সারাদেশ
সেন্টমার্টিন রুটে জাহাজ চলাচল শুরু, তিন জাহাজে যাচ্ছেন ১১০০ পর্যটক
দীর্ঘ নয় মাস বন্ধ থাকার পর ১ ডিসেম্বর থেকে পুনরায় চালু হয়েছে কক্সবাজার–সেন্টমার্টিন নৌরুটে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল। মৌসুমের প্রথম দিন সোমবার সকাল ৭টায় নুনিয়ারছড়া বিআইডব্লিউটিএ জেটিঘাট থেকে ১,১০০ পর্যটক নিয়ে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে রওনা দেয় এমভি বার আউলিয়া, এমভি কর্ণফুলী ও কেয়ারি সিন্দাবাদ।
জেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর ও ট্যুরিস্ট পুলিশের কঠোর তদারকিতে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ন্ত্রণ ও প্লাস্টিক ব্যবহারে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। সচেতনতার অংশ হিসেবে প্রথম দিন যাত্রীদের হাতে অ্যালুমিনিয়ামের পানির বোতল তুলে দেওয়া হয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক এম এ মান্নান।
সকালে ঘাটে এসে পর্যটকদের স্বাগত জানান জেলা প্রশাসকসহ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহিদুল আলম, কক্সবাজার সদরের ইউএনও নীলুফা ইয়াসমিন চৌধুরী এবং ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ। তারা সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন তদারকি করেন।
সরকার ঘোষিত ১২ দফা নির্দেশনা মেনে সোমবার (১ ডিসেম্বর) থেকে আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত পর্যটকদের জন্য সেন্টমার্টিনে রাত্রিযাপনের সুযোগ থাকছে। জাহাজ কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রথম দিনের সব টিকিট আগেই বিক্রি হয়েছিল এবং তিনটি জাহাজে মোট ১,১০০ যাত্রী দ্বীপের উদ্দেশে রওনা হন।
‘সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’ (স্কোয়াব)-এর সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর বলেন, মৌসুমের প্রথম যাত্রার সব প্রস্তুতি আগে থেকেই সম্পন্ন ছিল। প্রশাসনের সহযোগিতায় পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ পরিবেশে যাত্রা শুরু করা গেছে। আগামী মৌসুমে কমপক্ষে চার মাস রাত্রিযাপনের সুযোগ মিললে জাহাজ মালিকরা ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
গত ১ নভেম্বর থেকে সেন্টমার্টিনে পর্যটক প্রবেশ উন্মুক্ত হলেও রাত্রিযাপন নিষেধাজ্ঞা থাকার কারণে এতদিন কোনো জাহাজ চলাচল করেনি। এবারও নুনিয়ারছড়া জেটি থেকে চারটি জাহাজ চলাচলের অনুমতি পেয়েছে। প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটক বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিয়ে সেন্টমার্টিন যেতে পারবেন।
প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিদিন সকাল ৭টায় জাহাজ সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে ছাড়বে এবং পরদিন দুপুর ৩টায় কক্সবাজারে ফিরবে। টিকিট সংগ্রহ বাধ্যতামূলকভাবে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের অনুমোদিত অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে করতে হবে। প্রতিটি টিকিটে ট্রাভেল পাস ও কিউআর কোড থাকবে, যা ছাড়া কোনো টিকিট বৈধ হিসেবে গণ্য হবে না। জেটিঘাটে টিকিট যাচাইয়ে ২০ জন ভলান্টিয়ার দায়িত্ব পালন করছেন; একইভাবে ভলান্টিয়ার থাকবেন সেন্টমার্টিনেও।
দীর্ঘ বিরতির পর পর্যটকদের আগমনে সেন্টমার্টিনে আবারও প্রাণচাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। তবে জেটিঘাটের নির্মাণকাজ এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি বলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এসএস রহমান ইন্টারন্যাশনালের প্রতিনিধি আলী হায়দার জানান।
দ্বীপের ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম জানান, গত এক দশক ধরে পর্যটনই স্থানীয়দের প্রধান জীবিকা। যেকোনো সংকট সত্ত্বেও পর্যটকদের আতিথেয়তায় ঘাটতি রাখা হবে না।
সেন্টমার্টিনের নাজুক প্রতিবেশ ব্যবস্থা রক্ষায় ঘোষিত ১২ দফা নির্দেশনা এবার কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে—রাতে সৈকতে আলো জ্বালানো নিষেধ, উচ্চ শব্দে অনুষ্ঠান-বারবিকিউ নিষিদ্ধ, কেয়াবনে প্রবেশ বা কেয়াফল সংগ্রহ নিষিদ্ধ, কাছিম–পাখি–রাজকাঁকড়া–প্রবালসহ যেকোনো জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত করে এমন সকল কার্যক্রম বন্ধ, মোটরচালিত যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ এবং প্লাস্টিকমুক্ত দ্বীপ উদ্যোগের অংশ হিসেবে একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিক কঠোরভাবে নিরুৎসাহিত। পরিবেশ অধিদপ্তর পর্যটকদের বিনামূল্যে অ্যালুমিনিয়াম বোতল সরবরাহ করছে।
পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের উপপরিচালক খন্দকার মাহমুদ পাশা বলেন, প্লাস্টিক দূষণ কমাতে অ্যালুমিনিয়াম বোতল ব্যবহারে কঠোরতা আনা হয়েছে। এটি সফলভাবে কার্যকর হলে ভালো ফল পাওয়া যাবে।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক এম এ মান্নান বলেন, “সেন্টমার্টিন আমাদের জাতীয় সম্পদ। পরিবেশ রক্ষা ও দায়িত্বশীল পর্যটনের স্বার্থে নির্দেশনা মেনে চলা সবার দায়িত্ব।” প্রশাসন, জাহাজ মালিক ও সংশ্লিষ্টদের সমন্বিত তদারকির মধ্য দিয়ে দ্বীপের জীববৈচিত্র্য রক্ষা নিশ্চিত করা হবে বলেও তিনি জানান।
এমকে
সারাদেশ
মাতারবাড়ী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে আগুন
কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলায় অবস্থিত মাতারবাড়ী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাত সোয়া ৯টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত (রাত পৌনে ১০টা) আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট।
বিষয়টি নিশ্চিত করে মহেশখালী ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) রাম প্রসাদ সেন বলেন, তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ক্র্যাব রাখার ভাগাড়ে আগুন লেগেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে আমাদের দুটি ইউনিট কাজ করছে।
স্থানীয়রা জানান, হঠাৎ করেই তারা বিদ্যুৎ কেন্দ্র সংলগ্ন ব্রিজের ওপর থেকে দেখতে পান ভেতরে আগুন জ্বলছে।
বঙ্গোপসাগরের কূলঘেঁষে মাতারবাড়ীতে নির্মিত ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ধারণক্ষমতার এই তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রটি একটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র।
সারাদেশ
ভেদরগঞ্জে সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি পেল আব্বাস আলী উচ্চ বিদ্যালয়
জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলায় আয়োজিত মূল্যায়ন কার্যক্রমে আব্বাস আলী উচ্চ বিদ্যালয়কে উপজেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক জনাব কাওছার আহমেদ শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক হিসেবে সম্মাননা অর্জন করেন।
উপজেলা শিক্ষা প্রশাসন সূত্র জানায়, শিক্ষার মান, শিক্ষার্থীদের একাডেমিক সাফল্য, সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ, শৃঙ্খলা এবং প্রশাসনিক দক্ষতাসহ একাধিক সূচকের আলোকে এ মূল্যায়ন সম্পন্ন করা হয়।
এ উপলক্ষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবদানকে স্বীকৃতি জানিয়ে ভবিষ্যতেও শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে সম্মিলিত প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
এ অর্জনের খবরে আব্বাস আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে সন্তোষ ও উৎসাহ লক্ষ্য করা গেছে। তাঁদের মতে, এ ধরনের স্বীকৃতি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সার্বিক উন্নয়ন এবং শিক্ষকদের পেশাগত অনুপ্রেরণা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
প্রসঙ্গত, জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ উপলক্ষে প্রতিবছর উপজেলা, জেলা ও জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকদের কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন করা হয়ে থাকে।
সারাদেশ
টেকনাফ সীমান্তে গুলিবিদ্ধ শিশুর অবস্থা আশঙ্কাজনক, আটক ৫৩
মিয়ানমার থেকে আজ রোববার সকাল ৯টার দিকে আসা গুলিতে বাংলাদেশি এক শিশু আহত হয়েছে। টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তেচ্ছিব্রিজ সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। শিশুটির নাম আফনান (১১)। সে ওই গ্রামের জসিম উদ্দিনের মেয়ে।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) অলক বিশ্বাস আজ দুপুর আড়াইটার দিকে বলেন, শিশুটি গুলিবিদ্ধ হয়েছে। প্রথমে মারা যাওয়ার কথা শোনা গেলেও তা সঠিক নয়। শিশুটিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে।
এর আগে হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) খোকন চন্দ্র রুদ্র বলেছিলেন, ওপার থেকে আসা গুলিতে শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গুলিতে আহত হয়েছেন আরও একজন। শিশুর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে সড়ক অবরোধ করেন।
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বিমান হামলা, ড্রোন হামলা, মর্টারশেল ও বোমা বিস্ফোরণ থামছে না। তিন দিন ধরে রাখাইন রাজ্যের মংডু টাউনশিপের আশপাশের এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির (এএ) অবস্থানে বিমান হামলা জোরদার করেছে সরকারি জান্তা বাহিনী।
অন্যদিকে আরাকান আর্মির সঙ্গে স্থলভাগে সংঘর্ষে জড়িয়েছে রোহিঙ্গাদের সশস্ত্র তিনটি গোষ্ঠী। এ কারণে সীমান্ত পরিস্থিতি দিন দিন জটিল হচ্ছে। ওপারের বিকট শব্দের বিস্ফোরণে টেকনাফের বাংলাদেশ সীমান্তের গ্রামগুলোয় ভূকম্পন দেখা দিচ্ছে। কেঁপে উঠছে লোকজনের ঘরবাড়ি। ওপার থেকে ছোড়া গুলি এসে পড়ছে এপারে লোকজনের ঘরবাড়ি-চিংড়িঘের ও নাফ নদীতে।
সর্বশেষ গতকাল শনিবার সন্ধ্যা থেকে আজ সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত টেকনাফের হোয়াইক্যং সীমান্তের বিপরীতে রাখাইন রাজ্যের বলিবাজার এলাকায় থেমে থেমে ব্যাপক গোলাগুলি, মর্টারশেলের বিস্ফোরণ ঘটেছে। বিকট শব্দের বিস্ফোরণে টেকনাফের হোয়াইক্যং ও উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের ১১টি গ্রাম কেঁপে উঠছে। লোকজন রাত জেগে সময় পার করেন। অনেকে ঘরবাড়ি ফেলে নিরাপদ স্থানে ছোটেন। নাফ নদী ও স্থলসীমান্তে নজরদারি ও টহল বাড়িয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও কোস্টগার্ড।
সীমান্তের একাধিক সূত্র জানায়, হোয়াইক্যং সীমান্তের ওপারে রাখাইন রাজ্যে আরাকান আর্মির সঙ্গে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান স্যালভেশন আর্মি (আরসা), আরাকান রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (আরএসও) এবং নবী হোসেন বাহিনীর মধ্যে গোলাগুলি ও থেমে থেমে গুলিবর্ষণ চলছে। অন্যদিকে মিয়ানমার জান্তা বাহিনীও আরাকান আর্মির অবস্থানে বিমান হামলা ও বোমা হামলা চালাচ্ছে।
কক্সবাজারে টেকনাফের হোয়াইক্যং এলাকায় মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে বাংলাদেশি শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর সড়ক অবরোধ। আজ রোববার সকালে
কক্সবাজারে টেকনাফের হোয়াইক্যং এলাকায় মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে বাংলাদেশি শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর সড়ক অবরোধ। আজ রোববার সকালেছবি:
উখিয়া-৬৪ বিজিবির ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল জহিরুল ইসলাম বলেন, সীমান্তের ওপারে পরিস্থিতি এবং গোলাগুলির বিষয়টি নজরদারিতে রাখা হয়েছে। অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নাফ নদী ও সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের (ইউ) সদস্য সিরাজুল মোস্তফা বলেন, তিন দিন ধরে হোয়াইক্যংয়ের ওপারে রাখাইন রাজ্যে ও দেশটির সীমান্তে দিনরাত গোলাগুলি ও বোমার বিস্ফোরণ ঘটছে। ওপারের গুলি এসে পড়ছে হোয়াইক্যং সীমান্তের লোকজনের ঘরবাড়ি ও চাষের জমিতে। ওপারের গুলি আতঙ্কে লোকজন স্বাভাবিক চলাফেরা করতে পারছেন না।
স্থানীয় জেলে মো. রফিক বলেন, আজ সকালে হোয়াইক্যং তেচ্ছিব্রিজ এলাকায় বেড়িবাঁধে গেলে তিনি বেশ কিছু গুলি দেখতে পান। তখন ওপারে গোলাগুলি হচ্ছিল। এ সময় একটি গুলি এসে পড়ে তাঁর পায়ের কাছে মাটিতে। অল্পের জন্য গুলিটি তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয়নি।
সম্প্রতি রাখাইন রাজ্য থেকে টেকনাফের আশ্রয়শিবিরে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা মো. আরমান বলেন, রাখাইন রাজ্যের সীমান্তে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে আরাকান আর্মির মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ চলছে। মাঝেমধ্যে জান্তা বাহিনীর বিমান হামলাও চলছে। রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতি থমথমে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমামুল হাফিজ নাদিম বলেন, সীমান্তের ওপারে গোলাগুলির ঘটনার বিষয়ে বিজিবিসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে চলাফেরা করতে সতর্ক করা হচ্ছে।
এমকে
সারাদেশ
বাস-অটোরিকশা-মোটরসাইকেলের ত্রিমুখী সংঘর্ষ, নিহত ৪
কুমিল্লার দাউদকান্দিতে অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের সঙ্গে সংঘর্ষে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে পড়েছে একটি যাত্রীবাহী বাস। এতে মুহূর্তেই আগুন ধরে গেছে বাসটিতে। এ ঘটনায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে অন্তত ৪ বাসযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৩০ জন।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) দুপুর পৌনে ১টার দিকে মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার বানিয়াপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে দুজন শিশু, একজন নারী ও একজন পুরুষ। তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতদের নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি।
দাউদকান্দি হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি ইকবাল বাহার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ বলছে, ত্রিমুখী সংঘর্ষেই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত। সংঘর্ষে যাত্রীবাহী বাসটিতে আগুন লেগে যায়। এটা মোটরসাইকেলের জ্বালানির ট্যাংকার থেকে হতে পারে।
দুর্ঘটনার পর বাসে আগুন ধরে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুন নেভান। ছবি: সংগৃহীত
দুর্ঘটনার পর চট্টগ্রামগামী লেনে বানিয়াপাড়া থেকে গৌরীপুর পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস দাউদকান্দি ইউনিটের সদস্য, দাউদকান্দি হাইওয়ে পুলিশ, কুমিল্লার সহকারী পুলিশ সুপার ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে দুর্ঘটনা কবলিত বাসটি সড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। বেলা দুইটা থেকে যানবাহন চলাচল শুরু হয়। আহতদের উদ্ধার করে দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।
সারাদেশ
গাজীপুরে ঝুট গোডাউনে ভয়াবহ আগুন
গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ি থানাধীন দেওয়ালিয়াবাড়ি এলাকায় ঝুটের একাধিক গোডাউনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ৬টি ইউনিট।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বিকেল সোয়া ৪টার দিকে দেওয়ালিয়াবাড়ি কাঁঠালতলা এলাকায় অবস্থিত একটি ঝুট গোডাউনে প্রথমে আগুনের সূত্রপাত হয়।
স্থানীয়রা গোডাউন থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখে বিষয়টি টের পান। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পাশের আরও কয়েকটি ঝুট গোডাউনে ছড়িয়ে পড়ে।
জানা গেছে, খবর পেয়ে প্রথমে কোনাবাড়ি ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করে। তবে আগুনের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় পরবর্তীতে সারাবো ও ডিবিএল ফায়ার স্টেশন থেকে আরও ৪টি ইউনিট ঘটনাস্থলে যোগ দেয়।
এ বিষয়ে গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ মামুন বলেন, একাধিক ঝুট গোডাউনে আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। বর্তমানে মোট ৬টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নির্ধারণ করা যায়নি। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।



