জাতীয়
ঋণের বোঝা নিয়ে বাতি জ্বলছে : বিদ্যুৎমন্ত্রী
বর্তমান বিদ্যুৎ খাতের ভয়াবহ ঋণের চিত্র তুলে ধরে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেছেন, “আমরা লোডশেডিং রেখে গিয়েছিলাম সত্য, কিন্তু জাতির কাঁধে ঋণের বোঝা রেখে যাইনি। এখন বাতি জ্বলে ঠিকই, কিন্তু জাতির কাঁধে বিশাল ঋণের বোঝা। ঋণে ডুবে থাকার চেয়ে কষ্ট করে থাকাও ভালো ছিল।”
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স বাংলাদেশের (এফইআরবি) নবনির্বাচিত কমিটির দায়িত্ব হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
এর আগে বিদ্যুৎ খাতের ৭৬ হাজার কোটি টাকা বকেয়া ও লোকসান নিয়ে অর্থ উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরের সঙ্গে নিজ দপ্তরে এক বৈঠক করেন বিদ্যুৎমন্ত্রী। সেখানে বলা হয়, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) কাছে বিভিন্ন কোম্পানির পাওনা এখন ৪৬ হাজার কোটি টাকা। বাকি ৩০ হাজার কোটি টাকা বিভিন্ন সরকারি কোম্পানির পুঞ্জীভূত লোকসান। এই বকেয়া ও লোকসানের টাকা দেওয়া না হলে বিদ্যুতে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না। বৈঠকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত উপস্থিত ছিলেন।
ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্র করা হয়েছে, সেখানে জ্বালানি সরবরাহের ব্যবস্থা নেই। যেখানে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারছে, সেখানে বসিয়ে রেখে ক্যাপাসিটি পেমেন্ট দিতে হচ্ছে। পুরোই হযবরল অবস্থা। তিনি বলেন, আমার সময় বিদ্যুতে সিস্টেমলস ছিল ৬ শতাংশ। ১৯ বছর পরে এসে দেখছি ১০ শতাংশ হয়ে গেছে। ১ শতাংশ সমান ৫০ লাখ টাকা। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে ৩ শতাংশে নামিয়ে আনা। প্রাথমিকভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার জন্য। এটা করা গেলে লোকসান কমে আসে। না হলে দায় আরও বাড়বে, আইএমএফ এসে চাপ দেবে। আমরা বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে সমঝোতার বিষয়ে ভাবছি। যাতে উভয়পক্ষের স্বার্থ রক্ষা করা যায়।
জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, গ্যাস সংকট নিয়ে নিউজ হচ্ছে, এটা নিউজ নয়। গ্যাসের কূপ খনন করা হয়নি। আমরা বিদেশের ওপর নির্ভরশীল থাকতে চাই না। দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে জোর দিচ্ছি। রিগ কেনা হবে, সেখানে দক্ষ জনবল দরকার।
এমএন
জাতীয়
প্রধানমন্ত্রীর প্ল্যান বাস্তবায়নে প্রশাসন ঝাঁপিয়ে পড়েছে: জনপ্রশাসন উপদেষ্টা
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার ও প্রশাসন সর্বোচ্চ গতিতে কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’। তিনি এখন সেই প্ল্যান বাস্তবায়নে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন।একটি প্রতিষ্ঠানের সিইও’র মতো প্রতিটি বিষয় ডিটেইলস দেখছেন এবং সেভাবেই কাজ আদায় করছেন।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে লক্ষ্মীপুর সার্কিট হাউসে স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। দায়িত্ব পাওয়ার পর নিজ জেলা লক্ষ্মীপুরে এটিই তাঁর প্রথম সফর।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়ে ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, গত দেড় দশকের অধিক সময় বাংলাদেশে জনপ্রশাসনকে দলীয়করণ করা হয়েছে। এতে জনপ্রশাসন নিরপেক্ষতা হারিয়েছে, দক্ষতা হারিয়েছে। দেশের সর্বস্তরেই প্রায় ধ্বস নেমেছে। প্রশাসনও সেটা থেকে মুক্ত নয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পলিসি অনুযায়ী আমরা একটা দক্ষ, নিরপেক্ষ, মেধাভিত্তিক প্রশাসন দেশের জনগণকে উপহার দেবো। তারা জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করবে, প্রশাসক হিসেবে নয়। সবাই মিলে বাংলাদেশকে বৈষম্যহীন, অন্তর্ভুক্তিমূলক, জবাবদিহিমূলক ও দুর্নীতিমুক্ত দেশ হিসেবে পরিণত করবো।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি-ধানের শীষের সঙ্গে আমাদের আত্মার সম্পর্ক আছে। সবার আগে বাংলাদেশ এটি হচ্ছে আমাদের মূল পরিচয়, মূল বক্তব্য। নির্বাচনের আগে পরিস্থিতি ছিল একরকম, নির্বাচনের পরে পুরোপুরি পরিবর্তন হয়ে গেছে। এখন আমাদের সবার দায়িত্ব এসে পড়েছে। যে কথাগুলো বলে আমরা জনগণের কাছে গিয়েছি, ভোট চেয়েছি, জনগণ অকৃপণভাবে আমাদের ভোট দিয়েছে, নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিএনপি বিজয় অর্জন করেছে। এই বিজয়ের সাংঘাতিক দায়ভার আছে। দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতা অনেক। সেগুলো মনে রেখে আগামী দিনগুলোতে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবো।
তিনি আরও বলেন, একটা উদার গণতান্ত্রিক এবং সমৃদ্ধ-জবাবদিহিমূলক, অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়বো। আমরা সবাই মিলে একত্রে একটা সুন্দর মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলবো। যে ইশতিহার ও অঙ্গীকার করে বিএনপি জনগণের আস্থা অর্জন করেছে, সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করাই হচ্ছে আমাদের পবিত্র দায়িত্ব। এখন শুধু বিএনপি নয়, সবদল একত্রিত হয়ে আমরা এই জাতিকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবো, এটিই আমাদের লক্ষ্য।
এদিন লক্ষ্মীপুর সার্কিট হাউসে গার্ড অব অনার শেষে উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক এস এম মেহেদী হাসান, জেলা পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাহাবুদ্দিন সাবু, যুগ্ম আহবায়ক হাছিবুর রহমান, লক্ষ্মীপুর পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান হাছানুজ্জামান চৌধুরী মিন্টু, বাফুফের সহসভাপতি ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপি, লক্ষ্মীপুর জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আহমেদ ফেরদৌস মানিক, লক্ষ্মীপুর পৌর বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম লিটন, জেলা যুবদলের সভাপতি সৈয়দ রশিদুল হাসান লিংকন ও জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের সভাপতি মহসিন কবির স্বপন প্রমুখ। এ সময় লক্ষ্মীপুর প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকে সাধারণ সম্পাদক সাঈদুল ইসলাম পাবেলসহ অন্যান্য সদস্যরা উপদেষ্টাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।
এমএন
জাতীয়
মব করে ফায়দা নিতে গেলে শক্তি প্রয়োগ করা হবে : আইজিপি
মব কালচারের সমাধান করা সম্ভব জানিয়ে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বলেছেন, এ জন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। তবে কেউ কেউ এই সমস্যার সমাধান চান না, বরং মব থেকে ফায়দা নিতে চান। পুলিশ সেই অপরাধী চক্রগুলোকে চিহ্নিত করে আইনের ভেতরে থেকে শক্তি প্রয়োগ করবে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে রাজধানীর নিরাপত্তাব্যবস্থা পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
আইজিপি বলেন, আইনশৃঙ্খলার উন্নতি না হলে দেশে বিনিয়োগ আসবে না। তিনি আরও বলেন, যার যে অভিযোগ আছে, তা আইনশৃঙ্খলার ভেতরে থেকেই উত্থাপন করুন, প্রয়োজনে আলোচনার টেবিলে বসুন। মব কালচার থেকে তরুণ প্রজন্ম ও রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের বেরিয়ে আসতে হবে।
আইজিপি বলেন, আসন্ন ঈদে নগরবাসী যাতে ছিনতাইকারীর কবলে না পড়েন, ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিরাপদে কেনাকাটা করতে পারেন এবং কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন, সে জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সবাই যাতে সুষ্ঠু ও নিরাপদ পরিবেশে বসবাস করতে পারেন, সে লক্ষ্যে কাজ করছে পুলিশ।
এখন থেকে মাঝেমধ্যে রাতের বেলায় তিনি নিজেও মাঠে থাকবেন বলেও জানান পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।
এমএন
জাতীয়
ডিএমপি কমিশনারের দায়িত্বে মো. সরওয়ার
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার হিসেবে নতুন কেউ যোগদান না করা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত আইজি) মো. সরওয়ার।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) অ্যাডিশনাল ডিআইজি (পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট-১) শামিমা ইয়াছমিন খন্দকার স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এর আগে ‘ব্যক্তিগত ও পারিবারিক’ কারণ দেখিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। যদিও তার চুক্তির মেয়াদ আগামী নভেম্বর পর্যন্ত ছিল।
বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের ১৯৮৪ ব্যাচের কর্মকর্তা শেখ মো. সাজ্জাত আলী বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি থাকা অবস্থায় ২০১৬ সালের নভেম্বরে চাকরিচ্যুত হন।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার ভূতাপেক্ষভাবে তাকে চাকরিতে পুনর্বহাল করে। পরে ২০২৪ সালের ২০ নভেম্বর ডিএমপির ৩৮তম পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পান সাজ্জাত আলী।
এমএন
জাতীয়
ঈদযাত্রা সহজ করতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, বাড়বে না ভাড়া : পরিবহনমন্ত্রী
নৌপথে ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন নৌ, রেল, সেতু ও সড়ক পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম রবি।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নিরাপদ নৌযাত্রা নিশ্চিতকরণার্থে প্রস্তুতিমূলক সভায় এই কথা জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, নৌপথে ঈদে যাত্রা নিরাপদ করতে ২৬টির মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এবারের ঈদযাত্রা নিরাপদ হবে।
চাঁদা ও চাঁদাবাজি এক নয় জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, চাঁদাবাজি অপরাধ, সেটা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেখবে। নৌপথে যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে যাবতীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, ভাড়া বাড়বে না।
শেখ রবিউল বলেন, চাঁদাবাজি হচ্ছে সেটা জোর করে আদায় করা হয়। চাঁদাবাজি থাকবে না সড়কে। শ্রমিক মালিকের সমঝোতায় আদায়কৃত অর্থ চাঁদাবাজি নয়। এটা শ্রমিক কল্যাণে ব্যয় হয়।
তিনি বলেন, ঈদযাত্রায় নতুনত্ব সফলভাবে করতে পারার জন্য ব্যবস্থা নেয়া হবে। সড়কে যানবাহন থেকে চাঁদাবাজির সুযোগ নেই।
মন্ত্রী বলেন, প্রতিমন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টনের কার্যক্রম নিয়ম মেনেই হয়েছে। আমি নিজে থেকে কিছু করিনি। কেবিনেট ডিভিশনের নির্দেশ মেনে করা হয়েছে।
এমএন
জাতীয়
পোশাক শিল্পের সমস্যা ও সমাধানে সুপারিশ চেয়েছেন অর্থমন্ত্রী
বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) কাছে ব্যবসা সহজ করার পথে বিদ্যমান সুনির্দিষ্ট বাধাগুলো চিহ্নিত করে তা সমাধানে পূর্ণাঙ্গ সুপারিশ তালিকা আকারে চেয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এক সপ্তাহের মধ্যে সমস্যা ও সুপারিশসহ এ তালিকা জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রী।
বিজিএমইএর পরিচালনা পর্ষদ গতকাল (বুধবার) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হলে তিনি এই নির্দেশ দেন।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানিয়েছে বিজিএমইএ।
মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎকালে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের নেতৃত্বে সংগঠনটির সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান, সহ-সভাপতি (অর্থ) মিজানুর রহমান, সহ-সভাপতি ভিদিয়া অমৃত খান, সহ-সভাপতি মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী, পরিচালক শাহ রাঈদ চৌধুরী, পরিচালক ফয়সাল সামাদ, পরিচালক মোহাম্মদ আবদুস সালাম, পরিচালক নাফিস- উদ- দৌলা, পরিচালক মজুমদার আরিফুর রহমান এবং পরিচালক ড. রশিদ আহমেদ হোসাইনী উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে পোশাক শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বকেয়া নগদ প্রণোদনা দ্রুত ছাড় ও পদ্ধতি সহজীকরণে অর্থমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চায় বিজিএমইএ। লিখিত বক্তব্যে সংগঠনটি জানায়, বর্তমানে অসংখ্য প্রতিষ্ঠানের নগদ সহায়তার আবেদন লিয়েন ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের অডিট প্রক্রিয়ার জটিলতায় আটকে আছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বস্ত্র ও পোশাক খাতে এখনো প্রায় ৫ হাজার ৭০০ কোটি টাকার প্রণোদনা অনিষ্পন্ন থাকায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো তীব্র অর্থ সংকটে রয়েছে, যা রপ্তানি সক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
বিজিএমইএ নেতারা বকেয়া নগদ সহায়তার অর্থ দ্রুত ছাড় করা, একইসাথে এই প্রক্রিয়াটিকে আরও সহজ ও গতিশীল করা এবং কোনো নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অপেক্ষা না করে (বর্তমানে ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে অর্থ ছাড়ের বিধান রয়েছে) আবেদন জমার সাথে সাথেই যেন অর্থ ছাড়ের ব্যবস্থা করা হয়, সে ব্যাপারে মন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন।
অর্থমন্ত্রী এই দাবির যৌক্তিকতা স্বীকার করে বকেয়া অর্থ দ্রুত ছাড় করার বিষয়ে ইতিবাচক সম্মতি জানান এবং পুরো প্রক্রিয়াটিকে আধুনিক ও সহজতর করার আশ্বাস প্রদান করেন।
এ ছাড়া বৈঠকে বিজিএমইএ-এর সহ-সভাপতি মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন। তিনি জানান, তফসিলি ব্যাংকগুলো এনপিএল পারফরম্যান্স ঠিক রাখতে গিয়ে অনেক সময় ঋণ পুনঃতফসিলীকরণ করলেও সংশ্লিষ্ট কারখানাকে প্রয়োজনীয় ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল দেয় না। ফলে কারখানা সচল হতে পারে না এবং ঋণ পরিশোধও বাধাগ্রস্ত হয়। তিনি একে একটি ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতিতে রূপান্তরের প্রস্তাব দিয়ে বলেন, পুনঃতফসিলের পাশাপাশি ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল পেলে কারখানা সচল হবে এবং ব্যাংকও তার পাওনা ফেরত পাবে। অর্থমন্ত্রী এই প্রস্তাবটির সঙ্গেও একমত পোষণ করেন।
বিজিএমইএ নেতৃবৃন্দ দ্ব্যর্থহীনভাবে উল্লেখ করেন যে, বিশ্ববাজারের তীব্র প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের অবস্থান সুসংহত করতে ব্যবসা সহজীকরণ এবং ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় কমিয়ে আনা এখন সময়ের দাবি। তারা কাস্টমস, বন্দর এবং অন্যান্য প্রশাসনিক স্তরে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করে একটি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ নীতি সহায়তার অনুরোধ জানান।
পরে অর্থমন্ত্রী ব্যবসা সহজ করার পথে বিদ্যমান সুনির্দিষ্ট বাধাগুলো চিহ্নিত করে এবং সেগুলো সমাধানের কার্যকর উপায় সংবলিত একটি পূর্ণাঙ্গ সুপারিশমালা বা তালিকা আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে জমা দেওয়ার জন্য বিজিএমইএ নেতৃবৃন্দকে নির্দেশ প্রদান করেন।
বিজিএমইএ সভাপতি মন্ত্রীকে আশ্বস্ত করেন যে, শিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক একটি বাস্তবধর্মী ও সুনির্দিষ্ট সুপারিশমালা দ্রুততম সময়ের মধ্যে তারা সরকারের কাছে পেশ করবেন।
বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী পোশাক শিল্পকে দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড উল্লেখ করে এই খাতের টেকসই প্রবৃদ্ধিতে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক নীতি সহায়তার আশ্বাস প্রদান করেছেন।
এমএন



