আন্তর্জাতিক
পাকিস্তানে ভূমিকম্প, তীব্র কম্পনে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন মানুষ
পাকিস্তানে বেলুচিস্তানের লোরালাই বিভাগে ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে। সেখানকার মানুষ তীব্র কম্পন অনুভব করেন। শনিবার (২৯ নভেম্বর) সকালে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে বলে সংবাদমাধ্যম ডেইলি অসাফ।
ভূকম্পন কেন্দ্র জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৩ দশমিক ৫। কম শক্তিশালী হলেও এটির কম্পন বেশ জোরালো ছিল। ভূমিকম্পটি সংঘটিত হয় মাটির ২০ কিলোমিটার গভীরে।
এটির উৎপত্তিস্থল ছিল লোরালাই বিভাগের ২৩ কিলোমিটার দক্ষিণপূর্ব দিকে।
ভূমিকম্পের পর মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বেশিরভাগ মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি ও অফিস থেকে বেরিয়ে যান। ভূমিকম্প এখন পর্যন্ত কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
পাকিস্তান ও আফগানিস্তান ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ। সেখানে প্রায়ই ভূমিকম্প হয়ে থাকে। দেশটিতে সর্বশেষ ২০০৫ সালে সবচেয়ে প্রাণহানিকর ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। কাশ্মিরকে কাঁপিয়ে দেওয়া ওই ভূমিকম্পে ৭৩ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন।
অপরদিকে বেলুচিস্তানে সবচেয়ে প্রাণহানিকর ভূমিকম্প আঘাত হানে ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর। মধ্যরাতে হওয়া ৫ দশমিক ৫ মাত্রার ওই ভূমিকম্পে ছয়জন নিহত ও ১৫ জন আহত হয়েছিলেন। এছাড়া অনেক বাড়িঘর ধসে পড়েছিল। বিশেষ করে কাঁচা বাড়ি সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
আন্তর্জাতিক
এয়ারবাসের কয়েক হাজার উড়োজাহাজ উড্ডয়ন স্থগিত
তীব্র সৌর বিকিরণের কারণে উড়োজাহাজের অনবোর্ড ফ্লাইট কন্ট্রোল কম্পিউটারে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। এমন আশঙ্কায় এয়ারবাসের কয়েক হাজার উড়োজাহাজের উড্ডয়ন স্থগিত রাখা হয়েছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে ফ্লাইট বিলম্ব দেখা দিয়েছে।
এয়ারবাসের এ৩২০ মডেলের প্রায় ৬,০০০ উড়োজাহাজে এমন জটিলতা দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। বিশ্বে এয়ারবাসের যে পরিমাণ উড়োজাহাজ চলে এই সংখ্যা সেটির প্রায় অর্ধেক। জটিলতা কাটাতে দ্রুত সফটওয়্যার আপডেট করতে পরামর্শ দিয়েছে এয়ারবাস কর্তৃপক্ষ। ধারণা করা হচ্ছে, এরপর বেশিরভাগ উড়োজাহাজই আবার উড্ডয়ন করতে পারবে।
যুক্তরাজ্যের বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানিয়েছে, এই সতর্কতার কারণে ফ্লাইট বাতিল হতে পারে। তবে দেশটির বিমানবন্দরে এখনও তেমন প্রভাব দেখা যায়নি।
এয়ারবাস উড়োজাহাজ প্রস্তুতকারী ইউরোপীয় কোম্পানি। তারা জানিয়েছে, গত অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর আকাশসীমার মাঝামাঝিতে উড়তে থাকা একটি উড়োজাহাজ হঠাৎ উচ্চতা হারিয়ে ফেলে। ওই ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে সৌর বিকিরণ ও অনবোর্ড ফ্লাইট কন্ট্রোল কম্পিউটারে ব্যাঘাত ঘটার বিষয়টি শনাক্ত হয়। জেটব্লু এয়ারওয়েজের ওই ফ্লাইটটি ফ্লোরিডায় জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয়। আহত হন অন্তত ১৫ জন।
আন্তর্জাতিক
বিমানবন্দরে অবতরণের সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিমান বিধ্বস্ত
যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোর পশ্চিমাঞ্চলীয় উপশহর ডাউনার্স গ্রোভে ব্রুকরিজ এয়ারপার্কে একটি ছোট বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। স্থানীয় সময় শুক্রবার দুপুরে অবতরণের সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে ডু-পেজ কাউন্টি শেরিফ অফিস। খবর সিবিএস নিউজের।
শেরিফের দপ্তর জানায়, স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ১০ মিনিটের দিকে সিঙ্গেল-ইঞ্জিনের বিমানটি অবতরণের সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ে বিমানটি উল্টে যায় এবং পূর্ব–পশ্চিমমুখী রানওয়ের পাশের একটি বাড়ির পেছনের উঠানে গিয়ে থামে।
দুর্ঘটনার সময় বিমানের পাইলট ও একমাত্র যাত্রী ছিলেন। তাদের প্রাথমিকভাবে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য কাছের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বিমানটি বাড়ির দেয়ালের সঙ্গে ধাক্কা খেলেও বাড়িটির কোনো উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়নি বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
ব্রুকরিজ এয়ারপার্ক এমন একটি আবাসিক এলাকা যেখানে বাড়িগুলোর সঙ্গে ব্যক্তিগত হ্যাঙ্গার সরাসরি রানওয়ের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি) জানিয়েছে, তারা দুর্ঘটনার বিষয়ে অবহিত হয়েছে। তবে তদন্ত সম্পর্কে এখনো কোনো বিস্তারিত তথ্য দেয়নি সংস্থাটি।
আন্তর্জাতিক
কৃষ্ণ সাগরে চায়নিজ জাহাজে মিসাইল হামলা, বাংলাদেশি নাবিক উদ্ধার
রাশিয়ায় পণ্য বোঝাই করতে যাওয়ার পথে তুরস্কের কাছে কৃষ্ণ সাগরে চায়নিজ একটি জাহাজে মিসাইল হামলা হয়েছে। একাধিক মিসাইল হামলায় জাহাটিতে আগুন ধরে গেলে বাংলাদেশি নাবিকসহ অন্যদের তুরষ্কের কোস্টগার্ড উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। সব নাবিক সুস্থ থাকলে তাদের আতঙ্ক কাটছে না।
চায়নিজ অয়েল ট্যাংকার এমটি কায়রোসে বাংলাদেশি চার নাবিকসহ মোট ২৫ জন ছিলেন। বাংলাদেশি নাবিকেরা হলেন- আজগার হোসাইন, প্লাবন, হাবিব ও আল আমিন।
নাবিক আজগার হোসাইন তুরষ্ক থেকে ইনডিপেডেন্ট টেলভিশনকে জানান, শুক্রবার এমটি কায়রোস পণ্য নিতে রাশিয়া যাচ্ছিলেন তারা। জাহাজটি তুরষ্ক সীমান্ত পার হয়ে রাশিয়া ঢোকে। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে লর মিসাইল হামলা শুরু হয়। এতে পুরো জাহাজে আগুন ধরে যায়।
এই নাবিক জানান, সন্ধ্যা প্রায় ৭টার দিকে তুরস্ক কোস্টগার্ডের একটি জাহাজ তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সবাই সুস্থ থাকলেও তাদের মধ্যে ভয় কাজ করছে।
এমকে
আন্তর্জাতিক
ইন্দোনেশিয়ায় বন্যা-ভূমিধস, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮৪
ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপজুড়ে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে এই সপ্তাহে কমপক্ষে ৮৪ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও অনেক মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) উদ্ধার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
ইন্দোনেশিয়া ছাড়াও প্রতিবেশী মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডেও টানা ভারি বৃষ্টিতে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
উত্তর সুমাত্রা প্রদেশে এখন পর্যন্ত ৬২ জন নিহত এবং ৯৫ জন আহত হয়েছেন—যার মধ্যে গুরুতর ও সামান্য আহত দু’ধরনের মানুষই রয়েছেন।
স্থানীয় পুলিশ মুখপাত্র ফেরি ওয়ালিনতুকান বলেন, অন্তত ৬৫ জন এখনও নিখোঁজ, যাদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।
পাশের পশ্চিম সুমাত্রা প্রদেশে কমপক্ষে ২২ জন মারা গেছেন এবং ১২ জন নিখোঁজ বলে জানিয়েছে স্থানীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা।
ওয়ালিনতুকান বলেন, উত্তর সুমাত্রায় লোকজনকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া এবং ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়াই এখন কর্তৃপক্ষের প্রধান কাজ। তবে কিছু এলাকায় যাতায়াত ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় উদ্ধারকার্যে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আবহাওয়া ভালো হলে হেলিকপ্টার পাঠিয়ে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছানো সম্ভব হবে।
সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত সিবোলগা শহরে একাই ৩০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে, ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম প্রান্তের আচেহ প্রদেশেও ভারি বর্ষণে বন্যা ও ভূমিধস দেখা দিয়েছে। প্রায় ১ হাজার ৫০০ মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নিতে হয়েছে এবং কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
রাষ্ট্রায়ত্ত বিদ্যুৎ কোম্পানি জানিয়েছে, আকস্মিক বন্যায় একটি ট্রান্সমিশন টাওয়ার ধসে পড়ার পর থেকে তারা ধীরে ধীরে বিদ্যুৎ পরিষেবা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে।
ইন্দোনেশিয়ায় জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলে বর্ষাকাল, আর এ সময় ভূমিধস, আকস্মিক বন্যা ও পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বেশি থাকে।
কয়েক দিনের মধ্যে সৃষ্ট একটি শক্তিশালী মৌসুমি ঝড় এই পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করেছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঝড়ের ধরণ ও শক্তি বদলে যাচ্ছে—বর্ষাকাল দীর্ঘ হচ্ছে, বৃষ্টিপাত বাড়ছে এবং আকস্মিক বন্যা বাড়ছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
এর আগে এই মাসেই মধ্য জাভায় ভারি বৃষ্টিজনিত ভূমিধসে কমপক্ষে ৩৮ জন নিহত এবং ১৩ জন নিখোঁজ হন।
আন্তর্জাতিক
হংকংয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত বেড়ে ১২৮
হংকংয়ের কয়েকটি বহুতল আবাসিক ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১২৮ জনে দাড়িয়েছে। আগুনে পুড়ে গুরতর আহত হয়েছে আরও ৭৬ জন। এ ঘটনায় এখনো ২০০ জনের বেশি নিখোঁজ রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বুধবার (২৬ নভেম্বর) তাই পো জেলায় অবস্থিত আটটি ভবনের মধ্যে সাতটিতে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। হংকংয়ের প্রশাসনিক প্রধান জানিয়েছেন, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
এক ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা বলেন, আমাদের সবকিছুই ছিল এই অ্যাপার্টমেন্টে। এখন সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে—আর কী রইলো আমাদের?
সর্বশেষ জনশুমারি অনুযায়ী, এসব ভবনে প্রায় ৪ হাজার ৬০০ বাসিন্দা থাকতেন। তবে অগ্নিকাণ্ডের সময় ভবনগুলোতে ঠিক কতজন ছিলেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
আগুন কীভাবে শুরু হয়েছিল তা নিয়ে তদন্ত চলছে। প্রাথমিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে— ভবনের বাইরের অংশে ব্যবহৃত অগ্নি-প্রতিরোধী নয় এমন সামগ্রী আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার কারণ হতে পারে।
ঘটনার পর তিনজন নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাকে অবহেলাজনিত হত্যার সন্দেহে আটক করেছে পুলিশ।



