জাতীয়
জুলাই বিপ্লবের চেতনায় কাল ভোট: জয়-পরাজয় মেনে নেওয়ার আহ্বান সিইসির
আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য বহু প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) দেওয়া ভাষণে তিনি দেশবাসীকে নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে আসার আহ্বান জানান এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বার্থে নির্বাচনের ফলাফল বা জয়-পরাজয়কে স্বাভাবিকভাবে মেনে নেওয়ার অনুরোধ করেন।
ভাষণের শুরুতে সিইসি মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের রক্তের বিনিময়ে আমরা আজ গণতান্ত্রিক উত্তরণের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছি। আমি তাদের রুহের মাগফেরাত কামনা করছি এবং আহত যোদ্ধাদের দ্রুত আরোগ্য প্রার্থনা করছি।
আগামীকালকের নির্বাচনকে ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে সিইসি বলেন, ভোটদান আমাদের শুধু নাগরিক অধিকার নয়; বরং এটি একটি বড় দায়িত্ব। রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও ভোটারদের প্রতি আমার আহ্বান শান্তি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ রক্ষার্থে সবাই দায়িত্বশীল ও যত্নবান হোন।
গণতন্ত্রে ভিন্নমত একটি স্বাভাবিক বিষয় উল্লেখ করে এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, আপনারা উৎসবমুখর পরিবেশে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটকেন্দ্রে আসুন এবং পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিন। একই সঙ্গে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক পরিণতি হিসেবে জয়-পরাজয়কে মেনে নেওয়ার মানসিকতা রাখুন।
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং সাংবাদিকদের প্রতি সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে সিইসি বলেন, যে কোনো অনভিপ্রেত ঘটনা মোকাবিলায় নির্বাচনী কর্মকর্তা ও ম্যাজিস্ট্রেটদের সহায়তা করুন। ব্যক্তিগত কষ্ট উপেক্ষা করে জাতীয় এই মহতী কাজকে সার্থক করে তুলতে তিনি সবার প্রতি অনুরোধ জানান।
বক্তব্যের শেষে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন যে, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি সুষ্ঠু, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের সাক্ষী হতে পারবে বাংলাদেশ।
এমএন
জাতীয়
গণপরিবহনে জিপিএস চালু করছে সরকার, অতিরিক্ত গতিতে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানিয়েছেন, সড়ক-মহাসড়কে অনিয়ম বন্ধ করতে দেশের সব গণপরিবহনে জিপিএস সিস্টেম চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তিনি বলেন, মহাসড়কে ৮০ কিলোমিটারের উপরে গতি উঠলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রোববার (২৯ মার্চ) ঈদযাত্রা-পরবর্তী মূল্যায়ন সভা শেষে তিনি বলেন।
বৈঠকে সেতুমন্ত্রী জানান, সব গণপরিবহনে জিপিএস ট্র্যাকিং চালু করা হবে। এর মাধ্যমে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ, রুট ভায়োলেশন, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল সহজে শনাক্ত করা যাবে। জিপিএসের মাধ্যমে ওভারস্পিড বা নির্ধারিত রুটের বাইরে চলাচল করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ঈদযাত্রায় ভোগান্তি ও দুর্ঘটনা নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, প্রায় দেড় কোটি মানুষ স্বল্প সময়ে ঢাকা ছাড়লেও কোথাও বড় ধরনের স্থবিরতা তৈরি হয়নি। কিছু স্থানে চাপ থাকলেও অধিকাংশ মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক ছিল। তবে দুই-একটি অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।
মন্ত্রী জানান, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে নেওয়া পদক্ষেপগুলো পর্যালোচনা করতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে নিয়ে এই সভা করা হয়। সভায় সড়ক পরিবহন খাতের সঙ্গে জড়িত পুলিশ, বিআরটিএ, মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
আগামী ঈদুল আজহা সামনে রেখে যাত্রা আরো নিরাপদ ও যানজটমুক্ত করতে বিভিন্ন সুপারিশ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান শেখ রবিউল আলম।
সভায় নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে রয়েছে মহাসড়কে অস্থায়ী বাজার বসতে না দেওয়া, ট্রাক ও পণ্যবাহী যান চলাচলে আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বাড়তি নজরদারি। বিশেষ করে গাজীপুর-চন্দ্রা ও শফিপুর এলাকায় যানজট কমাতে সমন্বিত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
মন্ত্রী আরো বলেন, ভবিষ্যতে মহাসড়কের পাশে যত্রতত্র টিকিট কাউন্টার বসানো যাবে না। নির্ধারিত বাস টার্মিনাল থেকেই টিকিট বিক্রি নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে ইতিমধ্যে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ফেরি পারাপারের ক্ষেত্রে যাত্রী নামিয়ে তারপর যানবাহন ওঠানো বাধ্যতামূলক করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে কঠোরভাবে নজরদারি বাড়ানো হবে।
তিনি বলেন, বিআরটিএ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যৌথভাবে এই ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা পরিচালনা করবে। ইতিমধ্যে সিসিটিভি ও স্পিড ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি কার্যক্রম চালু রয়েছে, যা আরও সম্প্রসারণ করা হবে।
জাতীয়
১১ জেলায় নতুন ডিসি নিয়োগ
দেশের ১১ জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। পাশাপাশি বর্তমানে দায়িত্বরত ১১ জেলা প্রশাসককে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।
রোববার (২৯ মার্চ) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আমিনুল ইসলাম।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের নিম্নবর্ণিত কর্মকর্তাদের তাদের নামের পাশে বর্ণিত জেলায় জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পদে বদলি/পদায়ন করা হলো।
এর মধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব কাজী শহিদুল ইসলামকে রাজশাহী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব লুৎফুন নাহারকে চুয়াডাঙ্গা, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উপসচিব হরে জান্নাতকে খুলনা, অর্থ বিভাগের উপসচিব মর্জিনা আক্তারকে মাদারীপুর ও সরকারি প্রিন্টিং প্রেসের উপপরিচালক (উপসচিব) মো. আবু সাঈদকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের উপসচিব আহেমদ জিয়াউর রহমানকে চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব জি এম সরফরাজকে হবিগঞ্জ, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ইসরাত জাহান কেয়াকে নরসিংদী, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব শিল্পী রানী রায়কে মেহেরপুর, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের উপসচিব (সচিব) মুহ. রাশেদুল হক প্রধানকে লালমনিরহাট ও ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক (উপসচিব) মো. সানিউল ফেরদৌসকে বান্দরবানের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে।
জাতীয়
প্রিপেইড মিটার ভাড়া বাতিলের সিদ্ধান্ত সরকারের
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানিয়েছেন, প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটারের মাসিক ভাড়া বা মিটার চার্জ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই সিদ্ধান্তটি দ্রুতই কার্যকর হবে বলে জানান তিনি।
রোববার (২৯ মার্চ) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এ কথা জানান।
বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, “প্রিপেইড মিটারে বাড়তি চার্জ আদায় নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ ও চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছিল। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই আমরা পুরো বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি। গ্রাহকদের সর্বোচ্চ অনুকূলে এবং একটি জনবান্ধব বিদ্যুৎ সেবা নিশ্চিত করতে আমরা দ্রুতই এই মিটার চার্জ পদ্ধতি পুরোপুরি তুলে দিচ্ছি।”
বর্তমানে প্রিপেইড মিটার ব্যবহারকারী প্রত্যেক গ্রাহককে প্রতি মাসে রিচার্জ করার সময় একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা ‘মিটার ভাড়া’ বা রক্ষণাবেক্ষণ চার্জ হিসেবে গুনতে হয়। এটি নিয়ে সাধারণ মানুষের আপত্তির শেষ ছিল না।
বহু গ্রাহক ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করে আসছিলেন, বছরের পর বছর ধরে রিচার্জের টাকা থেকে এই চার্জ কেটে নেওয়া হচ্ছে। মিটারের প্রকৃত দাম বহু আগেই উসুল হয়ে যাওয়ার পরও কেন এই বাড়তি টাকা কেটে নেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছিলেন অনেকে।
বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিগত সময়ে মিটার ক্রয়ের অস্বচ্ছতা ও অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে তৈরি হওয়া দায়ভার সাধারণ গ্রাহকদের ওপর চাপানো হয়েছিল। বর্তমান সরকার গ্রাহকের পকেটের টাকা সাশ্রয় করতে এবং বিদ্যুৎ খাতে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে বদ্ধপরিকর।
জাতীয়
হামের টিকা কিনতে ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ, জানালেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী
হামের টিকা কেনার জন্য নতুন করে ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
রোববার (২৯ মার্চ) বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক ওষুধ শিল্প মেলা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, গত ১৫ দিনে হামের প্রবণতা বেড়েছে। তবে এখনো আমাদের সক্ষমতা রয়েছে। বর্তমানে সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)-এ আলাদা কর্নার চালু করা হয়েছে।
মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, গত ৮ বছরে হামের টিকা পর্যাপ্তভাবে সরবরাহ না থাকায় এই হামের টিকা দেয়নি। এ কারণে সম্প্রতি হামের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে। তবে এ সংকট সমাধানে ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে নতুন করে টিকা ক্রয় করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, বেসরকারি অনুদানের মাধ্যমে ৫টি ভেন্টিলেটর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর মধ্যে আগামীকাল ৪টি রাজশাহীতে পাঠানো হবে।
মো. সাখাওয়াত হোসেন আরও বলেন, স্বাস্থ্য খাতে নতুন নতুন সংকট দেখা দিচ্ছে। সেগুলো মোকাবিলার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে দুর্নীতিমুক্ত করব।
জাতীয়
যুক্তরাষ্ট্র সফরে সেনাপ্রধান, শান্তিরক্ষা স্বীকৃতি ও দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেবেন
সরকারি সফরে যুক্তরাষ্ট্র গেলেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। শনিবার (২৮ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে তার সফর শুরু হয়।
রোববার (২৯ মার্চ) সকাল ১১টা ১৩ মিনিটে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া স্ট্যাটাসে এ তথ্য জানানো হয়।
স্ট্যাটাসে বলা হয়, সরকারি সফরে যুক্তরাষ্ট্র গেলেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। সফরকালে সেনাপ্রধান জর্জিয়া স্টেট ক্যাপিটল-এর উদ্যোগে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের প্রশংসনীয় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ একটি সম্মাননা প্রস্তাব গ্রহণ এবং সিনেট চেম্বারে একটি বিশেষ লেকচার অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন।
এছাড়াও, যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশগ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে।



