ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার
ইবি কর্মকর্তা সমিতি নির্বাচনে বিজয়ী বাবুল-তোজাম পরিষদ
কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) কর্মকর্তা সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদ ২০২৬ নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছে সম্মিলিত কর্মকর্তা ঐক্য পরিষদ তথা মঈদ বাবুল ও তোজাম পরিষদ। এতে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিসের উপ পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আব্দুল মঈদ বাবুল ২৮৫টি ভোট পেয়ে সভাপতি পদে ও কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার অফিসের জুনিয়র লাইব্রেরিয়ান তোজাম্মেল হক তোজাম ৩২৬টি ভোট পেয়ে সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন।
শনিবার (৪ এপ্রিল) রাত সাড়ে দশটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মমতাজ ভবন প্রাঙ্গণে ফলাফল ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশনের সদস্য ইছরাফুল হক।
এ মঈদ বাবুল-তোজাম পরিষদের অন্যান্য নির্বাচিত সদস্যরা হলেন- সহ-সভাপতি পদে মেডিক্যাল সেন্টারে উপ-রেজিস্ট্রার ইয়ারুল ইসলাম (২৯৭) ও এস্টেট অফিসের উপ-রেজিস্ট্রার ড. ওয়াহীদুজ্জামান (২২০)। যুগ্ম-সম্পাদক পদে ট্রেজারার অফিসের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ (২৫১), কোষাধ্যক্ষ পদে আল কুরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের উপ-রেজিস্ট্রার জাহিদুল ইসলাম (২৪৮), প্রচার ও দপ্তর সম্পাদক পদে পরিবহন অফিসের উপ-রেজিস্ট্রার আরিফ হোসেন তুহিন (২৩১), সাংস্কৃতিক সাহিত্য-পত্রিকা ও ক্রীড়া সম্পাদক পদে হিসাব বিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের জুনিয়র লাইব্রেরিয়ান আব্দুর রাজ্জাক (২৭৭) এবং মহিলা বিষয়ক সম্পাদক পদে অর্থ ও হিসাব বিভাগের উপ-পরিচালক সুলতানা পারভীন (২৭৭)। এছাড়া সদস্য পদে থাকছেন শহিদুল ইসলাম শহিদ (৩৩৩), আবু জাফর আদম (২০৮), জাহাঙ্গীর আলম (২৬৩), সাইদুর রহমান (২৫০), ও আমিরুল ইসলাম (২৬৫)। তবে, লতিফ-রিপু পরিষদের পরিবহন অফিসের শাখা কর্মকর্তা জাকির হোসেন ২২৫টি ভোট পেয়ে সদস্য পদে নির্বাচিত হয়েছেন।
ইবি কর্মকর্তা সমিতির নব-নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক তোজাম্মেল হক তোজাম বলেন, আজকে উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন আয়োজন-সহ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার পিছনে দায়িত্বশীল সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। আজকে ৪৮৩ জন কর্মকর্তাবৃন্দ যে দায়িত্বভার আমাদের কাঁধে তুলে দিয়েছেন তা অবশ্যই অক্ষরে অক্ষরে পালন করব। এই আমানত আমরা খেয়ানত করব না।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান প্রশাসনের কাছ থেকে আমাদের অনেক দাবি আছে। সেই ন্যায্য দাবি আদায়ের লক্ষ্যে কর্মকর্তাদের পাশে এই কর্মকর্তা সমিতি অবশ্যই থাকবে।
ইবি কর্মকর্তা সমিতির নব-নির্বাচিত সভাপতি মঈদ বাবুল বলেন, অনেকদিন কর্মকর্তা সমিতির নির্বাচন হয় নাই। কর্মকর্তারা তাদের অধিকার ও ন্যায্য দাবি থেকে বঞ্চিত ছিল। নব-নির্বাচিত কর্মকর্তা সমিতির সদস্যবৃন্দ তাদের অধিকার বাস্তবায়ন করবে। যারা আমাদেরকে এই দায়িত্ব দিয়েছে তাদের সকলের অর্থাৎ ৪৮৩ জন কর্মকর্তারা যে কোন সমস্যায় পড়লে কর্মকর্তা সমিতির বর্তমান নেতৃবৃন্দ অবশ্যই তাদের পাশে ঢাল হিসেবে দাঁড়াবে।
তিনি আরও বলেন, এই পরিষদ কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা দেবে, কর্মকর্তাদের মধ্যে কোন দলীয়করণ করবে না। দুর্নীতি দমনে সচেষ্ট থাকবে। এবং এই বিশ্ববিদ্যালয়ে দুর্নীতির পিছনে যারা থাকবে তাদের বিরুদ্ধে কর্মকর্তা সমিতি রুখে দাঁড়াবে।
উল্লেখ্য, এবার দুই প্যানেল নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। একটি সাধারণ সম্মিলিত কর্মকর্তা পরিষদের প্যানেল যা সম্মিলিত কর্মকর্তা ঐক্য পরিষদ নামে পরিচিত। অন্যটি জাতীয়তাবাদী বিএনপি ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী পরিষদের প্যানেল যা রিপু-লতিফ প্যানেল নামে ঘোষিত।
ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার
মাদক সদৃশ বস্তু সেবনের ছবি ভাইরাল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন নেতার
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মুবাশ্বির আমিনের মাদক সদৃশ বস্তু সেবনের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় ক্যাম্পাসজুড়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে ছবিটিকে ‘বন্ধুদের সঙ্গে অভিনয়ের দৃশ্য’ বলে দাবি করেছেন ওই ছাত্রনেতা।
রোববার (২৬ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে “৩৬ দিনে খুনি হাসিনা ভারতে পালিয়েছিল, ৩৬ ঘণ্টাও লাগবে না লন্ডনে পালাতে” শিরোনামে মুবাশ্বির আমিনের একটি ভিডিও বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওর মন্তব্যের ঘরে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা মেহেদী হাসান হাফিজ একটি ছবি পোস্ট করেন।
ছবিতে দেখা যায়, মুবাশ্বির আমিনের মুখে মাদক সেবনের মতো একটি বস্তু, হাতে লাইটার ও কাগজ রয়েছে। ছবির ক্যাপশনে হাফিজ লেখেন, খাওয়া শেষে বেচে থাকিস, বহুত হিসাব দেওয়া লাগবে। তুই আর তোর বাপের পালানোর সুযোগ নাই এইটুকু মাথায় ঢুকায়ে রাখ, কত হুমকি দেওয়া লোক তুই বুঝতে পারবিনি।
এবিষয়ে ইবি থানায় জিডি করেছেন ওই ছাত্র নেতা। জিডির সূত্রে, বিবাদীগণ অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র এবং ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল ২৬ এপ্রিল (২০২৬) দুপুরে আমি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়ার শাহ আজিজুর রহমান হলে অবস্থানকালে লক্ষ করি যে ১নং বিবাদী তার ব্যবহৃত ফেসবুক আইডি থেকে আমার নামে বিভিন্ন ধরনের কুটুক্তিমূলক কথাবার্তা সহ প্রাণনাশের হুমকী প্রদান করে ফেসবুকে পোস্ট করেছে। কিছুক্ষণ পর দেখি যে, ৩নং বিবাদী শাহিন আলম তার ব্যবহৃত ফেসবুক আইডি থেকে আমার নানা রকম অপ্রচার সহ হুমকী প্রদান করে পোস্ট করেছে। ২নং বিবাদী সাব্বির খান তার ব্যবহৃত ফেসবুক আইডি থেকে আমাকে মেরে ফেলার হুমকি প্রদান করে কমেন্ট করেছে। বর্তমানে আমি বিবাদীদের ভয়ে আতংকে দিন কাটাচ্ছি।
বিষয়টি জানতে চাইলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মুবাশ্বির আমিন বলেন, ২০২৩ সালের শেষের দিকে সেকেন্ড ইয়ারে পড়াকালীন শহীদ জিয়া হলে একটি অভিনয়ের দৃশ্য থেকে তোলা ছবিকে বিকৃতভাবে ব্যবহার করে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা চালানো হচ্ছে। এটি কোনো মাদকসংক্রান্ত বিষয় নয় বরং র্যাগিং সংস্কৃতির অংশ হিসেবে করা একটি অভিনয় ছিল। অতীতে এ ছবি দিয়ে আমাকে ব্ল্যাকমেইলের চেষ্টা করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে প্রক্টরের কাছে অভিযোগ দিব। থানায় একটা জিডি করেছি। বাকিটা তারা দেখবেন।
জিডি সম্পর্কে জানতে চাইলে ইবি থানার ওসি মাসুদ রানা বলেন, ওই শিক্ষার্থী জিডি করে গেছে। আমরা উর্ধ্বতন কর্মকতার অনুমতি সাপেক্ষে তদন্ত করে দেখব। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
এমএন/এমএসএ
ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার রেজাল্ট কবে, যা বলছে কর্তৃপক্ষ
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক ভর্তি পরীক্ষা শেষ হয়েছে।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত দেশের বিভাগীয় ও জেলা শহরের নির্বাচিত ১৩৮টি কেন্দ্রে একযোগে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠিত এই পরীক্ষার রেজাল্ট আগামী ১০ থেকে ১২ দিন পর হতে পারে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. এনামুল করিম বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে সাড়ে ৪ লাখের বেশি শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়েছে।
তাদের ওএমআর শিট দেখতে সময় লাগবে। তারপরও আমরা খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে রেজাল্ট দিয়ে দিবো। আশা করছি আগামী ১০ থেকে ১২ দিনের মধ্যেই রেজাল্ট প্রকাশ করতে পারবো।
এদিকে এবারের ভর্তি পরীক্ষায় ৪ লাখ ৫৩ হাজার ১৪৮ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন বলে জানা গেছে। সেই হিসেবে আসন প্রতি লড়েন প্রায় ২ জন শিক্ষার্থী।
এর আগে, শুক্রবার রাজধানীতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর কার্যালয়ে উপাচার্য প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।
উপাচার্য প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বলেন, এ পরীক্ষায় সারাদেশে মোট ৮৮০টি কলেজে (৩৭৫টি সরকারি ও ৫০৫টি বেসরকারি) ৪ লাখ ৫২ হাজার ৮৭৫টি আসনের বিপরীতে এই ভর্তি যুদ্ধ অনুষ্ঠিত হবে।
সরকারি কলেজগুলোর ২ লাখ ৭০ হাজার ৫২০টি আসনের বিপরীতে আবেদনকারীর সংখ্যা ৩ লাখ ৯৪ হাজার ২২৯ জন এবং বেসরকারি কলেজের ১ লাখ ৮২ লাখ ৩৫৫টি আসনের বিপরীতে আবেদন করেছেন ৫৮ হাজার ১১৯ জন শিক্ষার্থী।
সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য বলেন, পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সারাদেশে মোট ১৩৮টি কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে, যার মধ্যে ঢাকা মহানগরে ১৮টি, ঢাকা বিভাগে ২৭টি, চট্টগ্রামে ২৩টি, খুলনায় ১৮টি, রাজশাহীতে ১৭টি, রংপুরে ১৩টি, বরিশালে ১০টি, সিলেটে ৯টি এবং ময়মনসিংহে ৩টি কেন্দ্র রয়েছে।
ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার
ঢাবিতে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ২ তদন্ত কমিটি গঠন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের এক শিক্ষার্থীর ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। উদ্ভূত ঘটনা তদন্তে দুটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে শান্ত ও সংযত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাত সোয়া ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের উপপরিচালক ফররুখ মাহমুদের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রথম কমিটি সলিমুল্লাহ মুসলিম হলকেন্দ্রিক ঘটনায় গঠন করা হয়েছে। হলের আবাসিক শিক্ষক ড. মো. আনোয়ার হোসেনকে আহ্বায়ক এবং আবাসিক শিক্ষক জাওয়াদ ইবনে ফরিদকে সদস্য সচিব করে তিন সদস্যের এ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্য হিসেবে রয়েছেন আইসিটি বিশেষজ্ঞ ও সহকারী প্রক্টর ড. মোসাদ্দেক খান।
তদন্ত কমিটি ইতোমধ্যে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে এবং আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কমিটিকে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছে।
ক্যাম্পাসের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বৃহস্পতিবার রাতে প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির একটি জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় হলের সৌন্দর্য ও পরিবেশ রক্ষায় হলের অভ্যন্তরে সব ধরনের দেয়াল লিখন ও গ্রাফিতি অঙ্কন থেকে বিরত থাকতে শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
এদিকে শাহবাগ থানায় শিক্ষার্থীদের ওপর আক্রমণের ঘটনা তদন্তে সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুব কায়সারকে আহ্বায়ক করে ৬ সদস্যের আরও একটি পৃথক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, বিষয়টি যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হবে। আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়ে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষায় পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহনশীলতা প্রদর্শনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার
বাংলাদেশ ও কোরিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে একাডেমিক সহযোগিতার অঙ্গীকার
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রথম সুঙসিল বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশের অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে একাডেমিক সহযোগিতা জোরদারের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন উভয় প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্তৃপক্ষ।
সোমবার (২০ এপ্রিল) সিউলে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান শামসুল আলম লিটন এবং সুঙসিল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট (ভাইস-চ্যান্সেলর) ড. ইয়ুনজাই লীর নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলের মধ্যে এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় সুঙসিল বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক বিষয়ক দপ্তর এর পরিচালক ইয়ং জিন আহন উপস্থিত ছিলেন।
আরো উপস্থিত ছিলেন কোরিয়ায় বাংলাদেশের অতীশ দীপঙ্কর বিশ্ববিদ্যালয়ের কৌশলগত সহযোগী সোল গেটওয়ে কর্পোরেশনের প্রেসিডেন্ট ড. মুন জে-কিউন, এজেন্সি ফর ডিফেন্স ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকো এর ডিরেক্টর ড. লি ওন-হি, এসএমই এআই ইনোভেশন ফোরাম এর প্রেসিডেন্ট এবং সোল গেটওয়ে কর্পোরেশনের অ্যাডভাইজর ড. হোয়াং জে-কিউ, ব্যাংকো এর প্রেসিডেন্ট জাং মিন-সিওক।
বৈঠকে উভয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে শিক্ষার্থী ও শিক্ষক বিনিময় কর্মসূচি, যৌথ গবেষণা উদ্যোগ এবং প্রযুক্তিনির্ভর উচ্চশিক্ষা সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি পারস্পরিক একাডেমিক সম্পর্ককে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে দ্রুত একটি দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতা চুক্তি (এমওইউ) স্বাক্ষরের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
এ সময় সুঙসিল বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ডিন ড. জংমিন শন এবং গ্লোবাল ফিউচার এডুকেশন ইনস্টিটিউটের পরিচালক গো ডং উহানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, সুঙসিল বিশ্ববিদ্যালয় ১৮৯৭ সালে পিয়ংইয়ংয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং কোরিয় যুদ্ধের পর সিউলে স্থানান্তরিত হয়। এটি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রথম আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে স্বীকৃত। অন্যদিকে, অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং ভবিষ্যৎমুখী দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে।
মঙ্গলবার অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান শামসুল আলম লিটন সিউলে বেসরকারি খাতে দক্ষতা উন্নয়নমূলক একটি শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান ‘স্পার্কস’ পরিদর্শন করেন।
প্রতিষ্ঠানটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবোটিক্স এবং আধুনিক প্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণদের হাইটেক শিল্পে কর্মসংস্থানের উপযোগী করে গড়ে তুলছে এবং ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে।
পরিদর্শনকালে বাংলাদেশে দক্ষতা উন্নয়ন খাতে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে পারস্পরিক আগ্রহ প্রকাশ করা হয়। উভয় পক্ষ ভবিষ্যতে এ সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার
গাকৃবিতে আন্তর্জাতিক সিবিআই কোর্স অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগে সভা অনুষ্ঠিত
উচ্চশিক্ষাকে আরও বাস্তবমুখী, যুগোপযোগী ও আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার লক্ষ্যে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (গাকুবি)-এ সেন্টার ফর এগ্রিকালচার অ্যান্ড বায়োসায়েন্সেস ইন্টারন্যাশনাল (সিবিআই) একাডেমির কোর্সসমূহকে শিক্ষাক্রমে অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিল সভাকক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞানে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব সমস্যার সমাধানমুখী, দক্ষ ও মানবিক পেশাজীবী হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। সিবিআই একাডেমির কোর্সগুলো আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন কনটেন্ট, সমস্যা-ভিত্তিক শিক্ষা, অনলাইন লার্নিং সুবিধা এবং স্বীকৃত সার্টিফিকেট প্রদানের মাধ্যমে কৃষি ও পরিবেশ খাতে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান। উপস্থিত ছিলেন প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. এম. ময়নুল হক, সিবিআই বাংলাদেশের কান্ট্রি প্রতিনিধি ড. মো. সালেহ আহমেদ এবং সিবিআই-এর ডিজিটাল টুলস ইউজের গ্লোবাল লিড ড. মালভিকা চৌধুরীসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
সভায় ড. সালেহ আহমেদ সিবিআই-এর বৈশ্বিক কার্যক্রমের গুরুত্ব তুলে ধরেন। ড. মালভিকা চৌধুরী ডিজিটাল লার্নিং কোর্স নিয়ে একটি তথ্যবহুল উপস্থাপনা দেন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাফল্য ও অর্জন নিয়ে ডকুমেন্টারি উপস্থাপন করেন ড. মো. মাহবুবুর রহমান।
উন্মুক্ত আলোচনায় সিবিআই-এর আধুনিক ও গবেষণাভিত্তিক কোর্সসমূহ গাকুবির কারিকুলামে অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে নীতিগত সম্মতি প্রদান করা হয়। পাশাপাশি গাকুবির ডিজিটাল হার্বেরিয়ামকে সিবিআই-এর সঙ্গে সংযুক্ত করা এবং যৌথ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনার বিষয়েও আগ্রহ প্রকাশ করা হয়।
সভাপতির বক্তব্যে ভাইস-চ্যান্সেলর বলেন, “বর্তমান বিশ্বে শুধু ডিগ্রি নয়, প্রয়োজন বাস্তব দক্ষতা ও উদ্ভাবনী চিন্তাশক্তি। সিবিআই-এর মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় শিক্ষার্থীদের সেই সক্ষমতা অর্জনে সহায়তা করবে এবং দেশের কৃষি ও পরিবেশ খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।”
উল্লেখ্য, সিবিআই একটি আন্তর্জাতিক ও আন্তঃসরকারি সংস্থা, যা তথ্যভিত্তিক জ্ঞান ও বৈজ্ঞানিক দক্ষতার সৃজনশীল প্রয়োগের মাধ্যমে কৃষি ও পরিবেশের জটিল সমস্যার টেকসই সমাধান নিয়ে কাজ করে।




