জাতীয়
স্কুল ফিডিং প্রোগ্রামে ডিম যুক্ত করতে হবে: প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা
স্কুল ফিডিংয়ে ডিম যুক্ত করতে হবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। তিনি বলেন, আমাদের স্কুল ফিডিংয়ে দুধ দেওয়া হচ্ছে সেখানে ডিমও যুক্ত করতে হবে।
শুক্রবার (১০ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল ও ওয়ার্ল্ড পোল্ট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ শাখার সহযোগিতায় সভার আয়োজন করে প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তর।
বিশ্ব ডিম দিবস উপলক্ষে এ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফরিদা আখতার আরও বলেন, অনেক দরিদ্র ছেলেমেয়ে পুষ্টির যোগান পায় না। সেক্ষেত্রে স্কুলের খাবার তালিকায় ডিম রাখলে সেই পুষ্টি পূরণ সম্ভব।
তিনি বলেন, ডিম খাবারের ক্ষেত্রে দেশের সব মানুষ জড়িত। এটি উৎপাদন ও খাদ্যের সঙ্গেও সবাই জড়িত। গরুর মাংস সবাই কিনতে না পারলেও সহজেই ডিম কেনা যায়। আমাদের ৬ বছর বয়সের মধ্যেই শিশুর পুষ্টি নিশ্চিত করতে হবে। তাই স্কুল ফিডিং প্রোগ্রামে ডিম যুক্ত করতে হবে।
আমাদের ৮০ শতাংশ ডিম প্রান্তিক পর্যায় থেকে আসে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রান্তিক খামারিরা ৮০ শতাংশ ডিম উৎপাদন করে। আবার গ্রামের দরিদ্র নারীরাও দু-একটি করে মুরগি পালন করে পুষ্টির যোগান দেয়।
কৃষিতে কীটনাশক ব্যবহারে মুরগি পালন হুমকির মুখে পড়েছে বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তা ছাড়া হাওরের হাঁসের ডিমের কথা প্রচার করা হচ্ছে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, হাওরের হাঁসের ডিমের বিষয়ে প্রচার করতে হবে।
তিনি সয়াবিন সম্পর্কে বলেন, যে সয়াবিন আমদানি হয় তা জিএমও, সেটি কিন্তু আমাদের ওপর প্রভাব পড়বে। তাই আমাদের দেশে ভুট্টা উৎপাদনে গুরুত্ব দিতে হবে। আর ডিম নিরাপদ হতে হবে।
ড. মো. আবু সুফিয়ান বলেন, আমরা করোনাকালে ১ লাখ ৮০ হাজার প্রান্তিক খামারিকে সরাসরি প্রণোদনা দিয়েছি। তা ছাড়া প্রান্তিক খামারিদের উৎপাদনে সহায়তা অব্যাহত রয়েছে।
ড. শাকিলা ফারুক বলেন, মানুষের ওজন, বয়স অনুযায়ী প্রোটিন নিতে হবে। তিনি বলেন, দেশি মুরগির চেয়ে ফার্মের মুরগির ডিম বড় হওয়ায় পুষ্টিগুণ বেশি। তবে সাদা, ব্রাউন, হাঁসের ও কোয়েলের ডিম কোনোটার মধ্যে প্রোটিনের পার্থক্য নেই। তবে দেশি মুরগির ডিমের স্বাদ বেশি।
ডিমের ক্ষেত্রে ৬০-৭০ শতাংশ ব্যয় হয় খাবারে বলে জানান অধ্যাপক ড. মাহমুদুল হাসান সিকদার। বলেন, আমাদের ডিমের জন্য লক্ষ্যমাত্রা নেই। তাই পোল্ট্রিশিল্পের জন্য আমাদের রোডম্যাপ দরকার।
ডা. এবিএম খালেকুজ্জামান বলেন, একদিনের বাচ্চার দাম কখনো বেড়ে যায় আবার এক সময় কমে যায়৷ সেজন্য বাচ্চার উৎপাদন গত বছর ৪২ টাকা ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে ৫৩ টাকা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে বাজারে স্থিতিশীলতা সৃষ্টি হয়েছে।
মসিউর রহমান বলেন, আমাদের ডিমের চাহিদার ৮০ শতাংশ উৎপাদন প্রান্তিক খামারিরা। তাদের সাহায্য করতে হবে। বর্তমানে আমাদের উদ্যোগে ৪ বিভাগে ৬০০ খামারিদের নিয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আগামীতে আরও দুটি বিভাগে ৬০০ খামারি নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, ভোক্তার কাছে ডিম পৌঁছে দিতে আমরা সচেষ্ট থাকলেও মাঝখানের হাতগুলো কমাতে হবে। আর যারা ডিম স্টক করে তাদের ধরতে হবে। বিগত সরকারের আমলে আমাদের অনেকের অফিসে ডিজিএফআইয়ের অফিস বসিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এমন বাধা নিয়ে উৎপাদন করা সম্ভব নয়।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবু সুফিয়ানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ফরিদা আখতার ছাড়াও বিশেষ অতিথি বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুক ও ওয়াপসা বিবির সাবেক সভাপতি মসিউর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইলিয়াস হোসেন ও অধ্যাপক ড. মাহমুদুল হাসান সিকদার।
প্রতিবছর অক্টোবরের দ্বিতীয় শুক্রবার বিশ্ব ডিম দিবস পালিত হয়ে থাকে। এবছর দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ডিমে আছে প্রোটিন, খেতে হবে প্রতিদিন।
জাতীয়
নির্বাচন প্রস্তুতি নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বৈঠক ১৯ জানুয়ারি
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে আইনশৃঙ্খলার সার্বিক প্রস্তুতি ও করণীয় নির্ধারণে বৈঠকে বসছে উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত এই উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির ২০তম সভা অনুষ্ঠিত হবে।
সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-২ শাখা থেকে সম্প্রতি এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এবং কমিটির আহ্বায়ক লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর (অব.) সভাপতিত্বে এই সভা আগামী ১৯ জানুয়ারি দুপুর দুইটায় শুরু হবে।
সভায় আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও বিশেষ অভিযান পরিচালনার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে বলে জানা গেছে।
সভার আলোচ্যসূচিতে যা রয়েছে– আসন্ন জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষ্যে সার্বিক প্রস্তুতি সংক্রান্ত আলোচনা; সারাদেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও অভিযান পরিচালনা বিষয়ক আলোচনা; সহিংসতা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ সংক্রান্ত আলোচনা; চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, সংঘবদ্ধ দুষ্কৃতকারীদের কর্মকান্ড রোধে ব্যবস্থা গ্রহণ; জুলাই হত্যাকাণ্ডের শহীদদের মামলার রেকর্ড, তদন্ত ও অগ্রগতি বিষয়ক আলোচনা; দেশে অস্থিরতা সৃষ্টিকারী উস্কানিমূলক সাইবার প্রচারণার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ; নারী ও শিশু নির্যাতন এবং ধর্ষণের বিরুদ্ধে আইনগত ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং মাদকের অপব্যবহার রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ সম্পর্কিত আলোচনা।
সভার আলোচ্যসূচি নিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়– শীর্ষ সন্ত্রাসীদের জামিন পরবর্তী সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও প্রতিরোধ, নির্মূল ও নিয়ন্ত্রণ এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনগুলোর অপতৎপরতা রোধে ব্যবস্থা গ্রহণ; গার্মেন্টস ও শিল্পকারখানার শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধ নিশ্চিত করা। গার্মেন্টস কারখানা, ঔষধ শিল্পসহ বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির তৎপরতা বিষয়ে আলোচনা; অস্ত্র জমা ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযান পরিচালনা সংক্রান্ত আলোচনা; সীমান্ত ও পার্বত্যাঞ্চল পরিস্থিতি বিষয়ক আলোচনা এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আইন-শৃঙ্খলাসহ সার্বিক পরিস্থিতি বিষয়ক আলোচনা করা হবে।
জাতীয়
পোস্টাল ব্যালটের ভাঁজে ‘ধানের শীষ’, যা বললো ইসি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পোস্টাল ব্যালটে বিএনপির নির্বাচনী প্রতীক ‘ধানের শীষ’ ভাঁজের মধ্যে পড়ে যাওয়া নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসির সিনিয়র সচিব জানান, ব্যালট পেপার ছাপানোর ক্ষেত্রে সরকারি গেজেটের ক্রমধারা বা ধারাবাহিকতা অনুসরণ করা হয়েছে।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইসি সচিব আখতার আহমেদ এসব কথা বলেন।
ব্যালটের ভাঁজে ধানের শীষ প্রতীক ঢাকা পড়ে যাওয়া প্রসঙ্গে সচিব বলেন, ইট ইজ এ মিস, আমি (এখনই বিস্তারিত) বলতে পারব না। কারণ ছাপানোর দায়িত্বে যারা ছিলেন, তাদের কাছ থেকে না জেনে মন্তব্য করা সম্ভব নয়। তবে যতটুকু জানা আছে, সরকারিভাবে যে গেজেট পাবলিশ করা হয়েছে, সে গেজেটের ধারাবাহিকতা বা অর্ডার অনুযায়ী ব্যালট সাজানো হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান অভিযোগ করেন, উদ্দেশ্যমূলকভাবে ধানের শীষ প্রতীকটি ব্যালটের ঠিক মাঝখানে রাখা হয়েছে, যা ভাঁজ করলে সহজে নজরে আসে না। দলটির পক্ষ থেকে এখনো পাঠানো হয়নি এমন ব্যালটগুলো সংশোধন করার দাবি জানানো হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে ব্যালট পুনরায় ছাপা হবে কি না জানতে চাইলে সচিব বলেন, এটি নিয়ে এখনই মন্তব্য করা যাবে না। কমিশন সভায় আলোচনার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
বাহরাইনে অনেকগুলো পোস্টাল ব্যালট পৌঁছানোর একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার বিষয়ে ব্যাখ্যা দেন ইসি সচিব আখতার আহমেদ।
একই ঠিকানায় অনেক পোস্টাল ব্যালট পৌঁছানো এবং এ সংক্রান্ত ভিডিও ভাইরাল হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, বাহরাইনের বিষয়টি আপনারা জানেন, ইউনিভার্সাল পোস্টাল ইউনিয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ পোস্টাল ব্যালট পাঠাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যসহ কয়েকটি দেশের পোস্টাল সিস্টেম ভিন্ন হওয়ায় বাহরাইনের ক্ষেত্রে এমনটি হয়েছে। সেখানে প্রায় ১৬০টি ব্যালট একটি জায়গায় একটি বক্সে রেখে দেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ডেলিভারি পয়েন্ট হিসেবে বিষয়টি অনেকটা ছাত্রজীবনের মতো, হোস্টেলে যেমন একটি নির্দিষ্ট জায়গায় চিঠিপত্র রেখে দেয়া হতো এবং সেখান থেকে সবাই নিজের নিজের চিঠি নিয়ে নিত, ঠিক সেভাবেই একটি বক্সে ১৬০টি ব্যালট রাখা হয়। পরে প্রবাসী বাংলাদেশি ভাইয়েরা ওই বক্স খুলে চার-পাঁচজন মিলে ভাগ করে নেন, যে যার পাশের ঘরে থাকে, সে তারটা নিয়ে যায় বা পৌঁছে দেয়।
ইসি সচিব আরও বলেন, ভিডিওটি করা হয়েছে, যেটা করা উচিত হয়নি বলে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি। তবে আমরা যতটুকু জানতে পেরেছি, প্রবাসী ভোটাররা ভোটের একটি ব্যালট হাতে পাওয়ার আনন্দ ধরে রাখতেই কেউ এটি পোস্ট করেছেন। আপনারা খেয়াল করে দেখবেন, এখানে কোনো খাম খোলা হয়নি। এমন কোনো প্রমাণ নেই।
আখতার আহমেদ বলেন, বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে বাহরাইন পোস্টকে জানানো হয়েছে।
জাতীয়
বাহরাইনে পোস্টাল ব্যালট বিতরণের অভিযোগ তদন্তাধীন: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
বাহরাইনের একটি বাসায় অনেকগুলো পোস্টাল ব্যালট বিতরণের যে অভিযোগ উঠেছে, তা তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দেখা গেছে বাহরাইনের এক জামায়াত নেতার বাসা থেকে পোস্টাল ব্যালট বিতরণ করা হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি বিষয়টি দেখেছি এবং এ ব্যাপারে তদন্ত করতে বলা হয়েছে। দেখা যাক আসলে ফলাফল কী দাঁড়ায়।’ প্রথমবারের মতো শুরু হওয়া পোস্টাল ব্যালট প্রক্রিয়ায় প্রায় ১৫ লাখ প্রবাসী ভোট দিতে আগ্রহী উল্লেখ করে তিনি বলেন, এত বড় কর্মযজ্ঞে কিছু সমস্যা হতেই পারে।
মো. তৌহিদ হোসেন আরও বলেন, ‘আমাদের রাজনীতির ক্ষেত্রে যারা বিচরণ করেন, তারা সবাই যে নিখুঁত মানুষ, তা তো না। কেউ এটাকে অপব্যবহার করার চেষ্টা করবে– এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। আমাদের চেষ্টা করতে হবে যেন অপব্যবহার না হয়। যখনই কিছু জানা যাবে, তা তদন্ত করা হবে। তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে আমি জানি। তবে কাজ কতটুকু এগিয়েছে, তা এই মুহূর্তে বলতে পারছি না।’
বিদেশে থাকা মিশনগুলোর দায়িত্ব নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, ব্যালট পেপার মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে এবং তারা ভোট দিয়ে ডাকযোগে (বাই-পোস্ট) পাঠাবেন। এ ক্ষেত্রে মিশনের ভূমিকা খুব একটা বেশি নয়। কাজেই, আমাকে এটা এই পয়েন্ট অফ ভিউ থেকে দেখতে হবে।
জাতীয়
সাগর সংরক্ষণ ও সামুদ্রিক মৎস্য রক্ষায় এমওইউ সই
সাগর সংরক্ষণ, সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ সুরক্ষা এবং টেকসই ব্লু ইকোনমি গড়ে তুলতে জাপানের খ্যাতনামা সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের (এসপিএফ) সঙ্গে মহেশখালী ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (এমআইডিএ) একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছে।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে এমওইউতে সই করেন এমআইডিএ’র নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন এবং সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের ওশান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (ওপিআরআই) সভাপতি প্রফেসর মিৎসুতাকু মাকিনো। অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস উপস্থিত ছিলেন
চুক্তিটি আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের সভাপতি ড. আতসুশি সুনামি আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন দেবেন। এ সময় ওপিআরআইয়ের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. এমাদুল ইসলাম এবং এমআইডিএ সদস্য কমডোর তানজিম ফারুক উপস্থিত ছিলেন।
চুক্তি স্বাক্ষর প্রত্যক্ষ করার পর প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, আমাদের সাগর একটি বড় সম্পদ, কিন্তু এটি ক্রমেই দূষিত হয়ে পড়ছে। সাগরের কয়েক হাজার মিটার গভীরেও এখন প্লাস্টিক বর্জ্যের অস্তিত্ব পাওয়া যাচ্ছে। এই এমওইউ আমাদের সাগর রক্ষা ও পরিষ্কার রাখতে সহায়তা করবে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের সামুদ্রিক সম্পদ অবশ্যই রক্ষা করতে হবে। সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশন সামুদ্রিক গবেষণায় বিশ্বব্যাপী অত্যন্ত সম্মানিত। আমাদের গবেষণা কার্যক্রমে তাদের সম্পৃক্ততা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরিন সায়েন্স ইনস্টিটিউট এই সহযোগিতার সঙ্গে যুক্ত থাকবে এবং ধাপে ধাপে এই গবেষণা আরও সম্প্রসারিত হবে।
প্রধান উপদেষ্টা জানান, এমওইউর আওতায় সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশন উমিগিও (সামুদ্রিক শিল্পভিত্তিক কমিউনিটি উন্নয়ন) মডেল অনুসরণ করে মহেশখালীতে তিনটি গ্রামকে মডেল মৎস্যগ্রাম হিসেবে গড়ে তুলতে এমআইডিএকে সহায়তা করবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে উপকূলীয় উন্নয়ন ও মহেশখালীসহ কৌশলগত অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা এমআইডিএ, সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যৌথভাবে মৎস্য ও সামুদ্রিক খাতে জাতীয় অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে কাজ করবে। এসব অগ্রাধিকার দেশের ২০টিরও বেশি মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার সমন্বয়ে নির্ধারিত।
এমওইউ অনুযায়ী সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে—মেরিকালচার, মৎস্য ও পোস্ট-হারভেস্ট ব্যবস্থাপনায় জাপানের ব্লু ইকোনমি মডেল অনুসরণে সম্ভাব্যতা বিশ্লেষণ, সি-ফুড প্রসেসিং, জেলে সম্প্রদায়ের কল্যাণ, উপকূলীয় জীবিকা উন্নয়ন, সমুদ্রে নিরাপত্তা, কমিউনিটি-ভিত্তিক সামুদ্রিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং সরকার ও জেলে সম্প্রদায়ের মধ্যে দ্বিমুখী যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
এছাড়া মৎস্য সম্পদ ও উপকূলীয় পর্যটনের সম্ভাবনা নিয়ে বেসলাইন স্টাডি পরিচালনা করা হবে। জেটি, স্বয়ংক্রিয় মাছ অবতরণ কেন্দ্র, কোল্ড-চেইন ও পরিবহন ব্যবস্থা, সি-ফুড প্রসেসিং সুবিধা এবং বাজার চেইন উন্নয়নও এই সহযোগিতার অংশ।
ওপিআরআই সভাপতি প্রফেসর মিৎসুতাকু মাকিনো বলেন, এই অংশীদারত্ব বাংলাদেশের সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে বিশেষ করে মৎস্যখাতে একটি সমন্বিত ও টেকসই ব্লু ইকোনমি গড়ে তোলার বড় সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
এমআইডিএ’র নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বলেন, এমআইডিএ উপকূলীয় ঐতিহ্যবাহী জীবিকা সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই অংশীদারত্ব বঙ্গোপসাগরের বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে বাংলাদেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
উল্লেখ্য, ‘নর্থইস্ট ইন্ডিয়ান ওশান রিজিওনাল ডায়ালগ অন সাসটেইনেবল ব্লু ইকোনমি, কানেক্টিভিটি অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ফর স্মল আইল্যান্ড ডেভেলপিং স্টেটস (এসআইডিএস)’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের সংলাপের ফাঁকে এই এমওইউ স্বাক্ষরিত হয়।
গত দুদিন (১৩ ও ১৪ জানুয়ারি ) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিত এক সংলাপে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ এবং ভারতের আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের নীতিনির্ধারক ও বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।
জাতীয়
পঞ্চম দিনে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন ৭২ জন, বাতিল ১৭
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিল শুনানির পঞ্চম দিনে ৭২ জনের আপিল মঞ্জুর করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ দিনে মোট ১০০ জন প্রার্থীর শুনানি হয়। এছাড়া ১৭টি আপিল নামঞ্জুর বা বাতিল করা হয়েছে।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ইসি সচিব আখতার আহমেদ।
ইসি সচিব বলেন, আজ ১০০ জন প্রার্থী ইসি আপিল করেছিল, আমরা ৭২ জনের আবেদন মঞ্জুর করেছি। এছাড়া ১৭ জনের আপিল আবেদন নামঞ্জুর করা হয়েছে। ১০ জনের আপিল আবেদন পেন্ডিং আছে। ৫ দিনে মোট ৩৮০ জন প্রার্থী ইসিতে আবেদন করেছিল। এর মধ্যে ২৭৭ জন প্রার্থীর আবেদন মঞ্জুর করা হয়েছে। এছাড়া ৮১টি আবেদন বাতিল করা হয়েছে। বাকিগুলো পেন্ডিং আছে।’



