জাতীয়
নির্বাচনে শূন্য শতাংশ ভোট পেয়েছে যে ১০ দল
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের হার দাঁড়িয়েছে ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ। নির্বাচনে সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), দলটি পেয়েছে ৪৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ ভোট। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৩১ দশমিক ৭৬ শতাংশ ভোট। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), যারা পেয়েছে ৩ দশমিক ০৫ শতাংশ ভোট।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ শাখা থেকে পাঠানো ভোটের শতাংশের হিসাব থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, নিবন্ধিত ৫০টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ১০টি দল শূন্য দশমিক শূন্য শতাংশ ভোট পেয়েছে।
এই দলগুলো হলো— বাংলাদেশ সমঅধিকার পার্টি (বিইপি), ইসলামী ঐক্য জোট, গণতন্ত্রী পার্টি, গণফ্রন্ট, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), জাতীয় গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম), বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ) এবং বাংলাদেশ মুসলিম লীগ-বিএনএল।
অন্যদিকে, শূন্য দশমিক ০১ শতাংশ ভোট পাওয়া দলগুলো হলো— আমজনতার দল, গণফোরাম, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি), নাগরিক ঐক্য, বাংলাদেশ কংগ্রেস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (বাংলাদেশ ন্যাপ), বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি (বিএমজেপি), বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, বাংলাদেশ লেবার পার্টি এবং বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট (মুক্তিজোট)।
উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে ৫০টি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। এছাড়া স্বতন্ত্র হিসেবে ২৭৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
জাতীয়
পে স্কেল বাস্তবায়নে প্রথম সভা, আলোচনায় যেসব বিষয়
নবম পে স্কেল প্রণয়নে গঠিত কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান।
বৈঠকে নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকার— জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন ২০২৫ এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটি ২০২৫-এর দাখিল করা প্রতিবেদনের বেতন সম্পর্কিত বিষয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সুপারিশের জন্য এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটি ২০২৫-এর প্রতিবেদনের জন্য সুপারিশ প্রণয়ন কমিটি গঠন করে।
তৎকালীন মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে প্রধান করে গঠন করা এই কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন— জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, অর্থ বিভাগের সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সচিব, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব, আইন ও বিচার বিভাগগের সচিব, হিসাব মহানিয়ন্ত্রক (সিজিএ)।
এ কমিটি প্রতিবেদনের বেতন সম্পর্কিত বিষয়াদি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পরবর্তী কার্যক্রম সংক্রান্ত সুপারিশ প্রণয়ন করে সরকারের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করবে। সেই কাজের জন্যই প্রথম বৈঠকে বসেন কমিটির সদস্যরা।
গত বছরের ২৭ জুলাই নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে অন্তর্বর্তী সরকার। সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন এই বেতন কমিশন চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়।
এদিকে, গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া চলমান অবস্থায় পে স্কেল বাস্তবায়নের জন্য সরকারি চাকরিজীবীরা নতুন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন। নতুন সরকার প্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তারা তাদের দাবি বাস্তবায়নের আবেদন করবেন।
গত শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সরকারি দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের মুখ্য সমন্বয়ক ওয়ারেছ আলী গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়ে বলেন, ‘নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের জন্য আমরা সংগঠনের পক্ষ থেকে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষৎ করব। তিনি আমাদের দাবি বাস্তবায়নে ফলপ্রসূ সিদ্ধান্ত নেবেন বলে আশা করি।’ এর আগে তার নেতৃত্বে সংগঠনের পক্ষ থেকে তারেক রহমানের দপ্তরে আবেদন করা হয়।
এমএন
জাতীয়
আনুপাতিক নাকি আসনভিত্তিক, কোন পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষের আসন বণ্টন
জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনেই অনুষ্ঠিত হয়েছে গণভোট। এই গণভোটে ১২ কোটি ৭৭ লাখ ভোটারের মধ্যে ভোট দিয়েছে সাত কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ভোটার। ৬২ শতাংশের বেশি ভোটার ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পথ খুলেছে।
জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী, নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা একই সঙ্গে সংবিধান সংস্কার পরিষদের দায়িত্ব পালন করবেন। সংস্কার কমিশনের রিপোর্ট নিয়ে দফায় দফায় রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠকের পর গণভোটে মোট ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে ৪৭টি প্রস্তাবনা ছিল সাংবিধানিক। বেশ কয়েকটি সাংবিধানিক সংস্কার প্রস্তাবনায় বিএনপিসহ অন্যান্য দলের নোট অব ডিসেন্ট বা আপত্তি ছিল।
সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনের ঘোষিত ফলাফলে দেখা গেছে, দুই তৃতীয়াংশের বেশি আসনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে বিএনপি। ফলে জুলাই সনদের যে সব বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট নেই, সে সব প্রশ্নে সংস্কারগুলো নিয়ে তেমন কোনো সংকট দেখছেন না সংবিধান বিশ্লেষকরা।
তবে, দুইকক্ষ বিশিষ্ট সংসদের উচ্চকক্ষের গঠন নিয়ে এরই মধ্যে আলোচনা তৈরি হয়েছে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে। কেননা, বিএনপি তাদের ইশতেহারে সংসদের আসন সংখ্যার ভিত্তিতে উচ্চকক্ষ গঠন করার বলেছে। এর বিপরীতে গণভোটের প্রশ্নে সরাসরি সংসদের উচ্চকক্ষের গঠনের কথা বলা হয়েছে আনুপাতিক হারে।
নির্বাচনের ফলাফলে দেখা গেছে, বিএনপি এককভাবে ২৯০ আসনে নির্বাচনে অংশ নিয়ে ৪৯.৯৭ শতাংশ, জামায়াত এককভাবে ২২৭ আসনে নির্বাচন করে ৩১.৭৬ শতাংশ ভোট পেয়েছে।
তবে জোটবদ্ধ ভোটের হিসেবে বিএনপি ৫১ শতাংশের বেশি ও জামায়াত-এনসিপি জোট ৩৮ দশমিক ৫১ শতাংশ ভোট পেয়েছে। আবার আসন সংখ্যার হিসেবে বিএনপি জোট ২১২টি এবং জামায়াত- এনসিপি জোট জিতেছে ৭৭টি আসন।
এখন আসন সংখ্যার হিসেবে যদি জাতীয় সংসদের উচ্চকক্ষ গঠন করা হয়, তাহলে বিএনপি জোট ১০০টির মধ্যে ৭০টি, জামায়াতে ইসলামী অন্তত ২৬টি, এনসিপি ২টি আসন পেতে পারে। এর বিপরীতে ভোটের আনুপাতিক হারের বিবেচনায় উচ্চকক্ষ গঠন হলে, বিএনপি জোটের আসন কমে হবে ৫২ থেকে ৫৩ টি, আর জামায়াত জোটের অন্তত ৩৮টি।
জুলাই সনদে ভোটের আনুপাতিক হারে উচ্চকক্ষের আসন বণ্টন নিয়ে বলা হলেও এ নিয়ে আপত্তি ছিল। এর বিপরীতে বিএনপি তাদের ইশতেহারে বলেছে তারা ক্ষমতায় গেলে উচ্চকক্ষ গঠন করবে আসন সংখ্যার ভিত্তিতে।
এই প্রশ্ন নিয়ে নির্বাচনের দিন থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বলেন, গণভোটের ব্যালটে চারটি ক্যাটাগরি ছিল। সেখানে উচ্চকক্ষের গঠন যে ভোটের আনুপাতিক হারে হবে, সেটার ওপর সরাসরি ভোট হয়েছে। এছাড়া নির্বাচনকালীন সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ার আলোকে গঠন করা হবে।
তিনি বলেন, উচ্চকক্ষ বিষয়ে ব্যালটে সরাসরি ভোটাররা ভোট দিয়েছেন। আর বিএনপির ইশতেহার গণভোটে পাশ হয়নি।
তিনি প্রশ্ন রাখেন, গণভোটের ব্যালটে উপস্থাপিত একটা ইস্যু ডাইরেক্টলি (প্রত্যক্ষভাবে) অ্যাপ্রুভ হইছে, আরেক ইস্যু ইনডাইরেক্টলি (পরোক্ষভাবে) ঘোষণা হয়েছে দলের পক্ষ থেকে, তাহলে কোনটা প্রাধান্য পাবে?
তবে, এটি নিয়ে যে পরবর্তী আলোচনা বির্তক চলবে সেটি একবাক্যে বলেছে অন্তর্বর্তী সরকার ও সংবিধান বিশ্লেষকদের অনেকেই।
জাতীয়
বিএনপি ৫০ শতাংশ, জামায়াত ৩২ শতাংশ ভোট পেয়েছে: ইসি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ৪৯ দশমিক ৯৭, জামায়াত ৩১ দশমিক ৭৬ শতাংশ ভোট পেয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আর দলগতভাবে তৃতীয় সর্বোচ্চ আসনপ্রাপ্ত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থীরা পেয়েছেন ৩ দশমিক ০৫ শতাংশ ভোট। তবে সাতটি আসনে বিজয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ঘরে গেছে ৫ দশমিক ৭৯ শতাংশের সমর্থন।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ইসির জনসংযোগ শাখা এ তথ্য জানিয়েছে।
এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পেয়েছে মোট ভোটের ২ দশমিক ৭০ শতাংশ, দলটি একটি আসনে জয় পেয়েছে। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ পেয়েছে দুই দশমিক শূন্য নয় শতাংশ ভোট।
এর বাইরে বাকি দলের ভোটের হার এক শতাংশেরও নিচে। জাতীয় পার্টি লাঙ্গল প্রতীকে ১৯৯টি আসনে প্রার্থী দিলেও দলটির প্রাপ্ত ভোটের হার দশমিক ৮৯ শতাংশ।
ইতোমধ্যে বিএনপি জোট ২১২ আসন পেয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। আর ১১ দলীয় জোট পেয়েছে ৭৭টি আসন। ১৭ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) সকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত ব্যক্তিদের শপথ পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন। বিকেলে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ হবে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায়। সংবিধান অনুযায়ী, মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
গত বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। পরদিন শুক্রবার রাতে নির্বাচনে বিজয়ী ব্যক্তিদের গেজেট প্রকাশ করেছে ইসি।
জাতীয়
শপথ অনুষ্ঠানে আসছেন না মোদি, ভারতের প্রতিনিধিত্ব করবেন স্পিকার
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে নবনির্বাচিত বাংলাদেশের সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে আসছেন না ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই অনুষ্ঠানে ভারত সরকারের প্রতিনিধিত্ব করবেন দেশটির লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা।
রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। আগামী মঙ্গলবার এই শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রিও উপস্থিত থাকবেন বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘গুরুত্বপূর্ণ এই অনুষ্ঠানে স্পিকারের অংশগ্রহণ ভারত ও বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বকে তুলে ধরে এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, যা আমাদের দুই জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছে, তার প্রতি ভারতের অবিচল প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে।’
অভিন্ন ইতিহাস, সংস্কৃতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধে আবদ্ধ প্রতিবেশী হিসেবে ভারত বাংলাদেশে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন একটি নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে যে গণতান্ত্রিক উত্তরণ ঘটছে, তাকে স্বাগত জানায়। তারেক রহমানের লক্ষ্য ও মূল্যবোধ দেশের জনগণের বিপুল সমর্থন লাভ করেছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে বিএনপি। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সরকার আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ নিতে যাচ্ছে।
নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস চীন, ভারত, পাকিস্তানসহ ১৩ দেশের সরকারপ্রধানদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। দিল্লি থেকে জানা গেছে, শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গতকাল শনিবার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের পাঠানো আমন্ত্রণপত্র পেয়েছেন।
জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী দল বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে অন্তর্বর্তী সরকার ১৩টি দেশের সরকারপ্রধানদের আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত নেয়। আমন্ত্রিত দেশের তালিকায় আরও রয়েছে সৌদি আরব, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মালয়েশিয়া, ব্রুনেই, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মালদ্বীপ ও ভুটান।
এমএন
জাতীয়
শপথ অনুষ্ঠানে সার্কভুক্ত দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে: আইন উপদেষ্টা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ সদস্য ও নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় হবে। আর বিকেল চারটায় নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়ানো হবে। এই রাষ্ট্রীয় আয়োজনে অংশ নিতে সার্কভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়ী আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। এর আগে আজ সকালে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে উপদেষ্টাদের শেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
আইন উপদেষ্টা বলেন, আজকে তাঁদের বিদায়ী বৈঠক ছিল। বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। নিজেদের কাজকর্ম ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করেছেন। এ ছাড়া শপথ অনুষ্ঠান সম্পর্কে সবাইকে অবহিত করা হয়েছে।
আইন উপদেষ্টা আরও জানান, মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় সংসদ সদস্যদের শপথ হচ্ছে। খুব সম্ভবত প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পড়াবেন। বিএনপি থেকে জানানো হয়েছে, বেলা সাড়ে ১১টা বা দুপুর ১২টার দিকে সেখানে সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচন করা হবে।
বিকেল চারটায় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় মন্ত্রিসভার শপথ হবে বলেন আইন উপদেষ্টা। তিনি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত তিনি যতুটুকু জানেন, এটি রাষ্ট্রপতি পড়াবেন।
সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় শপথের বিষয়টি বিএনপির পক্ষ থেকে ইচ্ছা প্রকাশ করা হয় বলে জানান আইন উপদেষ্টা।
প্রথা অনুযায়ী যাঁদের আমন্ত্রণ জানানোর কথা, সেটাই করা হবে উল্লেখ করে আইন উপদেষ্টা বলেন, এটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ দেখছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে আইন উপদেষ্টা বলেন, এ সম্পর্কে তাঁর জানা নেই। শুধু আজকে শুনেছেন, এখন পর্যন্ত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সার্কভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বলা হয়েছে। কোনো প্রধানমন্ত্রীর ব্যাপারে তিনি জানেন না।
এমএন



