আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশের সঙ্গে বিরোধ, আন্তর্জাতিক সালিশে যাচ্ছে আদানি
বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ সংক্রান্ত অর্থপ্রদানের বিরোধ নিষ্পত্তিতে আন্তর্জাতিক সালিশি প্রক্রিয়ায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতীয় ব্যবসায়ী গৌতম আদানির মালিকানাধীন বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান আদানি পাওয়ার। সোমবার আদানি গ্রুপের এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে বলে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের অর্থ প্রদানের বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য আন্তর্জাতিক সালিশ প্রক্রিয়া বেছে নিয়েছে আদানি পাওয়ার। ভারতীয় শিল্পপতি গৌতম আদানি নেতৃত্বাধীন এই প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) বকেয়া অর্থ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। দুই পক্ষের মধ্যে ২০১৭ সালে স্বাক্ষরিত বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির (পিপিএ) আওতায় বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে আদানি পাওয়ার।
বিবৃতিতে আদানি পাওয়ার বলেছে, কিছু নির্দিষ্ট খাতের ব্যয়ের হিসেব ও বিল করার পদ্ধতি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। এমন অবস্থায় উভয় অংশীদারই বিরোধ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া শুরু করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। এতে দ্রুত, মসৃণ ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক সমাধানের বিষয়ে উভয়পক্ষই আশাবাদী।
তবে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান রয়টার্সকে বলেছেন, আলোচনা এখনো চলছে। আলোচনা শেষ হলে প্রয়োজনে আমরা আন্তর্জাতিক সালিশি প্রক্রিয়ায় যাব।
২০১৭ সালে ভারতীয় ধনকুবের গৌতম আদানির মালিকানাধীন বিদ্যুৎ কোম্পানি আদানি পাওয়ারের ঝাড়খণ্ডের গড্ডায় অবস্থিত কয়লা-ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের বিষয়ে ২৫ বছর মেয়াদী একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়।
আদানি পাওয়ার গড্ডা কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। বাংলাদেশের মোট বিদ্যুৎচাহিদার প্রায় এক-দশমাংশ পূরণ করে এই কোম্পানিটি।
গত ডিসেম্বরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে রয়টার্স বলেছিল, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আদানি গ্রুপের বিরুদ্ধে চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগ করেছে। কোম্পানিটি ভারতের সরকারের কাছ থেকে পাওয়া কর-সুবিধার ছাড় বাংলাদেশকে না দেওয়ায় এই অভিযোগ করা হয়।
২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশ আদানিকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্য ১৪.৮৭ টাকা (০.১২২ মার্কিন ডলার) হারে মূল্য পরিশোধ করেছে; যা অন্যান্য ভারতীয় কোম্পানির সরবরাহকৃত বিদ্যুতের গড় ৯.৫৭ টাকার তুলনায় অনেক বেশি।
গত সপ্তাহে আদানি পাওয়ার বলেছিল, বাংলাদেশের কাছ থেকে পাওনা অর্থের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে এসেছে। গত মে মাসে আদানি পাওয়ারের বকেয়ার পরিমাণ প্রায় ৯০০ মিলিয়ন ডলারে নেমে আসে; যা চলতি বছরের শুরুতে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল। বর্তমানে বাংলাদেশের কাছে আদানির বকেয়ার পরিমাণ প্রায় ১৫ দিনের শুল্কের সমান।
সোমবারের বিবৃতিতে কোম্পানিটি বলেছে, আদানি পাওয়ার বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাংলাদেশে নির্ভরযোগ্য, সাশ্রয়ী ও উচ্চমানের বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রাখবে।
আদানি পাওয়ারের গড্ডা প্ল্যান্টটি আমদানি করা কয়লা দিয়ে চলে এবং এই কেন্দ্রে উৎপাদিত পুরো বিদ্যুৎ বাংলাদেশে রপ্তানি করার কথা। কোম্পানিটি বলেছে, বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তিটি ভারতীয় পররাষ্ট্রনীতির উদ্দেশ্যগুলোকে এগিয়ে নিতে আরও সহায়তা করছে। ২০১৯ সালে নয়াদিল্লি গড্ডার প্ল্যান্টটিকে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের অংশ হিসাবে ঘোষণা করে। এর ফলে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে আয়কর এবং অন্যান্য শুল্ক ছাড়ের মতো প্রণোদনা পায়।
গত ডিসেম্বরে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, আদানি পাওয়ার ও বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) মাঝে ২০১৭ সালের ৫ নভেম্বর স্বাক্ষরিত চুক্তি ও বাস্তবায়ন চুক্তি অনুযায়ী, বিদ্যুৎ কেন্দ্রের করহার পরিবর্তন হলে সেই বিষয়ে বাংলাদেশকে দ্রুত অবহিত করতে হবে। একই সঙ্গে ভারত সরকারের কাছ থেকে ‘‘কর ছাড় সুবিধাও’’ দেওয়ার কথা আদানির।
কিন্তু আদানি পাওয়ার তা করেনি। গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর ও ২২ অক্টোবর বিপিডিবির পক্ষ থেকে আদানির কাছে দুই দফায় চিঠি দেওয়া হয়। চিঠিতে ভারত সরকারের কাছ থেকে পাওয়া সুবিধার বিপরীতে বাংলাদেশে সরবরাহ করা বিদ্যুতের দামে সমন্বয়ের আহ্বান জানানো হয়। এসব চুক্তি এবং চিঠি সবার জন্য উন্মুক্ত না হলেও রয়টার্স দেখেছে বলে সেই সময় জানায়।
গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার অনুমতি না থাকায় নাম প্রকাশে অস্বীকৃতি জানিয়ে বিপিডিবির দু’জন কর্মকর্তা বলেছিলেন, দুই দফায় চিঠি দেওয়া হলেও তারা আদানি পাওয়ারের কোনও সাড়া পাননি।
কর্মকর্তারা বলেছেন, ভারত সরকারের কাছ থেকে যে করছাড় পেয়েছে আদানি পাওয়ার, সে অনুযায়ী বিদ্যুতের দাম ধরা হলে বাংলাদেশের প্রতি ইউনিট বিদ্যুতে প্রায় শূন্য দশমিক ৩৫ সেন্ট সাশ্রয় হবে বলে বিপিডিবির ধারণা।
গড্ডা প্ল্যান্ট থেকে কেনা বিদ্যুতের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের একটি সারসংক্ষেপ দেখেছে রয়টার্স। সারসংক্ষেপের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত গড্ডা প্ল্যান্ট থেকে বাংলাদেশে ৮ দশমিক ১৬ বিলিয়ন ইউনিট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে। কর ছাড়ের বিষয়টি সমন্বয় করা হলে এই বিদ্যুতে বাংলাদেশের প্রায় ২৮ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলার সাশ্রয় হতো।
আন্তর্জাতিক
৮০০ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলকে ইলন মাস্ক
বিশ্বের শীর্ষ ধনকুবের ইলন মাস্কের সম্পদের পরিমাণ এবার রেকর্ড ৮০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। মার্কিন এই উদ্যোক্তার রকেট নির্মাণ প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান এক্সএআই একীভূত হওয়ার পর এই বিশাল সম্পদ অর্জিত হলো। ইতিহাসে আর কোনো ব্যক্তি এককভাবে এত বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হতে পারেননি।
ফোর্বস ম্যাগাজিনের হিসাব অনুযায়ী, এই একীভূতকরণের ফলে যৌথ প্রতিষ্ঠানের মূল্যায়ন দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ২৫ ট্রিলিয়ন ডলার। এর মাধ্যমে মাস্কের সম্পদ বেড়েছে প্রায় ৮৪ বিলিয়ন ডলার, যা তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণকে নিয়ে গেছে রেকর্ড ৮৫২ বিলিয়ন ডলারে।
চুক্তির আগে স্পেসএক্সে ইলন মাস্কের আনুমানিক ৪২ শতাংশ মালিকানা ছিল, যার মূল্য ধরা হয়েছিল প্রায় ৩৩৬ বিলিয়ন ডলার। গত ডিসেম্বরের দরপত্র অনুযায়ী ব্যক্তিমালিকানাধীন এই কোম্পানিটির মোট মূল্যায়ন ছিল ৮০০ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে, চলতি মাসের শুরুতে এক্সএআই একটি বেসরকারি তহবিল সংগ্রহ করে, যেখানে কোম্পানিটির মূল্যায়ন ধরা হয় ২৫০ বিলিয়ন ডলার। এতে মাস্কের প্রায় ৪৯ শতাংশ মালিকানার মূল্য দাঁড়ায় ১২২ বিলিয়ন ডলার।
একীভূতকরণের পর স্পেসএক্সের মূল্যায়ন করা হয়েছে ১ ট্রিলিয়ন ডলার এবং এক্সএআইয়ের ২৫০ বিলিয়ন ডলার। ফোর্বসের হিসাবে, নতুন যৌথ প্রতিষ্ঠানে ইলন মাস্কের মালিকানা প্রায় ৪৩ শতাংশ, যার বাজারমূল্য প্রায় ৫৪২ বিলিয়ন ডলার।
এর ফলে স্পেসএক্স এখন মাস্কের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদে পরিণত হয়েছে। এ ছাড়া তাঁর কাছে টেসলার প্রায় ১২ শতাংশ শেয়ার রয়েছে, যার মূল্য আনুমানিক ১৭৮ বিলিয়ন ডলার। পাশাপাশি টেসলার শেয়ার অপশন রয়েছে আরও প্রায় ১২৪ বিলিয়ন ডলারের, যদিও এর মধ্যে গত নভেম্বর অনুমোদিত রেকর্ড পারিশ্রমিক প্যাকেজ অন্তর্ভুক্ত নয়।
এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে এটি ইলন মাস্কের দ্বিতীয় বড় একীভূতকরণ। গত মার্চে তিনি তাঁর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কোম্পানি এক্সএআই এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম এক্স একীভূত করার ঘোষণা দেন। ওই সময় এক্সএআইয়ের মূল্যায়ন ধরা হয়েছিল ৮০ বিলিয়ন ডলার এবং এক্সের ৩৩ বিলিয়ন ডলার, যা ২০২২ সালে ঋণ বাদ দিয়ে টুইটার অধিগ্রহণে ব্যয় করা অর্থের কাছাকাছি।
তবে এসব চুক্তিতে মাস্ক একই সঙ্গে ক্রেতা ও বিক্রেতার ভূমিকায় থাকায় ঘোষিত মূল্যায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে। বর্তমানে সব প্রতিষ্ঠানই স্পেসএক্সের কাঠামোর আওতায় এসেছে। এর পাশাপাশি, স্পেসএক্স চলতি বছরের শেষ দিকে আইপিও আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে, ফলে শিগগিরই এসব কোম্পানিকে শেয়ারবাজারের কঠোর নজরদারির মুখোমুখি হতে হবে।
এর আগে গত ডিসেম্বরেই ইলন মাস্ক ইতিহাসের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে ৭০০ বিলিয়ন ডলারের সম্পদের মাইলফলক অতিক্রম করেন। বৈশ্বিক গবেষণা সংস্থা ইনফরমা কানেক্ট একাডেমির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মধ্যেই মাস্ক ট্রিলিয়নিয়ার—এক লাখ কোটি ডলারের মালিক—হতে পারেন। সেই লক্ষ্যেই দ্রুত এগিয়ে চলেছেন বিশ্বের শীর্ষ ধনকুবের।
এমএন
আন্তর্জাতিক
আরব সাগরে ইরানি ড্রোন ধ্বংস করল যুক্তরাষ্ট্র
আরব সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনকে লক্ষ্য করে ধেয়ে আসা একটি ইরানি ড্রোনকে ধ্বংস করার দাবি করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনী। গতকাল মঙ্গলবার ঘটেছে এ ঘটনা।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ডের (সেন্টকোম) মুখপাত্র ও নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স রয়টার্সকে এ প্রসঙ্গে বলেছেন, “ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনে অবস্থান করা একটি এফ-৩৫সি যুদ্ধবিমান একটি ইরানি ড্রোনকে ধ্বংস করেছে। ড্রোনটি আব্রাহাম লিঙ্কনের দিকে ধেয়ে আসছিল, আঘাত হানার অনেক আগেই সেটি ধ্বংস করা হয়েছে। এতে হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি।”
ইরানের অনলাইন সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজও এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, ইরানের একটি সামরিক ড্রোন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আরব সাগরে উড়ে বেড়াচ্ছিল এবং মার্কিন নৌবাহিনী সেটি ভূপাতিত করেছে। কিন্তু কী কারনে ড্রোনটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল— সে সম্পর্কিত কোনো তথ্য তাসনিম নিউজের প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনী ড্রোন ভূপাতিত করার খবর নিশ্চিত করার পর এ ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য জানতে জাতিসংঘের ইরান মিশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল রয়টার্স, তবে তাদের কেউই কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
গত জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে ইরানে যখন তীব্র সরকারবিরোধী আন্দোলন চলছিল, সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ইন্দো-প্রশাসন্ত অঞ্চল থেকে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে রওনা হয় ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন এবং অন্যান্য সামরিক জাহাজের বড় একটি নৌবহর। ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করতেই মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় নৌবহর মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। বর্তমানে এ নৌবহর আরব সাগরে অবস্থান করছে।
এমন এক সময়ে এ ঘটনা ঘটল, যখন ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরে ওয়াশিংটন ও তেহরানের সরকারি প্রতিনিধিদের বৈঠক চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে। আগামী শুক্রবার এ বৈঠক শুরু হওয়ার কথা।
প্রসঙ্গত, ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে প্রায় দুই যুগ ধরে উত্তেজনা চলছে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে।
এমএন
আন্তর্জাতিক
গাজায় গণহত্যায় সহায়তা: দুই নারীর বিরুদ্ধে ফ্রান্সের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর গণহত্যামূলক কার্যক্রমে সহায়তার অভিযোগে নিলি কুফার-নাউরি ও র্যাচেল তিউতু নামে দুই নারীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে ফ্রান্সের কর্তৃপক্ষ। কট্টরপন্থী এ দুই নারী ইসরায়েলের পাশাপাশি ফ্রান্সেরও নাগরিক।
যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগে এ দুই নারীর বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে গত সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) জানিয়েছে ফরাসি সংবাদপত্র লে মঁদ।
নিলি কুফার-নাউরি পেশায় একজন ফরাসি-ইসরায়েলি আইনজীবী এবং ‘ইসরায়েল ইজ ফরএভার’ নামের একটি সংগঠনের প্রধান। অন্যদিকে র্যাচেল তিউতু ‘তসাভ ৯’ নামের একটি সংগঠনের মুখপাত্র। গাজায় ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশে বাধা দেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের সরাসরি ভূমিকা ছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
কুফার-নাউরি নিজেই তার গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘বিপদ হলো আমি হয়তো আর কখনোই ফ্রান্সে যেতে পারব না। কারণ, ফরাসি কারাগারে যাওয়ার কোনো ইচ্ছা আমার নেই।’ তিনি আরও জানান, ‘তসাভ ৯’ সংগঠনের অন্য সদস্যদের বিরুদ্ধেও ফ্রান্সে তদন্ত চলছে।
ইসরায়েলি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফিলিস্তিনি মানবাধিকার সংগঠন ‘আল-হক’সহ আরও কিছু ফিলিস্তিনপন্থী সংগঠন এ দুই নারীর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের সঙ্গে যুক্ত। ইসরায়েলি দখলদার কর্তৃপক্ষ এর আগে আল-হককে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে চিহ্নিত করেছিল।
উল্লেখ্য, গাজায় সংকটজনক পরিস্থিতিতে ত্রাণ ও মানবিক সহায়তার প্রবেশ বাধাগ্রস্ত করার ঘটনাকে গণহত্যার অন্যতম উপাদান হিসেবে দেখছেন মানবাধিকারকর্মীরা।
এমএন
আন্তর্জাতিক
পাকিস্তানে ব্যাপক সংঘর্ষ, ২২ সেনাসহ নিহত ২৫৫
পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে তিন দিন ধরে চলমান সামরিক অভিযানে ১৯৭ জন সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী নিহত হয়েছে। একই সময়ে নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালনকালে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ২২ জন পাকিস্তানি সেনা। এছাড়া, উভয় পক্ষের সংঘর্ষে শিশুসহ ৩৬ জন বেসামরিক নাগরিকও প্রাণ হারিয়েছেন। সব মিলিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫৫।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে জিও নিউজ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৩১ জানুয়ারি বেলুচিস্তান জুড়ে সমন্বিত ‘সন্ত্রাসী’ হামলার পর সেনা অভিযান শুরু হয়। ওই দিন একযোগে প্রদেশের ১২টি শহর ও জনপদে হামলা চালায় ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন’ বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)। ওইদিনের হামলায় ১৭ জন নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও ৩১ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন।
সপ্তাহান্তে কোয়েটা, মাস্তুং, নুশকি, দালবান্দিন, খারান, পাঞ্জগুর, টুম্প, গোয়াদার এবং পাসনিসহ বিভিন্ন এলাকায়ও হামলা চালানো হয়। পাকিস্তানের নিরাপত্তা সূত্র জানায়, গত তিন দিনে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হামলায় নারী ও শিশুসহ মোট ৩৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন বেলুচিস্তানে।
হামলার পরপরই পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো প্রদেশজুড়ে ব্যাপক ক্লিয়ারেন্স অপারেশন শুরু করে। এই অভিযানে প্রথম ধাপে ৯২ জন সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী নিহত হন, যাদের মধ্যে তিনজন আত্মঘাতী হামলাকারী ছিলেন।
দেশটির সেনাবাহিনীর মিডিয়া উইং আইএসপিআর এক বিবৃতিতে জানায়, ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’-এর জঙ্গিরা নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও শ্রমিকসহ অন্তত ১৮ জন নিরীহ নাগরিককে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। এসব হামলার উদ্দেশ্য ছিল বেলুচিস্তানের স্বাভাবিক জীবন ও উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত করা।
আইএসপিআর আরও জানায়, নিরাপত্তা বাহিনী অটল সাহস ও পেশাদার দক্ষতার পরিচয় দিয়ে জঙ্গিদের অপচেষ্টা সফলভাবে ব্যর্থ করেছে। তবে, তীব্র সংঘর্ষ ও দীর্ঘস্থায়ী মুখোমুখি লড়াইয়ে ১৫ জন নিরাপত্তা সদস্য সেদিনই নিহত হন।
পরবর্তীতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে স্যানিটাইজেশন অপারেশন চালানো হয়, যাতে হামলার পরিকল্পনাকারী, সহায়তাকারী ও মদদদাতাদের আইনের আওতায় আনা যায়।
আইএসপিআর জানায়, গোয়েন্দা প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে প্রমাণ মিলেছে যে এসব হামলা পাকিস্তানের বাইরে অবস্থানরত জঙ্গি নেতারা পরিকল্পনা ও নির্দেশনা দিয়েছেন এবং ঘটনার পুরো সময় তারা হামলাকারীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগে ছিলেন।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেলুচ লিবারেশন আর্মি বেলুচিস্তানে কাজ করা অন্যান্য প্রদেশের পাকিস্তানি নাগরিক এবং বিদেশি জ্বালানি কোম্পানিগুলোর ওপর হামলা বাড়িয়েছে। গত বছর সংগঠনটি ৪৫০ যাত্রীবাহী একটি ট্রেনে হামলা চালায়, যার ফলে দুই দিনব্যাপী রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পাকিস্তান সরকারের দাবি, বেলুচ লিবারেশন আর্মিকে প্রত্যক্ষভাবে মদদ দেয় ভারত। তাই এই সংগঠনটিকে ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’ নামে অভিহিত করে থাকে পাকিস্তান সরকার।
এমএন
আন্তর্জাতিক
তুরস্কে বৈঠকে বসছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান
কূটনৈতিক তিক্ততা ও সম্ভাব্য যুদ্ধের আশঙ্কাকে পাশ কাটিয়ে বৈঠকে বসছে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান। আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি তুরস্কের ইস্তাম্বুলে আলোচনায় বসবেন দু’দেশের সরকারি কর্মকর্তারা।
মধ্যপ্রাচ্যের আরব অঞ্চলের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে গতকাল সোমবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে এএফপি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন— মিসর, কাতার, তুরস্ক এবং ওমানের মধ্যস্থতা ও কূটনৈতিক তৎপরতার ফলেই সম্ভব হচ্ছে এ বৈঠক।
ইস্তাম্বুলের বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে থাকবেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের প্রতিনিধিদলকে নেতৃত্ব দেবেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি।
বৈঠকে দুই দেশের প্রতিনিধিদলের পাশাপাশি সৌদি আরব, মিসর, তুরস্ক ও মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর কর্মকর্তারা থাকবেন। আসন্ন সেই বৈঠকে আলোচনার প্রধান এজেন্ডা থাকবে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি।
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘ প্রায় দু’ই যুগ ধরে তিক্ততা চলছে ওয়াশিংটন এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে। গত বছর জুন মাসে এ ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতও হয়েছে ইরানের। ১২ দিনের সেই সংঘাত শেষে যুদ্ধবিরতিতে যায় যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং ইরান।
তবে যুদ্ধবিরতির পরও তিক্ততা কমেনি ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে। উপরন্তু গত জানুয়ারির মাঝামাঝি মধ্যপ্রাচ্যের সমুদ্রসীমায় যুদ্ধজাহাজের বিশাল এক বহর মোতায়েনের যে নির্দেশ দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প— তাতে দু’দেশের মধ্যে যুদ্ধের আশঙ্কা উসকে ওঠে।
এমন অবস্থার মধ্যেই গত ১ ফেব্রুয়ারি রোববার ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছিলেন,আশা করি ইরানের সঙ্গে আমরা একটি সমঝোতা চুক্তিতে পৌঁছাতে পারব।
একই দিন মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি বলেছেন, “কয়েকটি মিত্রদেশ এ ব্যাপারে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতা করছে। তারা আমাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। এটা কঠিন, কিন্তু তারা চেষ্টা করছে। আমার মনে হয়, যদি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আলোচক দল একটি সুষ্ঠু ও ন্যায়সঙ্গত সমঝোতা চুক্তির প্রস্তাব নিয়ে এগিয়ে আসে— তাহলে ফের আলোচনা হতে পারে।”
এমএন



