জাতীয়
ভোট পর্যবেক্ষণে ঢাকায় বিদেশি ৩৯৪ পর্যবেক্ষক ও ১৯৭ সাংবাদিক
আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে অভূতপূর্ব আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই জোড়া নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য ইতোমধ্যে ঢাকা পৌঁছেছেন ৩৯৪ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক এবং ১৯৭ জন বিদেশি সাংবাদিক।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এই আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ বিগত এক দশকের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি, যা বর্তমান সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনের ওপর বিশ্ব সম্প্রদায়ের ক্রমবর্ধমান আস্থার প্রতিফলন।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, পর্যবেক্ষকদের মধ্যে ৮০ জন বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি। দ্বিপক্ষীয় দেশগুলো থেকে ২৪০ জন এসেছেন, যার মধ্যে স্বতন্ত্র ইউরোপীয় পর্যবেক্ষকরাও রয়েছেন। এছাড়া ৫১ ব্যক্তি বিভিন্ন বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হয়ে নিজস্ব সক্ষমতায় ভোট পর্যবেক্ষণ করবেন।
আসন্ন নির্বাচনে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের সংখ্যা ২০২৪ সালের বিতর্কিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। এর আগে একাদশ, দ্বাদশ ও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের সংখ্যা যথাক্রমে ১৫৮, ১২৫ এবং মাত্র ৪ জন ছিল।
প্রধান পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর মধ্যে রয়েছে— এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস (এএনএফরেল) ২৮ জন, কমনওয়েলথ সেক্রেটারিয়েট ২৭ জন, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই) ১৯ জন এবং ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ইনস্টিটিউট (এনডিআই) একজন। এছাড়া ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) ও ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অব এশিয়ান পলিটিক্যাল পার্টিজ (আইসিএপিপি) থেকে দুজন করে এবং ইউরোপিয়ান এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিস থেকে একজন প্রতিনিধি এসেছেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়াও ২১টি দেশ থেকে পর্যবেক্ষকরা এসেছেন। এর মধ্যে রয়েছে পাকিস্তান, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইনস, মালয়েশিয়া, জর্ডান, তুরস্ক, ইরান, জর্জিয়া, রাশিয়া, চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, কিরগিজস্তান, উজবেকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা ও নাইজেরিয়া।
এছাড়া ভয়েস ফর জাস্টিস, ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল, এসএনএএস আফ্রিকা, সার্ক হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন ও পোলিশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের প্রতিনিধিরা ব্যক্তিগত উদ্যোগে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের সমন্বয় কার্যক্রমে সহায়তাকারী জ্যেষ্ঠ সচিব ও এসডিজি সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ বলেন, “বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার ইতিবাচক সাড়া আমাদের উৎসাহিত করেছে। এটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থার প্রতিফলন।”
উচ্চপর্যায়ের অতিথিদের মধ্যে রয়েছেন- ঘানার সাবেক প্রেসিডেন্ট নানা আদ্দো দানকওয়া আকুফো-আদ্দো, ভুটানের প্রধান নির্বাচন কমিশনার ডেকি পেমা, বাংলাদেশে সাবেক তুর্কি রাষ্ট্রদূত মেহমেত ভাকুর এরকুল, যুক্তরাজ্যের হাউস অব লর্ডসের সাবেক গভর্নমেন্ট ডেপুটি চিফ হুইপ লর্ড রিচার্ড নিউবি, মালয়েশিয়ার নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা রামলান বির হারুন এবং ইরানের পার্লামেন্ট সদস্য বেহনাম সাঈদি।
এদিকে ৫০টির বেশি রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ দুই হাজারেরও বেশি প্রার্থী সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি একই দিনে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।
এমএন
জাতীয়
যুক্তরাষ্ট্র সফরে সেনাপ্রধান, শান্তিরক্ষা স্বীকৃতি ও দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেবেন
সরকারি সফরে যুক্তরাষ্ট্র গেলেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। শনিবার (২৮ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে তার সফর শুরু হয়।
রোববার (২৯ মার্চ) সকাল ১১টা ১৩ মিনিটে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া স্ট্যাটাসে এ তথ্য জানানো হয়।
স্ট্যাটাসে বলা হয়, সরকারি সফরে যুক্তরাষ্ট্র গেলেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। সফরকালে সেনাপ্রধান জর্জিয়া স্টেট ক্যাপিটল-এর উদ্যোগে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের প্রশংসনীয় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ একটি সম্মাননা প্রস্তাব গ্রহণ এবং সিনেট চেম্বারে একটি বিশেষ লেকচার অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন।
এছাড়াও, যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশগ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে।
জাতীয়
চীনে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন
চীনের বেইজিংয়ে অবস্থিত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের দূতাবাস মহান (২৬শে মার্চ) বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে উদযাপন করেছে।
দিবসটি উপলক্ষে দূতাবাস প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রদূত মো. নাজমুল ইসলাম, দূতাবাসের কূটনৈতিক কর্মকর্তা এবং অন্যান্য কর্মচারীরা। এরপর পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত এবং রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়।
রাষ্ট্রদূত নাজমুল ইসলাম তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন নিজেদের জীবন উৎসর্গকারী লক্ষ লক্ষ শহীদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। একই সাথে তিনি একটি সমৃদ্ধ ও মর্যাদাপূর্ণ জাতি গঠনে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
তিনি উল্লেখ করেন যে, জুলাই-আগস্ট ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান এবং চলতি বছরের ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পর, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। এই সরকার ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ বা ‘বাংলাদেশই প্রথম’—এই রূপকল্পের আওতায় ন্যায়বিচার, সুশাসন এবং আইনের শাসনের মাধ্যমে জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি জাতিসংঘের বহুপাক্ষিক শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের বিষয়টিও বিশেষভাবে তুলে ধরেন এবং জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদের জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রার্থিতার কথা উল্লেখ করেন।
সন্ধ্যায় বেইজিংয়ের স্থানীয় একটি হোটেলে একটি কূটনৈতিক সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। এতে চীনের ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা, বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশনের প্রধানগণ, চীনা ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং প্রবাসী বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে একটি সাংস্কৃতিক কর্মসূচিরও আয়োজন করা হয়। এতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা দেশাত্মবোধক গান, লোকসংগীত এবং নৃত্য পরিবেশন করে। পাশাপাশি বাংলাদেশের পর্যটন, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বিষয়ক ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করা হয়। যা দেশটির সমৃদ্ধ ঐতিহ্য এবং চীনের সাথে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধিষ্ণু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের প্রতিফলন ঘটায়।
জাতীয়
জ্বালানি তেল মজুতকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও কৃত্রিম সংকট তৈরি ও চোরাচালান রোধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় সতর্ক থাকার নির্দেশও দেন প্রধানমন্ত্রী। যাতে কেউ অতিরিক্ত মজুত করতে না পারে এবং তেলের দাম বৃদ্ধি না পায়।
শনিবার (২৮ মার্চ) সংসদ ভবনে সরকার দলীয় সংসদীয় কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম।
নুরুল ইসলাম বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়লেও বাংলাদেশে তা নিয়ন্ত্রণে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। সরকার প্রতি মাসে প্রায় ২০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়ে তেলের দাম ঠিক রাখার চেষ্টা করছে। কিন্তু কিছু অসাধু চক্রের কারণে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা চলছে। এমনকি সীমান্ত দিয়ে তেল পাচারের অভিযোগও পাওয়া গেছে। এসব বন্ধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিরুনি অভিযান ও কঠোর ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।’
চিফ হুইপ জানান, বর্তমানে দেশে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই। ইতোমধ্যে ২ লাখ মেট্রিক টন তেলবাহী জাহাজ বন্দরে পৌঁছেছে এবং আরও ২ লাখ মেট্রিক টন তেল আসার পথে রয়েছে।
তিনি আরও জানান, রোববার (২৯ মার্চ) সংসদ অধিবেশনে জ্বালানিমন্ত্রী এ বিষয়ে ৩০০ বিধিতে বিস্তারিত বক্তব্য রাখবেন। সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন, সংরক্ষিত নারী আসন এবং অন্যান্য বিল নিয়ে ৩০ মার্চের মধ্যে প্রতিবেদন উপস্থাপনের লক্ষ্যে কাজ চলছে।
চিফ হুইপ বলেন, ‘সংসদীয় কার্যক্রমে নতুন উদ্যোগ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রীদের নিয়মিতভাবে সংসদ সদস্যদের কাছে তথ্য উপস্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে তারা এলাকাভিত্তিক প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারেন। এখন থেকে প্রতি মাসে এ ধরনের ব্রিফিং আয়োজন করা হবে।’
বৈঠকের শুরুতে স্পিকারের সহধর্মিণীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ ও মোনাজাত করা হয়। পাশাপাশি সাম্প্রতিক বাস ও ট্রেন দুর্ঘটনার কারণ ও প্রতিরোধে নেওয়া পদক্ষেপ নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।
এমএন
জাতীয়
বিরতি শেষে আজ বসছে ত্রয়োদশ সংসদ অধিবেশন
ঈদুল ফিতরে টানা ১৩ দিনের বিরতির পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের মুলতবি বৈঠক রোববার (২৯ মার্চ) বিকেল ৩টায় আবারও বসছে।
গত ১২ মার্চ শুরু হওয়া সংসদ অধিবেশন ঈদুল ফিতর ও অন্যান্য ছুটির কারণে ১৫ মার্চ মূলতবি করা হয়। সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে ওই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের তৃতীয় দিনে মূলত প্রেসিডেন্টের ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হবে। সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যরা এই আলোচনায় অংশ নেবেন। এছাড়া মন্ত্রীদের জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্ব ও জাতীয় জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশ উত্থাপন ও সেই নোটিশের ওপর আলোচনার আলোচনার কর্মসূচি রয়েছে।
রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর মোট ৫০ ঘণ্টা আলোচনা হবে। সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যরা এতে অংশ নেবেন। সংসদের কার্য-উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত অধিবেশন চলবে।
জাতীয়
রাজশাহী মেডিকেলের পরিচালককে ফাঁসির কাষ্ঠে চড়ানো উচিত: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউ ভেন্টিলেটরের অভাবে শিশুদের মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেছেন, ‘১১ দিনে ৩৩ জন শিশু মারা গেছে রাজশাহী মেডিকেলে। অথচ সেখানকার পরিচালক আমাদের জানাননি যে তার কাছে ভেন্টিলেটর নেই। তাকে ফাঁসির কাষ্ঠে চড়ানো উচিত।’
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর শাহবাগে শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে চিকিৎসার নৈতিকতা নিয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি ফোন করার পর তিনি (পরিচালক) দাবি করেন, মিডিয়া একটু বাড়াবাড়ি করছে। কিন্তু গতকাল প্রতিবেদন পাওয়ার পর দেখা গেল, মিডিয়া যা বলেছে তা–ই সত্য। তিনি আর বিষয়টি অস্বীকার করতে পারেননি।’
সরকারি প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার কারণে ব্যক্তি উদ্যোগে ভেন্টিলেটর সংগ্রহের কথা জানিয়ে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘সরকার থেকে দ্রুত কিনে দেওয়া কঠিন ব্যাপার। আমি ব্যক্তিগত যোগাযোগ কাজে লাগিয়ে দু-একজন ওষুধ প্রস্তুতকারকের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের সহায়তায় আজ জরুরি ভিত্তিতে তিনটি ভেন্টিলেটর কিনে দেওয়া হচ্ছে। এটা সরকারি টাকায় নয়, বেসরকারি উদ্যোগে হচ্ছে। আজ আরও দুটি ভেন্টিলেটর ম্যানেজ করার চেষ্টা করব।’
চিকিৎসকদের পেশাগত আচরণ ও নৈতিকতা (মেডিকেল এথিকস) নিয়ে কথা বলতে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, রোগীরা চিকিৎসকদের ওপর ঈশ্বরের মতো ভরসা করে। তাই তাদেরকে আচরণ, কথা ও সেবায় আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।
তিনি বলেন, ‘অনেক সময় পত্রিকায় দেখি, অস্ত্রোপচারের পর রোগীর পেটের ভেতর সুতা রেখে দেওয়া হয়েছে। পরে ব্যথায় রোগী কষ্ট পান। এগুলো কেন হয়? চিকিৎসকেরা যখন অতিরিক্ত ক্লান্ত থাকেন বা খুব বেশি ব্যস্ত থাকেন, তখন কাজে মনোযোগ দিতে পারেন না। এই বিষয়গুলো চিকিৎসকদের খেয়াল রাখতে হবে।’
একই সঙ্গে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ওঠা যৌন হয়রানির অভিযোগ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। নাম প্রকাশ না করে তিনি বলেন, ‘ঢাকা নর্থের এক জায়গায় প্র্যাকটিস করতেন এমন একজন গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট আছেন—দেখতে খুবই সুদর্শন, ব্যাকগ্রাউন্ড সেনাবাহিনীর। নারীরা গেলে তিনি রোগের কথা না শুনে নিজের ইচ্ছামতো গল্প করতেন, গান গাইতেন। এসব করা মেডিকেল এথিকসের পুরোপুরি বাইরে।’
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী নিজের চিকিৎসা নিয়ে অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে পুলিশের হামলায় তার পায়ের লিগামেন্ট ছিঁড়ে গেলে দেশীয় অনেক চিকিৎসক তাকে অস্ত্রোপচার করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি ভারতে গিয়ে একজন বিশেষজ্ঞের পরামর্শে কেবল বিশেষ জুতা (অর্থোপেডিক শু) ব্যবহার করে ও ব্যায়ামের মাধ্যমে সুস্থ হয়ে ওঠেন।
নতুন নতুন চিকিৎসাপদ্ধতি সম্পর্কে জানতে চিকিৎসকদের নিয়মিত পড়াশোনা ও প্রশিক্ষণের ওপর তাগিদ দিয়ে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আপনাদের প্রতিনিয়ত জ্ঞান অর্জন করতে হবে। প্রবীণ চিকিৎসকদের কাছ থেকে শিখতে হবে এবং বিশ্বের নতুন চিকিৎসাপদ্ধতি সম্পর্কে জানতে মেডিকেল জার্নালগুলো পড়তে হবে।’



