আন্তর্জাতিক
পাকিস্তান-আফগানিস্তান সংঘাতে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দেশ
দীর্ঘদিনের সীমান্ত উত্তেজনা ছাপিয়ে এবার সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়েছে পাকিস্তান-আফগানিস্তান। তালেবানের বিরুদ্ধে ‘প্রকাশ্য যুদ্ধ’ ঘোষণা করে শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ভোরে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলসহ দেশটির গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। এই নজিরবিহীন পরিস্থিতিতে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দেশ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
পাকিস্তানের হামলার পর আফগানিস্তানের তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ জানান, ডুরান্ড লাইনের বরাবর পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে ‘বৃহৎ আকারের আক্রমণাত্মক অভিযান’ শুরু করেছে আফগানিস্তান। তালেবান দাবি করেছে, চলতি সপ্তাহে পাকিস্তানের পৃথক বিমান হামলার জবাব হিসেবেই তারা এই অভিযান চালাচ্ছে।
জাতিসংঘ জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তেনিও গুতেরেষ পরিস্থিতির ওপর গভীর নজর রাখছেন এবং সহিংসতা বৃদ্ধিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিখ এক বিবৃতিতে জানান, দুই দেশকে আন্তর্জাতিক আইন, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। গুতেরেস বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।
ইরান ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি দুই দেশকে সংলাপ ও সুপ্রতিবেশী নীতির মাধ্যমে বিরোধ মেটানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি রমজান মাসের গুরুত্ব উল্লেখ করে সংযম ও ইসলামী সংহতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, তেহরান গঠনমূলক সংলাপ ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে প্রস্তুত।
রাশিয়া রাশিয়া অবিলম্বে সীমান্তপারের হামলা বন্ধ করে কূটনৈতিক উপায়ে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে। দেশটি প্রয়োজনে মধ্যস্থতার প্রস্তাবও দিয়েছে।
চীন চীন জানিয়েছে, পাকিস্তান–আফগানিস্তান সীমান্তে উত্তেজনা বৃদ্ধিতে তারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বলেছেন, বেইজিং নিজস্ব কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত করতে কাজ করছে এবং গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত।
পাকিস্তানের অবস্থান
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ তালেবানকে সন্ত্রাসবাদ ও অস্থিতিশীলতার জন্য দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, ইসলামাবাদ পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে সরাসরি ও বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর মাধ্যমে সর্বোচ্চ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, আমাদের ধৈর্যের সীমা শেষ। এখন এটি সরাসরি যুদ্ধ, এবং সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
আফগানিস্তানের প্রতিক্রিয়া
আফগানিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই বলেছেন, দেশটি ঐক্যবদ্ধভাবে নিজেদের ভূখণ্ড রক্ষা করবে এবং আগ্রাসনের জবাব সাহসিকতার সঙ্গে দেবে। তিনি পাকিস্তানকে নিজেদের নীতিতে পরিবর্তন এনে সুপ্রতিবেশী সম্পর্ক গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
এমএন
আন্তর্জাতিক
আফগানিস্তান মারাত্মক ভুল করেছে : পাক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নাকভি
গতকাল বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের উত্তরপশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ খাইবার-পাখতুনখোয়ার ডুরান্ড লাইন এলাকায় পাক সেনাচৌকির ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে আফগানিস্তান ‘মারাত্মক ভুল’ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি।
সামাজিক মাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় তিনি বলেছেন,“রাতের অন্ধকারে ডুরান্ড লাইনে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীকে লক্ষ্য করে কাপুরুষোচিত হামলা করা ছিল আফগানিস্তানের জন্য মারাত্মক ভুল। এটা ছিল একটি ঘৃণ্য পদক্ষেপ এবং এজন্য গুরুতর পরিণতি ভোগ করতে হবে তাদের। গোটা দেশ পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আছে। পাকিস্তানের নিরাপত্তা নিয়ে আমরা কখনও আপোস করব না।”
আফগানিস্তানে ক্ষমতাসীন তালেবান সরকারের মদতপুষ্ট নিষিদ্ধ রাজনৈতিক গোষ্ঠী তেহরিক-ই তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-কে নির্মূলের অংশ হিসেবে গত ২১ ফেব্রুয়ারি আফগানিস্তানের নানগারহার ও পাকতিয়া প্রদেশে সংক্ষিপ্ত বিমান অভিযান চালিয়েছিল পাকিস্তানের বিমানবাহিনী। অভিযানে দুই প্রদেশে নিহত হন ৮০ জনেরও বেশি মানুষ।
হামলার পর পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর আন্তঃসংযোগ দপ্তর আইএসপিআর থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, অভিযানে নিহতরা সবাই টিটিপি যোদ্ধা। তবে তালেবান সরকার এই তথ্য প্রত্যাখ্যান করে পাল্টা বিবৃতিতে বলেছিল, জঙ্গিঘাঁটি নয়, লোকালয়ে হামলা চালিয়েছে পাকিস্তানের বিমান বাহিনী। এই হামলার ‘বদলা নেওয়া হবে’ বলে হুঁশিয়ারিও দিয়েছিল আফগানিস্তান।
গত কাল বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে ডুরান্ড লাইনে পাক সেনাচৌকিগুলো লক্ষ্য করে অতর্কিত হামলার মাধ্যমে সেই ‘বদলা’ নেয় আফগানিস্তানের সেনাবাহিনী। আফগান সংবাদমাধ্যম তোলো নিউজ এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেনাপ্রধান ফাসিহুদ্দিন ফিৎরাতের নির্দেশ অনুযায়ী রাত ১২টা পর্যন্ত ডুরান্ড লাইন এলাকায় অভিযান চালায় আফগান সেনার। তাদের হামলায় নিহত হয়েছেন বেশ কয়েক পাক সেনা। এর পাশাপাশি বেশ কয়েকজন সেনাকে বন্দি করে নিয়ে যায় তারা।
ডুরান্ড লাইনে হামলার সময়ে তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এক এক্সপোস্টে বলেছিলেন, ““আমাদের সেনারা নাইট ভিশন এবং লেজার নিয়ন্ত্রিত অস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে। এবার ওদের (পাকিস্তানি সেনাবাহিনী) আমরা নরকে পাঠাব।”
এদিকে, ডুরান্ড লাইনে হামলার মাত্র সাড়ে তিন ঘণ্টা পর রাত ৩টা ৪৫ মিনিটে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন গজব-লিল হক’ অভিযান শুরু করে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। অভিযান শুরুর পর এক এক্সবার্তায় পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেন, “আমাদের ধৈর্য্যের বাঁধ ভেঙে গেছে। এখন আপনাদের সঙ্গে আমাদের কেবল যুদ্ধ হবে…পাকিস্তানের সেনাবাহিনী সাগর থেকে ভেসে আসেনি। আমরা আপনাদের প্রতিবেশী: আপনাদের মতিগতি আমরা খুব ভালোভাবে জানি।”
শুক্রবার ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি জানান, পাকিস্তান বিমান বাহিনী (পিএএফ)-এর বোমায় কাবুল, পাকতিয়া ও কান্দাহার প্রদেশে আফগান সেনাবাহিনীর দু’টি সেনা হেডকোয়ার্টার, ৩টি ব্রিজ হেডকোয়ার্টার, দু’টি গোলাবারুদের ডিপো, একটি লজিস্টিক ঘাঁটি, ৩টি ব্যাটালিয়ন হেডকোয়ার্টার, ২টি সেক্টর হেডকোয়ার্টার, ৮০টিরও বেশি ট্যাংক এবং বিপুল সংখ্যক আর্টিলারি বন্দুক ও সাঁজোয়া যান ধ্বংস হয়েছে।
এর পাশাপাশি এই তিন প্রদেশের ২৭টি সেনাচৌকি পাকিস্তানি সেনারা ধ্বংস এবং ৯টি সেনাচৌকি দখল করেছে বলেও জানিয়েছেন মোশাররফ জাইদি।
সূত্র : ডন
আন্তর্জাতিক
আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে পাকিস্তান
পাক-আফগান সীমান্তের ডুরান্ড লাইনে পাকিস্তানের সেনাচৌকিতে হামলার পর আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে পাকিস্তান। ‘অপারেশন গজব-লিল হক’ সেই যুদ্ধেরই অংশ।
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহম্মদ আসিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এই ঘোষণা দিয়েছেন। এক্সবার্তায় তিনি বলেছেন, “আমাদের ধৈর্য্যের বাঁধ ভেঙে গেছে। এখন আপনাদের সঙ্গে আমাদের কেবল যুদ্ধ হবে…পাকিস্তানের সেনাবাহিনী সাগর থেকে ভেসে আসেনি। আমরা আপনাদের প্রতিবেশী: আপনাদের মতিগতি আমরা খুব ভালোভাবে জানি।”
খাজা আসিফ এক্সে এই বার্তা পোস্ট করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল এবং পাকতিয়া ও কান্দাহার প্রদেশে আফগান সামরিক বাহিনীর স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে ‘অপারেশন গজব-লিল হক’ শুরু করে পাকিস্তানের বিমান বাহিনী।
আজ শুক্রবার ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের বিদেশি সংবাদমাধ্যম বিষয়ক মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি বলেছেন, রাত ৩ টা ৪৫ মিনিট থেকে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন গজব-লিল হক’ শুরু করেছে পিএএফ এবং স্থলবাহিনী বা আর্মি। অভিযানের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যেই রাজধানী কাবুল এবং পাকতিয়া ও কান্দাহার প্রদেশের বেশ কয়েকটি সামরিক স্থাপনাকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
পাশাপাশি কাবুল, পাকতিয়া এবং কান্দাহারের ২৭টি সেনাচৌকি ধ্বংস এবং ৯টি চৌকি দখল করেছে পাকিস্তানের আর্মি।
এক্সবার্তায় মোশাররফ জাইদি জানিয়েছন, পিএএফের বোমাবর্ষণে ইতোমধ্যে আফগান সেনাবাহিনীর দু’টি সেনা হেডকোয়ার্টার, ৩টি ব্রিজ হেডকোয়ার্টার, দু’টি গোলাবারুদের ডিপো, একটি লজিস্টিক ঘাঁটি, ৩টি ব্যাটালিয়ন হেডকোয়ার্টার, ২টি সেক্টর হেডকোয়ার্টার, ৮০টিরও বেশি ট্যাংক এবং বিপুল সংখ্যক আর্টিলারি বন্দুক ও সাঁজোয়া যান ধ্বংস হয়েছে।
গত ২১ ফেব্রুয়ারি শনিবার আফগানিস্তানের নানগারহার এবং পাকতিয়া প্রদেশের বেশ কয়েকটি এলাকায় ব্যাপক বোমাবর্ষণ করেছিল পাকিস্তানের বিমান বাহিনী। এতে নিহত হয়েছিলেন ৮০ জনেরও বেশি মানুষ। সংক্ষিপ্ত সেই অভিযানের পর পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর আন্তঃসংযোগ দপ্তর (আইএসপিআর) থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, পাকিস্তানের তালেবানপন্থি নিষিদ্ধ রাজনৈতিক গোষ্ঠী তেহরিক-ই তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে এ অভিযান চালানো হয়েছিল এবং যারা নিহত হয়েছে— তারা সবাই টিটিপির যোদ্ধা।
তবে আফগানিস্তানে ক্ষমতাসীন তালেবান সরকার পাল্টা দাবি করেছিল, জঙ্গিঘাঁটি নয়, লোকালয়ে হামলা চালিয়েছে পাকিস্তানের বিমান বাহিনী। তার পরেই তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিল, “এর বদলা আমরা নেবো।”
গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ার আফগান সীমান্তবর্তী ডুরান্ড লাইনে অবস্থিত পাক সেনাচৌকিগুলো লক্ষ্য করে অতর্কিত হামলা চালিয়ে বেশ কয়েকজন সেনাকে হত্যা এবং কয়েকজন সেনাকে অপহরণ করে আফগান সেনারা। তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লা মুজাহিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় বলেন, “আমাদের সেনারা নাইট ভিশন এবং লেজ়ার নিয়ন্ত্রিত অস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে। এ বার ওদের (পাকিস্তানি সেনাবাহিনী) আমরা নরকে পাঠাব।”
সীমান্ত এলকায় হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন গজব-লিল হক’ শুরু করেছে পাকিস্তান।
সূত্র : ডন, এনডিটিভি
এমএন
আন্তর্জাতিক
পাকিস্তানি যুদ্ধবিমানের গর্জনে কাঁপছে আফগানিস্তান, নিহত ১৩৩
পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করেছে। নিরাপত্তা সূত্রের দাবি, পাকিস্তান বিমান বাহিনী (পিএএফ) আফগানিস্তানের নানগারহার প্রদেশে একটি বড় অস্ত্র ও গোলাবারুদের ডিপোতে বিমান হামলা চালিয়ে তা ধ্বংস করেছে। সে সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধের ঘোষণাও দিয়েছে পাকিস্তান।
জিওটিভি নিউজকে পাকিস্তানের সরকারি এক কর্মকর্তা শুক্রবার জানান, সীমান্তে উসকানিমূলক হামলার জবাবে নেওয়া অভিযানে আফগান তালেবান প্রশাসনের ১৩৩ জন সদস্য নিহত এবং ২০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। তবে এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
নিরাপত্তা সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, তালেবান বাহিনীর পদক্ষেপের জবাবে পাকিস্তানি বাহিনী ‘গাজাব-লিল-হক’ নামে একটি অভিযান শুরু করে। ভোর ৩টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত চলমান সংঘর্ষের হালনাগাদ তথ্য জানিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বৈদেশিক গণমাধ্যমবিষয়ক মুখপাত্র মুশাররফ জাইদি বলেন, পাকিস্তানের পাল্টা হামলা অব্যাহত রয়েছে এবং আফগানিস্তানের বিভিন্ন স্থানে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হচ্ছে।
তার দাবি, কাবুল, পাকতিয়া ও কান্দাহারে সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলায় অতিরিক্ত হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, ২৭টি তালেবান চৌকি ধ্বংস এবং ৯টি দখল করা হয়েছে।
সরকারের মুখপাত্র আরও দাবি করেন, হামলায় দুটি কোর সদর দপ্তর, তিনটি ব্রিগেড সদর দপ্তর, দুটি গোলাবারুদ ডিপো, একটি লজিস্টিক ঘাঁটি, তিনটি ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তর এবং দুটি সেক্টর সদর দপ্তর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি ৮০টির বেশি ট্যাংক, কামান ও সাঁজোয়া যান ধ্বংস করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
মুশাররফ জাইদি বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় পাকিস্তানের তাৎক্ষণিক ও কার্যকর প্রতিক্রিয়া চলমান রয়েছে। এর আগে সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানান, আফগান বাহিনীর উসকানিমূলক হামলার জবাবে একাধিক পাল্টা আঘাত হেনেছে পাকিস্তানি বাহিনী। হামলা অব্যাহত রয়েছে এবং যে কোনো কঠোর পদক্ষেপ নিতে পাকিস্তান প্রস্তুত।
এমএন
আন্তর্জাতিক
আফগানিস্তান-পাকিস্তানের ওপর নজর রাখছেন জাতিসংঘ মহাসচিব
জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী এলাকায় চলমান সংঘর্ষের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার মুখপাত্র স্টেফান দুজারিকের মাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি উভয় দেশকে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক আইনের প্রতি কঠোরভাবে শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে গুতেরেস বলেন, সীমান্তে সংঘর্ষের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে জরুরি। তিনি উভয় পক্ষকে অবিলম্বে উত্তেজনা হ্রাস করে সংলাপের পথে ফিরে আসার আহ্বান জানান।
সাম্প্রতিক সময়ে আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্তে ড্রোন হামলা, গোলাগুলি ও অন্যান্য সংঘর্ষের ঘটনা বেড়েছে। এসব ঘটনায় বেসামরিক নাগরিকসহ উভয় পক্ষের সেনা সদস্য নিহত ও আহত হয়েছেন। কিন্তু বৃহস্পতিবারের (২৬ ফেব্রুয়ারি) পাল্টাপাল্টি হামলা সব মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে।
জাতিসংঘ মহাসচিবের এই বিবৃতি এই সংঘাতকে নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রচেষ্টাকে আরও জোরদার করার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এদিকে, আফগানিস্তানের তালেবান কর্তৃপক্ষ ও পাকিস্তান সরকার উভয়ই একে অপরকে সীমান্ত অস্থিরতার জন্য দায়ী করছে। জাতিসংঘের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে আরও পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
যদি সংঘাত আরও বাড়তে থাকে তাহলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও মানবিক সংকট আরও গভীর হতে পারে।
এমএন
আন্তর্জাতিক
চুক্তি ছাড়াই শেষ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পারমাণবিক আলোচনা, যুদ্ধের শঙ্কা বাড়ছে
তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উচ্চপর্যায়ের আলোচনা বৃহস্পতিবার কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছে। এদিকে হোয়াইট হাউস মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা বিবেচনা করছে বলে জানা গেছে, যা হলে তা কয়েক দশকের মধ্যে অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় হস্তক্ষেপ হতে পারে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি দাবি করেন, আলোচনায় ভালো অগ্রগতি হয়েছে। ওমানের মধ্যস্থতাকারীরাও জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহে ভিয়েনায় কারিগরি পর্যায়ে আবার আলোচনা শুরু হতে পারে।
দ্য গার্ডিয়ানের বৃহস্পতিবারের প্রতিবেদনে বলা হয়, আলোচনায় অগ্রগতি দাবি করা হলেও ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার এবং উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুতের ভবিষ্যৎ নিয়ে মৌলিক বিরোধে দুই পক্ষ কাছাকাছি এসেছে, এমন কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
জেনেভায় অনুষ্ঠিত পরোক্ষ এই আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। খবরে বলা হয়, ইরানের প্রস্তাব নিয়ে মার্কিন পক্ষ অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। দ্বিতীয় দফা বৈঠকের সংক্ষিপ্ত সময়কাল পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
এক পর্যায়ে সুইজারল্যান্ডের শহরে ইউক্রেনীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে উইটকফকে বৈঠক ছেড়ে যেতে হয়, যা তেহরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করে বলে জানা গেছে।
এদিকে ইরানি কর্মকর্তারা মার্কিন গণমাধ্যমের একটি প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছেন। প্রতিবেদনটিতে বলা হয় তেহরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ দেশ থেকে সরিয়ে নিতে হবে।
ওমানের মধ্যস্থতাকারীরা আলোচনায় ভাঙনের কথা অস্বীকার করে বলেছেন, অভূতপূর্ব উন্মুক্ততার সঙ্গে নতুন ও সৃজনশীল প্রস্তাব বিনিময় হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র চায়, ইরান স্থায়ীভাবে ইউরেনিয়াম না সমৃদ্ধকরণে কঠোর নিশ্চয়তা দিক এবং এমন পরিদর্শন ব্যবস্থায় সম্মত হোক, যাতে ওয়াশিংটন নিশ্চিত হতে পারে যে তেহরান কখনও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না। যদিও ইরান বরাবরই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির উদ্দেশ্য অস্বীকার করে আসছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকৃতি বড় বাধা। এর জবাবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই মার্কিন দাবির অসঙ্গতি নিয়ে অভিযোগ তোলেন।
আলোচনার মধ্যেই ইরানি অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র নজিরবিহীন সামরিক শক্তি জড়ো করেছে। সেখানে দুটি এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ, আক্রমণাত্মক যুদ্ধবিমান, আকাশে জ্বালানি ভরার সরঞ্জাম এবং টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রসজ্জিত সাবমেরিন মোতায়েন রয়েছে। এতে করে পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। চূড়ান্ত আলোচনা ভেস্তে গেলে যুদ্ধই হতে পারে শেষ পরিণতি।
এমএন



