রাজনীতি
ঢাকার ২০ আসনে কারা হলেন বিজয়ী, ব্যবধান কত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা জেলার ২০টি আসনের মধ্যে সবগুলোর ফলাফল সম্পন্ন হয়েছে। ঢাকার ২০টি আসনের মধ্যে ১৩টিতে বিএনপি এবং ৭টিতে ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্য প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন। এর মধ্যে একটি আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বেলা দেড়টা পর্যন্ত ২৯১টি আসনের বেসরকারি ফলাফল পাওয়া গেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা চলছে।
এবার দেখে নেওয়া যাক ঢাকার কোন আসনে কে বিজয়ী হলেন—
ঢাকা–১
ঢাকা-১ আসনে বেসরকারিভাবে পাওয়া ফলে জয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী খোন্দকার আবু আশফাক। ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৭৩ হাজার ৭৮১ ভোট। আর তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ১২ হাজার ৬২২ ভোট।
ঢাকা–২
ঢাকা-২ আসনে ১ লাখ ৬৩ হাজার ২০ ভোট পেয়ে জিতেছেন বিএনপির আমানউল্লাহ আমান। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের কর্নেল (অব.) আব্দুল হক পেয়েছেন ৭৮ হাজার ৬৫৫।
ঢাকা-৩
ঢাকা-৩ আসনে বেসরকারিভাবে পাওয়া ফলে জয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি পেয়েছেন ৯৮ হাজার ৭৮৫ ভোট। আর তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের শাহীনুল ইসলাম পেয়েছেন ৮২ হাজার ২৩২ ভোট।
ঢাকা–৪
ঢাকা-৪ আসনে প্রাথমিক ফলাফলে প্রায় ৩ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতা সৈয়দ জয়নুল আবেদীন। তিনি দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে মোট ৭৭ হাজার ৩৬৭ ভোট পেয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী তানভীর আহমেদ পেয়েছেন ৭৪ হাজার ৪৪৭ ভোট।
ঢাকা–৫
ঢাকা-৫ আসনে প্রাথমিক ফলাফলে জয়ী হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ কামাল হোসেন। তিনি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৯ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী মো. নবী উল্লাহকে হারিয়েছেন।
মোহাম্মদ কামাল হোসেন পেয়েছেন ৯৬ হাজার ৬৪১ ভোট। আর মো. নবী উল্লাহ পেয়েছেন ৮৭ হাজার ৪৯১ ভোট।
ঢাকা–৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৬ আসনের বেসরকারি ফলাফলে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী ইশরাক হোসেন। তিনি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মোট ৭৮ হাজার ৮৫০ ভোট পেয়েছেন।
ইশরাক হোসেনের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আবদুল মান্নান পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৬৯৭ ভোট। ইশরাক হোসেন ২৩ হাজার ১৫৩ ভোটের ব্যবধানে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে হারিয়েছেন।
ঢাকা–৭
ঢাকা-৭ আসনে ১ লাখ ৪ হাজার ৬৬৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী হামিদুর রহমান। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী মো. এনায়েত উল্লা পেয়েছেন ৯৮ হাজার ৪৮৩ ভোট। অর্থাৎ বিএনপির প্রার্থী হামিদুর রহমান ৬ হাজার ১৮৩ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন।
ঢাকা–৮
ঢাকা-৮ আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ। তিনি ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের মোহাম্মদ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর চেয়ে ৫ হাজার ২৩৯ ভোট বেশি পেয়ে জয়ী হয়েছেন।
ঢাকা–৯
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৯ আসনে বেসরকারি ফলাফলে জয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী হাবিবুর রশিদ। ধানের শীষ প্রতীকে তিনি মোট ১ লাখ ১১ হাজার ২১২ ভোট পেয়েছেন।
হাবিবুর রশিদের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী মোহাম্মদ জাবেদ মিয়া। তিনি পেয়েছেন ৫৩ হাজার ৪৬০ ভোট। আর এ আসনে সাবেক এনসিপি নেত্রী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা ফুটবল প্রতীকে পেয়েছেন ৪৪ হাজার ৬৮৪ ভোট।
ঢাকা–১০
ঢাকা-১০ আসনের ভোটে বেসরকারিভাবে পাওয়া ফলে জয়ী হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শেখ রবিউল আলম। তিনি নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী মো. জসীম উদ্দীন সরকারের তুলনায় ৩ হাজার ৩০০ ভোট বেশি পেয়েছেন।
নির্বাচনে শেখ রবিউল আলম মোট ৮০ হাজার ৪৩৬ ভোট পেয়েছেন। আর জসীম উদ্দীন পেয়েছেন ৭৭ হাজার ১৩৬ ভোট। এই আসনে পোস্টাল ভোটসহ ১৩৭টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ হয়। ভোটের হার ছিল ৪৩ শতাংশ।
ঢাকা–১১
ঢাকা-১১ আসনের প্রাথমিক ফলাফলে ২ হাজার ভোটের ব্যবধানে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী নাহিদ ইসলাম। এই আসন থেকে শাপলা কলি প্রতীকে তিনি মোট ৯৩ হাজার ৮৭২ ভোট পেয়েছেন।
নাহিদ ইসলামের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপি প্রার্থী এম এ কাইয়ুম। তিনি পেয়েছেন ৯১ হাজার ৮৩৩ ভোট। অর্থাৎ নাহিদ কাইয়ুমের চেয়ে ২ হাজার ৩৯ ভোট বেশি পেয়েছেন।
ঢাকা–১২
বিএনপির জোটে প্রার্থী ও বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থীকে হারিয়ে ঢাকা-১২ আসনে জিতেছেন জামায়াতের প্রার্থী মো. সাইফুল আলম। এ আসনে তিনি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে তিনি মোট ৫৩ হাজার ৭৭৩ ভোট পেয়েছেন।
সাইফুল আলমের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির কোদাল প্রতীকের প্রার্থী সাইফুল হক। তিনি বিএনপি জোটের প্রার্থী। তিনি পেয়েছেন ৩০ হাজার ৯৬৩ ভোট।
ঢাকা–১৩
ঢাকা-১৩ আসনে বিএনপি সমর্থিত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ববি হাজ্জাজ বিজয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ৮৮ হাজার ৩৮৭টি ভোট। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত ১১–দলীয় ঐক্যের প্রার্থী মামুনুল হকের চেয়ে ২ হাজার ৩২০ ভোট বেশি পেয়েছেন তিনি।
ববি হাজ্জাজ মোট ভোট পেয়েছেন ৮৮ হাজার ৩৮৭। অন্যদিকে মামুনুল হক পেয়েছেন ৮৬ হাজার ৬৭টি।
ঢাকা–১৪
ঢাকা-১৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মীর আহমাদ বিন কাসেম বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছেন। তিনি জামায়াতের প্রয়াত নেতা মীর কাসেম আলীর ছেলে।
দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে মীর আহমাদ বিন কাসেম মোট ১ লাখ ১ হাজার ১১৩ ভোট পেয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সানজিদা ইসলাম পেয়েছেন ৮৩ হাজার ৩২৩ ভোট।
ঢাকা-১৫
ঢাকা-১৫ আসনে জয় পেয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি মোট ভোট পেয়েছেন ৮৫ হাজার ১৩১টি। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী মো. শফিকুল ইসলাম খান পেয়েছেন ৬৩ হাজার ৫১৭ ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চেয়ে জামায়াতের আমির ২১ হাজার ৬১৪ ভোট বেশি পেয়েছেন।
ঢাকা–১৬
ঢাকা-১৬ আসনের ভোটে বেসরকারি ফলে জয়ী হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আব্দুল বাতেন। তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী মো. আমিনুল হকের চেয়ে ৩ হাজার ৩৬১ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন৷
নির্বাচনে আব্দুল বাতেন মোট ৮৮ হাজার ৮২৮ ভোট পেয়েছেন। আর আমিনুল হক পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৪৬৭ ভোট।
ঢাকা–১৭
ঢাকা-১৭ আসনের বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ৭২ হাজার ৬৯৯ ভোট পেয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী স ম খালিদুজ্জামান পেয়েছেন ৬৮ হাজার ৩০০ ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চেয়ে ৪ হাজার ৩৯৯ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন তারেক রহমান।
ঢাকা–১৮
ঢাকা-১৮ আসনে এনসিপির প্রার্থীকে ৩৩ হাজারের বেশি ভোটে হারিয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন। তিনি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মোট (পোস্টাল ব্যালটসহ) ১ লাখ ৪৪ হাজার ৭১৫ ভোট পেয়েছেন। আর এনসিপির প্রার্থী আরিফুল ইসলাম পেয়েছেন ১ লাখ ১১ হাজার ২৯৭ ভোট।
ঢাকা–১৯
ঢাকা–১৯ আসনে বিএনপির প্রার্থী দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন ১ লাখ ৯০ হাজার ৯৭৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এনসিপির প্রার্থী দিলশানা পারুল পেয়েছেন ১ লাখ ২৫ হাজার ২৮৩ ভোট।
ঢাকা–২০
ঢাকা-২০ (ধামরাই) আসনে বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফলে বিএনপির প্রার্থী মো. তমিজ উদ্দিন নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি আসনটির ১৪৭টি কেন্দ্রে ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৬০ হাজার ৪২৮ ভোট পেয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী এনসিপির নাবিলা তাসনিদ পেয়েছেন ৫৬ হাজার ৩৪৩ ভোট।
এমএন
রাজনীতি
‘সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন না ডাকলে রাজপথে নামবে ১১ দল’
সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন দ্রুত না ডাকলে রাজপথে আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আজাদ।
তিনি বলেন, আগামীকালের মধ্যে সরকার এ বিষয়ে উদ্যোগ না নিলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
শনিবার (১৪ মার্চ) রাজধানীতে ১১ দলীয় জোটের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, সকালে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে এনসিপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, এলডিপি, এবি পার্টি, ইসলামী পার্টি, লেবার পার্টিসহ জোটভুক্ত বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে দেশজুড়ে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। নির্বাচনকে ‘ইতিহাসের সেরা নির্বাচন’ বলা হলেও জনগণের ভোটাধিকারের পূর্ণ প্রতিফলন সেখানে দেখা যায়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জামায়াত নেতা বলেন, জুলাই সনদের ভিত্তিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের জন্য একদিনেই গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এতে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছে। কিন্তু জাতীয় সংসদের অধিবেশন ডাকা হলেও এখনো সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকা হয়নি, যা নিয়ে জোটের পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদ অনুযায়ী সংসদ নেতা বা প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে লিখিতভাবে অধিবেশন ডাকার পরামর্শ দেবেন এবং রাষ্ট্রপতি তা আহ্বান করবেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।’
ড. হামিদুর রহমান আজাদ আরও বলেন, যদি সরকার দ্রুত সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকার ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে জনগণের প্রত্যাশা ও মর্যাদা রক্ষার জন্য রাজপথে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে বিরোধী দলগুলো। এ বিষয়ে শিগগিরই জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণ করা হবে।
তিনি জানান, আগামী ২৮ মার্চ জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক ডাকার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ওই বৈঠকে ভবিষ্যৎ আন্দোলনের রূপরেখা নির্ধারণ করা হতে পারে।
এ সময় তিনি আরও অভিযোগ করেন, ছয়টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ এবং প্রশাসনে দলীয়করণের প্রবণতা জনমনে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে। এসব সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে প্রশাসন পরিচালনার দাবি জানান তিনি।
সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা প্রসঙ্গে হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, সরকারকে সহযোগিতা করার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে সংসদ ও রাজপথ দুই জায়গাতেই বিরোধী দল তাদের দায়িত্ব পালন করবে। তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদের আংশিক নয়, পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন চাই। জনগণের রায়ে এটি আইনি স্বীকৃতি পেয়েছে, তাই সরকারকে তা বাস্তবায়ন করতেই হবে।’
রাজনীতি
জুলাই গণহত্যার দায় রাষ্ট্রপতি কোনভাবেই এড়াতে পারবেন না: ড. হেলাল
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর এডভোকেট ড হেলাল উদ্দিন বলেছেন, জুলাই আন্দোলনে ফ্যাসিস্ট আ’লীগ সরকারের পরিচালিত গণহত্যায় নিরব সমর্থন দিয়েছে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দীন চুপ্পু। তিনি বলেন, চব্বিশের ছাত্র-জনতার ওপর র্নিবিচারে গুলি চালিয়ে হাজার-হাজার ছাত্র-জনতাকে শহীদ করার পরও রাষ্ট্রপতি নিরব ভূমিকা পালন করেছে। তিনি গণহত্যা বন্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। বরং তিনি আওয়ামী লীগের গণহত্যাকে সমর্থন দিয়ে গেছেন। জুলাই গণহত্যার দায় রাষ্ট্রপতি কোনভাবেই এড়াতে পারবেন না।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পল্টন থানার পেশাজীবি বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলন ছিল চাকুরীতে কোটা প্রথা বাতিলের দাবিতে ছাত্রদের এক শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলন। ঐ আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের নির্দেশে পুলিশ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে ছাত্রদের আহত-নিহত করে। ফলে ছাত্রদের রক্তে রাজপথে রঞ্জিত হয়ে পড়ে। ছাত্রদের রক্তে ফুঁসে উঠে পুরো দেশবাসী। ছাত্রদেরর আন্দোলনের সাথে যুক্ত হয় দেশের কৃষক, শ্রমিক, ঠেলা-ভ্যান ও রিকশা চালকসহ সকল পেশাজীবির মানুষ। ঐ আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করে প্রবাসী বাংলাদেশিরাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জনগণের তীব্র আন্দোলনের মুখে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগে ক্ষমতা ছেড়ে দেশ থেকে পালিয়ে যায়। কিন্তু ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দীন চুপ্পু স্বপদে বহাল থাকে। নির্বাচিত সংসদ রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করার ক্ষমতা থাকলেও সরকারি দলের স্বদিচ্ছা না থাকায় রাষ্ট্রপতি বহাল তবিয়তে রয়েছে। অনতিবিলম্বে রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পল্টন থানার পেশাজীবি বিভাগের সভাপতি মাওলানা আব্দুল কাদেরের সভাপতিত্বে এবং পল্টন থানার পেশাজীবি বিভাগের পল্টন মোড় ওয়ার্ড সভাপতি আরিফুল ইসলামের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য শাহীন আহমেদ খান, পল্টন থানা আমীর এডভোকেট মারুফুল ইসলাম, পল্টন থান সেক্রেটারি মঞ্জুরুল ইসলাম, সাবেক কমিশনার খন্দকার আব্দুর রব। এছাড়াও অনুষ্ঠানে পল্টন থানার পেশাজীবি বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে বিজয়নগর সাংগঠনিক ওয়ার্ডের উদ্যোগে আয়েজিত রমজানের তাৎপর্য ও গুরুত্ব শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, রমজানের শিক্ষা হচ্ছে কথা ও কাজে মিল থাকা। মুখে যা বলবে বাস্তবে তা পরিণত করা। কিন্তু সরকার মুখে যেই কথা বলেছে বাস্তবে তার বিপরীত কাজ করছে। সরকার নির্বাচনের আগে দেশবাসীকে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে এখন গণভোট জয়যুক্ত হওয়রা পর সরকার গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে নারাজ। কারণ সরকারের উদ্দেশ্য খারাপ। এই সরকারও আওয়ামী লীগের মতোই দেশের জনগণকে শাসন ও শোষণ করতে চায়। যারা জনগণকে শাসন ও শোষণ করতে চাইবে তারাই জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ব্যবস্থা নেবে না। গণভোটে জনগণের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করতে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
রাজনীতি
আপাতত সিঙ্গাপুর নেওয়া হচ্ছে না মির্জা আব্বাসকে
উন্নত চিকিৎসার জন্য বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে সিঙ্গাপুর নেওয়ার পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থা এই মুহূর্তে দেশের বাইরে নেওয়ার মতো না থাকায় চিকিৎসকরা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। মির্জা আব্বাস বর্তমানে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তিনি বলেন, আপাতত মির্জা আব্বাসকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুর নেওয়া হচ্ছে না। তার পরিবার দেশের চিকিৎসার ওপর আস্থা রেখেছে। তবে পরবর্তীতে মেডিকেল বোর্ড প্রয়োজন মনে করলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।
তিনি জানান, শুক্রবার মির্জা আব্বাসের চিকিৎসা ইস্যুতে একটি ভার্চুয়াল মেডিকেল বোর্ড বৈঠক করে। সেখানে উনার শারীরিক অবস্থা পর্যালোচনা করে চিকিৎসকরা মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন। এ বিষয়ে পরিবারের সদস্যদের সম্মতিও নেওয়া হয়। সে অনুযায়ী অস্ত্রোপচারের জন্য শুক্রবার ৩টা ১০ মিনিটে উনাকে অপারেশন থিয়েটারে নেয়া হয়।
এর আগে জুমার নামাজের পর প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান এভারকেয়ারে গিয়ে মির্জা আব্বাসের খোঁজখবর নেন। এ সময় মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা তার চিকিৎসার সর্বশেষ অবস্থা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন।
ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, মির্জা আব্বাসের দ্রুত আরোগ্য কামনায় দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছে তার পরিবার।
উল্লেখ্য, গত বুধবার (১১ মার্চ) ইফতারের সময় অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারালে তাকে রাজধানীর বসুন্ধরার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা তার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন।
এমএন
রাজনীতি
মির্জা আব্বাসকে দেখতে হাসপাতালে যাবেন প্রধানমন্ত্রী
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। তাকে দেখতে হাসপাতালে যাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) জুমার নামাজের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে তাকে দেখতে যাবেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব সুজন মাহমুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) মির্জা আব্বাসের মিডিয়া টিমের একজন কর্মকর্তা বলেন, বুধবার ইফতারে পানি খাওয়ার সময়ই হঠাৎ করে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। অবস্থার উন্নতি না হলে গভীর রাতে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
রাতে হাসপাতালে যান জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি হাসপাতালে অবস্থানরত মির্জা আব্বাসের স্ত্রীর কাছে তার শারীরিক অবস্থা ও চলমান চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি মহান রবের নিকট মির্জা আব্বাসের আশু আরোগ্য কামনা করেন। জামায়াত আমিরের সঙ্গে ছিলেন ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতের মেডিকেল থানার সভাপতি ডা. এসএম খালিদুজ্জামান।
এ ছাড়া মির্জা আব্বাসকে দেখতে হাসপাতালে যান বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সমাজ কল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তারা মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থা ও চলমান চিকিৎসার খোঁজখবর নেন।
এর আগে বুধবার (১১ মার্চ) ইফতারে পানি পান করার সময় হঠাৎ করেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন মির্জা আব্বাস। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় গভীর রাতে তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এমএন
রাজনীতি
প্রথম দিন ওয়াকআউট না করলেও পারত বিরোধী দল : স্পিকার
সংসদে বিরোধী দলের ওয়াকআউট করা তাদের সাংবিধানিক অধিকার হলেও, ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম দিনেই এমন পদক্ষেপ না নিলেও পারত বলে মন্তব্য করেছেন নবনির্বাচিত স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি পুষ্পস্তবক অর্পণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। এ সময় জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। পরে তারা স্মৃতিসৌধ পরিদর্শন করেন এবং পরিদর্শন বইতে স্বাক্ষর করেন।
স্পিকার বলেন, সংসদের নিরপেক্ষতা ও মর্যাদা রক্ষার স্বার্থে তিনি ইতোমধ্যে দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। তিনি বলেন, সংসদে সব সদস্য সমানভাবে কথা বলার ও মত প্রকাশের সুযোগ পাবেন। আমরা চাই সংসদ কার্যক্রম আরও কার্যকর ও গণতান্ত্রিক হোক।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের পর দেশ একটি নতুন গণতান্ত্রিক পরিবেশ পেয়েছে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করে একটি বৈষম্যহীন, সমৃদ্ধ ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলাই এখন প্রধান লক্ষ্য। এজন্য সব রাজনৈতিক দলের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
স্পিকার আরও বলেন, দেশের স্বার্থে আমাদের সবাইকে এক সঙ্গে কাজ করতে হবে, যাতে কোনো স্বৈরাচারী বা মাফিয়াচক্র আবারও পুনর্বাসিত হতে না পারে। তিনি জুলাই আন্দোলনে শহীদদের প্রতিও গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানান।
এদিকে গণপূর্ত বিভাগের সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন আনু জানান, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের আগমন উপলক্ষে স্মৃতিসৌধ এলাকায় বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা নেওয়া হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে সকাল থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত সাধারণ দর্শনার্থীদের প্রবেশ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। পরে বেলা ১১টার পর থেকে আবার দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।
এমএন




