জাতীয়
প্রথম সফরে ভারত যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে ভারত যাচ্ছেন তারেক রহমান। আগামী মাসের ১০ তারিখের মধ্যে এ সফর অনুষ্ঠিত হতে পারে। সে লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে দিল্লি। প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সফরে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে বলেও আলোচনা চলছে।
ঢাকার ভারতীয় কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, ঢাকার সঙ্গে আস্থার সম্পর্ক গড়তে নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে ভারত সরকার। সফরে প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমানকেও বিশেষ আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে। শেখ হাসিনা পরবর্তী বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রীর সফর স্মরণীয় করে রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দেওয়া আতিথেয়তার মতো তারেক রহমান ও পরিবারকে বরণের প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারত।
দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র বলছে, ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নানাভাবে তিক্ত হয়ে ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে কিছু বিষয়ে কঠোর সিদ্ধান্তও নেয় দুই দেশ। সেই বরফ গলিয়ে এবার ঢাকা ও দিল্লির সম্পর্ক গভীর করতে তারেক রহমানের প্রতি বন্ধুত্বের অনন্য নজির দেখাতে চায় ভারত। তাই তাদের সফরকে মর্যাদাপূর্ণ করে তুলতে চায় ভারত। মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভারত সফরের সময়কার মতো গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সফরে। সফরকালে ট্রাম্প তার পরিবার নিয়ে দিল্লির বিলাসবহুল পাঁচ তারকা হোটেল ‘আইটিসি মৌর্য’তে উঠেছিলেন। তারেক রহমান ও তার পরিবারেরও থাকার ব্যবস্থা হচ্ছে সেখানে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সফরকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার মধ্য দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর বার্তা দিতে চায় দিল্লি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কয়েকটি সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম নেপালে ও পরে পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে যাওয়ার আলোচনা ছিলা। সেই পরিকল্পনা পরিবর্তন করা হয়েছে। শুরুতে চলতি মাসেই (এপ্রিল) তারেক রহমানের ভারত সফরের প্রস্তুতি নেয় দিল্লী। কিন্তু ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের নির্বাচনের কারণে সময় পেছানো হয়। ১০ মের আগে যে কোনো দিন চূড়ান্ত করে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেওয়া হবে।
আলোচনায় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি
সোমবার (৬ এপ্রিল) ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ওই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফর এবং সফরকালে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
যদিও চুক্তিগুলোর বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি, তবে প্রায় ২০০ কোটি মার্কিন ডলারের সহায়তা প্যাকেজ এবং গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি আলোচনায় এসেছে বলে জানা গেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই সহায়তা প্যাকেজের পরিমাণ প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা।
এছাড়া বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে চলতি ইরি মৌসুমে সেচের জন্য ডিজেলের চাহিদা বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারত থেকে অতিরিক্ত ডিজেল আমদানির বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে বলে সূত্র জানিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ভারতের হাইকমিশনারের সাক্ষাতের পরদিন মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) প্রথম আনুষ্ঠানিক ভারত সফরে গেছেন নতুন সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। ভারত সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে বৈঠকের পর তারেক রহমানের ভারত সফরের বিষয়টি এরই মধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে বলে একাধিক সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে। দু-এক দিনের মধ্যে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।
এ ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে কারা ভারতে যাবেন সে তালিকাও চূড়ান্তের কাজ করছে বলে ঢাকার একটি কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে।
প্রাথমিকভাবে সফরসঙ্গী হিসেবে তালিকায় নাম রয়েছে—অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি ও প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। এ ছাড়া কয়েকজন ব্যবসায়ী প্রতিনিধিও সফরসঙ্গী হতে পারেন বলে জানা গেছে।
জাতীয়
খালেদা জিয়ার পক্ষে স্বাধীনতা পুরস্কার নিলেন নাতনি জাইমা রহমান
জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে দেয়া ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬’ গ্রহণ করেছেন তার নাতনি জাইমা রহমান।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। খালেদা জিয়ার পক্ষে তার বড় ছেলে তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমান অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত থেকে এই পুরস্কার গ্রহণ করেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬’ দেওয়ার জন্য মনোনীত করা হয়েছে।
মনোনীত অন্য ব্যক্তিরা হলেন, মুক্তিযুদ্ধে মেজর মোহাম্মদ আবদুল জলিল (মরণোত্তর), বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে সাবেক সচিব ও বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক অধ্যাপক জহুরুল করিম, সাহিত্যে আশরাফ সিদ্দিকী (মরণোত্তর), সংস্কৃতিতে ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র উপস্থাপক এ কে এম হানিফ (হানিফ সংকেত),বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী বশীর আহমেদ (মরণোত্তর), ক্রীড়ায় দেশের টেবিল টেনিসের কিংবদন্তি জোবেরা রহমান (লিনু), সমাজসেবায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী (মরণোত্তর), মো. সাইদুল হক, রাজধানীর মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনায় নিহত শিক্ষক মাহেরীন চৌধুরী (মরণোত্তর), জনপ্রশাসনে কাজী ফজলুর রহমান (মরণোত্তর), গবেষণা ও প্রশিক্ষণে মোহাম্মদ আবদুল বাকী, অধ্যাপক এম এ রহিম ও অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া এবং পরিবেশ সংরক্ষণে প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এবং চ্যানেল আইয়ের পরিচালক আবদুল মুকিত মজুমদার (মুকিত মজুমদার বাবু)।
এ ছাড়া মনোনীত পাঁচ প্রতিষ্ঠান হলো— মুক্তিযুদ্ধে ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ, চিকিৎসাবিদ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, পল্লী উন্নয়নে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ), সমাজসেবায় এসওএস চিলড্রেনস ভিলেজ ইন্টারন্যাশনাল ইন বাংলাদেশ ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র।
স্বাধীনতা পুরস্কার দেশের সর্বোচ্চ জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় পুরস্কার। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই পুরস্কার দেয়া হয়। সরকার ১৯৭৭ সাল থেকে প্রতিবছর স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে এ পুরস্কার দিয়ে আসছে। স্বাধীনতা পুরস্কারের ক্ষেত্রে পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে পাঁচ লাখ টাকা, ১৮ ক্যারেট মানের ৫০ গ্রামের স্বর্ণপদক, পদকের একটি রেপ্লিকা ও একটি সম্মাননাপত্র দেওয়া হয়।
এমএন
জাতীয়
মূলধন সংকটে থাকা ব্যাংকগুলোর জন্য আইএফসি’র সহায়তার ঘোষণা দিলেন অর্থমন্ত্রী
মূলধন সংকটে থাকা দেশের রুগ্ন ব্যাংকগুলোকে আর্থিক সহায়তা দিতে সম্মত হয়েছে ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি) বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। একই সঙ্গে সরকারি, বেসরকারি ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক খাতেও সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থান নিয়েছে সংস্থাটি।
শুধু তাই নয়, বাংলাদেশের শেয়ারবাজারের কারসাজি রোধে পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেবে আর্থিক লেনদেন প্রক্রিয়াকরণ প্রতিষ্ঠান জেপি মরগান। আইএমএফ-এর বসন্ত সভার তৃতীয় দিন শেষে এ তথ্য জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসি থেকে আরও জানাচ্ছেন মুহিব্বুল্লাহ মুহিব।
বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ-এর বসন্ত সভার তৃতীয় দিন বাংলাদেশের জন্য বড় সুখবর নিয়ে আসে সরকারের প্রতিনিধি দল। এ দিন ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি), বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং জেপি মরগানসহ বেশ কয়েকটি সংস্থার সঙ্গে বৈঠক করে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ১১ সদস্যের প্রতিনিধি দল।
বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার প্রভাব বাংলাদেশের ওপর কমাতে অর্থনৈতিক বিষয়ে বিভিন্ন আশ্বাস পেয়েছে বাংলাদেশ।
মূলধন সংকটে থাকা ব্যাংক, সরকারি প্রকল্প, বেসরকারি সংস্থা ও অর্থনৈতিক খাতগুলোতে বিনিয়োগ ও সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে আইএফসি। এছাড়া প্রবাসীদের দক্ষ করে গড়ে তোলা এবং দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে বিশ্বের বিভিন্ন সংস্থার সহযোগিতা পাওয়ার বিষয়েও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
দিন শেষে তৃতীয় দিনের অর্জন নিয়ে কথা বলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী। তিনি জানান, আইএফসি বড় ধরনের ঋণ সহায়তা দেবে এবং ঋণনির্ভর সরকারি বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নেও পাশে থাকবে।
অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ সূচক শেয়ারবাজারে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করবে জেপি মরগান। পরামর্শের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত সহায়তাও পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।
দেশের অর্থনীতি আর গৎবাঁধা নিয়মে পরিচালিত হবে না বলেও জানিয়েছেন তিনি।
জাতীয়
আ.লীগ আমলের হয়রানিমূলক রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহারে পদক্ষেপ: আইনমন্ত্রী
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দায়ের করা হয়রানিমূলক মামলাগুলো প্রত্যাহারে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্ন-উত্তর পর্বে সংসদ সদস্য মো. মনোয়ার হোসেনের এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে আইনমন্ত্রী এ কথা জানান ৷ ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান জানান, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দায়ের করা হয়রানিমূলক মামলাগুলো প্রত্যাহারে সরকার সম্পূর্ণ সচেতন এবং এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, এর পূর্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের জন্য একটি কমিটি গঠন করেছিল। ওই কমিটির নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কোনো হত্যা মামলা প্রত্যাহার করা হয়নি।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার বিগত ৫ মার্চ ২০২৬ তারিখে হয়রানিমূলক রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ করার লক্ষ্যে জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসকের সমন্বয়ে ৪ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করেছে। ওই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার জন্য বর্তমান সরকার ৮ মার্চ আইনমন্ত্রীকে আহ্বায়ক করে ৬ সদস্যবিশিষ্ট ‘কেন্দ্রীয় কমিটি’ গঠন করে। কেন্দ্রীয় কমিটি জেলা কমিটির কাছ থেকে প্রাপ্ত সুপারিশগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মামলা প্রত্যাহারের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।
আইনমন্ত্রী বলেন, সংসদ সদস্যসহ যে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে দায়েরকৃত যে কোন ধরনের রাজনৈতিক (হত্যা মামলাসহ) মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের জন্য যথাযথ প্রক্রিয়ায় আবেদন করা হলে গঠিত জেলা ও কেন্দ্রীয় কমিটি মামলাগুলো পর্যালোচনা করবে। পর্যালোচনায় কোনো মামলা রাজনৈতিকভাবে হয়রানিমূলক বলে প্রতীয়মান হলে সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দায়েরকৃত হয়রানিমূলক মামলা থেকে ভুক্তভোগীদের প্রতিকার প্রদানে আন্তরিকভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এমএন
জাতীয়
আ.লীগ আমলে বিসিএস নিয়োগে দুর্নীতি-দলীয়করণ, ব্যবস্থা নেবে সরকার
জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বলেছেন, আওয়ামী লীগের সময় বিসিএস ক্যাডার নিয়োগে দুর্নীতি দলীয়করণের বিষয়ে দুদকসহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থা অনুসন্ধান ও তদন্ত করছে। প্রতিবেদন ও সুপারিশ পাওয়ার পর আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকালে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ১৫তম দিনের প্রশ্নোত্তরে তিনি এসব কথা বলেন। এদিন সংসদে অধিবেশনের সভাপতিত্ব করছেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
সকালে সংসদে লিখিত প্রশ্ন রাখেন পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস।
তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার গত ১৬ বছর প্রশাসনে দলীয়করণে চরম দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, যার পরিপ্রেক্ষিতে কতজন বিসিএস ক্যাডারকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে, কতজন বিসিএস অফিসারকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে, কতজন বিসিএস অফিসারকে ওএসডি করা হয়েছে?
তিনি আরেকটি প্রশ্নে বলেন, বিগত আওয়ামী লীগের সময়ে বিসিএস ক্যাডার নিয়োগে দুর্নীতি ও দলীয়করণের অভিযোগগুলো নিয়ে সরকার তদন্তপূর্বক কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করবে কিনা?
এ প্রশ্নের জবাবে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার গত ১৬ বছর বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ১২ জন কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর, ৩৯ জন কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত এবং ৫৬৪ জন কর্মকর্তাকে ওএসডি করেছে। তাদের সময় বিসিএস ক্যাডার নিয়োগে দুর্নীতি দলীয়করণের বিষয়ে দুদকসহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থা অনুসন্ধান ও তদন্ত করছে। তদন্ত প্রতিবেদন ও সুপারিশ পাওয়ার পর সে বিষয়ে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জাতীয়
জাতিসংঘ সমর্থন আদায়ে তিন দেশ সফরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী
তিন দেশ সফরের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছেড়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থান সুসংহত এবং গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নিতে বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকালে তিনি ঢাকা ত্যাগ করেন।
জানা গেছে, সফরের প্রথম পর্যায়ে ১৭ থেকে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত তুরস্কে অবস্থান করবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সেখানে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত পঞ্চম আনতালিয়া ডিপ্লোমেসি ফোরামে তিনি বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন।
ফোরামে অংশগ্রহণের পাশাপাশি তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে তার দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়াও পাকিস্তান ও গাম্বিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাতের কথা রয়েছে।
মূলত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতার পক্ষে বৈশ্বিক সমর্থন আদায়ই এই সফরের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
তুরস্ক সফর শেষে ১৯ এপ্রিল বেলজিয়াম ও পরে ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবায় যাবেন। এই সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নয়নের পাশাপাশি জাতিসংঘের নির্বাচনে পূর্ণ সমর্থন নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে।



