রাজনীতি
ওসমান হাদির ওপর হামলা বৃহৎ চক্রান্তের ক্ষুদ্র অংশ: মির্জা আব্বাস
নির্বাচনের আগে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদির ওপর হামলাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখছে না বিএনপি। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, এটি বৃহৎ এক চক্রান্তের ক্ষুদ্র অংশ।
আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক বিক্ষোভ সমাবেশে এ কথা বলেন মির্জা আব্বাস। চট্টগ্রাম-৮ আসনে বিএনপির প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর ওপর এবং ঢাকায় ওসমান হাদির ওপর গুলিবর্ষণে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিএনপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখা এই সমাবেশের আয়োজন করে।
১২ ফেব্রুয়ারি ভোট গ্রহণের দিন ঠিক করে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল নির্বাচন কমিশন ঘোষণার পরদিন শনিবার ঢাকার সড়কে প্রকাশ্যে ওসমান হাদিকে গুলি করা হয়। তিনি ঢাকা-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে প্রচার চালাচ্ছিলেন। মাথায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তিনি এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এর আগে গত ৫ নভেম্বর চট্টগ্রামে গণসংযোগের সময় গুলি করা হয় চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও-বোয়ালখালী) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এরশাদ উল্লাহকে।
প্রতিবাদ সমাবেশে মির্জা আব্বাস বলেন, এটা বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। এর আগে চট্টগ্রামে এরশাদ উল্লাহর ওপর আক্রমণ করা হয়েছিল। এবার হাদির ওপর আক্রমণ করা হয়েছে। এটা বৃহৎ চক্রান্তের ক্ষুদ্র একটি অংশ। সামনে আরও চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র প্রকাশ পাবে।
ওসমান হাদিকে গুলি করার মাধ্যমে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার, সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতার ওপর আঘাত হানা হয়েছে মন্তব্য করে মির্জা আব্বাস বলেন, এটাকে প্রতিরোধ করতে হবে। এই অপশক্তির কালো হাত ভেঙে দিতে হবে। তাদের দাঁতভাঙা জবাব দিতে হবে। যাঁরা ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছেন, তাঁরা সাবধান হয়ে যান।
হাদির ওপর গুলির ঘটনা পূর্বপরিকল্পিত দাবি করে মির্জা আব্বাস বলেন, সোয়া দুইটায় হাদির ওপরে গুলি চালানো হয়। আড়াইটার সময় ফেসবুকে একটি পোস্ট আসে। সেখানে যে যেখানে আছে, ঐক্যবদ্ধ হতে বলা হয়। এটা ছিল পরিকল্পিত।
ওসমান হাদি যে আসনে প্রার্থী হতে চাইছেন, সেই আসনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাস। গতকাল গুলিবিদ্ধ ওসমান হাদিকে দেখতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে তোপের মুখে পড়েছিলেন মির্জা আব্বাস। তাঁর উদ্দেশে আক্রমণাত্মক স্লোগান দেওয়া হয়েছিল।
সেই প্রসঙ্গ তুলে সমাবেশে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আমি ভাই ঢাকার ছেলে। আমি ঢাকার রাজপথে মিছিল করে বড় হয়েছি। আমি ঢাকার রাজপথে আন্দোলন করে বড় হয়েছি। আমার বয়সটা একটু বেশি হয়ে গেছে। শান্ত থেকেছি, নীরব থেকেছি। কিন্তু ওই মুহূর্তে যদি আমার নির্দেশনা পেত, তাহলে তোমাদের তুলাধোনা করতে আমাদের ছেলেরা দেরি করত না।’
যারা আক্রমণাত্মক স্লোগান দিয়েছিল, তাদের কেউ ওসমান হাদির সমর্থক নয় দাবি করে মির্জা আব্বাস বলেন, এরা বিশেষ একটি রাজনৈতিক দলের অঙ্গসংগঠনের নেতা ছিল। যারা সেখানে মব সৃষ্টি করেছিল, তারা চেয়েছিল হাদি ওখানেই মারা যাক।
সমাবেশে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ওসমান হাদি সব সময় দেশের শত্রুদের বিরুদ্ধে কথা বলতেন। তিনি ঢাকা-৮ আসনে প্রার্থী হয়েছেন। তবে কখনো মির্জা আব্বাস তাঁকে বিরক্ত করছেন, এমন কথা বলেননি।
ডাকসুর ভিপি, ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা সাদিক কায়েমের উদ্দেশে রাকসুর একসময়ের ভিপি রুহুল কবির বলেন, ‘আপনি এক-দেড় ঘণ্টার মধ্যে (হাদিকে গুলি করার) ফেসবুকে দিয়ে দিলেন। তার মানে কি ঠাকুর ঘরে কে রে, আমি কলা খাইনির মতো অবস্থা না? আপনি ঘোড়ার আগেই গাড়ি জুড়িয়ে দিলেন।’
হাদির ওপর হামলা সুপরিকল্পিত দাবি করে রুহুল কবির বলেন, ‘সন্তানের বয়সী একজন ছেলেকে মির্জা আব্বাস আঘাত করবেন, এটা অকল্পনীয়। তিনি হঠাৎ করে রাজনীতিবিদ হননি। তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ৫০ বছরের। হাদির ওপর হামলা এটা সুপরিকল্পিত। এই ঘটনায় যাকে শনাক্ত করা হয়েছে, সে ছাত্রলীগের নেতা। একই সঙ্গে ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েমের সঙ্গে একই টেবিলে বসে চা খাচ্ছে। এই পরিকল্পিত নকশা করেছে সংগঠনটি।’
ঢাকা দক্ষিণ বিএনপির সদস্যসচিব ও ঢাকা-৪ আসনে দলের প্রার্থী তানভীর হোসেন রবিনের সভাপতিত্বে এবং দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক লিটন মাহমুদের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আবদুস সালাম, স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী, যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না প্রমুখ। আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ঢাকা-৬ আসনের প্রার্থী ইশরাক হোসেন, ঢাকা-১০ আসনের প্রার্থী শেখ রবিউল আলম, ঢাকা-৯ আসনের প্রার্থী হাবিবুর রশীদ প্রমুখ।
সমাবেশ শেষে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি নাইটিঙ্গেল মোড় হয়ে আবার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
রাজনীতি
জাপানের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে প্রবাসীদের আহ্বান
জাপানের সঙ্গে সুসম্পর্ক আরও জোরদার এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে প্রবাসীদের ভূমিকা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, প্রবাসীদের দায়িত্বশীল আচরণ ও নৈতিকতার মাধ্যমেই বিদেশে দেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে তোলা সম্ভব।
জাপানে বসবাসরত প্রবাসী মুসলিমদের নৈতিক ও চারিত্রিক মানোন্নয়ন এবং স্থানীয় সমাজে ইসলামের আদর্শ তুলে ধরার লক্ষ্য নিয়ে ইসলামিক মিশন জাপান (আইএমজে) আয়োজিত কেন্দ্রীয় সদস্য সম্মেলন ও শিক্ষা শিবির ২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সাইতামা প্রিফেকচারের কশিগায়া শহরের গামো হলে দিনব্যাপী এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। এই আয়োজনটি ছিল প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ মিলনমেলা ও দিকনির্দেশনামূলক প্ল্যাটফর্ম।
সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এবং পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ও সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইসলামিক মিশন জাপানের কেন্দ্রীয় সভাপতি হাফেজ মাওলানা ছাবের আহমদ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করা হয়। প্রথম অধিবেশনে দারসুল কুরআন পেশ করেন ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান। তিনি সূরা মায়েদাহ’র ৫৪ থেকে ৫৬ নম্বর আয়াতের আলোকে বলেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ভালোবাসা, মুমিনদের প্রতি ভ্রাতৃত্ববোধ এবং সত্যের পথে অবিচল থাকা একজন প্রকৃত মুমিনের বৈশিষ্ট্য। তিনি আরও বলেন, নিন্দা-সমালোচনাকে উপেক্ষা করে ন্যায় ও সত্য প্রতিষ্ঠায় অটল থাকাই ঈমানদারের অন্যতম বৈশিষ্ট্য, যা অর্জনের মধ্য দিয়েই আল্লাহর সন্তুষ্টি ও চূড়ান্ত সফলতা লাভ সম্ভব।
সম্মেলনে সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে ২০২৬-২০২৮ সেশনের জন্য আইএমজে নতুন কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন হাফেজ সাবের আহমদ। এছাড়া পরামর্শ সভার সদস্য হিসেবে ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল্লাহ আল মারুফ, মাজেদুল ইসলাম, নিয়ামত উল্লাহ, আবদুল মালেক, এটিএম মিছবাহুল কবির, মীর আলি আহকাম লিখন, সারোয়ার আলম সিদ্দিকী এবং ড. শাহরিয়ার কামাল নির্বাচিত হন।
এই অধিবেশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল নতুন সদস্যদের অন্তর্ভুক্তি। অধিবেশনে ১৩ জন নতুন সদস্য শপথ গ্রহণের মাধ্যমে সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হন, যা সংগঠনের কার্যক্রমে নতুন গতি সঞ্চার করবে বলে আয়োজকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিশেষ অতিথি সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে মুসলিম উম্মাহ বিভক্তির বাস্তবতা তুলে ধরে ঐক্যের অপরিহার্যতার ওপর জোর দেন। পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহমর্মিতার মাধ্যমে একটি শক্তিশালী সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
তিনি বলেন, বিভাজন ও মতপার্থক্য ভুলে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহমর্মিতার মাধ্যমে একটি শক্তিশালী সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। “ইটের গাঁথুনির মতো দৃঢ় ঐক্যই আমাদের শক্তি”—এ কথা উল্লেখ করে তিনি জাপানে বসবাসরত বিভিন্ন পেশা ও স্তরের বাংলাদেশিদের একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার আহ্বান জানান। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, ভাষাশিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথা তিনি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জাপানের মতো উন্নত দেশে ইসলামের সৌন্দর্য তুলে ধরার সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম হলো ব্যক্তিগত আচরণ ও চরিত্র। আমাদের প্রতিটি কাজ, প্রতিটি ব্যবহার যেন ইসলামের প্রতিনিধিত্ব করে—এমন মানসিকতা ধারণ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, জাপান বাংলাদেশের একটি অকৃত্রিম বন্ধু রাষ্ট্র। স্বাধীনতার পর থেকেই দেশটি বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। প্রবাসীদের সততা, শৃঙ্খলা ও দায়িত্বশীলতা দুই দেশের সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করা সম্ভব।
সমসাময়িক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, “সাম্প্রতিক ছাত্র-গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। এই পরিবর্তনের ধারাকে টেকসই ও সফল করতে দেশের ভেতরের পাশাপাশি প্রবাসীদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। প্রবাসীদের অর্জিত জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও সম্পদ দেশের উন্নয়নে কাজে লাগাতে হবে।
জাপানের বিভিন্ন প্রদেশ থেকে আগত সদস্য-সদস্যদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে সম্মেলনটি এক প্রাণবন্ত ও কার্যকর সমাবেশে পরিণত হয়। সম্মেলনে সংগঠনের বার্ষিক কার্যক্রম পর্যালোচনা, ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা, সাংগঠনিক সম্প্রসারণ এবং প্রবাসী কমিউনিটির কল্যাণে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সম্মেলনের শেষপর্বে কেন্দ্রীয় সভাপতি ও পরামর্শ সভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে আগামী দুই বছরের জন্য পুনরায় কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন হাফেজ মাওলানা ছাবের আহমদ। পরামর্শ সভার নবনির্বাচিত সদস্যরা শপথ গ্রহণের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।
নির্বাচিত হওয়ার পর সভাপতির বক্তব্যে ছাবের আহমদ বলেন, “আমাদের দায়িত্ব শুধু সংগঠনের গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং জাপানে বসবাসরত সমগ্র প্রবাসী বাংলাদেশি সমাজের কল্যাণে কাজ করা। ইসলামের সুমহান বার্তা সর্বস্তরে পৌঁছে দিতে এবং মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সক্রিয় হতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, প্রবাসীদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, সংকটে এগিয়ে আসার মানসিকতা এবং সামাজিক দায়িত্ববোধ গড়ে তোলার মাধ্যমে একটি আদর্শ কমিউনিটি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
দিনব্যাপী এই আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে এক আবেগঘন পরিবেশে। দেশ, জাতি এবং বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি, অগ্রগতি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। সভাপতির সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক পরিসমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
রাজনীতি
ক্ষমতার অজুহাতে বিএনপি সংস্কার চায় না: আখতার হোসেন
ক্ষমতার বাহানায় বিএনপি সংস্কার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে চায় না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক সংস্কার ও ঐকমত্যের মাধ্যমে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নে দলটির অবস্থান প্রশ্নবিদ্ধ।
রোববার (৩ মে) সকালে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে এনসিপির সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির আয়োজিত জ্বালানি, অর্থনীতি সংস্কার ও গণভোট বিষয়ে জাতীয় কনভেনশনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেছেন, বিএনপি ক্ষমতাকে নিরঙ্কুশভাবে উপভোগ করতে চায়। কিন্তু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিত্বের ওপর যে দায়িত্ব অর্পিত হয়, সেটাকে ক্ষমতার দৃষ্টিতে দেখার যে মানসিকতা, সেখান থেকে তারা এখনো বের হতে পারেননি।
আখতার হোসেন বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন ‘সংস্কারের বাহানায় যদি নির্বাচনটা হতে দেওয়া না হয়, সে কারণে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছেন।’ তারা বারবার নোট অব ডিসেন্টের কথা বলছেন। ঐকমত্য কমিশনে যখন আমরা আলাপ করেছিলাম, তখন নোট অব ডিসেন্টের অর্থ এই ছিল যে, আমরা মূল সিদ্ধান্তকে মেনে নিলাম, যার একটা ভিন্ন মত রয়েছে। তিনি সে ভিন্ন মতটা উল্লেখ করে রাখলেন। নোট অব ডিসেন্টটা এখানে মুখ্য বিষয় নয়। এখানে মূল যে সিদ্ধান্ত, রাজনৈতিক দলগুলো এবং ঐকমত্য কমিশন উপনীত হয়েছে সেটাই এখানে কার্যকর হবে।
তিনি আরও বলেন, গণভোট হয়ে যাওয়ার পরে বিএনপি কোন বিষয়ে রাজি বা কোন বিষয়ে নারাজি সেটার মুখ্য বিষয় হতে পারে না। সেই গণভোটের বিষয়গুলোর দিকে একটু তাকিয়ে দেখি। তারা বলছেন, যে চারটা কোশ্চেনের মধ্যে সাড়ে তিনটা কোশ্চেনে তাদের আপত্তি নাই। আধাটা কোশ্চেনে তাদের আপত্তি। আমরা আসলে ক্লিয়ার হতে চাই যে, গণভোটের কোন আধাটার বিষয়ে আপনাদের আপত্তি ছিল। কারণ গণভোটের প্রশ্নগুলোতে খুবই স্পষ্ট করে বলা ছিল যে, একটা উচ্চকক্ষ হবে ভোটের পিআর অনুযায়ী। তত্ত্বাবধায়ক সরকার হবে নতুন একটা ফর্মুলা অনুযায়ী, আর সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়োগ হবে একটা নিরপেক্ষ ভোটিংয়ের মধ্য দিয়ে, যে বিষয়গুলোতে আমরা সবাই একমত হয়েছিলাম।
এনসিপির এই সদস্য সচিব বলেন, ক্ষমতায় আসার আগে নির্বাচনের সময়টাতে আপনারা (বিএনপি) গণভোটে ‘হ্যাঁ’য়ের কথা বলেছিলেন। কারণ আপনারা জানতেন যে, তখন গণভোটে যদি আপনারা ‘না’য়ের পক্ষে অবস্থান নিতেন। জনগণও আপনাদের বিপক্ষে চলে যেত। সে জনগণ তো ভোটের পরে তারা নিষ্ক্রিয় হয়ে গেছে, ব্যাপারটা এমন না। শুধুমাত্র নির্বাচনের মধ্য দিয়েই বা পাঁচ বছর অপেক্ষা করেই তারপরে অনেক কিছু হবে, বিষয়টা তো এমনও না। বাংলাদেশের জনগণ তারা এই জিনিসগুলো দেখভাল করছে, তারা খেয়াল রাখছে এবং তারা সবাই প্রত্যাশা করছে।
বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে এনসিপির সদস্য সচিব বলেন, এখন আমরা শুধু এতটুকুই বলবো, সামনের দিনে আমরা দেখতে চাই, আপনারা আসলে কত ভালো আইন আপনারা নিয়ে আসেন। আমরা সেটা দেখার অপেক্ষায় থাকব। সেটা শুধু আমরা না, বাংলাদেশে আমজনতা সেটা দেখার অপেক্ষায় আছে।
এমএন
রাজনীতি
শাপলা চত্বরে শহীদদের স্মরণে দেশব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা ছাত্র জমিয়তের
২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে আয়োজিত হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হামলায় শহীদদের মাগফিরাত কামনায় দেশব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ।
কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী ৫ মে (মঙ্গলবার) সারা দেশের সব শাখায় আলোচনাসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।
ছাত্র জমিয়তের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক জুবায়ের হোসেন এক বিবৃতিতে বলেন, শাপলা চত্বরের শহীদদের স্মরণে এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় এই কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। দেশের সব শাখাকে যথাযথ মর্যাদায় কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সব ইউনিটকে কর্মসূচি সফল করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
রাজধানী
টিএসসিতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল, আটক ২
টিএসসিতে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ঝটিকা মিছিল করেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ। এ সময় একটি মাইক্রোবাসসহ দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (২ মে) সকাল ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
আটকরা হলেন- ফারহান তানভীর নাসিফ (১৯-২০ সেশন, এফ রহমান হল) এবং মাইক্রোবাসের চালক রুবেল।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল হঠাৎ করে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে জড়ো হয়ে মিছিল ও ব্যানার প্রদর্শন করে। পরে তারা দ্রুত একটি কালো হাইএস মাইক্রোবাসে উঠে স্থান ত্যাগ করে। এ সময় ঘটনাস্থলে থাকা আরেকটি হাইএস গাড়ির ড্রাইভার এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে আটক করে পুলিশ।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মাসুদ আলম বলেন, রাজু ভাস্কর্য এলাকায় ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের সময় দুজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
রাজনীতি
এনসিপির নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা
সংরক্ষিত নারী আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
শনিবার (২ মে) দলটির যুগ্ম সদস্য সচিব ও দপ্তর সেলের সম্পাদক সালেহ উদ্দিন সিফাত এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, সংরক্ষিত নারী আসনে এনসিপি থেকে নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছেন চিফ রিটার্নিং কর্মকর্তা। কিছুক্ষণের মধ্যে দাপ্তরিক কার্যক্রম শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করবেন বলে আমাদের জানিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।
জাতীয় নাগরিক পার্টির পক্ষ থেকে আমরা নির্বাচন কমিশনের মিডিয়া সেন্টারে কিছুক্ষণের মধ্যে ব্রিফ করবো।




