জাতীয়
নারীপ্রধান পরিবারের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
স্বল্প আয়ের ও নারীপ্রধান পরিবারগুলোর আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই উদ্যোগে দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করল বর্তমান সরকার।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর বনানীর টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে (কড়াইল বস্তি সংলগ্ন) আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি এই ডিজিটাল কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
এ কর্মসূচির আওতায় প্রথম ধাপে দেশের ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারীপ্রধান পরিবার মাসিক ভাতা পাবেন।
সরকারের তথ্য অনুযায়ী, পাইলটিং কর্মসূচির আওতায় দেশের ১৩টি জেলার ১৩টি সিটি করপোরেশন বা ইউনিয়নের ১৫টি ওয়ার্ডে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রথম পর্যায়ে ৬৭ হাজার ৮৫৪টি নারীপ্রধান পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে ৪৭ হাজার ৭৭৭টি পরিবারের তথ্য সঠিক পাওয়া যায়।
এর মধ্যে ডাবল ডিপিং (একই ব্যক্তির একাধিক ভাতা গ্রহণ), সরকারি চাকরি বা পেনশনসহ বিভিন্ন কারণে চূড়ান্তভাবে ৩৭ হাজার ৫৬৭টি পরিবারকে ভাতা দেওয়ার জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে।
কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি নারীপ্রধান পরিবার একটি করে আধুনিক ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পাবে। স্পর্শবিহীন (কন্ট্যাক্টলেস) চিপযুক্ত এ কার্ডে কিউআর কোড ও এনএফসি প্রযুক্তি থাকবে। একটি কার্ডের মাধ্যমে একটি পরিবারের সর্বোচ্চ পাঁচজন সদস্য অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। সদস্য সংখ্যা পাঁচজনের বেশি হলে প্রয়োজন অনুযায়ী একাধিক কার্ড দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
প্রতিটি পরিবার মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে ভাতা পাবে। সুবিধাভোগী নারীর পছন্দ অনুযায়ী ভাতা মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হবে। তথ্য সংগ্রহের সময়ই এসব হিসাবের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।
জাতীয়
পে স্কেলের বাস্তবায়ন চেয়ে কর্মসূচি ঘোষণা
আসন্ন বাজেট সামনে রেখে ৯ম পে স্কেল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দ্রুত গেজেট প্রকাশের দাবিতে ঢাকায় কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি সমাবেশ ও আলোচনা সভা করার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী কল্যাণ সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটি।
শনিবার (২ মে) সংগঠনের আহবায়ক আবদুল মালেক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আসন্ন বাজেট সামনে রেখে ৯ম পে স্কেল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দ্রুত গেজেট প্রকাশের দাবিতে সরকারের নজরে কর্মচারীদের দীর্ঘ দিনের চাওয়া-পাওয়াকে গুরুত্ব সহকারে নেয়ার জন্য গণতান্ত্রিকভাবে শান্তিপূর্ণ মে মাসকে গুরুত্ব দিয়ে ৮ মে পটুয়াখালী, ৯ই মে খুলনায় প্রতিনিধি সমাবেশ ও আলোচনা সভা হবে।
সর্বশেষ ১৬ মে ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি সমাবেশ ও আলোচনা সভা করার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী কল্যাণ সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটি।
আরও বলা হয়েছে, দীর্ঘ ১১ বছরে দুটি পে স্কেল হবার কথা থাকলেও একটি ও পাননি তারা। আকাশচুম্বী দ্রব্যমূল্যে দিশেহারা নিম্ন গ্রেডভুক্ত কর্মচারীরা।বেশিরভাগ কর্মচারী ঋণের দায়ে জর্জরিত।
ঋণ কর্তন করে মাসে শেষে যে বেতন হাতে পান, তাতে ১০-১৫ দিন চলতে পারেন না। পরবর্তীতে তারা আরও বেশি ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন।
এ অবস্থায় আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বরাদ্দ রেখে পে স্কেল বাস্তবায়ন না করলে সরকারের প্রতি কর্মচারীদের অসন্তোষ এবং প্রচন্ড ক্ষোভের সৃষ্টি হতে পারে, যা কাম্য নয়।
তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ছাড়া ঋণ করে যদি সব কাজ চলে, তাহলে ২২ লাখ কর্মচারীর ৪৪ লাখ হাত সরকারের উন্নয়নের জন্য কাজ করে, সে মানুষগুলোর যদি ভাগ্য উন্নয়নে আরো কিছুটা ঋণী হয়, তাতে ক্ষতি কি?
আসন্ন বাজেটে বরাদ্দ রেখে সরকার ২২ লাখ পরিবারের মুখে হাসি ফোটাবেন বলে প্রত্যাশা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। এ জন্য প্রধানমন্ত্রীর সদয় দৃষ্টি কামনা করেছেন তারা।
জাতীয়
রবিবার থেকে ছয় জেলার ধান-চাল সংগ্রহ শুরু
আকস্মিক জলোচ্ছ্বাসে ক্ষতিগ্রস্ত হাওর এলাকার কৃষকদের সহায়তায় ধান-চাল সংগ্রহের সময় এগিয়ে এনেছে সরকার। পূর্বনির্ধারিত ১৫ মের পরিবর্তে আগামীকাল রবিবার (৩ মে) থেকেই হাওর অঞ্চলে সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হবে।
শুক্রবার (১ মে) খাদ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ— এই ছয় জেলার কৃষকদের উৎপাদিত বোরো ধান ও চাল সংরক্ষণ এবং বিক্রয়ে সহায়তা দিতেই এ বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, দেশের অন্যান্য জেলায় পূর্বঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী ৩ মে থেকে ধান এবং ১৫ মে থেকে চাল সংগ্রহ শুরু হবে। চলতি বোরো মৌসুমে অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে মোট ১৮ লাখ টন ধান ও চাল সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।
এর মধ্যে ৫ লাখ টন ধান, ১২ লাখ টন সিদ্ধ চাল এবং ১ লাখ টন আতপ চাল কেনা হবে। প্রতি কেজি ধান ৩৬ টাকা, সিদ্ধ চাল ৪৯ টাকা এবং প্রতি কেজি আতপ চালের সংগ্রহ মূল্য ৪৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ধান-চালের পাশাপাশি ৩৬ টাকা দরে ৫০ হাজার টন গমও কেনা হবে। এই সংগ্রহ অভিযান ৩১ আগস্ট পর্যন্ত চলবে।
জাতীয়
মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যে সিলেটে মাজার জিয়ারতে প্রধানমন্ত্রী
সিলেটে পৌঁছে সুফিসাধক হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিরার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি মাজার জিয়ারত করেন। সিলেটে বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করছে। সকাল থেকে বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টি উপেক্ষ করে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন।
পরে বেলা ১১টার পর সিলেট সার্কিট হাউস–সংলগ্ন সুরমা নদীর পাড়ের চাঁদনিঘাট এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসনে সিটি করপোরেশনের একটি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে সুধী সমাবেশে অংশ নেবেন। বেলা ১১টা ৩৫ মিনিটে বাংলাদেশ ওভারসিজ সেন্টার সিলেটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।
একই দিন দুপুর ১২টায় সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নে বাসিয়া খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করার কথা আছে প্রধানমন্ত্রীর। এরপর বেলা ৩টায় সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে শিশু ও কিশোরদের ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। বিকাল ৫টায় দলীয় এক সভায় যোগ দিয়ে তিনি ঢাকায় ফিরবেন।
প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে তোরণ নির্মাণ, ব্যানার-ফেস্টুন টানানো এবং প্রয়োজনীয় সাজসজ্জার কাজও শেষ।
জাতীয়
প্রশিক্ষণের জন্য পাকিস্তান যাচ্ছেন যে ১২ সরকারি কর্মকর্তা
বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) কর্মকর্তাদের জন্য আয়োজিত এক বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নিতে পাকিস্তান যাচ্ছেন সরকারের ১২ জন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা।
আগামী ৪ মে থেকে ২১ মে পর্যন্ত পাকিস্তানের লাহোরে অবস্থিত সিভিল সার্ভিসেস একাডেমিতে এই এক্সিকিউটিভ ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হবে।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি সরকারি আদেশ জারি করা হয়েছে।
প্রশিক্ষণে মনোনীত কর্মকর্তারা হলেন-
১. স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সালমা সিদ্দিকা মাহতাব,
২. বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (যুগ্ম সচিব) মো. মোস্তফা জামাল হায়দার,
৩. জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. আবু রায়হান মিয়া,
৪. মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. ফিরোজ আহমেদ,
৫. মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. তৌফিক ইমাম,
৬. জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. তৌফিক ইমাম,
৭. জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. রায়হান আখতার,
৮. স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব এ.এফ.এম. এহতেশামুল হক,
৯. স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. শামসুল হক,
১০. জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. মুহাম্মদ আব্দুস সালাম,
১১. দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ড. মো. জিল্লুর রহমান,
১২. বিসিএস প্রশাসন একাডেমির এমডিএস (যুগ্ম সচিব) জিয়া আহমেদ সুমন,
সরকারি আদেশে কিছু শর্ত জুড়ে দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, এই প্রশিক্ষণের যাবতীয় ব্যয় পাকিস্তান সরকার বহন করবে। বাংলাদেশ সরকারকে এই সফরের জন্য কোনও আর্থিক ব্যয়ভার গ্রহণ করতে হবে না। কর্মকর্তারা স্থানীয় মুদ্রায় তাদের বেতন ও ভাতাদি গ্রহণ করবেন এবং যাতায়াতের সময়কাল কর্মকালীন হিসেবে গণ্য হবে।
* কর্মকর্তারা ৪ মে ২০২৬ তারিখের কাছাকাছি সুবিধাজনক সময়ে পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করবেন।
* এই প্রশিক্ষণের সময়কাল এবং যাতায়াতে ব্যয় হওয়া সময় কর্মকালীন (অন ডিউটি) হিসেবে গণ্য হবে।
* তারা তাদের বেতন ও ভাতাদি স্থানীয় মুদ্রায় গ্রহণ করবেন।
* পাকিস্তান সরকার এই প্রশিক্ষণের যাবতীয় ব্যয় বহন করবে।
*এই সফরের সাথে সংশ্লিষ্ট কোনো খরচের দায়ভার বাংলাদেশ সরকারকে গ্রহণ করতে হবে না।
জাতীয়
শ্রমিকরা ভালো থাকলে দেশও ভালো থাকবে: তারেক রহমান
বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান বলেছেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানাগুলো চালুর নির্দেশ দিয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব কারখানা চালু করা হবে, যাতে শ্রমিকরা কর্মসংস্থানে ফিরতে পারেন। শ্রমিকরা ভালো থাকলে দেশও উন্নতির পথে এগোবে।
শুক্রবার (১ মে) বিকেলে নয়াপল্টনে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বিএনপির শ্রমিক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, স্বৈরাচারী শাসনামলে শ্রমিকদের ভাগ্য নিয়ে নানা ধরনের অবিচার করা হয়েছে এবং তাদের জীবন নিয়ে খেলা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শ্রমিকদের পরিবারের জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি কৃষকদের জন্য ইতোমধ্যে ১০ হাজার টাকা ঋণ মওকুফ করা হয়েছে এবং কৃষক কার্ড চালুর বিষয়েও কাজ চলছে।
তিনি বলেন, দেশের অধিকাংশ মানুষ গ্রামে বাস করেন, অথচ অনেক সময় তারা প্রয়োজনীয় পানি ঠিকভাবে পান না। এই সমস্যার সমাধানে খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
হকার উচ্ছেদ প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, শুধু উচ্ছেদ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না, বরং তাদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে।
তারেক রহমানের মতে, কৃষক ও শ্রমিকসহ পরিশ্রমী মানুষের জীবনমান উন্নত করা গেলে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।




