আন্তর্জাতিক
নোবেলজয়ী নার্গিস মোহাম্মদিকে গ্রেফতার করেছে ইরান
২০২৩ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী নার্গিস মোহাম্মদিকে অন্তত আরও আটজন অধিকারকর্মীর সঙ্গে আটক করেছে ইরানি নিরাপত্তা বাহিনী। নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি এই গ্রেফতারকে নৃশংস বলে নিন্দা জানিয়েছে।
ডিসেম্বর ২০২৪ সালে কারাগার থেকে সাময়িক মুক্তি পাওয়া মোহাম্মদিকে পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে আইনজীবী খোসরো আলিকোরদির স্মরণানুষ্ঠানে আরও আটজন কর্মীর সঙ্গে আটক করা হয়। আলিকোরদিকে গত সপ্তাহে তার অফিসে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়—এ তথ্য জানিয়েছে মোহাম্মদির ফাউন্ডেশন।
অনুষ্ঠানে আটক হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন মোহাম্মদির সহকর্মী ও বিশিষ্ট অধিকারকর্মী সেপিদেহ ঘোলিয়ান, যিনি আগে তেহরানের এভিন কারাগারে তার সঙ্গে বন্দি ছিলেন।
ফাউন্ডেশনটি জানায়, এই ব্যক্তিরা শুধু শ্রদ্ধা জানানো এবং সংহতি প্রকাশের জন্য স্মরণানুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এই গ্রেফতারগুলো মৌলিক স্বাধীনতা ও মানবাধিকারের গুরুতর ও স্পষ্ট লঙ্ঘন।
নার্গিসকে পায়ে আঘাত করা হয়েছে এবং তার চুল ধরে টেনে নামানো হয়েছে,”
নরওয়েতে বসবাসরত তার ভাই হামিদ মোহাম্মদি ওসলো থেকে বলেন, নার্গিসকে পায়ে আঘাত করা হয়েছে এবং তার চুল ধরে টেনে নামানো হয়েছে।
নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি মোহাম্মদির নৃশংস গ্রেফতার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং ইরানকে তার অবস্থান অবিলম্বে স্পষ্ট করার আহ্বান জানায়।
এই গ্রেফতারটি আসে ওসলোতে ২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ীর অনুষ্ঠানের দুই দিন পর। এবারের বিজয়ী ছিলেন ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো—ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর কট্টর সমালোচক।
এমকে
আন্তর্জাতিক
ফিলিপাইনে মায়োন আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, ক্ষতিগ্রস্ত লাখো মানুষ
ফিলিপাইনের মায়োন আগ্নেয়গিরি থেকে সাম্প্রতিক অগ্ন্যুৎপাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে অন্তত এক লাখ ২০ হাজারের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
দেশটির সিভিল ডিফেন্স অফিস জানিয়েছে, অগ্ন্যুৎপাতের সময় ছাই, পাথর ও উত্তপ্ত পদার্থ প্রায় এক কিলোমিটার উচ্চতায় উঠে পরে পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নিচে নেমে আসে। এতে আশপাশের ৮৭টি গ্রামের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন।
ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ১,৪৩৮টি পরিবার বর্তমানে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছে। এছাড়া আরও ২৬টি পরিবারকে আশ্রয়কেন্দ্রের বাইরে থেকেই সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। অগ্ন্যুৎপাতের ফলে একটি শহর ও দুটি ছোট শহর ঘন ছাইয়ে ঢেকে গেছে, যা স্থানীয়দের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করেছে।
গত জানুয়ারির পর সবচেয়ে তীব্র এই অগ্ন্যুৎপাতটি ঘটে শনিবার, যা প্রায় এক ঘণ্টা স্থায়ী হয়। এ সময় বিপুল পরিমাণ ছাই ও পাথর ছড়িয়ে পড়ে এবং বাড়ির ছাদ, সড়ক ও যানবাহন প্রায় তিন ইঞ্চি পুরু ছাইয়ের স্তরে ঢেকে যায়। ইতোমধ্যে স্থানীয় বাসিন্দা ও সরকারি সংস্থাগুলো সম্মিলিতভাবে পরিষ্কার কার্যক্রম শুরু করেছে।
ঘটনার দুই দিন পর ধীরে ধীরে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। তবে আগ্নেয়গিরির ছয় কিলোমিটার ব্যাসার্ধের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় এখনো মানুষের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে প্রশাসন।
আন্তর্জাতিক
চীনের আতশবাজি কারখানায় বিস্ফোরণে নিহত ২১, আহত ৬১
চীনের হুনান প্রদেশে একটি আতশবাজি উৎপাদন কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাতে জানা গেছে, এ ঘটনায় অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ৬১ জন।
সোমবার (৪ মে) সন্ধ্যার পর লিউইয়াং শহরে অবস্থিত ওই কারখানায় হঠাৎ করেই শক্তিশালী বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। মুহূর্তের মধ্যেই পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে এবং আগুন ছড়িয়ে পড়ে আশপাশে।
দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান শুরু করেন। ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে কারখানার তিন কিলোমিটার এলাকার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। আহতদের চিকিৎসায় বিপুল সংখ্যক চিকিৎসক ও উদ্ধারকর্মী কাজ করছেন।
অভ্যন্তরে আটকে পড়া কর্মীদের খুঁজে বের করতে আধুনিক প্রযুক্তি ও রোবট ব্যবহার করে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুরো এলাকা ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
চীনা প্রশাসন জানিয়েছে, বিস্ফোরণের কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং দায়িত্বে অবহেলার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কারখানা ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনাস্থলে থাকা বারুদের মজুত পরিস্থিতি উদ্ধারকাজকে আরও জটিল করে তুলেছে।
এদিকে দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং দ্রুত উদ্ধার অভিযান সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং ঘটনার জন্য দায়ীদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, চীনের লিউইয়াং শহর বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ আতশবাজি উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। দেশটিতে এ ধরনের কারখানায় দুর্ঘটনার ঘটনা আগেও একাধিকবার ঘটেছে।
আন্তর্জাতিক
হরমুজে মার্কিন হামলায় ৫ বেসামরিক নিহতের দাবি ইরানের
হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন বাহিনীর হামলায় পাঁচ বেসামরিক নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। সোমবারের ওই অভিযানে লক্ষ্যবস্তু করা নৌযানগুলো সামরিক নয়, বরং পণ্য ও যাত্রীবাহী বেসামরিক জাহাজ ছিল বলে জানানো হয়েছে।
ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে এক সামরিক কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের দাবির পর ইরানি কর্তৃপক্ষ তদন্ত চালিয়ে দেখেছে, ওমান উপকূলের খাসাব এলাকা থেকে ইরানের দিকে আসা দুটি ছোট পণ্যবাহী নৌকায় গুলি চালানো হয়।
তার দাবি, এসব নৌযানের সঙ্গে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) কোনো সম্পর্ক ছিল না এবং এতে পাঁচজন নিহত হন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড সেন্টকম জানিয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে হুমকি তৈরি করা ইরানি স্পিডবোট ধ্বংস করতে সি হক ও অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হয়। তাদের দাবি, ছয়টি ইরানি দ্রুতগতির নৌযানকে লক্ষ্য করে এই অভিযান চালানো হয়।
মার্কিন পক্ষ বলছে, হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল স্বাভাবিক করতে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক
হরমুজে মার্কিন বাহিনী ঢোকার চেষ্টা করলে হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের
হরমুজ প্রণালী ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইরান। দেশটি কঠোরভাবে সতর্ক করে জানিয়েছে, মার্কিন সামরিক বাহিনী এ জলপথে প্রবেশের চেষ্টা করলে তাদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হবে।
সোমবার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান দাবি করেছে যে হরমুজ প্রণালী-এর নিরাপত্তা সম্পূর্ণভাবে তাদের সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ কারণে এ অঞ্চলে যেকোনো নৌ চলাচল বা নিরাপত্তা কার্যক্রমে তাদের অনুমতি ও সমন্বয় বাধ্যতামূলক।
ইরানের সামরিক বাহিনী আরও জানিয়েছে, তারা সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকারগুলোকেও সতর্ক করে বলা হয়েছে, ইরানের নিয়োজিত সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় ছাড়া যেন তারা এ পথে যাতায়াত না করে, যাতে অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি এড়ানো যায়।
বিবৃতিতে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়, কোনো বিদেশি সশস্ত্র বাহিনী-বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা-যদি হরমুজ প্রণালীর দিকে অগ্রসর হয় বা প্রবেশের চেষ্টা করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি হামলা চালানো হবে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, চলমান উত্তেজনার কারণে যেসব নিরপেক্ষ দেশের জাহাজ হরমুজ প্রণালীতে আটকে পড়েছে, সেগুলোকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে যুক্তরাষ্ট্র কাজ করছে। এই উদ্যোগকে তিনি ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে অভিহিত করেছেন।
আন্তর্জাতিক
মমতার গাড়ি দেখেই ‘চোর-চোর’ স্লোগান, জমায়েত স্থলে ভাঙচুর
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ভোট গণনাকেন্দ্রে পৌঁছানোর সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়ি লক্ষ্য করে ‘চোর-চোর’ স্লোগান দেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা; এ সময় উত্তেজনার মধ্যে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। সোমবার (৪ মে) স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় গণমাধ্যম জানায়, মমতার আগমনের আগেই সেখানে বিজেপি কর্মীদের জটলা ছিল এবং এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে তার গাড়ি গণনাকেন্দ্রে পৌঁছালে ‘চোর-চোর’ ও ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দিতে শুরু করেন বিজেপি সমর্থকরা।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাখাওয়াত মেমোরিয়ালে পৌঁছোনোর কিছু আগেই ওই কেন্দ্রের অদূরে একটি পাম্পে বসেছিলেন তৃণমূলের কর্মীরা। তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সীও সেখানে ছিলেন।
পরে জানা যায়, পুলিশ তৃণমূল কর্মীদের সেখান থেকে উঠে যেতে বলে। যদিও ওই সময়ে তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সেখানে ছিলেন কি না, তা স্পষ্ট নয়। এর কিছু পরেই এজেসি বোস রোড ধরে এগিয়ে আসা বিজেপি সমর্থকদের সঙ্গে তর্কাতর্কি শুরু হয় পুলিশের। পরে বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা তৃণমূলের জমায়েতস্থলে পৌঁছে যায়। তৃণমূল কর্মীদের পেতে রাখা চেয়ার ভাঙচুরেরও অভিযোগ ওঠে তাদের বিরুদ্ধে।
উত্তেজনা বৃদ্ধি পেতেই সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে ভোট গণনা কেন্দ্রের চত্বরে নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা হয়। বাড়ানো হয় কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানের সংখ্যাও। এর মধ্যেই বিজেপি সমর্থকরা মমতার বিরুদ্ধে ‘চোর-চোর’ স্লোগান তুলতে থাকেন। ওঠে ‘গো ব্যাক’ স্লোগানও।
গণনা কেন্দ্রের কাছে মোতায়েন পুলিশকর্মী এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা ওই বিজেপি সমর্থকদের সামাল দেয়ার চেষ্টা করেন। তারা বিজেপির সমর্থকদের সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলচত্বর থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে যান।
ভবানীপুর আসনে মোট ২০ রাউন্ড গণনা রয়েছে। এই প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত ২০টির মধ্যে ১২টি রাউন্ডের ফল ঘোষণা হয়েছে। গণনাপর্বে সকাল থেকে দৃশ্যত হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে ভবানীপুরে। প্রথম দিকে কখনও মমতা, কখনও শুভেন্দু এগিয়ে ছিলেন। তার পরের বেশ কয়েকটি রাউন্ডে এগিয়ে যান মমতা। আবার কিছু রাউন্ডে ব্যবধান কমাতে শুরু করেন শুভেন্দুও।
সূত্র: আনন্দবাজার




