আন্তর্জাতিক
দেড় লাখ আফগানিকে ফেরত পাঠাল পাকিস্তান-ইরান
চলতি বছরে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার আফগান নাগরিক দেশে ফিরেছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা। পাকিস্তান ও ইরান থেকে তারা দেশে ফিরেছেন। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, এত বিপুল ও দ্রুত প্রত্যাবর্তন আফগানিস্তানকে আরও গভীর সংকটে ঠেলে দিচ্ছে।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) জিও নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ইউএনএইচসিআরের আফগানিস্তান প্রতিনিধি আরাফাত জামাল জেনেভায় এক ব্রিফিংয়ে বলেন, চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার আফগান ইরান ও পাকিস্তান থেকে ফিরে এসেছেন। কাবুল থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি বলেন, তীব্র শীত, তুষারপাত ও হিমাঙ্কের নিচে তাপমাত্রার মধ্যে এত মানুষের ফিরে আসা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
ইউএনএইচসিআর জানায়, ২০২৫ সালে ইতোমধ্যে ২৯ লাখ মানুষ দেশে ফিরেছেন। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত মোট প্রত্যাবর্তনের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৪ লাখে।
সংস্থাটির মুখপাত্র বাবর বালুচ জানান, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রত্যাবর্তনের হার ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। গত বছর এ সময়ে সংখ্যা ছিল এক লাখের কিছু কম।
দশকের পর দশক আফগান শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ার পর সম্প্রতি পাকিস্তান ও ইরান সীমান্তে কড়াকড়ি বাড়িয়ে ব্যাপক বহিষ্কার কার্যক্রম জোরদার করেছে। ফলে লাখ লাখ মানুষ এমন এক দেশে ফিরছেন, যেখানে দারিদ্র্য, মানবাধিকার সংকটে নাজুক অর্থনীতি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব বিদ্যমান।
জামাল বলেন, ইউএনএইচসিআরের জরিপ অনুযায়ী অনেক পরিবারের সদস্যদের নাগরিক নথিপত্র নেই এবং ৯০ শতাংশের বেশি পরিবার দৈনিক ৫ ডলারেরও কম আয়ে জীবনযাপন করছে। তিনি আরও জানান, অনেকে টেকসই জীবিকা গড়তে না পেরে আবার দেশ ছাড়ার কথাও ভাবছেন।
বর্তমানে ইউএনএইচসিআর পুনর্বাসন ও পুনঃএকীভূতকরণ কার্যক্রমে জোর দিচ্ছে। তবে সংস্থাটি জানিয়েছে, এ বছর বাস্তুচ্যুত ও প্রত্যাবর্তনকারীদের সহায়তায় ২১ কোটি ৬০ লাখ ডলার প্রয়োজন হলেও এখন পর্যন্ত তহবিলের মাত্র ৮ শতাংশ সংগ্রহ হয়েছে।
জামাল বলেন, দীর্ঘ নির্বাসনের পর নিজ দেশে ফিরে আসা আফগানদের জন্য টেকসই সমাধান খুঁজে বের করার এখনই গুরুত্বপূর্ণ সময়।
এমএন
আন্তর্জাতিক
সিরিয়া থেকে কয়েক হাজার কুখ্যাত অপরাধীকে সরাল যুক্তরাষ্ট্র
সিরিয়া থেকে কয়েক হাজার কুখ্যাত অপরাধীকে সরিয়ে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মাত্র ২৩ দিনের অপারেশনে দেশটি থেকে ৫ হাজার ৭০০-এর বেশি প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ আইএসআইএস (দায়েশ) যোদ্ধাকে ইরাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড শুক্রবার জানিয়েছে, উত্তর-পূর্ব সিরিয়া থেকে ৫ হাজার ৭০০-এর বেশি অপরাধীকে ইরাকের হেফাজতে স্থানান্তরের ২৩ দিনের মিশন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। গত ২১ জানুয়ারি শুরু হওয়া এই স্থানান্তর কার্যক্রম ১২ ফেব্রুয়ারি রাতে সিরিয়া থেকে ইরাকে শেষ ফ্লাইটের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।
সেন্টকমের বিবৃতিতে বলা হয়, মার্কিন বাহিনী আটক ব্যক্তিদের নিরাপদ কারাগারে রাখার লক্ষ্যে সফলভাবে তাদের ইরাকে পৌঁছে দিয়েছে। তাদের আটক অবস্থা নিরাপদ রাখতে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সেন্টকম কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্রাড কুপার বলেন, স্থল ও আকাশপথে অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং এই মিশন পেশাদারিত্ব ও আঞ্চলিক অংশীদারদের সহযোগিতায় সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য যৌথ বাহিনীকে অভিনন্দন। আটক ব্যক্তিদের স্থানান্তর আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ—এ বিষয়ে ইরাকের নেতৃত্ব ও স্বীকৃতির জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই মিশনের পরিকল্পনা, সমন্বয় ও বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দিয়েছে সিজেটিএফ-ওআইআর। সিজেটিএফ-ওআইআরের কমান্ডার মেজর জেনারেল কেভিন লামবার্ট বলেন, জোট বাহিনীর অসাধারণ কাজের জন্য আমি অত্যন্ত গর্বিত। সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ এই স্থানান্তর কার্যক্রম সিরিয়ায় আইএসআইএসের পুনরুত্থান ঠেকাতে সহায়ক হবে।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে আইএসআইএসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অংশীদার বাহিনীকে পরামর্শ, সহায়তা ও সক্ষমতা বাড়াতে সেন্টকম সিজেটিএফ-ওআইআর গঠন করে। ২০১৯ সালে জঙ্গিগোষ্ঠীটি ভৌগোলিকভাবে পরাজিত হলেও, আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখনও যৌথ তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
এমএন
আন্তর্জাতিক
ইরানে সপ্তাহব্যাপী হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও অভ্যন্তরীণ অস্থিতিশীলতার চরম উত্তেজনার মধ্যেই দেশটিতে কয়েক সপ্তাহব্যাপী সামরিক অভিযানের চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। দুজন মার্কিন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, এবারের সম্ভাব্য সংঘাত আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি গুরুতর ও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামলার নির্দেশ দিলেই এ অভিযান শুরু হবে। পরিস্থিতি সেই পর্যায়ে গেলে এটি দুই দেশের মধ্যে আগে দেখা যে কোনো সংঘাতের চেয়ে অনেক বেশি গুরুতর রূপ নিতে পারে।
পরিকল্পনার গোপনীয়তার কারণে ওই কর্মকর্তারা নিজেদের নাম প্রকাশ করেননি। তবে এই খবর বাইরে আসা দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক ঝুঁকি আরও বাড়িয়েছে।
পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে গত সপ্তাহে ওমানের মাসকাটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠক হয়েছে। তবে এর আগে থেকেই ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক শক্তি জোরদার করেছে, যা নতুন সামরিক পদক্ষেপের আশঙ্কা বাড়িয়েছে।
শুক্রবার মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, পেন্টাগন মধ্যপ্রাচ্যে আরও একটি বিমানবাহী রণতরী পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। এছাড়া হাজার হাজার অতিরিক্ত সেনা, যুদ্ধবিমান, গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার এবং আক্রমণ ও প্রতিরক্ষা সক্ষম অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করা হচ্ছে।
শুক্রবার নর্থ ক্যারোলিনার একটি ঘাঁটিতে মার্কিন সেনাদের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তি করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, কখনো কখনো ভয় দেখাতে হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে এটাই একমাত্র কার্যকর উপায়।
সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি বিষয়ে জানতে চাইলে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি বলেন, ইরানকে ঘিরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সব বিকল্পই খোলা রেখেছেন। তিনি আরও বলেন, তিনি যে কোনো ইস্যুতে বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি শোনেন, তবে দেশের স্বার্থ ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে ভালো যেটি সেটি বিবেচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন।
যদিও পেন্টাগন এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। গত বছর যুক্তরাষ্ট্র এ অঞ্চলে দুটি বিমানবাহী রণতরী পাঠিয়েছিল এবং ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়। তবে গত জুন মাসের ‘মিডনাইট হ্যামার’ অভিযান ছিল একক মার্কিন হামলা, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র থেকে উড্ডয়ন করা স্টেলথ বোমারু বিমান ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় আঘাত হানে। জবাবে ইরান কাতারে একটি মার্কিন ঘাঁটিতে সীমিত পাল্টা হামলা চালায়।
মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, এবার যে পরিকল্পনা করা হচ্ছে, তা আগের চেয়ে অনেক বেশি জটিল। একজন কর্মকর্তার মতে, দীর্ঘমেয়াদি অভিযানে মার্কিন সামরিক বাহিনী শুধু পারমাণবিক অবকাঠামো নয়, ইরানের রাষ্ট্রীয় ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত স্থাপনায়ও হামলা চালাতে পারে।তবে এ নিয়ে সুনির্দিষ্ট করে কোনো তথ্য দিতে অস্বীকার করেছেন ওই মার্কিন কর্মকর্তা।
আন্তর্জাতিক
রাশিয়া থেকে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র কিনছে ভারত
রাশিয়ার তৈরি এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য আরও ২৮৮টি ক্ষেপণাস্ত্র কেনার অনুমোদন দিয়েছে ভারত। শুক্রবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে হিন্দুস্তান টাইমস।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন ডিএসি এস-৪০০ সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল সিস্টেমের জন্য ২৮৮টি ক্ষেপণাস্ত্র কেনার ‘অ্যাকসেপ্টেন্স অব নেসেসিটি’ অনুমোদন দিয়েছে। এসব ক্ষেপণাস্ত্রের আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
এর আগে বৃহস্পতিবার ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, সামরিক আধুনিকীকরণ ও পরিচালনাগত চাহিদা পূরণে প্রায় ৩৯ বিলিয়ন ডলারের বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম কেনার জন্য ‘অ্যাকসেপ্টেন্স অব নেসেসিটি’ দেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে সরাসরি এস-৪০০-এর উল্লেখ না থাকলেও যুদ্ধবিমান, মাল্টি-রোল ফাইটার এয়ারক্রাফট, রাফায়েল যুদ্ধবিমান কেনার কথা বলা হয়।
প্রতিবেদন বলছে, ভারতীয় বিমানবাহিনী রাশিয়ার কাছ থেকে আরও এস-৪০০ সিস্টেম সংগ্রহ করতে চায়, যা প্যান্টসির স্বল্পপাল্লার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বিতভাবে ব্যবহৃত হবে। অনুমোদিত ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ১২০টি স্বল্পপাল্লার এবং ১৬৮টি দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। এসব কেনাকাটা দ্রুত সম্পন্ন করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
বর্তমানে ভারতের হাতে চারটি এস-৪০০ সিস্টেম রয়েছে। চলতি বছর আরও দুটি সিস্টেম সরবরাহ পাওয়ার কথা রয়েছে।
এমএন
আন্তর্জাতিক
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত কি অনিবার্য
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করছে। এর মধ্যে ইরান তাদের এক পারমাণবিক স্থাপনার কাছে অবস্থিত ভূগর্ভস্থ একটি কমপ্লেক্সকে আগের তুলনায় মজবুত করছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক সামরিক উপস্থিতি ঘিরে উত্তেজনা এবং তেহরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে তাদের সঙ্গে ওয়াশিংটনের চলমান আলোচনার মধ্যেই তেহরানের এ নতুন তৎপরতার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেল। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন— হয় ইরান সমঝোতায় আসবে, নয় আবারও অপারেশন ‘মিডনাইট হ্যামার’। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে আরও একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী পাঠানোর ঘোষণা উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, তবে কি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত অনিবার্য হয়ে উঠছে?
স্যাটেলাইট চিত্রের তথ্য বিশ্লেষণ করে পশ্চিমা কূটনৈতিক সূত্রের দাবি, ইরান তাদের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর আশপাশে নতুন করে শক্তিশালী ভূগর্ভস্থ অবকাঠামো নির্মাণ ও পুরোনো কমপ্লেক্সগুলো পুনর্গঠনের কাজ জোরদার করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্ভাব্য বিমান হামলা বা ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণ থেকে স্থাপনাগুলোকে সুরক্ষিত রাখতেই এ উদ্যোগ। অতীতে ইরানের নাতাঞ্জ ও ফোরদো কেন্দ্র নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ দেখা দিয়েছিল; এবারও একই ধরনের আশঙ্কা উঁকি দিচ্ছে।
ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইরান যদি তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত না করে এবং আন্তর্জাতিক পরিদর্শন ব্যবস্থায় পূর্ণ সহযোগিতা না দেয়, তাহলে ‘সব বিকল্প খোলা রয়েছে।’ ইরানের সঙ্গে হয় সমঝোতা, নয়তো ফের ‘মিডনাইট হ্যামার’ এর মতো সামরিক অভিযান চালানো হবে বলে হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ হুমকি দেন তিনি।
বিশ্লেষকদের অনুমান, প্রয়োজনে দ্রুত ও লক্ষ্যভিত্তিক হামলার পরিকল্পনা প্রস্তুত রয়েছে ট্রাম্পের।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে তাদের নৌ-সামরিক উপস্থিতি জোরদার করছে। প্রতিরক্ষা দপ্তরের বরাতে জানা গেছে, পারস্য উপসাগর ও আশপাশের জলসীমায় অতিরিক্ত একটি বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন করা হচ্ছে। এর ফলে অঞ্চলে মার্কিন সামরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি একদিকে প্রতিরোধমূলক কৌশল, অন্যদিকে ইরানের প্রতি কড়াবার্তা।
অন্যদিকে ইরান সরকার বলছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং আন্তর্জাতিক আইনসম্মত। তেহরানের এক মুখপাত্র জানান, ‘আমরা আত্মরক্ষামূলক অবকাঠামো গড়ে তুলছি। এটি কোনো আগ্রাসী পদক্ষেপ নয়।’ একই সঙ্গে তারা যুক্তরাষ্ট্রকে ‘উসকানিমূলক সামরিক উপস্থিতি’ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে।
আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। ইউরোপীয় কূটনীতিকরা উভয় পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, কূটনৈতিক আলোচনার পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি। তবে সামরিক প্রস্তুতি ও কড়া ভাষার পাল্টাপাল্টি বিবৃতি পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করে তুলছে।
বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, সরাসরি পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ এখনো সম্ভাবনার বাইরে। কারণ, উভয় দেশই জানে এমন সংঘাত পুরো অঞ্চলে অস্থিরতা ছড়াবে—যার প্রভাব পড়বে জ্বালানি বাজার, বাণিজ্য ও বৈশ্বিক নিরাপত্তায়। তবে সীমিত আকারের হামলা, প্রক্সি গোষ্ঠীর মাধ্যমে পাল্টা আঘাত বা সাইবার আক্রমণের ঝুঁকি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
মধ্যপ্রাচ্যে আগ থেকেই বিভিন্ন সংঘাত চলমান। এ প্রেক্ষাপটে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা নতুন মাত্রা যোগ করছে। কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার না হলে এবং পারস্পরিক আস্থার ঘাটতি দূর না হলে পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যেতে পারে।
সব মিলিয়ে ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক কমপ্লেক্স শক্তিশালীকরণ, ‘মিডনাইট হ্যামার’-এর হুমকি এবং মার্কিন রণতরী মোতায়েন—এ তিন উপাদান বর্তমান সংকটকে স্পষ্টতই গভীর করেছে। তবে সংঘাত অনিবার্য কি না, তা নির্ভর করছে আগামী দিনগুলোর কূটনৈতিক পদক্ষেপ, পারস্পরিক বার্তা ও আঞ্চলিক সমীকরণের ওপর। বিশ্ববাসীর নজর এখন তেহরান ও ওয়াশিংটনের দিকে।
এমএন
আন্তর্জাতিক
চীনের নৌযান জব্দ করল জাপান, বাড়ল উত্তেজনা
চীনের একটি মাছধরার নৌযান জব্দ করেছে জাপান। এ ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়াবে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে। টোকিও কর্তৃপক্ষ বলেছে, তারা পরিদর্শনের লক্ষ্যে ওই মাছধরা নৌযানকে থামতে নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু ওই নির্দেশ উপেক্ষা করে নৌযানটি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তারা সেটি জব্দ করে। ওই নৌযান জাপানের নাগাসাকি প্রশাসনিক অঞ্চলের অর্থনৈতিক জলসীমায় গিয়েছিল। বৃহস্পতিবার তারা নৌযানের ক্যাপ্টেনকে গ্রেপ্তার করে। খবর বিবিসির।
জাপানের মৎস্যবিষয়ক সংস্থা জানায়, ‘মৎস্যবিষয়ক সংস্থার এক পরিদর্শক পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে নৌযানের ক্যাপ্টেনকে থামতে বলেছিল, কিন্তু ওই নৌযান নির্দেশ অমান্য করে ও পালিয়ে যায়।’
২০২২ সালের পর এবারই প্রথম তারা কোনো চীনা মাছধরার নৌযান জব্দ করল। জাপানের এ বিবৃতির পাল্টায় চীন এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায়নি। জব্দের সময় নৌযানে ক্যাপ্টেনসহ ১১ জন ছিলেন। ৪৭ বছর বয়সী ক্যাপ্টেন চীনা নাগরিক।
জব্দ নৌযান থেকে মাছ ধরায় ব্যবহৃত ‘টাইগার নেট’ পাওয়া গেছে বলে দাবি কর্তৃপক্ষ ও জাপানি সংবাদমাধ্যমগুলোর। এ ধরনের জাল ব্যবহারে অনেক দেশেই বিধিনিষেধ রয়েছে। এমন এক সময়ে টোকিও এই নৌযান জব্দ করল যখন তাইওয়ান নিয়ে বেইজিংয়ের সঙ্গে তাদের সম্পর্কে ব্যাপক টানাপোড়েন চলছে।
বেইজিং বলপ্রয়োগ করে তাইওয়ান দখলে নিলে টোকিও সামরিক পদক্ষেপ নেবে, নভেম্বরে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির এমন ইঙ্গিতই চীনকে এ দফা ক্রুদ্ধ করে। দিনকয়েক আগের নির্বাচনে তাকাইচি বিপুল ব্যবধানে জেতায় জাপান তাদের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে ‘শান্তিপূর্ণ’ অবস্থান থেকে সরে এসে সামরিক খাতে মনোযোগ বাড়াবে বলেই বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করেছেন।
চীন দীর্ঘদিন ধরেই তাইওয়ানকে তার ভূখণ্ডের অংশ বলে আসছে। জাপানও ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত কয়েক দশক দ্বীপটি দখলে রেখেছিল। আপসে রাজি না হলে, মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে জুড়তে তাইওয়ানে বলপ্রয়োগের হুমকিও আছে বেইজিংয়ের।
নভেম্বরে তাকাইচির ওই মন্তব্যকে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ‘চরম আপত্তিকর’ আখ্যা দিয়েছিল। বেইজিং টোকিও রাষ্ট্রদূতকে ডেকে পাঠিয়েছিল এবং নাগরিকদের জাপানে ভ্রমণ ও পড়তে যাওয়ার বিষয়টি নতুন করে বিবেচনার অনুরোধ করেছিল। এর কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই জাপানে চীনা পর্যটকের সংখ্যা অনেক কমে যায়, যা পর্যটনসহ বিভিন্ন খাত সংশ্লিষ্ট জাপানি স্টকগুলোকে জোর ধাক্কা দেয়।
দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক এরপর থেকে ক্রমেই খারাপ হতে থাকে। বেইজিং বারবার তাকাইচির বক্তব্য সংশোধনের দাবি জানালেও টোকিও এখন পর্যন্ত তাতে কান দেয়নি। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাপানকে ‘আগুন নিয়ে খেলা বন্ধ করতে’ হুঁশিয়ারিও দিয়েছে। এ টানাপোড়েনের মধ্যে চীন সফররত জাপানি শিল্পীদের তাদের শো বাতিল করতে হয় এবং জনপ্রিয় অনেক জাপানি চলচ্চিত্রের মুক্তিও স্থগিত হয়ে যায়। গত মাসে জাপান তাদের কাছে থাকা শেষ দুটি পান্ডাও চীনে ফেরত পাঠাতে হয়।
এমএন



