জাতীয়
শুক্রবার স্বাক্ষর হচ্ছে ৮৪ দফার জুলাই সনদ
বহুল কাঙ্ক্ষিত ‘জাতীয় জুলাই সনদ, ২০২৫’ স্বাক্ষর হতে যাচ্ছে শুক্রবার (১৭ অক্টোবর)। জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এদিন বিকেল ৪টায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই আয়োজনে সশরীরে উপস্থিত থাকবেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সেইসঙ্গে এ আয়োজনে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে বেশ কয়েকজন উপদেষ্টা ও উচ্চপর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তার।
এরই মধ্যে রাষ্ট্রীয় সংস্কারের ১৭টি বিষয়ে ৩২টি রাজনৈতিক দল ও জোটের পূর্ণ ঐকমত্যের ভিত্তিতে ৮৪ দফার জুলাই জাতীয় সনদ চূড়ান্ত করেছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন; বাকি ৬৭টি বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর কেউ কেউ বিরোধিতা করেছে এবং দিয়েছে নোট অব ডিসেন্ট।
গত মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি আলী রীয়াজের স্বাক্ষরিত চিঠিতে মোট ৩৩টি রাজনৈতিক দল ও জোটের কাছে পৌঁছেছে চূড়ান্ত জুলাই জাতীয় সনদ।
আগামীকাল শুক্রবার জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় বড় আয়োজনে এই জুলাই সনদ স্বাক্ষরের প্রস্তুতি নিচ্ছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
জুলাই সনদে রাষ্ট্রীয় সংস্কারের যে ৮৪ দফা, তার মধ্যে ৪৭টি বিষয়কে ‘সংবিধান সংশোধন সাপেক্ষে সংস্কার’ এবং বাকি ৩৭টি বিষয়কে ‘আইন/অধ্যাদেশ, বিধি ও নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে সংস্কার’ হিসাবে চিহ্নিত করেছে ঐকমত্য কমিশন।
জুলাই সনদের পটভূমি ব্যাখ্যা করে সংস্কারযজ্ঞ নিয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের কার্যক্রম তুলে ধরার পর সংস্কারের ৮৪ দফা তুলে ধরা হয়েছে ৪০ পৃষ্ঠার সনদে। এর মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর কী অঙ্গীকার করছে, তা উল্লেখ করার পর রাখা হয়েছে স্বাক্ষরের জায়গা।
দফাগুলো বলার আগে ‘ঐকমত্যের ঘোষণা’য় রাজনৈতিক দলগুলো প্রতিশ্রুতি দিতে যাচ্ছে– জাতীয় ঐকমত্য কমিশন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোটের সঙ্গে পারস্পরিক আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে, আমরা অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দল ও জোটের প্রতিনিধিরা স্ব-স্ব দলের পক্ষ থেকে- বিদ্যমান শাসন ব্যবস্থা তথা সংবিধান, নির্বাচন ব্যবস্থা, বিচার ব্যবস্থা, জনপ্রশাসন, পুলিশি ব্যবস্থা ও দুর্নীতি দমন বিষয়ে নিম্নলিখিত কাঠামোগত, আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তনের ব্যাপারে ঐকমত্যে উপনীত হয়েছি; এসব বিষয়কে এই জাতীয় সনদে (কিছু বিষয়ে ভিন্নমতসহ) সন্নিবেশিত করতে সম্মত হয়েছি; এবং ২০০৯ সাল পরবর্তী ১৬ বছরে ফ্যাসিবাদ বিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানের বীর শহীদ ও আহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ, গ্রেপ্তার ও কারাবরণকারীদের প্রতি সহমর্মিতা এবং উক্ত গণঅভ্যুত্থানে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতার স্মারক হিসেবে আমরা এই সনদকে ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ হিসেবে ঘোষণা করছি।
সংবিধান সংস্কার করে বাস্তবায়িত বিষয়ের মধ্যে বাংলার পাশাপাশি অন্য ভাষার স্বীকৃতি, বাংলাদেশি নাগরিক পরিচয়, সংবিধান সংস্কারের বিধান, সংবিধান বিলুপ্তি ও স্থগিতকরণ ইত্যাদির অপরাধের অনুচ্ছেদ বাতিল এবং জরুরি অবস্থা ঘোষণার বিধানে পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে এই সনদে।
সংবিধানের রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি অংশে রাষ্ট্রীয় মূলনীতি বদলে যুক্ত করা হয়েছে ‘সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতি’।
সকল সম্প্রদায়ের সহাবস্থানের বিধান সংযুক্তি, মৌলিক অধিকারের তালিকা সম্প্রসারণ, উচ্চকক্ষ ও নিম্মকক্ষের গোপন ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও দায়িত্ব সুনির্দিষ্টকরণ, রাষ্ট্রপতির অভিশংসন প্রক্রিয়ায় সংশৈাধন এবং রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদর্শনের ক্ষেত্রে মামলার বাদী বা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সম্মতি নেওয়ারও বিধান যুক্ত করার কথা রয়েছে।
একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সম্পর্কিত অংশে প্রধানমন্ত্রী পদে এক ব্যক্তির সর্বোচ্চ ১০ বছর থাকার সীমা, প্রধানমন্ত্রীর দলীয় প্রধানের পদে না থাকা এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার গঠন প্রক্রিয়া, কার্যাবলি ও মেয়াদ প্রভৃতি বিষয়ে সংবিধান সংশোধন করা হবে।
এদিকে একই ব্যক্তির প্রধানমন্ত্রী পদের মেয়াদ এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা গঠন নিয়ে ৩০টি দল ও জোট একমত পোষণ করলেও প্রধানমন্ত্রী পদে দলীয় প্রধানের থাকা এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মেয়াদ ও গঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের ভিন্নমত ও ‘নোট অব ডিসেন্ট’ রয়েছে।
এছাড়া, আইনসভা দ্বিকক্ষবিশিষ্ট করার ক্ষেত্রে ২৫টি রাজনৈতিক দল একমত পোষণ করেছে। বিপরীতে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়েছে পাঁচটি দল।
নিম্নকক্ষে প্রাপ্ত ভোটে উচ্চকক্ষ গঠনের যে প্রস্তাব জাতীয় ঐকমত্য কমিশন করেছে, তাতে ২৪টি রাজনৈতিক দল একমত হতে দেখা যাচ্ছে। আর সেখানে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ আছে বিএনপিসহ ৭টি রাজনৈতিক দলের।
উচ্চকক্ষের গঠন, সদস্য নির্বাচন পদ্ধতি ও এখতিয়ার অংশে উচ্চকক্ষের দায়িত্ব ও ভূমিকা, উচ্চকক্ষের সদস্যদের যোগ্যতা ও অযোগ্যতা, জাতীয় সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব একশ জন করা, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি নির্বাচন, ৭০ অনুচ্ছেদের সংস্কার এবং আন্তর্জাতিক চুক্তি আইনসভায় অনুমোদনের বিষয় যুক্ত করা হয়েছে।
সাংবিধানিকভাবে অস্থায়ী বিশেষ কমিটির গঠনের মাধ্যমে অনধিক ১০ বছরের পর সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে নির্বাচন ব্যবস্থা অংশে।
সেইসঙ্গে বিচার ব্যবস্থা অংশে আপিল বিভাগের বিচারপতিদের মধ্য থেকে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ, সুপ্রিম কোর্টের প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিচারপতি নিয়োগ, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগে ‘স্বাধীন বিচার বিভাগীয় নিয়োগ কমিশন’ গঠন ও এই কমিশনকে সংবিধানে অন্তর্ভুক্তকরণ, বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা, সুপ্রিম কোর্টের বিকেন্দ্রিকরণ, সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলকে শক্তিশালীকরণ, অধস্তন আদালতের বিচারকদের চাকরি নিয়ন্ত্রণ সুপ্রিম কোর্টকে দেওয়া এবং স্থায়ী অ্যাটর্নি সার্ভিস প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করতে যাচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলো।
এছাড়া, বাছাই কমিটি গঠনের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন গঠন এবং তাদের কাজের ক্ষেত্রে যেসব সংশোধনীর প্রস্তাব জুলাই সনদে রাখা হয়েছে, তাতে ৩০টি রাজনৈতিক দল ও জোট একমত পোষণ করেছে।
সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের বিধান হিসাবে ন্যায়পাল নিয়োগ, সরকারি কর্ম কমিশনে এবং মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক নিয়োগের ক্ষেত্রে সংস্কারের অঙ্গীকারও থাকছে জুলাই সনদে।
সনদে দুর্নীতি দমন কমিশনকে সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান থেকে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করে সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংশোধনের কথাও বলা হয়েছে।
‘আইন বা অধ্যাদেশ, বিধি ও নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে সংস্কারের বিষয়সমূহের’ মধ্যে প্রথমে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৭৮ (৫) সংশোধন সাপেক্ষে আইন প্রণয়নের মাধ্যমে সংসদের কমিটিসমূহ ও সদস্যদের বিশেষ অধিকার, অধিকারের সীমা এবং দায় নির্ধারণের অঙ্গীকার থাকছে জুলাই সনদে।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সীমানা পুনর্নির্ধাণে আইন প্রণয়ন, বিচারকদের জন্য অবশ্য পালনীয় আচরণবিধি, সাবেক বিচারপতিদের জন্য অবশ্য পালনীয় আচরণবিধি, সুপ্রিম কোর্টের পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা, স্বতন্ত্র ফৌজদারি তদন্ত সার্ভিস গঠন, বিচার বিভাগের জনবল বৃদ্ধি, জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থাকে অধিদপ্তরে রূপান্তর, বিচারক ও সহায়ক কর্মচারীদের সম্পত্তির বিবরণ, আদালত ব্যবস্থাপনা সংস্কার ও ডিজিটাইজ করা, আইনজীবীদের আচরণবিধি সংক্রান্ত বিষয় রাখা হয়েছে ‘আইন বা অধ্যাদেশ, বিধি ও নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে সংস্কারের জন্য।
জনপ্রশাসন সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটি স্বাধীন ও স্থায়ী জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন, প্রজাতন্ত্রের কর্মে জনবল নিয়োগের জন্য সরকারি কর্ম কমিশন (সাধারণ), সরকারি কর্ম কমিশন (শিক্ষা) এবং সরকারি কর্ম কমিশন (স্বাস্থ্য) গঠন করার কথা বলা হয়েছে জুলাই সনদে।
জুলাই সনদে বলা হয়েছে, নিরীক্ষা কার্যক্রমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, হিসাব বিভাগ হতে নিরীক্ষা বিভাগের পৃথকীকরণ এবং নিরীক্ষার গুণগতমান উন্নতির জন্য নিরীক্ষা আইন প্রণয়ন করা হবে।
ভৌগোলিক অবস্থান ও যাতায়াতের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কুমিল্লা ও ফরিদপুর নামে দুইটি প্রশাসনিক বিভাগ গঠন করার কথা বলা হয়েছে জুলাই সনদে।
স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠন যেভাবে
জুলাই সনদে বলা হয়েছে, পুলিশ বাহিনীর পেশাদারত্ব ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিতকরণ এবং পুলিশি সেবাকে জনবান্ধব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে একটি ‘পুলিশ কমিশন’ গঠন করা হবে। এই প্রস্তাবের সঙ্গে ৩০টি দল ও জোট একমত পোষণ করেছে, কারও ভিন্নমত পাওয়া যায়নি।
কমিশনের উদ্দেশ্য হিসাবে জুলাই সনদে বলা হয়েছে,
১। শৃঙ্খলা বাহিনী হিসেবে পুলিশ যাতে আইনানুগভাবে এবং প্রভাবমুক্তভাবে দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম হয় তা নিশ্চিত করা।
২। পুলিশ বাহিনীর যেকোনো সদস্যের উত্থাপিত অভিযোগের নিষ্পত্তিকরণ।
৩। নাগরিকদের পক্ষ হতে পুলিশ বাহিনীর কোনো সদস্য বা সদস্যদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের নিষ্পত্তিকরণ।
কমিশনের গঠন প্রক্রিয়া জাতীয় সংসদ কর্তৃক প্রণীত আইনের দ্বারা নির্ধারিত হওয়ার কথা তুলে ধরে সেক্ষেত্রে কিছু প্রস্তাব বিবেচেনায় নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে জুলাই সনদে।
১। চেয়ারম্যান: আপিল বিভাগের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, যার বয়স ৭৫ (পঁচাত্তর) বছরের ঊর্ধ্বে নয়।
২। সদস্য সচিব: অতিরিক্ত পুলিশ মহা-পরিদর্শকের নিচে নয়, এমন একজন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা, যার বয়স ৬২ (বাষট্টি) বছরের ঊর্ধ্বে নয়।
৩। জাতীয় সংসদের সংসদ নেতার একজন প্রতিনিধি, যিনি সংসদ সদস্য হবেন।
৪। জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতার একজন প্রতিনিধি, যিনি সংসদ সদস্য হবেন।
৫। জাতীয় সংসদের স্পিকারের একজন প্রতিনিধি, যিনি সংসদ সদস্য হবেন।
৬। জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকারের (যিনি বিরোধী দল হতে নির্বাচিত) একজন প্রতিনিধি, যিনি সংসদ সদস্য হবেন।
৭। সচিব পদমর্যাদার নিচে নয়, এমন একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা (জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন)।
৮। জেলা জজ পদমর্যাদার নিচে নয়, এমন একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা অথবা সুপ্রিম কোর্টের হাই কোর্ট বিভাগে তালিকাভুক্ত একজন আইনজীবী, যার আইন পেশায় ন্যূনতম ১৫ (পনেরো) বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে।
৯। একজন মানবাধিকার কর্মী থাকবেন। তিনি দেশে অথবা বিদেশে নিবন্ধিত মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থায় ন্যূনতম ১০ (দশ) বছরের কাজের বাস্তব অভিজ্ঞতাসম্পন্ন।
১০। কমিশনের সদস্যগণের মধ্যে ন্যূনতম দুই জন নারী সদস্য রাখার কথা বলা হয়েছে সুপারিশে। চেয়ারম্যান এবং সদস্য সচিব কমিশনের সার্বক্ষণিক সদস্য হবেন। কমিশনের বাকি ৭ জন সদস্য অবৈতনিক হবেন; তবে তাদের কমিশন সভায় যোগদান ও অন্যান্য প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ভাতা বা সম্মানি প্রাপ্তি আইনের দ্বারা নির্ধারিত হবে।
১১। চেয়ারম্যান, সদস্য সচিব এবং অন্যান্য সদস্যদের দায়িত্ব, কর্তব্য, এখতিয়ার, জবাবদিহিতা, পদত্যাগের অধিকার এবং অপসারণের পদ্ধতি ইত্যাদি সংসদ কর্তৃক প্রণীত আইন দ্বারা নির্ধারিত হবে।
১২। কমিশনের নীতি-নির্ধারণী ও নির্বাহী কার্যাবলি কমিশনের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থনে অনুমোদিত হবে।
পুলিশ কমিশনের মৌলিক দায়িত্ব ও কার্যপরিধির বিষয়েও কিছু সুপারিশ থাকছে জুলাই সনদে। সেগুলো হল–
১৩। কোনো পুলিশ সদস্য কর্তৃক আইনের লঙ্ঘন তথা বেআইনি ও বিধি-বহির্ভূত কর্মকান্ড নিরূপণ করত অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় শাস্তির মাত্রা নির্ধারণ এবং তা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা প্রদান।
১৪। পুলিশের আইনানুগ ও স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডকে যে কোনো ধরনের বেআইনি প্রভাব বা হস্তক্ষেপ থেকে সুরক্ষা প্রদানে কমিশন কর্তৃক নিজ বিবেচনায় যথাযথ নির্দেশনা প্রদান।
১৫। পুলিশের কোনো সদস্য বা সদস্যগণের বিরুদ্ধে নাগরিকদের অভিযোগ আমলে নিয়ে যথাযথ তদন্তের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত প্রদান।
১৬। কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা মহল কর্তৃক বেআইনি চাপ প্রয়োগ, অবৈধ বা বিধি-বহির্ভূত কাজে বাধ্য করা ইত্যাদি বিষয়ে যেকোনো অভিযোগ কমিশন আমলে নিতে পারবে।
১৭। পুলিশি ব্যবস্থা সম্পর্কিত বিদ্যমান আইন ও বিধি-বিধানের দুর্বলতা ও অসম্পূর্ণতা চিহ্নিত করত সেগুলোকে যথাযথ ও যুগোপযোগীকরণের লক্ষ্যে একটি চলমান সংস্কার কর্মসূচি গ্রহণ ও পরিচালনা করা।
১৮। যে কোনো পক্ষ হতে প্রাপ্ত অভিযোগের তদন্ত ও অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে কমিশন পুলিশের যে কোনো সংস্থা, (যেমন সিআইডি বা পিবিআই) এমনকি প্রয়োজন মনে করলে সরকারের সহায়তা গ্রহণের মাধ্যমে বিচার বিভাগীয় তদন্ত পরিচালনারও অধিকার রাখবে।
১৯। কমিশনের নির্দেশনা ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বাধ্য থাকবে।
জুলাই সনদের সাত দফা অঙ্গীকারনামা
সবশেষে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের সাতদফা অঙ্গীকারনামায় থাকছে রাজনৈতিক দল ও জোটের জন্য।
অঙ্গীকারনামায় বলা হয়েছে, “গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রকাশিত জনগণের ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিয়ে আমরা নিম্নস্বাক্ষরকারীগণ এই মর্মে অঙ্গীকার ও ঘোষণা করছি যে–
১। জনগণের অধিকার ফিরে পাওয়া এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সুদীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে হাজারো মানুষের জীবন ও রক্তদান এবং অগণিত মানুষের সীমাহীন ক্ষয়ক্ষতি ও ত্যাগ-তিতিক্ষার বিনিময়ে অর্জিত সুযোগ এবং তৎপ্রেক্ষিতে জন-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবে ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে প্রণীত ও ঐকমত্যের ভিত্তিতে গৃহীত নতুন রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল হিসেবে জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫-এর পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করব।
২। যেহেতু জনগণ এই রাষ্ট্রের মালিক, তাদের অভিপ্রায়ই সর্বোচ্চ আইন এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সাধারণত জনগণের অভিপ্রায় প্রতিফলিত হয় রাজনৈতিক দলের মাধ্যমে সেহেতু রাজনৈতিক দল ও জোটসমূহ সম্মিলিতভাবে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে জনগণের অভিপ্রায়ের সুস্পষ্ট অভিব্যক্তি হিসেবে জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ গ্রহণ করেছি বিধায় এই সনদ পূর্ণাঙ্গভাবে সংবিধানে তফসিল হিসেবে বা যথোপযুক্তভাবে সংযুক্ত করব।
৩। জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫-এর বৈধতা ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে কোনো আদালতে প্রশ্ন উত্থাপন করব না, উপরন্তু উক্ত সনদ বাস্তবায়নের প্রতিটি ধাপে আইনি ও সাংবিধানিক সুরক্ষা নিশ্চিত করব।
৪। গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য জনগণের দীর্ঘ ১৬ বছরের নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রাম এবং বিশেষত ২০২৪ সালের অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক তাৎপর্যকে সাংবিধানিক তথা রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান করব।
৫। গণঅভ্যুত্থানপূর্ব ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদ বিরোধী গণতান্ত্রিক সংগ্রামে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানকালে সংঘটিত সকল হত্যাকান্ডের বিচার, শহীদদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদান ও শহীদ পরিবারগুলোকে যথোপযুক্ত সহায়তা প্রদান এবং আহতদের সুচিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করব।
৬। জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫-এ বাংলাদেশের সামগ্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা তথা সংবিধান, নির্বাচন ব্যবস্থা, বিচার ব্যবস্থা, জনপ্রশাসন, পুলিশি ব্যবস্থা ও দুর্নীতি দমন ব্যবস্থা সংস্কারের বিষয়ে যেসব সিদ্ধান্ত লিপিবদ্ধ রয়েছে সেগুলো বাস্তবায়নের জন্য সংবিধান এবং বিদ্যমান আইনসমূহের প্রয়োজনীয় সংশোধন, সংযোজন, পরিমার্জন বা নতুন আইন প্রণয়ন, প্রয়োজনীয় বিধি প্রণয়ন বা বিদ্যমান বিধি ও প্রবিধির পরিবর্তন বা সংশোধন করব।
৭। জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫-এর ঐকমত্যের ভিত্তিতে গৃহীত যে সকল সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাস্তবায়নযোগ্য সেগুলো কোনো প্রকার কালক্ষেপণ না করেই দ্রুততম সময়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়ন করবে।
জাতীয়
গণভোটের ফটোকার্ড শেয়ার করলেন প্রধান উপদেষ্টা
আসন্ন গণভোটের জন্য ‘হ্যাঁ’ ভোট চেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফটোকার্ড শেয়ার করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শনিবার সকাল ১১টার দিকে ফেসবুক পেজ এবং এক্স হ্যান্ডল থেকে গণভোটের প্রচারণায় ফটোকার্ড শেয়ার করেন তিনি।
ফটোকার্ডে লেখা, “গণভোট ২০২৬- দেশকে দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার পথ খুলে দিন, ‘হ্যাঁ’-তে সিল দিন।”
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে বলা হয়েছে, গণভোটের প্রচারণার অংশ হিসেবে ১১ জানুয়ারি থেকে চলমান ফটোকার্ড শেয়ার অব্যাহত রয়েছে।
রবিবার পর্যন্ত চলবে এ কার্যক্রম। ধারাবাহিক এই কার্যক্রমের লক্ষ্য গণভোটকে ঘিরে জনসচেতনতা বাড়ানো এবং নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণে উৎসাহিত করা।
এদিকে, অন্য উপদেষ্টারাও দেশের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে প্রচারণা চালাচ্ছেন। সরকারিভাবেও ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
জাতীয়
ডিসি-ইউএনও-নির্বাচন কর্মকর্তাদের প্রতি আলী রীয়াজের বিশেষ আহ্বান
দেশের সামগ্রিক ও ইতিবাচক পরিবর্তনে গণভোটে জনগণকে হ্যাঁ ভোটের প্রয়োজনীয়তা বোঝাতে ডিসি, ইউএনও ও নির্বাচন কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর ইস্কাটনের বিয়াম ভবনে এক মতবিনিময়সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।
গত ১৬ বছরে বাংলাদেশ থেকে যত টাকা লুট হয়েছে তা দিয়ে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে স্বনির্ভর করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেন ড. আলী রীয়াজ।
তিনি বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশনকে স্বাধীন ও কার্যকর থাকতে হবে।
তাই গণভোটে হ্যাঁ-কে জয়যুক্ত করা প্রয়োজন।
আলী রীয়াজ বলেন, আওয়ামী লীগ আমলে স্বার্থ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতিকে ব্যবহার করা হয়েছে। এক ব্যক্তির সিদ্ধান্তে নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ দিয়ে অনৈতিক কাজে বাধ্য করা হয়েছিল। তাই দেশ শাসনে এক ব্যক্তির ক্ষমতা লোপ করতে রাজনৈতিক দলগুলো একমত হয়েছে।
দলের লেজুড়বৃত্তি না করে এলাকার মানুষের অধিকার আদায়ে সংসদ সদস্যদের কাজ করার আহ্বান জানান অধ্যাপক আলী রীয়াজ।
জাতীয়
নির্বাচনি কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে মাঠে নেমেছে ইইউ মিশন
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) দেশের বিভিন্ন স্থানে ৫৬ জন স্থায়ী পর্যবেক্ষক নিযুক্ত করেছে।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান ইইউ মিশনের উপ-প্রধান পর্যবেক্ষক ইন্তা লাসে।
তিনি বলেন, পর্যবেক্ষকরা নির্বাচনের প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং তথ্যভিত্তিক মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। তারা নির্বাচন কমিশন, প্রার্থী, রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ এবং স্থানীয় নাগরিক পর্যবেক্ষক দলের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
পর্যবেক্ষকরা দেশের ৬৪টি জেলায় শহর ও গ্রাম উভয় এলাকায় কাজ করবেন। নির্বাচনের কাছাকাছি সময়ে আরও ৯০ জন স্বল্পকালীন পর্যবেক্ষক যুক্ত হবেন। নির্বাচনের দিনে মোট প্রায় ২০০ জন ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর্যবেক্ষক মাঠে থাকবেন।
নির্বাচন শেষ হওয়ার পর ঢাকায় একটি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন উপস্থাপন করবে ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন।
জাতীয়
পোস্টাল ব্যালটের ডিজাইনে পরিবর্তনের কথা জানাল ইসি
দেশের ভেতরে ব্যবহৃত পোস্টাল ব্যালটে পরিবর্তন আনার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আব্দুর রহমানেল মাছউদ।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) এক সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে ফোনালাপে তিনি এ কথা জানান।
ইসি মাছউদ বলেন, প্রবাসী ভোটারদের জন্য পাঠানো পোস্টাল ব্যালটে কোনো পরিবর্তন আনা হচ্ছে না। তবে দেশের ভেতরে ব্যবহৃত পোস্টাল ব্যালটে পরিবর্তন আনার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
বিশেষ করে আসনভিত্তিক প্রার্থীদের নাম সংযুক্ত করে পোস্টাল ব্যালট ছাপানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন নির্বাচন কমিশনার।
তিনি বলেন, প্রবাসী ভোটারদের জন্য ব্যালট পাঠানোর প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ হওয়ায় সেখানে কোনো পরিবর্তন করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে প্রবাসীদের জন্য পাঠানো পোস্টাল ব্যালট অপরিবর্তিতই থাকছে।
ইসি বলেন, দেশের ভেতরের পোস্টাল ব্যালট এখনও ছাপানো হয়নি। তাই সেখানে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে অনলাইন নিবন্ধনের পর প্রবাসী ভোটারের কাছে ব্যালট পাঠানো শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। ইসির তথ্য অনুযায়ী, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৩ জন ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে নিবন্ধন করেছেন। যার মধ্যে প্রবাসী বাংলাদেশির সংখ্যা প্রায় আট লাখ। আর দেশের ভেতরে সরকারি চাকরিজীবী, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা ও আইনি হেফাজতে থাকা ৭ লাখ ৬১ হাজারের বেশি ভোটার নিবন্ধিত হয়েছেন। এ ক্ষেত্রে একই ঠিকানায় কয়েকশ ব্যালট কিংবা ব্যালট পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ, ভোটের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে বলে মনে করেন নির্বাচন বিশ্লেষকরা।
জাতীয়
জাতিসংঘ প্রতিনিধিদলের বাংলাদেশ সফর স্থগিত
স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ বিষয়ক জাতিসংঘের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের ঢাকা সফর আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল ও পঞ্চম এলডিসি সম্মেলনের মহাসচিব রাবাব ফাতিমা।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে বর্তমানে এই সফর না করার অনুরোধ জানানো হয়। এই সফরের নতুন কোনো তারিখ এখনো নির্ধারিত হয়নি।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে জানা গেছে, আগামী মাসে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রতিনিধিদলটি বাংলাদেশ সফর করতে পারে।
গত নভেম্বরে বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, এলডিসি থেকে উত্তরণের সম্ভাব্য প্রভাব বিশ্লেষণ এবং নির্বিঘ্ন উত্তরণ কৌশল বাস্তবায়নের পথনকশা প্রণয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার কাছ থেকে মতামত ও নথিপত্র সংগ্রহ করেছে জাতিসংঘ। এসব তথ্যের ভিত্তিতে চূড়ান্ত প্রস্তুতি মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আশা, জাতিসংঘের প্রতিনিধিদলের ঢাকা সফর স্থগিত হলেও নির্ধারিত সময়েই সংস্থাটি মূল্যায়ন প্রতিবেদন বাংলাদেশে পাঠাবে।
এ বিষয়ে বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান গত বৃহস্পতিবার জানান, জাতিসংঘ এ দফায় আসছে না মানে পরে আসবে। তবে তাদের মূল্যায়ন প্রতিবেদনটা আমরা পেয়ে যাব। এরপর বাকি প্রক্রিয়া ধীরে ধীরে এগোবে।
এদিকে প্রস্তুতির ঘাটতির বিষয়টি সামনে এনে এলডিসি থেকে উত্তরণ পেছানোর দাবি জানিয়ে আসছেন ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, এলডিসি থেকে উত্তরণ ঘটলে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিওটিও) আওতায় বাংলাদেশের শুল্কমুক্ত বাণিজ্যসুবিধা আর থাকবে না, ফলে দেশের রপ্তানি ৬ থেকে ১৪ শতাংশ পর্যন্ত কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, এলডিসির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ইতিবাচক অবস্থান নেই। পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ২৭ সদস্য দেশের যে কোনো একটি দেশ বিরোধিতা করলে সেটিকে সম্মিলিত বিরোধিতা হিসেবে গণ্য করা হয়।
ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই, বিজিএমইএ, আইসিসি বাংলাদেশসহ মোট ১৬টি ব্যবসায়ী সংগঠন গত ২৪ আগস্ট একযোগে সংবাদ সম্মেলন করে এলডিসি থেকে উত্তরণ পেছানোর দাবি তোলে। সরকার ইতোমধ্যে জাতিসংঘকে ব্যবসায়ীদের এই দাবির কথা জানিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত উত্তরণ পেছানোর বিষয়ে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে কোনো ইতিবাচক ইঙ্গিত পায়নি অন্তর্বর্তী সরকার। অন্যদিকে লাওস ও নেপাল এখনো এলডিসি থেকে উত্তরণ পেছানোর কোনো উদ্যোগ নেয়নি।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অনুমোদন সাপেক্ষে বাংলাদেশ ২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে এলডিসি থেকে বেরিয়ে যাবে। এর আগে ২০১৮ সালে মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ সূচক এবং জলবায়ু ও অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচক- এই তিন সূচকেই উত্তীর্ণ হয়ে দেশটি উত্তরণের যোগ্যতা অর্জন করে। ২০২১ সালের পর্যালোচনার পর জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি) ২০২৬ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশের এলডিসি থেকে উত্তরণের সুপারিশ দেয়।
বাংলাদেশ নিট পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাবেক সভাপতি মো. ফজলুল হক বলেন, অন্তত তিন বছর উত্তরণ পেছানো প্রয়োজন, কারণ প্রস্তুতিতে ঘাটতি রয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কারিগরি শিক্ষা ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে ব্যবসায়ীদের যেমন সীমাবদ্ধতা আছে, তেমনি সরকারের ঘাটতিও বড়।
তিনি বলেন, যে স্তরে বাংলাদেশ যেতে চায়, সেখানে অন্যান্য দেশের ব্যাংকঋণের সুদ ৫ শতাংশের নিচে, অথচ দেশে তা প্রায় ১৫ শতাংশ। অন্য দেশে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানির নিশ্চয়তা থাকলেও এখানে অনিশ্চয়তা রয়েছে। সুশাসন ও অবকাঠামোর ঘাটতিও রয়েছে। তার প্রশ্ন, এসব সমস্যা রেখে কেবল নামমাত্র এলডিসি থেকে উত্তরণ হলে দেশের লাভ কী?



