জাতীয়
সশস্ত্র বাহিনীর বঞ্চিত সদস্যদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে সরকার: প্রধান উপদেষ্টা
বিগত সরকারের আমলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর যেসব সদস্য অন্যায়ভাবে বৈষম্য ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, বঞ্চিত অন্য সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতো তাদের প্রতিও সরকার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
রবিবার (৩০ নভেম্বর) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় পিলখানা হত্যাকাণ্ড তদন্তে গঠিত জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন হস্তান্তরের সময় তিনি এ কথা বলেন।
এদিন তদন্ত কমিশনের প্রধান মেজর জেনারেল (অব.) আ ল ম ফজলুর রহমান ও অন্য সদস্যরা যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ প্রতিবেদন জমা দেন।
এসময় ড. ইউনূস তদন্ত কমিশনের উদ্দেশে বলেন, যখন আপনাদের এ কাজটি করার জন্য দায়িত্ব দিয়েছিলাম তখন মনে হয়েছিল সামান্য কিছু অনিয়ম হয়তো হয়েছে। কিন্তু আপনারা যে পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে এনেছেন তা রীতিমতো ভয়াবহ। এটি কল্পনার একেবারে বাইরে।
পূর্ণ পেশাদারত্ব ও নির্মোহ থেকে সত্য বের করে আনায় কমিটির সব সদস্যকে ধন্যবাদ জানান প্রধান উপদেষ্টা।
প্রতিবেদন হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তদন্ত কমিটির সভাপতি ও প্রধান উপদেষ্টার প্রতিরক্ষা ও জাতীয় সংহতি উন্নয়নবিষয়ক বিশেষ সহকারী অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল আব্দুল হাফিজ, কমিটির সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) মুহম্মদ শামস-উল-হুদা, মেজর জেনারেল (অব.) শেখ পাশা হাবিব উদ্দিন, রিয়ার অ্যাডমিরাল (অব.) মোহাম্মদ শফিউল আজম ও এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) মুহাম্মদ শাফকাত আলী উপস্থিত ছিলেন।
কমিটি মোট ৭৩৩টি অভিযোগ পায়, যার মধ্যে ৪০৫টি গৃহীত হয়। কমিটির সুপারিশ করা আবেদনের সংখ্যা ১১৪টি, কার্যপরিধির আওতাবহির্ভূত আবেদন ২৪টি এবং আবেদনকারীর ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ভঙ্গের, সাজা মওকুফের ও নৈতিক স্খলনজনিত ৯৯টি বিষয় রয়েছে।
অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল আব্দুল হাফিজ জানান, আবেদনপত্র পর্যালোচনার জন্য গঠিত কমিটি গত ১৯ আগস্ট প্রথম সভা আহ্বান করে। বঞ্চিত অফিসারদের সেন্ট্রাল অফিসার্স রেকর্ড অফিস, আইএসপিআর এবং অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সংগঠন রাওয়ার মাধ্যমে হোয়াটসঅ্যাপ ম্যাসেজ, প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া এবং টিভি স্ক্রলের মাধ্যমে ২১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আবেদন জমা দিতে বলা হয়।
তিনি আরও জানান, স্ব স্ব বাহিনীর গঠিত বোর্ড যাদের বিষয়ে সুপারিশ প্রদান করেছে তাদের বিরুদ্ধে কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া কোনো নৈতিক স্খলনজনিত শাস্তি কিংবা অভিযোগ ডোসিয়ারে লিপিবদ্ধ ছিল না।
তিনি বলেন, কমিটি ভুক্তভোগী অফিসারদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে তাদের অধিনায়ক ও ঊর্ধ্বতন অফিসারদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের মাধ্যমে তাদের বঞ্চনা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছে।
কমিটির অনুসন্ধানে জানা যায়, আবেদনকারীদের মধ্যে ছয়জন অফিসারকে তাদের আত্মীয়-স্বজনের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার কারণে বা জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অপবাদ দিয়ে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে বিভিন্ন মেয়াদে (১ বছর হতে ৮ বছর পর্যন্ত) গুম করে রাখা হয়, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন। এমনকি একজন অবসরপ্রাপ্ত অফিসারকে জঙ্গি নাটক সাজিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়; পরবর্তীকালে ওই অফিসারের স্ত্রীকে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে এক বছরের শিশুসহ বিনা বিচারে দুই দফায় দীর্ঘ ছয় বছর কারাগারে রাখা হয়।
তদন্তে আরও জানা যায়, কিছু সংখ্যক অফিসার ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি বিডিআর হত্যাযজ্ঞের নারকীয় ঘটনায় সরকারের নিষ্ক্রিয়তায় সোচ্চার ছিলেন। তাদের মধ্যে পাঁচজনকে একটি ভুয়া ঘটনা (ব্যারিস্টার তাপস হত্যাচেষ্টা মামলা) সাজিয়ে ব্যাপক নির্যাতন করা হয়।
তদন্তে জানা যায়, পাঁচজন অফিসার ১/১১ এর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ডিজিএফআইতে কর্মরত থাকাকালীন তাদের মিথ্যা অভিযোগে কিংবা বিনা অভিযোগে চাকুরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।
তদন্তে বেরিয়ে আসে যে, কিছু অফিসার বিডিআর হত্যাযজ্ঞের পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর দরবারে প্রশ্ন করার জন্য সেনাসদর কর্তৃক দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। একপর্যায়ে ওই দরবারে ব্যাপক হৈচৈ ও হট্টগোল হওয়ায় পাঁচজন অফিসারকে অযথা দায়ী করা হয় এবং তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো প্রকার সুযোগ না দিয়ে চাকুরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।
চারজন কনিষ্ঠ অফিসার (লেফটেন্যান্ট পদবির) ধর্মীয় আচার-আচরণ নিয়ম-নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করার কারণে তাদের কোনো একটি দলের অনুসারী হিসেবে অথবা জঙ্গি ট্যাগ দিয়ে অন্যায়ভাবে চাকুরি থেকে বরখাস্ত করা হয় বলেও বেরিয়ে আসে তদন্তে।
তদন্ত দেখা যায়, বিদ্যমান নীতিমালা অনুসরণ করে পদক্ষেপ গ্রহণ সত্ত্বেও ২৮ জন গুম, অপহরণ, অবৈধভাবে আটক রেখে অমানুষিক নির্যাতন ও জেরা, লোক দেখানো প্রহসনের তদন্ত, আইন-বহির্ভূত কার্যকলাপে নানাবিধ বঞ্চনা, নির্মম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, বর্ণনাতীত পারিবারিক ও সামাজিক লাঞ্ছনা এবং প্রভৃতি আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন।
কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, সেনাবাহিনীতে বঞ্চিত ও বৈষম্যের শিকার ১১৪ জন কর্মকর্তা সম্পর্কে সুপারিশ প্রদান করা হয়েছে। তাদের (যার জন্য যা প্রযোজ্য) স্বাভাবিক অবসর প্রদান, পদোন্নতি, অবসরপূর্ব পদোন্নতি, বকেয়া বেতন ও ভাতা এবং আনুষঙ্গিক সুবিধাদি দিতে কমিটি সুপারিশ করে। এর মধ্যে চারজনকে চাকুরিতে পুনর্বহাল করার জন্য সুপারিশ করা হয়।
নৌবাহিনীতে বঞ্চিত ও বৈষম্যের শিকার ১৯ জন কর্মকর্তাকে (যার জন্য যা প্রযোজ্য) স্বাভাবিক অবসর প্রদান, পদোন্নতি, অবসরপূর্ব পদোন্নতি, বকেয়া বেতন-ভাতা এবং আনুষঙ্গিক সুবিধাদি দিতে সুপারিশ করে কমিটি।
বিমানবাহিনীতে বঞ্চিত ও বৈষম্যের শিকার ১২ জন কর্মকর্তাকে (যার জন্য যা প্রযোজ্য) স্বাভাবিক অবসর প্রদান, পদোন্নতি, অবসরপূর্ব পদোন্নতি, বকেয়া বেতন-ভাতা এবং আনুষঙ্গিক সুবিধাদি দিতে কমিটি সুপারিশ করে।
আবেদনকারীদের মধ্যে ১২৫ জন সেনা, ৫১ জন নৌ এবং ২৫ জন বিমানবাহিনীর সদস্য রয়েছেন।
বৈঠকে অন্যদের মধ্যে প্রধান উপদেষ্টার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিক উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের বরাত দিয়ে প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার এসব তথ্য জানান।
জাতীয়
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ন কবির-এর সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
সোমবার (০২ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়। উভয় পক্ষই উল্লেখ করেন যে, এই সম্পর্ক পারস্পরিক আস্থা, সম্মান ও সহযোগিতার ভিত্তিতে সুদৃঢ় হয়েছে, যার ভিত্তি শক্তিশালী হয় জিয়াউর রহমান-এর সময় থেকে। সময়ের পরিক্রমায় এই সম্পর্ক কৌশলগত সহযোগিতায় রূপ নিয়েছে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে তা আরও গভীর হয়েছে।
আলোচনায় বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন, জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, শিক্ষা ও জনসম্পদ উন্নয়নসহ বহুমুখী সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে মতবিনিময় হয়।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে চীনের অব্যাহত সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং চীনকে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন।
চীনের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে চীনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস প্রদান করেন এবং দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রকল্পসমূহ দ্রুত বাস্তবায়নের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
উভয় পক্ষ ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সমন্বয় অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এমএন
জাতীয়
জামায়াতকে ডেপুটি স্পিকার পদ নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে বিএনপি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিরোধী দল হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে ডেপুটি স্পিকারের পদ নেওয়ার জন্য বিএনপি প্রস্তাব দিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
সোমবার (২ মার্চ) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই তথ্য জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংবিধান মেনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি ভাষণ দেবেন।
তিনি বলেন, সংসদে বিরোধী দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীকে ডেপুটি স্পিকারের পদ নেয়ার জন্য বিএনপি প্রস্তাব দিয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে তারা জাতীয় সংসদে অংশগ্রহণ করতে পারেন না। শুধুমাত্র সংসদ সদস্যরাই জাতীয় সংসদে অংশ নিতে পারেন।
তিনি বলেন, সংবিধান সংস্কার নিয়ে যেসব আলোচনা হচ্ছে বা রাজনীতির মাঠে নানা কথা হচ্ছে, সেটি রাজনৈতিক অধিকার হিসেবে বলা যেতে পারে। কিন্তু অসাংবিধানিক কিছু জাতীয় সংসদে উত্থাপন করতে পারি না।
তিনি আরও বলেন, গণভোটের রায় অনুসারে যদি সংবিধান সংস্কার পরিষদ করতে হয়, সেটি জাতীয় সংসদে আলোচনার মাধ্যমেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং সে অনুযায়ী সংবিধান সংশোধনী আনতে হবে। সংশোধনী এনে সেটি সংবিধানে ধারণ করার পরেই, কোন প্রক্রিয়ায় সংবিধান সংস্কার পরিষদ হতে পারে, সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ কারা পড়াবেন, কীভাবে হতে পারে সে বিষয় চূড়ান্ত হতে পারে।
এমএন
জাতীয়
ঢাকায় ৬ মাসের মধ্যে নারীদের জন্য ইলেকট্রিক বাস নামানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
রাজধানীর গণপরিবহনে নারীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে আগামী ৬ মাসের মধ্যে ইলেকট্রিক বাস সার্ভিস চালুর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার (২ মার্চ) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে পরিবহন বিশেষজ্ঞ ও বুয়েট অধ্যাপক ড. এম শামসুল হক সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, জনগণের জন্য জনবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে-এই বিষয়গুলো নিয়ে তার সঙ্গে প্রায় দুই ঘণ্টা আলোচনা হয়েছে বলেও জানান ড. এম শামসুল হক।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী খুব আহত হন যখন নারীরা নিরাপদ গণপরিবহন পাননা। এজন্য আগামী ৬ মাসের মধ্যে নারীদের জন্য ইলেকট্রিক বাস নামানো কথা জানিয়েছেন এবং যার চালকও হবে নারীরা।
বুয়েটের অধ্যাপক ড. এম শামসুল হক আরও জানিয়েছেন, জনগণের জন্য সর্বোৎকৃষ্ট মাধ্যম মেট্রোরেল, এর বাইরেও আরও কিছু করা যায় কিনা, ছাড়াও মনোরেল করার কথা বলেছেন, যা অনেক সাশ্রয়ী এবং দ্রুত বাস্তবায়ন করা যায়। দ্রুত গতির রেলভিত্তিক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।
এমএন
জাতীয়
দ্রুতই স্বাভাবিক হবে ভারতীয় ভিসা কার্যক্রম: হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ভিসা কার্যক্রম দ্রুত স্বাভাবিক হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মা।
সোমবার (২ মার্চ) সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে এক সৌজন্য বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।
ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে গভীর বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। বাণিজ্য আরও সম্প্রসারণে নতুন সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে ভারত। ভিসা কার্যক্রমও দ্রুত স্বাভাবিক হবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, ভারতীয় হাইকমিশনার নতুন সরকারকে অভিনন্দন জানাতে এসেছেন। বর্ডার হাট, বেশ কয়েকটা স্থলবন্দর বন্ধ রয়েছে। বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়াতে সামনে সেগুলো চালু হবে।
তবে বৈঠকে ভারতীয় অর্থায়নের প্রকল্পগুলোর ভবিষ্যত নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
এমএন
জাতীয়
ডিএমপি কমিশনারের নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করে প্রজ্ঞাপন
ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলীর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
রোববার (১ মার্চ) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এতে সই করেন উপসচিব মো. গোলাম রব্বানী।
এতে বলা হয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২০২৪ সালের ২০ নভেম্বরের প্রজ্ঞাপনমূলে ডিএমপি কমিশনার পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া শেখ মো. সাজ্জাত আলীর নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ তার আবেদনের প্রেক্ষিতে বাতিল করা হলো। জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
এর আগে বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) পারিবারিক কারণ দেখিয়ে ডিএমপি কমিশনারের পদ থেকে অব্যাহতি নেন শেখ মো. সাজ্জাত আলী।
পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত আইজিপি (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন শেখ সাজ্জাত আলী। ২০২৪ সালেল ১৭ নভেম্বর তাকে চাকরিতে পুনর্বহাল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পরে ওই বছরের ২০ নভেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে তাকে ডিএমপি কমিশনার পদে নিয়োগ দেয়ার কথা জানানো হয়। তিনি মো. মাইনুল হাসানের স্থলাভিষিক্ত হন।
গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সরিয়ে দেয়া হয়। তৎকালীন আইজিপি আবদুল্লাহ আল–মামুন কারাবন্দী হন। অতিরিক্ত আইজিপি পদমর্যাদার বেশির ভাগ কর্মকর্তাকেই চাকরি থেকে অবসর দেয়া হয়। সরকার পতনের পরদিন ৬ আগস্ট রাতে মো. ময়নুল ইসলামকে আইজিপি নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। তখন দেশে কোনো সরকার ছিল না। এর কিছু দিনের মধ্যে ডিএমপি কমিশনার করা হয়েছিল মো. মাইনুল হাসানকে। পরে ডিএমপি কমিশনার করা হয় শেখ মো. সাজ্জাত আলীকে।
এমএন




