সারাদেশ
জঙ্গল সলিমপুরে যৌথবাহিনীর অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার, আটক ২২ জন
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর (ছিন্নমূল/আলীনগর) এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম, অবৈধ অস্ত্র মজুদ ও পাহাড় কেটে প্লট বিক্রি এবং অপরাধীদের আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে যৌথবাহিনী বিশেষ অভিযান চালিয়েছে। অভিযানে বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ এবং অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। বিভিন্ন পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে ২২ জনকে আটক করা হয়েছে।
সোমবার (৯ মার্চ) ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে বিভাগীয় আইনশৃঙ্খলা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ অভিযান পরিচালিত হয়। এই অভিযানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বাংলাদেশ পুলিশ, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি), র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব), বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), এপিবিএন ও আরআরএফসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মোট ৩ হাজার ১৮৩ সদস্য অংশ নেন। পাশাপাশি সাতজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভিযানে দায়িত্ব পালন করেন।
যৌথবাহিনীর বিশেষ অভিযান পরিচালনায় তিনটি হেলিকপ্টার, ১৫টি এপিসি, র্যাব ও সিএমপির তিনটি ডগ স্কোয়াড এবং ১২টি ড্রোন ব্যবহার করা হয়। আধুনিক প্রযুক্তি ও বিশেষ কৌশল প্রয়োগের মাধ্যমে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় একযোগে চিরুনি অভিযান পরিচালনা করেন যৌথবাহিনীর সদস্যরা।
অভিযানটি চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি (অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) মো. আহসান হাবীব পলাশ, বিপিএম-সেবা এর নেতৃত্বে পরিচালিত হয়। এ সময় র্যাব-৭ এর সিও লে. কর্ণেল মো. হাফিজুর রহমান, চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. নাজিমুল হক এবং চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খাঁন সরেজমিনে উপস্থিত থেকে সার্বিক অভিযান তদারকি ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
যৌথবাহিনীর বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে ২২ জনকে আটক করা হয়েছে। এ সময় যৌথ বাহিনী কর্তৃক তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র (একটি বিদেশি পিস্তল, একটি দেশীয় পিস্তল ও একটি এলজি), ২৭টি পাইপগান, ৩০টি পিস্তলের ম্যাগাজিন, ৫৭টি অস্ত্র তৈরির পাইপ, ৬১টি কার্তুজ এবং বিভিন্ন ধরনের ১ হাজার ১১৩ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ১১টি ককটেল, পাইপগান তৈরির লেদ মেশিনসহ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র তৈরির সরঞ্জামও জব্দ করা হয়েছে।
অভিযানে আরও উদ্ধার করা হয় ১৯টি সিসি ক্যামেরা, তিনটি ডিভিআর, একটি পাওয়ার বক্স এবং দুটি বাইনোকুলার। এসব সরঞ্জাম অপরাধীদের নজরদারি কার্যক্রমে ব্যবহৃত হতো বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
যৌথবাহিনী জানায়, আলীনগর এলাকার বিভিন্ন পাহাড়ে অবস্থিত সন্ত্রাসীদের আস্তানা ও অস্ত্র তৈরির কারখানাসহ অপরাধমূলক নেটওয়ার্ক ধ্বংস করা হয়েছে। পাশাপাশি আলীনগরের বিভিন্ন প্রবেশ পথ ও পাহাড়ের চূড়ায় স্থাপিত ওয়াচ টাওয়ারগুলো ভেঙে দেওয়া হয়েছে, যেগুলোর মাধ্যমে অপরাধীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করত।
অভিযান চলাকালে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি এবং সার্বিক পরিস্থিতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। উদ্ধারকৃত আলামত ও গ্রেফতাকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
অভিযান শেষে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জঙ্গল সলিমপুরে দুটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে এস এম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ক্যাম্পে জেলা পুলিশ ও এপিবিএনের ১৩০ জন সদস্য এবং আলীনগর উচ্চ বিদ্যালয় ক্যাম্পে আরআরএফ, এপিবিএন ও র্যাব-৭ এর ২৩০ জন সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
এছাড়া জঙ্গল সলিমপুরের বিভিন্ন এলাকায় অতিরিক্ত চেকপোস্ট ও পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযানের ফলে স্থানীয় জনসাধারণের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানিয়েছেন এবং যৌথবাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, এ অভিযানের মাধ্যমে এলাকায় সন্ত্রাসী তৎপরতা নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, অপরাধীদের নেটওয়ার্ক দুর্বল করা এবং দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি, স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আরও জানান, সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় সন্ত্রাস দমন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান ও নজরদারি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
এমএন
সারাদেশ
ফারুক সরকারের কুলখানিতে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল
শরীয়তপুরের উত্তর তারাবুনিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ ইউনুস সরকারের ছোট ভাই মরহুম ফারুক সরকারের কুলখানি উপলক্ষে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
কুলখানি উপলক্ষে প্রায় ১৫ হাজার মানুষের জন্য খাবারের আয়োজন করা হয়। খাবার পরিবেশনের আগে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল ও কবর জিয়ারত অনুষ্ঠিত হয়।
দোয়া পরিচালনা করেন তারাবুনিয়া দরবার শরীফের পীর সাহেব মাওলানা আবু সালেহ। কবর জিয়ারত করেন গোরীপুর আমিরাবাদ শাজলিয়া দরবার শরীফের পীরজাদা মাওলানা মিজানুর রহমান।
অনুষ্ঠানে প্রায় ২০০ জন হাফেজ, আলেম-ওলামা অংশ নেন এবং মরহুমের আত্মার শান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাতে শরিক হন।
এ ছাড়া স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুল সংখ্যক মানুষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের পাশাপাশি হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণও লক্ষ্য করা যায়, যা এলাকায় সামাজিক সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
সারাদেশ
পদ্মায় ধরা দুই কাতলের দাম ৮৮ হাজার টাকা
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার পদ্মা নদীতে ধরা পড়া দুটি বিশাল আকারের কাতল মাছ ৮৮ হাজার ১৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। মাছ দুটি দেখতে দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় উৎসুক জনতার ভীড়।
মাছ ব্যবসায়ী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার দিবাগত রাতে পদ্মা-যমুনার মোহনায় মাছ ধরতে যান জেলে জীবন হালদার ও গফুর প্রামাণিক। তারা পৃথকভাবে জাল ফেলেন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর ভোরের দিকে তাদের জালে ধরা পড়ে দুটি বড় কাতল মাছ। এর মধ্যে জীবন হালদারের জালে ওঠে ১৯ কেজি ৫০০ গ্রাম ওজনের একটি কাতল এবং গফুর প্রামাণিকের জালে ধরা পড়ে ২৫ কেজি ওজনের আরেকটি কাতল।
রোববার সকালে জীবন হালদার মাছটি বিক্রির জন্য দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের রেজাউল মন্ডলের আড়তে নিয়ে আসেন। সেখানে মাছটি দেখতে ভিড় করেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের বড় মাছ এখন খুব কম দেখা যায়।
সপ্তাহ ধরে পদ্মায় বড় আকারের কাতল মাছ ধরা পড়ার প্রবণতা কিছুটা বেড়েছে বলেও তারা জানান।
পরে উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে ১৯ কেজি ৫০০ গ্রাম ওজনের মাছটি বিক্রি করা হয়। দৌলতদিয়া ৫ নম্বর ফেরিঘাটের মৎস্য ব্যবসায়ী সম্রাট শাহজাহান শেখ সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে প্রতি কেজি ১ হাজার ৬০০ টাকা দরে মাছটি ৩১ হাজার ২০০ টাকায় ক্রয় করেন।
অপরদিকে, ২৫ কেজি ওজনের কাতলটি তিনি সরাসরি জেলের কাছ থেকে প্রতি কেজি ২ হাজার ১০০ টাকা দরে ৫২ হাজার ৫০০ টাকায় কিনে নেন।
পরে দুপুরের দিকে সিলেটের এক অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী তার কাছ থেকে ৮৮ হাজার ১৫০ টাকা দিয়ে মাছ দুটি ক্রয় করেন।
এ বিষয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আনোয়ারুল ইসলাম পাইলট বলেন, ইলিশ আহরণে মৌসুমি নিষেধাজ্ঞা চলায় নদীতে অন্যান্য প্রজাতির মাছ বাড়ার সুযোগ পাচ্ছে। ফলে কাতল, রুই, বোয়াল ও বাগাড়সহ বড় মাছ বেশি ধরা পড়ছে।
সারাদেশ
গাজীপুরে অস্ত্রের মুখে অপহৃত মাদ্রাসাছাত্রী উদ্ধার
শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে উপজেলার এমসি বাজার এলাকা থেকে ওই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করা হয়। এর আগে গত ১৪ এপ্রিল সকালে ওই ছাত্রীকে অপহরণ করা হয়েছিল বলে থানায় করা মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, একই এলাকার আবিদ (২১) নামে এক যুবক দীর্ঘ দিন ধরে ১৬ বছর বয়সি ওই ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল এবং বিভিন্ন সময় কুপ্রস্তাব ও অপহরণের হুমকি দিত। গত ১৪ এপ্রিল সকালে মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে মাওনা ফায়ার সার্ভিস সংলগ্ন এলাকা থেকে সে ও তার সহযোগীরা প্রথমে ওই ছাত্রীকে অপহরণ করে। একই দিন তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে আনা হয়।
ভুক্তভোগীর বাবা হাদিউল ইসলাম জানান, মেয়েকে প্রথমে উদ্ধার করা হলেও ওই দিন বেলা ১১টার দিকে বিষয়টি নিয়ে সালিশ বৈঠক বসে। এ সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আবিদ ও তার সহযোগীরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে অতর্কিতভাবে তাদের বাড়িতে হামলা চালায়। তারা ঘরের দরজা ভেঙে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে এবং ওই ছাত্রীকে পুনরায় জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। এ সময় মারধর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রতিবেশী জানান, এটি মূলত একটি প্রেমের বিষয়। ছেলে ও মেয়ে এক থাকলেও দুই পরিবারের কারণে বিষয়টি জটিল হয়েছে। তাই আইনি জটিলতা কমানোর জন্য মেয়েটি নিজেই পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে।
তবে শ্রীপুর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) সঞ্জয় সাহা বলেন, ‘শনিবার সকালে উপজেলার এমসি বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করা হয়েছে। পরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে পুলিশের অভিযান চলছে।’
সারাদেশ
টানা ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতকাজের জন্য আজ শনিবার সিলেট মহানগরের কয়েকটি এলাকায় টানা আট ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না।
সিলেট বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রাজ্জাক স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, ১১ কেভি ফিডারের আওতাধীন এলাকায় ট্রান্সফরমার মেরামত, সঞ্চালন লাইনের উন্নয়ন এবং জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ মেরামতকাজ পরিচালনার জন্য শনিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হবে।
বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকা
চালিবন্দর, কাষ্টঘর, সোবহানীঘাট, বিশ্বরোড, জেল রোড, বন্দরবাজার, আমজাদ আলী রোড, কালীঘাট, ছড়ারপার, মাছিমপুর, মহাজনপট্টি, হকার্স মার্কেট, লালদীঘির পাড়, ডাকবাংলা রোড, বুরহান উদ্দিন মাজার এলাকা, শাপলাবাগ, কুশিঘাট, মেন্দিবাগ, মিরাপাড়া, নোয়াগাঁও, সাদাটিকর, মিরেরচক, মুক্তিরচক, মুরাদপুর, টুলটিকর ও পীরেরচক।
নির্ধারিত সময়ের আগেই কাজ শেষ হলে তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় চালু করা হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। সাময়িক এই অসুবিধার জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রাজ্জাক।
সারাদেশ
শরীয়তপুরে নিজের কিডনি দিয়ে স্ত্রীর জীবন বাঁচালেন স্বামী
শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলায় স্ত্রীর জীবন বাঁচাতে নিজের একটি কিডনি দান করে মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন জসিম উদ্দিন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কুচাইপট্টি ইউনিয়নের বসকাঠি গ্রামের বাসিন্দা জসিম উদ্দিনের স্ত্রী মিনারা বেগম (৩২) প্রায় দুই বছর ধরে উচ্চ রক্তচাপসহ নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। চিকিৎসকদের পরামর্শে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা যায়, তার দুটি কিডনিই বিকল হয়ে গেছে। পাশাপাশি তার পেটের ভেতরে একটি টিউমারও ধরা পড়ে।
পরবর্তীতে মিনারা বেগমকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসার মাধ্যমে টিউমারের সমস্যা সমাধান হলেও কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ ও উপযুক্ত দাতা না থাকায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়ে।
একপর্যায়ে মিনারার মা কিডনি দিতে সম্মতি দিলেও স্বাস্থ্যগত জটিলতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। এ অবস্থায় স্ত্রীর জীবন বাঁচাতে এগিয়ে আসেন স্বামী জসিম উদ্দিন (৩৬)। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে গত ৫ মার্চ ঢাকার শ্যামলীর একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে সফলভাবে তার একটি কিডনি মিনারা বেগমের শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়।
অস্ত্রোপচারের পর বর্তমানে মিনারা বেগম ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন। তিনি স্বামী ও সন্তানকে নিয়ে ঢাকায় অবস্থান করছেন এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০০৭ সালে জসিম উদ্দিন ও মিনারা বেগমের বিয়ে হয়। তাদের একমাত্র সন্তান তামিম আল মারুফ বর্তমানে নবম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় চাকরি করে সংসার চালিয়ে আসছিলেন জসিম উদ্দিন।
মিনারা বেগম বলেন, আমার অসুস্থতার সময় আমরা ভীষণ দুশ্চিন্তায় ছিলাম। মা কিডনি দিতে চাইলেও তা সম্ভব হয়নি। তখন আমার স্বামী নিজেই এগিয়ে আসে। আমি অনেকবার নিষেধ করেছি, কিন্তু সে শোনেনি। এখন আল্লাহর রহমতে আমরা দুজনেই ভালো আছি।
স্বামী জসিম উদ্দিন বলেন, স্ত্রীর এমন অবস্থায় কী করব বুঝতে পারছিলাম না। তখন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম—বাঁচলে একসঙ্গে বাঁচব, মরলেও একসঙ্গে মরব। নিজের ইচ্ছাতেই কিডনি দিয়েছি। স্ত্রীকে সুস্থ দেখতে পারাই আমার সবচেয়ে বড় পাওয়া।



