Connect with us

মত দ্বিমত

বাংলাদেশ কি তথ্যযুদ্ধের মধ্যে ঢুকে পড়েছে?

Published

on

দরপতনের

সাম্প্রতিক সময়ে গণমাধ্যমের একটি ফেসবুক ভেরিফায়েড পেইজে জামায়াতের আমিরকে ঘিরে একটি মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ে, যা দ্রুত ভাইরাল হয়ে সারা দেশে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। প্রযুক্তির এই যুগে, যেখানে নারী বিশ্বনেতৃত্ব দিচ্ছে, আরব সভ্যতায় পরিবর্তন ঘটছে, এবং ইসলামের ইতিহাসেই হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সহধর্মিণী হজরত খাদিজা (রা:) ছিলেন একজন সফল ব্যবসায়ী ও সমাজে সম্মানিত প্রতিনিধি, সেই বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে নারীদের কাজ করাকে পতিতাবৃত্তির সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে বলে প্রচারিত হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।

পরবর্তী তদন্তে উঠে এসেছে, সংশ্লিষ্ট ভেরিফায়েড পেইজটি হ্যাক করা হয়েছিল এবং এই বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়েছিল বিশেষ করে আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি রাজনৈতিক দলকে প্রশ্নবিদ্ধ করার উদ্দেশ্যে। ঘটনাটি শুধু একটি গুজব নয়, এটি দেখিয়ে দেয় কত সহজে একটি সাজানো বার্তা সমাজে ক্ষোভ, বিভাজন এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি করতে পারে। এই ঘটনাই একটি বড় বাস্তবতা সামনে আনে, ডিজিটাল যুগে সত্য প্রকাশ পাওয়ার আগেই মিথ্যা জনমত গড়ে তুলতে পারে। আর যখন একটি ভুয়া বার্তা জাতীয় বিতর্কে পরিণত হয়, তখন সেটি আর কেবল একটি পোস্ট থাকে না সেটি হয়ে ওঠে তথ্যযুদ্ধের অংশ।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

বাংলাদেশ এখন শুধু রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই নেই, দেশটি ধীরে ধীরে একটি গভীর তথ্যসংকটে প্রবেশ করছে। নির্বাচনের আগে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার অভিযোগকে অন্তর্বর্তী সরকার ডিসইনফরমেশন বলে উড়িয়ে দিয়েছে এবং দাবি করেছে, দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে ইচ্ছাকৃতভাবে এসব ছড়ানো হচ্ছে। অন্যদিকে একটি বড় জরিপে দেখা গেছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খুব বেশি পরিমাণে ভুয়া খবর তরুণদের মানসিক চাপের প্রধান কারণ হয়ে উঠেছে। এই দুটি ঘটনা একসাথে একটি কঠিন প্রশ্ন তুলে ধরে: কোন তথ্য সত্য, আর কোনটি রাজনৈতিক অস্ত্র?

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

ভুয়া তথ্যের বিস্ফোরণ, সংখ্যাই বলছে বিপদের কথা। স্বাধীন ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থা রুমর স্ক্যানার-এর প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের প্রথম তিন মাসে বাংলাদেশে ৮৩৭টি ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর তথ্য শনাক্ত হয়েছে, যা আগের সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। ভুল তথ্যের হার আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২৮ শতাংশ বেশি। রাজনৈতিক ঘটনা, জাতীয় ইস্যু এবং ধর্মীয় বিতর্ক এই বৃদ্ধির প্রধান কারণ। ৭৪৮টি ভুয়া তথ্য ফেসবুক থেকে ছড়িয়েছে, অর্থাৎ গড়ে প্রতিদিন আটটিরও বেশি। বিশ্লেষণে আরও দেখা গেছে, মোট বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট ৩০ শতাংশ বেড়েছে এবং দুই-তৃতীয়াংশ ফ্যাক্ট-চেক ছিল রাজনৈতিক। স্বাধীন ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থার প্রতিবেদনে উঠে আসা এই পরিসংখ্যান শুধু তথ্যের পরিমাণই নয়, বরং একটি রাষ্ট্রের তথ্যপরিবেশ কত দ্রুত দূষিত হতে পারে, সেই সতর্কবার্তাও বহন করে।

নির্বাচন সামনে, তাই কি গুজবও অস্ত্র? একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যাচাই করা ভুয়া দাবির প্রায় ৬৩ শতাংশই রাজনৈতিক, এবং এর অর্ধেক ছিল বানানো সমাবেশ, সংঘর্ষ বা নেতাদের ভুয়া বক্তব্য নিয়ে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবচেয়ে বেশি ভুয়া বয়ানের লক্ষ্য হয়েছেন, যার ৮০ শতাংশ তাকে ইতিবাচকভাবে উপস্থাপন করেছে। অর্থাৎ অপপ্রচার শুধু প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করছে না; অনেক ক্ষেত্রে জনপ্রিয়তা তৈরির হাতিয়ার হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে। উদ্বেগের বিষয় হলো, বিভ্রান্তিকর তথ্য এখন আর প্রান্তিক কোনো সমস্যা নয়; এটি জনমত নির্মাণের একটি কৌশলগত উপাদানে পরিণত হয়েছে।

রাষ্ট্র, রাজনীতি, বিদেশি প্রভাব, জটিল ত্রিভুজ। ফ্যাক্ট-চেক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে যে নিরাপত্তা বাহিনী সম্পর্কেও ৬০টি ভুল দাবি ছড়ানো হয়েছে এবং ভারতীয় মিডিয়া ও সামাজিক মাধ্যম মিলিয়ে অন্তত ৮৩টি বিভ্রান্তিকর ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ছিল। এটি একটি বিপজ্জনক সংকেত, কারণ তথ্যযুদ্ধ যখন সীমান্ত ছাড়িয়ে যায়, তখন তা কূটনৈতিক উত্তেজনায়ও রূপ নিতে পারে।

সমাজ কেন এত সহজে গুজবে বিশ্বাস করছে? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বড় রাজনৈতিক ঘটনা, ধর্মীয় উত্তেজনা এবং অনলাইন মেরুকরণ ভুল তথ্য ছড়ানোর গতি বাড়িয়েছে। অতীতে একটি গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল যে পদ্মা সেতুর জন্য মানববলির প্রয়োজন, এবং সেই ভুল তথ্য প্রাণহানির ঘটনাও ঘটিয়েছিল। অর্থাৎ ভুয়া খবর শুধু মতামত বদলায় না, জীবনও কেড়ে নিতে পারে।

সরকার কী করছে, আর কী করা উচিত? তরুণদের অধিকাংশই মনে করে ক্ষতিকর অনলাইন আচরণ ঠেকাতে নিয়ম থাকা জরুরি। কিন্তু এখানে সবচেয়ে বড় দ্বন্দ্ব হলো: অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ দিলে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ঝুঁকিতে পড়ে, আর নিয়ন্ত্রণ না দিলে রাষ্ট্র অস্থিতিশীল হতে পারে। এই ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন সরকারের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। সমস্যাটি শুধু কে মিথ্যা বলছে তা নয়; বড় প্রশ্ন হলো, নাগরিকরা কোন উৎসকে বিশ্বাস করবে। যখন বিশ্বাসের কেন্দ্রগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে, তখন গণতন্ত্রের ভিত্তিও অদৃশ্যভাবে ক্ষয় হতে শুরু করে।

প্রতিরক্ষা ও রাষ্ট্রীয় সংস্থার ভূমিকা। ভুল তথ্য যখন সেনাবাহিনী বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে লক্ষ্য করে ছড়ায়, তখন তা শুধু রাজনৈতিক নয়, জাতীয় নিরাপত্তার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। আধুনিক রাষ্ট্রে নিরাপত্তা মানে শুধু সীমান্ত রক্ষা নয়; তথ্যের নিরাপত্তাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

সবচেয়ে বড় বিপদ: বিশ্বাসের পতন। একটি রাষ্ট্র তখনই দুর্বল হয় যখন নাগরিকরা আর কোনো উৎসকে বিশ্বাস করতে পারে না। আজ বাংলাদেশের সামনে তিনটি বাস্তব ঝুঁকি দাঁড়িয়ে আছে: সত্যের সংকট, গণতন্ত্রের সংকট, এবং আন্তর্জাতিক মর্যাদার সংকট। ইতিহাস দেখায়, কোনো রাষ্ট্র হঠাৎ ভেঙে পড়ে না; ভাঙন শুরু হয় তখনই, যখন সত্য নিয়ে সামাজিক ঐকমত্য হারিয়ে যায়।

বাংলাদেশ এখনো ভেঙে পড়েনি, কিন্তু সতর্ক না হলে ভাঙনের ভিত্তি তৈরি হবে। রাষ্ট্রকে অবিলম্বে স্বাধীন ও শক্তিশালী ফ্যাক্ট-চেকিং ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, রাজনৈতিক দলগুলোর অপপ্রচারকে আইনের আওতায় আনতে হবে, এবং ডিজিটাল সাক্ষরতা জাতীয় আন্দোলনে পরিণত করতে হবে। কারণ একটি সত্য স্পষ্ট: বন্দুক রাষ্ট্রকে যতটা না দুর্বল করে, মিথ্যা তার চেয়েও দ্রুত রাষ্ট্রকে ভেঙে দেয়।

শেষ কথা। বাংলাদেশ আজ এক মোড়ে দাঁড়িয়ে। এটি কি তথ্যনির্ভর আধুনিক রাষ্ট্র হবে, নাকি গুজবনির্ভর অস্থির সমাজে পরিণত হবে? সিদ্ধান্ত এখনই নিতে হবে। কারণ ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে, গণতন্ত্র নির্বাচন হারিয়ে ধ্বংস হয় না; গণতন্ত্র ধ্বংস হয় যখন সত্য হারিয়ে যায়।

রহমান মৃধা, গবেষক ও লেখক, সাবেক পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন
rahman.mridha@gmail.com

শেয়ার করুন:-

মত দ্বিমত

দাভোস আমাকে আরেকবার মনে করিয়ে দিল, নিজের পায়ে দাঁড়ানোর বিকল্প নেই

Published

on

দরপতনের

প্রশ্ন একটাই। বাংলাদেশ কি দাভোসের বার্তা শুনেছে? বাংলাদেশ মানে কেবল ভৌগোলিক সীমারেখা নয়। বাংলাদেশ মানে সিদ্ধান্তের সার্বভৌম অধিকার। বাংলাদেশের সব সিদ্ধান্ত বাংলাদেশই নেবে। এই রাষ্ট্রের জন্ম কোনো করুণা থেকে নয়, জন্ম হয়েছে এ দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য। বাংলাদেশ আমার, আপনার, আমাদের সবার।

ভয়, শাস্তি কিংবা শক্তি ইউরোপকে দাবিয়ে রাখতে পারেনি। ইতিহাস তা স্পষ্ট করে দিয়েছে। তাহলে প্রশ্ন ওঠে, বাংলাদেশকে দাবিয়ে রাখার সাহস আসে কোথা থেকে? এই সাহস কি আকাশ থেকে নামে, নাকি আমাদের ভেতর থেকেই কেউ বা কোনো গোষ্ঠী সেই সুযোগ করে দেয়? যদি ভেতরের দুর্বলতা না থাকে, বাইরের শক্তি কখনোই সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে পারে না।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

গণভোটের পরই স্পষ্ট হবে, কত বিপুল সংখ্যক না ভোট বাংলাদেশের মানুষের প্রকৃত অবস্থান তুলে ধরছে। যারা সত্যিকারের দেশপ্রেমিক, তারা তখনই বুঝবে রাষ্ট্র আসলে কোথায় দাঁড়িয়ে আছে।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

যদি কোনো প্রতিবেশী আমাদের শত্রু হতে চায়, সেটি আমাদের সংকট নয়। বরং সেটিই সিদ্ধান্ত নেওয়ার উপযুক্ত সময়। আমরা কি অসুস্থ প্রতিবেশীর সঙ্গে একই শর্তে সম্পর্ক বজায় রাখব, নাকি নিজেদের স্বার্থ, মর্যাদা ও ভবিষ্যৎকে অগ্রাধিকার দেব?

‘উই ক্যান অনলি উন্ডারস্ট্যান্ড টি ফিলিং অফ ডিভোশন ইফ টি নাইবোর্স শেয়ার আওয়ার প্যাশন’

দাভোসে একটি বিষয় বারবার ফিরে এসেছে। সভাকক্ষ, প্যানেল আলোচনা, করিডোরের আলাপ সবখানেই একই প্রশ্ন। আমরা কতদিন আমেরিকা, রাশিয়া কিংবা যুদ্ধের পেছনে সময় ব্যয় করব? কতদিন অন্যের সংঘাত, অন্যের ক্ষমতার দ্বন্দ্ব আমাদের চিন্তার কেন্দ্রে থাকবে? দাভোস বলছে, এখন সময় নিজেদের দিকে তাকানোর।

কীভাবে আমরা নিজেদের ভাগ্য বদলাতে পারি, সেটিই ছিল আলোচনার মূল সুর। কীভাবে একটি জাতি নিজের শক্তি নিজেই গড়ে তোলে। শিক্ষা, দক্ষতা, প্রযুক্তি, নৈতিকতা এবং প্রতিষ্ঠানকে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করিয়ে। শক্তি মানে কেবল সামরিক শক্তি নয়। শক্তি মানে আত্মবিশ্বাসী রাষ্ট্র। শক্তি মানে এমন সমাজ, যেখানে সিদ্ধান্ত আসে জনগণ থেকে, ভয় থেকে নয়।

দাভোস মনে করিয়ে দিয়েছে, শ্রেষ্ঠ জাতি কেউ জন্মগতভাবে হয় না। শ্রেষ্ঠ জাতি গড়ে ওঠে সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায়। ভুল স্বীকার করার সাহসে। নিজেদের দুর্বলতা ঢাকার চেষ্টা না করে, সেগুলো কাটিয়ে ওঠার দৃঢ়তায়।

বাংলাদেশের সামনে প্রশ্ন তাই বাইরের শক্তিকে নিয়ে নয়। প্রশ্ন আমাদের নিজেদের নিয়ে। আমরা কি আমাদের মানুষের ওপর আস্থা রাখব? আমরা কি সিদ্ধান্ত নেবো নিজেদের বাস্তবতা, সক্ষমতা ও ভবিষ্যৎকে সামনে রেখে? নাকি সারাক্ষণ অন্যের যুদ্ধ, অন্যের হুমকি আর অন্যের অনুমতির অপেক্ষায় থাকব?

দাভোস একটি বার্তাই দিয়েছে। কেউ এসে আমাদের ভাগ্য লিখে দেবে না। দাঁড়াতে হবে নিজের পায়ে। শক্ত হতে হবে নিজের ভিত থেকে। রাষ্ট্র গড়তে হবে মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও অংশগ্রহণের ওপর। এই পথ সহজ নয়। কিন্তু এটাই একমাত্র পথ। কারণ বাংলাদেশ কোনো দাবার ঘুঁটি নয়। বাংলাদেশ একটি জাতির সিদ্ধান্ত।

রহমান মৃধা, গবেষক ও লেখক, সাবেক পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন
rahman.mridha@gmail.com 

শেয়ার করুন:-
পুরো সংবাদটি পড়ুন

মত দ্বিমত

বিশ্বব্যবস্থার রাজনৈতিক অস্থিরতা: নীরব সমাজ, শক্তিধর রাষ্ট্র ও ন্যায়ের রূপান্তর

Published

on

দরপতনের

বর্তমান বিশ্ব এক গভীর রাজনৈতিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই রূপান্তর কোনো একটি দেশের ভেতরে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি একই সঙ্গে ইউরোপ, আমেরিকা, এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার সমাজ ও রাষ্ট্র কাঠামোকে প্রভাবিত করছে। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয় বিশ্ব অস্থির, কিন্তু ভেতরে ভেতরে আরও ভয়াবহ একটি বিষয় ঘটছে। মানুষ ধীরে ধীরে এই অস্থিরতাকে স্বাভাবিক বলে মেনে নিচ্ছে। অন্যায় ক্রমে ন্যায়ে পরিণত হচ্ছে, আর নীরবতা হয়ে উঠছে সামাজিক প্রতিক্রিয়ার প্রধান ভাষা।

ন্যাটো জোট ও পশ্চিমা ঐক্যের ফাটল

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

দীর্ঘদিন ধরে ন্যাটোকে পশ্চিমা নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক ঐক্যের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই জোটের ভেতরেই মতপার্থক্য, দ্বন্দ্ব ও স্বার্থের সংঘাত প্রকাশ্যে এসেছে। ইউক্রেন যুদ্ধ, প্রতিরক্ষা ব্যয়, অভিবাসন প্রশ্ন এবং যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে ভিন্নমত ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে। অনেক দেশ এখন প্রশ্ন তুলছে, ন্যাটো কি সত্যিই সমান নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, নাকি এটি কিছু শক্তিধর রাষ্ট্রের কৌশলগত হাতিয়ার মাত্র।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

এই বিভাজন কেবল সামরিক নয়। সাম্প্রতিক গ্রিনল্যান্ড ইস্যু এই ফাটলকে আরও দৃশ্যমান করেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প ডেনমার্ক ও ইউরোপীয় মিত্রদের আপত্তির জবাবে গ্রিনল্যান্ডের ওপর শুল্ক হুমকি দিয়েছে। এটি ন্যাটো জোটের ভেতরের সম্পর্ককে চাপের মধ্যে ফেলে দিয়েছে—যেখানে মিত্র দেশগুলো নিরাপত্তা চাচ্ছে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা পদক্ষেপে তাদের কৌশলগত স্বাধীনতা সীমিত হচ্ছে। ফলে দেখা যাচ্ছে, ন্যাটোর ঐক্য এখন শর্তযুক্ত আনুগত্যের ওপর ভিত্তি করে এবং শক্তিধর রাষ্ট্রের স্বার্থ দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছে।

জাতিসংঘ: নীতি আছে, কার্যকারিতা নেই

জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে, যাতে ভবিষ্যতে বিশ্ব আর এমন বিপর্যয়ের মুখে না পড়ে। কিন্তু আজ জাতিসংঘ ক্রমেই একটি প্রতীকী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের ভেটো ক্ষমতা বাস্তব ন্যায়বিচারকে বারবার আটকে দিচ্ছে।

গাজা, ইউক্রেন, ইয়েমেন, সুদান বা আফ্রিকার বিভিন্ন সংঘাতে জাতিসংঘের সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট। নীতি আছে, প্রস্তাব আছে, কিন্তু কার্যকর প্রয়োগ নেই। এর ফলে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগছে, আন্তর্জাতিক আইন কার জন্য এবং কাদের বিরুদ্ধে।

গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার রূপান্তর ও সংকট

গণতন্ত্র এখনও শব্দ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, কিন্তু এর চর্চা বদলে গেছে। নির্বাচন হচ্ছে, কিন্তু ভোটারের প্রকৃত ক্ষমতা সংকুচিত। রাজনৈতিক দলগুলো কর্পোরেট অর্থায়নের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। প্রচারণা, মিডিয়া কাভারেজ ও জনমত গঠনে পুঁজির ভূমিকা এতটাই প্রবল যে সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর প্রায় অদৃশ্য।

অনেক দেশে নির্বাচনী ব্যবস্থাকে আইনগতভাবে ঠিক রাখা হলেও বাস্তবে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হচ্ছে সীমিত কিছু গোষ্ঠীর হাতে। এটি একটি নরম অথচ গভীর কর্তৃত্ববাদ, যেখানে গণতন্ত্রের কাঠামো থাকে, কিন্তু আত্মা থাকে না।

শক্তিধর রাষ্ট্র ও নতুন ক্ষমতার বিন্যাস

বিশ্ব এখন একমুখী নেতৃত্বের যুগে নেই। যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আঞ্চলিক শক্তিগুলো নিজেদের মতো করে প্রভাব বিস্তার করছে। এই বহুমুখী শক্তি কাঠামো একদিকে ভারসাম্য তৈরি করলেও অন্যদিকে অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে।

ছোট ও দুর্বল রাষ্ট্রগুলো এই প্রতিযোগিতার মাঝে পড়ে যাচ্ছে। তাদের সার্বভৌম সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা সীমিত হচ্ছে ঋণ, বাণিজ্য, সামরিক চুক্তি ও কূটনৈতিক চাপের মাধ্যমে।

পুঁজিবাদ ও রাজনীতির মেলবন্ধন

বর্তমান পুঁজিবাদ আর শুধু অর্থনীতির বিষয় নয়। এটি সরাসরি রাজনীতির নিয়ন্ত্রক শক্তি। বড় কর্পোরেশনগুলো নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলছে, কর ব্যবস্থাকে নিজেদের পক্ষে ঘুরিয়ে নিচ্ছে এবং শ্রম, পরিবেশ ও সামাজিক ন্যায়ের প্রশ্নকে গৌণ করে তুলছে।

এর ফল সবচেয়ে বেশি পড়ছে গরিব ও মধ্যবিত্ত মানুষের ওপর। সামাজিক নিরাপত্তা সংকুচিত হচ্ছে, শ্রমের মূল্য কমছে, আর জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ছে।

ইনফ্লেশন ও দৈনন্দিন জীবনের রাজনীতি

ইনফ্লেশন শুধু একটি অর্থনৈতিক শব্দ নয়। এটি মানুষের জীবনের প্রতিটি স্তরে রাজনীতির উপস্থিতি। খাদ্য, বাসস্থান, স্বাস্থ্য ও জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি মানুষকে টিকে থাকার সংগ্রামে আটকে দিচ্ছে। যখন মানুষ প্রতিদিনের বেঁচে থাকার লড়াইয়ে ব্যস্ত থাকে, তখন রাষ্ট্র ও ক্ষমতার জবাবদিহি প্রশ্ন করার শক্তি হারিয়ে ফেলে।

ফ্যাসিস্ট প্রবণতা ও ভয়ের রাজনীতি

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ফ্যাসিস্ট প্রবণতা নতুন রূপে ফিরে আসছে। এটি এখন আর শুধু সামরিক বুটের শব্দ নয়, বরং আইন, ভাষা ও সংস্কৃতির মাধ্যমে ধীরে ধীরে বিস্তার লাভ করছে। ভয়ের রাজনীতি ব্যবহার করে নাগরিক স্বাধীনতা সীমিত করা হচ্ছে।

মহামারী, দুর্নীতি ও নৈতিক অবক্ষয়

মহামারী দেখিয়ে দিয়েছে সংকটের সময় রাষ্ট্র কতটা মানবিক হতে পারে বা পারে না। একই সঙ্গে দুর্নীতি ও বৈষম্যের কাঠামো আরও উন্মোচিত হয়েছে।

তাহলে সমাজ কেন মেনে নিচ্ছে

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, এতকিছুর পরেও সমাজ কেন প্রতিরোধ গড়ে তুলছে না। এর কারণ ক্লান্তি, ভয়, বিভ্রান্তি এবং বিকল্প কল্পনার অভাব। মানুষ ধীরে ধীরে শিখে নিচ্ছে যে ক্ষমতার সিদ্ধান্ত প্রশ্ন করার জায়গা সংকুচিত, আর ব্যক্তিগত টিকে থাকাই প্রধান লক্ষ্য। এই নীরবতা কার্যত শক্তিধর রাষ্ট্র ও কর্পোরেট ক্ষমতার পক্ষে কাজ করে। অন্যায় এখানে হঠাৎ করে ন্যায় হয়ে যায় না, বরং দীর্ঘ সময় ধরে প্রশ্নহীন থাকতে থাকতে ন্যায় বলে মেনে নেওয়া হয়।

গ্রিনল্যান্ড সংকট ও ট্রাম্পের শুল্ক হুমকি

গ্রিনল্যান্ড ইস্যু দেখিয়েছে কিভাবে শক্তিধর রাষ্ট্রের একতরফা পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক জোট ও মিত্র সম্পর্ককে চাপের মধ্যে ফেলে। ডোনাল্ড ট্রাম্প ডেনমার্ক ও ইউরোপীয় মিত্রদের আপত্তির জবাবে গ্রিনল্যান্ডের ওপর শুল্ক হুমকি দিয়েছেন।
• এটি ন্যাটো জোটের ভেতরের ফাটল আরও স্পষ্ট করেছে, যেখানে মিত্র দেশগুলো নিরাপত্তা চাচ্ছে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা পদক্ষেপে তাদের কৌশলগত স্বাধীনতা সীমিত হচ্ছে।
• শুল্কের প্রভাব শুধুমাত্র রাষ্ট্রের ওপর সীমিত নয়; এটি বাজারে, মূল্যস্ফীতি ও ভোক্তার ক্রয়ক্ষমতায় প্রভাব ফেলছে। ফলে সাধারণ মানুষ এই রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ বহন করছে, আর রাজনৈতিক প্রতিরোধের শক্তি ক্ষয় পাচ্ছে।

গ্রিনল্যান্ড ইস্যু ও শুল্ক হুমকি আমাদের একটি কঠিন বার্তা দেয়। ভবিষ্যৎ বিশ্ব রাজনীতি হবে আরও ক্ষমতানির্ভর, যেখানে আন্তর্জাতিক আইন ও নৈতিকতার ভাষা থাকবে, কিন্তু প্রয়োগ হবে শক্তির ভাষায়। ছোট ও মাঝারি রাষ্ট্রগুলোর জন্য এটি একটি সতর্ক সংকেত, আর সাধারণ মানুষের জন্য এটি একটি নীরব বিপদ।
প্রশ্ন একটাই থেকে যায়, আমরা কি এই নতুন স্বাভাবিকতাকে মেনে নেব, নাকি একে প্রশ্ন করার নতুন রাজনৈতিক কল্পনা তৈরি করব।

রহমান মৃধা, গবেষক ও লেখক, সাবেক পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন
rahman.mridha@gmail.com

শেয়ার করুন:-
পুরো সংবাদটি পড়ুন

মত দ্বিমত

এআই বিভ্রান্তি বাংলাদেশের দুর্নীতিকে আরও শক্তিশালী করে

Published

on

দরপতনের

বাংলাদেশে দুর্নীতি কোনো বিচ্ছিন্ন ব্যতিক্রম নয়। এটি বহু মানুষের কাছে একটি পরিচিত বাস্তবতা, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে একটি স্বাভাবিক ব্যবস্থা। ঘুষ, প্রভাব, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং তথ্য গোপন করা বহুদিন ধরেই প্রাত্যহিক অভিজ্ঞতার অংশ। কিন্তু সাম্প্রতিক বৈশ্বিক পরিবর্তন এই সমস্যাকে আরও গভীর করছে।

একদিকে যুক্তরাষ্ট্রসহ শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোর শুল্কনীতি ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ, অন্যদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে তথ্য ও ছবির ব্যাপক বিকৃতি। এই দুটি শক্তি একত্রে বাংলাদেশের মতো দুর্বল গণতান্ত্রিক ও উচ্চ দুর্নীতিগ্রস্ত রাষ্ট্রে একটি বিপজ্জনক বাস্তবতা তৈরি করছে।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

বিশ্ব অর্থনীতির টানাপোড়েন সরাসরি বাংলাদেশের ওপর প্রভাব ফেলে। রপ্তানি খাত, ডলার সংকট, মূল্যস্ফীতি এবং কর্মসংস্থানের চাপ সাধারণ মানুষের জীবনকে কঠিন করে তুলছে। এই চাপের মুখে রাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা বাড়ে। কিন্তু যখন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোই দুর্নীতিগ্রস্ত হয়, তখন এই চাপ সাধারণ মানুষকে আরও অসহায় করে তোলে।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

এই অবস্থায় দুর্নীতি কেবল অর্থনৈতিক সমস্যা থাকে না। এটি ক্ষমতার ভাষা হয়ে ওঠে। মানুষ বুঝে যায় যে নিয়ম মেনে কিছু পাওয়া কঠিন, কিন্তু প্রভাব থাকলে সব সম্ভব। ফলে দুর্নীতি মোকাবিলার নৈতিক শক্তিটাই দুর্বল হয়ে পড়ে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরেকটি নতুন বাস্তবতা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা তৈরি ছবি, ভিডিও ও তথ্য। বাংলাদেশের মতো দেশে যেখানে স্বাধীন ও শক্তিশালী তথ্য যাচাই ব্যবস্থা দুর্বল, সেখানে এআই দ্বারা তৈরি বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট সহজেই সত্য হিসেবে ছড়িয়ে পড়ে।

রাজনৈতিক বক্তব্য, সামাজিক অস্থিরতা, আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র কিংবা অর্থনৈতিক সংকট, সব কিছুর ক্ষেত্রেই এখন এমন ছবি ও ভিডিও দেখা যায় যেগুলো মানুষের আবেগকে উসকে দেয়, কিন্তু সত্য যাচাই করার সুযোগ বা সক্ষমতা খুব কম মানুষের থাকে।

এখানেই দুর্নীতি ও এআই একে অপরকে শক্তিশালী করে। দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা থাকে না। স্বচ্ছতা না থাকলে সত্য যাচাই করা কঠিন হয়। আর যখন সত্য অস্পষ্ট থাকে, তখন এআই দ্বারা তৈরি মিথ্যা সহজেই জায়গা করে নেয়।

এই পরিস্থিতিতে দুর্নীতিবাজদের জন্য এআই একটি কার্যকর ঢাল। বিভ্রান্তি যত বাড়ে, জবাবদিহি তত কমে। মানুষ যখন নিশ্চিত হতে পারে না কোনটি সত্য আর কোনটি সাজানো, তখন রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতাও ধোঁয়াশার আড়ালে হারিয়ে যায়।

প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশ কীভাবে এই বাস্তবতাকে মোকাবিলা করবে।

প্রথমত, দুর্নীতিকে কেবল নৈতিক ব্যর্থতা হিসেবে দেখলে চলবে না। এটি একটি কাঠামোগত সমস্যা। যতদিন রাজনৈতিক ক্ষমতা, অর্থনীতি ও প্রশাসন জবাবদিহির বাইরে থাকবে, ততদিন দুর্নীতি স্বাভাবিক আচরণ হিসেবেই চলতে থাকবে।

দ্বিতীয়ত, এআই ও তথ্য প্রযুক্তিকে আলাদা কোনো বিলাসী বিষয় হিসেবে দেখা যাবে না। এটি এখন জাতীয় নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক টিকে থাকার প্রশ্ন। রাষ্ট্রকে বাধ্যতামূলকভাবে স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশ, ডিজিটাল ট্রেসেবিলিটি এবং ভুয়া কনটেন্ট শনাক্ত করার সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে।

তৃতীয়ত, সাধারণ মানুষের তথ্য বোঝার ক্ষমতা বাড়ানো ছাড়া কোনো সমাধান টেকসই হবে না। মানুষ যদি না বোঝে কীভাবে ছবি বানানো হয়, কীভাবে ভিডিও বিকৃত করা হয়, তাহলে তারা সব সময় শক্তিশালীদের তৈরি বাস্তবতার শিকার হবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো রাজনৈতিক সদিচ্ছা। দুর্নীতিকে যদি সত্যিই মোকাবিলা করতে হয়, তাহলে ক্ষমতাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড়ানোর সাহস দেখাতে হবে। এআই বা বৈশ্বিক অর্থনীতিকে অজুহাত বানিয়ে রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতা ঢেকে রাখলে সংকট আরও গভীর হবে।

বাংলাদেশ আজ এমন এক মোড়ে দাঁড়িয়ে যেখানে অর্থনীতি, প্রযুক্তি ও তথ্য একসঙ্গে মানুষের জীবন নির্ধারণ করছে। এই বাস্তবতায় দুর্নীতিকে স্বাভাবিক ধরে নেওয়া মানে ভবিষ্যৎকে পরিকল্পিতভাবে দুর্বল করে দেওয়া।

প্রশ্ন এখন একটাই। বাংলাদেশ কি এই নতুন বাস্তবতাকে চিনে ব্যবস্থা নেবে, নাকি বিভ্রান্তি, দুর্নীতি ও বৈষম্যের মধ্যেই এগিয়ে যেতে থাকবে।

আসন্ন নির্বাচন ও নতুন ঝুঁকির বাস্তবতা

এই প্রেক্ষাপটে আসন্ন নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা তৈরি ছবি, ভিডিও ও তথ্য নির্বাচনী পরিবেশকে সহজেই প্রভাবিত করতে পারে। সহিংসতা, জনসমর্থন কিংবা রাষ্ট্রীয় অবস্থান সংক্রান্ত ভুয়া কনটেন্ট ভোটারদের আবেগকে উসকে দিতে পারে, যার সত্যতা যাচাই করার সক্ষমতা অনেকের নেই।

যখন নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর আগে থেকেই আস্থার সংকট থাকে, তখন এই ধরনের বিভ্রান্তি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা দুর্বল থাকায় প্রকৃত অনিয়ম এবং কৃত্রিমভাবে তৈরি বিভ্রান্তির মধ্যে পার্থক্য করা কঠিন হয়ে পড়ে। এর ফল হিসেবে ভোটার আস্থা ক্ষয় হয় এবং গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ কমে যায়।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কয়েকটি বিষয় জরুরি হয়ে উঠেছে। প্রথমত, নির্বাচনী সময় তথ্য ও ভিজ্যুয়াল কনটেন্ট যাচাইয়ের জন্য স্বাধীন ও কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা। দ্বিতীয়ত, রাষ্ট্রীয় ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের তথ্য প্রকাশে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। তৃতীয়ত, সাধারণ মানুষের মধ্যে এআই ও ডিজিটাল কনটেন্ট সম্পর্কে ন্যূনতম সচেতনতা তৈরি করা, যাতে তারা বিভ্রান্তিকে প্রশ্ন করতে পারে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো রাজনৈতিক সদিচ্ছা। যদি নির্বাচনকে সত্যিকার অর্থে বিশ্বাসযোগ্য করতে হয়, তাহলে প্রযুক্তি বা বৈশ্বিক পরিস্থিতিকে অজুহাত না বানিয়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। নইলে এআই দ্বারা তৈরি বিভ্রান্তি এবং পুরনো দুর্নীতির সংস্কৃতি একসঙ্গে নির্বাচনকে অর্থহীন করে তুলবে।

রহমান মৃধা, গবেষক ও লেখক, সাবেক পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন
rahman.mridha@gmail.com

শেয়ার করুন:-
পুরো সংবাদটি পড়ুন

মত দ্বিমত

নতুন বিশ্বে বিজ্ঞান, ক্ষমতা-গণতন্ত্র ও আমরা

Published

on

দরপতনের

প্রযুক্তির এই যুগে বিজ্ঞানের অগ্রগতি কি ইউরোপে, আমেরিকায়, না-কি চীনে- এই প্রশ্নের সহজ উত্তর নেই। কারণ বিজ্ঞান এখন আর একক কোনো ভূখণ্ডের সম্পদ নয়। তবে ক্ষমতা, নিয়ন্ত্রণ এবং দিকনির্দেশ এখনো কিছু নির্দিষ্ট কেন্দ্রে কেন্দ্রীভূত। এবং এটাই মূল কারণ, যে আমরা আজ বিজ্ঞানকে কেবল প্রযুক্তির প্রেক্ষাপটে দেখতে পারি না; এটি নৈতিকতা, রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এবং মানুষের দায়িত্বের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।

আমেরিকা দীর্ঘদিন ধরে বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবনের নেতৃত্ব দিয়েছে। সিলিকন ভ্যালি, এমআইটি, হার্ভার্ড, নাসা—এই প্রতিষ্ঠানগুলো কেবল প্রযুক্তি নয়, একটি দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বায়োটেকনোলজি, মহাকাশ গবেষণা এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম অর্থনীতিতে আমেরিকার প্রভাব এখনো প্রবল। তবে এই অগ্রগতি মূলত কর্পোরেট মুনাফা এবং সামরিক কৌশলের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। ফলে প্রশ্ন ওঠে—এই বিজ্ঞান কি মানবকল্যাণের জন্য, না ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

ইউরোপ ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছে। তারা তুলনামূলকভাবে ধীর, কিন্তু নৈতিকতা ও নিয়ন্ত্রণে শক্ত। তথ্য সুরক্ষা, মানবাধিকার, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, টেকসই উন্নয়ন—এই ক্ষেত্রগুলোতে ইউরোপ একটি ভারসাম্যপূর্ণ বিজ্ঞানচিন্তা গড়ে তুলেছে। ইউরোপীয় বিজ্ঞান কম দৃশ্যমান হলেও দীর্ঘমেয়াদে মানব সভ্যতার জন্য হয়তো বেশি নিরাপদ। এখানে প্রশ্ন আসে—গতির চেয়ে দিকনির্দেশ কি বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

আর চীন। গত দুই দশকে চীন দেখিয়েছে যে রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা এবং বিপুল বিনিয়োগ দিয়ে বিজ্ঞানকে কীভাবে দ্রুত এগিয়ে নেওয়া যায়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি, ফাইভ জি, মহাকাশ গবেষণায় চীন আজ আর অনুকরণকারী নয়, প্রতিদ্বন্দ্বী। তবে এই অগ্রগতির সঙ্গে আছে নজরদারি, তথ্য নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যক্তিস্বাধীনতার সীমাবদ্ধতা। ফলে বিজ্ঞান এখানে একদিকে বিস্ময়কর, অন্যদিকে উদ্বেগজনক।

এই তিন শক্তির তুলনায় একটি মৌলিক সত্য স্পষ্ট হয়। আজকের বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি শুধু আবিষ্কারের প্রশ্ন নয়। এটি মূলত মূল্যবোধের, নৈতিক দায়িত্বের এবং শক্তির ব্যবহারের প্রশ্ন। কে সিদ্ধান্ত নেবে প্রযুক্তি কীভাবে ব্যবহার হবে। কে এর সুফল পাবে। কে এর ক্ষতির বোঝা বহন করবে। এবং এটিই নির্ধারণ করবে, বিজ্ঞান মানবিক হবে কি না।

মানবজাতির সামনে নতুন পৃথিবীর সন্ধান তখনই সম্ভব, যখন বিজ্ঞান কেবল শক্তির হাতিয়ার থাকবে না, বরং ন্যায়বোধ, সহানুভূতি এবং দায়িত্বশীলতার সঙ্গে যুক্ত হবে। প্রযুক্তি যদি মানুষের কর্মসংস্থান কেড়ে নেয়, গোপনীয়তা ধ্বংস করে, যুদ্ধকে আরও নিখুঁত করে তোলে, তাহলে সেটি অগ্রগতি নয়, তা কেবল উন্নত ধ্বংস।

বর্তমান প্রতিবেদন ও গবেষণা দেখায়, চীনে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে বেশি গবেষক কর্মরত। শুধু সংখ্যাই নয়, প্রভাবের দিক থেকেও চীনা গবেষণা এগিয়ে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক গবেষণায় চীনা প্রকাশনা এখন বেশি উদ্ধৃত হচ্ছে, যা প্রমাণ করে যে এই গবেষণাগুলো বিশ্বজুড়ে জ্ঞান উৎপাদনের মূল স্রোতে যুক্ত হচ্ছে। বিশেষ করে ম্যাটেরিয়াল ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, ইঞ্জিনিয়ারিং, ডেটা ও কম্পিউটার বিজ্ঞান এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে চীনা গবেষকদের কাজ এখন বৈশ্বিক মানদণ্ড নির্ধারণে ভূমিকা রাখছে।

সদ্য প্রকাশিত সুইডিশ টেলিভিশনের একটি প্রতিবেদনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে, বিষয়ভিত্তিক র‍্যাঙ্কিংয়ে বিশ্বের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে নয়টি এখন চীনে অবস্থিত। এটি বোঝায় যে চীন কেবল গবেষণাপত্রের পরিমাণ বাড়াচ্ছে না, বরং দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোও গড়ে তুলেছে যেখানে উচ্চমানের গবেষণা ধারাবাহিকভাবে সম্ভব হচ্ছে।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাইমন মার্জিনসন উল্লেখ করেছেন, বহু চীনা গবেষক যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার প্রশিক্ষণ নিলেও শেষ পর্যন্ত নিজ দেশে ফিরে যাচ্ছেন। কারণ সেখানে তারা পাচ্ছেন গবেষণার জন্য পর্যাপ্ত অর্থায়ন, আধুনিক অবকাঠামো এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার সহায়তা। এই মেধা প্রত্যাবর্তন চীনের গবেষণা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করছে।

তবে এই অগ্রগতির সঙ্গে উদ্বেগও আছে। ইউরোপের নীতিনির্ধারকরা আশঙ্কা করছেন যে গবেষণা সহযোগিতার মাধ্যমে সংবেদনশীল প্রযুক্তি এমন ব্যবস্থার হাতে যেতে পারে যেখানে স্বচ্ছতা ও স্বাধীনতা সীমিত। এই উদ্বেগ অমূলক নয় এবং ইউরোপের অনেক দেশই এখন এই প্রশ্নে দ্বিধান্বিত। অন্যদিকে, বহু বিশ্ববিদ্যালয় রেক্টর মনে করেন, বৈজ্ঞানিক সহযোগিতা বন্ধ করলে তা শেষ পর্যন্ত ইউরোপের নিজের ক্ষতিই ডেকে আনবে। কারণ বিজ্ঞান কখনোই সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন পরিবেশে বিকশিত হয় না। জ্ঞান আদানপ্রদান বন্ধ হলে গবেষণার গতি কমে যায় এবং বৈশ্বিক সমস্যার সমাধান আরও কঠিন হয়ে ওঠে।

এবার আসি গণতন্ত্র এবং চীনের উদাহরণের দিকে। চীন একটি জনবহুল রাষ্ট্র, যেখানে গণতন্ত্র নেই, রাজনৈতিক স্বাধীনতা সীমিত, মতপ্রকাশ নিয়ন্ত্রিত। তারপরও সেই চীন প্রযুক্তি, বিজ্ঞান এবং ভূরাজনীতিতে প্রতিদিন বিশ্বকে চমকে দিচ্ছে। অন্যদিকে বহু দেশ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নামে সংগ্রাম করেও শেষ পর্যন্ত স্বৈরাচারী শাসনের শিকার হচ্ছে। এই বৈপরীত্যের কারণ বোঝার জন্য আবেগ নয়, রাষ্ট্রের কাঠামো, ক্ষমতার ব্যবহার এবং মানুষের নৈতিক দায়িত্ব ও কার্যকর কর্মকাণ্ড বিবেচনা করতে হবে।

চীনে রাষ্ট্রের লক্ষ্য দীর্ঘমেয়াদি এবং স্পষ্ট। প্রযুক্তি, শিল্প, শিক্ষা ও সামরিক সক্ষমতা রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকার। ক্ষমতাসীন দল বদলালেও লক্ষ্য বদলায় না। সেখানে শাসক ব্যক্তির নয়, রাষ্ট্রের ধারাবাহিকতা ও নৈতিক দিকই মুখ্য।

অন্যদিকে বহু গণতন্ত্রপ্রত্যাশী দেশে রাজনীতি ব্যক্তি কেন্দ্রিক। ক্ষমতায় যাওয়াই লক্ষ্য, রাষ্ট্র পরিচালনা নয়। নির্বাচনের পর রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দলীয় সম্পদে পরিণত হয়। ফলে গণতন্ত্র নামের কাঠামো থাকলেও বাস্তবে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হয়।

চীন দশকভিত্তিক পরিকল্পনায় কাজ করে। শিক্ষা সংস্কার, গবেষণা বিনিয়োগ, শিল্প নীতি—সবকিছু দীর্ঘ সময় ধরে এগোয়। আজ যে প্রযুক্তিগত সাফল্য দেখা যাচ্ছে, তার ভিত্তি তৈরি হয়েছে বিশ বা ত্রিশ বছর আগে। গণতন্ত্রের নামে পরিচালিত বহু দেশে রাজনীতি চলে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দিয়ে। পাঁচ বছরের মধ্যে ফল দেখাতে না পারলে পরিকল্পনা বাতিল হয়। রাষ্ট্র এখানে ভবিষ্যৎ গড়ে না, বরং ভোট টিকিয়ে রাখে।

চীনে প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষমতাসীন দলের অধীনে থাকলেও কার্যকর। গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্প খাত রাজনৈতিক অস্থিরতায় ভোগে না। স্বৈরাচারের শিকার গণতন্ত্রগুলোতে প্রতিষ্ঠান দুর্বল। আদালত, প্রশাসন, শিক্ষা ব্যবস্থা দলীয় নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। ফলে গণতন্ত্র নিজেই নিজের বিরোধী শক্তিতে রূপ নেয়।

চীন তার মেধাকে কাজে লাগাচ্ছে। বিদেশে পড়া গবেষকদের দেশে ফেরার পরিবেশ তৈরি করছে। গবেষণার জন্য অর্থ, ল্যাব, সম্মান নিশ্চিত করছে। অন্যদিকে বহু দেশে শিক্ষিত তরুণরা রাষ্ট্রের বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। রাজনৈতিক আনুগত্য ছাড়া সুযোগ নেই। মেধা দেশ ছাড়ে, রাষ্ট্র শূন্য হয়।

সবচেয়ে কঠিন সত্য হলো—গণতন্ত্র কোনো যাদু নয়। এটি একটি ব্যবস্থা। যদি সেই ব্যবস্থার ভেতরে জবাবদিহি, নৈতিকতা এবং শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান না থাকে, তবে গণতন্ত্র স্বৈরাচার উৎপাদন করতে পারে। চীন দেখাচ্ছে উন্নয়ন গণতন্ত্রের পূর্বশর্ত নয়। আবার অনেক দেশ প্রমাণ করছে গণতন্ত্র উন্নয়নের নিশ্চয়তা নয়।

এই বাস্তবতা আমাদের একটি অস্বস্তিকর প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করায়। আমরা কি সত্যিই গণতন্ত্র চাই, নাকি কেবল ক্ষমতায় যাওয়ার একটি সিঁড়ি হিসেবে একে ব্যবহার করছি।

মানবজাতির সামনে নতুন পৃথিবীর সন্ধান তখনই সম্ভব, যখন বিজ্ঞান কেবল শক্তির হাতিয়ার থাকবে না, বরং মানবিক দিক, নৈতিক দায়িত্ব এবং সচেতন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হবে। প্রযুক্তি যদি মানুষের জীবনকে শোষণ করে, গোপনীয়তা ধ্বংস করে, যুদ্ধকে আরও নিখুঁত করে তোলে, তাহলে সেটি অগ্রগতি নয়।

প্রকৃত সত্য হলো—ভবিষ্যৎ ইউরোপ, আমেরিকা বা চীনের একক মালিকানায় নয়। ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে এই প্রশ্নের উত্তরের ওপর। আমরা কি বিজ্ঞানকে মানুষের জন্য ব্যবহার করব, না মানুষকে বিজ্ঞানের পরীক্ষাগারে পরিণত করব। এই প্রশ্নের উত্তরই নির্ধারণ করবে নতুন পৃথিবী আসলেই মানবিক হবে কি না।

চীনের উদাহরণ আমাদের শেখায় যে রাষ্ট্র গড়তে হলে প্রয়োজন: দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টি, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, মেধার সম্মান এবং পরিকল্পনার ধারাবাহিকতা। আর গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে হলে প্রয়োজন: নৈতিক নেতৃত্ব, জবাবদিহি এবং ক্ষমতার সীমা নির্ধারণ। এই দুটি একসাথে না চললে গণতন্ত্রও স্বৈরাচার জন্ম দেবে, আর উন্নয়ন মানবিক হবে না। এটাই যদি আজকের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হয়, তবে আমাদের অবস্থান কোথায়?

রহমান মৃধা, সাবেক পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন। rahman.mridha@gmail.com

শেয়ার করুন:-
পুরো সংবাদটি পড়ুন

মত দ্বিমত

দেশ বদলাচ্ছে, নাকি পুরোনো রাজনীতি নতুন ভাষায় ফিরছে?

Published

on

দরপতনের

দেশ বদলাচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আমরা কি সত্যিই নতুন কিছু দেখছি, নাকি পুরোনো কাহিনি নতুন মোড়কে আমাদের সামনে ফিরে আসছে?

আগামী দিনগুলোতে লক্ষ্য করলে দেখবেন, সারা দেশের গণমাধ্যমে তারেক রহমানকে ঘিরে এক ধরনের প্রশস্তি আর গুণগানের স্রোত বইতে শুরু করবে। সংবাদ শিরোনাম, টক শো, বিশ্লেষণ, প্রচার সবকিছু এমনভাবে সাজানো হবে যেন সাধারণ মানুষের বিবেক ধীরে ধীরে প্রভাবিত হয়। এই প্রক্রিয়ায় একদিকে যেমন নির্দিষ্ট একটি নেতৃত্বকে অতিরঞ্জিতভাবে তুলে ধরা হবে, অন্যদিকে জামায়াত ও এনসিপির বিরুদ্ধে নানামুখী অপপ্রচার চলবে নীরবে কিন্তু পরিকল্পিতভাবে।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

এই বাস্তবতায় ভারতও আলাদা কোনো পথ নেবে না। তারেক রহমানের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়বে। দলের চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার প্রেক্ষাপটে ঢাকাস্থ হাইকমিশনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী মোদির শুভেচ্ছা বার্তা পৌঁছে দেওয়া হবে। সাংবাদিকদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ, ব্যক্তিগত মতবিনিময় এবং নরম ভাষায় ভিন্ন সুর তুলে ধরে জাতির সামনে একটি বার্তা দেওয়া হবে। দেখো, অতীতের সাংবাদিক সম্মেলনের সঙ্গে বর্তমানের কত পার্থক্য।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

অনেকে ভাবতে পারেন, এসব ছোটখাটো বিষয় নিয়ে এত গুরুত্ব দেওয়ার কারণ কী। কিন্তু এগুলো মোটেও ছোটখাটো নয়। বিশেষ করে যারা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে, তারা জানে এ দেশের মানুষ কীভাবে ভাবতে ভালোবাসে এবং সেই ভাবনাকে কীভাবে কৌশলে পৌঁছে দেওয়া যায়।

স্বৈরাচার সরকারের সময় একটি নির্দিষ্ট কৌশল অনুসরণ করা হয়েছিল। জনগণকে দেখানো হয়েছিল সরকার কতটা শক্তিশালী, কতটা কঠোর, কতটা ক্ষমতাবান। এবার সেই কৌশলের ভাষা বদলেছে। এবার তুলে ধরা হচ্ছে উদারতা, মানবিকতা, মহানুভবতার ছবি। কৌশল বদলালেও লক্ষ্য বদলায়নি। এর নামই রাজনীতি।

এই জায়গায় এসে একটি প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়া যায় না। যদি শেষ পর্যন্ত একই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়, তাহলে শেখ হাসিনার সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানোর প্রয়োজনটাই বা কী ছিল? ঘড়ির কাঁটা কি তবে শুধু বারোটার চারপাশেই ঘুরে গেল?

এই রাজনৈতিক বাস্তবতার মাঝেই আমি আরেকটি দৃশ্য গভীর মনোযোগ দিয়ে লক্ষ করছি। ছাত্রশিবিরের নেতৃত্ব আজ যে মাত্রার শক্তি ও সৃজনশীলতার পরিচয় দিচ্ছে, তা সত্যিই ব্যতিক্রমী। বর্তমান বিশ্ব রাজনীতির দিকে তাকালে দেখা যায় নোংরামি, দুর্নীতি, লুটপাট, সন্ত্রাস, নৈরাজ্য আর বিশৃঙ্খলার এক ভয়াবহ চিত্র। ঠিক এই সময়ে বাংলাদেশের মতো একটি দেশে ছাত্রশিবিরের নবজাগরণ শুধু একটি রাজনৈতিক ঘটনা নয়, এটি নৈতিকতার পুনরুদ্ধার।

রাজনীতি যে কেবল ক্ষমতা দখলের খেলা নয়, বরং নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং সহাবস্থানের দায়ও বহন করতে পারে এই বার্তাই তারা দিচ্ছে। মানবজাতির সবচেয়ে বড় পরিচয় তখনই স্পষ্ট হয়, যখন একজন নারী একজন পুরুষের পাশে নিজেকে নিরাপদ মনে করে। তখনই বোঝা যায়, সমাজে মানবিকতার ভিত্তি এখনও অটুট।

গত কয়েক মাসে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে যে মায়াবী, মধুর সম্পর্ক গড়ে উঠতে দেখেছি, তা আমাকে এই বিশ্বাস দিয়েছে, ছাত্রশিবিরের কাছে বাংলাদেশের নারী নিরাপদ। আর নারী যখন নিরাপদ, তখন পুরো বাংলাদেশই নিরাপদ। এই বাস্তবতায় আমাদের সামনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি দাঁড়িয়ে আছে আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে। নির্বাচন শুধু ভোটের হিসাব নয়, এটি নিরাপত্তা, আস্থা এবং ভবিষ্যতের প্রশ্ন।

জাগো বাংলাদেশ, জাগো। সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ভেবে দেখো, আমরা কেবল দৃশ্যের পরিবর্তন চাই, নাকি সত্যিকারের পরিবর্তন?

রহমান মৃধা, সাবেক পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন। rahman.mridha@gmail.com

শেয়ার করুন:-
পুরো সংবাদটি পড়ুন

পুঁজিবাজারের সর্বশেষ

দরপতনের দরপতনের
পুঁজিবাজার5 hours ago

সাপ্তাহিক দরপতনের শীর্ষে ডিবিএইচ ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড

বিদায়ী সপ্তাহে (০১ ফেব্রুযারি-০৫ ফেব্রুযারি) প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) দরপতনের শীর্ষ তালিকার প্রথম স্থানে রয়েছে ডিবিএইচ ফার্স্ট মিউচুয়াল...

দরপতনের দরপতনের
পুঁজিবাজার6 hours ago

সাপ্তাহিক দর বৃদ্ধির শীর্ষে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং

বিদায়ী সপ্তাহে (০১ ফেব্রুযারি-০৫ ফেব্রুযারি) প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) দর বৃদ্ধির শীর্ষ তালিকার প্রথম স্থানে উঠে এসেছে ইন্টারন্যাশনাল...

দরপতনের দরপতনের
পুঁজিবাজার6 hours ago

সাপ্তাহিক লেনদেনের শীর্ষে ব্র্যাক ব্যাংক

বিদায়ী সপ্তাহে (০১ ফেব্রুযারি-০৫ ফেব্রুযারি) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সর্বোচ্চ লেনদেনের তালিকায় শীর্ষস্থান দখল করেছে ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি। সপ্তাহজুড়ে প্রতিদিন...

দরপতনের দরপতনের
পুঁজিবাজার1 day ago

ডিএসইর বাজার মূলধন বাড়লো আরও ৪ হাজার ৪৭৬ কোটি টাকা

দেশের শেয়ারবাজারে সূচকের উত্থানের মধ্য দিয়ে চলতি সপ্তাহে লেনদেন হয়েছে। এতে সপ্তাহ ব্যবধানে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই)...

দরপতনের দরপতনের
পুঁজিবাজার2 days ago

ব্লক মার্কেটে ১৩ কোটি টাকার লেনদেন

সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ব্লক মার্কেটে মোট ২৪টি কোম্পানির ১৩কোটি ৭ লাখ ২১ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন...

দরপতনের দরপতনের
অন্যান্য2 days ago

দরপতনের শীর্ষে রিজেন্ট টেক্সটাইল

সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনে লেনদেন শেষে দরপতনের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে রিজেন্ট টেক্সটাইল...

দরপতনের দরপতনের
পুঁজিবাজার2 days ago

দর বৃদ্ধির শীর্ষে ইবিএল ফাস্ট মিউচুয়াল ফান্ড

সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনে অংশ নেওয়া ৩৯২ কোম্পানির মধ্যে ১২৩ টির শেয়ারদর বৃদ্ধি...

সোশ্যাল মিডিয়া

তারিখ অনুযায়ী সংবাদ

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
১০১১১৩
১৫১৬১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭
দরপতনের
জাতীয়5 minutes ago

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ‘না’ নিয়ে যা বললেন বায়তুল মোকাররমের খতিব

দরপতনের
বিনোদন8 minutes ago

নেদারল্যান্ডসে পুরস্কার জিতল বাংলাদেশি সিনেমা ‘মাস্টার’

দরপতনের
পর্যটন20 minutes ago

ভিজিটর ভিসা নিয়ে যে বার্তা দিল মা‌র্কিন দূতাবাস

দরপতনের
জাতীয়23 minutes ago

হজের ভিসা দেওয়া শুরু ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে

দরপতনের
জাতীয়56 minutes ago

৪ উপায়ে জানা যাবে ভোটকেন্দ্রের তথ্য

দরপতনের
রাজনীতি60 minutes ago

কারাবন্দী সাবেক মন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন মারা গেছেন

দরপতনের
মত দ্বিমত1 hour ago

বাংলাদেশ কি তথ্যযুদ্ধের মধ্যে ঢুকে পড়েছে?

দরপতনের
জাতীয়2 hours ago

ঢাকার ১৪ ও ১৬ আসন সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ, নিরাপত্তার কঠোর বার্তা দিল সেনাবাহিনী

দরপতনের
জাতীয়2 hours ago

দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা প্রত্যাশা করে সরকার: শফিকুল আলম

দরপতনের
জাতীয়2 hours ago

সংসদ নির্বাচনে কোটিপতি প্রার্থীর ভিড়ে ৪১ শতাংশই স্বল্প আয়ের

দরপতনের
জাতীয়5 minutes ago

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ‘না’ নিয়ে যা বললেন বায়তুল মোকাররমের খতিব

দরপতনের
বিনোদন8 minutes ago

নেদারল্যান্ডসে পুরস্কার জিতল বাংলাদেশি সিনেমা ‘মাস্টার’

দরপতনের
পর্যটন20 minutes ago

ভিজিটর ভিসা নিয়ে যে বার্তা দিল মা‌র্কিন দূতাবাস

দরপতনের
জাতীয়23 minutes ago

হজের ভিসা দেওয়া শুরু ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে

দরপতনের
জাতীয়56 minutes ago

৪ উপায়ে জানা যাবে ভোটকেন্দ্রের তথ্য

দরপতনের
রাজনীতি60 minutes ago

কারাবন্দী সাবেক মন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন মারা গেছেন

দরপতনের
মত দ্বিমত1 hour ago

বাংলাদেশ কি তথ্যযুদ্ধের মধ্যে ঢুকে পড়েছে?

দরপতনের
জাতীয়2 hours ago

ঢাকার ১৪ ও ১৬ আসন সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ, নিরাপত্তার কঠোর বার্তা দিল সেনাবাহিনী

দরপতনের
জাতীয়2 hours ago

দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা প্রত্যাশা করে সরকার: শফিকুল আলম

দরপতনের
জাতীয়2 hours ago

সংসদ নির্বাচনে কোটিপতি প্রার্থীর ভিড়ে ৪১ শতাংশই স্বল্প আয়ের

দরপতনের
জাতীয়5 minutes ago

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ‘না’ নিয়ে যা বললেন বায়তুল মোকাররমের খতিব

দরপতনের
বিনোদন8 minutes ago

নেদারল্যান্ডসে পুরস্কার জিতল বাংলাদেশি সিনেমা ‘মাস্টার’

দরপতনের
পর্যটন20 minutes ago

ভিজিটর ভিসা নিয়ে যে বার্তা দিল মা‌র্কিন দূতাবাস

দরপতনের
জাতীয়23 minutes ago

হজের ভিসা দেওয়া শুরু ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে

দরপতনের
জাতীয়56 minutes ago

৪ উপায়ে জানা যাবে ভোটকেন্দ্রের তথ্য

দরপতনের
রাজনীতি60 minutes ago

কারাবন্দী সাবেক মন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন মারা গেছেন

দরপতনের
মত দ্বিমত1 hour ago

বাংলাদেশ কি তথ্যযুদ্ধের মধ্যে ঢুকে পড়েছে?

দরপতনের
জাতীয়2 hours ago

ঢাকার ১৪ ও ১৬ আসন সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ, নিরাপত্তার কঠোর বার্তা দিল সেনাবাহিনী

দরপতনের
জাতীয়2 hours ago

দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা প্রত্যাশা করে সরকার: শফিকুল আলম

দরপতনের
জাতীয়2 hours ago

সংসদ নির্বাচনে কোটিপতি প্রার্থীর ভিড়ে ৪১ শতাংশই স্বল্প আয়ের