অর্থনীতি
সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে রমজানে নিত্যপণ্যের দাম বাড়বে না: এফবিসিসিআই
আসন্ন রমজান উপলক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি, মজুদ ও মূল্য পরিস্থিতি নিয়ে ব্যবসায়ী ও অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছে দেশের শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠন দি ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) মতিঝিলে এফবিসিসিআই কার্যালয়ে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন এফবিসিসিআই’র প্রশাসক আবদুর রহিম খান।
অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে খুচরা ও পাইকারি পর্যায়ের বিভিন্ন বাজার সমিতির নেতৃবৃন্দ জানান, ভোজ্যতেল, চিনি, পিয়াজ, ডালসহ অন্যান্য নিত্যপণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে দেশে। সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে এবারের রমজানে এসব পণ্যের মূল্য বৃদ্ধির সুযোগ নেই। তবে বাজার স্থিতিশীল রাখাতে সরবরাহ ব্যবস্থার বিভিন্ন ধাপে চাঁদাবাজী রোধ করতে কর্তৃপক্ষকে কঠোর হওয়ার আহ্বান জানান তারা। পাশাপাশি, সাধারণ ভোক্তাদের প্রতি অনুরোধ জানান- প্রয়োজনের তুলনায় বেশি পণ্য ক্রয় করে বাজারে বাড়তি চাপ সৃষ্টি না করার।
তবে রমজানকে কেন্দ্র করে বাজার তদারকির নামে খুচরা ব্যবসায়ীদের হয়রানি বন্ধে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং এফবিসিসিআই‘র মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানান ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের পক্ষে বাজার অস্থিতিশীল করা সম্ভব নয়। আমদানিকারক ও কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিত্যপণ্যের সরবরাহ সচল রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
বাংলাদেশ চিনি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবুল হাশেম বলেন, মিল মালিকরা ঠিকমত যোগান দিতে পারলে বাজারে চিনির সংকট হবে না। কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সরকারি উদ্যোগে দেশে চিনি আমদানি করা গেলে ব্যবসায়ীরা প্রতিযোগিতামূলক দামে চিনি বিক্রয় করতে পারবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
দ্রব্য মূল্য স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে শুধু খুচরা পর্যায়ে বাজার তদারকি না করে, বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী ও আমদানিকারক পর্যায়ে সরকারের নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানান বাংলাদেশ পাইকারি ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি গোলাম মাওলা।
এসময় মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের ডেপুটি জেনারেন ম্যানেজার তসলিম শাহরিয়ার জানান, রমজানের বাড়তি চাপ সামাল দেওয়ার জন্য ভোজ্যতেল ও চিনির পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে দেশে। তবে নির্বাচন কেন্দ্রিক ছুটির কারণে বন্দরে পণ্য খালাস, পরিবহন ও কাস্টমস কিছুটা বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এছাড়া সাপ্লাই-চেইনে অন্য কোন সংকট নেই।
এদিকে, রমজানে শাক-সবজিসহ অন্যান্য কাঁচাপণ্যের বাজারও ভোক্তাদের নাগালে থাকার ইঙ্গিত দিয়েছেন কাঁচাবাজার বণিক সমিতির নেতৃবৃন্দ। তারা জানান, লেবু ব্যতিত এই মুহূর্তে সকল কাঁচা সবজির দাম স্বাভাবিক রয়েছে।
সভার শুরুতে, নিত্যপণ্যের চাহিদা, মজুদ, সরবরাহ এবং বাজার পরিস্থিতির বর্তমান চিত্র তুলে ধরেন এফবিসিসিআই’র প্রশাসক আবদুর রহিম খান। এসময় তিনি বলেন, এবারের রোজা অন্যান্য বছরের তুলনায় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের কয়েক দিন পরই রোজা শুরু। সুতরাং সাধারণ ভোক্তাদের কথা বিবেচনায় রেখে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ও বণিক সংগঠনগুলোকে আরও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে হবে।
এ বছর নিত্যপণ্যের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে ব্যবসায়ীরা ইতিবাচক ইঙ্গিত দিলেও, বাজার নিয়ে শঙ্কার কথা জানান বাজার বিশ্লেষক এবং কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির ভূঁইয়া। তিনি বলেন, এ বছর জ্বালানি সংকট দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রমজানে এই সংকট আরও বাড়তে পারে। এছাড়া রোজা শুরুর অল্প কিছুদিন পূর্বেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এসময় নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করবে। এই ’ট্রানজিশন পিরিয়ডে’ হয়তো জোরালোভাবে বাজার তদারকি করাও সম্ভব হবে না। কিছু অসাধু লোক এই সুযোগ নিতে পারে।
এফবিসিসিআই’র প্রশাসক আবদুর রহিম খান বলেন, বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীগুলোর কাছে আমাদের অনুরোধ বাজারে সরবরাহ যেন বিঘ্নিত না হয়। বাজার তদারকি যেন ব্যবসায়ীদের উৎপাতের কারণ না হয় সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি। মতবিনিময় সভায় আলোচ্য বিষয়সমূহ এফবিসিসিআই’র পক্ষ থেকে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরা হবে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআই’র সাবেক পরিচালক গিয়াসউদ্দিন চৌধুরী (খোকন), খন্দকার রুহুল আমিন, আবুল হাশেম, এফবিসিসিআই’র মহাসচিব মো. আলমগীর, এফবিসিসিআই সেইফটি কাউন্সিলের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) আবু নাঈম মো. শাহিদউল্লাহ, এফবিসিসিআই’র সাধারণ পরিষদের সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন বণিক সমিতির নেতৃবৃন্দ, বাংলাদেশ ব্যাংক, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, প্রতিযোগিতা কমিশন, টিসিবি, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, কৃষি বিপণন অধিদপ্তর, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন শিল্পগোষ্ঠীর প্রতিনিধিবৃন্দ।
এমএন
অর্থনীতি
বিশ্ববাজারে ফের কমলো স্বর্ণের দাম
টানা দুই সেশন বাড়ার পর বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে পতন দেখা গেছে। একইসঙ্গে নিম্নমুখী রয়েছে রুপাসহ অন্যান্য ধাতুর দামও।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।
রয়টার্সের তথ্যমতে, স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪৭৬ দশমিক ৫১ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে এপ্রিল মাসের ডেলিভারির জন্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার ২ দশমিক ১ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৪৫৭ ডলারে নেমেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমনে অগ্রগতির স্পষ্ট ইঙ্গিতের অপেক্ষায় থাকায় বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন, যা বৈশ্বিক আর্থিক ও মুদ্রানীতির দিক-নির্দেশনাতেও প্রভাব ফেলতে পারে। ক্যাপিটাল ডট কমের সিনিয়র আর্থিক বাজার বিশ্লেষক কাইল রড্ডা বলেন, আগামী ২৪-৪৮ ঘণ্টায় স্বর্ণের দাম মূলত আলোচনা-সংক্রান্ত খবরের ওপরই নির্ভর করবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘প্রায় চার সপ্তাহের লড়াই শেষ করতে ইরান একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য মরিয়া।’ মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন মন্তব্যে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যকে খণ্ডন করেছেন, তিনি আগে জানিয়েছিলেন যে, তাদের দেশ মার্কিন প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করছে। তবে সংঘাত নিরসনে কোনো আলোচনা করার ইচ্ছা নেই।
বিশ্ববাজারে অন্যান্য ধাতুর দামও কমেছে। স্পট রুপার দাম ১ দশমিক ৯ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৯ দশমিক ৯০ ডলারে নেমেছে। স্পট প্লাটিনামের দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ১ হাজার ৮৯৩ দশমিক ৬০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে প্যালাডিয়ামের দাম ২ শতাংশ কমে ১ হাজার ৩৯৪ দশমিক ৮৩ ডলারে নেমেছে।
এদিকে, বিশ্ববাজারে দাম কমায় দেশের বাজারেও আরেক দফা স্বর্ণের দাম কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সবশেষ টানা ৬ দফায় দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমানো হয়েছে মোট ২৮ হাজার ৯৮৫ টাকা। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের বাজারে বর্তমানে প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়ছে ২ লাখ ৪১ হাজার ৪৪৫ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৩০ হাজার ৪৮১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৩০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৬০ হাজার ৯০৫ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।
অর্থনীতি
বিশ্ববাজারে আবারও ১০০ ডলার ছাড়াল জ্বালানি তেলের দাম
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যৌথ আগ্রাসনের মধ্যেই বিশ্ববাজারে আবারও বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নিয়ে ব্যবসায়ীদের পর্যালোচনার মধ্যে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) তেলের বাজারে এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়। তবে ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।
এদিকে রাশিয়া ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বিশ্ববাজারে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।
আজ আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেলে ১.১৩ ডলার (১.১ শতাংশ) বেড়ে ১০৩.৩৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) ক্রুডের দাম ১.০৮ ডলার (১.২ শতাংশ) বেড়ে প্রতি ব্যারেল হয়েছে ৯১.৪০ ডলার। অথচ আগের দিন উভয় ক্ষেত্রেই তেলের দাম ২ শতাংশের বেশি কমেছিল।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় অঞ্চলে কূটনৈতিক সমাধানের নতুন সম্ভাবনা তেলের দামের এই পুনরুত্থানে ভূমিকা রেখেছে, যদিও যুদ্ধবিরতি নিয়ে বাজারে আশাবাদ এখনো বেশ সীমিত।
সূত্র : সামা টিভি
অর্থনীতি
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিদেশি ঋণ বেড়েছে ১০ বিলিয়ন ডলার
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দেশের বৈদেশিক ঋণ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে মোট বৈদেশিক ঋণ দাঁড়িয়েছে ১১৩ দশমিক ৫১ বিলিয়ন ডলার, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, শুধু ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর এ তিন মাসেই বৈদেশিক ঋণ বেড়েছে ১ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলার। সেপ্টেম্বর শেষে ঋণের পরিমাণ ছিল ১১২ দশমিক ২১ বিলিয়ন ডলার।
এর আগে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সময় দেশের মোট বৈদেশিক ঋণ ছিল ১০৩ দশমিক ৪১ বিলিয়ন ডলার। সে হিসেবে প্রায় দেড় বছরে ঋণ বেড়েছে ১০ বিলিয়ন ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছরের সেপ্টেম্বর শেষে সরকারি খাতে বৈদেশিক ঋণ ছিল ৯২ দশমিক ৫৫ বিলিয়ন ডলার, যা ডিসেম্বর শেষে বেড়ে দাঁড়ায় ৯৩ দশমিক ৪৬ বিলিয়ন ডলারে।
অন্যদিকে বেসরকারি খাতে একই সময়ে ঋণ বেড়ে ১৯ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার থেকে ২০ দশমিক ০৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়।
ফলে মোট ঋণ বৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে সরকারি খাতই এগিয়ে রয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, উন্নয়ন ব্যয় মেটানো ও বাজেট ঘাটতি সামাল দিতেই সরকার বেশি ঋণ নিচ্ছে। গত এক দশকে বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক ঋণ নিয়েছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে রয়েছে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, মেট্রোরেল, এক্সপ্রেসওয়ে, টানেল, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্প।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও এ ধারা অব্যাহত ছিল। বিশেষ করে বাজেট ঘাটতি পূরণ, সরকারি বেতন-ভাতা পরিশোধ এবং অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার নতুন ঋণ নেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঋণের পরিমাণের চেয়ে বড় উদ্বেগ হলো সুদ ও কিস্তি পরিশোধের চাপ। সামনে বড় অঙ্কের ঋণ পরিশোধ শুরু হলে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ বাড়তে পারে, বিশেষ করে যদি রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্স প্রত্যাশামতো না বাড়ে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে বৈদেশিক অর্থায়ন প্রয়োজন হলেও ঋণ ব্যবস্থাপনা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তাঁরা ঋণের কার্যকর ও উৎপাদনশীল ব্যবহার নিশ্চিত করা, রপ্তানি ও রেমিট্যান্স বাড়ানো এবং নতুন ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা ও ঝুঁকি মূল্যায়নের ওপর জোর দিয়েছেন।
সব মিলিয়ে বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বৈদেশিক ঋণ তাৎক্ষণিকভাবে সংকটজনক না হলেও এর সঠিক ব্যবস্থাপনাই নির্ধারণ করবে এটি ভবিষ্যতে অর্থনীতির জন্য বোঝা হবে, না কি উন্নয়নের চালিকাশক্তি হয়ে উঠবে।
সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন
অর্থনীতি
ব্যাংকিং খাতে জবাবদিহিতা বাড়াতে লিখিত পরিকল্পনা চায় আইএমএফ
দেশের ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা জোরদারে একটি সুস্পষ্ট ও সময়সীমাবদ্ধ পরিকল্পনা লিখিত আকারে চেয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।
বুধবার (২৫ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংক-এর গভর্নরের সঙ্গে বৈঠকে আইএমএফের এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলের পরিচালক কৃষ্ণা শ্রীনিবাসনের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দল এ আহ্বান জানায়।
বৈঠকে দেশের আর্থিক খাতের চলমান সংস্কার, সামষ্টিক অর্থনীতির অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় ব্যাংকিং খাতে সংস্কারের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করলেও প্রক্রিয়াটিকে আরও কাঠামোবদ্ধ করার ওপর গুরুত্ব দেয় আইএমএফ।
বিশেষ করে ঋণ ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন, খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ এবং নীতিগত সংস্কার কার্যকর করতে একটি লিখিত রোডম্যাপ প্রণয়নের ওপর জোর দেওয়া হয়। আইএমএফ মনে করছে, এমন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ব্যাংকিং খাতে জবাবদিহিতা বাড়বে এবং আর্থিক শৃঙ্খলা আরও সুসংহত হবে।
বৈঠকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি এবং বিনিময় হারকে বাজারভিত্তিক করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রগতিকেও ইতিবাচক হিসেবে মূল্যায়ন করা হয়। মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকারের সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলো কার্যকর বলেও উল্লেখ করে সংস্থাটি।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র মোহাম্মদ শাহরিয়ার সিদ্দিকী জানান, আইএমএফের ঋণ কর্মসূচির পরবর্তী কিস্তি ছাড়ের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আগামী এপ্রিলে অনুষ্ঠেয় স্প্রিং মিটিংয়ের পর নেওয়া হবে। এর আগে একটি রিভিউ মিশন বাংলাদেশ সফর করে সংস্কারের অগ্রগতি মূল্যায়ন করবে।
আগামী ১৩ থেকে ১৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বসন্তকালীন বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী-এর নেতৃত্বে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধি দল অংশ নেবে।
উল্লেখ্য, আইএমএফের সঙ্গে বাংলাদেশের ঋণ কর্মসূচি শুরু হয় ২০২৩ সালের ৩০ জানুয়ারি। বর্তমানে এ কর্মসূচির আওতায় পাঁচ কিস্তিতে ৩৬৪ কোটি ডলার পাওয়া গেছে, বাকি রয়েছে আরও ১৮৬ কোটি ডলার।
অর্থনীতি
বিশ্ববাজারে ফের বাড়লো স্বর্ণের দাম
আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বুধবার প্রায় ২ শতাংশ বেড়েছে। টানা কয়েক দিন কমার পর এই বৃদ্ধি হলো। তেলের দাম কমে আসায় মুদ্রাস্ফীতির চাপ কিছুটা কমার ইঙ্গিত মিলেছে, ফলে সুদের হার বাড়ার আশঙ্কাও কমেছে। এতে স্বর্ণের চাহিদা বেড়েছে। খবর রয়টার্সের।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আজ স্পট স্বর্ণের দাম ১.৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪,৫৫৮.০৩ ডলারে পৌঁছায়। এর আগে সপ্তাহের শুরুতে, সোমবার স্বর্ণের দাম চার মাসের সর্বনিম্ন ৪,০৯৭.৯৯ ডলারে নেমে গিয়েছিল।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের এপ্রিল ডেলিভারির ফিউচার মার্কেটে স্বর্ণের দাম আরও বেশি বেড়ে ৩.৫ শতাংশ উত্থান নিয়ে ৪,৫৫৬.৩০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাত নিয়ে বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। একই সময়ে তেলের দাম কমে আসায় বিনিয়োগকারীরা আবার নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছেন।
ফলে সাম্প্রতিক দরপতনের পর স্বর্ণের বাজারে ফের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তবে পরিস্থিতি এখনও অস্থির থাকায় সামনে দামে ওঠানামা অব্যাহত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।



