জাতীয়
শেখ হাসিনার রায় ঘিরে রাজধানীজুড়ে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩ আসামির বিরুদ্ধে আজ (সোমবার) রায় ঘোষণা করবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। রায় ঘিরে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা নাশকতা চালাতে পারে বলে জনমনে আশঙ্কা ও উদ্বেগ রয়েছে।
এ অবস্থায় আওয়ামী লীগের যেকোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিহত করতে সতর্ক রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। নাশকতা প্রতিরোধ ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে রোববার থেকেই ঢাকার বিভিন্ন প্রবেশমুখে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। এছাড়া রাজধানীতে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
সূত্র জানিয়েছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা যাতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে রাজধানীতে জমায়েত হতে না পারে, সেজন্য সব থানাকে নির্দেশনা দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। এর পাশাপাশি রেল ও নৌপথেও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং পুলিশ সদস্যরাও সতর্ক রয়েছে।
এছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও এর আশপাশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের সামনের পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেছেন, পুলিশের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি রয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালসহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। কোনো দল বা গোষ্ঠি নাশকতা সৃষ্টির চেষ্টা করলে, পুলিশ দেশ ও জনগণের স্বার্থে তা প্রতিরোধে আইনগত ব্যবস্থা নেবে।
এছাড়া সুপ্রিম কোর্টের মাজার গেট এলাকায় ডিএমপি, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে থাকবে বলেও জানান তিনি।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের ফোর্স মোতায়েন আছে। কোনো ধরনের নিরাপত্তার শঙ্কা নেই।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেন, যারা মানুষ ও পুলিশ সদস্যদে ওপর ককটেল হামলা ও যানবাহনে আগুন দেবেন, আইনসম্মতভাবেই তাদের ওপর গুলির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় ১৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। ঢাকা, গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর ও মাদারীপুর জেলার সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তারা দায়িত্ব পালন করছে।
র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এমজেডএম ইন্তেখাব বলেন, র্যাব-২ ও ৩ এর পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আশপাশে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আমাদের সদস্যরা টহল ও চেকপোস্ট কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি অনলাইনে যেসব হুমকি আছে, সেগুলো আমাদের সাইবার মনিটরিং টিম সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছে।
উল্লেখ্য, শেখ হাসিনার রায় বাংলাদেশ টেলিভিশন সরাসরি সম্প্রচার করবে। একই সঙ্গে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ঢাকা শহরের বেশ কয়েকটি জায়গায় বড় স্ক্রিনে রায় ঘোষণা সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ফেসবুক পেজেও তা প্রচার করা হবে।
এমকে
জাতীয়
দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কোস্টগার্ডকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বাংলাদেশ কোস্টগার্ডকে সব সময় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কোস্টগার্ড মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হক সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশনা দেন।
সৌজন্য সাক্ষাতে তারা পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের দেশপ্রেম এবং পেশাদারিত্বে তাদের নিরলস প্রচেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
বিশেষ করে সমুদ্র উপকূল ও নদী তীরবর্তী এলাকায় শান্তি, নিরাপত্তা এবং জনগণের স্বার্থে দুর্যোগ মোকাবিলায় জনসেবামূলক কাজ অব্যাহত রাখার নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।
এসময় কোস্টগার্ডের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী অবহিত হন এবং এই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতে অব্যাহত থাকবে বলেও প্রধানমন্ত্রী তাদের আশ্বস্ত করেন।
এ সময় দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
এমএন
জাতীয়
তরুণ পেশাজীবীরাই দেশের ভবিষ্যৎ বিনির্মাণের প্রধান শক্তি: তথ্যমন্ত্রী
বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে তরুণ পেশাজীবীরাই প্রধান শক্তি বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। টেকসই জাতীয় উন্নয়নের জন্য তরুণ প্রজন্মের মধ্যে নৈতিক নেতৃত্ব, উদ্ভাবনী চিন্তা এবং সম্মিলিত দায়বদ্ধতা থাকা অপরিহার্য।
সোমবার (২ মার্চ) রাজধানীর সিক্স সিজনস হোটেলে ‘ফোরাম অব ইয়ং প্রফেশনালস’ (এফওয়াইপি) আয়োজিত ‘নেতৃত্ব সংলাপ ও ইফতার মাহফিল’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও বিভিন্ন খাতের পেশাজীবীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি একটি প্রাণবন্ত মিলনমেলায় পরিণত হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেডের চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ। তিনি তরুণদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আর্থিক সচেতনতা এবং উদ্যোক্তা মনোভাবই পারে একজন পেশাজীবীকে সফল করতে। দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও সামাজিক ক্ষমতায়নে তরুণদের পেশাগত সততার সঙ্গে কাজ করতে হবে।’
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফোরাম অব ইয়ং প্রফেশনালসের উপদেষ্টা রাশেদ উল হক সরকার। তিনি সংগঠনের দীর্ঘ যাত্রা, সাম্প্রতিক অর্জন এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, নেতৃত্ব বিকাশ এবং পেশাগত উৎকর্ষ সাধনের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক অবদান রাখতে এফওয়াইপি বদ্ধপরিকর।
সন্ধ্যার বিশেষ আকর্ষণ ছিল এফওয়াইপির নিবেদিতপ্রাণ সদস্যদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান। সংগঠনের প্রতি নিষ্ঠা, অসামান্য অবদান এবং সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতিস্বরূপ নির্বাচিত সদস্যদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। নেতৃত্বগুণ এবং স্বেচ্ছাসেবীমূলক কাজের মাধ্যমে যারা উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন, তাদের এই বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত করা হয়।
ইফতারের পূর্বে আয়োজিত নেতৃত্ব সংলাপে তরুণ পেশাজীবীদের বর্তমান চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। বক্তারা সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে তরুণদের এগিয়ে যাওয়ার পথনির্দেশনা দেন। সম্মিলিত ইফতারের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে, যা অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ঐক্য, সহযোগিতা ও পারস্পরিক বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করে।
‘ফোরাম অব ইয়ং প্রফেশনালস’ (এফওয়াইপি) একটি সক্রিয় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে উদীয়মান নেতা ও পেশাজীবীদের ক্ষমতায়ন এবং দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে জাতীয় অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।
এমএন
জাতীয়
প্রথম অধিবেশনেই উঠতে পারে রাষ্ট্রপতির অভিশংসনের প্রস্তাব
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি বেশ পুরোনো। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই বিভিন্ন দল ও সংগঠন থেকে এ দাবি জানানো হয়েছে। তবে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতায় এ নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি অন্তর্বর্তী সরকার। সম্প্রতি একটি দৈনিকে দেওয়া রাষ্ট্রপতির সাক্ষাৎকার কেন্দ্র করে আবারও এ আলোচনাটি সামনে এসেছে। তার বক্তব্যকে ‘অভ্যন্তরীণ ও গোপনীয়’ বিষয় জনসমক্ষে প্রকাশ করে শপথ ভঙ্গ বলে অবহিত করেছে প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী। অন্যদিকে, জামায়াতের মিত্র দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রকাশ্যেই রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন ও গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে।
আগামী ১২ মার্চ শুরু হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে অভিশংসন করার প্রস্তাব উঠতে পারে। জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় বিরোধী জোট এই উদ্যোগ নেওয়ার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। জোটের নেতাদের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের নিয়োগ দেওয়া এই রাষ্ট্রপতি ‘জুলাই গণহত্যায় নীরব থেকে’ এবং সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে ‘শপথ ভঙ্গ করে’ পদে থাকার যোগ্যতা হারিয়েছেন।
সংবিধান লঙ্ঘন বা গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগে রাষ্ট্রপতিকে সংবিধানের ৫২নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অভিশংসিত করা যায়। জাতীয় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের স্বাক্ষরযুক্ত লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অভিশংসনের প্রস্তাব স্পিকারের কাছে প্রদান করতে হয়। নোটিশ প্রদানের চৌদ্দ থেকে ত্রিশ দিনের মধ্যে সংসদে এ প্রস্তাব আলোচিত হতে হয়। তারপর সদস্য সংখ্যার অন্যূন দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে অভিযোগ যথার্থ বলে প্রমাণিত হয়েছে মর্মে সংসদ কোনো প্রস্তাব গ্রহণ করলে ওই তারিখ থেকে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হবে।
সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য চাইলে রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করা সম্ভব। তবে দেশে কোনো রাষ্ট্রপতির অভিশংসিত হওয়ার নজির নেই। বাংলাদেশে এর আগে সবসময় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দল থেকেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে এসেছে। ২০০১ সালের নভেম্বরে বিএনপির মনোনয়নে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে ২০০২ সালে অপসারণের উদ্যোগ নেয় তখনকার সরকার। সংসদে সেই প্রস্তুতির মধ্যে ২০০২ সালের ২১ জুন রাষ্ট্রপতির পদ থেকে ইস্তফা দেন তিনি।
জামায়াতসহ ১১ দলীয় জোটের নেতারা বলছেন, আওয়ামী লীগের নিয়োগ দেওয়া রাষ্ট্রপতি কোনোভাবেই আর থাকতে পারেন না। তার অধীনে থাকাও এই মুহূর্তে দেশের জন্য নিরাপদ নয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে দাবি জানালেও সাংবিধানিক দোহায় দিয়ে অভিশংসিত করা হয়নি। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সেই বাধা আর থাকল না। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে প্রথম অধিবেশনেই এ প্রস্তাব জানানো হবে। তবে যেহেতু সরকারি দল বিএনপি, এ প্রস্তাবে তারা সম্মতি না দিলে এটি কার্যকর হবে না। বিএনপি জনগণের বৃহত্তর স্বার্থকেই প্রাধান্য দেবে বলে প্রত্যাশা তাদের।
সংসদের প্রথম অধিবেশনেই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে অভিশংসন করে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন এনসিপি আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। গত বুধবার শহীদ সেনা দিবস উপলক্ষে বনানী সামরিক কবরস্থানে পিলখানা হত্যাকাণ্ডে নিহতদের কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করে তাকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করা—এটা আমরা মনে করি এই নতুন সরকারের দায়িত্ব। এই রাষ্ট্রপতি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়েছেন, নেতিবাচক কথাবার্তা বলেছেন। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধেও বক্তব্য দিয়েছেন। কাজেই আমরা মনে করি ফ্যাসিস্ট সময়ের চিহ্ন যে রাষ্ট্রপতি, তাকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করা প্রয়োজন এবং তিনি যে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন, সেটাতেও আসলে শপথ লঙ্ঘন হয়েছে। ফলে কোনোভাবেই এ রাষ্ট্রপতি আর এ দায়িত্বে এই পদে থাকার যোগ্য নন।’
এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, ‘সংসদের যে প্রথম অধিবেশন হবে, তার প্রথম কাজটি হবে এ ফ্যাসিস্ট সময়ের রাষ্ট্রপতির অভিশংসনের জন্য পদক্ষেপ নেওয়া। নতুন সংসদের সরকারি দল, বিরোধী দল মিলে কাজটি করবে বলে আমরা মনে করি। কারণ ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আমাদের জাতীয় ঐক্য রয়েছে।’
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের অক্টোবরে বঙ্গভবনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ আরও কয়েকটি সংগঠন রাষ্ট্রপতিকে পদত্যাগের জন্য সময় বেঁধে দেয়। বঙ্গভবনের সামনে গভীর রাত পর্যন্ত চলে বিক্ষোভ, নাটকীয়তা। পরে বিষয়টি নানা কারণে আর এগোয়নি। আওয়ামী লীগের পতন-পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের দাবি উঠলেও তা বাস্তবায়িত না হওয়ার প্রেক্ষাপট নিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘সেই সময়ে রাজনৈতিক দলগুলো ঐকমত্যে আসতে পারেনি বলে কিন্তু এই রাষ্ট্রপতি পরিবর্তন হননি; কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ই রাষ্ট্রপতি পরিবর্তনের দাবি জনগণের পক্ষ থেকে ছিল। সে সময় রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা, সাংবিধানিক শূন্যতা ইত্যাদি অনেক কথা বলে রাষ্ট্রপতিকে রেখে দেওয়া হয়েছে। এখন নতুন সরকার এসেছে, নতুন সংসদ হয়েছে। তাই আমরা মনে করি, এখন এই রাষ্ট্রপতির চলে যাওয়াটা কেবলই সময়ের বিষয়।’
এই দাবির পেছনে যুক্তি দিয়ে নাহিদ বলেন, ‘জুলাই গণহত্যা যখন হয়েছিল, সেই সময় রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করেননি। সেই সময় তিনি নীরব ও নিশ্চুপ ছিলেন। তার নীরব ভূমিকার কারণে এই গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে। কাজেই এ গণহত্যার দায়ে তিনিও অভিযুক্ত। এবং তার বিরুদ্ধে কিন্তু অনেক আগে থেকেই আর্থিক অনৈতিকতারও অভিযোগ রয়েছে। ফলে রাষ্ট্রপতি বলতে আমরা সম্মান, শ্রদ্ধা, ভাবগাম্ভীর্যের যে ব্যক্তিত্ব বুঝি, তার কোনোটাই আসলে তার নেই। নানা অপরাধে তিনি অভিযুক্ত। এখন সময় এসেছে অভিশংসন করে তাকে সরানোর। তার বিরুদ্ধে মামলা করে তাকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করা—আমরা মনে করি নতুন সরকারের এটা অন্যতম দায়িত্ব।’
একই দাবি জানিয়েছেন এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। জাতীয় যুবশক্তির ইফতার মাহফিলে অংশ নিয়ে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই সংসদকে যদি আপনারা অপবিত্র হতে না দিতে চান, আপনারা যদি এই সংসদ অধিবেশন শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদের এক্সটেনশন হিসেবে শুরু না করতে চান, তাহলে অবশ্যই প্রথম অধিবেশনেই সেই রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করতে হবে, যিনি গণহত্যার সময় নিশ্চুপ ছিলেন এবং গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়েও নানা ধরনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন।’
জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ পর্যায়ের এক নেতা বলেন, ‘এ নিয়ে আলাপ আলোচনা হচ্ছে। ১১ দলীয় জোটের সঙ্গেও আলোচনা চলছে। প্রাথমিকভাবে রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসনের প্রস্তাব দেওয়ার পক্ষেই আছি আমরা। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো নেওয়া হয়নি।’
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, রাষ্ট্রপতির অভিশংসন ইস্যুতে দেশের স্বার্থ ও জনগণের কল্যাণকে প্রাধান্য দিয়েই সিদ্ধান্ত নেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। গত শুক্রবার সিলেটে জুমার নামাজ আদায় শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির অভিশংসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক বিষয়ে হঠাৎ করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। আমাদের দলীয় ফোরামে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে। দেশের জন্য যা কল্যাণকর এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, আমরা সে সিদ্ধান্তই নেব।’
এদিকে সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশনে রাষ্ট্রপতিকে ভাষণ থেকে বিরত রাখতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বরাবর চিঠি দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির। গতকাল সোমবার এ চিঠি পাঠান তিনি। জুলাই বিপ্লবের চেতনা সমুন্নত রাখতে এবং রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনকে সংসদের অধিবেশন আহ্বান বা সংসদে ভাষণ প্রদানের অনুমতি না দেওয়ার ব্যবস্থা নিতে অথবা প্রধানমন্ত্রী যেন তার সুবিধামতো ব্যবস্থা নেন—এই মর্মে চিঠিতে অনুরোধ করা হয়েছে।
তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ভাষণ দেবেন বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ। গতকাল সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতিই ভাষণ দেবেন।’
জাতীয়
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে বাহরাইনের রাজার শোক প্রকাশ
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এক বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বাহরাইনের রাজা হামাদ বিন ইসা আল খলিফা।
বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আব্দুললতিফ বিন রশিদ আল জায়ানি সোমবার (২ মার্চ) রাতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে টেলিফোন করে রাজার পক্ষ থেকে এ শোক জানান।
টেলিফোনালাপে বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরানের নিক্ষিপ্ত মিসাইলের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে এক বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করে তিনি বাহরাইনের রাজা হামাদ বিন ইসা আল খলিফার পক্ষ থেকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে গভীর শোক প্রকাশ করেন।
এসময় বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাহরাইনে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকদের সার্বিক নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে তার সরকার প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে বলে জানান। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ ঘটনায় বাহরাইন সরকারের সহযোগিতার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
মিসাইল হামলায় নিহত মো. তারেক চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার আজিমপুর ইউনিয়নের পাহাড়ের গো মসজিদ বাড়ির সাইদুল হকের ছেলে। তিনি দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে বাহরাইনে কর্মরত ছিলেন।
উল্লেখ্য, এর আগে সোমবার বিকেলে বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন।
এমএন
জাতীয়
হাসিনার আমলের মতো সাবেক উপদেষ্টা আদিলুরকে বিমানবন্দরে হয়রানি
ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনার আমলের মতো কাগজপত্র পরীক্ষার নামে বিমানবন্দরে হয়রানি অব্যাহত রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সদ্য বিদায়ি উপদেষ্টা, মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের সম্পাদক আদিলুর রহমান খানকে হযরত শাহজালাল আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দরে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।
নেপালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আর্ন্তজাতিক পর্যবেক্ষক হিসেবে যাওয়ার উদ্দেশ্যে সোমবার বিমানবন্দর ইমগ্রেশনে গেলে সেখানে দায়িত্বরত স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) পুলিশ সুপার তাকে দীর্ঘক্ষণ বসিয়ে রাখেন। তার কাছে নানা ধরনের প্রশ্ন জিজ্ঞেস করেন।
সদ্য বিদায়ি উপদেষ্টা পরিচয় পাওয়ার পরও অযাচিতভাবে তাকে হয়রানির উদ্দেশ্যে ইমিগ্রেশনের দায়িত্বররত কর্মকর্তা বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন করতে থাকেন। তিনি নেপালে নির্বাচন পর্যবেক্ষণে যাওয়ার উদ্দেশ্যের কথা জানালেও তাকে বসিয়ে রাখা হয়।
পরে ওই কর্মকর্তা পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোযোগ করেন। সদ্য বিদায়য়ি একজন উপদেষ্টাকে এভাবে হয়রানির ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন অনেকে।
স্পেশাল ব্রাঞ্চের প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি গোলাম রসুল অবশ্য বলছেন, ঘটনা সে রকম কিছু নয়। তিনি আমার দেশকে বলেন, আদিলুর রহমান খান ইমিগ্রেশনের যাবতীয় কাজ শেষ করে নেপালে যাওয়ার জন্য বোর্ডিং পাস পেয়েছেন।
এমএন




