সারাদেশ
সেচ সুবিধা নিশ্চিত করে কৃষি উৎপাদন বাড়ানো হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী
সেচ সুবিধা নিশ্চিত করার মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বাড়াতে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বিকেলে সিলেট সদর উপজেলায় ‘জাঙ্গাইল সুরমা নদী হতে বলাউরা জিলকার হাওড় পর্যন্ত বংশীখাল খনন’ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, সিলেট অঞ্চলের অনেক কৃষিজমি শুকনো মৌসুমে সেচের পানির অভাবে অতিরিক্ত ফসল উৎপাদন থেকে বঞ্চিত হয়। এই সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে জাঙ্গাইল থেকে বলাউরা পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের বংশীখাল খনন করা হবে।
তিনি জানান, খালটি খনন সম্পন্ন হলে প্রায় ৬ হাজার হেক্টর কৃষিজমি সেচ সুবিধার আওতায় আসবে। এর ফলে কৃষকরা অতিরিক্ত ফসল উৎপাদনের সুযোগ পাবেন, তাদের আয় বৃদ্ধি পাবে এবং দেশের খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, নবনির্বাচিত সরকার জনগণের কাছে দেওয়া নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সরকার দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ২১ দিনের মধ্যেই বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন স্থানে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় জনগণের সামনে যে উন্নয়ন পরিকল্পনাগুলো উপস্থাপন করা হয়েছে, সেগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। এর মাধ্যমে সিলেটসহ সারা দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে যাবে সরকার।
পরে বাণিজ্যমন্ত্রী বংশীখাল খনন কাজের উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সরওয়ার আলম, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোশনূর রুবাইয়াত এবং সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাশেমসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
এমএন
সারাদেশ
ফারুক সরকারের কুলখানিতে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল
শরীয়তপুরের উত্তর তারাবুনিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ ইউনুস সরকারের ছোট ভাই মরহুম ফারুক সরকারের কুলখানি উপলক্ষে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
কুলখানি উপলক্ষে প্রায় ১৫ হাজার মানুষের জন্য খাবারের আয়োজন করা হয়। খাবার পরিবেশনের আগে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল ও কবর জিয়ারত অনুষ্ঠিত হয়।
দোয়া পরিচালনা করেন তারাবুনিয়া দরবার শরীফের পীর সাহেব মাওলানা আবু সালেহ। কবর জিয়ারত করেন গোরীপুর আমিরাবাদ শাজলিয়া দরবার শরীফের পীরজাদা মাওলানা মিজানুর রহমান।
অনুষ্ঠানে প্রায় ২০০ জন হাফেজ, আলেম-ওলামা অংশ নেন এবং মরহুমের আত্মার শান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাতে শরিক হন।
এ ছাড়া স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুল সংখ্যক মানুষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের পাশাপাশি হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণও লক্ষ্য করা যায়, যা এলাকায় সামাজিক সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
সারাদেশ
পদ্মায় ধরা দুই কাতলের দাম ৮৮ হাজার টাকা
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার পদ্মা নদীতে ধরা পড়া দুটি বিশাল আকারের কাতল মাছ ৮৮ হাজার ১৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। মাছ দুটি দেখতে দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় উৎসুক জনতার ভীড়।
মাছ ব্যবসায়ী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার দিবাগত রাতে পদ্মা-যমুনার মোহনায় মাছ ধরতে যান জেলে জীবন হালদার ও গফুর প্রামাণিক। তারা পৃথকভাবে জাল ফেলেন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর ভোরের দিকে তাদের জালে ধরা পড়ে দুটি বড় কাতল মাছ। এর মধ্যে জীবন হালদারের জালে ওঠে ১৯ কেজি ৫০০ গ্রাম ওজনের একটি কাতল এবং গফুর প্রামাণিকের জালে ধরা পড়ে ২৫ কেজি ওজনের আরেকটি কাতল।
রোববার সকালে জীবন হালদার মাছটি বিক্রির জন্য দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের রেজাউল মন্ডলের আড়তে নিয়ে আসেন। সেখানে মাছটি দেখতে ভিড় করেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের বড় মাছ এখন খুব কম দেখা যায়।
সপ্তাহ ধরে পদ্মায় বড় আকারের কাতল মাছ ধরা পড়ার প্রবণতা কিছুটা বেড়েছে বলেও তারা জানান।
পরে উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে ১৯ কেজি ৫০০ গ্রাম ওজনের মাছটি বিক্রি করা হয়। দৌলতদিয়া ৫ নম্বর ফেরিঘাটের মৎস্য ব্যবসায়ী সম্রাট শাহজাহান শেখ সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে প্রতি কেজি ১ হাজার ৬০০ টাকা দরে মাছটি ৩১ হাজার ২০০ টাকায় ক্রয় করেন।
অপরদিকে, ২৫ কেজি ওজনের কাতলটি তিনি সরাসরি জেলের কাছ থেকে প্রতি কেজি ২ হাজার ১০০ টাকা দরে ৫২ হাজার ৫০০ টাকায় কিনে নেন।
পরে দুপুরের দিকে সিলেটের এক অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী তার কাছ থেকে ৮৮ হাজার ১৫০ টাকা দিয়ে মাছ দুটি ক্রয় করেন।
এ বিষয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আনোয়ারুল ইসলাম পাইলট বলেন, ইলিশ আহরণে মৌসুমি নিষেধাজ্ঞা চলায় নদীতে অন্যান্য প্রজাতির মাছ বাড়ার সুযোগ পাচ্ছে। ফলে কাতল, রুই, বোয়াল ও বাগাড়সহ বড় মাছ বেশি ধরা পড়ছে।
সারাদেশ
গাজীপুরে অস্ত্রের মুখে অপহৃত মাদ্রাসাছাত্রী উদ্ধার
শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে উপজেলার এমসি বাজার এলাকা থেকে ওই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করা হয়। এর আগে গত ১৪ এপ্রিল সকালে ওই ছাত্রীকে অপহরণ করা হয়েছিল বলে থানায় করা মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, একই এলাকার আবিদ (২১) নামে এক যুবক দীর্ঘ দিন ধরে ১৬ বছর বয়সি ওই ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল এবং বিভিন্ন সময় কুপ্রস্তাব ও অপহরণের হুমকি দিত। গত ১৪ এপ্রিল সকালে মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে মাওনা ফায়ার সার্ভিস সংলগ্ন এলাকা থেকে সে ও তার সহযোগীরা প্রথমে ওই ছাত্রীকে অপহরণ করে। একই দিন তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে আনা হয়।
ভুক্তভোগীর বাবা হাদিউল ইসলাম জানান, মেয়েকে প্রথমে উদ্ধার করা হলেও ওই দিন বেলা ১১টার দিকে বিষয়টি নিয়ে সালিশ বৈঠক বসে। এ সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আবিদ ও তার সহযোগীরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে অতর্কিতভাবে তাদের বাড়িতে হামলা চালায়। তারা ঘরের দরজা ভেঙে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে এবং ওই ছাত্রীকে পুনরায় জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। এ সময় মারধর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রতিবেশী জানান, এটি মূলত একটি প্রেমের বিষয়। ছেলে ও মেয়ে এক থাকলেও দুই পরিবারের কারণে বিষয়টি জটিল হয়েছে। তাই আইনি জটিলতা কমানোর জন্য মেয়েটি নিজেই পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে।
তবে শ্রীপুর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) সঞ্জয় সাহা বলেন, ‘শনিবার সকালে উপজেলার এমসি বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করা হয়েছে। পরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে পুলিশের অভিযান চলছে।’
সারাদেশ
টানা ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতকাজের জন্য আজ শনিবার সিলেট মহানগরের কয়েকটি এলাকায় টানা আট ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না।
সিলেট বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রাজ্জাক স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, ১১ কেভি ফিডারের আওতাধীন এলাকায় ট্রান্সফরমার মেরামত, সঞ্চালন লাইনের উন্নয়ন এবং জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ মেরামতকাজ পরিচালনার জন্য শনিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হবে।
বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকা
চালিবন্দর, কাষ্টঘর, সোবহানীঘাট, বিশ্বরোড, জেল রোড, বন্দরবাজার, আমজাদ আলী রোড, কালীঘাট, ছড়ারপার, মাছিমপুর, মহাজনপট্টি, হকার্স মার্কেট, লালদীঘির পাড়, ডাকবাংলা রোড, বুরহান উদ্দিন মাজার এলাকা, শাপলাবাগ, কুশিঘাট, মেন্দিবাগ, মিরাপাড়া, নোয়াগাঁও, সাদাটিকর, মিরেরচক, মুক্তিরচক, মুরাদপুর, টুলটিকর ও পীরেরচক।
নির্ধারিত সময়ের আগেই কাজ শেষ হলে তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় চালু করা হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। সাময়িক এই অসুবিধার জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রাজ্জাক।
সারাদেশ
শরীয়তপুরে নিজের কিডনি দিয়ে স্ত্রীর জীবন বাঁচালেন স্বামী
শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলায় স্ত্রীর জীবন বাঁচাতে নিজের একটি কিডনি দান করে মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন জসিম উদ্দিন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কুচাইপট্টি ইউনিয়নের বসকাঠি গ্রামের বাসিন্দা জসিম উদ্দিনের স্ত্রী মিনারা বেগম (৩২) প্রায় দুই বছর ধরে উচ্চ রক্তচাপসহ নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। চিকিৎসকদের পরামর্শে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা যায়, তার দুটি কিডনিই বিকল হয়ে গেছে। পাশাপাশি তার পেটের ভেতরে একটি টিউমারও ধরা পড়ে।
পরবর্তীতে মিনারা বেগমকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসার মাধ্যমে টিউমারের সমস্যা সমাধান হলেও কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ ও উপযুক্ত দাতা না থাকায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়ে।
একপর্যায়ে মিনারার মা কিডনি দিতে সম্মতি দিলেও স্বাস্থ্যগত জটিলতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। এ অবস্থায় স্ত্রীর জীবন বাঁচাতে এগিয়ে আসেন স্বামী জসিম উদ্দিন (৩৬)। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে গত ৫ মার্চ ঢাকার শ্যামলীর একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে সফলভাবে তার একটি কিডনি মিনারা বেগমের শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়।
অস্ত্রোপচারের পর বর্তমানে মিনারা বেগম ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন। তিনি স্বামী ও সন্তানকে নিয়ে ঢাকায় অবস্থান করছেন এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০০৭ সালে জসিম উদ্দিন ও মিনারা বেগমের বিয়ে হয়। তাদের একমাত্র সন্তান তামিম আল মারুফ বর্তমানে নবম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় চাকরি করে সংসার চালিয়ে আসছিলেন জসিম উদ্দিন।
মিনারা বেগম বলেন, আমার অসুস্থতার সময় আমরা ভীষণ দুশ্চিন্তায় ছিলাম। মা কিডনি দিতে চাইলেও তা সম্ভব হয়নি। তখন আমার স্বামী নিজেই এগিয়ে আসে। আমি অনেকবার নিষেধ করেছি, কিন্তু সে শোনেনি। এখন আল্লাহর রহমতে আমরা দুজনেই ভালো আছি।
স্বামী জসিম উদ্দিন বলেন, স্ত্রীর এমন অবস্থায় কী করব বুঝতে পারছিলাম না। তখন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম—বাঁচলে একসঙ্গে বাঁচব, মরলেও একসঙ্গে মরব। নিজের ইচ্ছাতেই কিডনি দিয়েছি। স্ত্রীকে সুস্থ দেখতে পারাই আমার সবচেয়ে বড় পাওয়া।



