আন্তর্জাতিক
আফগানদের ভিসা দেওয়া বন্ধ করল যুক্তরাষ্ট্র
আফগানিস্তানের নাগরিকদের ভিসা দেওয়া বন্ধ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এরই মধ্যে বিশ্বজুড়ে সব মার্কিন দূতাবাস এবং কনস্যুলার দপ্তরে এ বিষয়ক তারবার্তা পাঠিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
সেই বার্তায় বলা হয়েছে, কোনো আফগান ব্যক্তিকে যেন যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রদান না করা হয় এবং যেসব আফগানের ভিসা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে-তা যেন তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করা হয়। আরও বলা হয়েছে, এখন থেকে অভিবাসী এবং অ-অভিবাসী ভিসার পাশাপাশি বিশেষ অভিবাসন ভিসা প্রদানও বন্ধ থাকবে আফগানদের জন্য। এমনকি নিয়ে বর্তমানে আফগানিস্তানের যেসব নাগরিক যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন, তাদের ভিসাও বাতিল করা হয়েছে।
দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা মার্কো রুবিও গতকাল শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছেন। এক্সবার্তায় তিনি বলেছেন, “আফগানিস্তানের পাসপোর্টধারী সব ব্যক্তিকে ভিসা দেওয়া বন্ধ করছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। যুক্তরাষ্ট্র এবং মার্কিন জনগণের নিরাপত্তা এবং সুরক্ষার গুরুত্ব আমাদের কাছে সর্বোচ্চ। কোনোভাবেই এর সঙ্গে আপোস হবে না।”
গত বুধবার রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন আধাসামরিক বাহিনী ন্যাশনাল গার্ড সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন আফগানিস্তানের নাগরিক রহমানউল্লাহ লাকনওয়াল। এতে গুরুতর আহত হন দুই জন ন্যাশনাল গার্ড সদস্য। তাদের মধ্যে একজন ইতোমধ্যে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন।
তাৎক্ষণিক অনুসন্ধানে জানা যায়, রহমানউল্লাহ লাকনওয়াল আফগানিস্তানে মার্কিন-ন্যাটো বাহিনীর অভিযানের সময় যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-এর এজেন্ট হিসেবে কাজ করতেন। ২০২১ সালে তালেবান বাহিনী আফগানিস্তানের ক্ষমতা পুনর্দখল করার পর তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের অনুমতিক্রমে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন তিনি।
বুধবার ন্যাশনাল গার্ডের সদস্যদের ওপর বন্দুক হামলা ঘটার কয়েক ঘণ্টা পর যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা দপ্তর জানিয়েছিল, যেসব আফগান নাগরিক যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব ও স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য আবেদন করেছিলেন, তাদের সবার আবেদন বাতিল করা হয়েছে। শনিবারের বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলার দপ্তরে তারবার্তা প্রদানের মাধ্যমে এ পদক্ষেপকে আরও দৃঢ় করল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন।
২০২১ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনাদের প্রত্যাহার করে নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর মার্কিন বাহিনীকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতাকারী আফগানরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন। কারণ মার্কিন বাহিনী থেকে চলে যাওয়া মানে হলো আফগানিস্তানে ফের তালেবান বাহিনীর ক্ষমতায় আসা এবং বাস্তবে হয়েছেও তা-ই। মার্কিন বাহিনীকে সহযোগিতারকারী আফগানদের আশঙ্কা ছিল, ক্ষমতা আসার পরপরই তাদের নিধন শুরু করবে তালেবান বাহিনী।
তাদের এই আশঙ্কা দূর করতে শরণার্থী ও বিশেষ ভিসায় মার্কিন-ন্যাটো বাহিনীকে সহায়তাকারী আফগানদের যুক্তরাষ্ট্রে আসার সুযোগ দিয়েছিল বাইডেন প্রশাসন। সেই সুযোগের আওতায় ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি দিয়েছেন প্রায় ২ লাখ আফগান।
ট্রাম্প প্রশাসনের ঘোষণার পর তাদের সবার ভিসা বাতিল হয়েছে। আফগানদের সহায়তাকারী মার্কিন অলাভজনক অ্যাডভোকেসি সংস্থা আফগান ইভ্যাকের প্রেসিডেন্ট শন ভ্যানডিভার এক ইমেইলবার্তায় রয়টার্সকে এ প্রসঙ্গে বলেছেন, “এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই যে দীর্ঘদিন ধরেই ট্রাম্প প্রশাসন এমন একটি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল।” সূত্র : রয়টার্স।
এমকে
আন্তর্জাতিক
মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি উৎপাদন স্বাভাবিক হতে লাগবে প্রায় দুই বছর: আইইএ
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে ব্যাহত হওয়া জ্বালানি উৎপাদন পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে প্রায় দুই বছর সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)। সংস্থাটি বলছে, যুদ্ধের প্রভাব কাটিয়ে আগের অবস্থায় ফিরতে দেশভেদে সময়ের পার্থক্য থাকবে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সুইস সংবাদপত্র নয়েই জুরশার জাইতুংকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আইইএর প্রধান ফাতিহ বিরোল এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘এটি দেশভেদে আলাদা হবে। উদাহরণ হিসেবে ইরাকে সময় লাগবে সৌদি আরবের তুলনায় অনেক বেশি। তবে সামগ্রিকভাবে আমরা ধারণা করছি, যুদ্ধ-পূর্ব অবস্থায় ফিরতে প্রায় দুই বছর সময় লাগবে।’
বিরোল আরও সতর্ক করে বলেন, হরমুজ প্রণালি দীর্ঘমেয়াদে বন্ধ থাকার প্রভাব আন্তর্জাতিক বাজারে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে না।
তার মতে, ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে যেসব তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজ গন্তব্যের পথে ছিল, সেগুলো ইতোমধ্যে পৌঁছে যাওয়ায় সরবরাহ সংকটের প্রাথমিক ধাক্কা কিছুটা কমে গেছে।
তবে তিনি বলেন, ‘মার্চ মাসে কোনো নতুন ট্যাংকারে তেল বা গ্যাস তোলা হয়নি। ফলে এশিয়ার বাজারে নতুন করে তেল, গ্যাস বা জ্বালানি সরবরাহ হয়নি। এখন সেই ঘাটতি স্পষ্ট হয়ে উঠছে।’
তিনি সতর্ক করেন, যদি হরমুজ প্রণালী দ্রুত পুনরায় চালু না করা হয়, তাহলে বিশ্বকে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি জ্বালানি মূল্যের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
জরুরি তেল মজুত থেকে আবার সরবরাহ বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে বিরোল জানান, আইইএ প্রয়োজনে দ্রুত ও দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।
তিনি বলেন, ‘আমরা এখনো সেই পর্যায়ে পৌঁছাইনি, তবে বিষয়টি অবশ্যই বিবেচনায় রয়েছে।’
আন্তর্জাতিক
স্থায়ী শান্তিচুক্তির পরিবর্তে অস্থায়ী সমঝোতার পথে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান
ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে মতবিরোধের নিষ্পত্তি না হওয়ায় স্থায়ী শান্তিচুক্তির ‘উচ্চাকাঙ্ক্ষা’ থেকে সরে এসেছেন মার্কিন ও ইরানি সরকারি প্রতিনিধিরা। স্থায়ী শান্তি চুক্তির পরিবর্তে তারা এখন পরিবর্তে এখন একটি অস্থায়ী বা অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য চেষ্টা করছেন।
যদি এই অস্থায়ী চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, তাহলে চূড়ান্ত শান্তি চুক্তির আলোচনার জন্য আরও ৬০ দিন সময় পাবে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান এবং সেই আলোচনায় যুক্ত হবেন জাতিসংঘের পরমাণু প্রকল্প পর্যবেক্ষণ সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটোমিক এনার্জি এজেন্সি’র (আইএইএ) প্রতিনিধিরাও।
তেহরানের উচ্চপর্যায়ের দুই কর্মকর্মতার বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।
উল্লেখ্য, ইরানের পরমাণু প্রকল্প ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচী নিয়ে প্রায় দুই যুগ ধরে বিরোধ চলছে ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে। এ বিরোধের জেরেই গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল, শুরু হয় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ।
এই যুদ্ধের অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ জারি করে ইরান। এর ফলে জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ ঘাটতি দেখা দেয় এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট দেখা দেয়, যা দিনকে দিন তীব্রতর হচ্ছে।
টানা ৪০ দিন যুদ্ধের পর গত ৮ এপ্রিল ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। তারপর একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের লক্ষ্যে ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে বৈঠকে বসেন মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিরা; কিন্তু ২১ ঘণ্টা ধরে আলোচনার পরও ব্যর্থ হয় সেই বৈঠক।
বৈঠকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট্র একাধিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার প্রধান কারণ ইরানের পরমাণু প্রকল্প, ইউরেনিয়ামের মজুত এবং পরমাণু প্রকল্পের কার্যক্রম নিয়ে নিয়ে দুই পক্ষের প্রতিনিধিদের গভীর মতপার্থক্য।
অবশ্য ইসলাবাদ বৈঠক থেকে যে ইতিবাচক কিছুই আসেনি— এমন নয়। বৈঠকের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু ছিল হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যি জাহাজের নিরাপদ চলাচল। যুদ্ধের অংশ হিসেবে ২৮ ফেব্রুয়ারির পর হরমুজে জলমাইন পেতেছে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী। ফলে ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল। আগে যেখানে প্রতিদিন এই প্রণালিতে ১২০ থেকে ১৪০টি জাহাজ চলাচল করত, যুদ্ধের পর তা নেমে এসেছে মাত্র ১০ থেকে ১২টিতে।
ইসলামাবাদের বৈঠকে ইরানি প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে প্রস্তাব করা হয়েছিল যে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে এবং ফ্রিজড থাকা অর্থ-সম্পদের অন্তত কিছু অবমুক্ত করে— তাহলে হরমুজ দিয়ে আরও বেশি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করতে দেওয়া হবে।
কিন্তু পরমাণু প্রকল্প নিয়ে দুই পক্ষের মতবিরোধের কারণে হরমুজসহ আরও অন্যান্য ইস্যু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়নি। পুরো বৈঠকের বিরাট অংশ জুড়ে ছিল ইরানের পরমাণু প্রকল্প।
ইরানি সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র চায় যে ইরান তার ইউরেনিয়ামের মজুত ‘ছেড়ে দিক’ এবং আগামী ২০ বছরের জন্য যাবতীয় পরমাণু সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি বন্ধ রাখুক। অন্যদিকে ইরান ইউরেনিয়ামের মজুত ‘ছেড়ে দেওয়ার’ পক্ষপাতী নয়; ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি অবশ্য স্থগিত করতে সম্মত আছে ইরান, তবে সেটি ২০ বছরের জন্য নয়, বড়জোর ৩ কিংবা ৫ বছরের জন্য।
উল্লেখ্য ইরানের কাছে অন্তত ৪০০ কেজি ইউরেনিয়াম আছে, যার বিশুদ্ধতার মাত্রা ৬০ শতাংশ। বিশুদ্ধতার এই মাত্রাকে যতি ৯০ শতাংশে উন্নীত করা যায়, তাহলে এই ইউরেনিয়াম দিয়ে পরমাণু অস্ত্র বানানো সম্ভব।
এ ব্যাপারে আরও বিস্তারিত জানতে ইসলামাবাদের বৈঠকে অংশ নেওয়া মার্কিন প্রতিনিধি দলের এক সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল রয়টার্স। তিনি বলেছেন, “চুক্তির পথে এখনও সবচেয় বড় বাধা ইরানের পরমাণু প্রকল্প।”
সূত্র : রয়টার্স
আন্তর্জাতিক
জাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল পাকিস্তান নৌবাহিনী
নির্ভুল আঘাত হানার সক্ষমতা ও অভিযানগত প্রস্তুতি প্রদর্শনের অংশ হিসেবে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি জাহাজ থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য জাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের সফল অগ্নিপরীক্ষা চালিয়েছে পাকিস্তান নৌবাহিনী। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গণমাধ্যম শাখা (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি উচ্চ গতিতে ও বর্ধিত পাল্লা থেকে নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে, যা ‘প্রস্তুতি ও নির্ভুল আঘাত হানার সক্ষমতার এক দৃঢ় প্রদর্শন’।
দেশটির নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল নাভিদ আশরাফ জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীদের সঙ্গে নিয়ে এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা পর্যবেক্ষণ করেন।
পাকিস্তান আইএসপিআর বলেছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি একটি অত্যাধুনিক দিকনির্দেশনা ব্যবস্থা এবং উন্নত পরিচালনা ক্ষমতা দিয়ে সজ্জিত, যা এটিকে হুমকি এড়াতে, পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নিতে এবং নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম করে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, দেশীয়ভাবে তৈরি এই ক্ষেপণাস্ত্রের সফল উৎক্ষেপণ প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ এবং পরিচালন দক্ষতার সমন্বয়কে তুলে ধরে।
এতে উল্লেখ করা হয়, পরীক্ষাটি একটি বিশ্বাসযোগ্য সমুদ্র-ভিত্তিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা বজায় রাখা এবং এই অঞ্চলে সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে পাকিস্তান নৌবাহিনীর অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন।
পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির, প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি, প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ, জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ কমিটির চেয়ারম্যান এবং সার্ভিস প্রধানরা এই মাইলফলক অর্জনের জন্য অংশগ্রহণকারী ইউনিট ও বিজ্ঞানীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন।
চলতি বছরের শুরুতে পাকিস্তান নৌবাহিনী পাকিস্তান বিমানবাহিনীর একই ধরনের সাফল্যের পর সাম্প্রতিক এই সফল পরীক্ষাগুলো সম্পন্ন হলো।
গত ১০ জানুয়ারি, দেশটির নৌবাহিনী উত্তর আরব সাগরে একটি নৌ-মহড়ার সময় ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য একটি ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করে, যা ক্রমবিকাশমান নৌ-যুদ্ধের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রচলিত ও চালকবিহীন উভয় ধরনের সক্ষমতার প্রদর্শন।
এর আগে, পাকিস্তান বিমান বাহিনী দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি অস্ত্র ব্যবস্থা ‘তৈমুর’-এর একটি সফল উড্ডয়ন পরীক্ষা সম্পন্ন করে, যা ৬০০ কিলোমিটার দূর থেকে শত্রুপক্ষের স্থল ও সামুদ্রিক লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুলভাবে আঘাত হানতে সক্ষম।
সূত্র: জিও নিউজ
আন্তর্জাতিক
অস্ট্রেলিয়ার তেল শোধনাগারে আগুন, ভয়াবহ সংকটের আশঙ্কা
অস্ট্রেলিয়ার একটি তেল শোধনাগারে ভয়াবহ আগুন লেগেছে। মেলবোর্নের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত জিলং শহরের কোরিও এলাকায় অবস্থিত ভিভা এনার্জির একটি তেল শোধনাগারে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দেশটির জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার মধ্যরাতের কিছু আগে জরুরি সেবাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন। এ সময়েই সেখানে বিস্ফোরণ ও আগুনের খবর পাওয়া যায়। প্রায় ১৩ ঘণ্টা জ্বলতে থাকার পর বৃহস্পতিবার আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। ঘটনার সময় কর্মরত সবাইকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
শোধনাগারটি ভিক্টোরিয়া রাজ্যের প্রায় ৫০ শতাংশ এবং জাতীয়ভাবে প্রায় ১০ শতাংশ জ্বালানি উৎপাদন করে। তবে আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও এটি এখনো আংশিকভাবে চালু রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
অস্ট্রেলিয়ার জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস বোয়েন বলেন, এই ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটেছে যখন বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার আগে থেকেই চাপের মধ্যে রয়েছে। তিনি জানান, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও জানা যায়নি। সরকার কোম্পানির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে।
শোধনাগারটির প্রধান নির্বাহী স্কট ওয়ায়াট বলেন, আগুনে দুটি পেট্রোল উৎপাদন ইউনিট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য ইউনিট অক্ষত রয়েছে। নিরাপত্তার কারণে বর্তমানে পেট্রোল, ডিজেল এবং জেট ফুয়েলের উৎপাদন আংশিকভাবে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।
জিওলংয়ের মেয়র স্ট্রেচ কন্টেলজ এই ঘটনাকে ‘ভয়াবহ’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এটি স্থানীয়ভাবে বড় ধরনের ধাক্কা সৃষ্টি করেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগুনের কারণ ছিল যন্ত্রপাতির ত্রুটি, এবং বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।
আন্তর্জাতিক
হরমুজে জাহাজ চলাচল নিয়ে নতুন প্রস্তাব ইরানের
গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথ হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর চলাচলের ব্যাপারে নতুন একটি প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। ক্ষমতাসীন ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকারের একটি সূত্র জানিয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজগুলো যদি প্রণালির ওমান অংশ দিয়ে চলাচল করতে পারবে। ইরান সেক্ষেত্রে হামলা চালাবে না।
তবে এক্ষেত্রে শর্ত রয়েছে। ইরানি সূত্র জানিয়েছে, প্রস্তাবটি তখনই কার্যকর কিংবা বাস্তবায়নযোগ্য হবে— যখন ওয়াশিংটন তেহরানের দাবিগুলো মেনে নিতে প্রস্তুত থাকবে।
১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ হরমুজ প্রণালী পারস্য উপসাগর এবং আরব সাগরকে যুক্ত করেছে। এই প্রণালীর উত্তর উপকূলে ইরান এবং দক্ষিণ উপকূলে ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালী। কারণ, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের মোট সরবরাহের এক প্রায় চতুর্থাংশ পণ্য এই প্রণালী দিয়ে পরিবহন করা হয়। বাংলাদেশ-ভারত-পাকিস্তানের জন্য এই প্রণালীর গুরুত্ব আরও বেশি। কারণ এই তিন দেশের জ্বালানি পণ্যের প্রায় ৮০ শতাংশ হরমুজ দিয়ে আসে। সার, রাসায়নিক ও অন্যান্য পণ্যের পরিবহনের জন্যও এ প্রণালি প্রয়োজনীয়।
স্বাভাবিক সময়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে গড়ে প্রতিদিন ১২০ থেকে ১৪০টি জাহাজ চলাচল করে। তবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ জারি করে ইরান। এর ফলে জ্বালানি তেলবাহী বাণিজ্যিক জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে ঘুরপথে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে।
এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে জ্বালানির বৈশ্বিক বাজারে। বিশ্বের অনেক দেশেই বাড়ছে তেলের দাম, সরবরাহ সংকটও দেখা দিয়েছে।
এছাড়া ইরান অবরোধ জারি করার পর থেকে হরমুজে আটকা পড়েছে শত শত জাহাজ। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে হরমুজে কয়েক শ’ জাহাজ এবং ২ হাজারেরও বেশি ক্রু আটকা অবস্থায় আছেন।
বিশ্বজুড়ে হরমুজ প্রণালিকে মুক্ত করার দাবি প্রতিদিন জোরাল হচ্ছে। গত ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করার পর ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ২১ ঘণ্টাব্যাপী দীর্ঘ বৈঠক হয়। সেই বৈঠকেও খুবই গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু ছিল হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনা।
তবে বর্তমানে যে অবস্থা, তাতে হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ মুক্ত করে দেওয়া ইরানের জন্য বেশ কঠিন। কারণ ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ অভিযান শুরুর পর হরমুজে জলমাইন পেতেছিল ইরানি প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। কিন্তু প্রণালির কোন কোন জায়গায় মাইন স্থাপন করা হয়েছিল, তা এখন শনাক্ত করতে পারছে না আইআরজিসি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, প্রণালির যেসব জায়গায় মাইন পাতা হয়েছে, সেসব ঠিকমতো নথিভুক্ত বা রেকর্ড করেনি আইআরজিসি।
হরমুজ প্রণালি থেকে মাইন সরাতে ইতোমধ্যে তৎপরতা শুরু করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনী। সেই তৎপরতার অংশ হিসেবে ইরানের সমুদ্রবন্দরগুলোতে অবরোধ জারি করা হয়েছে। ফলে একদিকে ইরানের কোনো বন্দর থেকে জাহাজ বের হতে পারছে না, অন্যদিকে বিদেশি কোনো জাহাজ প্রবেশও করতে পারছে না।
হরমুজ থেকে মাইন অপসারণের ব্যাপারে ইরান সহযোগিতা করবে কি-না— এ ব্যাপারে ইরানের সরকারি সূত্রকে প্রশ্ন করেছিল রয়টার্স। কিন্তু সূত্রের তরফ থেকে কোনো উত্তর আসেনি। তবে ইরানের নতুন প্রস্তাবটি হোয়াইট হাউসে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে হোয়াইট হাউসে যোগাযোগ করেছিল রয়টার্স। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরকারি দপ্তর ও বাসভবনের কোনো কর্মকর্তা এ ইস্যুতে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
সূত্র : রয়টার্স



