জাতীয়
সৌদিতে বাংলাদেশি চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগের প্রস্তাব
বাংলাদেশি ডাক্তার, নার্স, কেয়ারগিভার, টেকনিশিয়ান ও সংশ্লিষ্ট কর্মী সৌদি আরবে নিয়োগের জন্য একটি প্রাতিষ্ঠানিক জি-টু-জি (সরকারি পর্যায়ে) ফ্রেমওয়ার্ক প্রস্তাব করা হয়েছে। সম্প্রতি রিয়াদে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. নেয়ামত উল্যা ভূঁইয়া এবং সৌদি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কন্ট্র্যাক্টিং ও বিদেশি অফিসবিষয়ক মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ বিন হাসান আল-দুগাইসারের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ প্রস্তাব আলোচনা হয়।
রবিবার (২৩ নভেম্বর) এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)।
সরকারি এক নথির তথ্যানুযায়ী জানানো হয়, নিয়ামত উল্লাহ ভূঁইয়ার সাম্প্রতিক সরকারি সফরকালে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ২০২৪-২৫ সালে এক হাজার ২০০ জন বাংলাদেশি গ্র্যাজুয়েট নার্স নিয়োগের বিষয়টি প্রশংসিত হয়। বাংলাদেশ তাদের কর্মদক্ষতা, পেশাদারিত্ব ও সেবার মান নিয়ে সৌদি পক্ষের মতামত চায় এবং প্রশিক্ষণ, ভাষাজ্ঞান ও সামগ্রিক প্রস্তুতি উন্নয়নে পরামর্শ কামনা করে।
যোগ্য নার্সদের বেসরকারি খাতে নিয়োগ সহজ করতে বাংলাদেশ নার্সদের জন্য প্রোমেট্রিক পরীক্ষার ছাড় চায় এবং সৌদি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সরকারি হাসপাতাল নিয়োগ মডেলের অনুরূপ একটি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তাব করে।
সৌদি কমিশন ফর হেলথ স্পেশালটিজের (এসসিএফএইচএস) সঙ্গে বাংলাদেশ সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করে যাতে মূল্যায়ন ও লাইসেন্সিং সহজ হয়। এ জন্য সমঝোতা স্মারক বা চুক্তি স্বাক্ষর, যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ বা প্রযুক্তিগত কমিটি গঠন এবং পাঠ্যক্রম সমন্বয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়।
প্রতিক্রিয়ায় সৌদি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, স্বাস্থ্য খাতের পরিবর্তনের আগে উভয় পক্ষ একটি খসড়া চুক্তি চূড়ান্ত করেছিল, যা পরিবর্তন নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংশোধন করা যেতে পারে।
বৈঠকে জানানো হয়, সৌদি আরবে ক্রিটিক্যাল কেয়ার নার্সের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে এবং বাংলাদেশি নার্সরা সাধারণ ওয়ার্ডে টেকনিক্যাল নার্স হিসেবে স্বাধীন নার্সের তত্ত্বাবধানে কাজ করছেন।
সৌদি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আর স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করছে না, বর্তমানে হেলথ হোল্ডিং কোম্পানি (এইচএইচসি) সৌদি আরবে স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের দায়িত্ব পালন করছে।
নার্স নিয়োগে সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতেই প্রোমেট্রিক পরীক্ষা, পেশাগত অভিজ্ঞতা, সৌদি হেলথ কাউন্সিল কর্তৃক পেশাগত যোগ্যতার স্বীকৃতি, নার্স হিসেবে সৌদি লাইসেন্স এবং চিকিৎসাগত ত্রুটি কাভার করার জন্য বীমা বাধ্যতামূলক শর্ত।
জাতীয়
গ্রাহকবান্ধব গ্যাস সরবরাহে নতুন নির্দেশনা দিল সরকার
দেশে গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও সহজ, দ্রুত ও গ্রাহকবান্ধব করতে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, দেশের ক্রমবর্ধমান গ্যাসের চাহিদা, সরবরাহ ব্যবস্থার চ্যালেঞ্জ এবং আন্তর্জাতিক চর্চা বিবেচনায় নিয়ে সেবাসমূহকে আরও গ্রাহকবান্ধব ওসহজীকরণ করার জন্য নির্দেশক্রমে এ পরিপত্র জারি করা হলো।
নির্দেশনাগুলো হচ্ছে :
(ক) গ্যাস সরঞ্জামাদির অনুমোদিত ঘণ্টাপ্রতি লোড অপরিবর্তিত রেখে সরঞ্জাম পুনর্বিন্যাস ও প্রতিস্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট গ্যাস কোম্পানির তালিকাভুক্ত কোনো ঠিকাদার দ্বারা কমিশনিং কাজ সম্পাদন নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য গ্যাস বিতরণ কোম্পানির অনুমতির প্রয়োজন হবে না।
(খ) একই আঙ্গিনায় অবস্থিত, একই মালিকানাধীন আরেকটি শিল্প ইউনিটের অব্যবহৃত লোড গ্যাস বিতরণ কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক/আঞ্চলিক প্রধানের (ব্যবস্থাপক) অনুমোদন সাপেক্ষে স্থানান্তর করতে হবে।
(গ) একই আঙিনায় অবস্থিত, একই মালিকানাধীন আরেকটি শিল্প ইউনিটে ক্যাপটিভ পাওয়ার শ্রেণিতে কার্যকরকৃত লোড প্রয়োজনে শিল্প শ্রেণিতে স্থানান্তর করা যাবে। তবে কোনো ক্রমেই শিল্প শ্রেণিতে কার্যকরকৃত লোড ক্যাপটিভ পাওয়ার শ্রেণিতে স্থানান্তর করা যাবে না।
(ঘ) মিটার স্থাপনের ক্ষেত্রে অনধিক ৭ (সাত) দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট গ্যাস বিতরণ ও বিপণন কম্পানি কর্তৃক স্থাপন পরবর্তী পর্যায়ে গুণগত মান যাচাই করতে হবে।
জাতীয়
বাস ও লঞ্চে একচেটিয়া ভাড়া বৃদ্ধির পায়তাঁরা বন্ধের আহ্বান
আন্তর্জাতিক ক্রেতা-ভোক্তা অধিকার আইন লঙ্ঘন করে বাস ও লঞ্চের প্রভাবশালী মালিক সমিতির নেতৃত্বে একচেটিয়া ভাড়া বৃদ্ধির পায়তাঁরা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।
সোমবার বিকালে ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটিতে “যাত্রীদের দরকষাকষি বাদ দিয়ে বাস ও লঞ্চ মালিক সমিতি কর্তৃক একচেটিয়া ভাড়া বৃদ্ধির পায়তাঁরার প্রতিবাদে আহত এক জরুরী সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী এমন অভিযোগ তুলেন।
তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি পেলে আনুপাতিক হারে বাস, লঞ্চ ও অন্যান্য গণপরিবহনের ভাড়া বাড়বে এটাই স্বাভাবিক। কিন্ত বাস ও লঞ্চ মালিক সমিতি সরকারের কিছু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে যাত্রী সাধারণের প্রতিনিধিত্ব বা দরকষাকষি বাদ দিয়ে একচেটিয়া ভাড়া নির্ধারণের পায়তারা চালাচ্ছে। জনস্বার্থের ভাড়া নির্ধারণ কেন লুকোচুরি করা হবে। কেন মিডিয়া থেকে গোপন করা হবে।
বাড়তি ভাড়া নিয়ে বাসে বাসে লঞ্চে লঞ্চে হাতাহাতি মারামারির শিকার হয় যাত্রীরা, লাঞ্চিত হয় যাত্রীরা, কিন্তু এই ভাড়া প্রদানের ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্থ পক্ষ যাত্রী সাধারণের প্রতিনিধিত্ব বাদ দিয়ে একচেটিয়া ভাড়া নির্ধারণের পায়তাঁরার প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
আমরা দেশের যাত্রী সাধারণের পক্ষে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জনদুভোর্গের বিষয় সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য তুলে ধরছি।
৫২ আসনের বাসের ভাড়া নির্ধারণ করা হলেও ৫২ আসনের কোন বাসের ভাড়া তালিকা তৈরী করা হয়না। আরামদায়কের কথা বলে ৪০ আসনের ভাড়ার তালিকায় ৫২ আসন, ৫৫ আসন, ৬০ আসনের বাসে ভাড়া আদায় করা হয়। যা যাত্রী সাধারণের সাথে প্রতারণার সামিল।
বাসের ভাড়া নির্ধারণের ব্যয় বিশ্লেষণে ২১ টি উপদান আনা হয় মালিকদের মর্জিমত। সরকারি বা বেসরকারি বা ক্ষতিগ্রস্থ পক্ষের অথবা তৃতীয় পক্ষের কেউ উল্লেখিত উপাদানসমূহ যাচাই-বাচাই করার সুযোগ রাখা হয় না। ফলে একচেটিয়া ভাড়া নির্ধারণের সুযোগ থাকে।
ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীর লক্কড়-ঝক্কড় বাসগুলোকে অস্বাভাবিক মূল্য ও অস্বাভাবিক ব্যাংক সুদ দেখিয়ে মূল্য বৃদ্ধি করে ভাড়া নির্ধারণের টেবিলে হাজির করা হয়, ফলে যাত্রী ভাড়া বেড়ে যায়।
৪. পুরোনো লক্কড়-ঝক্কড় বাসগুলো যাত্রীবোঝায় চলন্ত অবস্থায় এখানে সেখানে বন্ধ হয়ে যাত্রী দুভোর্গ সৃষ্টি করে। অথচ এই বাসগুলো রুটিন মেন্টেনেন্স, টায়ার, টিউব ইত্যাদি পাটর্সের অস্বাভাবিক মূল্য ধরা হয়।
অতি সম্প্রতি জ্বালানি তেলের মূল্য তিনদফা কমার প্রেক্ষিতে প্রতি ১ টাকায় ১ পয়সা হারে বাস ভাড়া কমানো হয়েছে। একই সূত্র ধরে এবার প্রতিটি লিটারে ১৫ টাকা মূল্য বৃদ্ধির কারণে বাস ভাড়া প্রতিকিলোমিটারে সর্বোচ্চ ১৫ পয়সা বাড়ানো যেতে পারে।
তার অন্যতা হলে যাত্রী কল্যাণ সমিতি কঠিন ও কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে। এসব বিষয় সুরাহার জন্য তিনি মাননীয় সড়ক পরিবহন মন্ত্রী ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এতে আরো বক্তব্য রাখেন কনজুমার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এর সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট হুমায়ুন কবির ভূঁইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, মাহমুদুল হাসান রাসেল, আলমগীর কবির বিটু, মনজুর হোসেন ইসা প্রমুখ।
জাতীয়
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ-এর সঙ্গে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তাঁর অফিসকক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর বিন আবিয়াহ সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
সোমবার (২০ এপ্রিল) বৈঠককালে তাঁরা দুই দেশের আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ইস্যু, সৌদি আরবে বসবাসরত ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাদের (মিয়ানমার নাগরিক) বাংলাদেশী পাসপোর্ট প্রদান, পর্যটন ও জ্বালানি খাতে সৌদি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
বৈঠকের শুরুতে মন্ত্রী রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানান। রাষ্ট্রদূত নতুন পোর্টফোলিওতে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য মন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান।
মন্ত্রী বলেন, “সৌদি আরব বাংলাদেশের অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ। দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতার অনেক ক্ষেত্র রয়েছে। জনশক্তি রপ্তানি ছাড়াও বাংলাদেশের জ্বালানি ও পর্যটন খাতে সৌদি আরবের বিনিয়োগের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।” তিনি এসব খাতে বিনিয়োগসহ দু’দেশের সহযোগিতার নতুন নতুন ক্ষেত্র উন্মোচনের জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ করেন।
সৌদি আরবে অবস্থানরত ৬৯ হাজার রোহিঙ্গার বাংলাদেশী পাসপোর্ট ইস্যুর প্রসঙ্গ তুলে রাষ্ট্রদূত এই প্রক্রিয়াকে আরো ত্বরান্বিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। জবাবে মন্ত্রী জানান যে, প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস বা প্রমাণক সাপেক্ষে ইতোমধ্যে ২২ হাজার রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশী পাসপোর্ট প্রদান করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে বাংলাদেশ থেকে বিশেষ টিম পাঠানো হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী কঠোর হুঁশিয়ারি দেন যে, পাসপোর্ট ইস্যুর ক্ষেত্রে কোনো ধরনের দুর্নীতি বা অনিয়ম সহ্য করা হবে না।
মন্ত্রী আরো বলেন, যেসব মিয়ানমার নাগরিকের বাংলাদেশী ডকুমেন্টস রয়েছে বা যারা প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করেছে, তাদের দ্রুত পাসপোর্ট প্রদান করতে হবে। এক্ষেত্রে সৌদি আরব থেকে পূর্ণাঙ্গ তালিকা নিয়ে পুনরায় যাচাই-বাছাই করার জন্যও তিনি সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা প্রদান করেন।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদলকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানান। মন্ত্রী আমন্ত্রণের জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং আগামী জুলাই মাসের প্রথমার্ধে তিনি সৌদি আরব সফর করতে পারেন বলে রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করেন।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, রাজনৈতিক অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ এবং রাজনৈতিক-১ শাখার উপসচিব বেগম মিনারা নাজমীনসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয়
ডিসি-এসপিদের জন্য নতুন নির্দেশনা
জেলা সদরে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রীর আগমন ও বিদায়ের সময় অভ্যর্থনা ও বিদায় সংবর্ধনা জানাবেন জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের স্থানীয় পর্যায়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। তবে এ কারণে ডিসি বা এসপিকে তাদের নির্ধারিত সরকারি সফর বাতিল বা পরিবর্তন করতে হবে না।
যদি ডিসি বা এসপি জেলা সদরে উপস্থিত না থাকেন, তাহলে জ্যেষ্ঠ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ দায়িত্ব পালন করবেন। তবে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী বিশেষভাবে চাইলে ডিসি বা এসপি নিজ সফরসূচি বাতিল করে উপস্থিত থাকবেন।
সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ সংক্রান্ত নতুন নির্দেশনা জারি করেছে, যা সোমবার (২০ এপ্রিল) প্রকাশ করা হয়। নতুন এ নির্দেশনা ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট জারি করা পূর্বের নির্দেশনার পরিবর্তে কার্যকর হবে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রীদের বিদেশ গমন ও দেশে ফেরার সময় মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত সচিব বা যুগ্ম সচিব বিমানবন্দরে উপস্থিত থাকবেন। দেশের অভ্যন্তরে সফরকালে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রীর অভিপ্রায় অনুযায়ী তার ঢাকা ত্যাগ ও প্রত্যাবর্তনস্থলে মন্ত্রণালয় বা বিভাগের মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রীর একান্ত সচিব উপস্থিত থাকবেন।
উপজেলা সদর বা উপজেলার অন্যকোনো স্থানে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রীর সফরকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী পুলিশ সুপার এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের স্থানীয় পর্যায়ের জ্যেষ্ঠতম কর্মকর্তা অভ্যর্থনা ও বিদায় সংবর্ধনা জানাবেন। আবশ্যক না হলে জেলা প্রশাসক কিংবা পুলিশ সুপারের এ ক্ষেত্রে উপস্থিত থাকার প্রয়োজন নেই।
কোনো জেলা বা উপজেলায় আগমন বা প্রস্থানের সময় আশপাশের জেলার বিমানবন্দর বা রেলস্টেশন ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহৃত হলে সেখানে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের উপযুক্ত প্রতিনিধি উপস্থিত থাকবেন। বিভাগীয় কমিশনার সদর দপ্তরে উপস্থিত থাকলে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রীর আগমনের পর সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎ করতে পারেন।
মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রীর সফরসূচি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এসপি নিরাপত্তার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। রেলযোগে ভ্রমণের ক্ষেত্রে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রীর সফরসূচি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রেলওয়ে পুলিশ সুপার তৎক্ষণাৎ সংশ্লিষ্ট রুটের সব পুলিশ স্টেশন বা ফাঁড়িকে জানাবে।
যে স্টেশনে ট্রেন থেকে নামবেন এবং ট্রেনে পুনরায় উঠবেন বা কোনো জংশনে ট্রেন বদলের প্রয়োজন হবে সেসব স্থানে পুলিশের একজন ইন্সপেক্টর বা সাব ইন্সপেক্টর উপস্থিত থাকবেন। এ ছাড়া রেলযোগে চট্টগ্রামে গমন ও প্রস্থানের সময় সেখানে চট্টগ্রাম রেলওয়ের পুলিশ সুপার উপস্থিত থাকবেন।
সাধারণ নির্দেশাবলি
মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রীদের সফরসূচি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে যথাসময়ে পাঠাতে হবে।
সফরসূচিতে কোনো পরিবর্তন হলে তাও যথাসময়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে জানাতে হবে। সার্কিট হাউস বা সরকারি রেস্ট হাউস ছাড়া নিজ বাড়ি কিংবা অন্যত্র অবস্থানের ক্ষেত্রেও প্রটোকল সংক্রান্ত বিদ্যমান নির্দেশাবলি প্রযোজ্য হবে। সংশ্লিষ্ট জেলার এসপি নিরাপত্তার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
সফরসূচি প্রণয়নের সময় সফরটি সরকারি না ব্যক্তিগত তা মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রীদের দপ্তর থেকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানাতে হবে। সরকারি সফরের সময় মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রীদের জন্য যানবাহন ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।
জাতীয়
ব্রাসেলসে পিসিএ চুক্তির প্রাথমিক সই করলো বাংলাদেশ–ইইউ
বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতা চুক্তি (পিসিএ)-এর প্রাথমিক স্বাক্ষর সম্পন্ন হয়েছে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) সকালে ব্রাসেলসে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
বাংলাদেশের পক্ষে স্বাক্ষর করেন সচিব (পূর্ব ও পশ্চিম) ড. মু. নজরুল ইসলাম এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষে ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর (এশিয়া অ্যান্ড প্যাসিফিক) পাওলা পাম্পালনি।
স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং ইউরোপীয় কমিশনের হাই রিপ্রেজেনটেটিভ/ভাইস প্রেসিডেন্ট কাজা কাল্লাস।
এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ–ইইউ সম্পর্ক আরও প্রাতিষ্ঠানিক ও কৌশলগত পর্যায়ে উন্নীত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।
এমএন



