আন্তর্জাতিক
খামেনির অনুপস্থিতিতে ক্ষমতার কেন্দ্রে আবির্ভূত কে এই লারিজানি?
ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে একসময় অযোগ্য ঘোষিত নেতা আলি লারিজানিই এখন দেশে নেতৃত্বে শূন্যতার সংকটময় সময়ে নিজেকে ক্ষমতার নিয়ন্ত্রক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
ইরানে শনিবার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুতে একটি যুগের অবসান ঘটেছে।
চারিদিকে যখন শোকের মাতম আর বিশৃঙ্খলা ঘনিয়ে উঠছে, ঠিক তখনই তেহরানের ক্ষমতার অলিন্দ থেকে নাটকীয়ভাবে দৃশ্যপটে আবির্ভূত হয়েছেন প্রবীণ এক ঝানু রাজনীতিবিদ আলি লারিজানি।
রোববার তিনি জানিয়েছেন, দেশে একটি ‘অস্থায়ী পরিচালনা পরিষদ’ গঠন করা হবে। এই ঘোষণা দিয়ে তিনি যেন বিশ্বকে জানিয়ে দিয়েছেন, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি না থাকলেও ইরানের রাজনৈতিক কাঠামো স্থিতিশীল আছে।
গত বছরেই ইরানের নিরাপত্তা কাঠামোর অন্যতম শক্তিশালী ব্যক্তি হিসেবে নতুন করে লারিজানির আবির্ভাব ঘটেছে। ইরানের পারমাণবিক আলোচনা থেকে শুরু করে আঞ্চলিক সম্পর্ক এবং দেশের অভ্যন্তরীন বিক্ষোভ দমনে লারিজানি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
ইরানে গতবছর বিক্ষোভ চলতে থাকার সেই সংকটের মধ্যে দেশের হাল ধরতে তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিজের অন্যতম বিশ্বস্ত ও অনুগত এক নেতার ওপরই আস্থা রেখেছিলেন। আর তিনিই হলেন ইরানের শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলি লারিজানি।
৬৭ বছর বয়সী লারিজানি ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডসের (আইআরজিসি) সাবেক কমান্ডার এবং সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান। মূলত তখন থেকেই আড়ালে থেকে ইরান চালাচ্ছিলেন তিনি। গত কয়েক মাসে লারিজানির ক্ষমতা ও দায়িত্বের পরিধি কেবলই বেড়েছে।
খামেনির ঘনিষ্ঠ সহযোগী:
আলি লারিজানি ইরানের অন্যতম প্রভাবশালী ধর্মীয় পরিবার থেকে এসেছেন। গত আগস্টে তিনি সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের (এসএনএসসি) সেক্রেটারি নিযুক্ত হন।
লারিজানিকে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও অত্যন্ত বিশ্বস্ত কৌশলবিদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
গত মাসেই তিনি ওমানে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ পারমাণবিক আলোচনার প্রেক্ষাপট তৈরি করেছিলেন বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
রাশিয়ার সঙ্গে নিরাপত্তা সম্পর্ক জোরদার করতেও তিনি সম্প্রতি বেশ কয়েকবার মস্কো সফর করেছেন, যা আরও উচ্চ পর্যায়ের কূটনীতিরই লক্ষণ।
তবে লারিজানির ভাবমূর্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বিতর্ক রয়েছে। গত জানুয়ারিতে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে কঠোর ভূমিকা রাখার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রণালয় তার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল।
ওয়াশিংটনের অভিযোগ, লারিজানিই প্রথম বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা শুরুর ডাক দিয়েছিলেন।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, ওই দমনে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। লারিজানি অবশ্য বিক্ষোভকারীদের ‘শহরকেন্দ্রিক আধা-সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন।
লারিজানির ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও তিনি দীর্ঘ সময় ধরে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সুরক্ষা এবং পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে দরকষাকষিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
তিনি একবার ইউরোপীয় দেশগুলোর দেওয়া প্রস্তাবকে ‘চকলেটের বিনিময়ে মুক্তা দেওয়া’র সঙ্গে তুলনা করেছিলেন।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে তিনি সুর কিছুটা নরম করে বলেছিলেন, আমেরিকার উদ্বেগের জায়গা যদি এটি হয় যে, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দিকে আগানো উচিত না, তবে সেই সমস্যার সমাধান সম্ভব। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে।
শনিবার ইরানে হামলার পর রোববার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে লারিজনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানকে ধ্বংসের চেষ্টার অভিযোগ আনেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, কোনও ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী’ এই পরিস্থিতির সুযোগ নিতে চাইলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
এক নজরে আলি লারিজানি:
লারিজানির জন্ম ১৯৫৮ সালে ইরাকের নাজাফে। তিনি একজন দর্শনের পিএইচডি ডিগ্রিধারী। ২০০৫-২০০৭ সালের প্রধান পারমাণবিক আলোচক এবং ২০০৮-২০২০ সাল পর্যন্ত পার্লামেন্ট স্পিকার ছিলেন।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে এবং চীনের সঙ্গে ২৫ বছরের কৌশলগত চুক্তিতেও তার বড় ভূমিকা ছিল।
২০০৫ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়ে তিনি পরাজিত হয়েছিলেন এবং ২০২১ ও ২০২৪ সালে লারিজানি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লারিজানি অংশ নিতে চাইলেও তাকে অযোগ্য ঘোষণা করেছিল ইরানের গার্ডিয়ান কাউন্সিল।
সেই প্রত্যাখ্যাত নেতাই উঠে এসেছেন ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে। ইরানে নেতৃত্বে শূন্যতা তৈরির এই সংকটময় মুহূর্তে লারিজানি নিজেকে ক্ষমতার নিয়ন্ত্রক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
এমএন
আন্তর্জাতিক
সোমবার পাকিস্তানে আবারো বৈঠকে বসতে পারে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র
শান্তি আলোচনায় আগামী সোমবার আবারো পাকিস্তানে বৈঠকে বসতে পারে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র।
ইরানি কর্মকর্তাদের বরাতে সিএনএন এ তথ্য জানিয়েছে। তবে এখনও আমেরিকার তরফে দ্বিতীয় দফার আলোচনা নিয়ে কোনো ঘোষণা আসেনি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আলোচনায় অংশ নিতে দুই দেশের প্রতিনিধিদল সম্ভবত রবিবারই পাকিস্তানের রাজধানীতে পৌঁছাবে। এটি চলমান উত্তেজনা কমাতে নতুন কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে, আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে তারা উত্তেজনা প্রশমন এবং কূটনৈতিক সমাধান এগিয়ে নেওয়ার আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা করেন। মধ্যস্থতাকারী হিসাবে এখন পর্যন্ত পাকিস্তান যা ভূমিকা নিয়েছে, তার প্রশংসা করেছে কাতার ও তুরস্ক। পাশে থাকার আশ্বাসও দিয়েছে।
অন্যদিকে, দ্বিতীয় দফায় আমেরিকা-ইরানকে আলোচনার টেবিলে বসাতে গত বুধবার তেহরানে যান পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৃহস্পতিবার তার দীর্ঘ বৈঠক হয়েছে।
এর আগে ১১-১২ এপ্রিল ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত ‘পিস টকস’ ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর প্রথম সরাসরি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক, যা ঐতিহাসিক হলেও কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি।
আন্তর্জাতিক
চুক্তি না হলে ইরানে আবারো হামলার হুমকি ট্রাম্পের
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি না হলে আবারও সামরিক হামলা শুরু হতে পারে।
এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমঝোতা না হলে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো নাও হতে পারে।
ট্রাম্প বলেন, ‘হয়তো আমি যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াবো না। অবরোধ চলবে এবং দুর্ভাগ্যজনকভাবে আবার বোমা হামলা শুরু করতে হতে পারে।’
এদিকে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিতীয় দফা উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনা আগামী সোমবার (২০ এপ্রিল) পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন। আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইরানি কর্মকর্তাদের বরাতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, দুই দেশের প্রতিনিধিদল রোববার (১৯ এপ্রিল) ইসলামাবাদে পৌঁছাতে পারেন।
এর আগে টানা যুদ্ধের পর ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ১৪ দিনের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। এরপর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে স্থায়ী সমঝোতার লক্ষ্যে কূটনৈতিক আলোচনা চলমান রয়েছে।
আন্তর্জাতিক
ইসরায়েলকে ট্রাম্পের কঠোর বার্তা
লেবাননে হামলা বন্ধ করতে ইসরায়েলকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চলাকালে ইসরায়েল লেবাননে আর কোনো বোমা হামলা করতে পারবে না, যা কার্যত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তিনি স্পষ্ট বলেছেন, আর একটাও বোমা নয়, যথেষ্ট হয়েছে। গেল শুক্রবার ট্রুথ সোশ্যালে কড়া ভাষায় লেখা পোস্টে এই মন্তব্য করেছেন তিনি। খবর নিউ ইয়র্ক পোস্টের
ট্রাম্প আরো জানিয়েছেন, ইহুদি রাষ্ট্র ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রই চালকের আসনে রয়েছে।
এ ছাড়া ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি আলোচনায় পানি ঢেলে দিয়েছেন। ইরান যদি তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম হস্তান্তর করে, বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দুই হাজার কোটি ডলারের জব্দকৃত সম্পদ ছাড়ের কথা বিবেচনা করবেন বলে এমন তথ্য দিয়েছে অনলাইন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট এও অঙ্গীকার করেছেন, কোনোভাবেই হাতে কোনো প্রকার অর্থ লেনদেন হবে না।
ট্রাম্প আরো লিখেছেন, এই চুক্তি কোনোভাবেই লেবাননের ওপর নির্ভরশীল নয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র আলাদাভাবে লেবাননের সঙ্গে কাজ করবে।
সেই সঙ্গে হিজবুল্লাহর কার্যক্রম যথাযথভাবে মোকাবেলা করা হবে।
আন্তর্জাতিক
মার্কিন অবরোধ অব্যাহত থাকলে হরমুজ প্রণালি আবার বন্ধ করে দেওয়া হবে: ইরান
লেবাননে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়ার পর শুক্রবার হরমুজ প্রণালি সাময়িকভাবে খুলে দিয়েছে ইরান আর এতে শান্তি চুক্তি নিয়ে আশাবাদ বেড়েছে, কিন্তু তেহরান সতর্ক করে বলেছে যে যদি ইরানি বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ অব্যাহত থাকে তাহলে তারা আবার এ গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি বন্ধ করে দেবে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি শুক্রবার সামাজিক মাধ্যম এক্স এ এক ঘোষণায় বলেছেন, “লেবাননের যুদ্ধবিরতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে, যুদ্ধবিরতির অবশিষ্ট সময়কালের জন্য ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বন্দর ও সামুদ্রিক সংস্থা কর্তৃক ঘোষিত হরমুজ প্রণালির সমন্বিত পথ দিয়ে সকল বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল পুরোপুরি উন্মুক্ত ঘোষণা করা হল।”
ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী সরু এ প্রণালিটি বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জলপথ। বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস এ পথে বিভিন্ন দেশে সরবরাহ করা হয়। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরান কার্যকরভাবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছিল।
বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের এক যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয় আর তা শুক্রবার থেকে কার্যকর হয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খোমেইনি নিহত হওয়ার পর লেবাননের ইরান সমর্থিত সশস্ত্র রাজনৈতিক সংগঠন হিজবুল্লাহ যুদ্ধে যোগ দেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার অ্যারিজোনায় এক জনসভায় সমর্থকদের বলেছেন যে আরাকচির ঘোষণা ‘বিশ্বের জন্য একটি মহান ও উজ্জ্বল দিন হিসেবে’ চিহ্নিত হয়েছে।
কিন্তু এরপর উভয়পক্ষ থেকে আসা বিবৃতি ও ব্যাখ্যাগুলোর কারণে কতো দ্রুত হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। শুক্রবার কিছু জাহাজকে প্রণালিটি পার হওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসতে দেখা গেছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে।
ট্রাম্প জানিয়েছেন, ‘ইরানের সঙ্গে আমাদের লেনদেন শতভাগ সম্পন্ন’ না হওয়া পর্যন্ত ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ অব্যাহত থাকবে।
এতে ইরান তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার ও জ্যেষ্ঠ আলোচক মোহাম্মদ বাকের কলিবফ সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বলেছেন, “মার্কিন অবরোধ অব্যাহত থাকলে প্রণালিটিও খোলা থাকবে না।”
তিনি বলেছেন, শান্তি আলোচনার বিষয়ে শুক্রবার ট্রাম্প অনেকগুলো মিথ্যা দাবি করেছেন।
ইরান বলেছে, হরমুজ প্রণালি পার হতে চাওয়া সব জাহাজকে অবশ্যই ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সঙ্গে সমন্বয় করে এগোতে হবে।
ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়েল বিবৃতি উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, ‘শত্রুর বাহিনীগুলোর’ সঙ্গে সম্পর্কিত সামরিক জাহাজাগুলোকে (যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল) প্রণালিটি পার হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি।
জাহাজ চলাচলের তথ্য থেকে দেখা গেছে, কন্টেইনার, বাল্ক ক্যারিয়ার, ট্যাঙ্কারসহ প্রায় ২০টি জাহাজ শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে পারস্য উপসাগর হয়ে হরমুজ প্রণালির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু এগুলোর অধিকাংশকেই আবার ফিরে আসতে হয়েছে; কিন্তু কেন তা পরিষ্কার হয়নি।
এই দলটিতে ফরাসি শিপিং গোষ্ঠী সিএমএ সিজিএম এর তিনটি কন্টেইনার জাহাজ ছিল। এ বিষয়ে তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এটিই হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার চেষ্টা করা জাহাজের সবচেয়ে বড় দল।
এর পাশাপাশি ইরানের পারমাণবিক প্রকল্প নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পরস্পর বিরোধী ভাষ্য পাওয়া গেছে। ট্রাম্প রয়টার্সকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ সরিয়ে নেবে। অপরদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে বলেছেন, ইরানের পরিশোধিত ইউরেনিয়াম কোথাও হস্তান্তর করা হবে না।
আন্তর্জাতিক
মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি উৎপাদন স্বাভাবিক হতে লাগবে প্রায় দুই বছর: আইইএ
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে ব্যাহত হওয়া জ্বালানি উৎপাদন পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে প্রায় দুই বছর সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)। সংস্থাটি বলছে, যুদ্ধের প্রভাব কাটিয়ে আগের অবস্থায় ফিরতে দেশভেদে সময়ের পার্থক্য থাকবে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সুইস সংবাদপত্র নয়েই জুরশার জাইতুংকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আইইএর প্রধান ফাতিহ বিরোল এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘এটি দেশভেদে আলাদা হবে। উদাহরণ হিসেবে ইরাকে সময় লাগবে সৌদি আরবের তুলনায় অনেক বেশি। তবে সামগ্রিকভাবে আমরা ধারণা করছি, যুদ্ধ-পূর্ব অবস্থায় ফিরতে প্রায় দুই বছর সময় লাগবে।’
বিরোল আরও সতর্ক করে বলেন, হরমুজ প্রণালি দীর্ঘমেয়াদে বন্ধ থাকার প্রভাব আন্তর্জাতিক বাজারে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে না।
তার মতে, ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে যেসব তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজ গন্তব্যের পথে ছিল, সেগুলো ইতোমধ্যে পৌঁছে যাওয়ায় সরবরাহ সংকটের প্রাথমিক ধাক্কা কিছুটা কমে গেছে।
তবে তিনি বলেন, ‘মার্চ মাসে কোনো নতুন ট্যাংকারে তেল বা গ্যাস তোলা হয়নি। ফলে এশিয়ার বাজারে নতুন করে তেল, গ্যাস বা জ্বালানি সরবরাহ হয়নি। এখন সেই ঘাটতি স্পষ্ট হয়ে উঠছে।’
তিনি সতর্ক করেন, যদি হরমুজ প্রণালী দ্রুত পুনরায় চালু না করা হয়, তাহলে বিশ্বকে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি জ্বালানি মূল্যের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
জরুরি তেল মজুত থেকে আবার সরবরাহ বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে বিরোল জানান, আইইএ প্রয়োজনে দ্রুত ও দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।
তিনি বলেন, ‘আমরা এখনো সেই পর্যায়ে পৌঁছাইনি, তবে বিষয়টি অবশ্যই বিবেচনায় রয়েছে।’



