নেতৃত্ব মানে শুধু সামনে দাঁড়ানো নয়, সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাহস।

ধরুন, আপনি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়া সম্ভব। কীভাবে সম্ভব, সেটাও আপনি জানেন। কিন্তু আপনার কোনো ক্ষমতা নেই, জনগণ আপনার পাশে নেই, তাহলে? ইতিহাস বলে, পরিবর্তন কখনো ক্ষমতা দিয়ে শুরু হয় না, শুরু হয় বিশ্বাস দিয়ে। তারপর সেই বিশ্বাসই একসময় জনশক্তিতে রূপ নেয়।

আমি আজ একটি ক্ষেত্রেই দেশের অগ্রগতি নিঃসন্দেহে দৃশ্যমান, সেটি দুর্নীতি। কথাটি হতাশার শোনালেও এর ভেতরে লুকিয়ে আছে একটি সতর্কবার্তা। কারণ শক্তি নিজে কখনো ভালো বা মন্দ নয়, আমরা তাকে কোন পথে ব্যবহার করছি সেটিই আসল প্রশ্ন।

আলফ্রেড নোবেল ডিনামাইট আবিষ্কার করেছিলেন ধ্বংসের জন্য নয়। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল সুইডেনের দুর্গম পাহাড় কেটে রাস্তা নির্মাণ করা, নর্ডিক দেশগুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করা এবং বহির্বিশ্বের সঙ্গে ব্যবসা বাণিজ্যের নতুন দুয়ার খুলে দেওয়া। সেই স্বপ্ন বাস্তব হয়েছিল, যার সুফল আজও চোখে পড়ে। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় একই ডিনামাইট যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়ে লাখো মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়েছে। যে শক্তি উন্নয়নের প্রতীক ছিল, সেটিই পরিণত হয়েছে ধ্বংসের অস্ত্রে।

প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও আমরা যেন একই দ্বিধাবিভক্ত পথের সামনে দাঁড়িয়ে আছি। অভূতপূর্ব প্রযুক্তিগত অগ্রগতি সত্ত্বেও আমরা তাকে সুশাসনের হাতিয়ার হিসেবে গড়ে তুলতে পারিনি। অথচ চাইলে শতভাগ প্রযুক্তিনির্ভর প্রশাসন, নগদবিহীন লেনদেন, স্বচ্ছ নির্বাচন ব্যবস্থা এবং দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ আজ আর কল্পনা নয়, বাস্তব সম্ভাবনা। প্রশ্ন একটাই, আমরা কি প্রযুক্তিকে অগ্রগতির সিঁড়ি বানাব, নাকি নিজেদের সীমাবদ্ধতার কারণে তাকে ধ্বংসের আরেকটি উপকরণে পরিণত করব?

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আমরা দেখেছি, কত ভালো মানুষের হাত পা কাটা গেল, কত তরুণ তরুণী জীবন দিল, দুর্নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ালো। তাদের আত্মত্যাগ আমাদের একটি কঠিন প্রশ্নের সামনে দাঁড় করায়, আমরা কি সত্যিই ন্যায়বিচার চাই, নাকি শুধু ক্ষণিকের প্রতিশোধ? যারা দুর্নীতি করল বা এত মানুষকে হত্যা করল, সবাই জানে তারা কারা। তারপরও কি সেই দুর্নীতিবাজদের শাস্তি হিসেবে হুট করে হাত পা কাটা যাবে? না। কারণ আইনের ঊর্ধ্বে উঠে বিচার করা মানে আবারও অন্যায়কে জন্ম দেওয়া। এখানেই বিবেকের দ্বন্দ্ব।

এই দ্বন্দ্বের মোকাবিলা করা যেমন কঠিন, তেমনি কঠিন পরাজয়কে মেনে নেওয়া। পরাজয় মানুষকে ভেঙেও দেয়, আবার গড়েও তোলে। আমি বহু বছর ধরে খেলাধুলার জগতের সাথে জড়িত। আমার ছেলে মেয়েরা তাদের শৈশব, কৈশোর এবং যৌবনের একটি বড় সময় পার করছে জয় পরাজয়ের মধ্য দিয়ে। জয়ের উল্লাস যেমন মানুষকে আত্মবিশ্বাসী করে, তেমনি পরাজয়ের গ্লানি মানুষকে গভীরভাবে আত্মসমালোচনা করতে শেখায়। চলার পথে আমরা প্রতিনিয়ত এগিয়ে চলেছি। তারপরও আমরা থেমে নেই। কারণ সেই একই প্রশ্ন আমাদের সামনে থাকে, কী, কেন এবং কীভাবে।

স্বাভাবিকভাবেই জয়ের মধ্যে সময় কাটানোর উপলব্ধি আর পরাজয়ের মধ্যে সময় কাটানোর অনুভূতি এক নয়। তবুও মেনে নেওয়া শিখতে হবে। কারণ যে জাতি হার স্বীকার করতে জানে না, সে কখনো জয়ের মর্যাদাও বুঝতে পারে না।

আমাদের সুইডেনের একজন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী প্রায় বলতেন, “jag låter min fru alltid vinna, på så sätt är det jag som bestämmer att hon vinner।” এর বাংলা অর্থ, “আমি সবসময় আমার স্ত্রীকে জিততে দিই, আর এভাবেই আমিই ঠিক করি যে সে জিতবে।” কথাটি রসিকতা মনে হলেও এর ভেতরে লুকিয়ে আছে এক গভীর সত্য, কখনো কখনো ছেড়ে দেওয়াও প্রজ্ঞার পরিচয়, আর সম্মান দিয়েই টেকসই সম্পর্ক তৈরি হয়।

গণতন্ত্রের মূল মন্ত্র হলো agree to disagree, অর্থাৎ দ্বিমত থাকা সত্ত্বেও সহাবস্থান করা। মতের ভিন্নতা কোনো দুর্বলতা নয়, বরং একটি পরিণত সমাজের শক্তি। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এই চর্চাটির ভীষণ অভাব বাংলাদেশে। আমরা ভিন্ন মতকে প্রতিপক্ষ ভাবতে শিখেছি, সহযাত্রী হিসেবে দেখতে শিখিনি।

খুব ইচ্ছে জাগে, যদি আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় ন্যূনতম পরিবর্তন এনে মত ও দ্বিমত পোষণের প্রক্রিয়াটিকে শেখানো যেত। কারণ গণতন্ত্র কেবল ব্যালট বাক্সে জন্মায় না, এটি জন্মায় শ্রেণিকক্ষে, পরিবারে, আলোচনায়, এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার সংস্কৃতিতে।

শেষ পর্যন্ত একটি সত্য অস্বীকার করার উপায় নেই, গণতন্ত্র কোনো আরামদায়ক যাত্রা নয়। এটি প্রশ্ন করে, চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়, কখনো আঘাত করে, আবার নতুন করে পথও দেখায়। তাই অজুহাত নয়, আত্মসমালোচনা দরকার। প্রতিশোধ নয়, ন্যায়বিচার দরকার। বিভাজন নয়, পরিণত সহাবস্থান দরকার।

কারণ একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হয় শুধু কে জিতল বা হারল তা দিয়ে নয়, বরং আমরা হার থেকে কী শিখলাম এবং জয়কে কতটা দায়িত্বে রূপান্তর করতে পারলাম তা দিয়ে। গণতন্ত্র নিষ্ঠুর হতে পারে, কিন্তু অন্ধ নয়। অন্ধ হলে আমরা।

রহমান মৃধা, গবেষক ও লেখক, প্রাক্তন পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন
rahman.mridha@gmail.com

শেয়ার করুন:-
পুরো সংবাদটি পড়ুন

মত দ্বিমত

গরীব দেশে অথচ দুর্নীতিবাজ কোটিপতিদের সংখ্যা বেশি, ঘটনা কী

Published

on

বন্ড

বাংলাদেশ এখন এক অদ্ভুত বৈপরীত্যের দেশ। একদিকে উন্নয়নের পরিসংখ্যান, অবকাঠামোর দৃশ্যমান অগ্রগতি, ডিজিটাল রূপান্তরের প্রচার; অন্যদিকে দ্রুত বাড়ছে অস্বচ্ছ সম্পদের মালিক কোটিপতিদের সংখ্যা। প্রশ্নটি তাই ক্রমেই জোরালো হচ্ছে: একটি দেশ যেখানে এখনও নুন আনতে তেল ফুরোয়, বিপুল দরিদ্র জনগোষ্ঠী জীবনযুদ্ধেই ব্যস্ত, সেখানে এত সম্পদ জমছে দুর্নীতিবাজ রাজনীতিবিদদের হাতে, কীভাবে?

কীভাবে এই সম্পদ তৈরি হচ্ছে

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

অর্থনীতির স্বাভাবিক নিয়ম হলো উৎপাদন, উদ্ভাবন এবং প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সম্পদ সৃষ্টি। কিন্তু যখন সম্পদের বড় অংশ আসে ব্যাংক ঋণ খেলাপি, প্রকল্প ব্যয়ের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি, সরকারি ক্রয়ে অনিয়ম, টেন্ডার কারসাজি এবং রাজনৈতিক প্রভাবের মাধ্যমে, তখন তা আর অর্থনৈতিক সাফল্য নয়; বরং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার লক্ষণ। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, লোকসান শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্র বহন করে, আর মুনাফা ব্যক্তির হাতে যায়। ফলে সম্পদ সৃষ্টি হয়, কিন্তু তা জাতীয় সমৃদ্ধিতে রূপ নেয় না।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

কেন এমন হচ্ছে

এর পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হলো দুর্বল জবাবদিহি। যখন আইনের প্রয়োগ নির্বাচিতভাবে হয়, তদন্ত ধীরগতির হয়, আর শাস্তির নজির কম থাকে, তখন দুর্নীতি ঝুঁকিপূর্ণ নয়, বরং লাভজনক হয়ে ওঠে। আরও একটি কারণ হলো ক্ষমতা ও অর্থের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। রাজনৈতিক সুরক্ষা অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি করে, আর অর্থ আবার রাজনৈতিক প্রভাব বাড়ায়। এই চক্র ভাঙা কঠিন হয়ে পড়ে।

জনগণের ভূমিকা কী

দুর্নীতির দায় শুধু ক্ষমতাবানদের নয়; সমাজও অনেক সময় নীরব সমর্থক হয়ে ওঠে। দ্রুত সুবিধা পাওয়ার সংস্কৃতি, “সবাই তো করছে” ধরনের মানসিকতা, এবং শক্তিশালী নাগরিক চাপের অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে। যেখানে ভোটাররা নীতির চেয়ে তাৎক্ষণিক সুবিধাকে অগ্রাধিকার দেয়, সেখানে দীর্ঘমেয়াদি সুশাসনের দাবি দুর্বল হয়ে যায়।

বিশ্ব কীভাবে দেখছে

আন্তর্জাতিক সূচকগুলো প্রায়ই দেখায়, বিনিয়োগকারীরা স্থিতিশীলতা চান, কিন্তু একই সঙ্গে চান স্বচ্ছতা এবং আইনের নিশ্চয়তা। যখন দুর্নীতির ধারণা প্রবল হয়, তখন বিদেশি বিনিয়োগ সতর্ক হয়ে পড়ে, আর দেশের ভাবমূর্তি প্রশ্নের মুখে পড়ে। বাংলাদেশের সম্ভাবনা নিয়ে বিশ্ব আশাবাদী, কিন্তু সেই আশার সঙ্গে একটি সতর্কবার্তাও থাকে: টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয় যদি প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হয়।

ডিজিটাল বাংলাদেশ

কিন্তু অর্থনৈতিক প্রভাব কোথায়, ডিজিটালাইজেশন শুধু সেবা দ্রুত করার জন্য নয়; এটি দুর্নীতি কমানোরও শক্তিশালী হাতিয়ার হতে পারত। ই-গভর্ন্যান্স, স্বচ্ছ ডেটা, অনলাইন টেন্ডার, ট্র্যাকযোগ্য লেনদেন বাস্তবায়িত হলে অনিয়ম কমার কথা। কিন্তু প্রযুক্তি তখনই কার্যকর হয়, যখন সেটি ব্যবহারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকে। অন্যথায় ডিজিটাল কাঠামোও কেবল নতুন আকারে পুরোনো সমস্যাকে বহন করে।

জবাবদিহির অনুপস্থিতি

যে রাষ্ট্রে প্রশ্ন করা কঠিন, তথ্য পাওয়া সীমিত, এবং দায় নির্ধারণ বিরল, সেখানে দুর্নীতি ব্যতিক্রম নয়, বরং কাঠামোগত বাস্তবতা হয়ে দাঁড়ায়। জবাবদিহি শুধু আইনি প্রক্রিয়া নয়; এটি একটি সাংস্কৃতিক চর্চা, যা প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম এবং নাগরিক সমাজ মিলেই তৈরি করে।

দুর্নীতি, সন্ত্রাস এবং চাঁদাবাজি: রন্ধ্রে রন্ধ্রে বিস্তার

যখন অর্থনৈতিক অপরাধ শাস্তিহীন থাকে, তখন তা সামাজিক অপরাধকেও উৎসাহ দেয়। চাঁদাবাজি ব্যবসার খরচ বাড়ায়, সন্ত্রাস বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করে, আর সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে। শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয় পুরো অর্থনীতি।

মূল কাঠামোগত কারণগুলো-

১. রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ভেতরেই দুর্নীতির আশ্রয়
Transparency International বলছে, অব্যাহত দুর্নীতি, রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা, দুর্বল আইন প্রয়োগ এবং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা বাংলাদেশের অবস্থার অবনতির বড় কারণ। ক্ষমতার অপব্যবহারের সুযোগ থাকলে এবং জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানগুলো রাজনৈতিক হয়ে পড়লে দুর্নীতি “ফ্লরিশ” করবেই। অর্থাৎ সমস্যা ব্যক্তি নয়, সিস্টেম।

২. সম্পদের ভয়াবহ অসম বণ্টন
এক গবেষণায় দেখা গেছে, জাতীয় আয়ের ৪৪% মাত্র ১০% মানুষের হাতে, আর নিচের ৫০% পেয়েছে মাত্র ১৭.১%। এমনকি ১% মানুষই ১৬% আয়ের মালিক। এটি দেখায়, সম্পদ তৈরি হচ্ছে, কিন্তু তা অর্থনীতির ভেতর ছড়িয়ে পড়ছে না।

৩. গ্লোবাল করাপশন ইকোনমি
প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলার চুরি হয়, যার বড় অংশ উন্নয়নশীল দেশ থেকে পাচার হয়ে যায়। এই অর্থ যদি চুরি না হতো, তাহলে GDP বাড়ত এবং বৈষম্য কমত। অর্থাৎ দুর্নীতি শুধু নৈতিক সমস্যা নয়, এটি সরাসরি উন্নয়নকে ধ্বংস করে।

৪. অলিগার্কি ও অর্থনীতি লুটের অভিযোগ
এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন ডলার সরকারি তহবিল ১৫ বছরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, এবং প্রবৃদ্ধির একটি অংশ “কৃত্রিম” ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। আরেক তদন্তে দেখা যায়, এক রাজনীতিকের বিদেশে ৪৮২টি সম্পত্তি ছিল, যা জটিল অর্থপাচারের মাধ্যমে গড়ে ওঠার সন্দেহ। এটি আর বিচ্ছিন্ন দুর্নীতি নয়; এটি সংগঠিত সম্পদ স্থানান্তর।

৫. ব্যাংক ও আর্থিক ব্যবস্থার দখল
কিছু ক্ষেত্রে নিরাপত্তা কাঠামোর সহায়তায় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া এবং বিপুল অর্থ সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে; ফলে খেলাপি ঋণ ৩২% পর্যন্ত পৌঁছেছে। যখন ব্যাংক দুর্বল হয়, তখন পুরো অর্থনীতি ঝুঁকিতে পড়ে।

৬. বৈশ্বিক সূচকে সতর্কবার্তা
২০২৫ সালে বাংলাদেশ ১০০ এর মধ্যে মাত্র ২৪ স্কোর পেয়েছে এবং “serious corruption problem” হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এটি বিনিয়োগ, আস্থা এবং আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।

গভীরতর বাস্তবতা: কেন দরিদ্র দেশে দ্রুত ধনী তৈরি হয়?
• আইন দুর্বল, ঝুঁকি কম
• ক্ষমতার ঘনত্ব, সুযোগ বেশি
• বৈষম্য বেশি, প্রতিরোধ কম
• রাজনৈতিক সুরক্ষা, শাস্তি কম

এই চারটি একসঙ্গে হলে “দ্রুত সম্পদ” তৈরি হয়, কিন্তু “টেকসই অর্থনীতি” তৈরি হয় না।

কঠিন শেষ স্টেটমেন্ট
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সংকট দারিদ্র্য নয়। সবচেয়ে বড় সংকট হলো অন্যায্য সম্পদ সৃষ্টি স্বাভাবিক হয়ে যাওয়া। যে দেশে ধনী হওয়া যদি উৎপাদনের চেয়ে ক্ষমতার কাছাকাছি থাকার ওপর নির্ভর করে, তাহলে সেখানে উন্নয়ন কাগজে বাড়ে, বাস্তবে নয়। রাষ্ট্র তখন আর সুযোগের ক্ষেত্র থাকে না; হয়ে ওঠে সম্পদ স্থানান্তরের যন্ত্র।

ইতিহাস একটি নির্মম সত্য শেখায়:
অসমতা সহ্য করতে পারে সমাজ, কিন্তু অন্যায্য সম্পদকে দীর্ঘদিন মেনে নেয় না। যেদিন সাধারণ মানুষ বিশ্বাস হারায় যে পরিশ্রম নয়, প্রভাবই সফলতার পথ, সেদিন থেকেই অর্থনৈতিক সংকট নয়, রাষ্ট্রীয় আস্থার পতন শুরু হয়।

লেখক: রহমান মৃধা, গবেষক ও লেখক, প্রাক্তন পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন
rahman.mridha@gmail.com

শেয়ার করুন:-
পুরো সংবাদটি পড়ুন

মত দ্বিমত

জুলাই বিপ্লবের প্রজন্ম: পরিবর্তনের অগ্নিশিখা না নতুন রাষ্ট্রচিন্তার সূচনা?

Published

on

বন্ড

ছাত্রনেতৃত্বে এক অভ্যুত্থান শুধু সরকার পরিবর্তন করেনি, বরং প্রশ্ন তুলেছে ক্ষমতা, গণতন্ত্র এবং ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থা নিয়ে।ইতিহাসের কিছু মুহূর্ত থাকে যা কেবল একটি রাজনৈতিক ঘটনা নয়, বরং একটি জাতির মানসিক রূপান্তরের সূচনা। বাংলাদেশের জুলাই বিপ্লব তেমনই একটি মুহূর্ত। ছাত্রদের নেতৃত্বে শুরু হওয়া এই আন্দোলন শেষ পর্যন্ত এমন এক গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়, যার ফলে দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।

এই আন্দোলনের শুরু ছিল সরকারি চাকরির কোটা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ছাত্রদের প্রতিবাদ থেকে, কিন্তু দ্রুত তা জাতীয় বিদ্রোহে পরিণত হয়। এখানেই নতুন প্রজন্মের চরিত্র স্পষ্ট হয়: তারা কেবল একটি নীতির পরিবর্তন চায়নি, তারা রাষ্ট্রের কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। কিন্তু এই প্রজন্ম কি সত্যিই অতীত থেকে আলাদা?

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

হ্যাঁ, একটি বড় অর্থে আলাদা। তারা ক্ষমতার উত্তরাধিকারকে স্বাভাবিক ধরে নেয় না। তারা বৈষম্যহীন সমাজের স্বপ্নে সংগঠিত হয়েছে, যেমন ‘বৈষম্যের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীরা’ প্ল্যাটফর্মটি দেখায়, যা আন্দোলনের মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিসর গড়ে তুলতে কাজ করেছে। এই তরুণ নেতৃত্বের মধ্যেই উঠে এসেছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নাম।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

নাহিদ ইসলাম, যিনি ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ছিলেন, এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগের এক দফা দাবি ঘোষণা করে বিপ্লবের সবচেয়ে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন। পরে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারেও দায়িত্ব পালন করেন। অন্যদিকে, নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে একটি বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতন্ত্র গঠনের লক্ষ্যে প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছেন।

ঢাকা-৮ আসনের মতো রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এক মঞ্চে নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারীর প্রার্থিতা শুধু একটি নির্বাচন নয়, বরং নতুন ধারার রাজনীতির এক প্রতীকী পরীক্ষা। জাতীয় নাগরিক পার্টি তাঁকে এই আসনে প্রার্থী করেছে, যা তরুণ নেতৃত্বের সামনে আসার একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে। কিন্তু তাঁর পথ মোটেই মসৃণ নয়। প্রচারণার সময় তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপ ও হয়রানির ঘটনা ঘটেছে, যা রাজনৈতিক মতভেদের প্রতি অসহিষ্ণুতার প্রশ্ন তুলে দিয়েছে এবং তদন্তের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

তবু এখানেই এই গল্পের মোড়। প্রতিকূলতার মুখে দাঁড়িয়েও তাঁর অংশগ্রহণ দেখায় যে রাজনীতি কেবল ক্ষমতার প্রতিযোগিতা নয়, বরং ধারণা, সাহস এবং সামাজিক চিন্তারও প্রতিযোগিতা। ঢাকা-৮-এর লড়াই তাই একটি আসনের সীমা ছাড়িয়ে ভিন্ন মতের সহাবস্থান, অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং নতুন প্রজন্মের আত্মপ্রকাশের প্রতীক হয়ে উঠছে। যখন একটি প্ল্যাটফর্ম সমাজকে শুধু বিনোদনের আলোচনায় আটকে না রেখে চিন্তার পরিসরকে বিস্তৃত করতে চায়। তখন সেই রাজনীতি ধীরে ধীরে বিশ্বদরবারে নিজের ভাষা তৈরি করে। আর সেই ভাষার কেন্দ্রে থাকে একটি বার্তা: ভয় নয়, ভবিষ্যৎই শেষ পর্যন্ত ইতিহাস লিখে। এটি শুধু নেতৃত্ব নয়, একটি দৃষ্টিভঙ্গির ইঙ্গিত। পরিবর্তনের দর্শন: পরিষ্কার না হলেও শক্তিশালী।

সমালোচকেরা বলেন, নতুন প্রজন্মের পরিকল্পনা সবসময় স্পষ্ট নয়। সত্যি বলতে, বিপ্লবের ভাষা প্রায়ই অসম্পূর্ণ হয়। কিন্তু অসম্পূর্ণতা মানেই দুর্বলতা নয়। জুলাই ঘোষণাপত্রে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংস্কার, গণতান্ত্রিক পুনর্গঠন এবং বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

অর্থাৎ, এই আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল একটি বড় প্রশ্ন: রাষ্ট্র কাদের জন্য? ত্যাগের মূল্য এই বিপ্লব ছিল রক্তহীন নয়। সহিংসতার সময় এক হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হন, যা দেশের স্বাধীনতার পর সবচেয়ে প্রাণঘাতী সময়গুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত। এটি মনে করিয়ে দেয়, পরিবর্তন কখনোই বিনামূল্যে আসে না। ভুল, বিভ্রান্তি এবং বাস্তবতা যে কোনো গণআন্দোলনের মতো এখানেও বিতর্ক আছে। কেউ কেউ অভিযোগ তুলেছেন যে বিপ্লবের স্মৃতি রাজনৈতিকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে, যার বিরুদ্ধে নাগরিক নেতারা সতর্ক করেছেন। এই সতর্কবার্তা গুরুত্বপূর্ণ।

কারণ একটি বিপ্লব তখনই সফল হয়, যখন তা ক্ষমতার নতুন কেন্দ্রে পরিণত না হয়ে প্রতিষ্ঠান তৈরি করে। নতুন পৃথিবীর ইঙ্গিত আজকের বিশ্বে তরুণরা আর কেবল দর্শক নয়। তারা রাষ্ট্রের অংশীদার হতে চায়। বাংলাদেশের ঘটনাপ্রবাহ দেখায়, ঐক্য এমন এক শক্তি যা কেনা যায় না।

এই প্রজন্ম হয়তো সব প্রশ্নের উত্তর জানে না। কিন্তু তারা একটি প্রশ্ন করতে শিখেছে: কেন নয় এবং ইতিহাসে প্রায় সব বড় পরিবর্তন শুরু হয়েছে এই প্রশ্ন থেকেই। সবচেয়ে বড় পরীক্ষা এখন স্বৈরাচারী পরিবার ও সরকারের পতন বিপ্লবের শেষ নয়, বরং শুরু।

নতুন নেতৃত্ব কি প্রতিষ্ঠান গড়তে পারবে? তারা কি ব্যক্তিনির্ভর রাজনীতি ভেঙে নীতিনির্ভর রাষ্ট্র তৈরি করবে? তারা কি আবেগকে নীতিতে রূপ দিতে পারবে? যদি পারে, তবে জুলাই শুধু একটি মাসের নাম থাকবে না। এটি হয়ে উঠবে একটি রাজনৈতিক পুনর্জন্মের প্রতীক।

পরিশেষে একটি আহ্বান বাংলাদেশ আজ এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। তরুণরা দেখিয়ে দিয়েছে সাহস কাকে বলে। এখন তাদের প্রমাণ করতে হবে প্রজ্ঞা কাকে বলে। কারণ বিপ্লবের সবচেয়ে কঠিন কাজ হলো ক্ষমতা দখল নয়,ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা। জাগো বাংলাদেশ জাগো কিন্তু এবার শুধু প্রতিবাদে নয়, রাষ্ট্রগঠনে।

রহমান মৃধা, গবেষক ও লেখক, সাবেক পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন
rahman.mridha@gmail.com

শেয়ার করুন:-
পুরো সংবাদটি পড়ুন

মত দ্বিমত

বাংলাদেশ কি তথ্যযুদ্ধের মধ্যে ঢুকে পড়েছে?

Published

on

বন্ড

সাম্প্রতিক সময়ে গণমাধ্যমের একটি ফেসবুক ভেরিফায়েড পেইজে জামায়াতের আমিরকে ঘিরে একটি মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ে, যা দ্রুত ভাইরাল হয়ে সারা দেশে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। প্রযুক্তির এই যুগে, যেখানে নারী বিশ্বনেতৃত্ব দিচ্ছে, আরব সভ্যতায় পরিবর্তন ঘটছে, এবং ইসলামের ইতিহাসেই হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সহধর্মিণী হজরত খাদিজা (রা:) ছিলেন একজন সফল ব্যবসায়ী ও সমাজে সম্মানিত প্রতিনিধি, সেই বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে নারীদের কাজ করাকে পতিতাবৃত্তির সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে বলে প্রচারিত হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।

পরবর্তী তদন্তে উঠে এসেছে, সংশ্লিষ্ট ভেরিফায়েড পেইজটি হ্যাক করা হয়েছিল এবং এই বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়েছিল বিশেষ করে আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি রাজনৈতিক দলকে প্রশ্নবিদ্ধ করার উদ্দেশ্যে। ঘটনাটি শুধু একটি গুজব নয়, এটি দেখিয়ে দেয় কত সহজে একটি সাজানো বার্তা সমাজে ক্ষোভ, বিভাজন এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি করতে পারে। এই ঘটনাই একটি বড় বাস্তবতা সামনে আনে, ডিজিটাল যুগে সত্য প্রকাশ পাওয়ার আগেই মিথ্যা জনমত গড়ে তুলতে পারে। আর যখন একটি ভুয়া বার্তা জাতীয় বিতর্কে পরিণত হয়, তখন সেটি আর কেবল একটি পোস্ট থাকে না সেটি হয়ে ওঠে তথ্যযুদ্ধের অংশ।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

বাংলাদেশ এখন শুধু রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই নেই, দেশটি ধীরে ধীরে একটি গভীর তথ্যসংকটে প্রবেশ করছে। নির্বাচনের আগে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার অভিযোগকে অন্তর্বর্তী সরকার ডিসইনফরমেশন বলে উড়িয়ে দিয়েছে এবং দাবি করেছে, দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে ইচ্ছাকৃতভাবে এসব ছড়ানো হচ্ছে। অন্যদিকে একটি বড় জরিপে দেখা গেছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খুব বেশি পরিমাণে ভুয়া খবর তরুণদের মানসিক চাপের প্রধান কারণ হয়ে উঠেছে। এই দুটি ঘটনা একসাথে একটি কঠিন প্রশ্ন তুলে ধরে: কোন তথ্য সত্য, আর কোনটি রাজনৈতিক অস্ত্র?

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

ভুয়া তথ্যের বিস্ফোরণ, সংখ্যাই বলছে বিপদের কথা। স্বাধীন ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থা রুমর স্ক্যানার-এর প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের প্রথম তিন মাসে বাংলাদেশে ৮৩৭টি ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর তথ্য শনাক্ত হয়েছে, যা আগের সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। ভুল তথ্যের হার আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২৮ শতাংশ বেশি। রাজনৈতিক ঘটনা, জাতীয় ইস্যু এবং ধর্মীয় বিতর্ক এই বৃদ্ধির প্রধান কারণ। ৭৪৮টি ভুয়া তথ্য ফেসবুক থেকে ছড়িয়েছে, অর্থাৎ গড়ে প্রতিদিন আটটিরও বেশি। বিশ্লেষণে আরও দেখা গেছে, মোট বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট ৩০ শতাংশ বেড়েছে এবং দুই-তৃতীয়াংশ ফ্যাক্ট-চেক ছিল রাজনৈতিক। স্বাধীন ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থার প্রতিবেদনে উঠে আসা এই পরিসংখ্যান শুধু তথ্যের পরিমাণই নয়, বরং একটি রাষ্ট্রের তথ্যপরিবেশ কত দ্রুত দূষিত হতে পারে, সেই সতর্কবার্তাও বহন করে।

নির্বাচন সামনে, তাই কি গুজবও অস্ত্র? একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যাচাই করা ভুয়া দাবির প্রায় ৬৩ শতাংশই রাজনৈতিক, এবং এর অর্ধেক ছিল বানানো সমাবেশ, সংঘর্ষ বা নেতাদের ভুয়া বক্তব্য নিয়ে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবচেয়ে বেশি ভুয়া বয়ানের লক্ষ্য হয়েছেন, যার ৮০ শতাংশ তাকে ইতিবাচকভাবে উপস্থাপন করেছে। অর্থাৎ অপপ্রচার শুধু প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করছে না; অনেক ক্ষেত্রে জনপ্রিয়তা তৈরির হাতিয়ার হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে। উদ্বেগের বিষয় হলো, বিভ্রান্তিকর তথ্য এখন আর প্রান্তিক কোনো সমস্যা নয়; এটি জনমত নির্মাণের একটি কৌশলগত উপাদানে পরিণত হয়েছে।

রাষ্ট্র, রাজনীতি, বিদেশি প্রভাব, জটিল ত্রিভুজ। ফ্যাক্ট-চেক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে যে নিরাপত্তা বাহিনী সম্পর্কেও ৬০টি ভুল দাবি ছড়ানো হয়েছে এবং ভারতীয় মিডিয়া ও সামাজিক মাধ্যম মিলিয়ে অন্তত ৮৩টি বিভ্রান্তিকর ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ছিল। এটি একটি বিপজ্জনক সংকেত, কারণ তথ্যযুদ্ধ যখন সীমান্ত ছাড়িয়ে যায়, তখন তা কূটনৈতিক উত্তেজনায়ও রূপ নিতে পারে।

সমাজ কেন এত সহজে গুজবে বিশ্বাস করছে? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বড় রাজনৈতিক ঘটনা, ধর্মীয় উত্তেজনা এবং অনলাইন মেরুকরণ ভুল তথ্য ছড়ানোর গতি বাড়িয়েছে। অতীতে একটি গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল যে পদ্মা সেতুর জন্য মানববলির প্রয়োজন, এবং সেই ভুল তথ্য প্রাণহানির ঘটনাও ঘটিয়েছিল। অর্থাৎ ভুয়া খবর শুধু মতামত বদলায় না, জীবনও কেড়ে নিতে পারে।

সরকার কী করছে, আর কী করা উচিত? তরুণদের অধিকাংশই মনে করে ক্ষতিকর অনলাইন আচরণ ঠেকাতে নিয়ম থাকা জরুরি। কিন্তু এখানে সবচেয়ে বড় দ্বন্দ্ব হলো: অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ দিলে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ঝুঁকিতে পড়ে, আর নিয়ন্ত্রণ না দিলে রাষ্ট্র অস্থিতিশীল হতে পারে। এই ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন সরকারের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। সমস্যাটি শুধু কে মিথ্যা বলছে তা নয়; বড় প্রশ্ন হলো, নাগরিকরা কোন উৎসকে বিশ্বাস করবে। যখন বিশ্বাসের কেন্দ্রগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে, তখন গণতন্ত্রের ভিত্তিও অদৃশ্যভাবে ক্ষয় হতে শুরু করে।

প্রতিরক্ষা ও রাষ্ট্রীয় সংস্থার ভূমিকা। ভুল তথ্য যখন সেনাবাহিনী বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে লক্ষ্য করে ছড়ায়, তখন তা শুধু রাজনৈতিক নয়, জাতীয় নিরাপত্তার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। আধুনিক রাষ্ট্রে নিরাপত্তা মানে শুধু সীমান্ত রক্ষা নয়; তথ্যের নিরাপত্তাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

সবচেয়ে বড় বিপদ: বিশ্বাসের পতন। একটি রাষ্ট্র তখনই দুর্বল হয় যখন নাগরিকরা আর কোনো উৎসকে বিশ্বাস করতে পারে না। আজ বাংলাদেশের সামনে তিনটি বাস্তব ঝুঁকি দাঁড়িয়ে আছে: সত্যের সংকট, গণতন্ত্রের সংকট, এবং আন্তর্জাতিক মর্যাদার সংকট। ইতিহাস দেখায়, কোনো রাষ্ট্র হঠাৎ ভেঙে পড়ে না; ভাঙন শুরু হয় তখনই, যখন সত্য নিয়ে সামাজিক ঐকমত্য হারিয়ে যায়।

বাংলাদেশ এখনো ভেঙে পড়েনি, কিন্তু সতর্ক না হলে ভাঙনের ভিত্তি তৈরি হবে। রাষ্ট্রকে অবিলম্বে স্বাধীন ও শক্তিশালী ফ্যাক্ট-চেকিং ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, রাজনৈতিক দলগুলোর অপপ্রচারকে আইনের আওতায় আনতে হবে, এবং ডিজিটাল সাক্ষরতা জাতীয় আন্দোলনে পরিণত করতে হবে। কারণ একটি সত্য স্পষ্ট: বন্দুক রাষ্ট্রকে যতটা না দুর্বল করে, মিথ্যা তার চেয়েও দ্রুত রাষ্ট্রকে ভেঙে দেয়।

শেষ কথা। বাংলাদেশ আজ এক মোড়ে দাঁড়িয়ে। এটি কি তথ্যনির্ভর আধুনিক রাষ্ট্র হবে, নাকি গুজবনির্ভর অস্থির সমাজে পরিণত হবে? সিদ্ধান্ত এখনই নিতে হবে। কারণ ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে, গণতন্ত্র নির্বাচন হারিয়ে ধ্বংস হয় না; গণতন্ত্র ধ্বংস হয় যখন সত্য হারিয়ে যায়।

রহমান মৃধা, গবেষক ও লেখক, সাবেক পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন
rahman.mridha@gmail.com

শেয়ার করুন:-
পুরো সংবাদটি পড়ুন

মত দ্বিমত

দাভোস আমাকে আরেকবার মনে করিয়ে দিল, নিজের পায়ে দাঁড়ানোর বিকল্প নেই

Published

on

বন্ড

প্রশ্ন একটাই। বাংলাদেশ কি দাভোসের বার্তা শুনেছে? বাংলাদেশ মানে কেবল ভৌগোলিক সীমারেখা নয়। বাংলাদেশ মানে সিদ্ধান্তের সার্বভৌম অধিকার। বাংলাদেশের সব সিদ্ধান্ত বাংলাদেশই নেবে। এই রাষ্ট্রের জন্ম কোনো করুণা থেকে নয়, জন্ম হয়েছে এ দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য। বাংলাদেশ আমার, আপনার, আমাদের সবার।

ভয়, শাস্তি কিংবা শক্তি ইউরোপকে দাবিয়ে রাখতে পারেনি। ইতিহাস তা স্পষ্ট করে দিয়েছে। তাহলে প্রশ্ন ওঠে, বাংলাদেশকে দাবিয়ে রাখার সাহস আসে কোথা থেকে? এই সাহস কি আকাশ থেকে নামে, নাকি আমাদের ভেতর থেকেই কেউ বা কোনো গোষ্ঠী সেই সুযোগ করে দেয়? যদি ভেতরের দুর্বলতা না থাকে, বাইরের শক্তি কখনোই সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে পারে না।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

গণভোটের পরই স্পষ্ট হবে, কত বিপুল সংখ্যক না ভোট বাংলাদেশের মানুষের প্রকৃত অবস্থান তুলে ধরছে। যারা সত্যিকারের দেশপ্রেমিক, তারা তখনই বুঝবে রাষ্ট্র আসলে কোথায় দাঁড়িয়ে আছে।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

যদি কোনো প্রতিবেশী আমাদের শত্রু হতে চায়, সেটি আমাদের সংকট নয়। বরং সেটিই সিদ্ধান্ত নেওয়ার উপযুক্ত সময়। আমরা কি অসুস্থ প্রতিবেশীর সঙ্গে একই শর্তে সম্পর্ক বজায় রাখব, নাকি নিজেদের স্বার্থ, মর্যাদা ও ভবিষ্যৎকে অগ্রাধিকার দেব?

‘উই ক্যান অনলি উন্ডারস্ট্যান্ড টি ফিলিং অফ ডিভোশন ইফ টি নাইবোর্স শেয়ার আওয়ার প্যাশন’

দাভোসে একটি বিষয় বারবার ফিরে এসেছে। সভাকক্ষ, প্যানেল আলোচনা, করিডোরের আলাপ সবখানেই একই প্রশ্ন। আমরা কতদিন আমেরিকা, রাশিয়া কিংবা যুদ্ধের পেছনে সময় ব্যয় করব? কতদিন অন্যের সংঘাত, অন্যের ক্ষমতার দ্বন্দ্ব আমাদের চিন্তার কেন্দ্রে থাকবে? দাভোস বলছে, এখন সময় নিজেদের দিকে তাকানোর।

কীভাবে আমরা নিজেদের ভাগ্য বদলাতে পারি, সেটিই ছিল আলোচনার মূল সুর। কীভাবে একটি জাতি নিজের শক্তি নিজেই গড়ে তোলে। শিক্ষা, দক্ষতা, প্রযুক্তি, নৈতিকতা এবং প্রতিষ্ঠানকে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করিয়ে। শক্তি মানে কেবল সামরিক শক্তি নয়। শক্তি মানে আত্মবিশ্বাসী রাষ্ট্র। শক্তি মানে এমন সমাজ, যেখানে সিদ্ধান্ত আসে জনগণ থেকে, ভয় থেকে নয়।

দাভোস মনে করিয়ে দিয়েছে, শ্রেষ্ঠ জাতি কেউ জন্মগতভাবে হয় না। শ্রেষ্ঠ জাতি গড়ে ওঠে সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায়। ভুল স্বীকার করার সাহসে। নিজেদের দুর্বলতা ঢাকার চেষ্টা না করে, সেগুলো কাটিয়ে ওঠার দৃঢ়তায়।

বাংলাদেশের সামনে প্রশ্ন তাই বাইরের শক্তিকে নিয়ে নয়। প্রশ্ন আমাদের নিজেদের নিয়ে। আমরা কি আমাদের মানুষের ওপর আস্থা রাখব? আমরা কি সিদ্ধান্ত নেবো নিজেদের বাস্তবতা, সক্ষমতা ও ভবিষ্যৎকে সামনে রেখে? নাকি সারাক্ষণ অন্যের যুদ্ধ, অন্যের হুমকি আর অন্যের অনুমতির অপেক্ষায় থাকব?

দাভোস একটি বার্তাই দিয়েছে। কেউ এসে আমাদের ভাগ্য লিখে দেবে না। দাঁড়াতে হবে নিজের পায়ে। শক্ত হতে হবে নিজের ভিত থেকে। রাষ্ট্র গড়তে হবে মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও অংশগ্রহণের ওপর। এই পথ সহজ নয়। কিন্তু এটাই একমাত্র পথ। কারণ বাংলাদেশ কোনো দাবার ঘুঁটি নয়। বাংলাদেশ একটি জাতির সিদ্ধান্ত।

রহমান মৃধা, গবেষক ও লেখক, সাবেক পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন
rahman.mridha@gmail.com 

শেয়ার করুন:-
পুরো সংবাদটি পড়ুন

পুঁজিবাজারের সর্বশেষ

বন্ড বন্ড
পুঁজিবাজার1 hour ago

টেকসই বন্ড তালিকাভুক্তির সম্ভাবনা যাচাইয়ে ডিএসই–আইআইএক্স চুক্তি

বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে অরেঞ্জ ক্যাপিটাল ইনস্ট্রুমেন্ট প্রবর্তন ও বিস্তারের লক্ষ্যে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসি. (ডিএসই) এবং ইমপ্যাক্ট ইনভেস্টমেন্ট এক্সচেঞ্জ (আইআইএক্স)-এর মধ্যে...

বন্ড বন্ড
পুঁজিবাজার4 hours ago

সপ্তাহের প্রথমদিনে ব্লক মার্কেটে ১২ কোটি টাকার লেনদেন

সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে প্রধান ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ব্লক মার্কেটে মোট ৩৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এদিন ব্লক মার্কেটে ১২...

বন্ড বন্ড
পুঁজিবাজার4 hours ago

দরপতনের শীর্ষে ইসলামী ব্যাংক

সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন শেষে দরপতনের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ...

বন্ড বন্ড
পুঁজিবাজার5 hours ago

দর বৃদ্ধির শীর্ষে ওয়ান ব্যাংক

সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনে অংশ নেওয়া ৩৯৪ কোম্পানির মধ্যে ৩৬৪ টির শেয়ারদর বৃদ্ধি...

বন্ড বন্ড
পুঁজিবাজার5 hours ago

পুঁজিবাজারে লেনদেনের শীর্ষে সিটি ব্যাংক

সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন শেষে তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে সিটি ব্যাংক পিএলসি। ঢাকা স্টক...

বন্ড বন্ড
পুঁজিবাজার5 hours ago

সপ্তাহের প্রথমদিনে সূচকের উত্থানে লেনদেন ১ হাজার ২৭৫ কোটি টাকা

সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মূল্য সূচকের ইতিবাচক প্রবণতায় লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন লেনদেন হওয়া...

বন্ড বন্ড
পুঁজিবাজার6 hours ago

ড্রাগন সোয়েটারের লভ্যাংশ বিতরণ

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ড্রাগন সোয়েটার অ্যান্ড স্পিনিং লিমিটেড গত ৩০ জুন, ২০২৫ সমাপ্ত হিসাববছরে জন্য ঘোষিত লভ্যাংশ বিনিয়োগকারীদের কাছে পাঠিয়েছে।...

সোশ্যাল মিডিয়া

তারিখ অনুযায়ী সংবাদ

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
১০১১১৩
১৫১৬১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭
বন্ড
রাজনীতি47 minutes ago

জামায়াত আমিরের বাসায় তারেক রহমান

বন্ড
জাতীয়1 hour ago

বিএনপি ৫০ শতাংশ, জামায়াত ৩২ শতাংশ ভোট পেয়েছে: ইসি

বন্ড
আইন-আদালত1 hour ago

রমজানে স্কুল বন্ধ রাখতে হাইকোর্টের নির্দেশ

বন্ড
পুঁজিবাজার1 hour ago

টেকসই বন্ড তালিকাভুক্তির সম্ভাবনা যাচাইয়ে ডিএসই–আইআইএক্স চুক্তি

বন্ড
কর্পোরেট সংবাদ2 hours ago

ঢাকার মনিপুরী পাড়ায় ব্র্যাক ব্যাংকের নতুন উপশাখা উদ্বোধন

বন্ড
জাতীয়2 hours ago

শপথ অনুষ্ঠানে আসছেন না মোদি, ভারতের প্রতিনিধিত্ব করবেন স্পিকার

বন্ড
জাতীয়2 hours ago

শপথ অনুষ্ঠানে সার্কভুক্ত দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে: আইন উপদেষ্টা

বন্ড
জাতীয়3 hours ago

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় কোনো সাংবাদিককে মত প্রকাশের জন্য জেলে যেতে হয়নি: রিজওয়ানা

বন্ড
জাতীয়3 hours ago

পবিত্র রমজান উপলক্ষে দেশবাসীকে প্রধান উপদেষ্টার শুভেচ্ছা

বন্ড
জাতীয়3 hours ago

দেশে নির্বাচন পরবর্তী কোনো সংখ্যালঘু নির্যাতন ঘটেনি: প্রেস সচিব

বন্ড
রাজনীতি47 minutes ago

জামায়াত আমিরের বাসায় তারেক রহমান

বন্ড
জাতীয়1 hour ago

বিএনপি ৫০ শতাংশ, জামায়াত ৩২ শতাংশ ভোট পেয়েছে: ইসি

বন্ড
আইন-আদালত1 hour ago

রমজানে স্কুল বন্ধ রাখতে হাইকোর্টের নির্দেশ

বন্ড
পুঁজিবাজার1 hour ago

টেকসই বন্ড তালিকাভুক্তির সম্ভাবনা যাচাইয়ে ডিএসই–আইআইএক্স চুক্তি

বন্ড
কর্পোরেট সংবাদ2 hours ago

ঢাকার মনিপুরী পাড়ায় ব্র্যাক ব্যাংকের নতুন উপশাখা উদ্বোধন

বন্ড
জাতীয়2 hours ago

শপথ অনুষ্ঠানে আসছেন না মোদি, ভারতের প্রতিনিধিত্ব করবেন স্পিকার

বন্ড
জাতীয়2 hours ago

শপথ অনুষ্ঠানে সার্কভুক্ত দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে: আইন উপদেষ্টা

বন্ড
জাতীয়3 hours ago

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় কোনো সাংবাদিককে মত প্রকাশের জন্য জেলে যেতে হয়নি: রিজওয়ানা

বন্ড
জাতীয়3 hours ago

পবিত্র রমজান উপলক্ষে দেশবাসীকে প্রধান উপদেষ্টার শুভেচ্ছা

বন্ড
জাতীয়3 hours ago

দেশে নির্বাচন পরবর্তী কোনো সংখ্যালঘু নির্যাতন ঘটেনি: প্রেস সচিব

বন্ড
রাজনীতি47 minutes ago

জামায়াত আমিরের বাসায় তারেক রহমান

বন্ড
জাতীয়1 hour ago

বিএনপি ৫০ শতাংশ, জামায়াত ৩২ শতাংশ ভোট পেয়েছে: ইসি

বন্ড
আইন-আদালত1 hour ago

রমজানে স্কুল বন্ধ রাখতে হাইকোর্টের নির্দেশ

বন্ড
পুঁজিবাজার1 hour ago

টেকসই বন্ড তালিকাভুক্তির সম্ভাবনা যাচাইয়ে ডিএসই–আইআইএক্স চুক্তি

বন্ড
কর্পোরেট সংবাদ2 hours ago

ঢাকার মনিপুরী পাড়ায় ব্র্যাক ব্যাংকের নতুন উপশাখা উদ্বোধন

বন্ড
জাতীয়2 hours ago

শপথ অনুষ্ঠানে আসছেন না মোদি, ভারতের প্রতিনিধিত্ব করবেন স্পিকার

বন্ড
জাতীয়2 hours ago

শপথ অনুষ্ঠানে সার্কভুক্ত দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে: আইন উপদেষ্টা

বন্ড
জাতীয়3 hours ago

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় কোনো সাংবাদিককে মত প্রকাশের জন্য জেলে যেতে হয়নি: রিজওয়ানা

বন্ড
জাতীয়3 hours ago

পবিত্র রমজান উপলক্ষে দেশবাসীকে প্রধান উপদেষ্টার শুভেচ্ছা

বন্ড
জাতীয়3 hours ago

দেশে নির্বাচন পরবর্তী কোনো সংখ্যালঘু নির্যাতন ঘটেনি: প্রেস সচিব