সারাদেশ
ভেদরগঞ্জের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আনোয়ার হোসেন মাঝির সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী পালন
শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলার উত্তর তারাবুনিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও আব্বাস আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি মরহুম আলহাজ্ব আনোয়ার হোসেন মাঝির সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা হয়েছে।
শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) উত্তর তারাবুনিয়া চেয়ারম্যান বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ মাঠে এ উপলক্ষে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
স্মরণ সভায় বক্তারা মরহুম আনোয়ার হোসেন মাঝির কর্মময় জীবনের নানা দিক তুলে ধরেন এবং তার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শফিকুর রহমান কিরণ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন মরহুমের সুযোগ্য সন্তান সাংবাদিক জাকির হোসেন ও আল-আমিন সুমন মাঝি, সখিপুর থানা বিএনপির সদস্য সচিব মাজহারুল ইসলাম সরদার, মানু সরকার যুগ্ম আহ্বায়ক সখিপুর থানা বিএনপি, উত্তর তারাবুনিয়া ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি আব্দুল মান্নান মাঝি, থানা যুবদল সভাপতি মাসুম বালা, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান রাজীব সরদার, প্যানেল চেয়ারম্যান আক্তার হোসেন আসামী, যুগ্ম আহ্বায়ক, সখিপুর থানা বিএনপি আজমল হক নান্টু মালত,বৃহত্তর তারাবুনিয়ার সাবেক চেয়ারম্যান।
জয়নাল আবেদীন মাঝি, সাবেক সহ-সভাপতি, শরীয়তপুর জেলা ছাত্রদল মিলন মাঝি, সাবেক ছাত্রদল সভাপতি তোফায়েল আহমেদ সরদার, মনির খাঁন৷ ছাত্রদল সভাপতি নিহাদ মাহমুদ সরদার, জিয়াউর রহমান টিপু মাঝিসহ স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
শত বছরে একবার আনোয়ার মাঝিরা জন্ম নেন শফিকুর রহমান কিরণ প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক এমপি শফিকুর রহমান কিরণ বলেন, আনোয়ার মাঝির মতো মানুষ যুগে যুগে জন্মায় না, শত বছরেও একবার এমন মানুষ দেখা যায়। তিনি ছিলেন অসহায় মানুষের বন্ধু, গরিবের আশ্রয়। অসহায় কেউ সাহায্য চাইলে পকেটে যা থাকতো, তা-ই দিতেন।
তিনি স্মৃতিচারণ করে আরও বলেন, আমি ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দেখছি তিনি গরিব-অসহায়দের পাশে ছিলেন সবসময়। আজ যারা তার পাশে ছিল, তারা শত কোটি টাকার মালিক কিন্তু আনোয়ার মাঝি নিজের জন্য কিছুই করেননি, করেছেন কেবল জনগণের জন্য।
তিনি আহ্বান জানান, আমরা যেন তার পরিবারের প্রতি কেউ অন্যায় না করি। আল্লাহ যদি আমাকে সংসদে নেওয়ার তৌফিক দেন, আমি আমার সামর্থ্য ও অর্থ দিয়ে হলেও তার পরিবারের খেয়াল রাখবো ইনশাআল্লাহ। তার প্রতিষ্ঠিত স্কুল-মাদ্রাসা-মসজিদগুলোর এক ইঞ্চি জমিও আমি নষ্ট হতে দেব না।
শেষে তিনি বলেন, যে মানুষ সারাজীবন জনগণের জন্য কাজ করেছে, তার জন্য যদি আমরা নামাজের পর দোয়া না করি, তাহলে আমরা অকৃতজ্ঞ। আল্লাহ যেন তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করেন—আমিন। আল-আমিন সুমন মাঝির আবেগঘন বক্তব্য আলহাজ্ব আনোয়ার হোসেন মাঝির সুযোগ্য সন্তান আল-আমিন সুমন মাঝি স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগে ভেঙে পড়েন।
তিনি বলেন, আমার বাবা ৪৪ বছর ইউনিয়ন ও ভেদরগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, কিন্তু ৪৪ বছরে ব্যাংকে ৪৪ টাকাও রেখে যাননি। বাবার চিকিৎসা হয়েছিল শফিকুর রহমান কিরণ সাহেব, বিভিন্ন শিল্পপতি, প্রবাসী ভাই ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের অর্থায়নে। যেখানে তিনি এখন শুয়ে আছেন, সেই জায়গাটিও অন্যের, কারণ নিজের নামে এক খণ্ড জমিও রেখে জাননি তিনি।
তিনি আরও বলেন, বাবা নিজের জন্য কিছুই করেননি—সব করেছেন জনগণের জন্য। আজকাল অনেক চেয়ারম্যানের বাড়িতে যেতে পাকা রাস্তা লাগে, কিন্তু আনোয়ার মাঝি সাহেবের বাড়িতে এখনো কাঁচা রাস্তা ব্যবহার করতে হয়। তার বাড়ির আঙিনায় আজও কুকুর চলাফেরা করে।
আল-আমিন সুমন মাঝি বলেন, যদি ১৩টি ইউনিয়নের মধ্যে কোনো ভোট রিজার্ভ থাকতো, তবে সেটা ছিল আনোয়ার মাঝি সাহেবের। এর প্রমাণ সাত বছর পর আমার মা ভেদরগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হন। কেউ হিংসা করেও আমার বাবার মতো সম্মান অর্জন করতে পারবে না কারন সম্মান দেওয়ার মালিক এক মাত্র মহান আল্লাহ তায়ালা। মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে দোয়া করি যেন আমার বাবাকে জান্নাতুল ফেরদৌসের সর্বোচ্চ মাকাম দান করেন আমিন। শিক্ষা ও সমাজসেবায় অনন্য ভূমিকা শিক্ষাক্ষেত্রে আলহাজ্ব আনোয়ার হোসেন মাঝির অবদান অনস্বীকার্য।
তিনি আব্বাস আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের আমৃত্যু সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়নে অসামান্য ভূমিকা রাখেন। তার নেতৃত্বে এলাকায় প্রতিষ্ঠিত হয় ও উন্নত হয় বহু শিক্ষা ও জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠান, যেমন ৮৭নং আব্বাস আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আব্বাস আলী উচ্চ বিদ্যালয়, হাসান সিদ্দিকীয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা, শরীয়তপুরের বিভিন্ন স্কুল-মাদ্রাসা ও সড়ক-ঘাট উন্নয়ন প্রকল্প পরিবার ও সর্বস্তরের মানুষের দোয়া কামনা
তার পরিবার ও অনুরাগীরা বলেন, আলহাজ্ব আনোয়ার হোসেন মাঝি ছিলেন এক আদর্শবান, সৎ ও মানবিক নেতা, যিনি আজও মানুষের হৃদয়ে বেঁচে আছেন তার কর্মে ও স্মৃতিতে।
শেষে মরহুমের পরিবারের পক্ষ থেকে সকলের কাছে দোয়া চাওয়া হয়। মহান আল্লাহ তায়ালা যেন মরহুম আনোয়ার হোসেন মাঝির সকল ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করে তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌসের মর্যাদা দান করেন।
সারাদেশ
ঠাকুরগাঁওয়ে ভোট দিলেন মির্জা ফখরুল
দীর্ঘ ১৭ বছর পর এক নতুন রাজনৈতিক পরিবেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণেভোটের ভোট দিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পরপরই তিনি ঠাকুরগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট প্রদান করেন।
এদিকে সারাদেশেই প্রায় ১৭ বছর পর উৎসবের আমজে ভোট দিতে আসছেন ভোটাররা। সকাল থেকেই তারা কেন্দ্রে আসতে শুরু করেছেন। এ নির্বাচনে ৫০টি নিবন্ধিত দল অংশ নিয়েছে। তবে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছে বিএনপি ও জামায়াত।
এবার ভোট দিচ্ছেন দেশের ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন ভোটার। এর মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন। নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ২৩২ জন।
উল্লেখ্য, শেরপুর-৩ আসনের এক প্রার্থীর মৃত্যু হওয়ায় ওই আসনের ভোটগ্রহণ স্থগিত রয়েছে।
এমএন
সারাদেশ
ভোটের পরিবেশে এখন পর্যন্ত সুন্দর ও স্বাভাবিক : সালাহউদ্দিন আহমদ
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা ২০ মিনিটের দিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট এর ভোটগ্রহণ শুরুর পরপরই পেকুয়া উপজেলা সদরের সরকারি মডেল জিএমসি ইনস্টিটিউশন কেন্দ্রে চকরিয়া ও পেকুয়া নিয়ে গঠিত কক্সবাজার-১ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
এসময় তার স্ত্রী সাবেক সংসদ সদস্য হাসিনা আহমদ ও পুত্র সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদসহ সালাহউদ্দিন আহমদের পরিবারের বাকি সদস্যরাও কেন্দ্রে স্ব-স্ব ভোট প্রদান করেন।
ভোট দিয়ে সাংবাদিকদের সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ইতিহাসের বাক বদলানো শুরু হয়েছে, আমি লাইনে সবার শেষে দাঁড়িয়ে ভোট দিলাম। এখানে সবাই এখন নিজের ভোটাধিকার নিয়ে সচেতন। এখন পর্যন্ত ভোটের পরিবেশে সুন্দর ও স্বাভাবিক রয়েছে।
তিনি বলেন, আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা যে প্রত্যাশায় রক্ত দিয়েছেন, আমাদের সন্তানের শহীদ হয়েছেন সে প্রত্যাশা-স্বপ্ন আকাশচুম্বী। গণতান্ত্রিক চর্চার মধ্য দিয়ে আমরা এগিয়ে যেতে চাই।
সালাহউদ্দিন আহমদ কক্সবাজার-১ আসন থেকে এর আগে তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
সারাদেশ
স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে টাকা বিতরণকালে আটক ৩ কর্মীর কারাদণ্ড ও জরিমানা
জামালপুর-৩ (মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাদিকুর রহমান শুভর পক্ষে ভোটারদের মাঝে টাকা বিতরণের সময় তিন কর্মীকে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের প্রত্যেককে এক মাস করে কারাদণ্ড এবং ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে মাদারগঞ্জ উপজেলার চরগুলাবাড়ী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
সাজাপ্রাপ্তরা হলেন, জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার চর সগুনা এলাকার হারুনউর রশিদের ছেলে মেহেদী হাসান (২৫), ছবিলাপুর এলাকার মো. জালাল উদ্দিন আকন্দের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (৫২) এবং একই এলাকার আব্দুল আজিজ মন্ডলের ছেলে জহুরুল ইসলাম (৬৫)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিকালে জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার জোড়খালী ইউনিয়নের চরগোলাবাড়ী এলাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী সাদিকুর রহমান শুভ এর পক্ষে টাকা বিতরণ করে তার কর্মী মেহেদী হাসান, জহুরুল ইসলাম এবং জাহাঙ্গীর আলম। ওই এলাকা থেকে টাকা বিতরণ করে ফেরার পথে আদারভিটা ইউনিয়নের কয়ড়া বাজার এলাকায় আসলে খবর পেয়ে ৯৪ হাজার ৫শ’ টাকাসহ তাদের আটক করে স্থানীয় জনতা।
পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনীকে খবর দিয়ে তাদের হাতে তুলে দেয়। এ সময় জামালপুর-৩ আসনের নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির বিচারক আরিফ হোসেন তাৎক্ষণিক ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে অভিযুক্ত তিনজনের স্বীকারোক্তিতে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা এবং ১ মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ প্রদান করেন।
মাদারগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তফিজুর রহমান ভুইঞা এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এমএন
সারাদেশ
যানবাহন শূন্য ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক
রাত পোহালেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের অন্যতম ব্যস্ততম সড়ক ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক প্রায় যানবাহন শূন্য হয়ে পড়েছে। সাধারণত যেখানে দিন-রাত পণ্যবাহী ট্রাক, দূরপাল্লার বাস ও ব্যক্তিগত গাড়ির চাপ থাকে, সেখানে নির্বাচনকে ঘিরে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট—দাউদকান্দি, গৌরীপুর, মেঘনা-গোমতী সেতু এলাকা খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দূরপাল্লার বাস চলাচল প্রায় কমে গেছে। ব্যক্তিগত যানবাহনের সংখ্যাও ছিল খুবই কম। মাঝে মধ্যে জরুরি সেবা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গাড়ি ও কিছু পণ্যবাহী যান চলাচল করতে দেখা গেছে।
স্থানীয় প্রশাসন সূত্র জানায়, নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি সদস্যদের টহল জোরদার রয়েছে। এ ছাড়া নির্বাচনী বিধিনিষেধের কারণে আন্তঃজেলা বাস চলাচল সীমিত করা হয়েছে।
দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম আব্দুল হালিম জানান, নির্বাচনকে ঘিরে যে কোনো ধরনের নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা এড়াতে আমরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছি। মহাসড়কে যানবাহন কম থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হচ্ছে।
চট্টগ্রামগামী এস আলম পরিবহনের এক যাত্রী শহীদুল ইসলাম জানান, বাস চলাচল কমে যাওয়ায় জরুরি প্রয়োজনে গন্তব্যে পৌঁছাতে কিছুটা ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। তবে অধিকাংশ মানুষই নির্বাচনের দিন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের এমন উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণ শেষ হলে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হবে মহাসড়কের যান চলাচল। দেশের অর্থনৈতিক প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এ মহাসড়কটি আবারও ফিরবে তার চিরচেনা ব্যস্ত রূপে।
এমএন
সারাদেশ
জেলা জামায়াত আমিরের হার্ট অ্যাটাক, সিসিইউতে ভর্তি
নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে ৭৪ লাখ টাকাসহ আটক হওয়া ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির বেলাল উদ্দিনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি সেখানকার হৃদরোগ বিভাগের সিসিইউ-১ এ চিকিৎসাধীন রয়েছে। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলের দিকে তাকে ভর্তি করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন করোনারি কেয়ার ইউনিট-সিসিইউ ১ এর নার্সিং ইনচার্জ সোহেলা পারভীন।
এর আগে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে টাকাসহ আটক করে। এ সময় জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে অ্যাম্বুলেন্সযোগে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
অসুস্থ জামায়াত নেতার বিষয়ে রংপুর কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. আজহারুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে বোঝা যাচ্ছে জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দিন হার্ট অ্যাটাক করেছে। উনার ব্লাড প্রেসার বেড়ে যাওয়ায় হার্টের হার্টবিট কমা-বাড়া করছে। উনাকে এই মুহূর্তে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ইসিজি করা হয়েছে, সেখানে সমস্যা আছে। ইকোসহ ব্লাডের কিছু টেস্ট করা হয়েছে। রিপোর্ট আসলে বোঝা যাবে উনার সমস্যা কী পর্যায়ে। তিনি আশঙ্কামুক্ত নন।
রংপুর মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি কেএম আনোয়ারুল হক কাজল বলেন, ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দিন একজন বয়োবৃদ্ধ মানুষ। উনি রাজনীতির পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবে ব্যবসার সঙ্গে সম্পর্কিত। উনি কিছু টাকা-পয়সা নিয়ে ঢাকা থেকে আসছিলেন। যে টাকার কথা বলা হচ্ছে, যেটা প্রশাসন বা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের নিয়মকানুন মেনে, সেখানে এনডোর্সমেন্ট করেই নিয়ে আসছিলেন। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে তাকে আটকিয়ে আজকে একটা অস্থিতিশীল পরিবেশ বা সুন্দর পরিবেশটাকে ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রশাসন যেখানে অবহিত ছিল। কিন্তু একটা বিশেষ বিভাগ তাকে আটক করেছে এবং তার বিভিন্ন প্রহসন করার কারণে, বিভিন্নভাবে তাকে মানসিক টর্চারের কারণে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। প্রায় ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে তার বয়স। আগে থেকেই তিনি শারীরিকভাবে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত। হার্টের অসুস্থতার কারণে ডাক্তাররা তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দিয়েছেন। তার বেশ কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা দেওয়া হয়েছে এবং এই পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্টগুলো আসলে বোঝা যাবে।
এদিকে বুধবার বেলা ১১টার দিকে ঢাকা থেকে বিমানযোগে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে অবতরণ করেন বেলাল উদ্দিন। সঙ্গে ছিলেন জেলা জামায়াতের দফতর সম্পাদক আবদুল মান্নান। সেখানে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের তল্লাশি করে ব্যাগে থাকা টাকা জব্দ করে এবং তাদের হেফাজতে নেয়।
সৈয়দপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল আলম রেজা বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বেলাল উদ্দিন জানান তার ব্যাগে প্রায় ৫০ লাখ টাকা রয়েছে। পরে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে টাকা গণনা শেষে তার ব্যাগে ৭৪ লাখ টাকা পাওয়া যায়।
ওসি বলেন, বেলাল উদ্দিন গার্মেন্টস ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং ব্যবসায়িক কাজেই টাকা নিয়ে যাচ্ছিলেন বলে জানিয়েছেন। তার এ বক্তব্য যাচাই-বাছাই করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
বেলাল উদ্দিন সালন্দর ইসলামিয়া কামিল মাদরাসার শিক্ষক। তিনি ঠাকুরগাঁও শহরের হাজীপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তার বাবার নাম দবিরুল ইসলাম।
এমএন



