আন্তর্জাতিক
খামেনির সঙ্গে মুখোমুখি সংলাপে বসতে রাজি ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
স্থানীয় সময় শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) ব্লুমবার্গকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে রুবিও বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট (ট্রাম্প) অনেকবার বলেছেন, তার পছন্দ হলো ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছানো। এটা খুব কঠিন হলেও তিনি চেষ্টা করবেন। আমরা এখন সেটাই করার চেষ্টা করছি।’
পারস্পরিক যোগাযোগের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে রুবিও বলেন, তিনি এমন এক প্রেসিডেন্টের অধীনে কাজ করছেন যিনি ‘যেকোনো ব্যক্তির সঙ্গে দেখা করতে প্রস্তুত’।
তিনি আরও বলেন, ‘আমি যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলতে পারি, যদি আয়াতুল্লাহ (আলি খামেনি) আগামীকাল বলেন যে তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করতে চান, তাহলে প্রেসিডেন্ট তার সঙ্গে দেখা করবেন।’
তার মতে, এর মানে এই নয় যে ট্রাম্প আয়াতুল্লাহর মতামতের সঙ্গে একমত, বরং তিনি মনে করেন সরাসরি আলাপচারিতাই সমস্যার সমাধানের উপায়। সমস্যার সমাধান এভাবেই করতে হয়।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন প্রসঙ্গে রুবিও বলেন, ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেয়া হবে না। কারণ ইরানের হাতে পরমাণু অস্ত্র এলে তা যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, অঞ্চল এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি।
রুবিও বলেন, ‘আমরা এই অঞ্চলে আমাদের বাহিনী রাখতে চাই, কারণ ইরান অতীতে এই অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থের ওপর একাধিকবার আঘাত করেছে।
তিনি আরও বলেন, ইরান অতীতে আমাদের ওপর হামলা চালাতে বা আমাদের ঘাঁটিগুলোকে হুমকি দিতে প্রস্তুত ছিল। তাই যুক্তরাষ্ট্রকে সেখানে ‘যথেষ্ট সামরিক সক্ষমতা’ রাখতে হবে, যাতে ইরান কোনো ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে বড় ধরনের সংঘাত উসকে না দেয়।
এদিকে ইরানে কয়েক সপ্তাহব্যাপী সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। বিষয়টি সম্পর্কে জানাশোনা আছে দুইজন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প হামলার নির্দেশ দিলেই এ অভিযান শুরু হবে। পরিস্থিতি সেই পর্যায়ে গেলে এটি দুই দেশের মধ্যে আগে দেখা যেকোনো সংঘাতের চেয়ে অনেক বেশি গুরুতর রূপ নিতে পারে।
এমএন
আন্তর্জাতিক
নাইজেরিয়ায় বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত ৩২
নাইজেরিয়ার প্রত্যন্ত গ্রামে বন্দুকধারীর হামলায় অন্তত ৩২ জন্য নিহত হয়েছেন। শনিবারের নাইজার রাজ্যের বোরগু এলাকায় মোটরসাইকেলে আসা বন্দুকধারীরা এই তাণ্ডব চালায়। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে আলজাজিরা।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলে নিরাপত্তা সংকট জটিল আকার ধারণ করেছে।
এলাকাটিতে আইএসআইএলএর সাথে সম্পৃক্ত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির উপদ্রব রয়েছে। সেইসঙ্গে বিচ্ছিন্ন কিছু সশস্ত্র গোষ্ঠী রয়েছে যারা মুক্তিপণের জন্য মানুষকে অপহরণ করে।
হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে নাইজার রাজ্য পুলিশের মুখপাত্র ওয়াসিউ আবিওদুন বলেন, ‘টুঙ্গা-মাকেরি গ্রামে হামলা চালিয়েছে ডাকাতরা। এতে এই গ্রামের ৬ জন মারা গেছেন, কিছু বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কতজনকে অপহরণ করা হয়েছে তা এখনো নিশ্চিত নয়। হামলাকারীরা এরপর কনকোসো গ্রামে হামলা চালায়।’
কনকোসোর বাসিন্দা জেরেমিয়া টিমোথি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, তার গ্রামে ভোরে বিক্ষিপ্ত গুলিবর্ষণের মাধ্যমে আক্রমণ শুরু হয়। তিনি আরো জানান, তার গ্রামে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ২৬ জন নিহত হয়েছেন। গ্রামের থানায় আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানান এই বাসিন্দা।
এদিকে একটি মানবাধিকার সংস্থার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মীর বরাত দিয়ে এএফপি জানিয়েছে, কনকোসোতে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৮ জনে। ওই সূত্রের দাবি, নিহতদের গুলি করে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। গ্রামের বেশির ভাগ বাড়িই আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
কনকোসোর একজন বাসিন্দা এএফপিকে জানান, বন্দুকধারীরা তার ভাগ্নেকে হত্যা করেছে এবং চার নারীকে অপহরণ করেছে।
তিনি আরো বলেন, কনকোসোর পরে, তারা পিসা গ্রামে হামলা চালায়। সেখানে পুলিশ স্টেশনও পুড়িয়ে দেয় এবং একজনকে হত্যা করে। বর্তমানে অনেক মানুষ নিখোঁজ রয়েছে বলে জানান তিনি।
এমএন
আন্তর্জাতিক
ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছেন ট্রাম্প-নেতানিয়াহু
ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ওয়াশিংটনে তাদের বৈঠকে বলা হয়েছে, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে রোধ করা মূল লক্ষ্য। এজন্য যুক্তরাষ্ট্র ম্যাক্সিমাম প্রেসার নীতি জোরদার করবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক প্রস্তুতিও বজায় রাখবে।
তবে পদ্ধতি নিয়ে দুজনের মধ্যে কিছু মতভেদ আছে। নেতানিয়াহু সতর্ক করেছেন, ইরান কোনো চুক্তি মানবে না। আর ট্রাম্প কিছুটা আশাবাদী। তিনি বলেছেন, চেষ্টা করে দেখা যাক।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন পারমাণবিক বৈঠক হতে যাচ্ছে জেনেভাতে। এর আগে মাসকটে প্রথম দফার পরোক্ষ আলোচনা হয়েছিল, যেটিকে উভয়পক্ষ গঠনমূলক বলে বর্ণনা করেছে। ইরান শুধু পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চায়, ক্ষেপণাস্ত্র বা আঞ্চলিক মিত্রদের বিষয়ে কোনো সীমাবদ্ধতা মানবে না।
যুক্তরাষ্ট্র মূলত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের সমর্থন রোধ করতে চায়।
প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে কয়েক সপ্তাহের সামরিক অভিযান চালানোর জন্যও প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইতিমধ্যেই ইউএসএস জেরাল্ড আর ফর্ড স্ট্রাইক গ্রুপ ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের সঙ্গে মিলিয়ে হরমুজ প্রণালী এলাকায় মোতায়েন হয়েছে।
বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধি ও পারমাণবিক আলোচনার মধ্যে এ পদক্ষেপ ইরানকে কূটনৈতিক ছাড় দিতে প্ররোচিত করতে পারে, কিন্তু উত্তেজনা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকিও বাড়াবে।
এমএন
আন্তর্জাতিক
দেড় লাখ আফগানিকে ফেরত পাঠাল পাকিস্তান-ইরান
চলতি বছরে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার আফগান নাগরিক দেশে ফিরেছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা। পাকিস্তান ও ইরান থেকে তারা দেশে ফিরেছেন। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, এত বিপুল ও দ্রুত প্রত্যাবর্তন আফগানিস্তানকে আরও গভীর সংকটে ঠেলে দিচ্ছে।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) জিও নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ইউএনএইচসিআরের আফগানিস্তান প্রতিনিধি আরাফাত জামাল জেনেভায় এক ব্রিফিংয়ে বলেন, চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার আফগান ইরান ও পাকিস্তান থেকে ফিরে এসেছেন। কাবুল থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি বলেন, তীব্র শীত, তুষারপাত ও হিমাঙ্কের নিচে তাপমাত্রার মধ্যে এত মানুষের ফিরে আসা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
ইউএনএইচসিআর জানায়, ২০২৫ সালে ইতোমধ্যে ২৯ লাখ মানুষ দেশে ফিরেছেন। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত মোট প্রত্যাবর্তনের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৪ লাখে।
সংস্থাটির মুখপাত্র বাবর বালুচ জানান, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রত্যাবর্তনের হার ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। গত বছর এ সময়ে সংখ্যা ছিল এক লাখের কিছু কম।
দশকের পর দশক আফগান শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ার পর সম্প্রতি পাকিস্তান ও ইরান সীমান্তে কড়াকড়ি বাড়িয়ে ব্যাপক বহিষ্কার কার্যক্রম জোরদার করেছে। ফলে লাখ লাখ মানুষ এমন এক দেশে ফিরছেন, যেখানে দারিদ্র্য, মানবাধিকার সংকটে নাজুক অর্থনীতি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব বিদ্যমান।
জামাল বলেন, ইউএনএইচসিআরের জরিপ অনুযায়ী অনেক পরিবারের সদস্যদের নাগরিক নথিপত্র নেই এবং ৯০ শতাংশের বেশি পরিবার দৈনিক ৫ ডলারেরও কম আয়ে জীবনযাপন করছে। তিনি আরও জানান, অনেকে টেকসই জীবিকা গড়তে না পেরে আবার দেশ ছাড়ার কথাও ভাবছেন।
বর্তমানে ইউএনএইচসিআর পুনর্বাসন ও পুনঃএকীভূতকরণ কার্যক্রমে জোর দিচ্ছে। তবে সংস্থাটি জানিয়েছে, এ বছর বাস্তুচ্যুত ও প্রত্যাবর্তনকারীদের সহায়তায় ২১ কোটি ৬০ লাখ ডলার প্রয়োজন হলেও এখন পর্যন্ত তহবিলের মাত্র ৮ শতাংশ সংগ্রহ হয়েছে।
জামাল বলেন, দীর্ঘ নির্বাসনের পর নিজ দেশে ফিরে আসা আফগানদের জন্য টেকসই সমাধান খুঁজে বের করার এখনই গুরুত্বপূর্ণ সময়।
এমএন
আন্তর্জাতিক
সিরিয়া থেকে কয়েক হাজার কুখ্যাত অপরাধীকে সরাল যুক্তরাষ্ট্র
সিরিয়া থেকে কয়েক হাজার কুখ্যাত অপরাধীকে সরিয়ে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মাত্র ২৩ দিনের অপারেশনে দেশটি থেকে ৫ হাজার ৭০০-এর বেশি প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ আইএসআইএস (দায়েশ) যোদ্ধাকে ইরাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড শুক্রবার জানিয়েছে, উত্তর-পূর্ব সিরিয়া থেকে ৫ হাজার ৭০০-এর বেশি অপরাধীকে ইরাকের হেফাজতে স্থানান্তরের ২৩ দিনের মিশন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। গত ২১ জানুয়ারি শুরু হওয়া এই স্থানান্তর কার্যক্রম ১২ ফেব্রুয়ারি রাতে সিরিয়া থেকে ইরাকে শেষ ফ্লাইটের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।
সেন্টকমের বিবৃতিতে বলা হয়, মার্কিন বাহিনী আটক ব্যক্তিদের নিরাপদ কারাগারে রাখার লক্ষ্যে সফলভাবে তাদের ইরাকে পৌঁছে দিয়েছে। তাদের আটক অবস্থা নিরাপদ রাখতে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সেন্টকম কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্রাড কুপার বলেন, স্থল ও আকাশপথে অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং এই মিশন পেশাদারিত্ব ও আঞ্চলিক অংশীদারদের সহযোগিতায় সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য যৌথ বাহিনীকে অভিনন্দন। আটক ব্যক্তিদের স্থানান্তর আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ—এ বিষয়ে ইরাকের নেতৃত্ব ও স্বীকৃতির জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই মিশনের পরিকল্পনা, সমন্বয় ও বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দিয়েছে সিজেটিএফ-ওআইআর। সিজেটিএফ-ওআইআরের কমান্ডার মেজর জেনারেল কেভিন লামবার্ট বলেন, জোট বাহিনীর অসাধারণ কাজের জন্য আমি অত্যন্ত গর্বিত। সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ এই স্থানান্তর কার্যক্রম সিরিয়ায় আইএসআইএসের পুনরুত্থান ঠেকাতে সহায়ক হবে।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে আইএসআইএসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অংশীদার বাহিনীকে পরামর্শ, সহায়তা ও সক্ষমতা বাড়াতে সেন্টকম সিজেটিএফ-ওআইআর গঠন করে। ২০১৯ সালে জঙ্গিগোষ্ঠীটি ভৌগোলিকভাবে পরাজিত হলেও, আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখনও যৌথ তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
এমএন
আন্তর্জাতিক
ইরানে সপ্তাহব্যাপী হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও অভ্যন্তরীণ অস্থিতিশীলতার চরম উত্তেজনার মধ্যেই দেশটিতে কয়েক সপ্তাহব্যাপী সামরিক অভিযানের চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। দুজন মার্কিন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, এবারের সম্ভাব্য সংঘাত আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি গুরুতর ও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামলার নির্দেশ দিলেই এ অভিযান শুরু হবে। পরিস্থিতি সেই পর্যায়ে গেলে এটি দুই দেশের মধ্যে আগে দেখা যে কোনো সংঘাতের চেয়ে অনেক বেশি গুরুতর রূপ নিতে পারে।
পরিকল্পনার গোপনীয়তার কারণে ওই কর্মকর্তারা নিজেদের নাম প্রকাশ করেননি। তবে এই খবর বাইরে আসা দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক ঝুঁকি আরও বাড়িয়েছে।
পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে গত সপ্তাহে ওমানের মাসকাটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠক হয়েছে। তবে এর আগে থেকেই ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক শক্তি জোরদার করেছে, যা নতুন সামরিক পদক্ষেপের আশঙ্কা বাড়িয়েছে।
শুক্রবার মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, পেন্টাগন মধ্যপ্রাচ্যে আরও একটি বিমানবাহী রণতরী পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। এছাড়া হাজার হাজার অতিরিক্ত সেনা, যুদ্ধবিমান, গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার এবং আক্রমণ ও প্রতিরক্ষা সক্ষম অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করা হচ্ছে।
শুক্রবার নর্থ ক্যারোলিনার একটি ঘাঁটিতে মার্কিন সেনাদের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তি করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, কখনো কখনো ভয় দেখাতে হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে এটাই একমাত্র কার্যকর উপায়।
সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি বিষয়ে জানতে চাইলে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি বলেন, ইরানকে ঘিরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সব বিকল্পই খোলা রেখেছেন। তিনি আরও বলেন, তিনি যে কোনো ইস্যুতে বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি শোনেন, তবে দেশের স্বার্থ ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে ভালো যেটি সেটি বিবেচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন।
যদিও পেন্টাগন এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। গত বছর যুক্তরাষ্ট্র এ অঞ্চলে দুটি বিমানবাহী রণতরী পাঠিয়েছিল এবং ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়। তবে গত জুন মাসের ‘মিডনাইট হ্যামার’ অভিযান ছিল একক মার্কিন হামলা, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র থেকে উড্ডয়ন করা স্টেলথ বোমারু বিমান ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় আঘাত হানে। জবাবে ইরান কাতারে একটি মার্কিন ঘাঁটিতে সীমিত পাল্টা হামলা চালায়।
মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, এবার যে পরিকল্পনা করা হচ্ছে, তা আগের চেয়ে অনেক বেশি জটিল। একজন কর্মকর্তার মতে, দীর্ঘমেয়াদি অভিযানে মার্কিন সামরিক বাহিনী শুধু পারমাণবিক অবকাঠামো নয়, ইরানের রাষ্ট্রীয় ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত স্থাপনায়ও হামলা চালাতে পারে।তবে এ নিয়ে সুনির্দিষ্ট করে কোনো তথ্য দিতে অস্বীকার করেছেন ওই মার্কিন কর্মকর্তা।



