জাতীয়
‘অপমানবোধ’ করছেন, ভোটের পরে সরে যেতে চান রাষ্ট্রপতি: রয়টার্স
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু বলেছেন, আগামী ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের পর নিজের সরে যেতে চান তিনি। অর্থাৎ, মেয়াদের অর্ধেক বাকি থাকলেও করবেন পদত্যাগ।
আজ বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) তিনি একথা জানিয়েছেন বলে বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারে তিনি তিনি ‘অপমানবোধ’ করছেন।
রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিন বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়কের দায়িত্বে থাকলেও, এর বাইরে রাষ্ট্রে তাঁর পদটি মূলত আনুষ্ঠানিক। দেশের কার্যনির্বাহী ক্ষমতা থাকে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার হাতে।
তবে ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্রদের নেতৃত্বে গণঅভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিল্লিতে পালিয়ে যেতে বাধ্য হলে এ পরিস্থিতি পাল্টে যায়, এবং রাষ্ট্রপতি পদ নতুন করে গুরুত্ব পায় বলে জানায় রয়টার্স। সংসদ ভেঙে দেওয়ার পর সাহাবুদ্দিনই ছিলেন দেশের শেষ সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষ।
৭৫ বছর বয়সী সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় পাঁচ বছরের জন্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। তবে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আ. লীগের অংশগ্রহণে বিধিনিষেধ দেওয়া হয়েছে।
বঙ্গভবন থেকে হোয়াটসঅ্যাপে রয়টার্সকে এ সাক্ষাৎকার দেন তিনি। এসময় তিনি বলেন, আমি বিদায় নিতে আগ্রহী। আমি এখান থেকে চলে যেতে চাই। নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত আমাকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব রয়েছে বলেই আমি এ অবস্থানে আছি।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছাড়ার পর রাষ্ট্রপতির অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। সংসদ ভেঙে দেওয়ার পর তিনিই ছিলেন দেশের শেষ সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষ।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় পাঁচ বছরের জন্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন।
জাতীয়
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু আজ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ)। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বেলা ১১টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। রাষ্ট্রপতির এই ভাষণ মন্ত্রিসভা অনুমোদন করবে এবং পরে সংসদ সদস্যরা তা নিয়ে আলোচনা করবেন।
এটি ২০২৬ সালেরও প্রথম অধিবেশন। সংসদীয় রীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রাষ্ট্রপতি প্রতি বছর সংসদের প্রথম অধিবেশনে ভাষণ দেন।
এর আগে, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৭২(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করেন।
অধিবেশন শুরুর আগে সংসদের কার্যপ্রণালী নির্ধারণের জন্য সংসদীয় কার্য উপদেষ্টা কমিটির একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে, যেখানে অধিবেশনের সময়কাল ও এজেন্ডা নির্ধারণ করা হবে।
প্রথম বৈঠকে সরকারি দলের (ট্রেজারি বেঞ্চ) প্রধান কাজ হবে সরকার যেসব অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করতে চায় সেগুলো সংসদের সামনে উপস্থাপন করা।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাদের ১৮ মাসের মেয়াদকালে মোট ১৩০টি অধ্যাদেশ জারি বা সংশোধন করেছে।
সংবিধান অনুযায়ী, সংসদ নির্বাচনের ফলের গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতিকে নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করতে হয়।
প্রধানমন্ত্রীর লিখিত পরামর্শ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি এ অধিবেশন আহ্বান করেন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হয়।
১৩তম জাতীয় সংসদে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এরইমধ্যে সংসদ নেতা নির্বাচিত হয়েছেন। আর বিরোধী দলের নেতা নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
দ্বাদশ সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করায় প্রথম অধিবেশনে একজন জ্যেষ্ঠ বিএনপি নেতা সভাপতিত্ব করবেন বলে সংসদ সচিবালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
সংসদের প্রথম বৈঠক শুরু হওয়ার পরপরই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হবেন এবং রাষ্ট্রপতি তাদের শপথ পাঠ করাবেন।
তাদের নির্বাচনের পর শপথগ্রহণের জন্য অধিবেশন ১৫ থেকে ২০ মিনিটের জন্য মুলতবি করা হতে পারে।
এরপর নবনির্বাচিত স্পিকার অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন।
প্রথম বৈঠকেই নতুন সংসদের কার্যউপদেষ্টা কমিটি গঠন করা হবে, যার প্রধান থাকবেন নতুন স্পিকার।
এই কমিটিই উদ্বোধনী অধিবেশনের মেয়াদ এবং সংসদের অন্যান্য কার্যসূচি নির্ধারণ করবেন।
এ অধিবেশনেই বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলো গঠন করা হতে পারে।
প্রথম বৈঠকে সংসদে শোক প্রস্তাবও গৃহীত হবে।
বর্তমান সংসদ গঠিত হয়েছে গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে। এতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ২১২টি আসনে জয়লাভ করে, যার মধ্যে বিএনপি একাই পেয়েছে ২০৯টি আসন।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৭৬টি আসন, যার মধ্যে জামায়াতে ইসলামী একাই পেয়েছে ৬৮টি আসন।
এমএন
জাতীয়
এমপিদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর বার্তা, প্রতি শনিবার পরিচ্ছন্নতা অভিযানের নির্দেশ
ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া থেকে রক্ষা পেতে সবাইকে বাসাবাড়ি এবং আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারের পক্ষ থেকেও আগামী ১৪ মার্চ (শনিবার) থেকে প্রতি সপ্তাহে সারা দেশে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হবে বলে জানান তিনি।
বুধবার (১১ মার্চ) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।
জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতি সপ্তাহের শনিবার এমপিসহ জনপ্রতিনিধিদের এলাকার নিজ নিজ বসতবাড়ি এবং আশপাশের এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করার নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ডেঙ্গু কিংবা চিকুনগুনিয়ার মতো মরণঘাতী রোগ জনগণের প্রাণহানির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ আমরা সবাই সচেতন হলে ডেঙ্গু কিংবা চিকুনগুনিয়া থেকে নিজেদের রক্ষা করা সম্ভব। বিশেষজ্ঞগণ বলছেন, এডিস মশার কামড় থেকে মানুষ ডেঙ্গু কিংবা চিকনগুনিয়ায় আক্রান্ত হয়। সুতরাং ডেঙ্গু থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য আগে থেকেই সব প্রতিকারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।’
বর্ষাকালে জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এডিস মশা জন্মায়। তিন দিন পানি জমে থাকলেই সেখানে মশা জন্মাতে পারে। কীটতত্ত্ববিদ এবং জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মশার প্রজনন নিয়ন্ত্রণের জন্য ড্রেন, ডোবা, নর্দমার মতো যেসব জায়গায় পচা পানি জমে থাকার সুযোগ রয়েছে, সেগুলো পরিষ্কার করে রাখাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘ফুলের টব, ড্রাম, বালতি, পরিত্যক্ত টায়ার, ডোবা, বাড়ি বা বাসার ছাদে পানি জমতে দেবেন না। পানির ট্যাংক ঢেকে রাখা জরুরি। প্রতি সপ্তাহে কমপক্ষে একবার বাড়ি বা বাসার ভেতর-বাহির পরিষ্কার রাখুন।’
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা সবচেয়ে কার্যকর উপায় জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী ১৪ মার্চ থেকে প্রতি সপ্তাহে সারা দেশে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে। এই পরিচ্ছন্নতা অভিযানে স্থানীয় প্রশাসন কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করছে।’
তিনি বলেন, ‘নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান চললে আসন্ন দিনে ডেঙ্গু কিংবা চিকুনগুনিয়ার মতো মরণঘাতী জ্বর থেকে জনগণ নিজেদেরকে রক্ষা করতে সম্ভব হবে ইনশাআল্লাহ।
আমাদের সরকারের জাতীয় স্বাস্থ্যনীতির মূল নীতি হচ্ছে প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিউর—প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম।’
তারেক রহমান বলেন, ‘কোথাও ময়লা পানি জমে থাকতে দেবেন না। নিজের বাসাবাড়ি এবং আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখুন। এডিস কিংবা চিকুনগুনিয়া থেকে নিজেকে রক্ষা করুন, নিজেদের রক্ষা করুন, অপরকে রক্ষা করুন।’
এমএন
জাতীয়
স্মার্ট ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট ছাড়া আধুনিক নগর পরিচালনা সম্ভব নয় : আইজিপি
স্মার্ট ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট ছাড়া আধুনিক নগর পরিচালনা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী অভিজ্ঞতা বলছে— প্রযুক্তিনির্ভর স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ছাড়া আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনাকে কার্যকরভাবে পরিচালনা করা কঠিন।
বুধবার (১১ মার্চ) সকালে রাজধানীর পুলিশ স্টাফ কলেজ বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত ‘ঢাকায় নগর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা : চ্যালেঞ্জ, উদ্ভাবন ও অগ্রগতির দিকনির্দেশনা’ শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আইজিপি বলেন, বাংলাদেশ দ্রুত নগরায়নের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি, নগর অর্থনীতির সম্প্রসারণ এবং মানুষের চলাচল বৃদ্ধির ফলে সড়ক ব্যবস্থাপনা এখন রাষ্ট্রের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ঢাকা মহানগরীর যানজট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন।
পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে আইজিপি বলেন, নাগরিকদের কাছে পুলিশের প্রথম পরিচয় প্রায়ই ট্রাফিক পুলিশের মাধ্যমে ঘটে। একজন ট্রাফিক সার্জেন্ট যখন রাস্তায় দায়িত্ব পালন করেন, তখন তিনি শুধু যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করেন না; বরং রাষ্ট্রের আইন ও শৃঙ্খলার প্রতিনিধিত্ব করেন। তার আচরণ, পেশাদারত্ব এবং নৈতিকতা পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থাকে সরাসরি প্রভাবিত করে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পুলিশ স্টাফ কলেজ বাংলাদেশের রেক্টর কাজী মো. ফজলুল করিম, বিপিএম-সেবা। স্বাগত বক্তব্য দেন কলেজের ভাইস রেক্টর এস এম আক্তারুজ্জামান।
কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মো. সরওয়ারের পক্ষে। প্রবন্ধটি উপস্থাপন করেন ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার সুফিয়ান আহমেদ। এতে ঢাকা মহানগরের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার বর্তমান অবস্থা, যানজটের কারণ, আইন প্রয়োগের বাস্তবতা এবং প্রযুক্তিনির্ভর ও নীতিনির্ধারণভিত্তিক উদ্ভাবনী সমাধানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
কর্মশালায় বিশেষ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অ্যাডিশনাল আইজি (অ্যাডমিন) এ কে এম আওলাদ হোসেন, অ্যাডিশনাল আইজি (লজিস্টিকস) মোসলেহ উদ্দিন আহমদ, বিপিএম-সেবা এবং অ্যাডিশনাল আইজি (ডেভেলপমেন্ট) সরদার নূরুল আমিন। তারা ঢাকার নগর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে আলোচনা করেন।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তারা ঢাকা মহানগরের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে বাস্তবভিত্তিক সুপারিশ ও কার্যকর কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। আলোচনায় প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, গণপরিবহন সংস্কার, আইন প্রয়োগের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়।
বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, কর্মশালার সুপারিশসমূহ ভবিষ্যতে ঢাকা মহানগরের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং নগর পরিবহন পরিকল্পনা প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
কর্মশালায় সমাপনী বক্তব্য দেন ডিএমপি কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মো. সরওয়ার।
এমএন
জাতীয়
আইজিপির সঙ্গে এফবিআই প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ
ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের সঙ্গে সুহেল দাউদের নেতৃত্বে এফবিআই’র চার সদস্যের এক প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
বুধবার (১১ মার্চ) পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাতে প্রতিনিধিদলের প্রধান বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধি, সাইবার নিরাপত্তা জোরদার, সাইবার কমপ্লেইন সেন্টার স্থাপন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তদারকি, আর্থিক অপরাধ মোকাবিলা এবং প্রযুক্তিনির্ভর তদন্তে সহায়তা প্রদানের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
আইজিপি প্রতিনিধিদলের আগ্রহকে স্বাগত জানিয়ে এফবিআই’র সঙ্গে পিবিআই, সিআইডি, এটিইউ এবং সিটিটিসিসহ বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্পর্ক আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সাক্ষাতকালে উভয়পক্ষ ভবিষ্যতে আরও দৃঢ় ও ফলপ্রসূ সহযোগিতার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
এ সময় বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এমএন
জাতীয়
জামায়াত আমিরের সুপারিশের চিঠি প্রকাশে প্রস্তুত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে উপদেষ্টা বা মন্ত্রী পদমর্যাদায় নিয়োগ দিতে ‘সুপারিশের চিঠি’ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বুধবার (১১ মার্চ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, লিখিত সম্মতি পেলে মন্ত্রণালয় চিঠিটি জনসম্মুখে প্রকাশ করতেও প্রস্তুত।
বিবৃতিতে বলা হয়, গত ২২ ফেব্রুয়ারি ড. মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান সংসদের বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে বিরোধীদলীয় নেতার পক্ষ থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে লেখা একটি চিঠি ইলেকট্রনিক মাধ্যমে পাঠান। পরে তিনি একই চিঠি সরাসরি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছেও হস্তান্তর করেন।
বিবৃতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানায়, চিঠিটি বিরোধীদলীয় নেতার জাতীয় সংসদের প্যাডে লেখা ছিল। চিঠির বিষয়বস্তু হচ্ছে—ড. মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসানকে ‘বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা’ হিসেবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে উপদেষ্টা বা মন্ত্রী পদমর্যাদায় নিয়োগ ও সুপারিশ।
বিরোধীদলীয় নেতা তার স্বাক্ষরিত চিঠিতে ড. হাসানের দক্ষতা, পেশাদারিত্ব ও বিচক্ষণতার প্রশংসা করেন এবং দেশের পররাষ্ট্রনীতিকে একত্রে এগিয়ে নেয়ার লক্ষ্যে তাকে উল্লিখিত পদে পদায়নের জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে সুপারিশ করেন। তিনি বিষয়টিকে বিশেষভাবে বিবেচনার জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানান।
চিঠির নিচে শুধুমাত্র বিরোধীদলীয় নেতার স্বাক্ষর রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয় বিবৃতিতে।
বিরোধীদলীয় নেতা লিখিতভাবে সম্মতি প্রদান করলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চিঠিটির পূর্ণ পাঠ জনসমক্ষে প্রকাশ করতে প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানানো হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এ নিয়ে একটি পত্রিকার প্রতিবেদন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টিগোচর হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে—জামায়াতের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি ফোনে যোগাযোগ করা হয়। সেখানে জানানো হয় যে উক্ত চিঠির বিষয়ে জামায়াতের আমির অবগত ছিলেন না। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্টভাবে জানাচ্ছে যে, এ ধরনের কোনো ফোনালাপ হয়নি।
এদিকে জামায়াতে ইসলামী এর আগেই বিবৃতিতে জানিয়েছিল, বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সম্মতি ছাড়াই তার দফতর থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানোয় তার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসানকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। এ পদে সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমানকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
এমএন




