অর্থনীতি
দেশে-বিদেশে ক্রেডিট কার্ডে লেনদেন বেড়েছে
দেশে ও বিদেশে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে লেনদেন বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সেপ্টেম্বরের তুলনায় অক্টোবর মাসে দেশের ভেতর, দেশের বাইরে বাংলাদেশিদের এবং দেশে অবস্থানরত বিদেশিদের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে বিদেশে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশিরা খরচ করেছিলেন ৪৯৪ কোটি ২ লাখ টাকা। পরের মাস অক্টোবরেই তা বেড়ে দাঁড়ায় ৫৩৪ কোটি ২ লাখ টাকায়। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে বিদেশে ক্রেডিট কার্ড লেনদেন বেড়েছে প্রায় ৪০ কোটি টাকা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অক্টোবর মাসে বিদেশে বাংলাদেশিদের ক্রেডিট কার্ড ব্যয়ের ক্ষেত্রে শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে খরচ হয়েছে ৭২ কোটি ৬ লাখ টাকা। এরপর থাইল্যান্ডে ৫৬ কোটি ৩ লাখ টাকা, যুক্তরাজ্যে ৫২ কোটি ২ লাখ টাকা, সিঙ্গাপুরে ৪৫ কোটি ২ লাখ টাকা, মালয়েশিয়ায় ৪৫ কোটি টাকা, সৌদি আরবে ৩১ কোটি টাকা, ভারতে ৩২ কোটি ৬ লাখ টাকা, নেদারল্যান্ডসে ২৩ কোটি টাকা, কানাডায় ২০ কোটি টাকা, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১৯ কোটি টাকা, চীনে ১৮ কোটি ৯ লাখ টাকা, অস্ট্রেলিয়ায় ১৭ কোটি টাকা এবং অন্যান্য দেশে মোট ৯৯ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।
এদিকে বিদেশিরা বাংলাদেশে এসে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে যে ব্যয় করছেন, সেটিও বেড়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে বিদেশিরা বাংলাদেশে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে খরচ করেছিলেন ১৭৫ কোটি ৯ লাখ টাকা। অক্টোবর মাসে সেই ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ১৯৯ কোটি ৭ লাখ টাকায়, যা আগের মাসের তুলনায় প্রায় ২৪ কোটি টাকা বেশি।
বিদেশিদের মধ্যে বাংলাদেশে ক্রেডিট কার্ড ব্যয়ের ক্ষেত্রেও শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির নাগরিকরা অক্টোবর মাসে বাংলাদেশে খরচ করেছেন ৪৪ কোটি ২ লাখ টাকা। দ্বিতীয় অবস্থানে যুক্তরাজ্য (২১ কোটি টাকা) এবং তৃতীয় অবস্থানে ভারত (১৮ কোটি টাকা)।
অন্যদিকে দেশের অভ্যন্তরেও ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে লেনদেন বৃদ্ধি পেয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে দেশের ভেতর ক্রেডিট কার্ডে লেনদেন ছিল ৩ হাজার ৩৯৫ কোটি টাকা। অক্টোবর মাসে তা বেড়ে ৩ হাজার ৪৭১ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। ফলে এক মাসে দেশের ভেতর ক্রেডিট কার্ড ব্যয় বেড়েছে ৭৬ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা সামগ্রিকভাবে ভোক্তা ব্যয় ও আন্তর্জাতিক লেনদেনের গতিশীলতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
অর্থনীতি
এনবিআর: অনলাইনে রিটার্ন দাখিল ৪১ লাখেরও বেশি করদাতা
দেশে অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিলের হার বৃদ্ধি পেয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জানিয়েছে, এ পর্যন্ত ৪১ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি করদাতা অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করেছেন। রবিবার এনবিআরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে এনবিআর জানায়, ২০২৫-২০২৬ করবর্ষে কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া সব ব্যক্তিশ্রেণির করদাতার জন্য অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
ইতিমধ্যে আয়কর রিটার্ন দাখিলের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ই-রিটার্ন সিস্টেমে ৫০ লাখের বেশি ব্যক্তিশ্রেণির করদাতা নিবন্ধন করেছেন এবং ৪১ লাখ ৫০ হাজারের বেশি করদাতা ২০২৫-২০২৬ করবর্ষের রিটার্ন অনলাইনে দাখিল করেছেন।
এ বছর ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। তবে ব্যক্তি করদাতা উল্লিখিত সময়ের আগে লিখিত আবেদন করলে সংশ্লিষ্ট কর কমিশনার রিটার্ন দাখিলের জন্য অতিরিক্ত ৯০ দিন পর্যন্ত সময় অনুমোদন করতে পারেন।
রিটার্ন দাখিলের জন্য সময় বাড়ানোর আবেদন এবং অতিরিক্ত সময়ের অনুমোদনের কাজটি সহজ, দ্রুত, স্বচ্ছ ও স্বস্তিদায়ক করার লক্ষ্যে পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড অনলাইন সিস্টেম চালু করেছে।
করদাতারা এখন সহজেই ই-রিটার্ন সিস্টেমে লগইন করে ‘Time Extension’ মেন্যু ব্যবহারের মাধ্যমে অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের জন্য সময় বাড়ানোর আবেদন করতে পারছেন।
গত কয়েক দিনে পাঁচ হাজারের অধিক করদাতা অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের সময় বাড়ানোর আবেদন করেছেন এবং বেশির ভাগ করদাতাকে স্বল্প সময়ের মধ্যে অনলাইনেই সময়ের আবেদন মঞ্জুর করা হয়েছে।
অনলাইনে দাখিলকৃত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর অঞ্চলের কর কমিশনার অনলাইনেই আবেদন অনুমোদন করছেন। সময় বৃদ্ধির আবেদন মঞ্জুর হলে বর্ধিত সময়ের মধ্যে করদাতা কোনো জরিমানা বা অতিরিক্ত কর প্রদান ছাড়াই অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করতে পারছেন।
যেসব করদাতা এখনো রিটার্ন দাখিল করেননি, তারা বর্ধিত সময়ের মধ্যে জরিমানা ছাড়া রিটার্ন দাখিল করতে চাইলে তাদের অবশ্যই ৩১ মার্চ তারিখের আগে আবেদন করতে হবে। ই-রিটার্ন সিস্টেমে রেজিস্ট্রেশন না থাকলে সময়ের আবেদন দাখিলের আগে অবশ্যই নিজ নামের বায়োমেট্রিক সিম ব্যবহার করে ই-রিটার্ন সিস্টেমে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে।
যেসব করদাতার জন্য অনলাইন রিটার্ন দাখিল করা বাধ্যতামূলক নয়, তারা অনলাইনে অথবা সরাসরি সংশ্লিষ্ট সার্কেলে লিখিতভাবে উভয় পদ্ধতিতেই সময় বাড়ানোর আবেদন করতে পারবেন।
জরিমানা বা অতিরিক্ত কর প্রদান এড়াতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সব ব্যক্তি করদাতাকে ই-রিটার্ন সিস্টেম ব্যবহার করে রিটার্ন দাখিলের শেষ তারিখ ৩১ মার্চের মধ্যে রিটার্ন দাখিলের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করছে।
অর্থনীতি
৬ ঘণ্টার ব্যবধানে বাড়ল দফা স্বর্ণের দাম
৬ ঘণ্টার ব্যবধানে আরেক দফা বাড়ানো হলো স্বর্ণের দাম। এবার ভরিতে ৪ হাজার ৪৩২টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করেছে ২ লাখ ৪১ হাজার ৪৪৫ টাকা।
শনিবার (২৮ মার্চ) বিকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন এ দাম বিকাল ৪টা থেকেই কার্যকর হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
অর্থনীতি
এপ্রিলের জন্য ৯ এলএনজি কার্গো কিনবে সরকার
বিশ্বজুড়ে জ্বলানি সংকটের মধ্যেও দেশে গ্যাসের সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে আগামী এপ্রিল মাসের নয়টি এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) কার্গো কিনবে সরকার। এসব কার্গোর মধ্যে আটটি কেনা হবে স্পট মার্কেট থেকে। আর বাকি একটি কাতারএনার্জি ট্রেডিংয়ের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় অ্যাঙ্গোলা থেকে আসবে। এসব এলএনজি আমদানিতে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ভর্তুকি বাড়তে পারে বলে জানা গেছে।
রাজস্বের ওপর চাপ বাড়লেও এপ্রিল মাসের জন্য এসব কার্গো নিশ্চিত করতে সরকার অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে। যদিও মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর আগে ১১টি কার্গো আমদানির পরিকল্পনা ছিল সরকারের; সে তুলনায় এখন ২টি কার্গো কম আসছে।
স্পট মার্কেট থেকে কার্গোগুলো গড়ে প্রায় ২২ ডলার প্রতি এমএমবিটিইউ দরে কেনা হচ্ছে—যা যুদ্ধের আগে প্রতি এমএমবিটিইউ ৯ থেকে ১০ ডলারের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।
কর্মকর্তারা বলছেন, এ ব্যয় বৃদ্ধি উল্লেখযোগ্য।
চলতি অর্থবছর ২০২৫-২৬-এর জন্য বরাদ্দকৃত ৬ হাজার কোটি টাকার প্রায় সমান এই ভর্তুকি বৃদ্ধির প্রধান কারণ হলো স্পট মার্কেট থেকে উচ্চমূল্যে এলএনজি কেনা। মার্চের শুরু থেকে চুক্তিবদ্ধ পাঁচটি সরবরাহকারীই ‘ফোর্স মেজর’ ঘোষণা করায় দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়, ফলে সরকারকে ব্যয়বহুল স্পট মার্কেটের ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে।
পেট্রোবাংলার হিসাবে, চলতি অর্থবছরের শেষ তিন মাস—এপ্রিল থেকে জুন—পর্যন্ত অতিরিক্ত প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকির প্রয়োজন হবে, যা মূলত ওই ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের বাইরে। এর বড় অংশই ব্যয় হবে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি আমদানিতে।
পেট্রোবাংলার পরিচালক (অর্থ) একেএম মিজানুর রহমান বলেন, ‘উচ্চমূল্য হলেও এলএনজি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার। স্পট মার্কেট থেকে কেনার কারণে শুধু এপ্রিল মাসেই অতিরিক্ত প্রায় ৪,৫০০ কোটি টাকা ব্যয় বেড়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই অভূতপূর্ব পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত ভর্তুকির আর্থিক চাপ থাকা সত্ত্বেও আমরা গ্যাস সরবরাহ সচল রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।’
স্পট মার্কেটই একমাত্র ভরসা
সংঘাত তীব্র হওয়ার আগে এপ্রিল মাসে ১১টি এলএনজি কার্গো আমদানির পরিকল্পনা ছিল পেট্রোবাংলার। এর মধ্যে আটটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় এবং তিনটি স্পট মার্কেট থেকে আনার কথা ছিল।
তবে চুক্তিভিত্তিক সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় সেই পরিকল্পনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের পর কাতারএনার্জি, ওমানের ওকিউটি ট্রেডিং এবং এক্সেলারেট এনার্জিসহ বড় সরবরাহকারীরা ‘ফোর্স মেজর’ ঘোষণা করে। এর ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল ও গ্যাস পরিবহন বন্ধ হয়ে যায়। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়েই পরিবাহিত হয়।
পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, বাংলাদেশের এলএনজি সরবরাহ ব্যবস্থা সরাসরি বা সংশ্লিষ্ট সরবরাহকারীদের মাধ্যমে কাতারএনার্জির ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল।
মিজানুর রহমান বলেন, ‘কাতারএনার্জির কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি সরবরাহ এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘কাতারএনার্জি পূর্ণমাত্রায় উৎপাদন শুরু না করা এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ নৌপরিবহন স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত চুক্তিভিত্তিক এলএনজি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাবে।’
ব্যয় বাড়ছে
স্পট মার্কেট ও দীর্ঘমেয়াদি এলএনজির দামের মধ্যে এখনও বড় ব্যবধান রয়েছে। বর্তমানে স্পট মার্কেটে এলএনজির দাম প্রতি এমএমবিটিইউ প্রায় ২২ ডলার। আর এপ্রিলের একমাত্র দীর্ঘমেয়াদি কার্গোর দাম ধরা হচ্ছে প্রতি এমএমবিটিইউ ১০ থেকে ১১ ডলারের মধ্যে—যা ব্রেন্ট ক্রুডের গত তিন মাসের গড় মূল্য ও প্রযোজ্য অতিরিক্ত খরচের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়েছে।
পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, স্পট কার্গোর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক বাজারে এলএনজির দামের তীব্র ঊর্ধ্বগতির কারণে অতিরিক্ত প্রায় ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকার ভর্তুকির চাপ তৈরি হয়েছে।
মিজানুর রহমান বলেন, ‘এপ্রিলের জন্য এলএনজি কার্গো পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এখন মে ও জুন মাসের জন্য সরবরাহ নিশ্চিত করার কাজ চলছে।’
গ্যাস সরবরাহ স্থিতিশীল থাকার আশা
চলমান সরবরাহ সংকটের মধ্যেও এপ্রিলে গ্যাস সরবরাহ তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকবে বলে আশা পেট্রোবাংলার। এ সময় দৈনিক ২ হাজার ৫৭০ থেকে ২ হাজার ৬৫০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস সরবরাহ বজায় রাখা সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই সরবরাহ নিশ্চিত করতে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে দৈনিক প্রায় ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৭৫০ এমএমসিএফডি এবং এলএনজির মাধ্যমে অতিরিক্ত ৮৭০ থেকে ৮৯২ এমএমসিএফডি গ্যাস পাওয়া যাবে।
এর মধ্যে বিদ্যুৎ খাতে বরাদ্দ দেওয়া হবে প্রায় ৮২৫ থেকে ৮৫০ এমএমসিএফডি গ্যাস— যা দিয়ে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে সর্বোচ্চ প্রায় ৪,৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে।
অবশিষ্ট গ্যাস শিল্প খাত, সার কারখানা ও গৃহস্থালি খাতে বিতরণ করা হবে; তবে এক্ষেত্রে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও শিল্পখাতকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
অর্থনীতি
টানা ৭ দফা কমার পর ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম
দেশের বাজারে আবারও বেড়েছে স্বর্ণের দাম। টানা সাত দফা কমানোর পর এবার দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।
শনিবার (২৮ মার্চ) সকালে সংগঠনটির এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ১৫৭ টাকা বাড়িয়ে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৭ হাজার ১২ টাকা। এই নতুন দর আজ সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হয়েছে।
বাজুস জানায়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।
অর্থনীতি
বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সংস্কার প্রয়োজন, তবে সতর্ক থাকতে হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী
বর্তমান বাস্তবতায় বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তবে এই সংস্কার যেন সংস্থাটির মৌলিক নীতিমালাকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ক্যামেরুনের ইয়াউন্দেতে অনুষ্ঠিত বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার ১৪তম মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলন (এমসি১৪) এ বহুপাক্ষিক বাণিজ্য ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ করণীয় শীর্ষক সেশনে তিনি একথা বলেন।
এতে জানানো হয়, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সংস্কার: মৌলিক বিষয়সমূহ শীর্ষক এ অধিবেশনে খন্দকার মুক্তাদির বলেন, ডব্লিউটিও-এর মূল ভিত্তি হলো সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্যনির্ভর উন্নয়নকে উৎসাহিত করা। বৈষম্যহীনতা ও অন্তর্ভুক্তির নীতির ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা ঐকমত্যভিত্তিক ও নিয়মভিত্তিক এই বহুপাক্ষিক বাণিজ্য ব্যবস্থা উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশসমূহের পাশাপাশি স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (এলডিসিএস) জন্যও গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা নিশ্চিত করেছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সর্বাধিক সুবিধাপ্রাপ্ত দেশ (এমএফএন) সুবিধা, শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত বাজার প্রবেশাধিকার (ডিএফকিউএফ), এবং বিশেষ ও পার্থক্যমূলক সুবিধা (এসএন্ডডিটি)-এর মতো ব্যবস্থাগুলো বিশ্ব বাণিজ্যে সমতা ও অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
তিনি বলেন, ২০০৮ সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকট এবং কোভিড-১৯ মহামারির সময় ছাড়া গত তিন দশকে উন্নত দেশগুলোর মধ্যম আয় ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বিদ্যমান বাণিজ্য ব্যবস্থার কার্যকারিতা প্রমাণ করে।
ডব্লিউটিও সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা স্বীকার করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এই সংস্কার যেন সংস্থাটির মৌলিক নীতিমালাকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে। তিনি সতর্ক করে বলেন, দীর্ঘ সময় ও প্রচেষ্টার মাধ্যমে গড়ে ওঠা বর্তমান কাঠামো সংস্কারের নামে নষ্ট করা উচিত নয়, কারণ বিশ্বের অধিকাংশ অর্থনীতি এই নিয়মভিত্তিক বহুপাক্ষিক বাণিজ্য ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল।
তিনি বলেন, ডব্লিটিও সংস্কার প্রক্রিয়া অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরিচালনা করতে হবে, যাতে ব্যবস্থার অখণ্ডতা বজায় থাকে, পূর্বের অর্জনগুলো অক্ষুণ্ণ থাকে এবং সকল সদস্য দেশের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক ও উন্নয়নমুখী ফলাফল নিশ্চিত করা যায়।
উল্লেখ্য, মিনিস্ট্রিয়াল কনফারেন্সে সদস্য দেশসমূহ বৈশ্বিক বাণিজ্য নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকে।
এবারের সম্মেলনে ১৬৬টি সদস্য দেশের বাণিজ্যমন্ত্রী ও প্রতিনিধিগণ অংশ নিয়েছেন। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছে। প্রতিনিধিদলে বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমানসহ বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও জেনেভাস্থ বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ অংশ নিচ্ছেন।
এমএন



