অর্থনীতি
মাসে মাত্র ১৪ হাজার টাকার কিস্তিতে কোটিপতির স্বপ্ন পূরণ
একসময় দেশে কোটিপতি হওয়া মানে অনেক বড় বিষয় ছিল। সমাজে কে ধনী মানুষ, তা বোঝাতে বলা হতো, সেই লোক কোটিপতি। অর্থাৎ ধনসম্পদের ক্ষেত্রে কোটি টাকা বড় মাইলফলক ছিল।
সেই বাস্তবতা এখন নেই। মূল্যস্ফীতি বাড়তে বাড়তে এমন জায়গায় গেছে যে ঢাকা শহরে অনেক ফ্ল্যাটের দামই এখন কোটি টাকার ওপরে। সেসব ফ্ল্যাট অবিক্রীতও থাকে না। তারপরও সীমিত আয়ের মানুষের পক্ষে কোটিপতি হওয়া গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
দেশের শক্তিশালী ব্যাংকগুলোর মধ্যে অন্যতম ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডের আছে কোটিপতি স্কিম। মাসে সর্বনিম্ন ১৪ হাজার টাকা কিস্তি দিয়েও কোটিপতি হওয়া সম্ভব। দেখে নেওয়া যাক, এই স্কিমে আপনি কীভাবে টাকা সঞ্চয় করবেন।
কী আছে কোটিপতি স্কিমে
ইস্টার্ন ব্যাংকের কোটিপতি স্কিমটি ডিপিএস ও এফডিআরের একধরনের মিশ্রণ। সেটা হলো, আপনি প্রথমে এক লাখ টাকা জমা দিয়ে মাসে মাসে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা কিস্তি হিসেবে জমা দিয়ে মেয়াদ শেষে কোটিপতি হতে পারেন। আবার প্রাথমিক জমা না দিয়েও শুধু মাসে মাসে কিস্তি দিয়ে মেয়াদ শেষে কোটিপতি হওয়া সম্ভব।
এই সঞ্চয় স্কিমের মেয়াদ ৫ থেকে ২০ বছর। এর মধ্যে বিভিন্ন মেয়াদে এই স্কিম নেওয়া যায়—৫, ৮, ১০, ১২, ১৫, ১৮ ও ২০ বছর মেয়াদে এই স্কিম নেওয়া যায়।
ধরা যাক, আপনি পাঁচ বছর মেয়াদে এই স্কিম নিতে চান। এখন আপনি যদি এক লাখ টাকা প্রাথমিক জমা দেন, তাহলে মাসে ১ লাখ ২৭ হাজার টাকা জমা দিয়ে কোটিপতি হওয়া যায়। এক লাখ টাকা প্রাথমিক জমা না দিলে আপনার মাসিক কিস্তি হবে ১ লাখ ২৯ হাজার ৯০০ টাকা।
আট বছর মেয়াদে প্রাথমিক জমা ছাড়া আপনার কিস্তি হবে ৭১ হাজার টাকা এবং এক লাখ টাকার প্রাথমিক জমাসহ কিস্তি হবে ৬৯ হাজার ৬০০ টাকা। ১০ বছর মেয়াদে প্রাথমিক জমা ছাড়া আপনার মাসিক কিস্তি হবে ৫১ হাজার ৩০০ টাকা এবং প্রাথমিক জমাসহ কিস্তি হবে ৫০ হাজার ১০০ টাকা।
১২ বছর মেয়াদে প্রাথমিক জমা ছাড়া কিস্তি হবে ৩৮ হাজার ৬০০ টাকা। জমাসহ কিস্তি হবে ৩৭ হাজার ৪০০ টাকা। ১৫ বছর মেয়াদে প্রাথমিক জমা ছাড়া কিস্তি হবে ২৬ হাজার ৩০০ টাকা এবং জমাসহ কিস্তি হবে ২৫ হাজার ৩০০ টাকা।
১৮ বছর মেয়াদে প্রাথমিক জমা ছাড়া কিস্তি হবে ১৮ হাজার ৬০০ টাকা। প্রাথমিক জমাসহ কিস্তি হবে ১৭ হাজার ৬০০ টাকা। ২০ বছর মেয়াদে কিস্তি হবে যথাক্রমে ১৪ হাজার ৯০০ টাকা ও ১৪ হাজার টাকা।
আর কী আছে
এই স্কিম ইস্টার্ন ব্যাংকের যেকোনো শাখায় খোলা যায়। এক ব্যক্তি একসঙ্গে একাধিক কোটিপতি স্কিম খুলতে পারেন। ইস্টার্ন ব্যাংকে সঞ্চয়ী হিসাব থাকলে সেখান থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কিস্তি কেটে নেওয়ার ব্যবস্থাও আছে। সেই সঙ্গে এই স্কিমের বিপরীতে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত ঋণের সুবিধা নেওয়া যায়।
কী লাগবে
হিসাব খুলতে সাধারণত যেসব কাগজপত্র লাগে, এ ক্ষেত্রেও তা–ই লাগবে। আপনার নিজের ছবি ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), নমিনির ছবি ও এনআইডি এবং ওই ব্যাংকে হিসাব আছে, এমন একজন পরিচয়দানকারী। ফরমের নির্দিষ্ট স্থানে সবার স্বাক্ষর লাগবে। জরুরি প্রয়োজনে ব্যাংক যোগাযোগ করবে, এমন একজনের নাম–ঠিকানাও দিতে হবে।
মেয়াদের আগে ভাঙলে
ব্যাংকের ডিপিএস ও এফডিআর খোলার ক্ষেত্রে যে প্রশ্নটি বারবার ঘুরেফিরে আসে সেটা হলো, মেয়াদের আগে হিসাব ভাঙলে কী হবে। ইস্টার্ন ব্যাংকের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুসারে, এক বছরের আগে এই হিসাব ভেঙে ফেলা হলে শুধু জমা টাকা ফেরত দেওয়া হয়। সুদ পাওয়া যাবে না।
এক থেকে তিন বছরের মধ্যে ভেঙে ফেলা হলে সঞ্চয়ী হিসাবের সুদ পাওয়া যাবে। তিন বছর পর ভেঙে ফেলা হলে কোটিপতি হিসাবের চেয়ে ২ শতাংশ কম হারে সুদ পাওয়া যাবে।
সঞ্চয় সম্পর্কে একটি কথা বলা হয়। সেটা হলো, আপনি মাসে বা বছরে কত টাকা সঞ্চয় করতে চান, সেই টাকা আগে আলাদা করে রেখে তারপর খরচ করুন। খরচ করার পর আপনি সঞ্চয় করবেন বা তার লক্ষ্য ঠিক করবেন, তা নয়; বরং তার উল্টো পদ্ধতি গ্রহণ করুন। তাহলে সীমিত আয়ের মানুষের পক্ষেও কোটিপতি হওয়া সম্ভব।
এমকে
অর্থনীতি
দুর্বল ব্যাংকগুলোকে টাকা দেওয়ার বিষয়ে আপত্তি আইএমএফের
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বাংলাদেশে দুর্বল ব্যাংকগুলোকে অনিরাপদ তারল্য দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছে। এর পাশাপাশি বিনিময় হার সংস্কার পুরোপুরি বাস্তবায়ন করারও আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
২০২৪ সালের গণ–অভ্যুত্থানের পর এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে অর্থনীতি স্থিতিশীল রাখতে অন্তর্বর্তী সরকারের চেষ্টাকে স্বীকৃতি দিয়েছে আইএমএফ।
বাংলাদেশের জন্য আর্টিকেল ফোর পরামর্শ কার্যক্রম শেষ করার পর গতকাল শুক্রবার এক বিবৃতিতে এ কথা বলেছে আইএমএফ। বাংলাদেশকে প্রতিশ্রুত সাড়ে পাঁচ বিলিয়ন ডলার ঋণের শর্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনার অংশ হিসেবে এ বিবৃতি দিয়েছে সংস্থাটি।
আইএমএফ বলেছে, আর্থিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি বিশ্বাসযোগ্য ব্যাংক খাত সংস্কারের কৌশল দরকার। এ ধরনের কৌশলে মূলধনের ঘাটতির পরিমাণ নিরূপণ, রাজস্ব সহায়তার কাঠামো নির্ধারণ ও আইনগতভাবে শক্তিশালী পুনর্গঠন ও সমাধান পরিকল্পনার রূপরেখা থাকতে হবে।
রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের সম্পদের মান পর্যালোচনা পরিচালনা, ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি এগিয়ে নেওয়া এবং সুশাসন ও ব্যালান্স শিটের স্বচ্ছতা জোরালো করার আহ্বান জানিয়েছে আইএমএফ।
সংস্থাটি বলেছে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পুনর্গঠন ও মূল্যস্ফীতি কমাতে কঠোর নীতির সমন্বয় বজায় রাখা প্রয়োজন। বিনিময় হার সংস্কার পুরোপুরি ও ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়ন এবং বিনিময় হারকে আরও নমনীয় করতে হবে। দুর্বল ব্যাংকে অনিরাপদ তারল্য সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে।
মূল্যস্ফীতি নিম্নমুখী ধারায় না আসা পর্যন্ত মুদ্রানীতি কঠোর থাকা উচিত বলেও মনে করছে আইএমএফ। সংস্থাটি উল্লেখ করেছে, ২০২৪–২৫ অর্থবছরের শুরুতে দুই অঙ্কের ঘর থেকে নেমে এলেও অক্টোবরে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ২ শতাংশ ছিল। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৯ শতাংশে থাকবে এবং ২০২৭ অর্থবছরে তা কমে প্রায় ৬ শতাংশ হবে।
আইএমএফ বলেছে, দুর্বল কর রাজস্ব ও আর্থিক খাতের ঝুঁকির কারণে অর্থনীতি ক্রমবর্ধমান সামষ্টিক–আর্থিক চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। সাহসী রাজস্ব ও আর্থিক সংস্কার বাস্তবায়নে দেরি হলে বড় ধরনের নিম্নমুখী ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
সংস্থাটি ২০২৫–২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৭ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, মধ্য মেয়াদে অর্থনীতি ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াবে এবং প্রবৃদ্ধি প্রায় ৬ শতাংশে উন্নীত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রাজস্ব স্থিতিশীলতা রক্ষা, সামষ্টিক–আর্থিক স্থিতি জোরদার ও মধ্য মেয়াদে সুশাসন শক্তিশালী করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক বৈচিত্র্য বাড়াতে বিস্তৃত কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত বলে জানায় আইএমএফ।
আইএমএফ উল্লেখ করেছে, দুর্বল রাজস্ব আহরণ, ব্যাংক খাতের ঝুঁকি, নতুন বিনিময় হার কাঠামোর অসম্পূর্ণ বাস্তবায়ন ও উচ্চ মূল্যস্ফীতি বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
আইএমএফ এ ছাড়া ভর্তুকি যৌক্তিকীকরণ, প্রবৃদ্ধিবর্ধক বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দেওয়া, সামাজিক সুরক্ষা জোরদার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধির জন্য সরকারি আর্থিক ও বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা উন্নত করার পরামর্শ দিয়েছে।
অর্থনীতি
দাম কমার পর দেশে আজ সোনার ভরি কত
টানা কয়েক দফায় বাড়ানোর পর গতকাল (শুক্রবার) সোনার দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। যেখানে ভরিতে ১৪ হাজার ৬৩৯ টাকা কমিয়ে প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৭১ হাজার ৩৭৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সেই দামেই বিক্রি হবে সোনা।
নতুন মূল্য অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেট হলমার্ককৃত সোনার প্রতি গ্রামের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২৩ হাজার ২৬৫ টাকা। সেই হিসেবে দেশীয় পরিমাপ অনুযায়ী প্রতি ভরি সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৭১ হাজার ৩৭৯ টাকা।
আর ২১ ক্যারেট হলমার্ককৃত সোনার প্রতি গ্রামের দাম ২২ হাজার ২০৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা ভরিপ্রতি হিসেব করলে দাঁড়ায় ২ লাখ ৫৮ হাজার ৯৯৯ টাকা। অন্যদিকে ১৮ ক্যারেট সোনার বর্তমান গ্রামপ্রতি মূল্য ১৯ হাজার ৩৫ টাকা অনুযায়ী প্রতি ভরির দাম পড়বে ২ লাখ ২২ হাজার ২৫ টাকা।
এ ছাড়া সনাতন পদ্ধতির সোনার প্রতি গ্রামের দাম ধরা হয়েছে ১৫ হাজার ৬৭৫ টাকা, যার ভরিপ্রতি বাজারমূল্য দাঁড়াবে ১ লাখ ৮২ হাজার ৮৩২ টাকা।
এর আগে গত ২৯ জানুয়ারি সকালে দেয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে সোনার দাম বাড়িয়েছিল বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সেদিন ভরিতে ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বাড়িয়েছে সংগঠনটি।
বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানায়, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই দাম কার্যকর থাকবে। তবে বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি যোগ হবে।
এমএন
অর্থনীতি
সোনার দাম ভরিতে কমলো সাড়ে ১৪ হাজার টাকা
দেশের বাজারে টানা পাঁচবার বাড়ার পর অবশেষে কমানো হয়েছে সোনার দাম। প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ১৪ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। ফলে ভালো মানের সোনার দাম কমে ২ লাখ ৭১ হাজার টাকায় নেমে এসেছে।
এর আগে গতকাল দাম বেড়ে ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায় উঠেছিল। যা বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দাম ছিল।
শুক্রবার ( ৩০ জানুয়ারি) বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন এই দাম আজ (শুক্রবার) ১০টা ৪৫ মিনিট থেকে কার্যকর হয়েছে।
সংগঠনটি জানিয়েছে, তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার দাম কমে যাওয়ায় স্থানীয় বাজারে দাম কমেছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে আজ সোনার দরপতন হয়েছে। বিশ্বজুড়ে স্বর্ণ ও রুপার দামের নির্ভরযোগ্য ওয়েবসাইট গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকালে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৫ হাজার ২০০ ডলারে নেমে এসেছে; যা গতকাল ৫ হাজার ৫৫০ ডলার ছাড়িয়েছিল।
দেশের বাজারে নতুন দাম অনুযায়ী সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম দুই লাখ ৭১ হাজার ৩৬৩ টাকা, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি দুই লাখ ৫৯ হাজার টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি দুই লাখ ২২ হাজার ২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম এক লাখ ৮২ হাজার ৮৩৩ টাকা।
সোনার দামের সঙ্গে কমেছে রুপার দামও। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৭ হাজার ৭৫৭ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৭ হাজার ৪০৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৬ হাজার ৩৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৭৮২ টাকা।
এমকে
অর্থনীতি
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক নিয়ে গণ্ডগোলের পাঁয়তারা চলছে: গভর্নর
কিছু ব্যক্তি ও মহল সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক নিয়ে ভুল তথ্য ছড়িয়ে গণ্ডগোলের পাঁয়তারা করছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স হলে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি।
গভর্নর বলেন, কিছু লোক টাকার বিনিময়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক নিয়ে উসকানিমূলক অপপ্রচার চালাচ্ছে, গুজব ছড়াচ্ছে; এটি বেশিদিন চলবে না। ১ জানুয়ারি থেকেই ব্যাংকের সব লেনদেন খুলে দেওয়া হয়েছে, আমানতে সর্বোচ্চ ৯.৫ শতাংশ সুদ দেওয়া হচ্ছে। একবারে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত উত্তোলন করা যাচ্ছে।
আমানতের বিপরীতে ঋণ নেওয়ারও সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মুনাফাও উত্তোলন করা যাবে। যে রেজ্যুলেশনে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠিত, তা রাতারাতি করা সম্ভব নয়। শরিয়াহ্ কাউন্সিলের পরামর্শ অনুযায়ী, বিগত দুই বছরে ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা ক্ষতি হওয়ায় কিছু ক্ষেত্রে মুনাফা দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে, সরকারের পক্ষ থেকে গ্রাহকের দুরঅবস্থা বিবেচনা করে ৪ শতাংশ সুদ দেওয়া হচ্ছে।
ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, ৫টি ব্যাংকের লোকসানের পরও এই ৪ শতাংশ মুনাফা দেওয়া হচ্ছে সরকারের অনুদানের মাধ্যমে, যেখানে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত খরচ হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর আরও বলেন, ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের (এনবিএফআই) ক্ষেত্রে শুধু জমা করা নগদ টাকা দেওয়া হচ্ছে। সেখানে ব্যাংকগুলোর আমানতকারীদের সর্বোচ্চ সুবিধা দেওয়া হয়েছে। ইসলামী আইন মুনাফার আকারে নয়, অনুদানের আকারে, যা সরকারের বাড়তি খরচ।
ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, পাঁচ ব্যাংকের এই অবস্থার জন্য দায়ভার সবারই আছে। শুধু সরকার কেন সব দায় নিবে? সরকার বরং প্রত্যাশার তুলনায় বেশি সহায়তা দিয়েছে।
এমকে
অর্থনীতি
দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দামে সোনা, ভরি ২ লাখ ৮৬ হাজার
দেশের বাজারে আবারও সোনার দাম বাড়ানো হয়েছে। এবার ভরিতে এক লাফে ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৮৬ হাজার ১ টাকা। যা দেশের ইতিহাসে সোনার সর্বোচ্চ দাম।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। আজ সকাল ১০ টা ১৫ মিনিট থেকেই নতুন এ দাম কার্যকর হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। সকাল ১০টা ১৫ মিনিট থেকেই নতুন এই দাম কার্যকর হয়েছে।
নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম পড়বে ২ লাখ ৮৬ হাজার ১ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৭২ হাজার ৯৯৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৩৩ হাজার ৯৮০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৯৩ হাজার ৩৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে, বুধবার (২৮ জানুয়ারি) ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম বাড়ানো হয় ৭ হাজার ৩৪৮ টাকা। এতে এক ভরি সোনার দাম হয় ২ লাখ ৬৯ হাজার ৭৮৮ টাকা। এই রেকর্ড দাম নির্ধারণের পর এখন আবার দাম বাড়ানো হলো। এতে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে সোনার সর্বোচ্চ দামের নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হলো।
সবমিলিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে এ পর্যন্ত মোট ১৬ বার সোনার দাম সমন্বয় করল বাজুস। যেখানে ১৩ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ৩ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। এরমধ্যে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এ ছাড়া ২০২৫ সালে মোট ২৯ বার কমানো হয়েছিল সোনার দাম।
এমকে



