অর্থনীতি
পে-কমিশনের সিদ্ধান্ত আগামী সরকার নেবে: অর্থ উপদেষ্টা
নতুন পে-কমিশনের সিদ্ধান্ত আগামী সরকার নেবে বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ।
রবিবার (৯ নভেম্বর) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক এবং অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, আইএমএফের সঙ্গে আমার চূড়ান্ত কথা হবে ১৫ তারিখে। আইএমএফের সঙ্গে আমার জুমে কথা হয়েছে। ওরা বলেছে তোমাদের সার্বিক অর্থনৈতিক দিকটা আমরা অত্যন্ত হ্যাপি। ঠিক আছে যা যা করার তোমরা চেষ্টা করছো, করেছো।
তিনি বলেন, ওদের কিছু কিছু রিকমেন্ডেশন আছে। যেমন রাজস্ব আয় বাড়াতে হবে। সেটা আমি স্বীকার করেছি, ট্যাক্স-জিডিপি রেশিও লো। সেটার অনেক কারণ আছে। আমাদের লোকজন ট্যাক্স দিতে চায় না। আবার এনবিআর বন্ধ ছিল দুই মাস। সেটার জন্য আমাদের বিরাট একটা… হয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি। দ্বিতীয় ওদের (আইএমএফ) আরেকটা ফাইন্ডিং আছে সামাজিক সুরক্ষার জন্য আরও বেশি ব্যয় করা, বিশেষ করে স্বাস্থ্য শিক্ষা সামাজিক নিরাপত্তা এবং খাদ্যটা। খাদ্যটা আমরা মোটামুটি ভালো করছি।
আপনি কি আশাবাদী? নির্বাচনের তিন মাস বাকি, আপনি পাবেন কি না? সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আগে আমরা যেটা করবো যতটুক কাজ করেছি সেটা কনসোলিডেট করবো। সংস্কার শেষ করে ফেলব সেটা তো নয়, সংস্থা তো শেষ করা যাবে না। সংস্কার তো একটা কন্টিনিউ প্রসেস। আমরা এটাকে একটা ভালো করে প্যাকেজিং যেটা বলে আর কি, প্যাকেজিং করে আমরা দেবো, আগামী সরকারের কাছে, যেসব মেজর সরকার সংস্কার।
তিনি বলেন, ইভেন আমি একটা কমিটি করেছি ট্যাক্সের ব্যাপারে আপনারা জানেন কিছু ইকোনমিস্টদের নিয়ে, তারা ইন্ডিপেন্ডেন্ট। তারা কিছু রিকমেন্ডেশন দেবে।
তিনি আরও বলেন, একটা পে-কমিশনের ব্যাপার আছে সেটা আমরা এখন কিছু বলতে পারি না, কারণ ওটা দেখা যাক কতদূর যায়। সেটা আগামী সরকারের..। আগামী সরকার হয়তো সেটা এসে করতে পারে।
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, আমাদের ব্যাংক সেক্টর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ব্যাংক সেক্টরটা মোটামুটি যেটা শুরু হয়েছে, আর বাকিগুলো ধীরে ধীরে করবে। এই জিনিসগুলো আমরা আগামী সরকারের জন্য…।
আইএমএফের ঋণের ষষ্ঠ কিস্তি অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে পাওয়া যাবে কি না- এমন প্রশ্নের উত্তরে সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আমরা রাজি হয়েছি আগেই, এখন কোনো প্রয়োজন নাই। ওরা রিভিউটা কমপ্লিট করে, কারণ ওরা বলছে তোমরা তো করে যাচ্ছ যে জিনিসগুলো, আমাদের একটু দেখতে হবে একটা রাজনৈতিক সরকার এসে কতটুকু ধারণ করে। ওটা তো একটা ইম্পর্টেন্ট জিনিস। আমরা ফেব্রুয়ারির দিকে ইলেকশনের সাথে সাথে ওরা আবার রিভিউতে আসবে, তারপর ওরা ডিসাইড করবে।
অর্থনীতি
দুই মাসেই ৩৪ বার সমন্বয়: কত বাড়ল স্বর্ণের দাম, কেন এই অস্থিরতা?
চলতি বছরের শুরু থেকেই দেশের স্বর্ণের বাজারে চলছে নজিরবিহীন অস্থিরতা। এতে চলতি বছরের প্রথম দুই মাসেই (জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি) মূল্যবান এই ধাতুর দাম মোট ৩৪ বার সমন্বয় করা হয়েছে। দফায় দফায় উত্থান-পতনের মধ্যে গত দুই মাসে স্বর্ণের দাম বেড়েছে ৪৪ হাজার ৪৯৮ টাকা।
বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) জানিয়েছে, চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম ৩৪ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে স্বর্ণের দাম বেড়েছে ২২ বার এবং কমেছে ১২ বার। যা আগের বছরের একই সময়ে স্বর্ণের দাম ১০ বার সমন্বয় করা হয়েছিল।
চলতি বছর শুরু হয়েছিল স্বর্ণের দাম পতানের মধ্য দিয়ে। ১ জানুয়ারি ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরিতে ১ হাজার ৪৫৮ টাকা কমিয়ে দাম নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ২২ হাজার ৭২৪ টাকা। এরপর ৪ ও ৫ জানুয়ারি টানা ২ দফা বাড়ানো হয় স্বর্ণের দাম। এরপর ৮ জানুয়ারি দাম কমিয়ে মূল্যবান এই ধাতুর দাম নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ২৬ হাজার ৮০৬ টাকা।
তবে এরপরই স্বর্ণের বাজারে দেখা দেয় টানা উত্থান। ১০, ১২, ১৪, ১৯, ২০ ও ২১ জানুয়ারি টানা ৬ দফা বাড়ানো হয় দাম। ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম গিয়ে ঠেকে ২ লাখ ৫২ হাজার ৪৬৭ টাকা। এর মধ্যে ১২, ১৪, ১৯, ২০ ও ২১ দাম বেড়ে প্রতিবারই দেশে সর্বোচ্চে পৌঁছায়।
গত ২২ জানুয়ারি ভরিতে ৩ হাজার ১৪৯ টাকা কমিয়ে স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ৪৯ হাজার ৩১৮ টাকা। তারপর ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ে গত ২৩ জানুয়ারি ৬ হাজার ২৯৯ টাকা বাড়িয়ে স্বর্ণের দাম দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ ২ লাখ ৫৫ হাজার ৬১৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
ফের ২৫, ২৬, ২৮ ও ২৯ জানুয়ারি টানা বাড়ানো হয় মূল্যবান এই ধাতুর দাম। প্রতিবারই তৈরি হয় নতুন রেকর্ড। গত ২৯ জানুয়ারি রেকর্ড ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বাড়িয়ে স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয় দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২ লাখ ৮৬ হাজার ১ টাকা।
এরপরই ঘটে ছন্দপতন। গত ৩০ ও ৩১ জানুয়ারি টানা ২ দফায় মূল্যবান এই ধাতুর দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নেয় বাজুস। টানা দুই দিনে যথাক্রমে ভরিতে ১৪ হাজার ৬৩৮ টাকা ও ১৫ হাজার ৭৪৬ টাকা কমানো হয়। এতে দুই দিনে মোট ৩০ হাজার ৩৮৪ টাকা কমে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়ায় ২ লাখ ৫৫ হাজার ৬১৭ টাকায়।
তবে ৩১ জানুয়ারি সকালে দাম কমানোর ১২ ঘণ্টা পার না হতেই ফের দেশের বাজারে বাড়ানো হয় মূল্যবান এই ধাতুর দাম। ভরিতল ৪ হাজার ৮২ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৯ হাজার ৬৯৯ টাকা।
ফেব্রুয়ারি মাসজুড়েও চলেছে স্বর্ণের উত্থান-পতন। এই মাসে মূল্যবান এই ধাতুর দাম সমন্বয় করা হয়েছে মোট ১৫ বার। যেখানে বেড়েছে ৮ বার, আর কমেছে ৭ বার।
গত ১ থেকে ২ ফেব্রুয়ারি টানা ৩ দফায় মূল্যবান এই ধাতুর দাম কমানো হয় ১৩ হাজার ৯৩৯ টাকা। তবে ৩ ফেব্রুয়ারি একদিনেই ২ দফা সমন্বয়ে দাম বাড়ানো হয় মোট ১৬ হাজার ৩৩০ টাকা। দাম গিয়ে ঠেকে ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকায়।
এরপর গত ৬ ফেব্রুয়ারি ভরিতে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা কমানোর পর দিনই ফের ভরিতে বাড়ানো হয় ৭ হাজার ৬৪০ টাকা। ৭ ফেব্রুয়ারিই আবার ভরিতে কমানো হয় ৩ হাজার ২৬৬ টাকা। একদিন বিরতি দিয়ে গত ৯ ফেব্রুয়ারি ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা।
গত ১৭ ও ১৮ ফেব্রুয়ারি টানা ২ দফায় কমানো হয় ৫ হাজার ৪৮২ টাকা। তবে এরপর গত ২১, ২৩ ও ২৮ ফেব্রুয়ারি টানা ৪ দফায় স্বর্ণের দাম মোট বাড়ানো হয়েছে ১৩ হাজার ১২২ টাকা।
সবশেষ নির্ধারিত অর্থাৎ গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাতে সমন্বয় করা দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়ছে ২ লাখ ৬৮ হাজার ৬৮০ টাকা।
এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৫৬ হাজার ৪৩৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৯ হাজার ৮০৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৭৯ হাজার ৮৫৯ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।
কেন এই অস্থিরতা?
বাজুস জানিয়েছে, বিশ্ববাজারে দাম ওঠা-নামা করলে এর প্রভাব পড়ে দেশের বাজারেও। তাই দেশেও দাম সমন্বয়ের প্রয়োজন পড়ে।
সম্প্রতি বাজুস সভাপতি এনামুল হক খান বলেন, স্বর্ণের বাজারের অস্থিরতার জন্য বাজুস বা বাংলাদেশের কোনো ব্যক্তি দায়ী নয়। মূলত বিদেশে স্টক করা বা কাগজে কলমে লেনদেনের কারণে এই ওঠা-নামা ঘটছে। বাজুস শুধু দেশের বাজারে দাম সমন্বয় করে।
তিনি আরও বলেন, দাম সমন্বয়ের মূল উদ্দেশ হলো পাচার রোধ করা এবং ব্যবসায়ীদের ক্ষতি না হওয়া। যদি দাম সমন্বয় না করা হয়, দেশে দাম কম থাকলে স্বর্ণ পাচার হয়ে যাবে। তাই বিশ্ববাজারে ওঠানামার সঙ্গে সঙ্গে দেশের বাজারেরও দাম সমন্বয় করা হয়।
বাজুস সভাপতি জানিয়েছেন, বর্তমানে মানুষ স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে গ্রহণ করছে। তবে পৃথিবীর বাজারে বিক্রিত স্বর্ণের অনেকাংশই কাগজে কলমের মাধ্যমে (পেপার ট্রেডিং) মজুত করা হয়। বাস্তবে কতটা ফিজিক্যাল স্বর্ণ রয়েছে, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।
এমএন
অর্থনীতি
মার্চ মাসের জন্য অপরিবর্তিত জ্বালানি তেলের দাম
মার্চ মাসের জন্য অপরিবর্তিত রয়েছে জ্বালানি তেলের দাম। ফেব্রুয়ারি মাসের মতো এবারো প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১০০ টাকা, অকটেনের দাম ১২০ টাকা, পেট্রোলের দাম ১১৬ টাকা ও কেরোসিনের দাম ১১২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
রোববার (১ মার্চ) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ নির্দেশিকার (সংশোধিত) আলোকে মার্চ মাসে ভোক্তাপর্যায়ে ডিজেলের বিক্রয়মূল্য ১০০ টাকা, অকটেন ১২০ টাকা,পেট্রোল ১১৬ টাকা এবং কেরোসিন ১১২ টাকায় অপরিবর্তিত রেখে নির্ধারণ করা হলো।
এমএন
অর্থনীতি
ব্যক্তি পর্যায়ে কর বাড়বে কিনা জানালেন বাণিজ্যমন্ত্রী
ব্যক্তিখাতে কর বাড়ানো হবে না। কর বাড়ানো নিয়ে অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য ভুলভাবে মিডিয়ায় এসেছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাট এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সিলেট সার্কিট হাউসে প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তার সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে ট্যাক্স জিডিপির রেশিও অনেক কম। আশপাশের সব দেশে অনেক বেশি। বাংলাদেশে এই রেশিও কম হওয়ার কারণে আমাদের যা রাজস্ব আদায় হয় তা সরকারের খরচ মেটাতে চলে যায়। উন্নয়নে ব্যয় করা সম্ভব হয় না। তাই অর্থমন্ত্রী ট্যাক্স জিডিপির রেশিও বাড়ানোর কথা বলেছেন। ব্যক্তিখাতে কর বাড়বে না।
তিনি আরও বলেন, এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে মুক্তবাণিজ্য (ফ্রি ট্রেড) চুক্তির বিষয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও যুক্তরাজ্যের সঙ্গেও মুক্তবাণিজ্য চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
এর আগে শনিবার সকালে সিলেটের বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তার সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেন তিনি। সভায় প্রবাসী, বৈদেশিক কর্মসংস্থান, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি অংশ নেন।
এসময় প্রবাসীকল্যাণ, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, বন্ধ থাকা বিভিন্ন শ্রমবাজার পুনরায় চালু করতে সরকার কাজ করছে। আগামী এক মাসের মধ্যেই এ বিষয়ে ইতিবাচক ফল পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
স্পেনে অভিবাসনপ্রত্যাশী বাংলাদেশিদের পাসপোর্ট ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্স যথাসময়ে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়েও সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।
পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, আসন্ন বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে নদী ও খাল খনন এবং হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারে কাজ চলছে। এ কাজে কোনো ধরনের দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।
তিনি আরও বলেন, জিরো টলারেন্স নীতিতে সরকার কাজ করছে। দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করা সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ।
পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, পাহাড়ি অঞ্চলের কারণে সিলেট অঞ্চলে প্রতিনিয়তই ঢলের পানি আসে। এ কারণে বর্ষায় এখানে বন্যা হয়ে যায়। এটি আমাদের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের কিছু প্রকল্প চলমান আছে। নতুন আরও কিছু প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে।
অর্থনীতি
সোনার দাম আরও বাড়লো, ভরি ২৬৫৪১৪ টাকা
দেশের বাজারে সোনার দাম আরও বাড়ানো হয়েছে। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম বাড়ানো হয়েছে ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা। এতে এক ভরি সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৬৫ হাজার ৪১৪ টাকা।
স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার (পাকা সোনা) দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে এই দাম বাড়ানো হয়েছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা ৩০ মিনিট থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।
আজ শনিবার বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটি বৈঠকে করে এই দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীনের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এর আগে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম বাড়ানো হয় ২ হাজার ২১৬ টাকা। তার আগে ২১ ফেব্রুয়ারি বাড়ানো হয় ৩ হাজার ২৬৬ টাকা। এতে তিন দফায় ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম বাড়ানো হলো ৯ হাজার ৮৫৬ টাকা।
এখন সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৬৫ হাজার ৪১৪ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ৪ হাজার ১৯৯ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৫৩ হাজার ৩৪২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ৩ হাজার ৫৫৭ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম ২ লাখ ১৭ হাজার ১২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ২ হাজার ৯১৫ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে এক লাখ ৭৭ হাজার ৭০১ টাকা।
এর আগে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টা থেকে সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ হাজার ৪১ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৪৯ হাজার ১৪৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম এক হাজার ৮০৮ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ১৩ হাজার ৫৬৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়। সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনান দাম এক হাজার ৪৫৮ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয় এক লাখ ৭৪ হাজার ৭৮৫ টাকা। আজ সকাল ১০টা ২৯ মিনিট পর্যন্ত এই দামে সোনা বিক্রি হয়েছে।
এবার সোনার দাম বাড়ানোর পাশাপাশি রুপার দামও বাড়ানো হয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ১৭৫ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৮৮২ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ১১৭ টাকা বাড়িয়ে ৬ হাজার ৫৩২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ১১৭ টাকা বাড়িয়ে ৫ হাজার ৫৯৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার দাম ১১৭ টাকা বাড়িয়ে ৪ হাজার ১৯৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
অর্থনীতি
খাদ্যপণ্য খালাস না করে জাহাজ নদীতে, ব্যবস্থা নিতে নৌ পরিবহন মন্ত্রীর নির্দেশ
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গুদামে পণ্য খালাস না করে নদীতেই লাইটার জাহাজে রেখে দেওয়ার ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেবার নির্দেশ দিয়েছেন নৌ পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় আকস্মিক পরিদর্শনে নেমে তিনি মুন্সিগঞ্জের মুক্তারপুর এলাকায় ধলেশ্বরী নদীতে কয়েকটি লাইটার জাহাজ দেখতে পান।
এসব জাহাজে আমদানি করা গম ও ভূট্টা মজুদ করা ছিল। এ খাদ্যপণ্যগুলো আমদানিকারকের গুদামে খালাসের কথা থাকলেও তা ৬ থেকে ১৮ দিন পর্যন্ত নদীতেই রেখে দেওয়া হয়েছে বলে জানান নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের বিশেষ কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রোকসানা খায়রুন নেসা।
তিনি বলেন, যেসব কোম্পানি এ জাহাজগুলোতে পণ্য মজুদ করে রেখেছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা অর্থ্যাৎ নিয়মিত মামলা করার নির্দেশনা দিয়েছেন মন্ত্রী।
এর আগে গত ৩ ফেব্রুয়ারি সদ্য সাবেক নৌ পরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় ঘাটে পৌঁছানোর তিন দিনের মধ্যে লাইটার জাহাজ থেকে পণ্য খালাস না করলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।
নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের ডেপুটি নটিক্যাল সার্ভেয়ার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার ডিকসন চৌধুরী বলেন, পরিদর্শনে তিনটি লাইটার জাহাজ ধলেশ্বরী নদীতে নোঙর করা পাওয়া যায়। মাদার ভেসেল থেকে পণ্য পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত এ জাহাজগুলো ৬ থেকে ১৮ দিন পর্যন্ত এখানে নোঙর করা আছে।
খাদ্যপণ্যবোঝাই জাহাজগুলো ‘মদিনা গ্রুপ’, ‘এসএস ট্রেডিং’, ‘বিসমিল্লাহ ট্রেডার্স’ ও ‘আমান গ্রুপ’-এর নামে কোম্পানির অধীনে পণ্য ভাসমান অবস্থায় রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এক্ষেত্রে কয়েকটি ঘটনা ঘটে। অনেকক্ষেত্রে গুদাম ফাঁকা থাকে না, তাই ভাসমান গুদাম হিসেবে জাহাজগুলো ব্যবহার করে কোম্পানিগুলো। আবার অসৎ উদ্দেশ্যও থাকে, যেমন গুদামজাত না করে, পরে পণ্যের দাম বাড়লে তা বাজারে ছাড়া এবং অতিরিক্ত মুনাফা অর্জন। কিন্তু এক্ষেত্রে জাহাজ মালিক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।”
ওসব বিবেচনায় নৌ পরিবহন অধিদপ্তর টাস্কফোর্স গঠন করে নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে। গত দেড় মাসে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, যশোরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ৮৩৮টি জাহাজে অভিযান চালানো হয়েছে বলেও জানান ডিকসন চৌধুরী।




