রাজনীতি
মহান বিজয় দিবসে দেশবাসীকে তারেক রহমানের শুভেচ্ছা
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে দেশের সব মানুষকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সকালে এক ভিডিও বার্তায় তিনি এই শুভেচ্ছা জানান।
তারেক রহমান বলেন, মহান বিজয় দিবসের প্রাক্কালে আমি দল, মত, ধর্ম, বর্ণ, নির্বিশেষে কৃষিজীবী, শ্রমজীবী, পেশাজীবী, শিল্পী, সাহিত্যিক, শিক্ষক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, ওলামা-আলেম-পীর-মাশায়েক তথা বাংলাদেশের সকল শ্রেণী-পেশার মানুষ, প্রতিটি নাগরিককে জানাই মহান বিজয় দিবসের আন্তরিক শুভেচ্ছা।
এর আগে, বিজয় দিবস উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে তিনি বলেন, ৯ মাস মুক্তিযুদ্ধের পরে জাতি ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জন করে। আমি এদিনে দেশবাসীসহ প্রবাসী বাংলাদেশিদের জানাই শুভেচ্ছা। সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণে ভরে উঠুক তাদের জীবন।
‘এই দিনে ৯ মাসব্যাপী স্বাধীনতাযুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে এবং বাংলাদেশ নামের একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে যারা শহীদ হয়েছেন সেই সব বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদদের জানাই গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি। আমি স্বাধীনতাযুদ্ধের বীর শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করি। বিদেশি শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করতে যেসব মা-বোন সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন- আমি জানাই তাদের সশ্রদ্ধ সালাম।’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ডাকে শুরু হওয়া স্বাধীনতাযুদ্ধ ওই বছর ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জিত হয়, পাক হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করার মাধ্যমে। দেশের অদম্য বীর মুক্তিযোদ্ধারা জীবনবাজী রেখে এ বিজয় ছিনিয়ে আনে। তাই ১৬ ডিসেম্বর জাতির অহংকার, আনন্দ আর বেদনার এক মহাকাব্যিক দিন। আজকের এ মহান দিনে আমি সেসব বীর সেনাদের সশ্রদ্ধ অভিবাদন জানাই।
‘শোষণমুক্ত ও সামাজিক ন্যায়বিচার ভিত্তিক গণতান্ত্রিক নীতিমালার ওপর বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ছিল নতুন রাষ্ট্রের মর্মমূলে। কিন্তু অমানবিক ফ্যাসিস্ট গোষ্ঠী বারবার সেই প্রত্যয়কে মাটিচাপা দিয়ে সর্বনাশা দুঃশাসন জনগণের ওপর চাপিয়ে দেয়। থামিয়ে দেয় বহুদলীয় গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা।’
তিনি আরও বলেন, ১৯৭১-এ আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি শত্রুমুক্ত হলেও চক্রান্তকারীদের নীলনকশা এখনও চলমান জানিয়ে তিনি বলেন, আগ্রাসী শক্তি আমাদের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব অবজ্ঞা করার ঔদ্ধত্য দেখায়। ওই অপশক্তির এদেশীয় এজেন্টরা আমাদের অর্জিত স্বাধীনতা বিপন্ন করার চক্রান্তজাল বুনে চলেছে। এরা ১৬ গত বছর ধরে একের পর এক প্রহসনের একতরফা নির্বাচন করে জনমতকে তাচ্ছিল্য করেছে। এদেশের মানুষের সব গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেয়। নাগরিক স্বাধীনতা অদৃশ্য করে মানুষকে করে অধিকারহারা। এদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র নিরুদ্দেশ করা হয়। নিরুদ্দেশ করা হয় সংবাদপত্রসহ বাক ও ব্যক্তি স্বাধীনতা। গণতন্ত্রহীন দেশে নিরঙ্কুশ ক্ষমতার দাপটে সর্বত্র হতাশা, ভয় আর নৈরাজ্যের অন্ধকার নেমে আসে। ক্ষমতা জবরদখলকারীরা জনগণের ওপর নৃশংস আক্রমণ চালিয়ে অসংখ্য মানুষকে অদৃশ্য ও হত্যা করে এবং লাখ লাখ মানুষকে মিথ্যা মামলায় কারারুদ্ধ করে। পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর নৈরাজ্যময় হয়ে উঠে। যিনি জীবনের দীর্ঘ সময় গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন সেই অবিসংবাদিত নেত্রীকে অন্যায়ভাবে বন্দি করে অন্ধকার কারাগারে রাখা হয়েছিল। অমানবিক নিপীড়ক শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা চিরস্থায়ীভাবে ধরে রাখার জন্য একের পর এক গণবিরোধী পদক্ষেপ নিতে থাকে।
তারেক রহমান বলেন, ফ্যাসিস্টদের হাত থেকে প্রিয় মাতৃভূমির স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং গণতন্ত্রকে বিপদমুক্ত করতে মহান বিজয় দিবসের প্রেরণায় বলীয়ান হয়ে আমাদের জাতীয় ঐক্য গড়ে ওঠে এবং ২৪ এর জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার দুনিয়া-কাঁপানো আন্দোলনে তারা পরাজিত হয়। পতন হয় ইতিহাসের এক নিষ্ঠুরতম একনায়কের। দেশে আবার স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের সুরক্ষা ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনরুজ্জীবনের প্রত্যাশা জেগে ওঠে। এই মুহূর্তে নির্বিঘ্নে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জনকল্যাণমুখী জবাবদিহিমূলক সরকার গঠনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশের জন্য এই বিজয়ের দিনে আমাদের অঙ্গীকার হোক-আমরা বিভাজন ভুলে, হিংসা ভুলে মানুষ হিসেবে মানুষের পাশে থাকবো। মহান বিজয় দিবসে আমি দেশবাসী সকলের প্রতি সেই আহবান জানাই। বিজয় দিবস উপলক্ষে আমি সব কর্মসূচির সাফল্য কামনা করছি।
এমকে
রাজনীতি
ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াত আমিরের ১৩টি নির্বাচনী বুথ ভাঙচুরের অভিযোগ
আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ঢাকা-১৫ আসনে বড় ধরনের নির্বাচনী সহিংসতার অভিযোগ উঠেছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও এই আসনের প্রার্থী ডা. শফিকুর রহমানের অন্তত ১৩টি নির্বাচনী বুথ ভাঙচুর করা হয়েছে।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) এক ফেসবুক পোস্টে এ তথ্য জানিয়ে ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জামায়াত আমির নিজেই।
ডা. শফিকুর রহমান তার পোস্টে জানান, ঢাকা-১৫ আসনে তার নির্বাচনী প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’র ১৩টি বুথ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনাকে তিনি কাপুরুষোচিত কাজ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, “যারা এখনো সন্ত্রাস ও ভয়ভীতি দেখিয়ে আমাদের থামিয়ে দিতে চায়, তারা ভুলে যাচ্ছে—এ জাতি জুলাই পেরিয়ে এসেছে।”
জামায়াত আমির বলেন, “জনগণকে আর দমিয়ে রাখা যাবে না। যারা দেশের পলিসি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনায় বসতে ব্যর্থ, তারাই এখন সহিংসতার আশ্রয় নিচ্ছে।”
তিনি আরও যোগ করেন, ‘ভয়-ভীতির রাজনীতি আর চলবে না। সাধারণ মানুষের বুকে যেভাবে দাঁড়িপাল্লা জায়গা করে নিয়েছে, তার প্রতিচ্ছবি আগামীকালের ভোটে ফুটে উঠবে, ইনশাআল্লাহ’।
এমএন
রাজনীতি
চ্যালেঞ্জ বিশাল হলেও জয়ের ব্যাপারে আমরা আত্মবিশ্বাসী
জাতীয় নির্বাচনে জয়ী হলে দেশে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা নিরসনে সবার আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, চ্যালেঞ্জ বড় হলেও নির্বাচনে জয়ের বিষয়ে তারা আত্মবিশ্বাসী।
মঙ্গলবার প্রকাশিত এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালে তরুণদের নেতৃত্বে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনের অবসানের পর দেশ রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে আইনশৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তারেক রহমান।
সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আমাদের দেশে একটি স্বাভাবিক পরিস্থিতি নিশ্চিত করা দরকার, যাতে মানুষ নিরাপদ থাকে। নির্বাচিত হলে দেশের অর্থনৈতিক দুর্দশা মোকাবিলা করাও তাদের অগ্রাধিকার তালিকার শীর্ষে থাকবে বলে জানান তিনি।
আওয়ামী লীগের প্রায় দেড় দশকের শাসনামলে অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দাবি করে তারেক রহমান বলেন, মেগা প্রকল্পের নামে আমরা মেগা দুর্নীতি দেখেছি। অল্প কিছু ব্যক্তি ধনী হয়েছে, কিন্তু দেশের সাধারণ মানুষ কিছুই পায়নি।
অর্থনৈতিক সংকট উত্তরণে কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, দেশে বিপুলসংখ্যক তরুণ বেকার। ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের মাধ্যমে তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে হবে।
দেশের নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পেলে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার চেয়ে ভালো করার চেষ্টা করবেন বলেও উল্লেখ করেন তারেক রহমান।
ভবিষ্যৎ নিয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, ১৭ কোটি মানুষের এই দেশের সামনে কঠিন সময় অপেক্ষা করছে। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী সরকার অর্থনীতি, স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও জ্বালানি খাতকে ধ্বংস করেছে।
বিভিন্ন জরিপে বিএনপি এগিয়ে রয়েছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, আমরা আশা করি, জনগণের কাছ থেকে একটি স্পষ্ট ম্যান্ডেট পাব— একটি বড় ম্যান্ডেট। তিনি আরও বলেন, সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন তারা নিজেরাই পাবে বলে আশা করছেন; নতুন কোনো জোটের প্রয়োজন দেখছেন না।
ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, জনগণের স্বার্থ ও দেশের স্বার্থই সবার আগে বিবেচনায় থাকবে।
এ ছাড়া আইন করে কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার পক্ষে নন বলে জানান তারেক রহমান। তবে কেউ অপরাধে জড়িত থাকলে আইন অনুযায়ী শাস্তি নিশ্চিত করার পক্ষে মত দেন তিনি।
এমএন
রাজনীতি
নন্দীগ্রামে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ: নেতার চোখ হারানোর খবরে মায়ের মৃত্যু
ভোটের মাঠের উত্তেজনা এবার রূপ নিল চরম সহিংসতায়। বগুড়ার নন্দীগ্রামে জামায়াত ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে বিএনপি নেতা মাসুদ রানার একটি চোখ হারানোর খবর শুনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন তার মা হাজেরা বেগম (৭০)।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
এর আগে সোমবার (০৯ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে নন্দীগ্রামে উপজেলার পারশুন গ্রামে ভোটারদের প্রভাবিত করতে টাকা বিতরণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ সময় টাকা বিতরণের অভিযোগে জামায়াতের দুই কর্মীকে আটক করে বিএনপির কর্মীরা। পরে জামায়াতের নেতাকর্মীরা তাদের উদ্ধার করতে এগিয়ে এলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়।
সংঘর্ষের একপর্যায়ে জামায়াতের নেতাকর্মীরা বিএনপি নেতা মাসুদ রানার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও মারধর করে। এতে মাসুদ রানা গুরুতর আহত হন এবং তার একটি চোখ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে আহত অবস্থায় মাসুদ রানাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।তবে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
সংঘর্ষের ঘটনায় বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনের জামায়াত-বিএনপি প্রার্থী মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বগুড়া প্রেসক্লাবে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
আহত মাসুদ রানার ছেলে সিয়াম জানান, হামলার ঘটনার পর বাবাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বাবার চোখ ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক ওই চোখটি ভালো করা যাবে না এমন আশঙ্কার কথা বলেন। এই খবরটি জানার পর দাদি অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার আগেই তিনি মারা যান। গতকাল রাত ৯টায় গ্রামের বাড়িতে দাদীর নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
তিনি বলেন, উন্নত চিকিৎসার জন্য তার বাবা মাসুদ রানাকে ঢাকায় জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে মঙ্গলবার দুপুরে করা সংবাদ সম্মেলনে বগুড়া-৪ আসনের বিএনপির প্রার্থী মোশাররফ হোসেন অভিযোগ করেন, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর পক্ষে ভোট কেনার অভিযোগে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আবদুল মজিদসহ দুইজনকে বিএনপির নেতাকর্মীরা আটক করেন। একে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ হয়। আবদুল মজিদ আগে স্বেচ্ছাসেবক লীগের রাজনীতিতে যুক্ত থাকলেও বর্তমানে জামায়াতের হয়ে কাজ করছেন। গত রাতে জামায়াত-শিবিরের কয়েকজন কর্মী নিয়ে তিনি পারশুন গ্রামে এক ভোটারের বাড়িতে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে টাকা বিতরণ করতে গিয়েছিলেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিএনপি কর্মীরা দুজনকে হাতেনাতে ধরে পুলিশকে খবর দেন। কিন্তু পুলিশ ব্যবস্থা নেওয়ার আগেই লাঠি ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে মোটরসাইকেলে শত শত জামায়াত সমর্থক সেখানে পৌঁছে স্থানীয় বিএনপি নেতা মাসুদ রানার বাড়িতে হামলা চালান। তারা ভাঙচুর করেন এবং মজিদসহ দুইজনকে জোর করে ছিনিয়ে নিয়ে যান।
তিনি আরও বলেন, জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা মাসুদকে মারধর করেন, তার একটি চোখ ক্ষতিগ্রস্ত করে ফেলেন এবং তার ভাইকেও মারধর করেছেন। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগও তোলেন।
বিএনপির সংবাদ সম্মেলনের এক ঘণ্টা পর বিকেল ৪টায় প্রেসক্লাবে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে বগুড়া-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোস্তফা ফয়সাল বলেন, নন্দীগ্রামে দুটি দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে। জুলাই যোদ্ধা আসাদুল্লাহ আল গালিব ও আমাদের কর্মী ফারুকসহ কয়েকজনের ওপর হামলা এবং আমাদের লোকজনদের আটকে রাখা।
ফয়সালের দাবি, গণভোট প্রচার শেষে বাড়ি ফেরার পথে বিএনপি কর্মীরা গালিবের ওপর হামলা করেন।
এছাড়া ফারুকসহ কয়েকজনের ওপর হামলা চালান বিএনপি নেতা মাসুদ রানা ও তার ভাই রবিউল ইসলাম। আমাদের কর্মীদের মারধর করা হয়েছে, মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং বিএনপি নেতার একটি বাড়িতে নিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছিল।
এমএন
রাজনীতি
ইসলামী ব্যাংকের সন্দেহভাজন লেনদেন, ভোট কেনার অভিযোগ বিএনপি প্রার্থীর
নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে নাটোরে ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের অর্থের ‘সন্দেহভাজন’ লেনদেন এবং তা দিয়ে ভোট কেনার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। নাটোর-২ (সদর-নলডাঙ্গা) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু এই অভিযোগ তোলেন।
মঙ্গলবার (১০ই ফেব্রুয়ারী) পুরে নাটোর শহরের আলাইপুরে নিজ নির্বাচনী কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে দুলু বলেন, নাটোর সোনালী ব্যাংক প্রধান শাখায় ইসলামী ব্যাংকের নামে একটি অ্যাকাউন্টে ঢাকা থেকে প্রায় ৪ কোটি টাকা পাঠানো হয়েছে।নাটোর সোনালী ব্যাংকের প্রধান শাখায় অতীতে এ ধরনের বড় অঙ্কের লেনদেনের নজির নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
ভোটের ঠিক একদিন আগে হঠাৎ করে এমন লেনদেন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ধানের শীষের এই প্রার্থী বলেন, তার আশঙ্কা—এই অর্থ দিয়ে জামায়াতের প্রার্থীরা ভোট কেনাবেচায় ব্যবহার হতে পারে। এ কারণে তিনি ভোটের আগে ওই অর্থ লেনদেন বন্ধ এবং বিষয়টি তদন্তের দাবিতে নাটোরের রিটার্নিং অফিসারের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।
অভিযোগ প্রসঙ্গে নাটোর ইসলামী ব্যাংকের এক এভিপি বলেন, ৪ কোটি টাকা লেনদেন তাদের ব্যাংকের জন্য বড় কোনো বিষয় নয়। ভোটের সময় ব্যাংক বন্ধ থাকায় এটিএম বুথ সচল রাখার জন্য এই অর্থ উত্তোলনের প্রয়োজন হয়েছে বলে জানান তিনি। এ লেনদেনকে সন্দেহভাজন মনে করার কোনো কারণ নেই বলেও দাবি করেন ওই কর্মকর্তা।
এদিকে নাটোর সোনালী ব্যাংক প্রধান শাখার এজিএম উজ্জ্বল কুমার জানান, লেনদেন সংক্রান্ত অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে নাটোরের জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন বলেন, ইসলামী ব্যাংকের সন্দেহভাজন লেনদেন সংক্রান্ত অভিযোগ তিনি পেয়েছেন। তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ম্যানেজারকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এমএন
রাজনীতি
নাহিদ-আখতারসহ এনসিপির শীর্ষ নেতারা যেসব কেন্দ্রে ভোট দিবেন
আগামী বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ নির্বাচনে নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ নেতারা কোন কেন্দ্রে ভোট দেবেন, তা নিশ্চিত করেছে দলটির মিডিয়া সেল। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাতে দলটির মিডিয়া সেল এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এদিন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনিসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ঢাকা-১১ আসনের বাড্ডা থানার বেরাইদ এলাকার ১৬২. এ.কে.এম রহমত উল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ কেন্দ্রে ভোট দিবেন। এছাড়া সদস্য সচিব আখতার হোসেন রংপুর-৪ আসনের কাউনিয়া উপজেলার টেপা মধুপুর এলাকার ভায়েরহাট সেন্টারে তার মাকে নিয়ে ভোট দিবেন।
এছাড়া এনসিপির শীর্ষ নেতাদের মধ্যে মুখপাত্র ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ঢাকা-১০ আসনের নিউমার্কেট এলাকায় গবর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাইস্কুল কেন্দ্রে, উত্তরাঞ্চলের মূখ্য সংগঠক সার্জিস আলম পঞ্চগড়-২ আসেনর মনকুমার রাখালদেবীহাট হাইস্কুল কেন্দ্রে, দক্ষিণাঞ্চলের মূখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ কুমিল্লা-৪ আসনের ৩ নং রসুলপুর ইউনিয়নের গোপালনগর হাইস্কুল কেন্দ্রে ভোট দিবেন।
নরসিংদী-২ আসনের প্রার্থী সারোয়ার তুষার ঘোড়াশাল পাইলট স্কুল কেন্দ্রে, নোয়াখালী-৬ আসনের প্রার্থী আব্দুল হান্নান মাসুদ হাতিয়া উপজেলার বুড়িরচর শহীদ আলী আহমেদ মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে, ঢাকা-৯ আসনের প্রার্থী জাভেদ রাসিন দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৭১ নং ওয়ার্ডের মারকাজুল উলুম মাদ্রাসায় ভোট দিবেন।
এমএন



