আন্তর্জাতিক
ইরান যুদ্ধ বন্ধের পক্ষে ৯২ শতাংশ মার্কিন নাগরিক
ইরানের ওপর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যৌথভাবে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল। এই হামলায় দেশটির সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ খামেনিসহ শীর্ষ পর্যায়ের অনেকে নিহত হন। এর পর থেকেই পালটাপালটি হামলা অব্যাহত রয়েছে।
ইরান যুদ্ধ যত দ্রুত সম্ভব শেষ করার পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের ৯২ শতাংশ নাগরিক। শুধু সমর্থনই নয়, তারা বিষয়টি জরুরি মনে করেন।
সিবিএস নিউজ ও ইউগভের নতুন জরিপ থেকে এই মতামত জানা গেছে। গত ১৭ থেকে ২০ মার্চ পর্যন্ত অনলাইনে জরিপটি পরিচালনা করা হয়েছে। এতে ৩ হাজার ৩৩৫ প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিক মতামত দিয়েছেন।
জরিপে অংশ নেওয়াদের ৮০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ইরানের জনগণের নিরাপত্তা, ৭৩ শতাংশ ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ এবং ৬৮ শতাংশ অন্য দেশের বিরুদ্ধে ইরানের হুমকি বন্ধের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
অপরদিকে ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন নিয়ে মার্কিন জনমত বিভক্ত। ৪৯ শতাংশ মানুষ ইরানপন্থি নেতৃত্ব চান, অন্যদিকে ৫১ শতাংশ এর প্রয়োজনীয়তা দেখছেন না।
দুই-তৃতীয়াংশ নাগরিক মনে করেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ যতটা না প্রয়োজন ছিল, তার চেয়ে বেশি ইচ্ছাকৃত।
এ ছাড়া জরিপে অংশগ্রহণকারী ৬০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছেন, যা চলতি মাসের শুরুতে ছিল ৫৬ শতাংশ। প্রায় ৬৮ শতাংশ মানুষ মনে করেন, ট্রাম্প প্রশাসন এই যুদ্ধের লক্ষ্য স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেনি। এ ছাড়া ৫৭ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, যুদ্ধ আমেরিকার জন্য খারাপ দিকে যাচ্ছে। সব মিলিয়ে ৬৬ শতাংশ মানুষ এটাকে ‘ইচ্ছাকৃত যুদ্ধ’ এবং ৩৪ শতাংশ ‘প্রয়োজনীয় যুদ্ধ’ বলে মনে করেন।
আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশিদের জন্য অভিবাসী ভিসা স্থগিতের ব্যাখ্যা দিল মার্কিন দূতাবাস
বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা প্রদান স্থগিত করার ব্যাখ্যা দিয়েছে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস। সোমবার (২৩ মার্চ) মার্কিন দূতাবাস এক বার্তায় এর ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।
বার্তায় বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কল্যাণ সুবিধা ব্যবহারের হার বেশি হওয়ার কারণে বাংলাদেশিদের জন্য এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বার্তায় জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রের করদাতাদের প্রতি আমাদের দায়িত্ব হলো অভিবাসীরা যাতে অবৈধভাবে সরকারি কল্যাণমূলক সুবিধা গ্রহণ না করেন বা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর সরকারি সহায়তার বোঝা হয়ে না দাঁড়ান, তা নিশ্চিত করা।
যেসব দেশের নাগরিকদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কল্যাণ সুবিধা ব্যবহারের হার বেশি, সেই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা প্রদান স্থগিত করেছে সংশ্লিষ্ট ডিপার্টমেন্ট।
এই স্থগিতাদেশের ফলে আমাদের যাচাই ও বাছাই নীতিমালা ও প্রক্রিয়াগুলোর পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা করার সময় মিলবে, যাতে সেগুলো আমেরিকানদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয়। এই স্থগিতাদেশ অনভিবাসী ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়, যার মধ্যে পর্যটক বা শিক্ষার্থীদের ভিসাও অন্তর্ভুক্ত।
আন্তর্জাতিক
সব ধরনের ভিসা ফি বাড়াল যুক্তরাজ্য
সব ধরনের ভিসা ফি বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য। একই সঙ্গে নাগরিকত্ব আবেদন ফিও বাড়ানো হচ্ছে। আগামী ৮ এপ্রিল থেকে নতুন ফি কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
দ্য ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদনে জানা গেছে, নতুন হার অনুযায়ী, ৬ মাস পর্যন্ত ভিজিট ভিসার ফি ৬ পাউন্ড বাড়িয়ে ১৩৫ পাউন্ড করা হয়েছে।
২ বছর মেয়াদি ভিজিট ভিসা ৩১ পাউন্ড বৃদ্ধি পেয়ে ৫০৬ পাউন্ড, ৫ বছর মেয়াদি ভিসা ৫৫ পাউন্ড বাড়িয়ে ৯০৩ পাউন্ড এবং ১০ বছর মেয়াদি ভিসা ৬৯ পাউন্ড বাড়িয়ে ১ হাজার ১২৮ পাউন্ড নির্ধারণ করা হচ্ছে।
একাডেমিক কাজে ৬ থেকে ১২ মাসের ভিজিট ভিসার ফি ১৪ পাউন্ড বাড়িয়ে ২৩৪ পাউন্ড করা হয়েছে। একই হারে বেড়েছে বেসরকারি চিকিৎসা ভিসার খরচও।
ট্রানজিট ভিসার ক্ষেত্রেও ফি বাড়ছে- বিমানবন্দরের ট্রানজিট ভিসা আড়াই পাউন্ড এবং স্থল সীমান্তের ট্রানজিট ভিসা সাড়ে ৪ পাউন্ড বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এ ছাড়া ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন (ইটিএ) ফি ৪ পাউন্ড বাড়ানো হয়েছে।
নিজ দেশে নির্যাতনের শিকার হয়ে যুক্তরাজ্যে আশ্রয়ের জন্য আবেদনকারীদের ভিসা ফি ১৯৭ পাউন্ড পর্যন্ত বাড়ছে।
বিদেশ থেকে দক্ষ কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে (স্পন্সরশিপ) ৩ বছর পর্যন্ত কাজের জন্য ফি ৫০ পাউন্ড এবং ৩ বছরের বেশি হলে ৯৯ পাউন্ড বৃদ্ধি পাবে। স্বাস্থ্য খাতে দক্ষ কর্মীদের জন্য এই বৃদ্ধি যথাক্রমে ২০ পাউন্ড এবং ৩৮ পাউন্ড।
সিজনাল ওয়ার্কারদের আবেদন ফি বাড়ছে ২১ পাউন্ড।
স্টুডেন্ট ভিসার ক্ষেত্রে আবেদনকারী ও তাদের নির্ভরশীলদের জন্য ফি ৩৪ পাউন্ড বাড়িয়ে ৫৫৮ পাউন্ড করা হয়েছে।
এ ছাড়া যুক্তরাজ্যের ভেতরে দক্ষ কর্মীদের স্পন্সরশিপ আবেদনের ক্ষেত্রে ৩ বছর পর্যন্ত কাজের জন্য ফি ৫৮ পাউন্ড এবং ৩ বছরের বেশি হলে ১১৪ পাউন্ড বাড়ছে। ভিজিটর ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন ফিও ৭২ পাউন্ড বৃদ্ধি পাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক
৬ শর্তে ইরানের সঙ্গে আলোচনা করবে যুক্তরাষ্ট্র
সপ্তাহে পদার্পণ করা ইরান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ছয়টি কঠোর শর্তে আলোচনার প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করেছেন। যদিও ট্রাম্প সম্প্রতি সামরিক অভিযান গুটিয়ে আনার ইঙ্গিত দিয়েছেন, তবে হোয়াইট হাউস প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো বলছে যে যুদ্ধের পরবর্তী ধাপ এবং সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির রূপরেখা নিয়ে ইতিমধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা শুরু হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস নিউজ জানিয়েছে, ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনার এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মূল কারিগর হিসেবে কাজ করছেন। ইরান যুদ্ধের সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার রূপরেখা চূড়ান্ত করছে ট্রাম্পের প্রতিনিধি দল।
টানা তিন সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন পরবর্তী ধাপ অর্থাৎ ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করেছে। মার্কিন প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের বরাত দিয়ে এক্সিওস জানিয়েছে, শুক্রবার (২০ মার্চ) প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুদ্ধ ‘গুটিয়ে আনার’ ইঙ্গিত দিলেও মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা, আরও অন্তত দুই থেকে তিন সপ্তাহ লড়াই চলতে পারে। এই অন্তর্বর্তী সময়েই ট্রাম্পের উপদেষ্টারা কূটনীতির প্রাথমিক ভিত্তি তৈরি করতে চাইছেন। এই আলোচনা প্রক্রিয়ায় ট্রাম্পের বিশেষ দূত জ্যারেড কুশনার এবং স্টিভ উইটকফ সরাসরি সম্পৃক্ত রয়েছেন বলে জানা গেছে।
যেকোনো শান্তি চুক্তির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র কতগুলো কঠোর শর্তারোপ করতে যাচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং ইরানের উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ সংক্রান্ত সংকটের স্থায়ী সমাধান।
এছাড়া ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন বন্ধের বিষয়ে একটি দীর্ঘমেয়াদী চুক্তিতে পৌঁছানোকেও অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। যদিও সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি কোনো যোগাযোগ হয়নি, তবে মিসর, কাতার এবং যুক্তরাজ্য উভয় পক্ষের মধ্যে বার্তার আদান-প্রদান করছে। মিসর ও কাতার ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে জানিয়েছে যে ইরান আলোচনায় আগ্রহী, তবে তাদের শর্তগুলো বেশ কঠিন।
ইরানের পক্ষ থেকে প্রধানত তিনটি দাবি তোলা হয়েছে—অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি, ভবিষ্যতে পুনরায় আক্রমণ হবে না এমন গ্যারান্টি এবং যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ প্রদান। অন্যদিকে, মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা ইরান আলোচনার টেবিলে আসতে বাধ্য হবে কারণ এই যুদ্ধে তাদের শক্তি অনেকটাই খর্ব হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছ থেকে ছয়টি সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি চাইছে, যার মধ্যে রয়েছে আগামী পাঁচ বছর কোনো ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি না রাখা, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা এবং গত বছর বোমা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত নাতাঞ্জ, ইসফাহান ও ফোরডো পারমাণবিক স্থাপনাগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া। এছাড়া হিজবুল্লাহ, হুথি বা হামাসের মতো প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে অর্থায়ন বন্ধের শর্তও দেওয়া হয়েছে।
বাস্তবতা হলো, ইরান অতীতেও এই ধরনের অনেক দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে এবং তেহরানের নেতারা এমন একজন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনায় বসতে দ্বিধাবোধ করছেন যিনি আলোচনার মাঝপথেই হঠাৎ বোমা হামলার নির্দেশ দেন। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি শনিবার তার ভারতীয় প্রতিপক্ষকে জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী স্বাভাবিক করতে হলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে হামলা বন্ধ করতে হবে এবং ভবিষ্যতে আক্রমণের পুনরাবৃত্তি না করার অঙ্গীকার করতে হবে।
ট্রাম্প আপাতত যুদ্ধবিরতির দাবিতে রাজি নন এবং ক্ষতিপূরণের দাবিকে তিনি আলোচনার অযোগ্য বলে মনে করছেন। তবে জব্দকৃত সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে ‘শব্দগত পরিবর্তনের’ মাধ্যমে একটি মধ্যপন্থা খুঁজে বের করার সুযোগ রয়েছে বলে কিছু মার্কিন কর্মকর্তা মনে করছেন।
বর্তমানে ট্রাম্পের প্রতিনিধি দল দুটি মূল প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে—ইরানের পক্ষ থেকে আলোচনার জন্য যোগ্য ব্যক্তি কে এবং কোন দেশ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সবচেয়ে ভালো হবে। আরাঘচিকে ট্রাম্পের উপদেষ্টারা কেবল একটি ‘ফ্যাক্স মেশিন’ হিসেবে দেখছেন, যার হাতে কোনো চুক্তি চূড়ান্ত করার ক্ষমতা নেই। তারা এমন কাউকে খুঁজছেন যিনি ইরানের নীতি নির্ধারণে প্রকৃত ভূমিকা রাখেন।
মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ওমানের ওপর অনাস্থা থাকায় যুক্তরাষ্ট্র কাতারের ওপর নির্ভর করতে চাইছে, কারণ গাজা সংকটে কাতার তাদের কার্যকারিতা প্রমাণ করেছে। কাতার পর্দার আড়ালে সাহায্য করতে আগ্রহী হলেও মূল মধ্যস্থতাকারী হিসেবে প্রকাশ্যে আসতে কিছুটা দ্বিধাগ্রস্ত। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এই কূটনৈতিক তৎপরতা নতুন মোড় নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক
ইরান যুদ্ধ মোকাবিলায় জরুরি ‘কোবরা’ বৈঠক ডেকেছেন স্টারমার
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে ব্রিটিশ অর্থনীতির ওপর সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আজ সোমবার এক বিশেষ জরুরি বৈঠক ডেকেছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার।
দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘কোবরা’ নামের এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে চ্যান্সেলর অব দ্য এক্সচেকার র্যাচেল রিভস এবং ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের গভর্নর অ্যান্ড্রু বেইলি উপস্থিত থাকবেন।
মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ব্রিটিশ অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সাধারণ পরিবার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর যুদ্ধের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব এবং জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য।
উদ্ভূত পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার এবং জ্বালানিমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডও অংশ নেবেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। ইরান ইতিমধ্যে হুঁশিয়ারি দিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার অজুহাতে দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালান, তবে তারা প্রতিবেশী দেশগুলোর জ্বালানি ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় পাল্টা আঘাত হানবে।
এই হুমকির ফলে আন্তর্জাতিক আর্থিক বাজারগুলো এক চরম অস্থিরতার মুখোমুখি হয়েছে, যা যুক্তরাজ্যের আমদানি করা প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর অত্যধিক নির্ভরতা এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে দেশটিকে আরও ঝুঁকিতে ফেলেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় ব্রিটিশ সরকারি বন্ডের দর দ্রুত কমতে থাকায় লন্ডনের নীতিনির্ধারকরা বেশ উদ্বেগের সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।
চ্যান্সেলর র্যাচেল রিভস জানিয়েছেন যে, ব্রিটিশ অর্থনীতির ওপর এই যুদ্ধের সুনির্দিষ্ট প্রভাব এখনই নিশ্চিত করে বলা কঠিন। যদিও সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে বড় ধরনের সাশ্রয়ী ব্যবস্থার দাবি উঠেছে, তবে তিনি আপাতত তা নাকচ করে দিয়েছেন।
রিভস স্পষ্ট করেছেন, সরকার ঢালাও কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে বরং সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক কিছু সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে। আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া এবং সরবরাহ ব্যবস্থার সক্ষমতা যাচাইয়ের পাশাপাশি শিল্প খাতের সুরক্ষা নিয়েও ‘কোবরা’ বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হবে। ব্রিটিশ প্রশাসন মূলত এই যুদ্ধের কারণে উদ্ভূত হতে যাওয়া সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদী মন্দা ও জ্বালানি ঘাটতি রুখতে একটি কার্যকর কৌশল প্রণয়নের চেষ্টা করছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি বর্তমানে এক নাজুক সময় পার করছে এবং ইরান যুদ্ধের বিস্তৃতি ঘটলে দেশটির কোষাগারের ওপর চাপ আরও বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে লোহিত সাগর ও পারস্য উপসাগরের বাণিজ্য পথগুলো ঝুঁকির মুখে পড়লে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার তাঁর মন্ত্রিসভার জ্যেষ্ঠ সদস্যদের নিয়ে এই সংকটকালীন পরিস্থিতিতে দেশের সার্বভৌম অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন। আজকের এই বৈঠকের সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করেই আগামী দিনগুলোতে যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ বাজার নিয়ন্ত্রণ ও জ্বালানি আমদানির নতুন নীতিমালা নির্ধারিত হতে পারে।
আন্তর্জাতিক
এশিয়ার শেয়ারবাজারে বড় ধস
ইরান ও আমেরিকার মধ্যে চলমান যুদ্ধের তীব্রতা চতুর্থ সপ্তাহে পড়েছে। এর সরাসরি প্রভাবে এশিয়ার প্রধান শেয়ারবাজারগুলোতে ব্যাপক দরপতন দেখা যাচ্ছে।
সোমবার (২৩ মার্চ) লেনদেন শুরু হতেই এর প্রভাব দেখা যায়। খবর আল জাজিরার।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাপানের প্রধান সূচক নিক্কেই ২২৫-এর মান ৩ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি সূচকে প্রায় ৫ শতাংশ ধস নেমেছে। মূলত হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ থাকায় এই দুই দেশ জ্বালানি আমদানিতে সবচেয়ে বেশি সংকটের মুখে পড়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এই জলপথ খুলে দেওয়ার আলটিমেটাম দিয়ে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর থেকেই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সির (আইইএ) প্রধান ফাতিহ বিরল সতর্ক করেছেন, এই যুদ্ধ বিশ্বকে গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ জ্বালানি সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
এশীয় অঞ্চলের অন্যান্য বাজারেও সোমবার নিম্নমুখী প্রবণতা ছিল অত্যন্ত স্পষ্ট। হংকংয়ের শেয়ারবাজারে ২ দশমিক ৫ শতাংশ, তাইওয়ানে ২ শতাংশ এবং সাংহাই কম্পোজিট সূচকে ২ দশমিক ৩ শতাংশ দরপতন রেকর্ড করা হয়েছে। এ ছাড়া সিঙ্গাপুর, ফিলিপাইন ও থাইল্যান্ডের বাজারগুলোতেও ২ শতাংশের বেশি পতন লক্ষ্য করা গেছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি সামরিক উত্তেজনা প্রশমিত না হয় তবে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার পাশাপাশি শেয়ারবাজারের এই অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।



