জাতীয়
ইন্টারনেট কখনোই বন্ধ করা যাবে না, অধ্যাদেশের চূড়ান্ত অনুমোদন
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ অধ্যাদেশে বড় ধরনের সংশোধন প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) পরিষদের ৫২তম বৈঠকে পাশ হওয়া এই সংশোধনের মাধ্যমে টেলিযোগাযোগ সেবার মানোন্নয়ন, নিয়ন্ত্রক সংস্থার জবাবদিহিতা এবং রাষ্ট্রীয় নজরদারি কাঠামোতে গঠনমূলক পরিবর্তন আনা হয়েছে।
সংশোধিত আইনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ইন্টারনেট বা টেলিযোগাযোগ সেবা কখনোই বন্ধ করা যাবে না (ধারা ৯৭)। নাগরিকদের যোগাযোগ অধিকার সুরক্ষায় এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
২০১০ সালের বিতর্কিত সংশোধন কাঠামো থেকে সরে এসে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) স্বাধীনতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় ও বিটিআরসির ক্ষমতার ভারসাম্য পুনর্গঠন করা হয়েছে।
জাতীয় পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ কিছু লাইসেন্সে মন্ত্রণালয় স্বাধীন সমীক্ষার ভিত্তিতে অনুমোদন দেবে, তবে অন্যান্য সব লাইসেন্স ইস্যুর ক্ষমতা বিটিআরসির হাতে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির নেতৃত্বে একটি ‘জবাবদিহিতা কমিটি’ গঠনের বিধান রাখা হয়েছে।
লাইসেন্স প্রক্রিয়ায় সময় কমানো হয়েছে এবং অতিরিক্ত উচ্চ ও পুনরাবৃত্ত জরিমানা কমানো হয়েছে। এতে টেলিযোগাযোগ খাত আরও বিনিয়োগবান্ধব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিটিআরসিকে এখন থেকে প্রতি চার মাস অন্তর গণশুনানি করতে হবে এবং এর অগ্রগতি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে। স্বার্থের সংঘাত রোধেও আইনে আলাদা বিধান রাখা হয়েছে (ধারা ৮৭)।
নাগরিকের গোপনীয়তা সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনে বলা হয়েছে, সিম ও ডিভাইস রেজিস্ট্রেশনের তথ্য ব্যবহার করে কোনও নাগরিককে নজরদারি বা হয়রানি করলে তা দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে (ধারা ৭১)।
এছাড়া ‘স্পিচ অফেন্স’ সংক্রান্ত ধারা সংশোধন করে কেবল সহিংসতার আহ্বানকেই অপরাধের আওতায় রাখা হয়েছে, যা সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ (ধারা ৬৬ক)।
টেলিযোগাযোগ সেবায় আপিল ও সালিশের সুযোগ রাখা হয়েছে (ধারা ৮২খ)। পাশাপাশি ‘সেন্টার ফর ইনফরমেশন সাপোর্ট (CIS)’ প্রতিষ্ঠার বিধান যুক্ত করা হয়েছে (ধারা ১৭ক)। এর মাধ্যমে আগের ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন্স মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) বিলুপ্ত করা হয়েছে।
আইনানুগ ইন্টারসেপশনের সংজ্ঞা ও সীমা এবার স্পষ্ট করা হয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা, জরুরি প্রাণরক্ষা বা বিচারিক প্রয়োজনে নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করে কেবল অনুমোদিত সংস্থাগুলো নিজ নিজ অধিক্ষেত্রে ইন্টারসেপশন করতে পারবে। CIS নিজে কোনও ইন্টারসেপশন পরিচালনা করবে না; এটি শুধু কারিগরি ও তদারকি সহায়তা দেবে (ধারা ৯৭ক)।
নজরদারিতে অপব্যবহার ঠেকাতে আধা-বিচারিক কাউন্সিল ও সংসদীয় তদারকির বিধান রাখা হয়েছে। বেআইনি ইন্টারসেপশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানোর সুযোগ থাকবে। সংসদীয় স্থায়ী কমিটি প্রতি বছর ইন্টারসেপশন সংক্রান্ত একটি জাতীয় প্রতিবেদন প্রকাশ করবে।
নতুন আইনে ইমেজ ও ভয়েস প্রোটেকশন, সিম ডেটা ও ডিভাইস ডেটা সুরক্ষার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, এই সংশোধনের মাধ্যমে টেলিযোগাযোগ খাতকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও জাতিসংঘ ও আইটিইউসহ বৈশ্বিক উত্তম অনুশীলনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হবে।
জাতীয়
নতুন সরকারের প্রতি অগ্রিম শুভ কামনা জ্বালানি উপদেষ্টার
দরজায় কড়া নাড়ছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টারা শেষ কর্মদিবস অতিবাহিত করেছেন। তারই ধারায় সুষ্ঠু নির্বাচন ও নতুন সরকারের প্রতি অগ্রিম শুভ কামনা জানিয়েছেন জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, আজ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে শেষ কার্যদিবস অতিবাহিত করেছি। যদিও আইন অনুযায়ী নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ পর্যন্ত আমি উপদেষ্টা পদে বহাল থাকব, নির্বাচনের পর নৈতিক বিবেচনায় আমি আর কোনো নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহার থেকে বিরত থাকব।
জাতির সেবার সুযোগ পাওয়া যে কোনো নাগরিকের জন্য ভাগ্যের বিষয়। এ সৌভাগ্যের জন্য আমি সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। উপদেষ্টা পদে কার্যকালে, আমার সাথে কর্মরত সচিববৃন্দ, দফতর ও কোম্পানি প্রধানসহ সকল সহকর্মীর সমর্থন ও অকুণ্ঠ সহযোগিতা পেয়েছি, এজন্য তাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, সহিংসতা মুক্ত ও উৎসবমুখর হোক। আমি আগেও বেশ কয়েকবার বলেছি, যে দল বা জোটই বিজয়ী হোক না কেন, আমরা জাতি হিসেবে তাদের পেছনে দাঁড়াব। নতুন সরকারের জন্য শুভ কামনা।
এমএন
জাতীয়
বিদায়বেলায় উপদেষ্টারা, সাফল্যের মূল্যায়নে কে কত নম্বর দিলেন
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই সনদের ওপর গণভোট। এই নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠিত হবে এবং বিদায় নেবে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। দেড় বছরের দায়িত্ব পালন শেষে নিজেদের সাফল্য, ব্যর্থতা এবং কাজের মূল্যায়ন করতে গিয়ে তারা ১০০ নম্বরের মধ্যে নিজেদের বিভিন্ন নম্বর দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা নিজেদের কর্মকাণ্ডের ব্যাখ্যা দেন। এর মধ্যে তিনজন উপদেষ্টা নিজেদের কাজের মূল্যায়নে ৭০ থেকে সর্বোচ্চ ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত নম্বর দিয়েছেন। তবে কেউই নিজেকে শতভাগ সফল বলে দাবি করেননি। এছাড়া অন্যান্য উপদেষ্টারাও নানা বিষয় তুলে ধরেছেন।
নিজেকে ৭০ বা ৮০-এর বেশি দিতে রাজি নই : অর্থ উপদেষ্টা
নিজের মূল্যায়নে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আমি খুব প্র্যাগমেটিক মানুষ। নিজেকে ১০০ নম্বর কেন দেব? আমাদের অনেক ইচ্ছা ছিল, অনেক কাজ শুরু করেছি, কিন্তু সব শেষ করে যেতে পারিনি। সে কারণেই আমি নিজেকে ৭০ বা ৮০-এর বেশি দিতে রাজি নই।
তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সময়ে অর্থনীতি পরিচালনা করা সহজ ছিল না। কাঠামোগত দুর্বলতা, প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতা এবং দীর্ঘদিনের অনিয়মের কারণে অনেক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সময় লেগেছে।
৩০ শতাংশ হয়তো আরও ভালো হতে পারত, কিন্তু হয়নি : নৌপরিবহন উপদেষ্টা
নৌপরিবহন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সাফল্যের শতাংশ আমি মেবি (সম্ভবত) ৭০ শতাংশ দেব। এটা আমার মূল্যায়ন। ৩০ শতাংশ হয়তো আরও ভালো হতে পারত, কিন্তু হয়নি। হয়নি বিভিন্ন কারণে, নানাবিধ কারণে।
দেশের অস্থির সময়ে পুলিশের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি জানান, এত বড় প্রতিবাদ ও আন্দোলনের মুখেও পুলিশ কোনো আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেনি। এমনকি লাঠিচার্জের ক্ষেত্রেও তারা যথেষ্ট সংবরণ দেখিয়েছে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, লাঠি মারলে লোকে বলে পুলিশ লাঠি মারছে, আর রাইফেল তো কথাই নেই; রাইফেল তো বলতে গেলে আনইউজড (অব্যবহৃত)।
বিপ্লবের পর অনেক দেশ বছরের পর বছর অনিশ্চয়তা ও গৃহযুদ্ধের (সিভিল ওয়ার) মধ্যে কাটিয়েছে। সেই তুলনায় বাংলাদেশের মানুষ অত্যন্ত শান্তিপ্রিয় এবং সুশৃঙ্খল বলেও মনে করেন তিনি।
প্রশাসনিক জটিলতা ও জনবল সংকটে শতভাগ সফল হতে পারিনি : ধর্ম উপদেষ্টা
ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, আমি ৯৫ শতাংশ সফল হয়েছি। আমার মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ডে অনেক অর্গান আছে, অনুদান শাখা আছে। অনুদান শাখার মাধ্যমে দেশের মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা, কবরস্থান এবং হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টানসহ সব ধর্মীয় জাতিগোষ্ঠীকে প্রয়োজনীয় সহায়তা করা হয়েছে।
নিজের সফলতার খতিয়ান তুলে ধরে ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, প্রশাসনিক কিছু জটিলতা ও জনবল সংকটের কারণে আমি শতভাগ সফল হতে পারিনি। প্রশাসনিক কাজ একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। তবে আমরা ইতোমধ্যে শূন্যপদ পূরণে ছয়জন কর্মকর্তা নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দিয়েছি এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আর কিছুদিন সময় পেলে ওয়াকফ প্রশাসনকে একটি শৃঙ্খলার মধ্যে এবং জবাবদিহির আওতায় নিয়ে আসতে পারতাম। ওয়াকফ সংক্রান্ত কাজগুলো বেশ জটিল, বিশেষ করে ভূমিসংক্রান্ত মামলার কারণে হাইকোর্টে বছরের পর বছর শুনানি ঝুলে থাকে।
জ্বালানি খাত ঘুরে দাঁড়াতে সময় ও বিনিয়োগ প্রয়োজন, কোনোটাই পাইনি : জ্বালানি উপদেষ্টা
জ্বালানি খান ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য সময় ও বিনিয়োগ প্রয়োজন। কিন্তু, এর কোনোটাই তিনি পাননি বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান।
অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে এ খাতে দৃশ্যমান কিছু না করতে পারার ব্যর্থতা শিকার করে তিনি বলেন, জ্বালানি খাতকে ঘুরে দাঁড়াতে সময় ও বিনিয়োগ প্রয়োজন। তার কোনোটাই পাননি তিনি। তবে রাজনৈতিক সরকার নতুন বিনিয়োগের মাধ্যমে এ খাতকে ঢেলে সাজাতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ফাওজুল কবির খান বলেন, ভর্তুকি দিয়ে কোনো প্রকল্প হাতে নিতে চায়নি অন্তর্বর্তী সরকার। আদানি চুক্তি নির্বাচিত সরকারের হাত ধরে সমাধান হবে।
বিদায়ের সময় ভেতরের কথা নিয়ে তিক্ততা বাড়াতে চাই না : ভূমি উপদেষ্টা
সরকারের ভেতরে অন্যদের সমর্থন না পাওয়ায় ভূমি নিবন্ধন আইন মন্ত্রণালয় থেকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে আনতে পারেননি বলে জানিয়েছেন খাদ্য ও ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার। এ বিষয়ে তিনি বলেন, বিদায়ের সময় ভেতরের কথা নিয়ে তিক্ততা বাড়াতে চাই না।
ভোগান্তি লাঘবে ভূমি নিবন্ধনকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে আনার একটা প্রক্রিয়া ছিল। সেই বিষয়ে অগ্রগতি জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, আমি যখন বিদায় নিচ্ছি তখন ভেতরের কথা নিয়ে তিক্ততা বাড়াতে চাই না। আমাদের মন্ত্রণালয় থেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে এটাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। প্রধান উপদেষ্টা পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, কিন্তু আমরা সফল হইনি।
কেন সফল হননি জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের তো সমর্থন পেতে হবে, এটার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরকারের আরও যারা আছেন তাদের সমর্থন লাভ করতে পারিনি।
ভুলত্রুটি থাকলে ক্ষমা করবেন, আমাকে ভুলে যাবেন : বাণিজ্য উপদেষ্টা
বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, ইনশাআল্লাহ নতুন সরকার গঠন হওয়ার পরে সাথে সাথে আমি আমার কর্মজীবনে ফেরত যাব। আশা করি আপনারা আমাকে ভুলে যাবেন এবং মাফ করে দেবেন। আমি ভুলে থাকতে চাই। আমি কখনোই কোনো যোগাযোগ মাধ্যমে আসিনি আগে। আমি আবার চাই আপনাদের মাধ্যমে একটি স্বনির্বন্ধ অনুরোধ করতে চাই, শেষ অনুরোধ, যে আমাকে দয়া করে ভুলে যাবেন।
তিনি বলেন, গত দেড় বছর বিভিন্ন প্রশ্ন ও অনুসন্ধানের মাধ্যমে সাংবাদিকরা তাকে জবাবদিহিতার মধ্যে রেখেছেন। এতে তার কাজের গতি যেমন বেড়েছে, তেমনি যেসব জায়গায় ভুল ছিল, সেগুলো সংশোধনের সুযোগও তৈরি হয়েছে।
‘সরকারে আসার সময় আমার তেমন কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না। তবে চেষ্টার কোনো কমতি রাখিনি। আল্লাহর রহমতে সৎভাবে কাজ করার চেষ্টা করেছি। কারও প্রতি বৈষম্য বা স্বজনপ্রীতি করিনি। সম্মিলিতভাবে আল্লাহ তায়ালা বরকত দিয়েছেন।’
এমএন
জাতীয়
বুধবার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন সিইসি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশন (ইসি) এক বার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। আগের দিন বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি)
ইসির পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রধান নির্বাচন কমিশনার আগামীকাল বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় তার এই ভাষণ রেকর্ড করার কথা রয়েছে। বুধবার বিটিভি ও বাংলাদেশ বেতারসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে এটি সম্প্রচার করা হবে।
ভাষণে সিইসি নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি দেশবাসীকে জানাবেন এবং ভোটারদের নির্ভয়ে কেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর আগে গত বছরের ১১ ডিসেম্বর জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছিলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। ওই ভাষণের মাধ্যমেই তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছিলেন।
উল্লেখ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সারা দেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এবারের নির্বাচনে সংসদীয় ভোটের পাশাপাশি জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে একটি গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে।
জাতীয়
ভয় নয়, সাহস নিয়ে ভোটকেন্দ্রে যান: প্রধান উপদেষ্টা
ভয় নয়, সাহস নিয়ে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, “ভয়কে পেছনে রেখে, সাহসকে সামনে এনে ভোটকেন্দ্রে যান। আপনার একটি ভোট শুধু একটি সরকার নির্বাচন করবে না, এটি ১৭ বছরের নীরবতার জবাব দেবে, বাধাহীন ফ্যাসিবাদের জবাব দেবে, জাতিকে নতুনভাবে গঠিত করবে এবং প্রমাণ করবে- এই দেশ তার তরুণ ও নারী এবং সংগ্রামী জনতার কণ্ঠ আর কোনোদিন হারাতে দেবে না।”
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) জাতির উদ্দেশে ভাষণে তিনি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদের ওপর গণভোট বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।
তিনি বলেন, এই নির্বাচন শুধু জনপ্রতিনিধি বাছাই নয়; বরং রাষ্ট্র কোন পথে এগোবে—তার সিদ্ধান্ত জনগণ নেবে।
প্রধান উপদেষ্টা জানান, নির্বাচন সুষ্ঠু করতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশিরা ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন।
গুজব ও অপপ্রচার থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছেই ক্ষমতা হস্তান্তর করবে—এ নিয়ে বিভ্রান্তির কোনো সুযোগ নেই।
জাতীয়
ইতিহাসের সবচেয়ে নিরাপদ নির্বাচন আয়োজনে প্রস্তুত: আইজিপি
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে নিরাপদ নির্বাচন হিসেবে আয়োজন করতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার। নির্বাচন উপলক্ষে সারা দেশে প্রায় ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩ জন পুলিশ সদস্য, প্রায় ৬ লাখ আনসার সদস্য, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং প্রায় ১ লাখ সেনাবাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের মিডিয়া সেন্টারে ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি’ বিষয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান।
আইজিপি বলেন, নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনস্তরবিশিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে স্ট্যাটিক ফোর্স থাকবে, কেন্দ্রের বাইরে মোবাইল টিম টহল দেবে এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকবে স্ট্রাইকিং ফোর্স।
তিনি জানান, সারা দেশে মোট ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে প্রায় ৮ হাজার ৭৭০টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ এবং ১৬ হাজার কেন্দ্রকে মধ্যম ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে বাড়তি পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে।
আইজিপি আরও বলেন, এবারের নির্বাচনে নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করা হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগে ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে পুলিশের পক্ষ থেকে বডি ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী জেলা পুলিশ সুপাররা ড্রোন ক্যামেরার সহায়তা নেবেন।
অস্ত্র উদ্ধার ও নিরাপত্তা ঝুঁকি বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আইজিপি বলেন, লুট হওয়া ও অবৈধ অস্ত্র নির্বাচনকালীন বড় হুমকি হিসেবে বিবেচিত।
লাইসেন্সকৃত ব্যক্তিগত অস্ত্রের মধ্যে এক হাজারের বেশি অস্ত্র লুট হয়েছিল, যার মধ্যে এখন পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৩৩০টি অস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। যেকোনো অবৈধ অস্ত্রই বড় হুমকি। এ কারণে সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সহিংসতার পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি জানান, ১১ ডিসেম্বর থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সারা দেশে মোট ৩১৭টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ৬০৩ জন আহত এবং ৫ জন নিহত হয়েছেন।
আইজিপি বলেন, একটি মৃত্যুও আমাদের জন্য দুর্ভাগ্যজনক। আমরা চেষ্টা করেছি যেন একটি মৃত্যুও না ঘটে। তবে বাস্তবতায় কিছু ঘটনা ঘটেছে, যেগুলোর তদন্ত চলছে।
সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত ৩ হাজার অপরাধী ও ৩৫২ জন শুটারের তালিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই তালিকাটি কার সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। তবে ১৮ কোটি মানুষের দেশে এই সংখ্যক অপরাধী নির্বাচন বানচাল করতে পারবে এমন আশঙ্কা নেই।
সাংবাদিকদের সঙ্গে পুলিশের আচরণ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে আইজিপি স্বীকার করেন, কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময়ের ফ্যাসিস্ট শাসনের কারণে পুলিশের মধ্যে যে মানসিকতা তৈরি হয়েছিল, তা এক বছরে পুরোপুরি বদলানো সম্ভব হয়নি। তবে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পরিবর্তনের চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও জানান, ইউনেস্কো ও ইউএনওডিসির সহায়তায় সাংবাদিকদের সঙ্গে পেশাদার আচরণ বিষয়ে পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
৫ আগস্টে জেল থেকে পালানো আসামি ও জঙ্গি হুমকি প্রসঙ্গে আইজিপি বলেন, প্রচারকালীন সময়ে কিছু আশঙ্কা থাকলেও বড় কোনো ঘটনা ঘটেনি। বর্তমানে নির্বাচনকে ব্যাহত করার মতো কোনো শক্তিশালী জঙ্গি হুমকি নেই।
নিজের প্রত্যাশা জানিয়ে আইজিপি বলেন, আমরা ইতিহাসে একটি উদাহরণ তৈরি করতে চাই যাতে এই নির্বাচন হয় শান্তিপূর্ণ, উৎসবমুখর ও গ্রহণযোগ্য। কতটা সফল হলাম, তার মূল্যায়ন করবে দেশবাসী।



