Connect with us

মত দ্বিমত

নৈতিক ব্যবসা থেকে মানবকল্যাণভিত্তিক অর্থনীতি: বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নের রূপরেখা

Published

on

ডিএসই

বিশ্ব অর্থনীতি আজ এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে যেখানে নৈতিকতা এবং মানব কল্যাণ কোনো নৈতিক বিলাসিতা নয় বরং টেকসই অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার পূর্বশর্ত। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই বাস্তবতা আরও গুরুত্বপূর্ণ কারণ দেশটি সাম্প্রতিক দশকে উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক অগ্রগতি অর্জন করলেও সেই অগ্রগতি দুর্নীতি, বৈষম্য, প্রাতিষ্ঠানিক অনিয়ম এবং বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রভাবশালী গোষ্ঠীর দখলের কারণে দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকির মুখে।

গ্লোবাল অর্থনীতির প্রবাহ আজ নৈতিক বিনিয়োগ, স্বচ্ছতা, ডিজিটাল জবাবদিহি এবং মানবকেন্দ্রিক উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। উন্নত বিশ্বের কর্পোরেট কাঠামো ইতিমধ্যে বুঝে ফেলেছে যে মানব কল্যাণ, ন্যায্যতা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং কর্মীর প্রতি সম্মান শুধু দায়িত্ব নয় বরং অর্থনৈতিক সাফল্যের শক্তিশালী ভিত্তি। বাংলাদেশের পথচলা তাই স্পষ্ট। নৈতিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠা এবং মানবকল্যাণকে জাতীয় উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দুতে স্থান দিতে পারলেই দেশ একটি স্থিতিশীল, সম্মানজনক এবং সমৃদ্ধ অবস্থানে পৌঁছাতে পারে।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

এই লিখাটি সেই পথনকশা তুলে ধরে। এখানে গ্লোবাল বিজনেস পাসপেক্টিভকে ভিত্তি করে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা, ব্যবসা পরিবেশ, দুর্নীতি কাঠামো, সিন্ডিকেট অর্থনীতি এবং মানব উন্নয়নের সব দিক সমন্বিতভাবে আলোচিত হয়েছে। লক্ষ্য একটি ভবিষ্যৎ নির্মাণ করা যেখানে অর্থনীতি মানুষের জন্য কাজ করবে এবং ব্যবসা হবে নৈতিকতার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

বিশ্ব অর্থনীতি দ্রুত এমন এক রূপান্তর পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে যেখানে ব্যবসার মূল চালিকাশক্তি হচ্ছে প্রযুক্তি, মানবিক মূল্যবোধ এবং টেকসই উন্নয়ন। ডিজিটাল অর্থনীতির দ্রুত সম্প্রসারণ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিপ্লব, পরিবেশগত ঝুঁকি এবং আন্তর্জাতিক স্বচ্ছতার নিয়ম এখন ব্যবসার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করছে।

বিশ্বের প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠানগুলো কর্মী অধিকার, পরিবেশ সুরক্ষা, লিঙ্গ সমতা, কর্পোরেট জবাবদিহি এবং পরিচ্ছন্ন সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। একটি কোম্পানি কোথায়, কীভাবে এবং কোন নৈতিক প্রক্রিয়ায় পণ্য উৎপাদন করে তা এখন বাজার নির্ধারণের অন্যতম উপাদান। ফলে নৈতিকতার অভাব সরাসরি বিনিয়োগ, ব্র্যান্ড ইমেজ এবং বাজার প্রতিযোগিতা কমিয়ে দিচ্ছে।

সংক্ষেপে বলা যায়, যারা নৈতিকতার ভিত্তিতে পরিচালিত হয় তারা শুধু মানুষের আস্থা অর্জন করে না বরং বৈশ্বিক বাজারে দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকার শক্তি অর্জন করে। বাংলাদেশের জন্য এই শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

নৈতিক ব্যবসা বলতে শুধু সৎ প্রশাসন বোঝায় না। এটি একটি পূর্ণাঙ্গ কাঠামো যা প্রতিষ্ঠানের প্রত্যেক স্তরে নৈতিকতা, স্বচ্ছতা, দায়িত্ববোধ এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করে। বিশ্বে স্বীকৃত নৈতিক ব্যবসার মানদণ্ডগুলো হলো-
দুর্নীতি মুক্ত প্রশাসন
স্বচ্ছ বিনিয়োগ ব্যবস্থা
ন্যায়সংগত বাজার প্রতিযোগিতা
শ্রমিক অধিকার ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ
পরিবেশ সুরক্ষা এবং টেকসই উৎপাদন
সামাজিক দায়বদ্ধতার অনুভূতি
উৎপাদনের প্রতিটি স্তরে জবাবদিহির চর্চা
লাভের সুষম বন্টন এবং কর্মীদের প্রতি ন্যায্যতা

যে প্রতিষ্ঠানগুলো এ মানদণ্ড অনুসরণ করে তারা স্থানীয় বাজারে এবং বৈশ্বিক বাজারে সবচেয়ে স্থিতিশীল হয়। নৈতিকতা সেখানে শুধু শোভাকর নয় বরং ব্যবসার দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের শক্তিশালী অস্ত্র।

বাংলাদেশে আজ অর্থনৈতিক উন্নতির পাশাপাশি এক কঠিন বাস্তবতা বিদ্যমান। জনসংখ্যা কাঠামো, যুব সম্ভাবনা এবং ডিজিটাল অগ্রগতির মতো বড় সুবিধা থাকলেও দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ, প্রশাসনিক অনিয়ম এবং অযোগ্য নেতৃত্বের কারণে সেই সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না।

দেশের বাজার ব্যবস্থা প্রায় সব খাতেই প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে। কৃষিপণ্য থেকে বন্দর পরিচালনা, জ্বালানি থেকে আমদানি ব্যবসা, এমনকি শিক্ষা থেকে স্বাস্থ্য খাতেও এই অনিয়মের প্রভাব রয়েছে। ফলে ন্যায্যমূল্য, উৎপাদন ব্যয় এবং বাজার প্রবাহ সবই বিকৃত হয়ে পড়ে।

অন্যদিকে বাংলাদেশের শিক্ষা কাঠামো বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারছে না। মুখস্থনির্ভর শিক্ষা, দক্ষতার অভাব, নৈতিকতা শিক্ষা অনুপস্থিতি এবং প্রযুক্তিভিত্তিক জ্ঞান ঘাটতি আগামী প্রজন্মকে প্রতিযোগিতা সক্ষমতার বাইরে ঠেলে দিচ্ছে।

তবে সুযোগ এখনও বিশাল। বাংলাদেশের জনগণের শক্তি, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং তরুণ উদ্যোক্তা শ্রেণি একটি বৃহৎ সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয়। প্রয়োজন শুধু সঠিক দিকনির্দেশনা এবং নৈতিক অর্থনৈতিক কাঠামো।

একটি দেশের ভবিষ্যৎ তার শিক্ষাব্যবস্থার ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। বাংলাদেশের বর্তমান শিক্ষা কাঠামোতে কয়েকটি মূল সীমাবদ্ধতা রয়েছে যা দেশের উন্নয়নকে ধীর করে দিচ্ছে।
পাঠ্যবই এবং জ্ঞান কাঠামো বিশ্বমানের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
মুখস্থ নির্ভর মূল্যায়ন ব্যবস্থা শিক্ষার্থীর চিন্তাশক্তি সীমাবদ্ধ করে।
নৈতিকতা চরিত্র গঠন রাজনীতি অর্থনীতি এবং গ্লোবাল ব্যবসা সম্পর্কে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা দুর্বল।
শিক্ষকের মান উন্নয়ন যথেষ্ট নয়।
ডিজিটাল এবং প্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষা পিছিয়ে।
উচ্চশিক্ষায় গবেষণা এবং উদ্ভাবনের পরিবেশ দুর্বল।

এই কাঠামো দিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নেতৃত্ব দিতে হলে তাদের নৈতিকতা, সৃজনশীলতা, সমালোচনামূলক চিন্তাশক্তি, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং মানবকেন্দ্রিক নেতৃত্বের মূল্যবোধ তৈরি করতে হবে।

বাংলাদেশের অর্থনীতি যদি নৈতিক ব্যবসা এবং মানবকল্যাণ ভিত্তিক উন্নয়ন মডেলে রূপান্তরিত হতে চায় তবে শিক্ষাব্যবস্থা হবে সেই ভিত্তি। শিক্ষা এবং অর্থনীতি একে অপরের সম্পূরক। তাই পাঠ্যক্রমে নৈতিক ব্যবসা, গ্লোবাল অর্থনীতি, ডিজিটাল দক্ষতা এবং মানবিক মূল্যবোধের বিস্তৃত অন্তর্ভুক্তি অপরিহার্য।

বাংলাদেশে সিন্ডিকেট অর্থনীতি নতুন নয়। এটি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা, দলীয় ব্যবসায়িক গোষ্ঠী, প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির মাধ্যমে শক্তিশালী হয়েছে। এর প্রভাব ভয়ংকর।

কৃষি বাজারে সিন্ডিকেট তৈরি হওয়ায় উৎপাদক ন্যায্যমূল্য পায় না।
জ্বালানি বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে মূল্য বাড়ানো হয়।
আমদানি খাতে গোষ্ঠীভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত।
বন্দর ব্যবস্থাপনায় গোপন সমঝোতা ব্যবসার ব্যয় বাড়ায়।
সিন্ডিকেট স্কুল কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়সহ গবেষণা এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকেও প্রভাবিত করে।

এই পরিস্থিতি শুধু বাজার ব্যাহত করে না বরং নৈতিক উদ্যোক্তা সংস্কৃতি ধ্বংস করে। নতুন উদ্যোক্তা বাজারে টিকতে পারে না, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আস্থা হারায়, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ে এবং পুরো অর্থনীতি একটি অদৃশ্য শক্তির কবলে পড়ে।

নৈতিক ব্যবসার পথে সবচেয়ে বড় বাধা হচ্ছে এই সিন্ডিকেট এবং দুর্নীতির কাঠামো। তাই মানবকল্যাণ ভিত্তিক অর্থনীতি প্রতিষ্ঠা করতে হলে প্রথম কাজ হচ্ছে এই অনৈতিক শক্তির শিকড় উপড়ে ফেলা, স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা করা এবং রাষ্ট্র, ব্যবসা এবং নাগরিক সমাজের শক্তসমন্বিত ভূমিকা নিশ্চিত করা।

বাংলাদেশে ব্যবসা পরিবেশে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করতে হলে শুধু নীতি থাকা যথেষ্ট নয়। কার্যকর Institutional Framework এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিটি সরকারি খাত, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং নাগরিক সংস্থা মিলিতভাবে দায়িত্ব নিলে দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটের প্রভাব হ্রাস পাবে।

ডিজিটাল অডিটিং, স্বচ্ছ তথ্যপ্রকাশ, ব্যাংকিং ও ফিনটেক প্ল্যাটফর্মে লেনদেন, এবং স্বতন্ত্র অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা এ কাঠামোর মূল ভিত্তি। এই ব্যবস্থা প্রতিটি ব্যবসা লেনদেনকে ট্র্যাকযোগ্য করে তোলে এবং জনসাধারণ, সরকারি কর্তৃপক্ষ এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি করে।

সাথে, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নৈতিক ও সাসটেইনেবল প্র্যাকটিসে উদ্বুদ্ধ করতে কর সুবিধা, প্রশিক্ষণ এবং বিনিয়োগ সহজলভ্য করা অত্যন্ত জরুরি। এটি কেবল ব্যবসায়িক পরিবেশকে শক্তিশালী করবে না, বরং জাতির অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকেও দৃঢ় করবে।

বাংলাদেশে দুর্নীতি, সিন্ডিকেট এবং প্রশাসনিক অনিয়মের মূল উৎস হলো ক্যাশ ভিত্তিক লেনদেন। ক্যাশের মাধ্যমে অডিট ট্রেইল নেই, লেনদেন সহজে লুকানো যায়। তাই ক্যাশের পরিবর্তে কার্ড সিস্টেম এবং ডিজিটাল পেমেন্ট বাধ্যতামূলক করা অপরিহার্য।

ডিজিটাল লেনদেনের মাধ্যমে প্রতিটি অর্থপ্রদানের রেকর্ড রাখা যায়। এটি ট্যাক্স ফাঁকি, অবৈধ কমিশন এবং সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ কমিয়ে আনে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, হাটবাজার, কৃষি এবং সরকারি প্রকল্পে ডিজিটাল পেমেন্ট প্রবর্তন করলে জবাবদিহিতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

ডিজিটাল অর্থনীতি কেবল দুর্নীতি কমায় না, বরং বিদেশি বিনিয়োগ, নৈতিক ব্যবসা সংস্কৃতি, স্বচ্ছ বাজার এবং সামাজিক আস্থা বৃদ্ধিতেও সাহায্য করে। এটি একটি ন্যাশনাল ইকোনমিক সিকিউরিটি ফ্রেমওয়ার্ক হিসেবে কাজ করবে।

বিশ্ব অর্থনীতিতে AI, অটোমেশন, ডেটা গভর্ন্যান্স এবং ডিজিটাল কমপ্লায়েন্সের প্রভাব ক্রমশ বাড়ছে। বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য এই প্রযুক্তিগত রূপান্তরকে গ্রহণ করা জরুরি।

প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরবরাহ চেইন স্বচ্ছ করা, প্রতিটি লেনদেন মনিটর করা, উৎপাদন ও বিতরণ দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কর্মী দক্ষতা উন্নয়ন করা সম্ভব। এছাড়া, ডিজিটাল উদ্ভাবন নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করে, সৃজনশীল ব্যবসা প্রবাহ বাড়ায় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান দৃঢ় করে।

বাংলাদেশ একটি জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। নৈতিক ব্যবসার মধ্যে পরিবেশগত দায়িত্ব সংযুক্ত করা ছাড়া কোনো টেকসই অর্থনীতি সম্ভব নয়।

সবুজ উৎপাদন, কার্বন নিরপেক্ষ প্রযুক্তি, পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি ব্যবহার এবং পরিবেশ বান্ধব শিল্পপ্রক্রিয়া গ্রহণ করলে দেশের আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড ইমেজ শক্তিশালী হবে।

টেকসই কৃষি ও পুনঃনবীকরণযোগ্য শক্তি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে এবং দূরবর্তী অঞ্চলের জনগণও সমৃদ্ধিতে অংশ নেবে।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক শক্তি হলো এসএমই খাত এবং কৃষি। নৈতিক ব্যবসা ও স্বচ্ছ বাজার নিশ্চিত করলে এসএমই দ্রুত সম্প্রসারণ পাবে।

কৃষক ন্যায্যমূল্য পাবে, গ্রামীণ উদ্যোক্তা স্বাধীনভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবে, নারী উদ্যোক্তা এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠী অর্থনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা নিতে পারবে।

এসব ক্ষেত্রে ডিজিটাল পেমেন্ট এবং টেকসই সরবরাহ চেইন কার্যকর হলে স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হবে।

নৈতিক ব্যবসার একটি প্রধান সুফল হলো সামাজিক ন্যায়বিচার। কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, দারিদ্র্য হ্রাস, নারীর ক্ষমতায়ন এবং শ্রমিক অধিকার নিশ্চিত করা।

সকল স্তরে নৈতিকতার প্রভাব সমাজকে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক করে তোলে। রাষ্ট্র ও ব্যবসা একযোগে কাজ করলে সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক সমতা নিশ্চিত হবে।

বাংলাদেশের জন্য টেকসই ও নৈতিক অর্থনীতির রোডম্যাপ:
১. শিক্ষাব্যবস্থা আধুনিকীকরণ: নৈতিকতা, প্রযুক্তি, সৃজনশীলতা, উদ্ভাবন
২. ডিজিটাল পেমেন্ট বাধ্যতামূলক করা
৩. Institutional Framework শক্তিশালী: অডিটিং, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি
৪. টেকসই উৎপাদন এবং সবুজ অর্থনীতি সম্প্রসারণ
৫. এসএমই ও কৃষি খাতকে শক্তিশালী করা
৬. মানবকল্যাণ এবং সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা
৭. আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য প্রযুক্তি গ্রহণ
৮. সিন্ডিকেট, ভেজাল ও দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলা

এই রোডম্যাপ বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশ কেবল অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হবে না, বরং নৈতিক, মানবিক এবং টেকসই রাষ্ট্র হিসেবে আন্তর্জাতিক মানের উদাহরণ হবে।

রহমান মৃধা, প্রাক্তন পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন। rahman.mridha@gmail.com

শেয়ার করুন:-

মত দ্বিমত

দাভোস আমাকে আরেকবার মনে করিয়ে দিল, নিজের পায়ে দাঁড়ানোর বিকল্প নেই

Published

on

ডিএসই

প্রশ্ন একটাই। বাংলাদেশ কি দাভোসের বার্তা শুনেছে? বাংলাদেশ মানে কেবল ভৌগোলিক সীমারেখা নয়। বাংলাদেশ মানে সিদ্ধান্তের সার্বভৌম অধিকার। বাংলাদেশের সব সিদ্ধান্ত বাংলাদেশই নেবে। এই রাষ্ট্রের জন্ম কোনো করুণা থেকে নয়, জন্ম হয়েছে এ দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য। বাংলাদেশ আমার, আপনার, আমাদের সবার।

ভয়, শাস্তি কিংবা শক্তি ইউরোপকে দাবিয়ে রাখতে পারেনি। ইতিহাস তা স্পষ্ট করে দিয়েছে। তাহলে প্রশ্ন ওঠে, বাংলাদেশকে দাবিয়ে রাখার সাহস আসে কোথা থেকে? এই সাহস কি আকাশ থেকে নামে, নাকি আমাদের ভেতর থেকেই কেউ বা কোনো গোষ্ঠী সেই সুযোগ করে দেয়? যদি ভেতরের দুর্বলতা না থাকে, বাইরের শক্তি কখনোই সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে পারে না।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

গণভোটের পরই স্পষ্ট হবে, কত বিপুল সংখ্যক না ভোট বাংলাদেশের মানুষের প্রকৃত অবস্থান তুলে ধরছে। যারা সত্যিকারের দেশপ্রেমিক, তারা তখনই বুঝবে রাষ্ট্র আসলে কোথায় দাঁড়িয়ে আছে।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

যদি কোনো প্রতিবেশী আমাদের শত্রু হতে চায়, সেটি আমাদের সংকট নয়। বরং সেটিই সিদ্ধান্ত নেওয়ার উপযুক্ত সময়। আমরা কি অসুস্থ প্রতিবেশীর সঙ্গে একই শর্তে সম্পর্ক বজায় রাখব, নাকি নিজেদের স্বার্থ, মর্যাদা ও ভবিষ্যৎকে অগ্রাধিকার দেব?

‘উই ক্যান অনলি উন্ডারস্ট্যান্ড টি ফিলিং অফ ডিভোশন ইফ টি নাইবোর্স শেয়ার আওয়ার প্যাশন’

দাভোসে একটি বিষয় বারবার ফিরে এসেছে। সভাকক্ষ, প্যানেল আলোচনা, করিডোরের আলাপ সবখানেই একই প্রশ্ন। আমরা কতদিন আমেরিকা, রাশিয়া কিংবা যুদ্ধের পেছনে সময় ব্যয় করব? কতদিন অন্যের সংঘাত, অন্যের ক্ষমতার দ্বন্দ্ব আমাদের চিন্তার কেন্দ্রে থাকবে? দাভোস বলছে, এখন সময় নিজেদের দিকে তাকানোর।

কীভাবে আমরা নিজেদের ভাগ্য বদলাতে পারি, সেটিই ছিল আলোচনার মূল সুর। কীভাবে একটি জাতি নিজের শক্তি নিজেই গড়ে তোলে। শিক্ষা, দক্ষতা, প্রযুক্তি, নৈতিকতা এবং প্রতিষ্ঠানকে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করিয়ে। শক্তি মানে কেবল সামরিক শক্তি নয়। শক্তি মানে আত্মবিশ্বাসী রাষ্ট্র। শক্তি মানে এমন সমাজ, যেখানে সিদ্ধান্ত আসে জনগণ থেকে, ভয় থেকে নয়।

দাভোস মনে করিয়ে দিয়েছে, শ্রেষ্ঠ জাতি কেউ জন্মগতভাবে হয় না। শ্রেষ্ঠ জাতি গড়ে ওঠে সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায়। ভুল স্বীকার করার সাহসে। নিজেদের দুর্বলতা ঢাকার চেষ্টা না করে, সেগুলো কাটিয়ে ওঠার দৃঢ়তায়।

বাংলাদেশের সামনে প্রশ্ন তাই বাইরের শক্তিকে নিয়ে নয়। প্রশ্ন আমাদের নিজেদের নিয়ে। আমরা কি আমাদের মানুষের ওপর আস্থা রাখব? আমরা কি সিদ্ধান্ত নেবো নিজেদের বাস্তবতা, সক্ষমতা ও ভবিষ্যৎকে সামনে রেখে? নাকি সারাক্ষণ অন্যের যুদ্ধ, অন্যের হুমকি আর অন্যের অনুমতির অপেক্ষায় থাকব?

দাভোস একটি বার্তাই দিয়েছে। কেউ এসে আমাদের ভাগ্য লিখে দেবে না। দাঁড়াতে হবে নিজের পায়ে। শক্ত হতে হবে নিজের ভিত থেকে। রাষ্ট্র গড়তে হবে মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও অংশগ্রহণের ওপর। এই পথ সহজ নয়। কিন্তু এটাই একমাত্র পথ। কারণ বাংলাদেশ কোনো দাবার ঘুঁটি নয়। বাংলাদেশ একটি জাতির সিদ্ধান্ত।

রহমান মৃধা, গবেষক ও লেখক, সাবেক পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন
rahman.mridha@gmail.com 

শেয়ার করুন:-
পুরো সংবাদটি পড়ুন

মত দ্বিমত

বিশ্বব্যবস্থার রাজনৈতিক অস্থিরতা: নীরব সমাজ, শক্তিধর রাষ্ট্র ও ন্যায়ের রূপান্তর

Published

on

ডিএসই

বর্তমান বিশ্ব এক গভীর রাজনৈতিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই রূপান্তর কোনো একটি দেশের ভেতরে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি একই সঙ্গে ইউরোপ, আমেরিকা, এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার সমাজ ও রাষ্ট্র কাঠামোকে প্রভাবিত করছে। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয় বিশ্ব অস্থির, কিন্তু ভেতরে ভেতরে আরও ভয়াবহ একটি বিষয় ঘটছে। মানুষ ধীরে ধীরে এই অস্থিরতাকে স্বাভাবিক বলে মেনে নিচ্ছে। অন্যায় ক্রমে ন্যায়ে পরিণত হচ্ছে, আর নীরবতা হয়ে উঠছে সামাজিক প্রতিক্রিয়ার প্রধান ভাষা।

ন্যাটো জোট ও পশ্চিমা ঐক্যের ফাটল

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

দীর্ঘদিন ধরে ন্যাটোকে পশ্চিমা নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক ঐক্যের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই জোটের ভেতরেই মতপার্থক্য, দ্বন্দ্ব ও স্বার্থের সংঘাত প্রকাশ্যে এসেছে। ইউক্রেন যুদ্ধ, প্রতিরক্ষা ব্যয়, অভিবাসন প্রশ্ন এবং যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে ভিন্নমত ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে। অনেক দেশ এখন প্রশ্ন তুলছে, ন্যাটো কি সত্যিই সমান নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, নাকি এটি কিছু শক্তিধর রাষ্ট্রের কৌশলগত হাতিয়ার মাত্র।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

এই বিভাজন কেবল সামরিক নয়। সাম্প্রতিক গ্রিনল্যান্ড ইস্যু এই ফাটলকে আরও দৃশ্যমান করেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প ডেনমার্ক ও ইউরোপীয় মিত্রদের আপত্তির জবাবে গ্রিনল্যান্ডের ওপর শুল্ক হুমকি দিয়েছে। এটি ন্যাটো জোটের ভেতরের সম্পর্ককে চাপের মধ্যে ফেলে দিয়েছে—যেখানে মিত্র দেশগুলো নিরাপত্তা চাচ্ছে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা পদক্ষেপে তাদের কৌশলগত স্বাধীনতা সীমিত হচ্ছে। ফলে দেখা যাচ্ছে, ন্যাটোর ঐক্য এখন শর্তযুক্ত আনুগত্যের ওপর ভিত্তি করে এবং শক্তিধর রাষ্ট্রের স্বার্থ দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছে।

জাতিসংঘ: নীতি আছে, কার্যকারিতা নেই

জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে, যাতে ভবিষ্যতে বিশ্ব আর এমন বিপর্যয়ের মুখে না পড়ে। কিন্তু আজ জাতিসংঘ ক্রমেই একটি প্রতীকী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের ভেটো ক্ষমতা বাস্তব ন্যায়বিচারকে বারবার আটকে দিচ্ছে।

গাজা, ইউক্রেন, ইয়েমেন, সুদান বা আফ্রিকার বিভিন্ন সংঘাতে জাতিসংঘের সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট। নীতি আছে, প্রস্তাব আছে, কিন্তু কার্যকর প্রয়োগ নেই। এর ফলে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগছে, আন্তর্জাতিক আইন কার জন্য এবং কাদের বিরুদ্ধে।

গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার রূপান্তর ও সংকট

গণতন্ত্র এখনও শব্দ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, কিন্তু এর চর্চা বদলে গেছে। নির্বাচন হচ্ছে, কিন্তু ভোটারের প্রকৃত ক্ষমতা সংকুচিত। রাজনৈতিক দলগুলো কর্পোরেট অর্থায়নের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। প্রচারণা, মিডিয়া কাভারেজ ও জনমত গঠনে পুঁজির ভূমিকা এতটাই প্রবল যে সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর প্রায় অদৃশ্য।

অনেক দেশে নির্বাচনী ব্যবস্থাকে আইনগতভাবে ঠিক রাখা হলেও বাস্তবে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হচ্ছে সীমিত কিছু গোষ্ঠীর হাতে। এটি একটি নরম অথচ গভীর কর্তৃত্ববাদ, যেখানে গণতন্ত্রের কাঠামো থাকে, কিন্তু আত্মা থাকে না।

শক্তিধর রাষ্ট্র ও নতুন ক্ষমতার বিন্যাস

বিশ্ব এখন একমুখী নেতৃত্বের যুগে নেই। যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আঞ্চলিক শক্তিগুলো নিজেদের মতো করে প্রভাব বিস্তার করছে। এই বহুমুখী শক্তি কাঠামো একদিকে ভারসাম্য তৈরি করলেও অন্যদিকে অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে।

ছোট ও দুর্বল রাষ্ট্রগুলো এই প্রতিযোগিতার মাঝে পড়ে যাচ্ছে। তাদের সার্বভৌম সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা সীমিত হচ্ছে ঋণ, বাণিজ্য, সামরিক চুক্তি ও কূটনৈতিক চাপের মাধ্যমে।

পুঁজিবাদ ও রাজনীতির মেলবন্ধন

বর্তমান পুঁজিবাদ আর শুধু অর্থনীতির বিষয় নয়। এটি সরাসরি রাজনীতির নিয়ন্ত্রক শক্তি। বড় কর্পোরেশনগুলো নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলছে, কর ব্যবস্থাকে নিজেদের পক্ষে ঘুরিয়ে নিচ্ছে এবং শ্রম, পরিবেশ ও সামাজিক ন্যায়ের প্রশ্নকে গৌণ করে তুলছে।

এর ফল সবচেয়ে বেশি পড়ছে গরিব ও মধ্যবিত্ত মানুষের ওপর। সামাজিক নিরাপত্তা সংকুচিত হচ্ছে, শ্রমের মূল্য কমছে, আর জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ছে।

ইনফ্লেশন ও দৈনন্দিন জীবনের রাজনীতি

ইনফ্লেশন শুধু একটি অর্থনৈতিক শব্দ নয়। এটি মানুষের জীবনের প্রতিটি স্তরে রাজনীতির উপস্থিতি। খাদ্য, বাসস্থান, স্বাস্থ্য ও জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি মানুষকে টিকে থাকার সংগ্রামে আটকে দিচ্ছে। যখন মানুষ প্রতিদিনের বেঁচে থাকার লড়াইয়ে ব্যস্ত থাকে, তখন রাষ্ট্র ও ক্ষমতার জবাবদিহি প্রশ্ন করার শক্তি হারিয়ে ফেলে।

ফ্যাসিস্ট প্রবণতা ও ভয়ের রাজনীতি

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ফ্যাসিস্ট প্রবণতা নতুন রূপে ফিরে আসছে। এটি এখন আর শুধু সামরিক বুটের শব্দ নয়, বরং আইন, ভাষা ও সংস্কৃতির মাধ্যমে ধীরে ধীরে বিস্তার লাভ করছে। ভয়ের রাজনীতি ব্যবহার করে নাগরিক স্বাধীনতা সীমিত করা হচ্ছে।

মহামারী, দুর্নীতি ও নৈতিক অবক্ষয়

মহামারী দেখিয়ে দিয়েছে সংকটের সময় রাষ্ট্র কতটা মানবিক হতে পারে বা পারে না। একই সঙ্গে দুর্নীতি ও বৈষম্যের কাঠামো আরও উন্মোচিত হয়েছে।

তাহলে সমাজ কেন মেনে নিচ্ছে

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, এতকিছুর পরেও সমাজ কেন প্রতিরোধ গড়ে তুলছে না। এর কারণ ক্লান্তি, ভয়, বিভ্রান্তি এবং বিকল্প কল্পনার অভাব। মানুষ ধীরে ধীরে শিখে নিচ্ছে যে ক্ষমতার সিদ্ধান্ত প্রশ্ন করার জায়গা সংকুচিত, আর ব্যক্তিগত টিকে থাকাই প্রধান লক্ষ্য। এই নীরবতা কার্যত শক্তিধর রাষ্ট্র ও কর্পোরেট ক্ষমতার পক্ষে কাজ করে। অন্যায় এখানে হঠাৎ করে ন্যায় হয়ে যায় না, বরং দীর্ঘ সময় ধরে প্রশ্নহীন থাকতে থাকতে ন্যায় বলে মেনে নেওয়া হয়।

গ্রিনল্যান্ড সংকট ও ট্রাম্পের শুল্ক হুমকি

গ্রিনল্যান্ড ইস্যু দেখিয়েছে কিভাবে শক্তিধর রাষ্ট্রের একতরফা পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক জোট ও মিত্র সম্পর্ককে চাপের মধ্যে ফেলে। ডোনাল্ড ট্রাম্প ডেনমার্ক ও ইউরোপীয় মিত্রদের আপত্তির জবাবে গ্রিনল্যান্ডের ওপর শুল্ক হুমকি দিয়েছেন।
• এটি ন্যাটো জোটের ভেতরের ফাটল আরও স্পষ্ট করেছে, যেখানে মিত্র দেশগুলো নিরাপত্তা চাচ্ছে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা পদক্ষেপে তাদের কৌশলগত স্বাধীনতা সীমিত হচ্ছে।
• শুল্কের প্রভাব শুধুমাত্র রাষ্ট্রের ওপর সীমিত নয়; এটি বাজারে, মূল্যস্ফীতি ও ভোক্তার ক্রয়ক্ষমতায় প্রভাব ফেলছে। ফলে সাধারণ মানুষ এই রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ বহন করছে, আর রাজনৈতিক প্রতিরোধের শক্তি ক্ষয় পাচ্ছে।

গ্রিনল্যান্ড ইস্যু ও শুল্ক হুমকি আমাদের একটি কঠিন বার্তা দেয়। ভবিষ্যৎ বিশ্ব রাজনীতি হবে আরও ক্ষমতানির্ভর, যেখানে আন্তর্জাতিক আইন ও নৈতিকতার ভাষা থাকবে, কিন্তু প্রয়োগ হবে শক্তির ভাষায়। ছোট ও মাঝারি রাষ্ট্রগুলোর জন্য এটি একটি সতর্ক সংকেত, আর সাধারণ মানুষের জন্য এটি একটি নীরব বিপদ।
প্রশ্ন একটাই থেকে যায়, আমরা কি এই নতুন স্বাভাবিকতাকে মেনে নেব, নাকি একে প্রশ্ন করার নতুন রাজনৈতিক কল্পনা তৈরি করব।

রহমান মৃধা, গবেষক ও লেখক, সাবেক পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন
rahman.mridha@gmail.com

শেয়ার করুন:-
পুরো সংবাদটি পড়ুন

মত দ্বিমত

এআই বিভ্রান্তি বাংলাদেশের দুর্নীতিকে আরও শক্তিশালী করে

Published

on

ডিএসই

বাংলাদেশে দুর্নীতি কোনো বিচ্ছিন্ন ব্যতিক্রম নয়। এটি বহু মানুষের কাছে একটি পরিচিত বাস্তবতা, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে একটি স্বাভাবিক ব্যবস্থা। ঘুষ, প্রভাব, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং তথ্য গোপন করা বহুদিন ধরেই প্রাত্যহিক অভিজ্ঞতার অংশ। কিন্তু সাম্প্রতিক বৈশ্বিক পরিবর্তন এই সমস্যাকে আরও গভীর করছে।

একদিকে যুক্তরাষ্ট্রসহ শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোর শুল্কনীতি ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ, অন্যদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে তথ্য ও ছবির ব্যাপক বিকৃতি। এই দুটি শক্তি একত্রে বাংলাদেশের মতো দুর্বল গণতান্ত্রিক ও উচ্চ দুর্নীতিগ্রস্ত রাষ্ট্রে একটি বিপজ্জনক বাস্তবতা তৈরি করছে।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

বিশ্ব অর্থনীতির টানাপোড়েন সরাসরি বাংলাদেশের ওপর প্রভাব ফেলে। রপ্তানি খাত, ডলার সংকট, মূল্যস্ফীতি এবং কর্মসংস্থানের চাপ সাধারণ মানুষের জীবনকে কঠিন করে তুলছে। এই চাপের মুখে রাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা বাড়ে। কিন্তু যখন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোই দুর্নীতিগ্রস্ত হয়, তখন এই চাপ সাধারণ মানুষকে আরও অসহায় করে তোলে।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

এই অবস্থায় দুর্নীতি কেবল অর্থনৈতিক সমস্যা থাকে না। এটি ক্ষমতার ভাষা হয়ে ওঠে। মানুষ বুঝে যায় যে নিয়ম মেনে কিছু পাওয়া কঠিন, কিন্তু প্রভাব থাকলে সব সম্ভব। ফলে দুর্নীতি মোকাবিলার নৈতিক শক্তিটাই দুর্বল হয়ে পড়ে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরেকটি নতুন বাস্তবতা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা তৈরি ছবি, ভিডিও ও তথ্য। বাংলাদেশের মতো দেশে যেখানে স্বাধীন ও শক্তিশালী তথ্য যাচাই ব্যবস্থা দুর্বল, সেখানে এআই দ্বারা তৈরি বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট সহজেই সত্য হিসেবে ছড়িয়ে পড়ে।

রাজনৈতিক বক্তব্য, সামাজিক অস্থিরতা, আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র কিংবা অর্থনৈতিক সংকট, সব কিছুর ক্ষেত্রেই এখন এমন ছবি ও ভিডিও দেখা যায় যেগুলো মানুষের আবেগকে উসকে দেয়, কিন্তু সত্য যাচাই করার সুযোগ বা সক্ষমতা খুব কম মানুষের থাকে।

এখানেই দুর্নীতি ও এআই একে অপরকে শক্তিশালী করে। দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা থাকে না। স্বচ্ছতা না থাকলে সত্য যাচাই করা কঠিন হয়। আর যখন সত্য অস্পষ্ট থাকে, তখন এআই দ্বারা তৈরি মিথ্যা সহজেই জায়গা করে নেয়।

এই পরিস্থিতিতে দুর্নীতিবাজদের জন্য এআই একটি কার্যকর ঢাল। বিভ্রান্তি যত বাড়ে, জবাবদিহি তত কমে। মানুষ যখন নিশ্চিত হতে পারে না কোনটি সত্য আর কোনটি সাজানো, তখন রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতাও ধোঁয়াশার আড়ালে হারিয়ে যায়।

প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশ কীভাবে এই বাস্তবতাকে মোকাবিলা করবে।

প্রথমত, দুর্নীতিকে কেবল নৈতিক ব্যর্থতা হিসেবে দেখলে চলবে না। এটি একটি কাঠামোগত সমস্যা। যতদিন রাজনৈতিক ক্ষমতা, অর্থনীতি ও প্রশাসন জবাবদিহির বাইরে থাকবে, ততদিন দুর্নীতি স্বাভাবিক আচরণ হিসেবেই চলতে থাকবে।

দ্বিতীয়ত, এআই ও তথ্য প্রযুক্তিকে আলাদা কোনো বিলাসী বিষয় হিসেবে দেখা যাবে না। এটি এখন জাতীয় নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক টিকে থাকার প্রশ্ন। রাষ্ট্রকে বাধ্যতামূলকভাবে স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশ, ডিজিটাল ট্রেসেবিলিটি এবং ভুয়া কনটেন্ট শনাক্ত করার সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে।

তৃতীয়ত, সাধারণ মানুষের তথ্য বোঝার ক্ষমতা বাড়ানো ছাড়া কোনো সমাধান টেকসই হবে না। মানুষ যদি না বোঝে কীভাবে ছবি বানানো হয়, কীভাবে ভিডিও বিকৃত করা হয়, তাহলে তারা সব সময় শক্তিশালীদের তৈরি বাস্তবতার শিকার হবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো রাজনৈতিক সদিচ্ছা। দুর্নীতিকে যদি সত্যিই মোকাবিলা করতে হয়, তাহলে ক্ষমতাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড়ানোর সাহস দেখাতে হবে। এআই বা বৈশ্বিক অর্থনীতিকে অজুহাত বানিয়ে রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতা ঢেকে রাখলে সংকট আরও গভীর হবে।

বাংলাদেশ আজ এমন এক মোড়ে দাঁড়িয়ে যেখানে অর্থনীতি, প্রযুক্তি ও তথ্য একসঙ্গে মানুষের জীবন নির্ধারণ করছে। এই বাস্তবতায় দুর্নীতিকে স্বাভাবিক ধরে নেওয়া মানে ভবিষ্যৎকে পরিকল্পিতভাবে দুর্বল করে দেওয়া।

প্রশ্ন এখন একটাই। বাংলাদেশ কি এই নতুন বাস্তবতাকে চিনে ব্যবস্থা নেবে, নাকি বিভ্রান্তি, দুর্নীতি ও বৈষম্যের মধ্যেই এগিয়ে যেতে থাকবে।

আসন্ন নির্বাচন ও নতুন ঝুঁকির বাস্তবতা

এই প্রেক্ষাপটে আসন্ন নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা তৈরি ছবি, ভিডিও ও তথ্য নির্বাচনী পরিবেশকে সহজেই প্রভাবিত করতে পারে। সহিংসতা, জনসমর্থন কিংবা রাষ্ট্রীয় অবস্থান সংক্রান্ত ভুয়া কনটেন্ট ভোটারদের আবেগকে উসকে দিতে পারে, যার সত্যতা যাচাই করার সক্ষমতা অনেকের নেই।

যখন নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর আগে থেকেই আস্থার সংকট থাকে, তখন এই ধরনের বিভ্রান্তি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা দুর্বল থাকায় প্রকৃত অনিয়ম এবং কৃত্রিমভাবে তৈরি বিভ্রান্তির মধ্যে পার্থক্য করা কঠিন হয়ে পড়ে। এর ফল হিসেবে ভোটার আস্থা ক্ষয় হয় এবং গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ কমে যায়।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কয়েকটি বিষয় জরুরি হয়ে উঠেছে। প্রথমত, নির্বাচনী সময় তথ্য ও ভিজ্যুয়াল কনটেন্ট যাচাইয়ের জন্য স্বাধীন ও কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা। দ্বিতীয়ত, রাষ্ট্রীয় ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের তথ্য প্রকাশে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। তৃতীয়ত, সাধারণ মানুষের মধ্যে এআই ও ডিজিটাল কনটেন্ট সম্পর্কে ন্যূনতম সচেতনতা তৈরি করা, যাতে তারা বিভ্রান্তিকে প্রশ্ন করতে পারে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো রাজনৈতিক সদিচ্ছা। যদি নির্বাচনকে সত্যিকার অর্থে বিশ্বাসযোগ্য করতে হয়, তাহলে প্রযুক্তি বা বৈশ্বিক পরিস্থিতিকে অজুহাত না বানিয়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। নইলে এআই দ্বারা তৈরি বিভ্রান্তি এবং পুরনো দুর্নীতির সংস্কৃতি একসঙ্গে নির্বাচনকে অর্থহীন করে তুলবে।

রহমান মৃধা, গবেষক ও লেখক, সাবেক পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন
rahman.mridha@gmail.com

শেয়ার করুন:-
পুরো সংবাদটি পড়ুন

মত দ্বিমত

নতুন বিশ্বে বিজ্ঞান, ক্ষমতা-গণতন্ত্র ও আমরা

Published

on

ডিএসই

প্রযুক্তির এই যুগে বিজ্ঞানের অগ্রগতি কি ইউরোপে, আমেরিকায়, না-কি চীনে- এই প্রশ্নের সহজ উত্তর নেই। কারণ বিজ্ঞান এখন আর একক কোনো ভূখণ্ডের সম্পদ নয়। তবে ক্ষমতা, নিয়ন্ত্রণ এবং দিকনির্দেশ এখনো কিছু নির্দিষ্ট কেন্দ্রে কেন্দ্রীভূত। এবং এটাই মূল কারণ, যে আমরা আজ বিজ্ঞানকে কেবল প্রযুক্তির প্রেক্ষাপটে দেখতে পারি না; এটি নৈতিকতা, রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এবং মানুষের দায়িত্বের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।

আমেরিকা দীর্ঘদিন ধরে বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবনের নেতৃত্ব দিয়েছে। সিলিকন ভ্যালি, এমআইটি, হার্ভার্ড, নাসা—এই প্রতিষ্ঠানগুলো কেবল প্রযুক্তি নয়, একটি দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বায়োটেকনোলজি, মহাকাশ গবেষণা এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম অর্থনীতিতে আমেরিকার প্রভাব এখনো প্রবল। তবে এই অগ্রগতি মূলত কর্পোরেট মুনাফা এবং সামরিক কৌশলের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। ফলে প্রশ্ন ওঠে—এই বিজ্ঞান কি মানবকল্যাণের জন্য, না ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

ইউরোপ ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছে। তারা তুলনামূলকভাবে ধীর, কিন্তু নৈতিকতা ও নিয়ন্ত্রণে শক্ত। তথ্য সুরক্ষা, মানবাধিকার, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, টেকসই উন্নয়ন—এই ক্ষেত্রগুলোতে ইউরোপ একটি ভারসাম্যপূর্ণ বিজ্ঞানচিন্তা গড়ে তুলেছে। ইউরোপীয় বিজ্ঞান কম দৃশ্যমান হলেও দীর্ঘমেয়াদে মানব সভ্যতার জন্য হয়তো বেশি নিরাপদ। এখানে প্রশ্ন আসে—গতির চেয়ে দিকনির্দেশ কি বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

আর চীন। গত দুই দশকে চীন দেখিয়েছে যে রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা এবং বিপুল বিনিয়োগ দিয়ে বিজ্ঞানকে কীভাবে দ্রুত এগিয়ে নেওয়া যায়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি, ফাইভ জি, মহাকাশ গবেষণায় চীন আজ আর অনুকরণকারী নয়, প্রতিদ্বন্দ্বী। তবে এই অগ্রগতির সঙ্গে আছে নজরদারি, তথ্য নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যক্তিস্বাধীনতার সীমাবদ্ধতা। ফলে বিজ্ঞান এখানে একদিকে বিস্ময়কর, অন্যদিকে উদ্বেগজনক।

এই তিন শক্তির তুলনায় একটি মৌলিক সত্য স্পষ্ট হয়। আজকের বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি শুধু আবিষ্কারের প্রশ্ন নয়। এটি মূলত মূল্যবোধের, নৈতিক দায়িত্বের এবং শক্তির ব্যবহারের প্রশ্ন। কে সিদ্ধান্ত নেবে প্রযুক্তি কীভাবে ব্যবহার হবে। কে এর সুফল পাবে। কে এর ক্ষতির বোঝা বহন করবে। এবং এটিই নির্ধারণ করবে, বিজ্ঞান মানবিক হবে কি না।

মানবজাতির সামনে নতুন পৃথিবীর সন্ধান তখনই সম্ভব, যখন বিজ্ঞান কেবল শক্তির হাতিয়ার থাকবে না, বরং ন্যায়বোধ, সহানুভূতি এবং দায়িত্বশীলতার সঙ্গে যুক্ত হবে। প্রযুক্তি যদি মানুষের কর্মসংস্থান কেড়ে নেয়, গোপনীয়তা ধ্বংস করে, যুদ্ধকে আরও নিখুঁত করে তোলে, তাহলে সেটি অগ্রগতি নয়, তা কেবল উন্নত ধ্বংস।

বর্তমান প্রতিবেদন ও গবেষণা দেখায়, চীনে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে বেশি গবেষক কর্মরত। শুধু সংখ্যাই নয়, প্রভাবের দিক থেকেও চীনা গবেষণা এগিয়ে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক গবেষণায় চীনা প্রকাশনা এখন বেশি উদ্ধৃত হচ্ছে, যা প্রমাণ করে যে এই গবেষণাগুলো বিশ্বজুড়ে জ্ঞান উৎপাদনের মূল স্রোতে যুক্ত হচ্ছে। বিশেষ করে ম্যাটেরিয়াল ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, ইঞ্জিনিয়ারিং, ডেটা ও কম্পিউটার বিজ্ঞান এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে চীনা গবেষকদের কাজ এখন বৈশ্বিক মানদণ্ড নির্ধারণে ভূমিকা রাখছে।

সদ্য প্রকাশিত সুইডিশ টেলিভিশনের একটি প্রতিবেদনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে, বিষয়ভিত্তিক র‍্যাঙ্কিংয়ে বিশ্বের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে নয়টি এখন চীনে অবস্থিত। এটি বোঝায় যে চীন কেবল গবেষণাপত্রের পরিমাণ বাড়াচ্ছে না, বরং দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোও গড়ে তুলেছে যেখানে উচ্চমানের গবেষণা ধারাবাহিকভাবে সম্ভব হচ্ছে।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাইমন মার্জিনসন উল্লেখ করেছেন, বহু চীনা গবেষক যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার প্রশিক্ষণ নিলেও শেষ পর্যন্ত নিজ দেশে ফিরে যাচ্ছেন। কারণ সেখানে তারা পাচ্ছেন গবেষণার জন্য পর্যাপ্ত অর্থায়ন, আধুনিক অবকাঠামো এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার সহায়তা। এই মেধা প্রত্যাবর্তন চীনের গবেষণা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করছে।

তবে এই অগ্রগতির সঙ্গে উদ্বেগও আছে। ইউরোপের নীতিনির্ধারকরা আশঙ্কা করছেন যে গবেষণা সহযোগিতার মাধ্যমে সংবেদনশীল প্রযুক্তি এমন ব্যবস্থার হাতে যেতে পারে যেখানে স্বচ্ছতা ও স্বাধীনতা সীমিত। এই উদ্বেগ অমূলক নয় এবং ইউরোপের অনেক দেশই এখন এই প্রশ্নে দ্বিধান্বিত। অন্যদিকে, বহু বিশ্ববিদ্যালয় রেক্টর মনে করেন, বৈজ্ঞানিক সহযোগিতা বন্ধ করলে তা শেষ পর্যন্ত ইউরোপের নিজের ক্ষতিই ডেকে আনবে। কারণ বিজ্ঞান কখনোই সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন পরিবেশে বিকশিত হয় না। জ্ঞান আদানপ্রদান বন্ধ হলে গবেষণার গতি কমে যায় এবং বৈশ্বিক সমস্যার সমাধান আরও কঠিন হয়ে ওঠে।

এবার আসি গণতন্ত্র এবং চীনের উদাহরণের দিকে। চীন একটি জনবহুল রাষ্ট্র, যেখানে গণতন্ত্র নেই, রাজনৈতিক স্বাধীনতা সীমিত, মতপ্রকাশ নিয়ন্ত্রিত। তারপরও সেই চীন প্রযুক্তি, বিজ্ঞান এবং ভূরাজনীতিতে প্রতিদিন বিশ্বকে চমকে দিচ্ছে। অন্যদিকে বহু দেশ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নামে সংগ্রাম করেও শেষ পর্যন্ত স্বৈরাচারী শাসনের শিকার হচ্ছে। এই বৈপরীত্যের কারণ বোঝার জন্য আবেগ নয়, রাষ্ট্রের কাঠামো, ক্ষমতার ব্যবহার এবং মানুষের নৈতিক দায়িত্ব ও কার্যকর কর্মকাণ্ড বিবেচনা করতে হবে।

চীনে রাষ্ট্রের লক্ষ্য দীর্ঘমেয়াদি এবং স্পষ্ট। প্রযুক্তি, শিল্প, শিক্ষা ও সামরিক সক্ষমতা রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকার। ক্ষমতাসীন দল বদলালেও লক্ষ্য বদলায় না। সেখানে শাসক ব্যক্তির নয়, রাষ্ট্রের ধারাবাহিকতা ও নৈতিক দিকই মুখ্য।

অন্যদিকে বহু গণতন্ত্রপ্রত্যাশী দেশে রাজনীতি ব্যক্তি কেন্দ্রিক। ক্ষমতায় যাওয়াই লক্ষ্য, রাষ্ট্র পরিচালনা নয়। নির্বাচনের পর রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দলীয় সম্পদে পরিণত হয়। ফলে গণতন্ত্র নামের কাঠামো থাকলেও বাস্তবে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হয়।

চীন দশকভিত্তিক পরিকল্পনায় কাজ করে। শিক্ষা সংস্কার, গবেষণা বিনিয়োগ, শিল্প নীতি—সবকিছু দীর্ঘ সময় ধরে এগোয়। আজ যে প্রযুক্তিগত সাফল্য দেখা যাচ্ছে, তার ভিত্তি তৈরি হয়েছে বিশ বা ত্রিশ বছর আগে। গণতন্ত্রের নামে পরিচালিত বহু দেশে রাজনীতি চলে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দিয়ে। পাঁচ বছরের মধ্যে ফল দেখাতে না পারলে পরিকল্পনা বাতিল হয়। রাষ্ট্র এখানে ভবিষ্যৎ গড়ে না, বরং ভোট টিকিয়ে রাখে।

চীনে প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষমতাসীন দলের অধীনে থাকলেও কার্যকর। গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্প খাত রাজনৈতিক অস্থিরতায় ভোগে না। স্বৈরাচারের শিকার গণতন্ত্রগুলোতে প্রতিষ্ঠান দুর্বল। আদালত, প্রশাসন, শিক্ষা ব্যবস্থা দলীয় নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। ফলে গণতন্ত্র নিজেই নিজের বিরোধী শক্তিতে রূপ নেয়।

চীন তার মেধাকে কাজে লাগাচ্ছে। বিদেশে পড়া গবেষকদের দেশে ফেরার পরিবেশ তৈরি করছে। গবেষণার জন্য অর্থ, ল্যাব, সম্মান নিশ্চিত করছে। অন্যদিকে বহু দেশে শিক্ষিত তরুণরা রাষ্ট্রের বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। রাজনৈতিক আনুগত্য ছাড়া সুযোগ নেই। মেধা দেশ ছাড়ে, রাষ্ট্র শূন্য হয়।

সবচেয়ে কঠিন সত্য হলো—গণতন্ত্র কোনো যাদু নয়। এটি একটি ব্যবস্থা। যদি সেই ব্যবস্থার ভেতরে জবাবদিহি, নৈতিকতা এবং শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান না থাকে, তবে গণতন্ত্র স্বৈরাচার উৎপাদন করতে পারে। চীন দেখাচ্ছে উন্নয়ন গণতন্ত্রের পূর্বশর্ত নয়। আবার অনেক দেশ প্রমাণ করছে গণতন্ত্র উন্নয়নের নিশ্চয়তা নয়।

এই বাস্তবতা আমাদের একটি অস্বস্তিকর প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করায়। আমরা কি সত্যিই গণতন্ত্র চাই, নাকি কেবল ক্ষমতায় যাওয়ার একটি সিঁড়ি হিসেবে একে ব্যবহার করছি।

মানবজাতির সামনে নতুন পৃথিবীর সন্ধান তখনই সম্ভব, যখন বিজ্ঞান কেবল শক্তির হাতিয়ার থাকবে না, বরং মানবিক দিক, নৈতিক দায়িত্ব এবং সচেতন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হবে। প্রযুক্তি যদি মানুষের জীবনকে শোষণ করে, গোপনীয়তা ধ্বংস করে, যুদ্ধকে আরও নিখুঁত করে তোলে, তাহলে সেটি অগ্রগতি নয়।

প্রকৃত সত্য হলো—ভবিষ্যৎ ইউরোপ, আমেরিকা বা চীনের একক মালিকানায় নয়। ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে এই প্রশ্নের উত্তরের ওপর। আমরা কি বিজ্ঞানকে মানুষের জন্য ব্যবহার করব, না মানুষকে বিজ্ঞানের পরীক্ষাগারে পরিণত করব। এই প্রশ্নের উত্তরই নির্ধারণ করবে নতুন পৃথিবী আসলেই মানবিক হবে কি না।

চীনের উদাহরণ আমাদের শেখায় যে রাষ্ট্র গড়তে হলে প্রয়োজন: দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টি, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, মেধার সম্মান এবং পরিকল্পনার ধারাবাহিকতা। আর গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে হলে প্রয়োজন: নৈতিক নেতৃত্ব, জবাবদিহি এবং ক্ষমতার সীমা নির্ধারণ। এই দুটি একসাথে না চললে গণতন্ত্রও স্বৈরাচার জন্ম দেবে, আর উন্নয়ন মানবিক হবে না। এটাই যদি আজকের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হয়, তবে আমাদের অবস্থান কোথায়?

রহমান মৃধা, সাবেক পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন। rahman.mridha@gmail.com

শেয়ার করুন:-
পুরো সংবাদটি পড়ুন

মত দ্বিমত

দেশ বদলাচ্ছে, নাকি পুরোনো রাজনীতি নতুন ভাষায় ফিরছে?

Published

on

ডিএসই

দেশ বদলাচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আমরা কি সত্যিই নতুন কিছু দেখছি, নাকি পুরোনো কাহিনি নতুন মোড়কে আমাদের সামনে ফিরে আসছে?

আগামী দিনগুলোতে লক্ষ্য করলে দেখবেন, সারা দেশের গণমাধ্যমে তারেক রহমানকে ঘিরে এক ধরনের প্রশস্তি আর গুণগানের স্রোত বইতে শুরু করবে। সংবাদ শিরোনাম, টক শো, বিশ্লেষণ, প্রচার সবকিছু এমনভাবে সাজানো হবে যেন সাধারণ মানুষের বিবেক ধীরে ধীরে প্রভাবিত হয়। এই প্রক্রিয়ায় একদিকে যেমন নির্দিষ্ট একটি নেতৃত্বকে অতিরঞ্জিতভাবে তুলে ধরা হবে, অন্যদিকে জামায়াত ও এনসিপির বিরুদ্ধে নানামুখী অপপ্রচার চলবে নীরবে কিন্তু পরিকল্পিতভাবে।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

এই বাস্তবতায় ভারতও আলাদা কোনো পথ নেবে না। তারেক রহমানের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়বে। দলের চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার প্রেক্ষাপটে ঢাকাস্থ হাইকমিশনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী মোদির শুভেচ্ছা বার্তা পৌঁছে দেওয়া হবে। সাংবাদিকদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ, ব্যক্তিগত মতবিনিময় এবং নরম ভাষায় ভিন্ন সুর তুলে ধরে জাতির সামনে একটি বার্তা দেওয়া হবে। দেখো, অতীতের সাংবাদিক সম্মেলনের সঙ্গে বর্তমানের কত পার্থক্য।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

অনেকে ভাবতে পারেন, এসব ছোটখাটো বিষয় নিয়ে এত গুরুত্ব দেওয়ার কারণ কী। কিন্তু এগুলো মোটেও ছোটখাটো নয়। বিশেষ করে যারা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে, তারা জানে এ দেশের মানুষ কীভাবে ভাবতে ভালোবাসে এবং সেই ভাবনাকে কীভাবে কৌশলে পৌঁছে দেওয়া যায়।

স্বৈরাচার সরকারের সময় একটি নির্দিষ্ট কৌশল অনুসরণ করা হয়েছিল। জনগণকে দেখানো হয়েছিল সরকার কতটা শক্তিশালী, কতটা কঠোর, কতটা ক্ষমতাবান। এবার সেই কৌশলের ভাষা বদলেছে। এবার তুলে ধরা হচ্ছে উদারতা, মানবিকতা, মহানুভবতার ছবি। কৌশল বদলালেও লক্ষ্য বদলায়নি। এর নামই রাজনীতি।

এই জায়গায় এসে একটি প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়া যায় না। যদি শেষ পর্যন্ত একই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়, তাহলে শেখ হাসিনার সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানোর প্রয়োজনটাই বা কী ছিল? ঘড়ির কাঁটা কি তবে শুধু বারোটার চারপাশেই ঘুরে গেল?

এই রাজনৈতিক বাস্তবতার মাঝেই আমি আরেকটি দৃশ্য গভীর মনোযোগ দিয়ে লক্ষ করছি। ছাত্রশিবিরের নেতৃত্ব আজ যে মাত্রার শক্তি ও সৃজনশীলতার পরিচয় দিচ্ছে, তা সত্যিই ব্যতিক্রমী। বর্তমান বিশ্ব রাজনীতির দিকে তাকালে দেখা যায় নোংরামি, দুর্নীতি, লুটপাট, সন্ত্রাস, নৈরাজ্য আর বিশৃঙ্খলার এক ভয়াবহ চিত্র। ঠিক এই সময়ে বাংলাদেশের মতো একটি দেশে ছাত্রশিবিরের নবজাগরণ শুধু একটি রাজনৈতিক ঘটনা নয়, এটি নৈতিকতার পুনরুদ্ধার।

রাজনীতি যে কেবল ক্ষমতা দখলের খেলা নয়, বরং নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং সহাবস্থানের দায়ও বহন করতে পারে এই বার্তাই তারা দিচ্ছে। মানবজাতির সবচেয়ে বড় পরিচয় তখনই স্পষ্ট হয়, যখন একজন নারী একজন পুরুষের পাশে নিজেকে নিরাপদ মনে করে। তখনই বোঝা যায়, সমাজে মানবিকতার ভিত্তি এখনও অটুট।

গত কয়েক মাসে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে যে মায়াবী, মধুর সম্পর্ক গড়ে উঠতে দেখেছি, তা আমাকে এই বিশ্বাস দিয়েছে, ছাত্রশিবিরের কাছে বাংলাদেশের নারী নিরাপদ। আর নারী যখন নিরাপদ, তখন পুরো বাংলাদেশই নিরাপদ। এই বাস্তবতায় আমাদের সামনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি দাঁড়িয়ে আছে আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে। নির্বাচন শুধু ভোটের হিসাব নয়, এটি নিরাপত্তা, আস্থা এবং ভবিষ্যতের প্রশ্ন।

জাগো বাংলাদেশ, জাগো। সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ভেবে দেখো, আমরা কেবল দৃশ্যের পরিবর্তন চাই, নাকি সত্যিকারের পরিবর্তন?

রহমান মৃধা, সাবেক পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন। rahman.mridha@gmail.com

শেয়ার করুন:-
পুরো সংবাদটি পড়ুন

পুঁজিবাজারের সর্বশেষ

ডিএসই ডিএসই
পুঁজিবাজার8 hours ago

ডিএসইর বাজার মূলধন বাড়লো আরও ৪ হাজার ৩১৭ কোটি টাকা

দেশের শেয়ারবাজারে সূচকের উত্থানের মধ্য দিয়ে চলতি সপ্তাহে লেনদেন হয়েছে। এতে সপ্তাহ ব্যবধানে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই)...

ডিএসই ডিএসই
পুঁজিবাজার12 hours ago

মতিন স্পিনিংয়ের আয় কমেছে ৩৫ শতাংশ

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি মতিন স্পিনিং মিলস পিএলসি গত ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে সমাপ্ত দ্বিতীয় প্রান্তিকের (অক্টোবর’২৫-ডিসেম্বর’২৫) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ...

ডিএসই ডিএসই
পুঁজিবাজার12 hours ago

কাশেম ইন্ডাস্ট্রিজের দ্বিতীয় প্রান্তিক প্রকাশ

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি কাশেম ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি গত ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে সমাপ্ত দ্বিতীয় প্রান্তিকের (অক্টোবর’২৫-ডিসেম্বর’২৫) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।...

ডিএসই ডিএসই
পুঁজিবাজার13 hours ago

দেশবন্ধু পলিমারের লোকসান বেড়েছে ৪৭ শতাংশ

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি দেশবন্ধু পলিমার ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড গত ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে সমাপ্ত দ্বিতীয় প্রান্তিকের (অক্টোবর’২৫-ডিসেম্বর’২৫) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ...

ডিএসই ডিএসই
পুঁজিবাজার13 hours ago

রহিমা ফুডের দ্বিতীয় প্রান্তিক প্রকাশ

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি রহিমা ফুড করপোরেশন লিমিটেড গত ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে সমাপ্ত দ্বিতীয় প্রান্তিকের (অক্টোবর’২৫-ডিসেম্বর’২৫) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ...

ডিএসই ডিএসই
পুঁজিবাজার13 hours ago

বিডি থাই অ্যালুমিনিয়ামের লোকসান বেড়েছে ২৭ শতাংশ

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি বিডি থাই অ্যালুমিনিয়াম লিমিটেড গত ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে সমাপ্ত দ্বিতীয় প্রান্তিকের (অক্টোবর’২৫-ডিসেম্বর’২৫) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ...

ডিএসই ডিএসই
পুঁজিবাজার13 hours ago

ফু-ওয়াং সিরামিকের আয় কমেছে ৫৫ শতাংশ

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ফু-ওয়াং সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ গত ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে সমাপ্ত দ্বিতীয় প্রান্তিকের (অক্টোবর’২৫-ডিসেম্বর’২৫) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।...

সোশ্যাল মিডিয়া

তারিখ অনুযায়ী সংবাদ

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০
১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭৩০৩১
ডিএসই
রাজনীতি7 hours ago

শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করলেন তারেক রহমান

ডিএসই
রাজনীতি8 hours ago

কর্মসংস্থান ও মাদকমুক্ত ঢাকা-৬ গড়ার অঙ্গীকার ইশরাকের

ডিএসই
পুঁজিবাজার8 hours ago

ডিএসইর বাজার মূলধন বাড়লো আরও ৪ হাজার ৩১৭ কোটি টাকা

ডিএসই
রাজনীতি9 hours ago

দীর্ঘদিনের দলীয়করণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করেছে: আসিফ মাহমুদ

ডিএসই
জাতীয়9 hours ago

সৌদি প্রবাসীদের জন্য সুসংবাদ, দেশে ফিরতে লাগবে ২০ হাজার টাকা

ডিএসই
জাতীয়10 hours ago

নির্বাচনে ৫৭ জন পর্যবেক্ষক পাঠাচ্ছে ১৬ দেশ

ডিএসই
রাজনীতি10 hours ago

৩৬ দফা ইশতেহার ঘোষণা করলো এনসিপি

ডিএসই
আন্তর্জাতিক10 hours ago

নির্বাচন ঘিরে বাংলাদেশে অবস্থানরত নাগরিকদের সতর্ক করল মার্কিন দূতাবাস

ডিএসই
জাতীয়10 hours ago

সেনাপ্রধানের সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

ডিএসই
রাজনীতি11 hours ago

আত্মমর্যাদা নিয়ে বাঁচবে, এমন বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান তারেক রহমানের

ডিএসই
রাজনীতি7 hours ago

শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করলেন তারেক রহমান

ডিএসই
রাজনীতি8 hours ago

কর্মসংস্থান ও মাদকমুক্ত ঢাকা-৬ গড়ার অঙ্গীকার ইশরাকের

ডিএসই
পুঁজিবাজার8 hours ago

ডিএসইর বাজার মূলধন বাড়লো আরও ৪ হাজার ৩১৭ কোটি টাকা

ডিএসই
রাজনীতি9 hours ago

দীর্ঘদিনের দলীয়করণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করেছে: আসিফ মাহমুদ

ডিএসই
জাতীয়9 hours ago

সৌদি প্রবাসীদের জন্য সুসংবাদ, দেশে ফিরতে লাগবে ২০ হাজার টাকা

ডিএসই
জাতীয়10 hours ago

নির্বাচনে ৫৭ জন পর্যবেক্ষক পাঠাচ্ছে ১৬ দেশ

ডিএসই
রাজনীতি10 hours ago

৩৬ দফা ইশতেহার ঘোষণা করলো এনসিপি

ডিএসই
আন্তর্জাতিক10 hours ago

নির্বাচন ঘিরে বাংলাদেশে অবস্থানরত নাগরিকদের সতর্ক করল মার্কিন দূতাবাস

ডিএসই
জাতীয়10 hours ago

সেনাপ্রধানের সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

ডিএসই
রাজনীতি11 hours ago

আত্মমর্যাদা নিয়ে বাঁচবে, এমন বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান তারেক রহমানের

ডিএসই
রাজনীতি7 hours ago

শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করলেন তারেক রহমান

ডিএসই
রাজনীতি8 hours ago

কর্মসংস্থান ও মাদকমুক্ত ঢাকা-৬ গড়ার অঙ্গীকার ইশরাকের

ডিএসই
পুঁজিবাজার8 hours ago

ডিএসইর বাজার মূলধন বাড়লো আরও ৪ হাজার ৩১৭ কোটি টাকা

ডিএসই
রাজনীতি9 hours ago

দীর্ঘদিনের দলীয়করণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করেছে: আসিফ মাহমুদ

ডিএসই
জাতীয়9 hours ago

সৌদি প্রবাসীদের জন্য সুসংবাদ, দেশে ফিরতে লাগবে ২০ হাজার টাকা

ডিএসই
জাতীয়10 hours ago

নির্বাচনে ৫৭ জন পর্যবেক্ষক পাঠাচ্ছে ১৬ দেশ

ডিএসই
রাজনীতি10 hours ago

৩৬ দফা ইশতেহার ঘোষণা করলো এনসিপি

ডিএসই
আন্তর্জাতিক10 hours ago

নির্বাচন ঘিরে বাংলাদেশে অবস্থানরত নাগরিকদের সতর্ক করল মার্কিন দূতাবাস

ডিএসই
জাতীয়10 hours ago

সেনাপ্রধানের সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

ডিএসই
রাজনীতি11 hours ago

আত্মমর্যাদা নিয়ে বাঁচবে, এমন বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান তারেক রহমানের