আন্তর্জাতিক
পাল্টা শুল্ক অবৈধ ঘোষণার পর সব দেশের ওপর নতুন ১০ শতাংশ শুল্কারোপ করলেন ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার জানিয়েছেন, তিনি পাল্টা শুল্কের বদলে নতুন করে বিশ্বব্যাপী ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের নির্বাহী আদেশে সই করেছেন। সুপ্রিম কোর্ট তার আরোপ করা বেশিরভাগ শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করে বাতিল করার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই তিনি এই পদক্ষেপ নিলেন।
শুক্রবার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন, তিনি ওভাল অফিসে বসে এই নির্বাহী আদেশে সই করেছেন। তিনি আরও জানান, এই আদেশ ‘প্রায় তাৎক্ষণিকভাবেই’ কার্যকর হবে।
এর আগে শুক্রবারই ট্রাম্প ভিন্ন একটি আইনি ক্ষমতাবলে শুল্কারোপের বিকল্প পরিকল্পনার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। সে সময় তিনি সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তকে ‘অত্যন্ত হতাশাজনক’ ও ‘ভয়ংকর’ আখ্যা দিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন।
হোয়াইট হাউসের ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আদালত ভুলবশত যেসব সিদ্ধান্ত বাতিল করেছে, সেগুলোর জায়গায় এখন অন্যান্য বিকল্প ব্যবহার করা হবে। আমাদের কাছে বিকল্প আছে—দারুণ সব বিকল্প। এর মাধ্যমে হয়তো আরও বেশি অর্থ আয় হতে পারে। আমরা আরও বেশি অর্থ আদায় করব এবং আরও অনেক শক্তিশালী হব।’
হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইতোমধ্যে বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করে ফেলা দেশগুলোর ওপরও এই নতুন ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক আরোপ হবে। এসব দেশ এখন নিজেদের চুক্তিতে নির্ধারিত শুল্ক হারের বদলে সেকশন ১২২-এর অধীনে বৈশ্বিক ১০ শতাংশ শুল্ক দেবে।
ওই কর্মকর্তা বলেন, ১০ শতাংশ শুল্ক হারের আওতাভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্য, ভারত, জাপান ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন রয়েছে। তবে তালিকাটি এখানেই শেষ নয়।
এর ফলে ট্রাম্পের করা অনেক চুক্তিতে শুল্কের হার আগের চেয়ে কমে যাবে। যেমন, আগের বাণিজ্য চুক্তিগুলোতে জাপানের ওপর ১৫ শতাংশ ও ভারতের ওপর ১৮ শতাংশ শুল্কহার নির্ধারণ করা হয়েছিল।
হোয়াইট হাউসের ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন আশা করছে, বাণিজ্য চুক্তির আওতায় ওই দেশগুলো যেসব ছাড় দিতে রাজি হয়েছিল, তারা সেটি মেনে চলবে।
সুপ্রিম কোর্টের ৯ জন বিচারপতির মধ্যে ৬ জন ট্রাম্পের পাল্টা শুল্ক আরোপকে অবৈধ ঘোষণার পক্ষে মত দিয়ে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট তার ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন।
এই সিদ্ধান্তটি ওইসব এই শুল্কবিরোধী ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও মার্কিন অঙ্গরাজ্যগুলোর জন্য বড় বিজয়। এর ফলে ইতিমধ্যে শুল্ক বাবদ দেওয়া শত শত কোটি ডলার ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে একইসঙ্গে এই রায় বিশ্ব বাণিজ্যে নতুন করে অনিশ্চয়তারও জন্ম দিয়েছে।
শুক্রবার হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, আইনি লড়াই ছাড়া এই অর্থ ফেরত দেওয়া হবে না। তিনি আশা করছেন, বিষয়টি নিয়ে বছরের পর বছর আদালতে আইনি লড়াই চলতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, নিজের শুল্কনীতি এগিয়ে নেওয়ার জন্য তিনি অন্য আইনের আশ্রয় নেবেন। তার মতে, এই শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ ও উৎপাদন বাড়াতে সাহায্য করে।
মূলত বিশ্বের প্রায় সব দেশ থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর আরোপ করা আমদানি শুল্ক নিয়ে ছিল আদালতের এই লড়াই।
শুরুতে এই শুল্ক মেক্সিকো, কানাডা ও চীনের ওপর আরোপ করা হয়। পরে গত এপ্রিলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এর পরিধি বাড়িয়ে আরও ডজনখানেক বাণিজ্য অংশীদারের ওপর তা প্রয়োগ করা হয়।
হোয়াইট হাউস ১৯৭৭ সালের ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট-এর (আইইইপিএ) বরাত দিয়ে দাবি করেছিল, এই আইন প্রেসিডেন্টকে জরুরি অবস্থায় বাণিজ্য ‘নিয়ন্ত্রণের’ ক্ষমতা দেয়।
কিন্তু এ পদক্ষেপের ফলে দেশে-বিদেশে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। যেসব প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য পাঠাতে হুট করে বাড়তি করের মুখে পড়েছিল, তারা প্রতিবাদ জানায়। এ শুল্কের কারণে পণ্যের দাম বেড়ে যেতে পারে বলেও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।
গত বছর আদালতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে প্রতিবাদকারী অঙ্গরাজ্য ও ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর আইনজীবীরা বলেন, ট্রাম্প শুল্কারোপের জন্য যে আইন ব্যবহার করেছেন, সেখানে ‘শুল্ক (ট্যারিফ)’ শব্দটির কোনো উল্লেখই নেই।
তারা বলেন, কংগ্রেস তাদের কর আদায়ের ক্ষমতা হস্তান্তর করতে চায়নি। এমনকি বিদ্যমান অন্যান্য বাণিজ্য চুক্তি ও শুল্ক বিধিগুলোকে ‘বাতিল করার জন্য প্রেসিডেন্টকে সীমাহীন ক্ষমতা’ দেওয়ার উদ্দেশ্যও কংগ্রেসের ছিল না।
রক্ষণশীল হিসেবে পরিচিত প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস তার মতামতে এই যুক্তির পক্ষেই অবস্থান নেন।
শুল্ক বাতিলের এই সিদ্ধান্তে আদালতের তিনজন উদারপন্থি বিচারপতির সঙ্গে যোগ দেন ট্রাম্পের মনোনীত দুই বিচারপতি—অ্যামি কোনি ব্যারেট ও নিল গোরসাচ। আর তিন রক্ষণশীল বিচারপতি—ক্ল্যারেন্স টমাস, ব্রেট কাভানাফ ও স্যামুয়েল আলিটো এই রায়ের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন।
হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প বলেন, আদালতে রিপাবলিকান দলের মনোনীত যেসব বিচারপতি তার বাণিজ্য নীতির বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন, তাদের নিয়ে তিনি ‘ভীষণ লজ্জিত’।
তিনি বলেন, ‘দেশের জন্য সঠিক কাজটি করার সাহস দেখাতে না পারায় আদালতের নির্দিষ্ট কয়েকজন সদস্যকে নিয়ে আমি লজ্জিত, ভীষণ লজ্জিত।’
ট্রাম্প আরও বলেন, এ রায়ের কারণে ‘যেসব বিদেশি রাষ্ট্র বছরের পর বছর আমাদের ঠকিয়ে আসছিল, তারা এখন উচ্ছ্বসিত। তারা এতটাই খুশি যে রাস্তায় নেচে বেড়াচ্ছে। তবে তারা বেশিদিন এই নাচ নাচতে পারবে না, এটুকু আমি আপনাদের নিশ্চিত করতে পারি।’
সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর ওয়াল স্ট্রিটের শেয়ারের দাম বেড়ে যায়। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক প্রায় ০.৭ শতাংশ বেড়ে দিনের লেনদেন শেষ করে।
তবে শুল্কের খরচ থেকে মুক্তি ও অর্থ ফেরতের যে আশা করা হচ্ছে, তা হয়তো শেষ পর্যন্ত অধরাই থেকে যেতে পারে।
শুক্রবার ট্রাম্প সেকশন ১২২ নামক এক অব্যবহৃত আইনের আওতায় নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্কারোপের ঘোষণাপত্রে সই করেছেন। এ আইন ব্যবহার করে ১৫০ দিনের জন্য সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্কারোপের ক্ষমতা পাওয়া যায়। এরপর বিষয়টি নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসকে পদক্ষেপ নিতে হয়।
আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে এই নতুন শুল্ক কার্যকর হবে।
এ আদেশে নানা ধরনের পণ্যে শুল্কছাড়ের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নির্দিষ্ট কিছু খনিজ, প্রাকৃতিক সম্পদ ও সার; কমলা ও গরুর মাংসের মতো কিছু কৃষিজাত পণ্য; ওষুধসামগ্রী; কিছু ইলেকট্রনিক পণ্য ও নির্দিষ্ট কিছু যানবাহন। ঠিক কোন কোন নির্দিষ্ট পণ্য এই ছাড় পাবে, আদেশে তা স্পষ্টভাবে বলা হয়নি।
উত্তর আমেরিকার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ইউএসএমসিএ-র আওতায় কানাডা ও মেক্সিকো তাদের সিংহভাগ পণ্যের ওপর শুল্কছাড়ের সুবিধা অব্যাহত রাখবে।
বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, হোয়াইট হাউস হয়তো সেকশন ২৩২ ও সেকশন ৩০১-এর মতো অন্যান্য হাতিয়ারও ব্যবহারের চিন্তা করবে। এসব আইনের মাধ্যমে জাতীয় নিরাপত্তার ঝুঁকি ও অন্যায্য বাণিজ্য চর্চা মোকাবিলায় আমদানি শুল্ক আরোপের সুযোগ রয়েছে।
ট্রাম্প এর আগেও শুল্ক আরোপের জন্য এসব হাতিয়ার ব্যবহার করেছেন। এর মধ্যে গত বছর ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও গাড়ির মতো খাতগুলোর ওপর আরোপ করা শুল্ক উল্লেখযোগ্য। আদালতের এই রায়ে সেই শুল্কগুলোর ওপর কোনো প্রভাব পড়েনি।
আন্তর্জাতিক
লোকসভায় ভোটে বড় পরাজয় মোদির
ভারতের লোকসভায় পাস হতে ব্যর্থ হলো নারী আসন সংরক্ষণ ও লোকসভার আসন সংখ্যা বৃদ্ধির সংশোধনী বিল। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) লোকসভায় বিলটির পক্ষে পর্যাপ্ত ভোট না পড়ায় এটি বাতিল হয়ে যায়। দেশটির সংসদীয় ইতিহাসে একে নরেন্দ্র মোদি সরকারের বড় পরাজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু এ খবর জানিয়েছে।
জানা গেছে, বিলের পক্ষে ২৯৮ জন সদস্য ভোট দিলেও বিপক্ষে ভোট পড়ে ২৩০টি। প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় বিলটি বাতিল হয়। বিলটি ২০২৯ সাল থেকে আইনসভায় নারী কোটা কার্যকর করা এবং লোকসভার আসন সংখ্যা বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রস্তাব করা হয়েছিল। এই বিলটির পরাজয়ের পর সংশ্লিষ্ট আরও দুটি বিল থেকেও সরে আসার ঘোষণা দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।
এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার জানায়, তারা এই সংক্রান্ত অন্য দুটি বিল নিয়েও আর এগোবে না। সরকারের মতে, বিষয়গুলো আলাদাভাবে বিবেচনা করা সম্ভব নয়।
বিলটি খারিজ হওয়ার পর কেন্দ্রীয় সরকার জানায়, তারা এই সংক্রান্ত অন্য দুটি বিল নিয়েও আর এগোবে না। সরকারের মতে, বিষয়গুলো আলাদাভাবে বিবেচনা করা সম্ভব নয়। বিলটি পাস না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করে সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বলেন, গুরুত্বপূর্ণ একটি সংস্কারে ঐকমত্য গড়ে তোলার সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে।
এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বিতর্কের জবাবে জানান, ভোটার ও সংসদ সদস্যদের অনুপাতের ভারসাম্যহীনতা সীমানা পুনর্নির্ধারণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঠিক করা সম্ভব। তিনি অভিযোগ করেন, কংগ্রেস ক্ষমতায় থাকাকালে জনগণকে সীমানা পুনর্নির্ধারণ থেকে বঞ্চিত করেছিল এবং এখনও একই অবস্থান বজায় রেখেছে।
বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধী লোকসভায় তার বক্তব্যে সরকারের এই বিলের তীব্র বিরোধিতা করেন। তিনি দাবি করেন, এই বিলটির সঙ্গে নারী সংরক্ষণের কোনও সম্পর্ক নেই। বরং এটি দেশের নির্বাচনী মানচিত্র বদলের একটি প্রচেষ্টা।
রাহুল গান্ধী বলেন, দক্ষিণ ভারত, উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং ছোট রাজ্যগুলোর প্রতিনিধিত্ব কেড়ে নেওয়ার এই চেষ্টা একটি ‘দেশবিরোধী কর্মকাণ্ড’ ছাড়া আর কিছুই নয়।
আন্তর্জাতিক
সোমবার পাকিস্তানে আবারো বৈঠকে বসতে পারে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র
শান্তি আলোচনায় আগামী সোমবার আবারো পাকিস্তানে বৈঠকে বসতে পারে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র।
ইরানি কর্মকর্তাদের বরাতে সিএনএন এ তথ্য জানিয়েছে। তবে এখনও আমেরিকার তরফে দ্বিতীয় দফার আলোচনা নিয়ে কোনো ঘোষণা আসেনি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আলোচনায় অংশ নিতে দুই দেশের প্রতিনিধিদল সম্ভবত রবিবারই পাকিস্তানের রাজধানীতে পৌঁছাবে। এটি চলমান উত্তেজনা কমাতে নতুন কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে, আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে তারা উত্তেজনা প্রশমন এবং কূটনৈতিক সমাধান এগিয়ে নেওয়ার আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা করেন। মধ্যস্থতাকারী হিসাবে এখন পর্যন্ত পাকিস্তান যা ভূমিকা নিয়েছে, তার প্রশংসা করেছে কাতার ও তুরস্ক। পাশে থাকার আশ্বাসও দিয়েছে।
অন্যদিকে, দ্বিতীয় দফায় আমেরিকা-ইরানকে আলোচনার টেবিলে বসাতে গত বুধবার তেহরানে যান পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৃহস্পতিবার তার দীর্ঘ বৈঠক হয়েছে।
এর আগে ১১-১২ এপ্রিল ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত ‘পিস টকস’ ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর প্রথম সরাসরি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক, যা ঐতিহাসিক হলেও কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি।
আন্তর্জাতিক
চুক্তি না হলে ইরানে আবারো হামলার হুমকি ট্রাম্পের
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি না হলে আবারও সামরিক হামলা শুরু হতে পারে।
এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমঝোতা না হলে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো নাও হতে পারে।
ট্রাম্প বলেন, ‘হয়তো আমি যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াবো না। অবরোধ চলবে এবং দুর্ভাগ্যজনকভাবে আবার বোমা হামলা শুরু করতে হতে পারে।’
এদিকে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিতীয় দফা উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনা আগামী সোমবার (২০ এপ্রিল) পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন। আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইরানি কর্মকর্তাদের বরাতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, দুই দেশের প্রতিনিধিদল রোববার (১৯ এপ্রিল) ইসলামাবাদে পৌঁছাতে পারেন।
এর আগে টানা যুদ্ধের পর ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ১৪ দিনের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। এরপর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে স্থায়ী সমঝোতার লক্ষ্যে কূটনৈতিক আলোচনা চলমান রয়েছে।
আন্তর্জাতিক
ইসরায়েলকে ট্রাম্পের কঠোর বার্তা
লেবাননে হামলা বন্ধ করতে ইসরায়েলকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চলাকালে ইসরায়েল লেবাননে আর কোনো বোমা হামলা করতে পারবে না, যা কার্যত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তিনি স্পষ্ট বলেছেন, আর একটাও বোমা নয়, যথেষ্ট হয়েছে। গেল শুক্রবার ট্রুথ সোশ্যালে কড়া ভাষায় লেখা পোস্টে এই মন্তব্য করেছেন তিনি। খবর নিউ ইয়র্ক পোস্টের
ট্রাম্প আরো জানিয়েছেন, ইহুদি রাষ্ট্র ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রই চালকের আসনে রয়েছে।
এ ছাড়া ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি আলোচনায় পানি ঢেলে দিয়েছেন। ইরান যদি তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম হস্তান্তর করে, বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দুই হাজার কোটি ডলারের জব্দকৃত সম্পদ ছাড়ের কথা বিবেচনা করবেন বলে এমন তথ্য দিয়েছে অনলাইন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট এও অঙ্গীকার করেছেন, কোনোভাবেই হাতে কোনো প্রকার অর্থ লেনদেন হবে না।
ট্রাম্প আরো লিখেছেন, এই চুক্তি কোনোভাবেই লেবাননের ওপর নির্ভরশীল নয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র আলাদাভাবে লেবাননের সঙ্গে কাজ করবে।
সেই সঙ্গে হিজবুল্লাহর কার্যক্রম যথাযথভাবে মোকাবেলা করা হবে।
আন্তর্জাতিক
মার্কিন অবরোধ অব্যাহত থাকলে হরমুজ প্রণালি আবার বন্ধ করে দেওয়া হবে: ইরান
লেবাননে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়ার পর শুক্রবার হরমুজ প্রণালি সাময়িকভাবে খুলে দিয়েছে ইরান আর এতে শান্তি চুক্তি নিয়ে আশাবাদ বেড়েছে, কিন্তু তেহরান সতর্ক করে বলেছে যে যদি ইরানি বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ অব্যাহত থাকে তাহলে তারা আবার এ গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি বন্ধ করে দেবে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি শুক্রবার সামাজিক মাধ্যম এক্স এ এক ঘোষণায় বলেছেন, “লেবাননের যুদ্ধবিরতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে, যুদ্ধবিরতির অবশিষ্ট সময়কালের জন্য ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বন্দর ও সামুদ্রিক সংস্থা কর্তৃক ঘোষিত হরমুজ প্রণালির সমন্বিত পথ দিয়ে সকল বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল পুরোপুরি উন্মুক্ত ঘোষণা করা হল।”
ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী সরু এ প্রণালিটি বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জলপথ। বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস এ পথে বিভিন্ন দেশে সরবরাহ করা হয়। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরান কার্যকরভাবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছিল।
বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের এক যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয় আর তা শুক্রবার থেকে কার্যকর হয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খোমেইনি নিহত হওয়ার পর লেবাননের ইরান সমর্থিত সশস্ত্র রাজনৈতিক সংগঠন হিজবুল্লাহ যুদ্ধে যোগ দেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার অ্যারিজোনায় এক জনসভায় সমর্থকদের বলেছেন যে আরাকচির ঘোষণা ‘বিশ্বের জন্য একটি মহান ও উজ্জ্বল দিন হিসেবে’ চিহ্নিত হয়েছে।
কিন্তু এরপর উভয়পক্ষ থেকে আসা বিবৃতি ও ব্যাখ্যাগুলোর কারণে কতো দ্রুত হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। শুক্রবার কিছু জাহাজকে প্রণালিটি পার হওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসতে দেখা গেছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে।
ট্রাম্প জানিয়েছেন, ‘ইরানের সঙ্গে আমাদের লেনদেন শতভাগ সম্পন্ন’ না হওয়া পর্যন্ত ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ অব্যাহত থাকবে।
এতে ইরান তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার ও জ্যেষ্ঠ আলোচক মোহাম্মদ বাকের কলিবফ সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বলেছেন, “মার্কিন অবরোধ অব্যাহত থাকলে প্রণালিটিও খোলা থাকবে না।”
তিনি বলেছেন, শান্তি আলোচনার বিষয়ে শুক্রবার ট্রাম্প অনেকগুলো মিথ্যা দাবি করেছেন।
ইরান বলেছে, হরমুজ প্রণালি পার হতে চাওয়া সব জাহাজকে অবশ্যই ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সঙ্গে সমন্বয় করে এগোতে হবে।
ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়েল বিবৃতি উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, ‘শত্রুর বাহিনীগুলোর’ সঙ্গে সম্পর্কিত সামরিক জাহাজাগুলোকে (যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল) প্রণালিটি পার হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি।
জাহাজ চলাচলের তথ্য থেকে দেখা গেছে, কন্টেইনার, বাল্ক ক্যারিয়ার, ট্যাঙ্কারসহ প্রায় ২০টি জাহাজ শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে পারস্য উপসাগর হয়ে হরমুজ প্রণালির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু এগুলোর অধিকাংশকেই আবার ফিরে আসতে হয়েছে; কিন্তু কেন তা পরিষ্কার হয়নি।
এই দলটিতে ফরাসি শিপিং গোষ্ঠী সিএমএ সিজিএম এর তিনটি কন্টেইনার জাহাজ ছিল। এ বিষয়ে তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এটিই হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার চেষ্টা করা জাহাজের সবচেয়ে বড় দল।
এর পাশাপাশি ইরানের পারমাণবিক প্রকল্প নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পরস্পর বিরোধী ভাষ্য পাওয়া গেছে। ট্রাম্প রয়টার্সকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ সরিয়ে নেবে। অপরদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে বলেছেন, ইরানের পরিশোধিত ইউরেনিয়াম কোথাও হস্তান্তর করা হবে না।



