জাতীয়
গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা আটক করায় বাংলাদেশের নিন্দা
ফিলিস্তিনিদের সহায়তার জন্য স্পেন থেকে গাজার উদ্দেশে যাত্রা করা গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার (জিএসএফ) ত্রাণবাহী নৌযানগুলোকে আন্তর্জাতিক জলসীমায় আটক করেছে ইসরায়েল। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।
শুক্রবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলাকে আটকে দেওয়া আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং ক্ষুধাকে যুদ্ধাস্ত্র হিসাবে ইসরায়েলের ব্যবহারের নির্লজ্জ প্রকাশ। বাংলাদেশ সব আটক মানবিক সহায়তা কর্মীর অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি এবং তাদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
এছাড়া বিবৃতিতে গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের অবৈধ দখল বন্ধ, আন্তর্জাতিক মানবিক আইনকে সম্মান, গাজায় গণহত্যা বন্ধ এবং মানবিক অবরোধ অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানায় বাংলাদেশ।
বিবৃতিতে বলা হয়, মানবিক সহায়তা বহনকারী এই ফ্লোটিলা বিশ্ববাসীর ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি সংহতির প্রতীক। ইসরায়েলকে অবশ্যই গাজায় তাদের অবাধ প্রবেশাধিকার দিতে হবে।
এই ভয়াবহ দুর্দশা এবং অব্যাহত দুর্ভোগের মুহূর্তে ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি বাংলাদেশের সরকার ও জনগণ অটল সংহতি প্রকাশ করছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
অবরুদ্ধ গাজার মানুষের কাছে খাদ্য, ওষুধসহ জরুরি সহায়তা পৌঁছে দিতে যাত্রা শুরু করেছিল গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা। মানবিক সহায়তা বহনকারী এই প্রতীকী অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন বিভিন্ন দেশের শান্তিকামী মানুষ ও মানবাধিকার কর্মীরা। সুইডিশ পরিবেশকর্মী গ্রেটা থুনবার্গসহ শত শত কর্মীকে আটকের মাধ্যমে গাজা অভিমুখে যাওয়া ত্রাণবাহী ফ্লোটিলার যাত্রা নস্যাৎ করে দিয়েছে ইসরায়েলি সেনারা। বহরের জাহাজগুলো আটকে দেওয়া হয়েছে এবং ৪৪৩ কর্মীকে আটক করেছে তারা। গন্তব্যে না পৌঁছালেও ফ্লোটিলা বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তৈরি করেছে, নাড়া দিয়েছে বিশ্ববিবেককেও।
মানবিক এই উদ্যোগ আটকে দেওয়ায় গতকাল বৃহস্পতিবার ফ্রান্স, গ্রিস, ইতালি, জার্মানি, তিউনিসিয়া ও তুরস্কে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। পাকিস্তান, বলিভিয়া ও মালয়েশিয়া থেকেও ইসরায়েলি কর্মকাণ্ডের সমালোচনা উঠেছে। ইতালিতে কয়েকটি শহরে বিক্ষোভ সমাবেশ হয়।
২০০৭ সালে হামাস গাজা উপত্যকার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন মাত্রায় ইসরায়েল অঞ্চলটির ওপর অবরোধ চালিয়ে আসছে। তখন থেকে ফিলিস্তিনিরা কার্যত গাজার ভেতরেই বন্দি হয়ে আছেন। এর মধ্যে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে হামাসকে দমনের অজুহাতে গাজায় ইসরায়েল যে সামরিক আগ্রাসন শুরু করে।
জাতীয়
প্রার্থিতা ফিরে পেতে মানতে হবে যেসব নির্দেশনা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে অনেকের প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে। তবে প্রার্থিতা বাতিল সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করা যাবে। এ ক্ষেত্রে ৭ নির্দেশনা মানতে হবে।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) নির্দেশনাগুলো প্রার্থীদের মাঝে প্রচারের জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তাদের চিঠি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
৭ নির্দেশনা
১। আপিল আবেদন কমিশনকে সম্বোধন করে স্মারকলিপি আকারে (নির্ধারিত ফরমেটে) দায়ের করতে হবে।
২। আপিল দায়েরকালে মনোনয়নপত্র গ্রহণ বা বাতিলের তারিখ, আপিলের কারণ সংবলিত বিবৃতি এবং মনোনয়নপত্র বাতিল বা গ্রহণ আদেশের সত্যায়িত কপি দাখিল করতে হবে।
৩। আপিল আবেদনের ১টি মূল কপিসহ মোট ৭ কপি দাখিল করতে হবে।
৪। আপিল আবেদন নির্বাচন কমিশনের আপিল আবেদন গ্রহণসংক্রান্ত কেন্দ্রে স্ব স্ব অঞ্চলের নির্ধারিত বুথে জমা দিতে হবে।
৫। আপিল আবেদন ৫-৯ জানুয়ারির মধ্যে দায়ের করতে হবে।
৬। আপিল কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত বা রায়ের কপির জন্য নির্ধারিত ফরমে আবেদন দাখিল করতে হবে। ফরমের নমুনা নির্বাচন কমিশনে আপিল দায়ের সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় বুথ থেকে সংগ্রহ করা যাবে।
৭। আপিল দায়েরকারী অথবা আপিল দায়েরকারীর পক্ষে মনোনীত ব্যক্তি আপিলের রায়ের কপি সংগ্রহ করতে পারবেন। আপিল দায়েরের জন্য আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে থাকবে ১০টি বুথ।
বুথ নং-১ (খুলনা অঞ্চল)
মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, যশোর, মাগুরা, নড়াইল, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা জেলা।
বুথ-২ (রাজশাহী অঞ্চল)
জয়পুরহাট, বগুড়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, রাজশাহী, নাটোর, সিরাজগঞ্জ, পাবনা।
বুথ-৩ (রংপুর অঞ্চল)
পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা।
বুথ-৪ (চট্টগ্রাম অঞ্চল)
চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি এবং বান্দরবান।
বুথ-৫ (কুমিল্লা অঞ্চল)
ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, চাঁদপুর, ফেনী, নোয়াখালী এবং লক্ষ্মীপুর।
বুথ-৬ (সিলেট অঞ্চল)
সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ।
বুথ-৭ (ঢাকা অঞ্চল)
টাংগাইল, কিশোরগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, ঢাকা, গাজীপুর, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ।
বুথ-৮ (ময়মনসিংহ অঞ্চল)
জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোণা।
বুথ-৯ (বরিশাল অঞ্চল)
বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, ঝালকাঠি, পিরোজপুর।
বুথ-১০ (ফরিদপুর অঞ্চল)
রাজবাড়ী, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর এবং শরীয়তপুর।
জাতীয়
চাইলেই ঢাকা থেকে ব্যাটারিচালিত রিকশা তুলে দেওয়া যায় না: ফাওজুল কবির
চালকদের জীবিকা ও পরিবারের কথা চিন্তা করে চাইলেই রাজধানী ঢাকা থেকে ব্যাটারিচালিত রিকশা উঠিয়ে দেওয়া যায় না বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর আফতাব নগরে তিন চাকার স্বল্প গতির ব্যাটারিচালিত রিকশার পাইলটিং কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, ঢাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধ না করে এটিকে একটি কাঠামোতে নিয়ে আসার জন্য কাজ চলছে।
সড়ক পরিবহন উপদেষ্টা বলেন, চালকদের জীবিকা ও পরিবারের কথা চিন্তা করে রাজধানী থেকে ব্যাটারিচালিত রিকশা চাইলেই তুলে দেওয়া যায় না। তবে, এসব রিকশা চলাচল শৃঙ্খলার মধ্যে নিয়ে আসা হবে।
সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে যত্রতত্র গাড়ি থামানো বন্ধের কথাও জানিয়েছেন ফাওজুল কবির খান।
শ্রমজীবী মানুষকে সম্পৃক্ত করে ও নগরকে নিরাপদ রাখার লক্ষ্যে ই-রিকশা প্রকল্প নেওয়া হয়েছে জানিয়ে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেন, উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রথমে নির্দিষ্ট এলাকায় এবং পর্যায়ক্রমে পুরো শহরে ই-রিকশা চলাচলের ব্যবস্থা করবে সরকার।
অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টার প্রতিরক্ষা ও সংহতি উন্নয়ন বিষয়ক বিশেষ সহকারী আব্দুল হাফিজ, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহমুদুল হাসানসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এমকে
জাতীয়
ফয়সালের ভিডিওবার্তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে: ডিএমপি কমিশনার
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার মূল আসামি ফয়সালের ভিডিওবার্তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) মিলনায়তনে এ-ফোর বসুন্ধরা পেপার ক্র্যাব বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড-২০২৫ অনুষ্ঠানে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
হাদি হত্যাকাণ্ডের মূল অসামি ফয়সালের ভিডিওবার্তার বিষয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেন, ‘নো-কমেন্টস’। ভিডিওটা আমরা পরীক্ষা করছি। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে বক্তব্য দেব।
নির্বাচন উপলক্ষে প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, নির্বাচন উপলক্ষে বর্তমান প্রার্থীদের নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে, অনেকেই চাচ্ছে। আমাদের রিসোর্স সক্ষমতার দিকে তাকাতে হচ্ছে। আপনার জীবনে কতটা হুমকি আছে এটা বিশেষ পুলিশ (এসবি) দিয়ে যাচাই করি। যাচাইয়ের পরে এসবি যখন বলে যে ইয়েস এক্স, ওয়াই, জেড এর জীবনের নিরাপত্তার ঝুঁকি আছে তখন এসবি অথবা গানম্যান দিচ্ছি।
বেশ কিছু ব্যক্তিকে গানম্যান দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে ডিএমপি কমিশনার বলেন, নির্বাচন কমিশনারদের বিশেষ করে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। আগামীতেও যদি কেউ ক্যান্ডিডেট বা ওরকম কোনো ব্যক্তি যদি জীবনের নিরাপত্তা বা ঝুঁকির কথা আমাদের বলে আমরা যাচাই করে দেখে আমরা গানম্যান দিতে দিতে প্রস্তুত।
ঢাকার পুলিশ কমিশনার আরও বলেন, তবে সব সময় মনে রাখবেন আমাদের গরিব দেশ, গরিব পুলিশ ডিপার্টমেন্ট, আমাদের নির্বাচন হলো টপ প্রায়োরিটি। আমি যদি সব লোকবল এই ধরনের কাজেই নিয়োগ করি তাহলে আমার ভোটকেন্দ্রকে পাহারা দেবে? আমার ভোটকেন্দ্র পাহারা দেওয়াটা, তারপরে মাস্তানি সন্ত্রাসী নানা ধরনের ভোটের যে জটিলতা আছে এগুলোকে আমাকে প্রায়োরিটি দিতে হচ্ছে। তাই আমরা সবদিকে ব্যালেন্স করে রিসোর্সের দিকে তাকিয়ে কতটুকু কি সম্ভব সেটা করার চেষ্টা করছি।
শেখ সাজ্জাত আলী বলেন, আমি পুলিশ কমিশনার হিসেবে যতই চেষ্টা করি আপনাদের বন্ধু বানানোর পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় আপনারা আমাকে ছাড় দিয়েন না। আমার সহকর্মীদেরও আপনারা ছাড় দেন না সেটা আমার জানা। আমি চেষ্টা করে যাচ্ছি পুলিশের সঙ্গে বিশেষ করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সঙ্গে যেন আপনাদের একটা সেতুবন্ধন থাকে। আপনাদের (সাংবাদিক) পেশাগত দায়িত্ব পালন করবেন। কিন্তু আমার অনুরোধ সেক্ষেত্রে যেন কোনোরূপ বাড়াবাড়ি বা কোনো ধরনের ত্রুটির কারণে আমার সহকর্মীরা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। গত বছর এদেশের ইতিহাসে খুবই টার্বুলেন্ট একটি বছর ছিল।
তিনি বলেন, আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের ১২ তারিখ জাতীয় নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এরই মধ্যে পুলিশ ডিপার্টমেন্টে ব্যাপক রদ-বদল এবং সেই রদ-বদল লটারির মাধ্যমে হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ একটি ভিন্ন প্রতিষ্ঠান অর্গানাইজেশন উইথন দি পুলিশ ডিপার্টমেন্ট। এখানে ভোলার তমিজউদ্দিন থানার ওসিকে নিয়ে এসে গুলশানের ওসি করলে সে পারে না। সে তখন বিল্ডিং কয়তালা সেটা গোনে। মেয়েটা মোজা পরছে নাকি তার চামড়াই এ রকম এইটা দেখে। তাই এইরূপ অবস্থার ভেতরে মফস্বল থেকে একজন অফিসার নিয়ে এসে মোহাম্মদপুরের ওসি করলে মাথা ঘোরে।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, তারপরেও আমি সিদ্ধান্ত নিলাম যে মফস্বল থেকে আনলে আপনাদেরই অসুবিধা হবে। ঢাকার ওসি যারা ছিল কিছু বাদ দিয়ে তাদের ভেতরেই লটারি করে ওসি করা হয়েছে। সেক্ষেত্রেও দেখা যাচ্ছে যে সবুজবাগ থানায় যে ছিল তার ভাগ্যে যদি মোহাম্মদপুর পড়ে থাকে তাহলে সবুজবাগের অফিসার হিসেবে যে ধরনের কন্ট্রোল ক্যাপাসিটি থাকা দরকার সেটা দিয়ে মোহাম্মদপুরে চলে না।
তাই এই অসুবিধার ভেতরেও আমার অফিসাররা কাজ করে যাচ্ছে। আগামী ৪০ দিন যদি আমরা আইনশৃঙ্খলা এবং অন্যান্য বিষয় যদি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারি তাহলে নির্বাচনটা সুষ্ঠুভাবে করা সম্ভব হবে। আমাদের কাছে এখন টপ প্রায়োরিটি জাতীয় নির্বাচন। জানুয়ারি মাসের ২১ বা ২২ তারিখের থেকে সম্ভবত ক্যাম্পেইন শুরু হবে। তখনই সবচেয়ে বড় জটিলতা হওয়ার কথা।
এমকে
জাতীয়
আনিসুল ইসলাম মাহমুদের মনোনয়নপত্র বাতিল
জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের সভাপতি ও জাতীয় পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন এ সিদ্ধান্ত জানান।
হলফনামার সঙ্গে জমা দেওয়া দলীয় মনোনয়নপত্রের স্বাক্ষরের সঙ্গে নির্বাচন কমিশন থেকে পাঠানো দলীয় মনোনয়নপত্রের স্বাক্ষরের মিল না থাকায় আনিসুল ইসলামের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
এদিকে সকালে বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে একদল লোক জড়ো হয়ে জাতীয় পার্টির নেতা আনিসুল ইসলামের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। এ সময় কার্যালয়ের সামনে পুলিশ পাহারা জোরদার করা হয়।
মনোনয়নপত্র যাচাইকালে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আনিসুল ইসলাম মাহমুদের পক্ষে থাকা এক আইনজীবী অভিযোগ করেন, আনিসুল ইসলাম মাহমুদের প্রস্তাবক ও সমর্থনকারীকে সম্মেলনকক্ষে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়েছে।
যাচাই-বাছাইয়ের সময় চট্টগ্রাম-৫ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা এস এম ফজলুল হক ও শাকিলা ফারজানার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জমা দেওয়া এক শতাংশ ভোটারের তালিকা থেকে দৈবচয়নের ভিত্তিতে দশজনের তথ্য যাচাই করা হয়। এর মধ্যে কয়েকজনের সই-স্বাক্ষরের সত্যতা পাওয়া যায়নি। তাই মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। আসনটিতে বিএনপির প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
এমকে
জাতীয়
মৃত্যুর কারণে বেগম খালেদা জিয়ার মনোনয়ন কার্যক্রম সমাপ্ত
বগুড়া-৬ (সদর) ও বগুড়া-৭ আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে পাঁচজন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ এবং চারজনের মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া মৃত্যুর কারণে বিএনপির প্রার্থী ও দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দাখিলকৃত মনোনয়নপত্রের কার্যক্রম সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. তৌফিকুর রহমান এসব তথ্য জানান।
তিনি জানান, বগুড়া-৬ আসনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও আবিদুর রহমান সোহেলের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে ত্রুটির কারণে এই আসনে বাসদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও জেএসডির তিন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
অন্যদিকে বগুড়া-৭ আসনে বাংলাদেশ মুসলিম লীগের প্রার্থী আনছার আলীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। তবে এই আসনে বিএনপির মোরশেদ মিলটন, জামায়াতে ইসলামীর গোলাম রব্বানী এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শফিকুল ইসলামের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
গত ২৩ নভেম্বর থেকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। শারীরিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত জটিল ও সংকটাপন্ন। চিকিৎসকদের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ভোর ৬টার দিকে তিনি ইন্তেকাল করেন।
পরদিন বুধবার বিকেল ৩টার পরপরই রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা সম্পন্ন হয়। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে তাকে সমাধিস্থ করা হয়।
এমকে



