আইন-আদালত
শেখ হাসিনার রায় ঘিরে ট্রাইব্যুনাল এলাকায় কড়া নিরাপত্তা
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনজনের রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) ও হাইকোর্ট এলাকায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
রবিবার (১৬ নভেম্বর) সকাল থেকেই সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব, এপিবিএন ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। পুরো এলাকাজুড়ে নজরদারি, টহল ও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণার তারিখ হিসেবে আগামী সোমবার (১৭ নভেম্বর) দিন ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এই রায় বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। রায় ঘোষণার আগে রাজধানীতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।
আওয়ামী লীগের শাটডাউন কর্মসূচি ও সহিংসতার প্রেক্ষাপট
এর আগে রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে দুই দিনের (১৬–১৭ নভেম্বর) ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগ। ঘোষণার পর থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ ও যানবাহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটতে থাকে। গত কয়েকদিনে শুধু ঢাকাতেই ঘটে একাধিক ককটেল বিস্ফোরণ, অগ্নিসংযোগ ও নাশকতার চেষ্টা। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অতিরিক্ত সতর্কতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
আইসিটি ও হাইকোর্ট এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা—সাজোয়া যান মোতায়েন
রবিবার বিকালে আইসিটি ও হাইকোর্ট এলাকা ঘুরে দেখা যায়- পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবি, এপিবিএন, সিআইডি ও ডিবি সদস্যরা পুরো এলাকাজুড়ে কড়া নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছেন। হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ও মৎস্য ভবন মোড়ে পুলিশের সাজোয়া যান মোতায়েন করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ ভবনের ছাদেও অতিরিক্ত নজরদারি পোস্ট বসানো হয়েছে। বিভিন্ন পয়েন্টে চেকপোস্ট ও মুভমেন্ট কন্ট্রোল জোরদার করা হয়েছে।
‘কোনও নিরাপত্তা শঙ্কা নেই’
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, ‘১৭ নভেম্বরকে ঘিরে কোনও নিরাপত্তা শঙ্কা নেই। তবে নিষিদ্ধ দলের শাটডাউন কর্মসূচির কারণে সর্বাত্মক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। আইসিটি ও রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন রয়েছে।’
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘রাজধানীর নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কোনও ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে পর্যাপ্ত ফোর্স মোতায়েন আছে।’
বিজিবির ১৪ প্লাটুন মোতায়েন
বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম জানান, ঢাকা মহানগর, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও ফরিদপুরসহ আশপাশের এলাকাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ে দায়িত্ব পালন করছে।
র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এমজেডএম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, ‘র্যাব-২ ও র্যাব-৩ আইসিটি এলাকায় কড়া নিরাপত্তা বজায় রেখেছে। নিয়মিত টহল ও চেকপোস্ট কার্যক্রম চলছে। অনলাইনে যেসব নিরাপত্তা হুমকি রয়েছে, সেগুলো আমাদের সাইবার মনিটরিং টিম পর্যবেক্ষণ করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ কোনও সংগঠন রায়কে ঘিরে নাশকতার চেষ্টা করলে র্যাব তা নস্যাৎ করতে প্রস্তুত। জনমনে আতঙ্কের কোনও কারণ নেই।’
রায় ঘোষণার আগের দিন পুরো রাজধানীজুড়েই সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, তবে সব ধরনের সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
আইন-আদালত
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সালমান-আনিসুলের বিচার শুরু
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গণহত্যায় উসকানি দেওয়ার মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-১ সোমবার এ আদেশ দিন।
বেঞ্চের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সূচনা বক্তব্যের জন্য দিন রাখা হয়েছে। ট্রাইব্যুনালে সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হক উপস্থিত ছিলেন।
অভিযোগ গঠনের আগে ট্রাইব্যুনাল আসামিদের কাছে জানতে চান, তারা দোষ স্বীকার করেন কি না। এ সময় তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন। রাষ্ট্রপক্ষে প্রধান কৌঁসুলি মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ও গাজী এম এইচ তামিম এবং আসামিপক্ষে মনসুরুল হক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপক্ষের শুনানি শেষে গেল ৬ জানুয়ারি সালমান ও আনিসুলের অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী। শুনানিতে তিনি তার আসামিদের নির্দোষ দাবি করেন। সালমান ও আনিসুলের বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ আনে প্রসিকিউশন। এর মধ্যে রয়েছে কারফিউ জারির মাধ্যমে মারণাস্ত্র ব্যবহারে উসকানি-প্ররোচনা ও ষড়যন্ত্র।
এছাড়া সালমান ও আনিসুল হক চব্বিশের জুলাই আন্দোলন দমনে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতেন বলেও প্রসিকিউশনের অভিযোগ। গত ৪ ডিসেম্বর অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল। একইদিন সকালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন।
গত ২২ ডিসেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে প্রসিকিউশন পক্ষ শুনানি শেষ করেছিল। শুনানির ওই পর্যায়ে সালমান ও আনিসুলের একটি বিতর্কিত ফোনালাপ ট্রাইব্যুনালে বাজিয়ে শোনানো হয়েছিল।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ, জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের সময় করা ওই ফোনালাপের পর ঢাকা ও সারা দেশে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে হত্যাকাণ্ড চালানো হয়। কারফিউ চলাকালে আন্দোলনকারীদের ‘শেষ করে দেওয়ার’ এই প্ররোচনা হত্যাকাণ্ডে উসকানি হিসেবে কাজ করেছে।
এমকে
আইন-আদালত
জাতীয় পার্টিকে নির্বাচন থেকে বিরত রাখতে হাইকোর্টের রুল
জাতীয় পার্টি (জিএম কাদের) এবং জাতীয় পার্টির (একাংশ) আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও জেপির আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নেতৃত্বাধীন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এনডিএফ) প্রার্থীদের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ওই সব প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল প্রশ্নেও রুল জারি করেছেন আদালত।
রোববার (১১ জানুয়ারি) হাইকোর্টের বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে আজ রিটের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী এ এস এম শাহরিয়ার কবির।
এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি (জিএম কাদের) এবং জাতীয় পার্টির (একাংশ) আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও জেপির আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নেতৃত্বাধীন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এনডিএফ) প্রার্থীদের অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখার নির্দেশনা চেয়ে রিটের শুনানি অনুষ্ঠিত হয় গত ৭ জানুয়ারি। এ সংক্রান্ত বিষয়ে আরও শুনানির জন্য আজ ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত স্ট্যান্ডওভার করেন হাইকোর্ট। তারই ধারাবাহিকতায় আজ সেটি শুনানি ও আদেশ দেওয়া হয়েছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ভোলার বাসিন্দা আবদুল্লাহ আল মাহমুদ গত ৪ জানুয়ারি হাইকোর্টে এ রিট করেন। রিটে আইন সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশন সচিবকে বিবাদী করা হয়।
রিটকারীর পক্ষে ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির। তিনি জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৪৩ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে জাতীয় পার্টির জি এম কাদেরের অংশ। গত ২৬ ডিসেম্বর গুলশানের লেকশোর হোটেলে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেন মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী।
অপরদিকে, জাতীয় পার্টি (আনিসুল ইসলাম) ও জেপির নেতৃত্বে আত্মপ্রকাশ করা নতুন রাজনৈতিক জোট জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট ১১৯ আসনে ১৩১ জন প্রার্থী ঘোষণা করেছে।
এর আগে গত ২৩ ডিসেম্বর রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনের বলরুমে সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় পার্টির নির্বাহী চেয়ারম্যান মুজিবুল হক চুন্নু প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন।
কেন রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে জানতে চাইলে রিটকারীর আইনজীবী এ এস এম শাহরিয়ার কবির বলেন, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বধীন ১৪ দলীয় জোট মহাজোট হিসেবে পরিচিত। এই মহাজোট জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত।
এই জোটে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ/ইনু), জাতীয় পার্টি (এরশাদ), জাতীয় পার্টি (মঞ্জু), তরিকত ফেডারেশনসহ ১৪টি দল ছিল। জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুসারে তারাও অপরাধ করেছে। যে কারণে সংবিধানের ৬৬(২)(ঙ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তারা নির্বাচনের অযোগ্য হবে।
এমকে
আইন-আদালত
বিএনপির আরও এক প্রার্থীকে অযোগ্য ঘোষণা
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার যোগ্যতা হারালেন বিএনপি মনোনীত আরও এক প্রার্থী। ঋণখেলাপি হওয়ায় বগুড়া-১ (সোনাতলা-সারিয়াকান্দি) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী কাজী রফিকুল ইসলামকে নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী তিনি অযোগ্য বলে ঘোষণা দিয়েছেন আদালত।
এর আগে ঋণখেলাপি হওয়ার কারণে কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়ন স্থগিত করা হয়েছে। ফলে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি অংশ নিতে পারবেন না।
জানা গেছে, বেসরকারি দুটি ব্যাংক থেকে নেয়া ঋণ পরিশোধ না করায় কাজী রফিকুল ইসলাম অন্তত ৭৬৫ কোটি টাকার ঋণ খেলাপি হন। নির্বাচনে অংশ নিতে তিনি খেলাপি ঋণ পরিশোধ না করে উচ্চ আদালত থেকে একটি স্টে অর্ডার নেন। ওই আদেশে বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশ দেয়া হয়, যেন তাকে সিআইবি প্রতিবেদনে ঋণ খেলাপি হিসেবে দেখানো না হয়।
তবে ৮ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার এক্সিম ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ওই আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রিট করলে আদালত কাজী রফিকের পক্ষে দেয়া আগের আদেশ স্থগিত করেন। এর ফলে তিনি আবারও আনুষ্ঠানিকভাবে ঋণ খেলাপি হিসেবে বিবেচিত হলেন।
এর আগে ঋণ খেলাপিসহ হলফনামায় নানা অসঙ্গতি থাকা সত্ত্বেও বগুড়ার জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছিলেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন সোনাতলা ও সারিয়াকান্দি এলাকার বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটাররা।
আইন-আদালত
ঋণ খেলাপি কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপি প্রার্থী, নির্বাচন করতে পারবেন না
ঋণ খেলাপির তালিকা থেকে কুমিল্লা-৪ আসনের বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর নাম দিয়ে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেছেন চেম্বার আদালত। এর ফলে তিনি ঋণ খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হবে এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হকের আদালত এ আদেশ দেন। আদালতে প্রিমিয়ার ব্যাংকের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার বিভূতি তরফদার।
কুমিল্লা-৪ আসনে এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী।
এর আগে ঋণ খেলাপির তালিকায় কুমিল্লা-৪ আসনের বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর নাম স্থগিত করেন হাইকোর্ট। বিচারপতি এ কে এম রবিউল হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। পরে এই আদেশ স্থগিত চেয়ে চেম্বার আদালতে আবেদন করে প্রিমিয়ার ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
এমকে
আইন-আদালত
দুর্নীতি বন্ধে কড়া হুঁশিয়ারি সুপ্রিম কোর্টের
সুপ্রিম কোর্টের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শৃঙ্খলা, পেশাদারিত্ব ও সততা বজায় রাখতে বিশেষ বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন।
বুধবার (৮ জানুয়ারি) সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী স্বাক্ষরিত এই বিজ্ঞপ্তিতে আদালতের অভ্যন্তরে দুর্নীতি বন্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
দাফতরিক কাজের গতিশীলতা ও স্বচ্ছতা ফেরাতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বেশ কিছু নির্দেশনা পালন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নির্ধারিত অফিস সময়সূচি অনুযায়ী সকাল ৯টায় কর্মস্থলে উপস্থিত থাকতে হবে। উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া নির্ধারিত সময়ের আগে কোনোভাবেই কর্মস্থল ত্যাগ করা যাবে না। বিলম্ব উপস্থিতি এবং অনুমতি ছাড়া প্রস্থানকে ‘অসদাচরণ’ হিসেবে গণ্য করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ছাড়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজ নিজ ডেস্কে সার্বক্ষণিক উপস্থিত থাকতে হবে এবং কোনো কাজ অনিষ্পন্ন রাখা যাবে না।
সুপ্রিম কোর্টের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চ্যাপ্টার-XVIA-এর বিধি ৩-এর দফা ৪ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি (আইনজীবী বা আদালতের কর্মীসহ কেউ) আদালত প্রাঙ্গণে বা ভবনের কোনো অংশে মিছিল, স্লোগান, প্রচার, সভা বা বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। এ ছাড়া আদালত প্রাঙ্গণে বৈধ বা অবৈধ যেকোনো অস্ত্র, বিস্ফোরক ও মাদকদ্রব্য বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার স্বার্থে নির্ধারিত পার্কিং ছাড়া অন্য কোথাও গাড়ি বা রিকশা রাখা যাবে না।
অফিস চলাকালীন সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নির্ধারিত ফরমাল পোশাক পরিধান করতে হবে। দাপ্তরিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সব স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অফিস আইডি কার্ড সাথে বহন করতে হবে এবং তা দৃশ্যমান রাখতে হবে।
সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অবলম্বন করে। সেবাগ্রহীতাদের সাথে কোনো প্রকার আর্থিক লেনদেন বা অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অনুযায়ী তাৎক্ষণিক কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নির্দেশনাগুলো যথাযথভাবে পালিত হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিতে নিয়মিত তদারকির ব্যবস্থা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট শাখা প্রধান এবং সহকারী রেজিস্ট্রাররা হাজিরা খাতা ও ড্রেস কোড পর্যবেক্ষণ করবেন। পাশাপাশি ডেপুটি রেজিস্ট্রাররা আকস্মিক পরিদর্শনের মাধ্যমে এই আদেশ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবেন। এই নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।




