জাতীয়
৩ সিটি দিয়ে শুরু হবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন
মেয়াদোত্তীর্ণ ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন আয়োজনের মধ্য দিয়ে স্থানীয় সরকারের নির্বাচন কার্যক্রম শুরু করতে চাইছে ইসি। এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগ ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশনের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এই তিন সিটি নির্বাচন শেষে পর্যায়ক্রমে বাকি ৯ সিটি করপোরেশন এবং পাশাপাশি জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আয়োজন করা হবে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর মেয়র, চেয়ারম্যান ও কাউন্সিলরদের পদত্যাগের প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তী সরকার ১২টি সিটি করপোরেশন, ৩৩০ পৌরসভা, ৪৯৭ উপজেলা পরিষদ এবং ৬৪টি জেলা পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের অপসারণ করে।
বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদ ছাড়া এসব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান প্রশাসকের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। তবে আদালতের আদেশে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন শাহাদাত হোসেন।
ইসি সূত্র জানায়, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন নিয়ে আলোচনা উঠেছিল। সেসময় তিন বড় সিটি করপোরেশন ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিতে চিঠি দেওয়া হয় ইসিকে।
পরে অবশ্য বিএনপিসহ অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের আপত্তির কারণে সংসদের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনে সম্মতি দেয়নি সরকার।
আইন অনুযায়ী, মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে সিটি করপোরেশনের নির্বাচন আয়োজনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২০ সালের ২ জুন। সেই হিসাবে গত বছরের ১ জুন এই সিটির পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ হয়েছে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা হয়েছিল ২০২০ সালের ৩ জুন। এই সিটির পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২৫ সালের ২ জুন।
এ ছাড়া চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি। আইন অনুযায়ী, এই সিটির মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি। এই তিন সিটিতে নির্বাচনের প্রস্তুতি সবচেয়ে জরুরি হয়ে পড়েছে বলে মনে করছে ইসি। এ কারণে প্রথম দফায় সিটিগুলোতেই নির্বাচন আয়োজন করতে চাইছে তারা।
ইসি সূত্র জানায়, চিঠি পাওয়ার পর কমিশন দ্রুত ভোটার তালিকা হালনাগাদ, নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ, প্রার্থী যাচাই-বাছাই এবং নির্বাচনী কর্মকর্তা নিয়োগসহ প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি গ্রহণ করবে। চট্টগ্রাম সিটির জন্য সময় খুবই সীমিত থাকায় সেখানে আলাদা জরুরি পরিকল্পনা নেওয়া হতে পারে।
ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, তাদের মূল দায়িত্বই হচ্ছে নির্বাচন আয়োজন। সবসময়ই নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত থাকতে হয় তাদের। সরকারের নির্দেশনা পাওয়া মাত্রই সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকারের নির্বাচনগুলো আয়োজনের পথে এগোবেন তারা।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ঈদের পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো ধারাবাহিকভাবে সম্পন্ন করা হবে।
এমএন
জাতীয়
আমি কিন্তু জনগণের কামলা, মাননীয় মন্ত্রী বললে খারাপ লাগে : ধর্মমন্ত্রী
বাংলাদেশ সরকারের ধর্মমন্ত্রী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ বলেন, আপনারা যে মাননীয় মন্ত্রী বলেন, আমি কিন্তু জনগণের কামলা। মাননীয় মন্ত্রী বললে খারাপ লাগে, কারণ জনগণ ভোট দিয়েছে কাজ করার জন্য।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে জনগণের কামলা হিসেবে তাদের কাজ করার জন্য নিয়োগ দিয়েছেন। মাননীয় মন্ত্রী বললে একটু খারাপ লাগে, কায়কোবাদ বললেই হবে।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠকের পর সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ের সময় তিনি এসব কথা বলেন।
ধর্মমন্ত্রী বলেন, আপনাদের (সাংবাদিক) মাধ্যমে জনগণের কাছে একটা আহ্বান জানাই—বাংলাদেশের মুসলমান ভাই-বোনেরা, এই রমজান অত্যন্ত পবিত্র মাস। আপনার সবাই দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ে দোয়া করবেন, যাতে করে আল্লাহ আমাদের হেদায়েত নসিব করেন, সহিহ বুঝ দান করেন, আমরা যেন আল্লাহর হুকুম অনুযায়ী দেশটা চালাতে পারি।
জাতীয়
ঢাকার তাপমাত্রা নিয়ে নতুন বার্তা
ঢাকায় আজ দিনের তাপমাত্রা বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সেই সঙ্গে রাজধানীর আকাশ আজ পরিষ্কার থাকার আভাস দিয়েছে সংস্থাটি।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৭টায় ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য দেওয়া এক পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।
পূর্বাভাসে বলা হয়, ঢাকার আকাশ পরিষ্কার থাকতে পারে।
সে সঙ্গে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে। এ ছাড়াও আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। এসময় দক্ষিণ-দক্ষিণপূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৬ থেকে ১২ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে।
এদিকে আজ ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৮ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এসময় বাতাসের আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৮৭ শতাংশ। গতকালের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
সবশেষ সারা দেশের জন্য দেওয়া ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আজ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
এমএন
জাতীয়
১০০ দিনে সরকারের ছয় অগ্রাধিকার
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামী ১০০ দিনের ‘স্বল্পমেয়াদি’ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে নতুন সরকার। এ অনুযায়ী রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নসহ ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অগ্রাধিকার পাচ্ছে বলে জানা গেছে। বাকিগুলো হলো—অর্থনীতি পুনর্গঠন, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতকরণ, কর্মসংস্থান এবং ছয় মাসের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, সুশাসন নিশ্চিতের লক্ষ্যে সরকারের প্রথম ১০০ দিনের প্রধান কাজ হবে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা। দুর্নীতির সিন্ডিকেট ভেঙে দেশে একটি সুশাসন উপহার দিতে বদ্ধপরিকর সরকার। এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী জনগণের প্রত্যাশা পূরণে আইনানুসারে কাজ করা এবং সরকারের ম্যানিফেস্টো বাস্তবায়নের জন্য মন্ত্রিসভার সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন সরকার এমন সময় দায়িত্ব নিল, যখন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সীমাহীন দুর্নীতি-দুঃশাসনে পর্যুদস্ত অর্থনীতিতে বিরাট ক্ষত রয়ে গেছে। ফলে দুর্বল শাসন কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে নতুন সরকার তাদের লক্ষ্য পূরণে কতটুকু সক্ষম হবে, সেটি দেখার বিষয়।
এদিকে সরকার গঠনের পর গতকাল বুধবার প্রথম কর্মদিবসে সচিবালয়ে যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরাও যে যার দপ্তরে যান এদিন। এরপর তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আলোচনার একপর্যায়ে নিত্যপণ্যের দাম নাগালে রাখা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটানোসহ আগামী ১৮০ দিনের কর্মসূচি নির্ধারণ করে তা বাস্তবায়নে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।
সরকারের একাধিক মন্ত্রী জানান, মূলত ছয় মাসের ‘ক্রাশ প্রোগ্রাম’ প্রণয়ন করা হবে। তবে সরকারের প্রথম ১০০ দিনে কী কী কাজ করা হবে, তারও একটি রূপরেখা তৈরি হচ্ছে। সরকারের দায়িত্বশীলরা বলছেন, প্রথম একশ দিন মূলত ‘রাষ্ট্র মেরামতের’ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের সময়। এই সময়ে বড় কোনো অবকাঠামোগত প্রকল্পের চেয়ে নীতিনির্ধারণী সংস্কার এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের ওপর সর্বোচ্চ জোর দেওয়া হবে।
গতকাল রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘ফ্যাসিবাদের সময়কালের দুর্নীতি-দুঃশাসনে পর্যুদস্ত একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি, দুর্বল শাসন কাঠামো আর অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে নতুন সরকার যাত্রা শুরু করেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং কঠোরভাবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জনগণের মনে শান্তি নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনাই হচ্ছে আমাদের সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। জনজীবনে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ উদ্যোগ গ্রহণ করছে। দেশের প্রতিটি সাংবিধানিক এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান চলবে বিধিবদ্ধ নীতি-নিয়মে। দলীয় কিংবা রাজনৈতিক প্রভাব-প্রতিপত্তি অথবা জোরজবরদস্তি নয়; আইনের শাসনই হবে রাষ্ট্র পরিচালনার শেষ কথা।’
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। নতুন সরকার কীভাবে তার প্রথম ১০০ দিনে পূর্বঘোষিত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে পারে, তা নিয়ে বিভিন্ন পরিকল্পনা চলছে। কেননা, দক্ষ জনগোষ্ঠী তৈরি, শিক্ষার উন্নয়ন এবং সুশাসনের রূপরেখা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি নতুন সরকারের জন্য অন্যতম প্রাথমিক চ্যালেঞ্জ। নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনী ইশতেহারে বেশকিছু বিষয়ের কথা আগেই জানিয়েছেন। ‘ন্যায্য, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ’ গড়ার অঙ্গীকার বাস্তবায়নই নতুন প্রধানমন্ত্রীর প্রাথমিক লক্ষ্য। প্রায় চার বছর আগে রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফা রূপরেখা ঘোষণা করেছিলেন তারেক রহমান। সেটিই পরবর্তী সময়ে নির্বাচনী ইশতেহারে বিস্তৃত আকারে সন্নিবেশ করা হয়। যার মূলমন্ত্র হলো ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। ভোটকেন্দ্রিক এমন প্রতিশ্রুতির আলোকে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, প্রশাসনে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, সংবিধাননির্ভর শাসন, গণভিত্তিক কল্যাণ কর্মসূচি এবং জনস্বার্থমুখী অর্থনীতি গড়া প্রাধান্য পাবে। পাশাপাশি তরুণদের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন এবং শিক্ষা পরিব্যাপ্তির প্রতিও নিবিড় মনোযোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। মূলত, শিক্ষা ও দক্ষতা এবং কর্মসংস্থানের প্রাধান্য বিএনপির ইশতেহারের কেন্দ্রবিন্দু। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, সব পরিবারে ‘ফ্যামিলি কার্ড’, স্বাস্থ্য কার্ড, কৃষি কার্ড প্রদানের পাশাপাশি তরুণদের জন্য চাকরি-সংস্থান সৃষ্টির ব্যাপক কর্মসূচি নেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বিএনপির স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার বাইরে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে সুশাসন ও বিচার বিভাগীয় সংস্কার; সংবিধান সংস্কার কমিশন; বিচার বিভাগের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ন রাখা; দুর্নীতি বন্ধ ও মানবাধিকার রক্ষা; প্রধানমন্ত্রী পদে সময়সীমা কার্যকর; দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা; সিন্ডিকেট ভাঙতে কঠোর আইনি ব্যবস্থা এবং নিত্যপণ্যের সরবরাহ চেইন সচল করা; নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য প্রতিটি পরিবারে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ এবং এর মাধ্যমে ভর্তুকি মূল্যে খাদ্য সহায়তা প্রদান; খেলাপি ঋণ আদায়ে টাস্কফোর্স গঠন এবং ব্যাংক খাতে সুশাসন ফিরিয়ে আনতে স্বাধীন কমিশন; শিক্ষিত বেকার যুবকদের জন্য নির্দিষ্ট মেয়াদে বেকার ভাতা প্রদানের নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু করা।
আরও রয়েছে তারেক রহমানের ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির আলোকে পররাষ্ট্রনীতি পরিচালিত করা। বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সমমর্যাদা ও জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক পুনর্মূল্যায়ন। প্রবাসীদের জন্য ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ চালু এবং বিদেশে কেউ মারা গেলে মরদেহ সরকারি খরচে দেশে আনার প্রক্রিয়া সহজ করা। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়াও ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির মধ্যে রয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষকদের ডিজিটাল সরঞ্জামের আওতায় আনাসহ সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে পর্যায়ক্রমে ‘হেলথ কার্ড’ চালু করা হবে। এ ছাড়া সরকারি চাকরিতে মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করা এবং নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ধর্মীয় সংখ্যালঘু, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ সেল গঠন।
গতকাল সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, মোটামুটি প্রথম দিনে কেবিনেট মিটিং করতে হয়। আমরা কেবিনেটের সবাই বসেছিলাম, ওখানে উপদেষ্টারাও ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী আমাদের উদ্দেশে কিছু বক্তব্য দিয়েছেন, অনুশাসনও দিয়েছেন। সাধারণত এটা হয় যে প্রথম ১০০ দিনে কী কী প্রায়োরিটি আছে, তা নির্ধারণ করা। তবে আমরা ১৮০ দিনের প্রায়োরিটি নির্ধারণ করেছি। সেটা আরও পরে আপনারা জানতে পারবেন।
পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ গতকাল কালবেলাকে বলেন, ‘আমরা নতুন সরকার হিসেবে মাত্র দায়িত্ব নিয়েছি। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে বিভিন্ন বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছি। আমাদের কার্যক্রম দ্রুত এগোবে বলে বিশ্বাস করি।’ তিনি বলেন, ‘নতুন সরকার হিসেবে আমাদের প্রথম কাজ হলো রোজার মধ্যে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা, যাতে মানুষের ভোগান্তি না হয়। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে আপাতত মূল লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা একটি দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়তে চাই। দুর্নীতিকে সহ্য করা হবে না। ইনশাআল্লাহ আমাদের ইশতেহার বাস্তবায়নে আমরা সফল হবো।’
বিশ্লেষক অভিমত, সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সাহাবুল হক কালবেলাকে বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবায়নের মধ্যে যে ব্যবধান ঐতিহাসিকভাবে বিদ্যমান, সেটি একটি বাস্তব সত্য। বিএনপির আগামী ১০০ দিনের যে কর্মসূচির কথা বলা হচ্ছে, তা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এর কিছু অংশ বাস্তবায়ন সম্ভব হলেও সবকিছুই এই স্বল্প সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা বাস্তবসম্মত নয়।
তিনি বলেন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের মতো বিষয়গুলো মূলত নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত ও ইচ্ছাশক্তির ওপর নির্ভরশীল। এই মুহূর্তে প্রশাসনে সততা ও দক্ষতা আনতে পারলে এবং বাজার ব্যবস্থায় কার্যকর নজরদারি বসাতে পারলে ১০০ দিনের মধ্যে এর সুফল পাওয়া যেতে পারে।
এই রাজনৈতিক বিশ্লেষক আরও বলেন, ফ্যামিলি কার্ড চালু করা এবং বেকারদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা জটিল ও সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া। একটি নতুন ভাতাভোগী তালিকা প্রণয়ন বা কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন, যা মাত্র সাড়ে তিন মাসে বাস্তবায়ন করা প্রায় অসম্ভব। তবে সরকারের আন্তরিকতা, সুশীল সমাজ ও প্রশাসনের সহযোগিতা থাকলে এই সময়ের মধ্যে কিছু মাইলফলক স্থাপন করা সম্ভব। যেমন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান, জরুরিভিত্তিতে কিছু আইনি সংস্কারের উদ্যোগ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে প্রাথমিক সাফল্য অর্জন করা যেতে পারে। শেষ পর্যন্ত ১০০ দিনের অগ্রাধিকার নির্ধারণী এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ এবং সৎ অভিপ্রায়, যা জনগণের আস্থা অর্জনে সহায়ক হবে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক ও বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মো. শামীম কালবেলাকে বলেন, নতুন সরকার ১০০ দিনের মধ্যে বিশ্বাসযোগ্য পদক্ষেপ নেওয়ার মাধ্যমে একটি ইতিবাচক কর্মসংস্কৃতি এবং সরাসরি উন্নয়নে অগ্রাধিকার দেখাতে পারে। অতীত অভিজ্ঞতা বলে, শাসনতন্ত্রের ধারাবাহিকতা, নীতি সমন্বয় এবং জনমত গ্রহণযোগ্যতায় প্রথম পর্যায়ের সফলতা-পরবর্তী রূপান্তরকে সুসংহত করে। এ সময়ে শিক্ষা-দক্ষতার ক্ষেত্রে রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফার রূপরেখা এবং ইশতেহারকে বাস্তবায়িত করার জন্য বিজ্ঞানভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা দরকার।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি সরকারের প্রথম একশ দিনই হতে পারে সূর্যের হাসির মতো উজ্জ্বল। সুনির্দিষ্ট দক্ষতা, শিক্ষা ও সুশাসন বাস্তবায়নের অঙ্গীকার প্রতিফলনে জাতীয় অগ্রগতির নতুন পথ প্রশস্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। বর্তমান সময়কে সংবেদনশীলতা, জবাবদিহি ও দূরদর্শিতার মাপকাঠিতে সফল করতেই হবে। রাষ্ট্রের সব স্তরে সর্বোচ্চ সততা ও দায়িত্বশীলতা হবে প্রাথমিক প্রতিশ্রুতির সফলতা। যার বাস্তবায়নই হবে নতুন সরকারের ভবিষ্যৎ সময়ের দিকদর্শন।
এমএন
জাতীয়
রমজানের চাঁদ দেখা গেছে, রোজা শুরু বৃহস্পতিবার
দেশের আকাশে পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) থেকে রোজা শুরু।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের ইসলামিক ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ।
আজ রাত থেকেই ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা তারাবির নামাজের মধ্য দিয়ে রোজা রাখার প্রস্তুতি শুরু করবেন।
এর আগে গতকাল সংবাদমাধ্যম আরব নিউজ জানায়, সৌদি আরবের সুপ্রিম কোর্ট মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে দেশটিতে রমজানের চাঁদ দেখা যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
সৌদি আরবে বুধবার থেকে রোজা শুরু হয়েছে।
ইসলামী পঞ্জিকার নবম মাস রমজানকে বছরের সবচেয়ে পবিত্র মাস হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ মাসেই মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)–এর ওপর পবিত্র কোরআন নাজিল হয়।
রমজান মাস ২৯ বা ৩০ দিনের হয়ে থাকে, যা মাসের শেষদিকে চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে নির্ধারিত হয়।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় রমজান মাস।
এমএন
জাতীয়
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সরকারের নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে জয় পেয়ে সরকার গঠন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। সরকারের নতুন মন্ত্রিসভায় রয়েছেন মোট ২৫ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী। তাদের মধ্যে তিনজন টেকনোক্র্যাট হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) তাদের দায়িত্ব বণ্টন করে প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এতে দেখা গেছে, প্রধানমন্ত্রিত্বের পাশাপাশি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের দায়িত্বও পালন করবেন তারেক রহমান।
এমএন



