জাতীয়
হজ ফ্লাইট উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
হজ ফ্লাইট উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকভাবে এ বছরের হজ ফ্লাইট কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তিনি।
সেই সঙ্গে আগামী বছর থেকে হজযাত্রীদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি হজের খরচ আরও কমানোর আশ্বাসও দেন প্রধানমন্ত্রী।
এদিন ফ্লাইটে চড়ে হজযাত্রীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সঙ্গে দেশ ও জাতির জন্য তাদের কাছে দোয়া চান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা প্রত্যেকে আল্লাহর মেহমান। আপনাদের যাদের আল্লাহর ঘরে যাওয়ার তৌফিক হয়েছে, তারা যদি হাত তুলে দোয়া করেন, আল্লাহ আপনাদের দোয়া কবুল করবেন।
হজযাত্রীদের দেশ ও জাতির কল্যাণের জন্য দোয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা দেশ ও দেশের মানুষের জন্য দোয়া করবেন। যাতে আল্লাহ তৌফিক দেন, আমাদের সামনে যত সমস্যা-বিপদ আছে, সেগুলো যেন আমরা মোকাবিলা করতে পারি। দেশের মানুষের জন্য সরকারের নেওয়া উদ্যোগগুলো যেন সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পারি।
জাতীয়
আবারও হরমুজ পাড়ি দিতে ব্যর্থ ‘বাংলার জয়যাত্রা’
এবারও হরমুজ প্রণালি পার হতে পারেনি বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ এমভি বাংলার জয়যাত্রা। শুক্রবার রাতে হরমুজ খুলে দেওয়ার খবর পেয়ে নোঙর তুলেছিল জাহাজটি। তবে যাত্রা শুরুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বেতারবার্তায় ইরানের বাহিনী জাহাজটিকে পারস্য উপসাগরে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। নির্দেশনা পেয়ে আবারও পারস্য উপসাগরে নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরে যাচ্ছে জাহাজটি।
শুক্রবার রাতে বিএসসি সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। জাহাজে কর্মরত একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ‘নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘোষণা শুনে আমরা শুক্রবার রাতে হরমুজ পাড়ি দিতে চেয়েছিলাম। যথাসময়ে রওনাও হয়েছিলাম। কিন্তু হঠাৎ করে ইরানের পক্ষ থেকে বেতারবার্তায় জানানো হয়, পারস্য উপসাগরে ফিরে যেতে হবে। অর্থাৎ হরমুজ পার হওয়ার অনুমতি আমরা পাইনি।
জাতীয়
আগামীতে হজের খরচ আরও কমানোর আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর
আগামী বছর থেকে হজযাত্রীদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি হজের খরচ আরও কমানোর আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাত পৌনে ১২টায় রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকভাবে এ বছরের হজ ফ্লাইট কার্যক্রমের উদ্বোধনকালে তিনি এ আশ্বাস দেন।
এসময় হজযাত্রীদের কাছে দেশ ও জাতির কল্যাণের জন্য দোয়া চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা দেশ ও দেশের মানুষের জন্য দোয়া করবেন। আল্লাহ যেন আমাদের সেই তৌফিক দেন, যাতে সামনের সব সমস্যা ও বিপদ আমরা মোকাবিলা করতে পারি।
দেশের মানুষের কল্যাণে সরকারের নেওয়া উদ্যোগগুলো যেন সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পারি।’
হজ ব্যবস্থাপনা নিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা সরকার গঠনের আগেই অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এই হজ ব্যবস্থার বেশিরভাগ কাজ সম্পন্ন হয়ে গিয়েছিল।
তারপরও আমরা যতটুকু সম্ভব চেষ্টা করেছি এবং অন্তত ১২ হাজার টাকা খরচ কমিয়েছি। আগামী বছর যাতে আরও কম খরচে হজে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে পারি, সেজন্য আপনারা দোয়া করবেন।
’
এর আগে রাত ১১টার দিকে প্রধানমন্ত্রী বিমানবন্দর এলাকায় পৌঁছে প্রথমেই রাজধানীর আশকোনা হজ ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি হজযাত্রীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এসময় তার সঙ্গে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদসহ ধর্ম মন্ত্রণালয় ও শাহজালাল বিমানবন্দরের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
হজ ফ্লাইটের উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী বিমানে উঠে হজযাত্রীদের সঙ্গে দেখা করেন। সেখানে হজযাত্রীদের নিরাপদ যাত্রা এবং দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত শেষে বিমানবন্দর ত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী।
জাতীয়
সরকারের ২ মাস পূর্তিতে সংবাদ সম্মেলন বিকেলে
সরকারের ২ মাস পূর্তি উপলক্ষে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের করবী হলে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন, প্রেস সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র সালেহ শিবলী। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ প্রেস উইংয়ের সদস্যরা।
সংবাদ সম্মেলনে সরকারের গত দুই মাসের কার্যক্রম, অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরা হতে পারে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি সমসাময়িক বিভিন্ন ইস্যুতেও বক্তব্য আসতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিতে সাংবাদিকদের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ৪ নম্বর গেট দিয়ে প্রবেশ করতে বলা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
জাতীয়
রাশিয়ার জ্বালানি কিনতে বাংলাদেশকে ৬০ দিনের ছাড় দিল যুক্তরাষ্ট্র
রাশিয়ার পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্য বা তেল কিনতে বাংলাদেশকে ৬০ দিনের অনুমতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ১১ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছ।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তার জানান, ১১ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া এই ছাড়ের মেয়াদ আগামী ৯ জুন পর্যন্ত বহাল থাকবে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর গত ১১ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে বলে টিবিএসকে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এর আগে গত ১২ মার্চ মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ রুশ অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য-সংক্রান্ত লেনদেনে ৩০ দিনের ছাড় দিয়েছিল, যার মেয়াদ শেষ হয়েছে ১১ এপ্রিল।
তবে সেই লাইসেন্সটি শুধু ১২ মার্চ বা তার আগে জাহাজে তোলা পণ্যবাহী কার্গোর জন্য প্রযোজ্য ছিল। মূলত ট্রানজিটে থাকা বা পথে থাকা চালানগুলো খালাস করতেই সেই সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়েছিল, আগের নিষেধাজ্ঞার ছাড়টি দেশের জন্য তেমন কোনো সুফল বয়ে আনেনি। কারণ সেই সময় সমুদ্রপথে রাশিয়ার কোনো তেলবাহী জাহাজ বাংলাদেশের পথে ছিল না।
নতুন আমদানির সুযোগ
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এই ৬০ দিনের ছাড় বাংলাদেশকে কিছুটা স্বস্তি দেবে। কারণ প্রথাগত জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় যখন অস্থিরতা বিরাজ করছে, তখন এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে রাশিয়া থেকে পরিশোধিত জ্বালানি—বিশেষ করে ডিজেল—সংগ্রহ করা যাবে।
জ্বালানি বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘রাশিয়া থেকে তেল আমদানির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র আমাদের দুই মাসের ছাড় দিয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিশ্চিত করেছে, তবে আমরা এখনও অফিশিয়াল ডকুমেন্ট হাতে পাইনি।’
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের ক্রমবর্ধমান দাম ও জোগানের সীমাবদ্ধতার কারণে সরবরাহের উৎসে বৈচিত্র্য আনতে চাইছে বাংলাদেশ। এর অংশ হিসেবেই রুশ উৎস থেকে অন্তত ১০ লাখ টন ডিজেল আমদানির সুবিধার্থে এই ছাড়ের আবেদন করা হয়েছিল।
জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, একটি যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক কোম্পানির মাধ্যমে রুশ জ্বালানি সরবরাহের একটি চলমান চুক্তির অধীনে প্রথম ধাপে ১ লাখ টন ডিজেল আমদানির প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনায়, বিশেষ করে ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ মূলত আমদানিকৃত পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্যের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। কিন্তু দামের অস্থিরতা ও সরবরাহ সংকটের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের প্রথাগত সরবরাহকারীদের থেকে প্রয়োজনীয় পরিমাণ জ্বালানি পেতে হিমশিম খাচ্ছে দেশ।
কূটনৈতিক তৎপরতা
৩০ মার্চ মার্কিন সরকারকে পাঠানো এক চিঠিতে জ্বালানি বিভাগ আনুষ্ঠানিকভাবে সীমিত সময়ের জন্য এই নিষেধাজ্ঞায় ছাড় চেয়েছিল। ওই চিঠিতে বিশ্ববাজারে ‘জ্বালানি তেলের ব্যাপক মূল্যবৃদ্ধি’ এবং ‘মধ্যপ্রাচ্যের প্রথাগত উৎসগুলো থেকে জ্বালানি সংগ্রহের চ্যালেঞ্জগুলো’ উল্লেখ করা হয়।
চিঠিতে আরও বলা হয়, জ্বালানি সম্পদের সহজলভ্যতা এবং দ্রুত সরবরাহের সক্ষমতার কারণে রাশিয়া এখন একটি নির্ভরযোগ্য বিকল্প সরবরাহকারী হিসেবে সামনে এসেছে।
বাংলাদেশ ও মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যে কয়েক দফা উচ্চপর্যায়ের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে এই ছাড়ের আবেদনটি করা হয়েছিল। গত ১৮ মার্চ একটি ভার্চুয়াল বৈঠকের পর ২০ মার্চ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে চিঠি দেয় বিপিসি।
ওই বৈঠকে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর, ওয়াশিংটনে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস, ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাস ও জ্বালানি বিভাগের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
জ্বালানি বিভাগ তাদের চিঠিতে রুশ উৎস থেকে অন্তত ১০ লাখ টন ডিজেল আমদানির সুবিধার্থে সর্বনিম্ন দুই মাসের জন্য এই ছাড়ের একটি প্রস্তাবনা তুলে ধরে। এতে আরও বলা হয়, আমদানির পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ রাখতে এবং আন্তর্জাতিক নিয়মকানুন মেনে সম্পন্ন করতে বিপিসি একটি মার্কিন কোম্পানির সাথে কাজ করছে।
জ্বালানি বিভাগের চিঠিতে বলা হয়, এই উদ্যোগটিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জ্বালানি সহযোগিতার সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে একটি সেতুবন্ধন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর মাধ্যমে শেষপর্যন্ত বাংলাদেশের জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় মার্কিন কোম্পানিগুলোর অংশগ্রহণ ও ভূমিকা আরও বাড়বে।
এদিকে বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার খোজিন গতকাল ঢাকায় জাতীয় সংসদ ভবনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর সঙ্গে তার কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করেন।
আগের লাইসেন্সের সীমাবদ্ধতা
কর্মকর্তারা জানান, এর আগে জেনারেল লাইসেন্স ১৩৪-সহ যেসব মার্কিন বিধান ছিল, তা বাংলাদেশের প্রয়োজন মেটানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না। কারণ ১২ মার্চ যখন ওই অনুমোদন দেওয়া হয়, তখন রাশিয়ার কোনো কার্গো বাংলাদেশের অভিমুখে ছিল না।
সেই লাইসেন্সটি কেবল ১২ মার্চ বা তার আগে জাহাজে তোলা হয়েছে, এমন রুশ তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য বিক্রি, সরবরাহ বা খালাস করার অনুমতি দিয়েছিল। ফলে এর মাধ্যমে নতুন করে জ্বালানি সংগ্রহের কোনো সুযোগ ছিল না।
তবে ওই লাইসেন্সের আওতায় নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা ট্যাঙ্কারগুলোর জন্য নিরাপদ ডকিং, ক্রুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, জরুরি মেরামত, বাঙ্কারিং, বিমা ও জাহাজের অন্যান্য প্রয়োজনীয় সেবা প্রদানের অনুমতি ছিল।
বর্তমানে নতুন করে দেওয়া এই ছাড় আগের সেই সীমাবদ্ধতাগুলো দূর করেছে। এর ফলে নির্ধারিত সময়ের জন্য বাংলাদেশ এখন রাশিয়ার জ্বালানি আমদানি করতে নতুন চুক্তি করার সুযোগ পাবে।
নিষেধাজ্ঞা ও জ্বালানি নিরাপত্তার ভারসাম্য
ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে রুশ জ্বালানি রপ্তানি-সংশ্লিষ্ট অধিকাংশ লেনদেন এখনো কঠোর বিধিনিষেধের আওতায় রয়েছে।
তবে সহযোগী দেশগুলোর জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে এই ধরনের বিশেষ ছাড় দেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশের জন্য এই ছাড় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্বল্পমেয়াদি সমাধান। এটি দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং জ্বালানি খাতের ওপর তৈরি হওয়া বাড়তি চাপ কমাতে সহায়ক হবে।
জ্বালানি খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই ছাড়ের মেয়াদ থাকাকালীন আমদানির পরিকল্পনাগুলো সঠিক সময়ে বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত জরুরি। এটি করতে পারলে দেশের বাজারে জ্বালানির সম্ভাব্য ঘাটতি মেটানো এবং অস্থিরতা রোধ করা যাবে।
ছাড় পাওয়ার পর বিপিসি এখন দ্রুততম সময়ে রুশ ডিজেল আমদানির জন্য ক্রয়প্রক্রিয়া ও লজিস্টিক-সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয় চূড়ান্ত করার কাজ শুরু করবে।
কর্মকর্তারা বলছেন, জুনের শুরুতে এই ছাড়ের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা তৎকালীন বাজার পরিস্থিতি ও কূটনৈতিক অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে নির্ধারণ করা হবে।
তারা বলেন, আপাতত এই সিদ্ধান্তটি বিশ্বজুড়ে চলমান জ্বালানি অনিশ্চয়তার মধ্যেও বাংলাদেশের সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখার একটি সীমিত কিন্তু অত্যন্ত প্রয়োজনীয় সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে।
জাতীয়
টাইম ম্যাগাজিনের বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
নিউইয়র্ক ভিত্তিক বিখ্যাত সাময়িকী ‘টাইম’ ম্যাগাজিনের ২০২৬ সালের বিশ্বের ১০০ জন প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় স্থান পেয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই তালিকায় তারেক রহমানের সাথে আরও রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার, পোপ লিও চতুর্দশ এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) প্রকাশিত এই সম্মানজনক তালিকায় বিশ্বের বিভিন্ন খাতের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বিশ্বের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নিয়ে তৈরি করা এই তালিকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে আরও রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার, পোপ লিও চতুর্দশ এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার নেতাদের মধ্যে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ এবং নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির নামও এই তালিকায় স্থান পেয়েছে।
তারেক রহমানের রাজনৈতিক উত্থানের বর্ণনা দিতে গিয়ে টাইম ম্যাগাজিন একটি বিশেষ প্রোফাইল প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, ‘মাত্র কয়েক মাস পেছনে ফিরে তাকালে দেখা যায়, তারেক রহমান লন্ডনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছিলেন। কিন্তু ২০২৪ সালে বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের পর ৫৭ বছর বয়সী এই নেতার ভাগ্য বদলে যায়। দীর্ঘ ১৭ বছর নিজ দেশ থেকে দূরে থাকার পর গত ফেব্রুয়ারিতে এক নজিরবিহীন নির্বাচনি জয়ের মাধ্যমে তিনি জাতীয় নেতায় পরিণত হন।’
প্রতিবেদনে তারেক রহমানের ব্যক্তিগত শোকের বিষয়টিকেও তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয় যে, তারেক রহমান বাংলাদেশে ফেরার মাত্র পাঁচ দিন পরেই তার মা এবং বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করেন। গত জানুয়ারিতে টাইমের সঙ্গে আলাপকালে তার সেই শোকাতুর অবস্থার কথা উল্লেখ করে সাময়িকীটি লেখে, সেই গভীর শোকের মধ্যেও তারেক রহমান ১৭ কোটি মানুষের দেশকে ঐক্যবদ্ধ করার এবং দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিকে আবারও গতিশীল করার অঙ্গীকার করেছিলেন।
টাইম-এর প্রোফাইল অনুযায়ী, বর্তমানে তারেক রহমানের সামনে বেশ কিছু কঠিন চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশ বর্তমানে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি এবং তরুণদের বেকারত্ব সমস্যায় জর্জরিত। পাশাপাশি আঞ্চলিক পরাশক্তি ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিম্নবিন্দুতে পৌঁছেছে। এ সবকিছুরই দ্রুত সমাধান প্রয়োজন।’
বিগত ২০০০-এর দশকের দুর্নীতির অভিযোগ (যা পরবর্তীতে আদালত কর্তৃক খারিজ হয়েছে) নিয়ে টাইম মন্তব্য করেছে যে, এর ফলে তার জন্য রাজনৈতিক প্রস্তুতির সময় হয়তো অন্যদের চেয়ে কম হবে। তবে দীর্ঘ নির্বাসন শেষে ফেরা তারেক রহমান আর সময় নষ্ট করতে নারাজ।
তারেক রহমান টাইম ম্যাগাজিনকে বলেন, ‘আমাদের একসাথে কাজ করতে হবে, ঐক্যবদ্ধ হতে হবে—যাতে মানুষ তাদের রাজনৈতিক অধিকার পায়।’



