অর্থনীতি
তারেক রহমানের ফেরা বিনিয়োগকারীদের জন্য কনফিডেন্স বুস্টার: বিডা চেয়ারম্যান
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরা বাংলাদেশের বিনিয়োগ বান্ধবতার জন্য এটা গুরুত্বপূর্ণ; বিনিয়োগকারীদের জন্য একটা কনফিডেন্স বুস্টার বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক বিন হারুন।
রোববার (২৮ ডিসেম্বর) তার ভ্যারিফায়েড ফেসবুক পোস্টে এ কথা বলেন তিনি।
পোস্টে তিনি লেখেন, তারেক রহমানের দেশে ফেরা সিগন্যাল দেয় যে আমরা একটি অবাধ সুষ্ঠ নির্বাচনের দিকে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছি। বাংলাদেশের বিনিয়োগ বান্ধবতার জন্য এটা গুরুত্বপূর্ণ; বিনিয়োগকারীদের জন্য একটা কনফিডেন্স বুস্টার। গত সপ্তাহে আরও একটা ভালো ঘটনা ঘটেছে বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনার পরিপ্রেক্ষিতে: বাংলাদেশ-জাপান ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট (ইপিএ)।
বিষয়টি ব্যাখ্যা করে তিনি লেখেন, বিশ্ববাজারে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট (এফটিএ) বা ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট (ইপিএ) আবশ্যক। বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বি দেশগুলো এক্ষেত্রে অনেক এগিয়ে। ভিয়েতনামের এমন চুক্তি আছে প্রায় ৫০টি দেশের সঙ্গে, কম্বোডিয়ার আছে প্রায় ২০টি দেশের সঙ্গে। আর আমাদের এমন কম্প্রিহেনসিভ এগ্রিমেন্টের সংখ্যা শূন্য। আমরা এই গোল্ডেন ডাক ব্রেক করতে যাচ্ছি জাপানের সঙ্গে ইপিএ করে। গত সপ্তাহে দুই দেশের মধ্যে নেগোশিয়েশন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ধাপসমূহ সম্পন্নের পর এটি কার্যকর হবে।
তার ভাষ্যে তিন কারণে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য এটা বিশাল একটি পদক্ষেপ। তা হলো-
১. বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান
বিনিয়োগকারীরা ফ্রেমওয়ার্কের মধ্যে অপারেট করতে পছন্দ করে। আমাদের প্রতিযোগী দেশগুলো সেই ফ্রেমওয়ার্কটা তৈরি করেছে এফটিএ বা ইপিএ-র মাধ্যমে। আমাদের এগুলো না থাকার কাফফারা হিসেবে জাপানের উদাহরণ দেওয়া যায়। এত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক হওয়া সত্বেও বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ গত ৫৪ বছরে হয়েছে মাত্র ৫০০ মিলিয়ন ডলার। এই ইপিএ স্বাক্ষরের মাধ্যমে জাপানি বিনিয়োগকারীরা পলিসি কনটিনুইটি, লিগ্যাল জুরিসডিকশন, এমএফএন, ইত্যাদি বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা পাবে। আগামী দিনে বিনিয়োগ শুধু পরিমাণে নয়, বৈচিত্র্য ও গুণগত মানেও বহুগুণে বাড়বে। জাপান হতে বিশেষ কিছু খাতে বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হবে, আইটি ও ডিজিটাল সেবা, লজিস্টিকস ও সাপ্লাই চেইন, ইলেকট্রনিক্স ও অটোমোটিভ যন্ত্রাংশ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও কৃষি/অ্যাগ্রো-প্রসেসিং। সেই সঙ্গে আমাদের দেশের তরুণদের কর্মসংস্থান ও দক্ষতাও বৃদ্ধি পাবে।
২. জাপানে আমাদের পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার
বাংলাদেশ চুক্তি স্বাক্ষরের প্রথম দিন থেকেই পোশাকসহ ৭,৩৭৯ টি পণ্যে জাপানের বাজারে তাৎক্ষণিক শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার সুবিধা পাবে। পক্ষান্তরে, জাপান ১,০৩৯ টি পণ্যে বাংলাদেশের বাজারে তাৎক্ষণিক শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে। সেবা বাণিজ্য খাতেও উভয় দেশ উল্লেখযোগ্য অঙ্গীকার করেছে। বাংলাদেশ জাপানের জন্য ৯৭টি উপখাত উন্মুক্ত করতে সম্মত হয়েছে। অন্যদিকে, জাপান বাংলাদেশের জন্য ১২০টি উপখাতে ৪টি মোডে সার্ভিস উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। সব মিলিয়ে জাপান ও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে।
৩. সরকারি কর্মকর্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি
এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জগুলোর একটা বড় সমাধান হচ্ছে দ্রুত বাণিজ্যিকভাবে ইম্পর্ট্যান্ট দেশগুলোর সঙ্গে এই চুক্তি সম্পন্ন করা। অন্যান্য দেশে এসব এফটিএ/এপিএ নেগোসিয়েশনের জন্য সরকারে স্পেশালিস্ট এক্সপার্ট টিম থাকে। আমরা প্রথমবারের মতো একটা সলিড দল তৈরি করার দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। আমেরিকা, কোরিয়া, তুরস্ক, ইত্যাদি দেশের সঙ্গে অলরেডি কথা শুরু হয়েছে। এই দলটা কিছুদিনের মধ্যেই ঝানু নেগোসিয়েটরে পরিণত হবে।
তিনি আরও লেখেন, ২০২৫ সালে আমরা চেষ্টা করেছি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করার ক্ষেত্রে বেসিক কিছু ট্র্যাক সেট করা। আশা করছি আগামী সরকার এই ভীত গড়ার উদ্যোগ থেকে উপকৃত হবে এবং দেশকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
এমকে
অর্থনীতি
নমুনা নোট নিয়ে বিভ্রান্তি, সতর্ক করল বাংলাদেশ ব্যাংক
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ভুয়া ভিডিও, বিভ্রান্তিকর তথ্য এবং বাজারে সরবরাহকৃত নমুনা নোট ব্যবহার করে প্রতারণা ও অবৈধ কার্যক্রম সম্পর্কে সর্বসাধারণকে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অব কমিউনিকেশন অ্যান্ড পাবলিকেশন থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু ভিডিও ও ছবি প্রচার করা হচ্ছে, যেখানে আসল নোটের ডিজাইন ও আকার অনুকরণ করে বড় আকারের ‘নমুনা নোট’ ব্যবহার করে মিথ্যা প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এসব নমুনা নোট দিয়ে অবৈধ মার্কেটিং কার্যক্রম পরিচালনা বা মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
বাজারে বা জনসমাগমস্থলে আসল টাকার আদলে তৈরি কাগজ ব্যবহার করে যেকোনো ধরনের প্রচারণা বা কার্যক্রম জনসাধারণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে এবং এটি ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। বাংলাদেশ দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর বিধান অনুযায়ী এ ধরনের কর্মকাণ্ড শাস্তিযোগ্য।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, আসল নোটসদৃশ কাগজ তৈরি, ব্যবহার বা প্রচার থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ভুয়া, বিভ্রান্তিকর বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য যাচাই না করে বিশ্বাস না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জনগণকে আসল নোট চেনা, নিরাপদ লেনদেন নিশ্চিত করা এবং নোটের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জানার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট ভিজিট করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
এমএন
অর্থনীতি
রমজানে টিসিবির পণ্য: কার্ডধারী পাবেন কম দামে, ট্রাকসেলে কেন বেশি?
রমজান উপলক্ষে বিশেষ বিক্রি কার্যক্রম শুরু করছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচিতে স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডধারীদের পাশাপাশি প্রতিদিন আরও ১ লাখ ৮০ হাজার মানুষ বাজারমূল্যের চেয়ে কম দামে পণ্য কিনতে পারবেন। তবে কার্ডধারীদের তুলনায় ট্রাক থেকে পণ্য কিনতে প্রতি প্যাকেজে ৬০ টাকা বেশি গুনতে হবে নিম্নবিত্ত ক্রেতাদের।
নির্বাচনের পর রমজানের বেচাকেনায় ধীরে ধীরে সরগরম হচ্ছে রাজধানীর বাজার। এবার পণ্যমূল্য বাড়ার প্রবণতা না থাকায় কিছুটা স্বস্তির কথা বলছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা। তারা বলছেন, বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে।
এর মধ্যেই রমজান উপলক্ষে স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডধারী ৭৫ লাখ সুবিধাভোগীর পাশাপাশি সারাদেশে সাড়ে ৪শ’ ট্রাকে পণ্য বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে টিসিবি। সংস্থাটির উপ-পরিচালক ও তথ্য কর্মকর্তা মো. শাহাদাত হোসেন জানান, শুক্রবার ও সরকারি ছুটির দিন ছাড়া ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ১২ মার্চ পর্যন্ত চলবে বিক্রি কার্যক্রম। প্রতিদিন প্রায় ৪৫০টি ট্রাকের প্রতিটিতে ৪০০ জন হিসেবে পণ্য বিক্রি করা হবে। প্রস্তাবনা অনুযায়ী ট্রাক সেলে ভোজ্যতেল প্রতি লিটার ১১৫ টাকা, মসুর ডাল ৭০ টাকা ও চিনি ৮০ টাকায় বিক্রি হবে। তবে নিয়মিত স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে পণ্য বিক্রির দাম আগের মতোই বহাল থাকবে।
পণ্যের মূল্য তালিকা অনুযায়ী, স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডধারীরা দুই লিটার সয়াবিন তেল পাবেন ২০০ টাকায়। কিন্তু ট্রাক সেল থেকে কিনলে একই পরিমাণ তেলের জন্য গুনতে হবে ২৩০ টাকা। একইভাবে চিনি ও ডালে কেজিপ্রতি ১০ টাকা করে বেশি দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ট্রাক সেলে।
অর্থনীতিবিদ ড. মাহফুজ কবির বলেন, এসব পণ্য আলাদা শ্রেণির মানুষের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে না; একই শ্রেণির মানুষের জন্যই কর্মসূচি। সেখানে দুই রকম দাম নির্ধারণ বৈষম্য তৈরি করবে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
প্রতি ট্রাকে ৪০০ জন হিসেবে দৈনিক সাড়ে ৪শ’ ট্রাক থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার মানুষ পণ্য কিনতে পারবেন। ২০ দিন ধরে চলা এই কার্যক্রমে মোট সুবিধা পাবেন ৩৬ লাখ জন। ডাল, চিনি ও তেলের বাড়তি মূল্যে প্রতি প্যাকেজে তাদের ৬০ টাকা বেশি দিতে হবে। এভাবে স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডের তুলনায় ট্রাক সেলে ভর্তুকি বাবদ ২০ দিনে সরকারের ব্যয় ২১ কোটি ৬০ লাখ টাকা কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে টিসিবির।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বাড়তি ব্যয়ের এই বোঝা নিম্নবিত্তের ওপর চাপিয়ে দুই রকম দামে পণ্য বিক্রি করলে সরকারের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য প্রশ্নবিদ্ধ হবে। ড. মাহফুজ কবিরের মতে, সরকার যে ভালো উদ্দেশ্যে ট্রাক সেল ও ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম চালু করেছে, দুই রকম দাম নির্ধারণ করলে তার বদনাম হতে পারে। তাই উভয় প্রক্রিয়ায় একই দাম নির্ধারণ করা উচিত।
এদিকে বছরব্যাপী ভর্তুকি মূল্যে পণ্য বিক্রির জন্য স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য হালনাগাদের কাজ চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে টিসিবি।
এমএন
অর্থনীতি
বিদেশ থেকে ফেরার সময় শুল্ক দিয়ে যেসব পণ্য আনা যাবে
বিদেশ থেকে দেশে ফেরার সময় অনেকেই প্রিয়জনদের জন্য নানা উপহার নিয়ে আসেন। লাগেজের সীমাবদ্ধতার কারণে ছোটখাটো জিনিস আনলেও সরকার নির্ধারিত ব্যাগেজ রুলস অনুযায়ী শুল্ক–কর পরিশোধ করে বড় গৃহস্থালি পণ্যও আনা যায়। এ জন্য কোনো ঋণপত্র (এলসি) খোলার প্রয়োজন হয় না।
সরকার সময়ে সময়ে ব্যাগেজ রুলে পরিবর্তন আনে। বর্তমানে ১১ ধরনের পণ্য শুল্ক–কর দিয়ে আনার সুযোগ রয়েছে। নিচে সেগুলোর বিবরণ তুলে ধরা হলো—
টেলিভিশন: ৩০ ইঞ্চি পর্যন্ত এলইডি, প্লাজমা, এলসিডি, টিএফটি টেলিভিশন বিনা শুল্কে আনা যাবে। তবে এর বেশি হলে কর দিতে হবে। ৩০-৩৬ ইঞ্চি পর্যন্ত ১০ হাজার টাকা, ৩৭-৪২ ইঞ্চি ২০ হাজার টাকা, ৪৩–৪৬ ইঞ্চি ৩০ হাজার টাকা, ৪৭–৫২ ইঞ্চি ৫০ হাজার টাকা, ৫৩–৬৫ ইঞ্চ ৭০ হাজার টাকা, ৬৫ ইঞ্চির বেশি হলে ৯০ হাজার টাকা কর দিতে হবে।
মিউজিক সিস্টেম: চারটির বেশি এবং সর্বোচ্চ আটটি স্পিকারসহ মিউজিক সিস্টেমসহ হোম থিয়েটার (সিডি,ভিসিডি,ডিভিডি,এলডি, এমডি, ব্লু রেডিস্ক সেট) আনা যাবে। এ জন্য আট হাজার টাকা শুল্ক–কর দিতে হবে।
রেফ্রিজারেটর ও ডিপ ফ্রিজার : বিদেশ থেকে রেফ্রিজারেটর ও ডিপ ফ্রিজারও আনতে পারবেন। এ জন্য শুল্ক–করের পরিমাণ ৫ হাজার টাকা।
এয়ার কুলার ও এয়ার কন্ডিশনার : বিদেশ থেকে ব্র্যান্ডের এয়ারকুলার ও এয়ার কন্ডিশনার আনেন অনেকে। উইন্ডো টাইপের এসিতে ৭ হাজার টাকা শুল্ক–কর দিতে হবে। এ ছাড়া স্প্লিট টাইপের এসির (১৮০০০ বিটিইউ পর্যন্ত) জন্য ১৫ হাজার টাকা এবং স্প্লিট টাইপের এসির (১৮০০০ বিটিইউয়ের বেশি) জন্য ২০ হাজার টাকা শুল্ক–কর বসবে।
ডিশ অ্যানটেনা : ডিশ অ্যানটেনা আনলে সাত হাজার টাকা শুল্ক বসবে।
স্বর্ণবার : বিদেশ থেকে ফেরার সময় বছরে একবার সর্বোচ্চ ১১৭ গ্রাম ওজনের একটি করে সোনার বার আনতে পারবেন।
সোনার বার আনার ক্ষেত্রে প্রতি ভরিতে (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) শুল্ক ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
রৌপ্যবার : বিদেশ থেকে ফেরার সময় বছরে একবার সর্বোচ্চ ২৩৪ গ্রাম ওজনের একটি করে রূপার বার আনতে পারবেন। রূপার বার আনার ক্ষেত্রে প্রতি ভরিতে (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) শুল্ক ৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ডিএসএলআর ক্যামেরা : এইডি ক্যামেরা, ডিভি ক্যামেরা, বেটা ক্যামেরা, ডিএসএলআর ক্যামেরা, মিররলেস, ইন্টারচেঞ্জেবল লেনস ইত্যাদি আনা যাবে। এ জন্য ১৫ হাজার টাকা শুল্ক দিতে হবে।
ঝাড়বাতি : ঝাড়বাতি আনলে আপনাকে প্রতি পয়েন্টের জন্য ৩০০ টাকা করে কর দিতে হবে।
ওয়াশিং মেশিন : বিদেশ থেকে ফিরে আসার জন্য গৃহস্থালির কাজের জন্য ডিশওয়াশার বা ওয়াশিং মেশিন বা ক্লথ ড্রায়ার আনা যাবে। এ জন্য কর বসবে ৩ হাজার টাকা।
এয়ারগান : বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়ে এয়ারগান আনতে পারবেন যাত্রীরা। প্রতিটি এয়ারগানের জন্য ৫ হাজার টাকা শুল্ক বসবে।
ব্যাগেজ রুলের এই সুবিধা প্রবাসীদের জন্য বড় গৃহস্থালি পণ্য দেশে আনার ক্ষেত্রে সহজ সুযোগ তৈরি করেছে। তবে নির্ধারিত শুল্ক–কর পরিশোধ ও প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করেই এসব পণ্য আনতে হবে।
অর্থনীতি
রোজায় ট্রাকসেলের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি করবে টিসিবি
আসন্ন পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে সারা দেশে ট্রাক করে পণ্য বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি জানায়, বর্তমানে স্মার্ট কার্ডধারী পরিবারের জন্য ভর্তুকি মূল্যে পণ্য বিক্রির কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এর পাশাপাশি রমজান মাসে বিশেষ ট্রাকসেলের মাধ্যমে ৩০ থেকে ৩৫ লাখ ভোক্তার কাছে পণ্য পৌঁছে দেওয়া হবে।
টিসিবি জানায়, রোজায় নিয়মিত পণ্য হিসেবে তেল, ডাল ও চিনির পাশাপাশি ছোলা ও খেজুরও বিক্রি করা হবে। তবে ট্রাকসেলের আওতায় পণ্যের নির্ধারিত পরিমাণ ও মূল্য পরে জানানো হবে।
টিসিবি আরো জানায়, রমজান মাস শুরুর আগের দিন থেকেই ট্রাকসেল কার্যক্রম শুরু হতে পারে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে নিম্ন ও মধ্যআয়ের মানুষের জন্য রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী করার লক্ষ্য নিয়েছে টিসিবি।
এমএন
অর্থনীতি
বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তিতে বড় চ্যালেঞ্জে ভারত
বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্টের বাণিজ্য চুক্তি ভারতের বস্ত্র ও তুলা খাতের জন্য নতুন প্রতিযোগিতা তৈরি করেছে। চুক্তিতে বাংলাদেশি কিছু পোশাক পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে শুল্ক ছাড়াই বিক্রি করা যাবে, যা ভারতীয় রপ্তানিকারকদের অবস্থান দুর্বল করতে পারে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম বলছে, চুক্তির আগে ভারতের বস্ত্র রপ্তানির ওপর শুল্ক ছিল ৫০ শতাংশ; এখন তা কমে ১৮ শতাংশে এসেছে। বাংলাদেশি পোশাকের জন্য যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক ছাড়ার কারণে মার্কিন বাজারে তারা ভারতের চেয়ে সস্তা অবস্থানে আসতে পারে।
বাংলাদেশের বস্ত্র খাত দেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৮০ শতাংশ। এছাড়া বাংলাদেশ বিশ্বের বড় তুলা আমদানিকারক এবং ভারতের তুলার সবচেয়ে বড় ক্রেতা। নতুন চুক্তিতে মার্কিন তুলা ব্যবহার করে পোশাক তৈরির সুবিধা বেড়ে যাওয়ায় ভারতীয় তুলা ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ বাড়ছে।
ইতোমধ্যে ভারতীয় বস্ত্র ও সুতা উৎপাদনকারী কোম্পানির শেয়ারে চাপ পড়েছে। বিরোধী কংগ্রেস দল ও রাজ্যসভার সদস্য প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী মোদি সরকারের সমালোচনা করেছেন। কংগ্রেস বলেছে, চুক্তির কারণে দেশীয় তুলাচাষি ও রপ্তানিকারকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
চূড়ান্ত যুক্তরাষ্ট্র-ভারত বাণিজ্য চুক্তি এখনো সই হয়নি। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভারতের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে শুল্ক ও বাণিজ্য আলোচনার মাধ্যমে সমাধান বের করার চেষ্টা হতে পারে।
এমএন



