পুঁজিবাজার
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তি ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা নিয়ে ডিএসই-বিসিএমইএ’র বৈঠক
বাজার উন্নয়নের ধারাবাহিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সিরামিক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিএমইএ) সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. মামুনুর রশিদের নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জর (ডিএসই) ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেন।
বুধবার (২৯ অক্টোবর) আয়োজিত এ বৈঠকে অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য কোম্পানিগুলোর জন্য পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির কাঠামো, প্রক্রিয়া এবং সম্ভাব্য সুবিধা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। আজ ডিএসই এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বৈঠকের শুরুতেই ডিএসইর প্রধান পরিচালনা কর্মকর্তা ও ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আসাদুর রহমান সকলকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ রূপান্তর যাত্রায় রয়েছে-যেখানে প্রতিষ্ঠানটি শুধুমাত্র একটি নিয়ন্ত্রক সংস্থা নয়, বরং একটি আধুনিক, সেবা ও কাস্টমার-সেন্ট্রিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে।
তিনি আরও বলেন, প্রাইমারি মার্কেট তথা আইপিও প্রক্রিয়ায় ডিএসই বৃহত্তর ডিজিটাল রূপান্তর আনছে। অতীতে যেখানে একটি আইপিও সম্পন্ন হতে দুই থেকে চার বছর সময় লাগত, এখন সেটি ছয় মাসের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। শিগগিরই নতুন আইপিও রুলস অনুমোদন পেতে যাচ্ছে, যা এক্সচেঞ্জকে আরও ক্ষমতায়ন করবে এবং পুরো প্রক্রিয়াটি অনলাইনে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। ডিএসই একটি সেন্ট্রাল ডিজিটাল সাবমিশন সিস্টেম চালুর উদ্যোগ নিয়েছে, যার মাধ্যমে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো তাদের পিএসআই, শেয়ারহোল্ডিং ও ম্যানেজমেন্ট পরিবর্তনসহ সকল তথ্য এক জায়গায় জমা দিতে পারবে। দীর্ঘদিন নতুন কোম্পানি লিস্টিংয়ের ঘাটতির কারণে বাজারের সরবরাহপক্ষ দুর্বল হয়ে পড়েছিল। এ পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে ডিএসই গুণগতমানসম্পন্ন নতুন কোম্পানি আনার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
তিনি বলেন, ডিএসই’র তিনটি বোর্ড-মেইন বোর্ড, এসএমই বোর্ড ও এটিবি বোর্ড-এর মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের সুযোগ তৈরি হচ্ছে, যা ব্যাংকনির্ভর অর্থায়নের ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
মোহাম্মদ আসাদুর রহমান বলেন, ডিএসই এখন ওয়ান-টু-ওয়ান সার্ভিস প্রদানের জন্য প্রস্তুত। কোনো প্রতিষ্ঠান যদি মেইন বোর্ড বা এসএমই বোর্ডে তালিকাভুক্ত হতে আগ্রহী হয়, তাদের জন্য ডেডিকেটেড টিমের মাধ্যমে সহায়তা প্রদান করা হবে।
তিনি আরও বলেন, টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম ভিত্তি হলো একটি শক্তিশালী ক্যাপিটাল মার্কেট, এবং শিল্পখাতকে এতে সম্পৃক্ত করাই ডিএসই’র এই রূপান্তর অভিযানের মূল লক্ষ্য।
পরে ডিএসই’র উপ-মহাব্যবস্থাপক সাঈদ মাহমুদ জুবায়ের এক প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের কাঠামোগত ওভারভিউ, ডিএসই’র প্রোডাক্ট সমূহ, ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম, বাংলাদেশের পুঁজিবাজার থেকে তহবিল সংগ্রহের প্রক্রিয়া, এটিবি ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে মালিকানা হস্তান্তরের তুলনা, তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া, বিভিন্ন ধরণের ইনভেস্টমেন্ট অপশন, তালিকাভুক্তির সুবিধা এবং পণ্যের বৈচিত্র্যকরণের জন্য চলমান উদ্যোগ সম্পর্কে আলোকপাত করেন।
বিসিএমইএ’র সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. মামুনুর রশিদ বলেন, পুঁজিবাজারের উন্নয়ন ও শিল্পখাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে ডিএসই বর্তমানে একটি রূপান্তর যাত্রায় রয়েছে। এই যাত্রার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি একটি রেগুলেটরি সংস্থার পাশাপাশি নিজেকে আরও সার্ভিস ও কাস্টমার-সেন্ট্রিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।
তিনি ডিএসই’র এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও ইতিবাচক বলে অভিহিত করে বলেন, ব্যবসায়িক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসে লিস্টিং প্রক্রিয়া, টাইমলাইন ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে মতবিনিময় করা একটি প্রশংসনীয় পদক্ষেপ, যা বাজারের প্রতি আস্থা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি বিগত পাঁচ দশকে ব্যাপক প্রবৃদ্ধি অর্জন করলেও ইকুইটি ফাইন্যান্সিং এখনো খুবই সীমিত। বর্তমানে শিল্প বিনিয়োগের প্রায় ৯৮ শতাংশই ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে হয়, যা টেকসই পুঁজিবাজার গঠনে একটি বড় বাধা।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, আইপিও প্রক্রিয়া সহজীকরণ, লিস্টিংয়ের নিয়ম ও কাগজপত্রের চেকলিস্ট সংক্ষিপ্ত করা এবং কর ও ডিভিডেন্ড সংক্রান্ত নীতিমালা আরও বিনিয়োগবান্ধব করার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। কমপ্লায়েন্স কস্ট অর্থাত্ ইস্যু ম্যানেজার, অডিটর, এবং অন্যান্য রেগুলেটরি ফি অনেক ক্ষেত্রেই কোম্পানিগুলোর জন্য চাপ সৃষ্টি করে। AGM আয়োজন, রেগুলেটরি সাবমিশন এবং বিভিন্ন ফি কোম্পানিগুলোর জন্য আর্থিক ও প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি করে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ডিএসই ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর ডিজিটাল উদ্যোগ, যেমন অনলাইন এজিএম, হাইব্রিড মিটিং এবং ইলেকট্রনিক ফাইলিং ব্যবস্থা এই জটিলতা অনেকটাই কমিয়ে এনেছে।
এছাড়া, বক্তারা কর্পোরেট গভর্নেন্স চর্চা জোরদার, কমপ্লায়েন্স কস্ট হ্রাস, ইস্যু ম্যানেজারদের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে বিদেশে রোডশো আয়োজনের পরামর্শ দেন।
তাঁদের মতে, এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে পুঁজিবাজারে মানসম্মত কোম্পানির লিস্টিং বাড়বে, বাজারে আস্থা পুনঃস্থাপিত হবে এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও ত্বরান্বিত হবে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিভিন্ন সিরামিক কোম্পানির সিএফও ও কোম্পানি সেক্রেটারিরা।
পুঁজিবাজার
ডিএসইর বাজার মূলধন বাড়লো ১ হাজার ৯১৯ কোটি টাকা
দেশের শেয়ারবাজারে সূচকের উত্থানের মধ্য দিয়ে চলতি সপ্তাহে লেনদেন হয়েছে। এতে সপ্তাহ ব্যবধানে দেশের প্রধান শেয়ারবাজারে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বাজার মূলধন বেড়েছে ১ হাজার ৯১৯ কোটি টাকা।
পুঁজিবাজারের সাপ্তাহিক হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)
সপ্তাহ ব্যবধানে ডিএসইর বাজার মূলধন বেড়েছে শূন্য দশমিক ২৮ শতাংশ বা ১ হাজার ৯১৯ কোটি টাকা। চলতি সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৮৭ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা। এর আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে এই মূলধন ছিল ৬ লাখ ৮৫ হাজার ৬৩১ কোটি টাকা।
সূত্র মতে, চলতি সপ্তাহে ডিএসইতে বেড়েছে সব কয়টি সূচকের মান। প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ৪১.৭৫ পয়েন্ট বা ০.৭৯ শতাংশ। ডিএসই-৩০ সূচক বেড়েছে ২৪.৭১ পয়েন্ট বা ১.২৪ শতাংশ। আর ডিএসইএস সূচক বেড়েছে দশমিক ২১ পয়েন্ট বা ০.০২ শতাংশ।
সূত্র মতে, ডিএসইতে বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণও। সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৪ হাজার ৫১৪ কোটি ২৩ লাখ টাকা। এর আগের সপ্তাহে মোট লেনদেন হয়েছিল ৩ হাজার ২৭৩ কোটি ১৬ লাখ টাকা। এক সপ্তাহে লেনদেন বেড়েছে ১ হাজার ২৪১ কোটি ৭ লাখ টাকা।
আর প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন বেড়েছে ৮৪ কোটি ৫৫ লাখ টাকা বা ১০.৩৩ শতাংশ। চলতি সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসে ডিএসইতে গড়ে লেনদেন হয়েছে ৯০২ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। এর আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছিল ৮১৮ কোটি ২৯ লাখ টাকা।
সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে ৩৯০টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিটের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ১৯৪টি কোম্পানির, কমেছে ১৬৮টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৮টি কোম্পানির শেয়ারের দাম।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)
এদিকে সপ্তাহ ব্যবধানে দেশের অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) প্রধান সূচক সিএএসপিআই ও সিএসসিএক্স যথাক্রমে ০.৪৭ শতাংশ ও ০.৫৭ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪৮৩১.৭২ পয়েন্টে ও ৯০৯২.৮০ পয়েন্টে।
এছাড়া সিএসই-৩০ সূচক ০.৬৬ শতাংশ ও সিএসই-৫০ ০.০৯ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১৩০৬২.০৯ পয়েন্টে ও ১১১৩.৬২ পয়েন্টে। তবে সিএসআই সূচক কমেছে ০.০৮ শতাংশ। সূচকটি অবস্থান করছে ৮৯৭.০৬ পয়েন্টে।
সূত্র মতে, চলতি সপ্তাহজুড়ে সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১৪৭ কোটি ৭৩ লাখ টাকা, যা এর আগের সপ্তাহে ছিল ২৪৩ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। সপ্তাহ ব্যবধানে লেনদেন কমেছে ৯৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা।
সূত্র মতে, সপ্তাহজুড়ে সিএসইতে ৩১০টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ১৩৮টির, কমেছে ১৫১টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২১টির কোম্পানির শেয়ার দর।
এমএন
পুঁজিবাজার
পিপলস ইন্স্যুরেন্সের প্রথম প্রান্তিক প্রকাশ
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি পিপলস ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড গত ৩১ মার্চ, ২০২৬ তারিখে সমাপ্ত প্রথম প্রান্তিকের (জানুয়ারি’২৬-মার্চ’২৬) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় আলোচ্য প্রান্তিকে শেয়ার প্রতি আয় বেড়েছে ১০৪ দশমিক ৭৬ শতাংশ।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে চলতি হিসাববছরের প্রথম প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর তা প্রকাশ করা হয়। কোম্পানি সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।
সূত্র মতে, চলতি হিসাববছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি’২৬-মার্চ’২৬) কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ১ টাকা ২৯ পয়সা। গত বছর একই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) ছিল ৬৩ পয়সা।
আলোচিত প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি ক্যাশফ্লো ছিল ৯৩ পয়সা, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ৭৮ পয়সা।
গত ৩১ মার্চ, ২০২৫ তারিখে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) ছিল ৩৯ টাকা ২৪ পয়সা।
এমএন
পুঁজিবাজার
বিএসইসি–আইডিআরএ শীর্ষ পদে বয়সসীমা বাতিল, মন্ত্রিসভায় অনুমোদন
পুঁজিবাজার ও বিমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর শীর্ষ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ সংক্রান্ত দুটি আইন সংশোধনের খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।
বৈঠকে জানানো হয়, ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং সাপেক্ষে অনুমোদন করা হয়েছে। বর্তমানে ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন, ১৯৯৩’-এর ধারা ৫-এর উপধারা (৬) অনুযায়ী বিএসইসির চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৬৫ বছর নির্ধারিত রয়েছে।
কিন্তু এই বয়সসীমার কারণে পুঁজিবাজার খাতে দক্ষ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়োগে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে বলে মনে করছে সরকার। এ বাস্তবতায় জনস্বার্থে চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা সংক্রান্ত শর্ত বিলুপ্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
একই বৈঠকে ‘বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়াও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বর্তমান ‘বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ আইন, ২০১০’-এর ধারা ৭-এর উপধারা (৩)-এর দফা (ছ) অনুযায়ী সংস্থাটির চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৬৭ বছর নির্ধারিত রয়েছে।
সরকারের মতে, এই বয়সসীমাও বিমা খাতে অভিজ্ঞ ও যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ফলে চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা সংক্রান্ত বিধানটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রিসভা বৈঠকে আরও উল্লেখ করা হয়, মালয়েশিয়া, শ্রীলংকা ও নেপালসহ এশিয়ার অনেক দেশে পুঁজিবাজার ও বিমা নিয়ন্ত্রক সংস্থার শীর্ষ পদে নিয়োগে কোনো সর্বোচ্চ বয়সসীমা নির্ধারিত নেই। এ প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশেও এ বিধান শিথিল করা হচ্ছে।
এমএন
পুঁজিবাজার
হাইডেলবার্গ ম্যাটারিয়েলসের লভ্যাংশ ঘোষণা
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি হাইডেলবার্গ ম্যাটারিয়েলস বাংলাদেশ পিএলসি গত ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৪ তারিখে সমাপ্ত হিসাববছরের জন্য লভ্যাংশ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। কোম্পানিটি আলোচিত বছরের জন্য সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের ১১ শতাংশ লভ্যাংশ দেবে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে সর্বশেষ হিসাববছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর লভ্যাংশ সংক্রান্ত এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কোম্পানি সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।
নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৫ সালে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৩ টাকা ৫৫ পয়সা।
সূত্র মতে, গত ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) ছিল ৭৩ টাকা ৯২ পয়সা। সর্বশেষ বছরে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি ক্যাশ ফ্লো ছিল মাইনাস ৪ পয়সা।
আগামী ১৮ জুন, ডিজিটাল প্ল্যাটফরমে ব্যাংকটির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে। এজিএমে যোগ দেওয়া ও লভ্যাংশ প্রাপ্তির যোগ্যতা নির্ধারণে আগামী ২০ মে রেকর্ড তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
এমএন
পুঁজিবাজার
পিপলস ইন্স্যুরেন্সের লভ্যাংশ ঘোষণা
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক খাতের কোম্পানি পিপলস ইন্স্যুরেন্স পিএলসি গত ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে সমাপ্ত হিসাববছরের জন্য লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। কোম্পানিটি আলোচিত বছরের জন্য সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের ১০.৫০ শতাংশ লভ্যাংশ দেবে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে সর্বশেষ হিসাববছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর লভ্যাংশ সংক্রান্ত এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কোম্পানি সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।
সূত্র মতে, সর্বশেষ বছরে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৪ টাকা ১৯ পয়সা, যা আগের বছর ২ টাকা ৮৪ পয়সা ছিল।
গত ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) ছিল ৩৭ টাকা ৯৫ পয়সা। সর্বশেষ বছরে শেয়ার প্রতি ক্যাশ ফ্লো ছিল ৫ টাকা ২৪ পয়সা, যা আগের বছর ৩ টাকা ৬৬ পয়সা ছিল।
আগামী ২৪ জুন, ডিজিটাল প্ল্যাটফরমে ব্যাংকটির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে। এজিএমে যোগ দেওয়া ও লভ্যাংশ প্রাপ্তির যোগ্যতা নির্ধারণে আগামী ২০ জুন রেকর্ড তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
এমএন



