আইন-আদালত
মানবতাবিরোধী অপরাধে কাদের-সাদ্দামসহ শীর্ষ ৭ নেতার বিচার শুরু আজ
চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ যুবলীগ-ছাত্রলীগের শীর্ষ সাত নেতার বিরুদ্ধে আজ থেকে শুরু হচ্ছে আনুষ্ঠানিক বিচার। প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্যসহ হতে পারে সাক্ষ্যগ্রহণও।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে। প্যানেলের অপর সদস্যরা হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
আইনানুযায়ী আজ ওপেনিং স্টেটমেন্ট বা সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করবেন প্রসিকিউশন। এরপর প্রথম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক বিচারের দিকে এগোবে মামলাটি। যদিও এ মামলায় কেউই গ্রেপ্তার নেই। তাদের অনুপস্থিতিতেই চলবে বিচারকাজ।
পলাতক অন্যরা হলেন— আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান।
গত ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। একইসঙ্গে সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনসহ সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আজকের দিন ধার্য করা হয়। ওই দিন প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ, আবদুস সাত্তার পালোয়ানসহ অন্যরা। সরকারি খরচে নিয়োগ পাওয়া রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী লোকমান হাওলাদার ও ইশরাত জাহানও ছিলেন।
এর আগে, ১৮ জানুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি শেষ করে প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষ। ৮ জানুয়ারি পলাতক আসামিদের পক্ষে স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়।
মানবতাবিরোধী অপরাধে গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দেওয়া ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন আদালত। পাশাপাশি সাতজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
প্রসিকিউশনের আনা অভিযোগ অনুযায়ী আসামিরা জুলাই-আগস্টে আন্দোলন দমনে সমন্বিতভাবে নির্দেশ, প্ররোচনা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। নেতাকর্মীদের রাজপথে নামিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে আহ্বান জানানোসহ একাধিক বৈঠকে সহিংসতার পরিকল্পনা করেন। কোথাও কোথাও সশস্ত্র হামলা, কঠোর দমন-পীড়ন ও গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখেন। তাদের এসব কর্মকাণ্ডের ফলে দেশজুড়ে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও ব্যাপক সহিংসতা সংঘটিত হয়, যা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে শাস্তিযোগ্য।
এমএন
আইন-আদালত
ইবি শিক্ষিকা রুনা হত্যা: প্রধান আসামি কারাগারে, বাকিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষিকা আসমা সাদিয়া রুনা হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফজলুকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে মামলার বাকি তিন আসামি এখনও পলাতক রয়েছে। বুধবার (১ এপ্রিল) ইবি থানার তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, গত ৪ মার্চ সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের পর আহত অবস্থায় ফজলু কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। চিকিৎসকরা তাকে সুস্থ ঘোষণা করলে আদালতে সোপর্দ করা হয় এবং পরে কুষ্টিয়া কারাগারে পাঠানো হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, হত্যাকারী ফজলু শারীরিকভাবে সুস্থ তবে শ্বাসনালী সামান্য কর্তনের কারণে ঢাকা মেডিকেলে সার্জারি জন্য রেফার করা হয়েছিল। এই সার্জারি হলে সে ভালোভাবে কথা বলতে পারবে বলে জানিয়েছিলেন আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ইমাম হোসাইন।
তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফজলুকে জেলে পাঠানো হইছে। গত ৪ মার্চ সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের পর থেকে পুলিশি পাহারায় কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল ফজলুর। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিবেচনায় ওর চিকিৎসা আর প্রয়োজন নাই। সেজন্য ফজলুকে কুষ্টিয়া কোর্টে পাঠাইছে। কুষ্টিয়া কোর্টের আদেশে তাকে কুষ্টিয়া জেলখানায় রাখা হয়েছে।
ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ রানা বলেন, কথা বলতে না পারায় ফজলুর কাছ থেকে এখনো বিস্তারিত তথ্যাদি পাওয়া যায়নি। তবে ফজলুর আহত অবস্থায় ডাক্তারের সামনে একটা লিখিত স্টেটমেন্ট দিয়েছিল। মামলাটি এখনো তদন্তাধীন আছে।
বাকি তিন আসামির ব্যাপারে ওসি মাসুদ রানা বলেন, মামলার অন্য আসামিরা যেন দেশের বাইরে যেতে না পারে সেজন্য বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক আমরা ইতিমধ্যে ইমিগ্রেশনসহ বিভিন্ন স্থানে চিঠি পাঠিয়েছি। তাদের সম্পর্কেও আমাদের মামলাটির তদন্ত চলমান আছে।
উল্লেখ্য, গত ৪ মার্চ আনুমানিক বিকাল ৪টার দিকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনে নিজ অফিস কক্ষে ছুরিকাঘাতে নিহত হন সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ইবি থানায় তার স্বামী ফজলুকে প্রধান আসামিসহ আরও তিনজনকে (দুইজন শিক্ষক ও একজন কর্মকর্তা) মোট চারজনকে আসামি করে মামলা করেন নিহতের স্বামী ইমতিয়াজুর সুলতান। পরে পুলিশ অভিযুক্ত ফজলুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে।
এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সমাজকল্যাণ বিভাগের সাবেক কর্মচারী ও উম্মুল মু’মিনিন আয়েশা সিদ্দিকা হলের সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস, সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার এবং একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাবিবুর রহমানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
বাকি তিন আসামিকে ইতিমধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে৷ এছাড়াও তাদের দেশত্যাগেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। তবে এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে তারা।
এমএন
আইন-আদালত
হাইকোর্টের বিচারপতি রেজাউল হাসানের পদত্যাগ
দুর্নীতির অভিযোগ থাকা সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হাসান পদত্যাগ করেছেন। সোমবার (৩০ মার্চ) সুপ্রিম কোর্টে পাঠানো তার পদত্যাগপত্রটি রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হাসানের বিরুদ্ধে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে অভিযোগ করা হয়। দুর্নীতি, অসদাচরণ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ এনে শাহ গ্রুপের চেয়ারম্যান কে এম মজিবুল হক এ আবেদন করেন।
আবেদনে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলকে বিষয়টি তদন্তের অনুরোধের পাশাপাশি অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংবিধানের আওতায় এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ারও সুপারিশ চাওয়া হয়।
অভিযোগে বলা হয়, ‘বিচারপতি মো. রেজাউল হাসান ২০১০ ও ২০১১ সালের দুটি কোম্পানি মামলার কার্যধারায় পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করেছেন। এক মামলায় সংশ্লিষ্ট সিনিয়র আইনজীবী উপস্থিত না থাকলেও রায়ে তার নামে যুক্তিতর্ক উল্লেখ করা হয়, যা পরে আপিল বিভাগে বাতিল হয়। অন্য মামলায় আবেদনকারীর স্ত্রীকে পক্ষ না করেই তার ১৩ লাখ শেয়ার বাতিল হয়, যা আবেদনকারীর দৃষ্টিতে ন্যায়বিচারের নীতির সম্পূর্ণ পরিপন্থি।’
আইন-আদালত
৬ দিনের রিমান্ডে সাবেক সেনাকর্মকর্তা আফজাল নাছের
এক এগারোর সময়ে নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত সাবেক সেনাকর্মকর্তা আফজাল নাছেরকে ৬ দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে।
সোমবার (৩০ মার্চ) ঢাকার সিএমএম আদালতে তাকে হাজির করা হলে বিচারক মো. হাসিব উল্লাহ পিয়াস এ আদেশ দেন। শুনানিতে তার বিরুদ্ধে বিএনপি নেতাদের নির্যাতন ও ভিডিও ধারণের অভিযোগ তোলে রাষ্ট্রপক্ষ।
২০০৬ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত ডিজিএফআইয়ে কর্মরত ছিলেন আফজাল নাছের। এক এগারোর সময়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ বহু রাজনৈতিক নেতাকে নির্যাতনে বার বার নাম আসে তার।
জুলাইয়ের আন্দোলনে মিরপুরের দেলোয়ার হত্যা মামলায় রোববার মধ্যরাতে আফজাল নাছেরকে আটক করে ডিবি। সোমবার বিকেলে আদালতে নিয়ে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী হেলাল উদ্দিন রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে আবেদন করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
শুনানিতে বয়স বিবেচনায় রিমান্ড বাতিলের আবেদন করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষ বলেন, বেগম খালেদা জিয়া বয়োবৃদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ায় বাধা দিয়েছিলেন আফজাল।
এ পর্যন্ত এক এগারোর কুশিলব তিন সেনাকর্মকর্তাকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
আইন-আদালত
পাচার হওয়া ৪৪ কোটি টাকা ফেরত আনল সিআইডি
অনলাইনভিত্তিক বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্ম এমটিএফই (মেটারভার্স ফরেন এক্সচেঞ্জ)-এর মাধ্যমে পাচার হওয়া বিপুল অর্থের একটি অংশ উদ্ধার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। উদ্ধারকৃত অর্থের পরিমাণ ৩৬ লাখ ২২ হাজার ৯৯৮ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৪ কোটি ১৪ লাখ টাকারও বেশি।
সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানানো হয়।
সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের (সিপিসি) ডিআইজি মো. আবুল বাশার তালুকদার জানান, উচ্চ মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ফরেক্স ট্রেডিংয়ের নামে এমটিএফই গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিল। ২০২৩ সালে খিলগাঁও থানায় জনৈক ভুক্তভোগীর করা দুই লাখ টাকা প্রতারণার মামলার সূত্র ধরে তদন্তে নামে সিআইডি। অনুসন্ধানে দেখা যায়, এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে হাজার হাজার বিনিয়োগকারী কয়েকশ কোটি টাকা খুইয়েছেন।
সিআইডির তদন্তে উঠে এসেছে, ২০২২ সালের জুন থেকে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করে এমটিএফই। ফেসবুক ও ইউটিউবে চটকদার বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে গ্রাহকদের আকৃষ্ট করে ভার্চুয়াল অ্যাকাউন্টে কৃত্রিম মুনাফা দেখানো হতো। শুরুতে কিছু অর্থ ফেরত দিয়ে বিশ্বাস অর্জন করলেও ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে কার্যক্রম বন্ধ করে চক্রটি উধাও হয়ে যায়। বিনিয়োগকারীদের অর্থ বিভিন্ন ক্রিপ্টোকারেন্সি ওয়ালেটের মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হয়েছিল।
পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারের প্রক্রিয়ায় সিআইডি আন্তর্জাতিক ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ ‘ওকেএক্স’ (OKX)-এর সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং ব্লকচেইন বিশ্লেষণের মাধ্যমে অর্থের উৎস নিশ্চিত করে। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশনায় সোনালী ব্যাংকে সরকারি হিসাব খুলে যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘অ্যাসেট রিয়েলিটি লিমিটেড’-এর সহায়তায় ক্রিপ্টোকারেন্সিকে বৈধ মুদ্রায় রূপান্তর করে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।
সিআইডি জানায়, বর্তমানে মামলার তদন্ত চলছে এবং ভুক্তভোগীদের শনাক্ত করে আইনি প্রক্রিয়ায় তাদের অর্থ ফেরত দেওয়ার কাজ শুরু হবে। একই সঙ্গে পাচার হওয়া অবশিষ্ট অর্থ উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সাধারণ মানুষকে এ ধরনের লোভনীয় অফারের ফাঁদে না পড়ার জন্য সিআইডির পক্ষ থেকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
আইন-আদালত
আসিফ মাহমুদের এপিএস মোয়াজ্জেমের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা
অন্তর্বর্তী সরকারের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার সাবেক এপিএস মোয়াজ্জেম হোসেনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আদেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (৩০ মার্চ) ঢাকার মহানগর দায়রা জজ মো. সাব্বির ফয়েজ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন এ তথ্য জানান।
এদিন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) উপপরিদর্শক মো. আব্দুল হান্নান তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেন।
ওই আবেদনে বলা হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্থানীয় সরকার ও ক্রীড়া উপদেষ্টার সাবেক সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) থাকাকালীন সময়ে তদবির বাণিজ্য, টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে শত শত কোটি টাকার মালিকানা অর্জন করেন। এসব অর্থ তিনি অবৈধ উপায়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে পাচার পূর্বক সম্পত্তি অর্জন করার বিষয়ে মানিলন্ডারিং অভিযোগ অনুসন্ধানাধীন রয়েছে।
অভিযুক্ত ব্যক্তি যেকোন সময় বিদেশ গমণ করতে পারে বিধায় অনুসন্ধানটির সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে অনুসন্ধান কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত তার বিদেশ গমণ রোধ করা বিশেষ প্রয়োজন। অনুসন্ধানটি সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে অনুসন্ধান কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত ব্যক্তির বিদেশ গমণ রোধ করার জন্য বিশেষ পুলিশ সুপার (ইমিগ্রেশন), বাংলাদেশ পুলিশ স্পেশাল ব্রাঞ্চ, ঢাকাকে আদেশ দানে মর্জি হয়।
এর আগে দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ২৪ মে একই আদালত মোয়াজ্জেম হোসেনের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্লক এবং দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেন।



