খেলাধুলা
বিসিবির যেসব শর্ত মেনে নিল আইসিসি
নিরাপত্তা ইস্যুকে কেন্দ্র করে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ থেকে বাংলাদেশের ছিটকে যাওয়া নিয়ে যে বিতর্ক ও নাটকীয়তা তৈরি হয়েছিল, তার অবসান ঘটাল ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) উত্থাপিত সব শর্ত মেনে নেয়ার পাশাপাশি সংস্থাটি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে এই ঘটনায় বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আর্থিক বা প্রশাসনিক শাস্তি দেয়া হবে না।
নির্ধারিত ভেন্যুতে নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকায় বাংলাদেশ দল বিশ্বকাপে অংশগ্রহণে অনীহা প্রকাশ করে এবং ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধ জানায় বিসিবি। তবে আইসিসি সেই প্রস্তাব গ্রহণ না করে বাংলাদেশকে টুর্নামেন্টের বাইরে রেখে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে। এর ফলে প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে পারছে না বাংলাদেশ যা বিশ্ব ক্রিকেটে বড় আলোচনার জন্ম দেয়।
বাংলাদেশের প্রতি এই আচরণকে শুরু থেকেই ‘অবিচার’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে সরব ছিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়ে পাকিস্তান ঘোষণা দেয়, তারা ভারতের বিপক্ষে নিজেদের নির্ধারিত ম্যাচে মাঠে নামবে না। এতে করে আইসিসির সামনে তৈরি হয় বড় ধরনের আর্থিক শঙ্কা। ধারণা করা হচ্ছিল, বহুল আলোচিত ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ বাতিল হলে আইসিসির ক্ষতির অঙ্ক ছাড়িয়ে যেতে পারে ৬ হাজার কোটি টাকা।
এই সম্ভাব্য লোকসানের বিষয়টি মাথায় রেখেই আইসিসি পাকিস্তানকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানায় এবং পরে বিসিবি ও পিসিবির সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে বসে। আলোচনায় বাংলাদেশ ও পাকিস্তান একাধিক শর্ত উত্থাপন করে। এর মধ্যে অন্যতম ছিল বাংলাদেশকে কোনো ধরনের শাস্তি বা জরিমানা করা যাবে না এবং ২০২৮ থেকে ২০৩১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি বৈশ্বিক আইসিসি টুর্নামেন্ট আয়োজনের সুযোগ দিতে হবে।
দীর্ঘ আলোচনার পর শেষ পর্যন্ত আইসিসি সব শর্ত মেনে নেয়। এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করে সংস্থাটি জানায়, আইসিসি, পিসিবি ও বিসিবির মধ্যে একটি উন্মুক্ত, গঠনমূলক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আলোচনায় শুধু টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ায় ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ ও বৃহত্তর দৃষ্টিভঙ্গিও গুরুত্ব পেয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
আইসিসির বিবৃতিতে বাংলাদেশের বিশ্বকাপে অনুপস্থিতিকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে পূর্ণ সদস্য হিসেবে বিসিবির অবস্থান পুনরায় নিশ্চিত করে আইসিসি জানায়, বাংলাদেশের রয়েছে ক্রিকেটের গর্বের ইতিহাস এবং বিশ্বব্যাপী খেলাটির বিকাশে দেশটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। প্রায় ২০ কোটির বেশি আবেগী ক্রিকেটভক্ত নিয়ে বাংলাদেশ যে ক্রিকেটের অন্যতম প্রাণবন্ত বাজার সে কথাও স্বীকার করে নিয়েছে বৈশ্বিক নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
আইসিসি আরও আশ্বাস দেয়, এই বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ না করতে পারার কারণে যেন বাংলাদেশের ক্রিকেটের ওপর কোনো দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে, সে বিষয়ে তারা অব্যাহত সহায়তা প্রদান করবে। পাশাপাশি বিসিবিকে চাইলে ডিসপিউট রেজোলিউশন কমিটিতে যাওয়ার সুযোগও খোলা রাখা হয়েছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে ঘোষণা আসে ২০২৮ থেকে ২০৩১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ একটি আইসিসি টুর্নামেন্ট আয়োজনের সুযোগ পাবে।
এমএন
খেলাধুলা
বর্ণবাদী আচরণের শিকার হামজা, প্রতিবাদ করে পেলেন শাস্তি
ইংল্যান্ডের চ্যাম্পিয়নশিপে পোর্টসমাউথ এফসির বিপক্ষে ম্যাচে বর্ণবাদের শিকার হয়েছেন লেস্টার সিটির মিডফিল্ডার হামজা দেওয়ান চৌধুরী। ১৮ এপ্রিল ফ্রাটন পার্কে অনুষ্ঠিত ম্যাচে এই ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ম্যাচের ৭১তম মিনিটে পরিবর্তনের সময় মাঠ ছাড়ার মুহূর্তে হোম সমর্থকদের একটি অংশ থেকে হামজার উদ্দেশে বর্ণবাদী মন্তব্য করা হয়। এতে তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান তিনি। গ্যালারির দিকে ঘুরে প্রতিবাদ করায় পরিস্থিতি কিছুটা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এ সময় রেফারি হস্তক্ষেপ করেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে হামজাকে হলুদ কার্ড দেখান। পরে তিনি দলের স্টাফদের সঙ্গে কথা বলতে বলতে কিছুটা উত্তেজিত অবস্থায় বেঞ্চে ফিরে যান।
ঘটনার সময় লেস্টারের কোচিং স্টাফরা পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন, তবে মাঠের উত্তেজনা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। এর মধ্যেই ম্যাচে ৬৩তম মিনিটে ইবানে বোয়াতের একমাত্র গোলে এগিয়ে যায় পোর্টসমাউথ। শেষ পর্যন্ত আর সমতায় ফিরতে পারেনি লেস্টার সিটি।
এই হারের ফলে লেস্টারের অবস্থা চ্যাম্পিয়নশিপে আরও জটিল হয়েছে। ৪৩ ম্যাচে ৪১ পয়েন্ট নিয়ে তারা এখন টেবিলের ২৩তম স্থানে রয়েছে। অবনমন এড়াতে শেষ তিন ম্যাচে জয়ের পাশাপাশি অন্য দলের ফলাফলের দিকেও তাকিয়ে থাকতে হবে তাদের। আগামী মঙ্গলবার হাল সিটির বিপক্ষে ম্যাচে হারলে দ্বিতীয় লিগে অবনমন প্রায় নিশ্চিত হয়ে যাবে।
আগের ম্যাচে বদলি হিসেবে নামলেও এই ম্যাচে শুরুর একাদশে ছিলেন হামজা। তবে তার পারফরম্যান্সের চেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে মাঠের এই বিতর্কিত ও দুঃখজনক ঘটনা।
খেলাধুলা
স্প্যানিশ ফুটবল ক্লাবের মালিক হলেন মেসি
স্প্যানিশ ফুটবল ক্লাবের মালিক হলেন আর্জেন্টিনার মহাতারকা খেলোয়াড় লিওনেল মেসি। স্পেনের পঞ্চম টায়ারের ক্লাব কর্নেয়ার মালিকানা কিনেছেন তিনি।
প্রথমবারের মতো ইউরোপের কোনো ক্লাবের মালিক হলেন এই আর্জেন্টাইন সুপারস্টার। উরুগুয়ের পেশাদার ক্লাব দেপোর্তিভো এলএসএম ক্লাবেও বিনিয়োগ রয়েছে তার।
কর্নেয়া ক্লাবের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, আনুষ্ঠানিকভাবে স্প্যানিশ ফুটবলের পঞ্চম টায়ারে থাকা কর্নেয়া ক্লাবের মালিক হয়েছেন আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী লিওনেল মেসি। এতে বার্সেলোনার সাথে মেসির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং কাতালোনিয়ায় খেলাধুলা ও স্থানীয় প্রতিভার বিকাশে তার অঙ্গীকারকে আরও শক্তিশালী করবে।
ক্লাব কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, ‘মেসির আগমন ক্লাবের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো- ক্রীড়া ও প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নে সহায়তা করা, ক্লাবের ভিত্তিকে শক্তিশালী এবং তরুণ প্রতিভা বিকাশে বাড়ানো।
দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে এই প্রকল্প এগিয়ে যাবে।’
১৯৫১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় কর্নেয়া। ২০১৩-১৪ মৌসুমে তৃতীয় টায়ারের লিগ সেগুন্দা ডিভিশন ‘বি’-তে খেলে ক্লাবটি। ২০২১ সালে কোপা দেল’রের দ্বিতীয় রাউন্ডে অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদকে হারিয়ে চমক দেখায় কর্নেয়া।
কর্নেয়া স্টেডিয়ামের ধারণক্ষমতা দেড় হাজার। এই ক্লাব থেকেই উঠে এসেছেন জোর্ডি আলবা, গেরার্ড মার্টিন এবং ডেভিড রায়ার মতো তারকারা।
খেলাধুলা
সংবাদমাধ্যমে আসছেন সাকিব, আনছেন নিজস্ব নিউজ প্ল্যাটফর্ম
ব্যাট-বল হাতে দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ব ক্রিকেট মাতিয়ে রাখা বাংলাদেশের তারকা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান এবার ডিজিটাল সংবাদমাধ্যম উদ্যোক্তা হিসেবে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছেন। তার নতুন উদ্যোগের নাম ‘বিয়ন্ড বাংলা’ (Beyond Bangla), যা মূলত একটি বৈশ্বিক কনটেন্ট ও নিউজ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
এই উদ্যোগে তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন গীতিকবি ও সাংবাদিক জুলফিকার রাসেল, যিনি প্ল্যাটফর্মটির সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই সাংবাদিক বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করে প্রকল্পটি পরিচালনায় যুক্ত থাকবেন বলে জানা গেছে।
সাকিব আল হাসান জানিয়েছেন, ‘বিয়ন্ড বাংলা’ মূলত সত্যনিষ্ঠ ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য উপস্থাপনের লক্ষ্য নিয়েই যাত্রা শুরু করছে। তার ভাষায়, অনেক সময় সঠিক খবর মানুষের কাছে পৌঁছায় না সেই জায়গা থেকেই একটি নির্ভরযোগ্য তথ্যভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম তৈরির ভাবনা এসেছে।
প্রাথমিকভাবে ধারণাটি খুব বেশি সময় ধরে পরিকল্পিত ছিল না বলেও জানান তিনি। এক অনানুষ্ঠানিক আড্ডা থেকেই এই ডিজিটাল মিডিয়া উদ্যোগের বীজ রোপিত হয় বলে উল্লেখ করেন সাকিব ও জুলফিকার রাসেল দুজনই। পরে ধীরে ধীরে তা পূর্ণাঙ্গ রূপ পেতে শুরু করে।
নতুন এই প্ল্যাটফর্মে খেলাধুলাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন সাকিব। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ও দেশীয় বিভিন্ন বিষয়, চলমান ঘটনা এবং ট্রেন্ডভিত্তিক কনটেন্টও এতে স্থান পাবে।
বর্তমানে প্ল্যাটফর্মটির ওয়েবসাইট কাঠামো প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তবে এটি এখনই জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হচ্ছে না। আগামী কয়েক মাস ‘টেস্ট রান’ বা পরীক্ষামূলক পর্যায়ে কনটেন্ট, উপস্থাপনা ও কাঠামো যাচাই করা হবে। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বিয়ন্ড বাংলা’ পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হবে।
উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, প্ল্যাটফর্মটি বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় কনটেন্ট প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে। শুরুতে মূল লক্ষ্য থাকবে বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের বাংলা ভাষাভাষী পাঠকরা।
সাকিব বলেন, এটি আলাদা কিছু করার প্রতিশ্রুতি নয়, বরং বাস্তব ও সত্য তথ্য তুলে ধরার একটি প্রচেষ্টা। অন্যদিকে জুলফিকার রাসেল জানান, দীর্ঘ সাংবাদিকতা অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তিনি এই নতুন উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে চান, যদিও যুক্তরাষ্ট্রে বসে কাজ পরিচালনা কিছুটা চ্যালেঞ্জিং হবে।
সব মিলিয়ে ক্রীড়া ও সাংবাদিকতার দুই ভিন্ন অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে ‘বিয়ন্ড বাংলা’ হয়ে উঠতে যাচ্ছে একটি নতুন ডিজিটাল মিডিয়া উদ্যোগ যেখানে খবর, বিশ্লেষণ ও কনটেন্ট উপস্থাপনার নতুন ধারা তৈরির প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
খেলাধুলা
আগামী বছরই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফিরছে বগুড়ায়
গত এক দশক ধরে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলো মূলত ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। তবে এবার সেই দৃশ্যপট পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন বিসিবির বর্তমান অ্যাডহক কমিটি। বগুড়া, খুলনা ও ফতুল্লার মাঠগুলোতে আবারও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফেরানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে সর্বশেষ ছেলেদের আন্তর্জাতিক ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০০৬ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। এরপর সেখানে নারী ক্রিকেটের ম্যাচ ছাড়া আর কোনো আন্তর্জাতিক আয়োজন দেখা যায়নি। একইভাবে খুলনায় ২০১৬ এবং ফতুল্লায় ২০১৪ সালের পর আর কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ হয়নি।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়াম পরিদর্শনে যান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। তার সঙ্গে ছিলেন বিসিবির অ্যাডহক কমিটির সদস্য ও গ্রাউন্ডস কমিটির চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বাবু। পরিদর্শন শেষে জানানো হয়, মাঠটি সংস্কার করে আবারও খেলার উপযোগী করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
গ্রাউন্ডস কমিটির চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বাবু জানান, আগামী বছরের জুন-জুলাইয়ের মধ্যেই বগুড়ায় আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে তার আগে মাঠের ড্রেনেজ সিস্টেম এবং ফ্লাড লাইট আধুনিকায়ন করতে হবে। পাশাপাশি ড্রেসিংরুম, মিডিয়া বক্স ও গ্যালারি সংস্কারের কাজও গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। বগুড়ার কাজ শেষ করে বিসিবির প্রতিনিধি দলটি খুলনা স্টেডিয়ামও পরিদর্শনে যাবে বলে জানা গেছে।
এই উদ্যোগের ফলে দেশের উত্তরাঞ্চলের ক্রিকেটপ্রেমীদের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে বলে আশা করা হচ্ছে।
খেলাধুলা
ভারতের জাতীয় দলে ডাক পাচ্ছেন বৈভব সূর্যবংশী!
চলমান আইপিএলে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স খুব শিগগিরই বৈভব সূর্যবংশীকে ভারতীয় জাতীয় দলে ডাক এনে দিতে পারে। মাত্র ১৫ বছর বয়সী এই তরুণ আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে আসন্ন টি-টোয়েন্টি সিরিজের জন্য বিবেচনায় রয়েছেন।
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচকরা ইতোমধ্যেই তার নাম শর্টলিস্ট করেছেন এবং জুনে আয়ারল্যান্ড সফরের আগে তার পারফরম্যান্স নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। এই সফরে তুলনামূলক তরুণ দল দেখা যেতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
বিসিসিআই’র এক সূত্র সংবাদমাধ্যমটিকে জানিয়েছে, ‘সে আয়ারল্যান্ড সফরের জন্য বিবেচনায় রয়েছে এবং আরও অনেক খেলোয়াড়ের সঙ্গে তার নাম শর্টলিস্ট করা হয়েছে।’
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্বাচকরা সূর্যবংশীকে দ্রুত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তুলে আনতে আগ্রহী, বিশেষ করে আইপিএলে বিশ্বের সেরা বোলারদের বিপক্ষে তার নির্ভীক ব্যাটিংয়ের কারণে।
মাত্র ১৫ বছর বয়সেই এই বাঁহাতি ব্যাটার বড় বড় বোলারদের বিপক্ষে নির্ভয়ে খেলতে পারার সুনাম অর্জন করেছেন। তার ব্যাটিংয়ে যেমন শক্তি আছে, তেমনি রয়েছে বয়সের তুলনায় অবিশ্বাস্য ধীরস্থিরতা।
যদি তিনি দলে সুযোগ পান, তাহলে তার সামনে ইতিহাস গড়ার সুযোগও থাকবে। শচীন টেন্ডুলকার এখনও ভারতের পক্ষে পুরুষদের ক্রিকেটে সর্বকনিষ্ঠ অভিষিক্তের (১৬ বছর ২০৫ দিন) রেকর্ড ধরে রেখেছে। সার্বিকভাবে রেকর্ডটি অবশ্য শেফালী ভার্মার দখলে (১৫ বছর ৭ মাস ২৭ দিন)। সূর্যবংশীর সামনে সুযোগ এই রেকর্ড ভেঙে ভারতের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার হতে পারেন।
এই মুহূর্তে বিষয়টি সম্ভাবনার মধ্যেই রয়েছে, তবে আইপিএলে তার পারফরম্যান্স সেই সম্ভাবনাকে দ্রুত বাস্তবে রূপ দিচ্ছে।
এই মৌসুমে সূর্যবংশীর পরিসংখ্যান সত্যিই চোখে পড়ার মতো। তিনি ইতোমধ্যে কয়েকটি বিস্ফোরক ইনিংস খেলেছেন; রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে ২৬ বলে ৭৮, চেন্নাই সুপার কিংসের বিপক্ষে ১৭ বলে ৫২, এবং মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিপক্ষে মাত্র ১৪ বলে ৩৯ রান উল্লেখযোগ্য।
এখানে শুধু রান নয়, রান করার ধরণটাও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। জাসপ্রীত বুমরাহ ও জশ হ্যাজেলউডের মতো বিশ্বমানের বোলারদের বিপক্ষেও তাকে একদম বিচলিত মনে হয়নি।
আইপিএলের বাইরেও তার ফর্ম ভালো। ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ অভিযানে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন, যা তাকে দেশের অন্যতম প্রতিভাবান তরুণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
আগামী ব্যস্ত সূচির কথা মাথায় রেখে টি-টোয়েন্টি দলে শক্তি বাড়াতে চাচ্ছেন নির্বাচকরা। ফলে স্বাভাবিকভাবেই সূর্যবংশীর নাম গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনায় এসেছে।
ভারত জুনের শেষ দিকে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে একটি সংক্ষিপ্ত টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে, যেখানে ম্যাচ দুটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ২৬ ও ২৮ জুন।
আইপিএলের পরপরই এই সিরিজ অনুষ্ঠিত হবে এবং এতে ভারত সম্ভবত দ্বিতীয় সারির দল খেলাবে, যাতে উদীয়মান খেলোয়াড়রা সুযোগ পায়। এরপর জুলাইয়ে ইংল্যান্ড সফরে পূর্ণ শক্তির দল ফিরবে।



