জাতীয়
এমন নিখাদ দেশপ্রেমিক নেত্রীর শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয়: প্রধান উপদেষ্টা
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে তিনি বলেন, এমন একজন নিখাদ দেশপ্রেমিক নেত্রীর শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয়।
মঙ্গলবার সকাল ৬টার দিকে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও তিনবারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। ২৩ নভেম্বর থেকেই রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।
তার মৃত্যু উপলক্ষে মঙ্গলবার দুপুরে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, তার মৃত্যুতে জাতির পক্ষ থেকে আমি আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি। খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক মহিমান্বিত ব্যক্তিত্ব। দেশ ও জাতির প্রতি তার সমুজ্জল অবদান জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।
তিনি আরও বলেন, এমন একজন নিখাদ দেশপ্রেমিক নেত্রীর শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয়। শোকের এই সময়ে কেউ যেন অস্থিতিশীলতা ও নাশকতার অপচেষ্টা চালাতে না পারে। প্রিয় দেশবাসী, খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আমি তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক এবং আগামীকাল তার জানাজার দিনে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করছি।
এমকে
জাতীয়
শিক্ষাকে শ্রেষ্ঠ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করে বর্তমান সরকার: প্রধানমন্ত্রী
বর্তমান সরকার শিক্ষাকে জাতির শ্রেষ্ঠ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করে। সেই সঙ্গে একটি গুণগত, জীবনমুখী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য মো. সেলিম রেজার এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন। বুধবারের প্রশ্নোত্তর টেবিলে বিষয়টি উত্থাপিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষাকে জাতির শ্রেষ্ঠ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করে এবং একটি গুণগত, জীবনমুখী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ধাপে ধাপে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে ৪৩টি খাত চিহ্নিত করে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ইশতেহারে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। সে লক্ষ্যে চলতি অর্থবছরেই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২ লাখ শিক্ষার্থীর মাঝে বিনা মূল্যে স্কুলড্রেস বিতরণ করা হবে। সব উপজেলায় পর্যায়ক্রমে এ কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পুষ্টি চাহিদা পূরণে পর্যায়ক্রমে সব উপজেলায় স্কুল ফিডিং/মিড-ডে মিল চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী নতুন প্রজন্মকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার উপযোগী করতে প্রাথমিক, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও সমমানের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন করা হবে। ডিজিটাল বৈষম্য কমাতে দেড় হাজার প্রতিষ্ঠানে (মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়) ফ্রি ওয়াই-ফাই সংযোগ এবং প্রতিটি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের জন্য অনন্য ডিজিটাল পরিচয় বা ‘এডু-আইডি’ প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, মাধ্যমিক পর্যায়ে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি সবার জন্য কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার অঙ্গীকার করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব উপজেলায় টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ এবং সব জেলায় পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ আধুনিকায়নের পাশাপাশি আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে দেশের ২ হাজার ৩৩৬টি কারিগরি ও ৮ হাজার ২৩২টি মাদরাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াই-ফাই চালু করা হবে।
মাদরাসা শিক্ষাকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে স্মার্ট ক্লাসরুম স্থাপন, শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ প্রদান এবং কারিগরি কোর্স অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলেও জানান তিনি।
এ ছাড়া আইসিটি বিভাগের আওতাধীন বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) কর্তৃক আগামী ছয় মাসের মধ্যে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, সাইবার সিকিউরিটি, মোবাইল অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ডিজাইন (ফ্লাটার), পাইথন প্রোগ্রিং এবং এআই-ভিত্তিক ডিজিটাল মার্কেটিং বিষয়ে শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জাতীয়
সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা, ভোট ১২ মে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের ভোটের তফসিল ঘোষণা করেছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ।
বুধবার (৮ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে তিনি এ তফসিল ঘোষণা করেন।
তিনি জানান, মনোনয়ন পত্র দাখিলের শেষ তারিখ ২১ এপ্রিল এবং ২২ ও ২৩ এপ্রিল মনোনয়ন যাচাই-বাছাই করা হবে। পরে ২৬ এপ্রিল বাতিল হওয়া মনোনয়নের বিষয়ে আপিল করা শুরু হয়ে এর নিষ্পত্তি হবে ২৭ ও ২৮ এপ্রিল।
সচিব জানান, ২৯ এপ্রিল মনোনয়ন প্রত্যাহার এবং ৩০ এপ্রিল প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে। আগামী ১২ মে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
এ নির্বাচনে বিএনপি ও জোট পাচ্ছে ৩৬ আসন। জামায়াত-এনসিপির জোট ১৩ এবং স্বতন্ত্র ৬ জন মিলিয়ে একটি আসন। এছাড়া রুমিন ফারহানা কারও জোটে থাকছেন না বলে জানান ইসি সচিব।
জাতীয়
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন বিমান বাহিনী প্রধান
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।
বুধবার (০৮ এপ্রিল) সকালে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
তাদের মধ্যে এটি ছিল সৌজন্যমূলক একটা সাক্ষাৎ বলেও জানিয়েছি প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং।
জানা গেছে, আজ অধিবেশনের শুরুতেই বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
জাতীয়
ঢাকা সিটিকে বিভক্ত করা হয়েছিল শুধু রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে: ড. আসাদুজ্জামান রিপন
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ড. আসাদুজ্জামান রিপন বলেছেন, ঢাকা শহরকে উত্তর ও দক্ষিণ—এই দুই সিটি করপোরেশনে বিভক্ত করার পেছনে কোনো জনকল্যাণমূলক চিন্তা ছিল না, বরং এটি ছিল তৎকালীন শেখ হাসিনা সরকারের একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সিদ্ধান্ত। প্রয়াত মেয়র সাদেক হোসেন খোকাকে ঢাকার রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই বিভাজন করা হয়েছিল।
সম্প্রতি এশিয়া পোস্টের নিয়মিত আয়োজন ‘আলাপন’-এ একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। সাক্ষাৎকারে তিনি ঢাকার নগর ব্যবস্থাপনা, বিচার বিভাগের দলীয়করণ এবং বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনা করেন।
ঢাকা সিটির বর্তমান বেহাল দশা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ড. রিপন বলেন, নিউইয়র্ক সিটির আয়তন গোটা বাংলাদেশের প্রায় ৭৫ শতাংশের সমান। সেই শহরটি ম্যানেজ হয় মাত্র একজন মেয়র দিয়ে। সেখানে অসংখ্য মিউনিসিপাল হসপিটাল আছে ,যা সিটির অধীনে চলে। নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্ট এবং শিক্ষা ডিপার্টমেন্ট সব সিটির অধীনে। অথচ ঢাকা সিটিতে উত্তর-দক্ষিণ করার কী দরকার ছিল? আমার নতুন দাবি হবে—‘ওয়ান সিটি, ওয়ান ঢাকা, ওয়ান মেয়র’। শেখ হাসিনা ঢাকাকে উত্তর-দক্ষিণে বিভক্ত করেছিলেন শুধু রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এবং সাদেক হোসেন খোকাকে বিদায় করার জন্য। খোকা ভাই এই বিভক্তির প্রতিবাদে হাইকোর্টে মামলাও করেছিলেন। বিএনপির প্রতিশ্রুতি ছিল ক্ষমতায় গেলে ঢাকাকে পুনরায় একত্রীকরণ করবে। দুইটা সিটি হওয়ার কারণে নাগরিকরা শুধু বেশি বেশি মশা ছাড়া আর কিছুই পায়নি।
একটি আদর্শ সিটি করপোরেশনের প্রকৃত দায়িত্ব ও অগ্রাধিকার কী হওয়া উচিত—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সিটি করপোরেশনের কাজ কেবল মার্কেট বানানো নয়। মেয়রের কাজ হলো শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়ন করা। ঢাকা সিটিতে কিছু স্কুল আছে যেখানে সিটি করপোরেশনের সুইপারদের ছেলে-মেয়েরাও পড়তে যায় না, এত বেহাল দশা। আমি দায়িত্ব পেলে পরিত্যক্ত স্কুলগুলোকে স্মার্ট স্কুল করব। মার্কেট বানানোর ধান্দা করলে হবে না।
ঢাকা শহরের জরাজীর্ণ শিক্ষা ব্যবস্থা এবং অসহনীয় যানজট নিরসনে নিজের পরিকল্পনা নিয়ে ড. আসাদুজ্জামান রিপন জানান, পরিত্যক্ত স্কুলগুলোকে স্মার্ট স্কুল করার মাধ্যমে আমি একটি উদাহরণ সৃষ্টি করতে চাই, যেখানে বিত্তবানদের সন্তানরাও পড়তে চাইবে। রাস্তা আর ফুটপাত দখল হয়ে গেছে, বিদ্যুৎ চুরি করে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলছে। আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ঢাকা শহরকে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করতে হবে, না হলে ১৫-২০ বছরের মধ্যে এই শহর পরিত্যক্ত করা ছাড়া উপায় থাকবে না।
তিনি আরও বলেন, আমি নিজে এক পয়সা হারাম খাই না, আর কাউকে হারাম খেতেও দেব না। আমি দায়িত্ব পেলে পরিত্যক্ত স্কুলগুলোকে স্মার্ট স্কুলে রূপান্তর করব এবং চাঁদাবাজ-দুর্বৃত্তদের হাত থেকে ঢাকাকে মুক্ত করব।
অর্থনীতি
অন্তর্বর্তী সরকারের ‘ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক অধ্যাদেশ-২০২৫’ বাতিলের দাবি
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারিকৃত ‘ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক অধ্যাদেশ-২০২৫’-এর মাধ্যমে ব্যাংকিং ব্যবস্থার আড়ালে ক্ষুদ্রঋণ খাতকে ধ্বংস করার সুস্পষ্ট নীলনকশা বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে। ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যাংকিং কাঠামোর আওতায় আনার নামে কোনো ধরনের করপোরেট আগ্রাসন মেনে নেওয়া হবে না। তাই অবিলম্বে এই অধ্যাদেশ বাতিল করতে হবে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘ক্ষুদ্রঋণকে ব্যাংকিং কাঠামোয় রূপান্তরের ঝুঁকি’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দেশে বিদ্যমান ৬৭টি ব্যাংক পরিচালনায় যেখানে বাংলাদেশ ব্যাংককেই নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়, সেখানে শত শত এনজিও ও ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানকে ব্যাংকিং ব্যবস্থার আওতায় আনা হলে তা কিভাবে কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করা সম্ভব হবে। অধ্যাদেশের মাধ্যমে ঝুঁকি সৃষ্টি না করে বরং সঞ্চয়ের সুযোগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরো আর্থিকভাবে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিতে হবে। একইসঙ্গে, পাবলিক ডিমান্ড রিকভারি অ্যাক্ট-এর আওতায় সার্টিফিকেট মামলা দায়েরের সুযোগ প্রদান করতে হবে, যাতে অর্থ আত্মসাৎ প্রতিরোধ করা যায়। ক্ষুদ্রঋণ খাতের তদারকির দায়িত্ব বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে না দিয়ে বরং মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ), পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এবং এনজিও ব্যুরোর মতো বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরো শক্তিশালী করতে হবে এবং তাদের নিজস্ব কাঠামোর মধ্যেই তাদের কাজ করতে দিতে হবে।
কোস্ট ফাউন্ডেশন, ইক্যুইটিবিডি এবং বিডিসিএস্ও প্রসেস কর্তৃক আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন কোস্ট ফাউন্ডেশন-এর নির্বাহী পরিচালক ও ইক্যুইটিবিডি-এর প্রধান সঞ্চালক রেজাউল করিম চৌধুরী। তিনি বলেন, উন্নয়ন কেবল অবকাঠামো বা ব্যাংক ব্যালেন্স বৃদ্ধির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, প্রকৃত উন্নয়ন হলো মানুষের সক্ষমতা বৃদ্ধি, আত্মমর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং নিরাপদ জীবনের নিশ্চয়তা।
রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, এনজিওগুলো স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগের জন্য বিদেশ থেকে যে ফান্ড আনার সুযোগ পায়, ব্যাংকগুলো কি সুযোগ পাবে? তা ছাড়া যেখানে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর এনপিএল প্রায় ৩৫ শতাংশ, সেখানে ক্ষুদ্রঋণ এনপিএল গড়ে ৮-৯ শতাংশ ওপরে নয়, ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে এমন নজির বাংলাদেশে নেই। তাই ব্যাংকগুলোও এখন ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগকে সবচেয়ে নিরাপদ মনে করছে।
ক্ষুদ্রঋণ সেক্টর লাখো মানুষের আত্মনির্ভরতা ও নারীর ক্ষমতায়ন জোরদার করেছে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে গতিশীল করেছে। এই সেক্টরকে করপোরেট আগ্রাসনের ঝুঁকিতে ফেলতে দিতে পারি না। তাই আমরা দাবি করছি, এই অধ্যাদেশ অবিলম্বে বাতিল করা হোক।
সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিডিসিএসও প্রসেস-এর মোস্তফা কামাল আকন্দ। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, প্রস্তাবিত ‘ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক অধ্যাদেশ ২০২৫’ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
প্রথমত, ক্ষুদ্রঋণের মূল লক্ষ্য হলো দারিদ্র্য বিমোচন ও সামাজিক উন্নয়ন, যা ব্যাংকিং কাঠামোয় মুনাফা-চালিত হয়ে প্রান্তিক মানুষদের সেবার বাইরে ঠেলে দিতে পারে। দ্বিতীয়ত, ব্যাংকিং নিয়ম ও জটিলতা দ্রুত ও সহজলভ্য সেবাকে বাধাগ্রস্ত করবে। তৃতীয়ত, এনজিওদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলার কাজ ব্যাংকিং মডেলে গুরুত্ব হারাবে, যা গ্রামীণ উন্নয়নে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরো বক্তৃতা করেন কোস্ট ফাউন্ডেশনের পরিচালক সৈয়দ আমিনুল হক, ইকুইটিবিডির সমন্বয়কারী ওমর ফারুক ভুইয়া, বিডিসিএসও-প্রসেসের এম. এ. হাসান প্রমুখ।



