পুঁজিবাজার
আইপিডিসি ফাইন্যান্সের আয় বেড়েছে ১২৫ শতাংশ
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আর্থিক খাতের প্রতিষ্ঠান আইপিডিসি ফাইন্যান্স পিএলসি গত ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ তারিখে সমাপ্ত তৃতীয় প্রান্তিকের (জুলাই’২৫-সেপ্টেম্বর’২৫) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় আলোচ্য প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় বেড়েছে ১২৫ শতাংশ।
মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে চলতি হিসাববছরের তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর তা প্রকাশ করা হয়। কোম্পানি সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।
সূত্রমতে, চলতি হিসাববছরের তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ২৭ পয়সা। গত বছর একই সময়ে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছিল ১২ পয়সা।
হিসাববছরের প্রথম তিন প্রান্তিক মিলিয়ে তথা ৯ মাসে (জানুয়ারি’২৫-সেপ্টেম্বর’২৫) কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৬৪ পয়সা। গত বছরের একই সময়ে তা ৩৭ পয়সা ছিল।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ তারিখে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্য ছিল ১৭ টাকা ৭ পয়সা।
পুঁজিবাজার
রাজকীয় বিয়ে করা সেই জাভেদের বনানীর বাড়ি ঋণ খেলাপির দায়ে ক্রোক
পুঁজিবাজারের বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত নাম জাভেদ অপগেনহেফেন। একদিকে প্যারিসে ২৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে রাজকীয় বিয়ে, অন্যদিকে দেশের ব্যাংকের টাকা আত্মসাৎ করে ‘ঋণ খেলাপি’। বকেয়া ঋণ আদায়ে এবার তার রাজধানীর বনানীর বিলাসবহুল বাড়িটি ক্রোক করেছে ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি (ইবিএল)।
সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে ছবিসহ একটি ‘সতর্কীকরণ গণবিজ্ঞপ্তি’ প্রকাশ করেছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। যেখানে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি এস এস স্টিল লিমিটেডের চেয়ারম্যান জাভেদ অপগেনহেফেনের মালিকানাধীন বনানীর ১৮ নম্বর রোডের ৩৬ নম্বর প্লটের বাড়িটি ক্রোক করার আদেশ প্রচার করা হয়।
ব্যাংকের কঠোর পদক্ষেপ
ইস্টার্ন ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এস এস স্টিল লিমিটেডের বকেয়া ঋণ আদায়ের লক্ষ্যে অর্থ ঋণ আদালত-০৩, ঢাকায় ২৬৭৩/২৪ নম্বর মামলা দায়ের করা হয়। আদালতের আদেশ মূলে (১৬/০৩/২০২৫) জাভেদ অপগেনহেফেনের মালিকানাধীন বনানী আবাসিক এলাকার ৫ কাঠা জমির ওপর নির্মিত সব স্থাপনা ক্রোক করা হয়েছে। বর্তমানে ওই সম্পত্তিতে ব্যাংকের পক্ষ থেকে সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে এবং এই সম্পত্তি সংক্রান্ত যেকোনো লেনদেনকে সম্পূর্ণ অবৈধ ও আদালত অবমাননার শামিল বলে ঘোষণা করা হয়েছে।
বিলাসবহুল জীবন ও বিতর্কিত বিয়ে
জাভেদ অপগেনহেফেন কেবল একজন ব্যবসায়ী নন, তিনি পুঁজিবাজারের ‘মাফিয়া’ হিসেবেও পরিচিত। ২০২৩ সালে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে অপেরা গার্নিয়ার ও পার্ক দে বাগাটেলে আয়োজিত তার বিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।
দুবাইয়ের ভারতীয় বংশোদ্ভূত ইনফ্লুয়েন্সার রোজেমিন মাধবজিকে বিয়ে করতে তিনি খরচ করেছিলেন প্রায় ২৫ মিলিয়ন ইউরো বা ২৭০ কোটি টাকা। অনুষ্ঠানে মনীশ মালহোত্রা এবং ফারাজ মাননের মতো বিখ্যাত ভারতীয় ডিজাইনারদের পোশাক পড়েছিলেন। বিশ্বখ্যাত ফ্যাশন ম্যাগাজিন ‘ভোগ’-এর মধ্যপ্রাচ্য সংস্করণে এই বিয়ের জাঁকজমকপূর্ণ ফিচার প্রকাশিত হলেও কৌশলে সেখানে তিনি তার বাংলাদেশি পরিচয় ও ব্যবসার উৎস গোপন রেখেছিলেন।
প্যারিসের সেই রাজকীয় বিয়েতে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের তৎকালীন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী পরিবারের সদস্যরা। সালমান এফ রহমানের ছেলে, প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের ছেলে, আজিজ খানের মেয়েসহ দেশের শীর্ষ ধনাঢ্য পরিবারের সন্তানদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
পুঁজিবাজারে আধিপত্য ও পারিবারিক অবস্থা
জাভেদ কেবল এস এস স্টিল নয়, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ফু-ওয়াং সিরামিক এবং জেনারেশন নেক্সট ফ্যাশনস লিমিটেডের সাথেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। অভিযোগ রয়েছে, স্টক ম্যানিপুলেশন ও কৃত্রিমভাবে শেয়ার দর বাড়িয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অর্থ হাতিয়ে নেওয়াই ছিল তার মূল লক্ষ্য। জাভেদের বাবা তৌহিদুল চৌধুরী যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের সাবেক হাইকমিশনার মুনা তাসনিমের স্বামী। তৌহিদুল ও তার প্রথম স্ত্রীর সন্তান জাভেদ।
বিনিয়োগকারীদের ক্ষোভ
সাধারণত ব্যাংকগুলো ঋণের দায়ে সম্পত্তি ক্রোকের খবর দিলেও বাড়ির ছবিসহ এমন ‘পাবলিক নোটিশ’ খুব একটা দেখা যায় না। ইস্টার্ন ব্যাংকের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন অনেকে। বিনিয়োগকারীদের দাবি, শুধু বাড়ি ক্রোক নয়, পুঁজিবাজারে জাভেদের কারসাজির তদন্ত করে লুটে নেওয়া অর্থ উদ্ধার এবং তাকে আইনের আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি।
পুঁজিবাজার
সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে যাচ্ছে প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল
টেকসই জ্বালানি ব্যবহার ও কার্বন নিঃসরণ কমাতে নিজস্ব কারখানায় রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল পিএলসি। এ প্রকল্পের মাধ্যমে আগামী ২০ বছর নিজস্ব সহযোগী প্রতিষ্ঠান প্যারামাউন্ট সোলার লিমিটেডের কাছ থেকে বিদ্যুৎ কিনবে কোম্পানিটি।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
ডিএসইর তথ্যানুযায়ী, গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার গিলারচালা এলাকায় অবস্থিত কোম্পানির কারখানা প্রাঙ্গণে ৯.৮১ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপন করা হবে। ‘অপেক্স’ মডেলে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পের নকশা, নির্মাণ, পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা করবে প্যারামাউন্ট সোলার লিমিটেড।
চুক্তি অনুযায়ী, প্রকল্প থেকে উৎপাদিত প্রতি ইউনিট (কিলোওয়াট-ঘণ্টা) বিদ্যুৎ ৮ টাকা ২০ পয়সা হারে (ভ্যাট ও এআইটি ছাড়া) ক্রয় করবে প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল। প্রকল্প চালুর পর থেকে ২০ বছর পর্যন্ত এ চুক্তি কার্যকর থাকবে।
কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিবেশবান্ধব উৎপাদনব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং দীর্ঘমেয়াদে ব্যবসায়িক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, প্যারামাউন্ট সোলার লিমিটেডের পরিশোধিত মূলধনের ৯৯.৯৯ শতাংশ শেয়ারের মালিক প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল। এ বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি (পিপিএ) স্বাক্ষরের সিদ্ধান্তও পরিচালনা পর্ষদ অনুমোদন করেছে।
আর্থিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ২ টাকা ৩৬ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২ টাকা ৪৬ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ শেষে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৪৫ টাকা ৬ পয়সা।
সর্বশেষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের ১২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয়। ওই বছরে শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ৬ টাকা ৪৮ পয়সা, যা আগের বছরে ছিল ৬ টাকা ২ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৫ শেষে এনএভিপিএস ছিল ৪৩ টাকা ৮৯ পয়সা।
২০১৩ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্যারামাউন্ট টেক্সটাইলের অনুমোদিত মূলধন ৫০০ কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ১৭৯ কোটি ১১ লাখ ৭০ হাজার টাকা। কোম্পানির রিজার্ভে রয়েছে ৫৫২ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। মোট শেয়ারের মধ্যে ৬০.৯৫ শতাংশ উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে রয়েছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ১৪.০৬ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে ৪.৩৪ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে ২০.৬৫ শতাংশ শেয়ার।
পুঁজিবাজার
২০% লভ্যাংশ ঘোষণা করল আইডিএলসি ফাইন্যান্স
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আইডিএলসি ফাইন্যান্স পিএলসি ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাববছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ২০ শতাংশ লভ্যাংশ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এর মধ্যে ১৫ শতাংশ নগদ এবং ৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সোমবার (১৬ মার্চ) অনুষ্ঠিত কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদনের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
কোম্পানি সূত্র জানায়, আলোচিত বছরে সমন্বিতভাবে আইডিএলসি ফাইন্যান্সের নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ২৪৩ কোটি ৩৬ লাখ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২২ শতাংশ বেশি। ২০২৪ সালে কোম্পানিটির মুনাফা ছিল ২০০ কোটি ২৮ লাখ টাকা।
আলোচিত সময়ে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৫ টাকা ৫৮ পয়সা, যা আগের বছর ছিল ৪ টাকা ৫৯ পয়সা। একই সময়ে শেয়ারপ্রতি ক্যাশফ্লো বেড়ে হয়েছে ৫৩ টাকা ৩৮ পয়সা, যা আগের বছরে ছিল ৮ টাকা ২ পয়সা।
২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৪৯ টাকা ৯৬ পয়সা।
আগামী ১৪ মে সকাল ১১টায় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে। এ জন্য রেকর্ড তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯ এপ্রিল।
পুঁজিবাজার
অর্থ লেনদেনে অনিয়ম, ইনডেক্স এগ্রোর পরিচালকসহ ৩ জনকে জরিমানা
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ইনডেক্স অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের আর্থিক লেনদেনে প্রায় ২ কোটি টাকার অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এই অনিয়মে জড়িত থাকায় কোম্পানির একজন পরিচালকসহ তিনজনকে অর্থদণ্ড করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
বিএসইসির মার্চ মাসের এনফোর্সমেন্ট অ্যাকশন প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
বিএসইসির তদন্তে দেখা যায়, কোম্পানিটি তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইনডেক্স কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের সঙ্গে প্রায় ২ কোটি টাকার রিলেটেড পার্টি লেনদেন করেছে, যা নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়নি। আন্তর্জাতিক হিসাবমান অনুযায়ী এ ধরনের লেনদেন প্রকাশ বাধ্যতামূলক।
এ ঘটনায় ইনডেক্স এগ্রোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহিন বিন মাজহারকে ৫ লাখ টাকা, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) ইকবাল আহমেদকে ১ লাখ টাকা এবং কোম্পানি সচিব আবু জাফর আলীকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বিএসইসির পরিদর্শন দল কোম্পানির প্রধান কার্যালয় ও চারটি কারখানা পরিদর্শন করে এবং বিভিন্ন নথি যাচাইয়ের মাধ্যমে এসব অনিয়ম শনাক্ত করে।
তদন্তে আরও দেখা যায়, ইনডেক্স অ্যাগ্রোর চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক উভয়েই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পরিচালনায় যুক্ত থাকায় এটি স্পষ্ট স্বার্থের সংঘাতের উদাহরণ। কিন্তু এ তথ্যও আর্থিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
এ ছাড়া নির্মাণ ও সিভিল কাজের আদেশ অনুমোদনের ক্ষেত্রেও অনিয়ম পাওয়া গেছে। কিছু ক্ষেত্রে অনুমোদিত কর্মকর্তার পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের স্বাক্ষর পাওয়া গেছে। পাশাপাশি, কিছু কাজে প্রতিযোগিতামূলক কোটেশন প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
নিরীক্ষক প্রতিষ্ঠান জি কিবরিয়া অ্যান্ড কো. তাদের প্রতিবেদনে কোনো রিলেটেড পার্টি লেনদেন হয়নি বলে উল্লেখ করলেও বিএসইসির তদন্তে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে, যা নিরীক্ষা প্রতিবেদনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
বিএসইসি বলেছে, এ ধরনের তথ্য গোপন রাখা বিনিয়োগকারীদের জন্য বিভ্রান্তিকর এবং সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের শামিল। শুনানিতে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা না পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এই আর্থিক জরিমানা আরোপ করা হয়েছে।
পুঁজিবাজার
ঈদ আমেজে পুঁজিবাজারে সাপ্তাহিক গড় লেনদেন কমেছে ৭ শতাংশ
পবিত্র ঈদুল ফিতর-এর ছুটির আমেজে দেশের পুঁজিবাজারে সূচক ও লেনদেন—উভয় ক্ষেত্রেই নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। ঈদের আগের মাত্র দুই কার্যদিবস লেনদেন হওয়ায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) প্রায় সব সূচক কমেছে। একই সঙ্গে দৈনিক গড় লেনদেন কমেছে ৭ শতাংশের বেশি।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের সপ্তাহের তুলনায় ১৪ দশমিক ৪৬ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৩৫৪ পয়েন্টে নেমে এসেছে। আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ৫ হাজার ৩৬৮ পয়েন্ট। একইভাবে ডিএস-৩০ সূচক ১৫ দশমিক ৪৭ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৫১ পয়েন্টে, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ২ হাজার ৬৬ পয়েন্ট। তবে শরিয়াহভিত্তিক সূচক ডিএসইএস ১ দশমিক ১৪ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৮০ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
ঈদের ছুটির কারণে সপ্তাহটিতে মাত্র দুই কার্যদিবস লেনদেন হয়েছে। এ সময় প্রতিদিন গড়ে ৪০২ কোটি টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৫৩১ কোটি টাকা। সে হিসাবে এক সপ্তাহের ব্যবধানে গড় লেনদেন কমেছে ৭ দশমিক ৪২ শতাংশ।
খাতভিত্তিক লেনদেনে চলতি সপ্তাহে ব্যাংক খাতের শেয়ারের আধিপত্য ছিল। ডিএসইর মোট লেনদেনের ১৬ দশমিক ৪০ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে ব্যাংক খাত। ১৪ দশমিক ০৬ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল ওষুধ ও রসায়ন খাত। তৃতীয় অবস্থানে থাকা বস্ত্র খাতের দখলে ছিল মোট লেনদেনের ১০ দশমিক ৭২ শতাংশ। প্রকৌশল খাত ৯ দশমিক ০৩ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তালিকার চতুর্থ অবস্থানে ছিল। আর পঞ্চম অবস্থানে থাকা খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের দখলে ছিল মোট লেনদেনের ৭ দশমিক ০৫ শতাংশ।
ডিএসইতে চলতি সপ্তাহে অধিকাংশ খাতের শেয়ারে নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে মিউচুয়াল ফান্ড, জীবন বিমা, ব্যাংক, সাধারণ বিমা ও পাট খাতে। অন্যদিকে ইতিবাচক রিটার্নের শীর্ষে ছিল তথ্যপ্রযুক্তি, সেবা ও আবাসন, বস্ত্র, চামড়া ও সিমেন্ট খাত।
দেশের আরেক পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই গত সপ্তাহে দশমিক ৩৩ শতাংশ বেড়ে ১৫ হাজার ৩০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সিএসসিএক্স সূচকটি সপ্তাহের ব্যবধানে দশমিক ০৬ শতাংশ বেড়ে ৯ হাজার ১৬৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সিএসইতে গত সপ্তাহে ৪০ কোটি টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। লেনদেন হওয়া ২১৪টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১২২টির, কমেছে ৬৩টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ২৯টির দর।



