জাতীয়
নির্বাচনে ২ দিন সারাদেশে দোকান ও শপিং মল বন্ধ থাকবে
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে আগামী ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি (বুধবার ও বৃহস্পতিবার) ঢাকাসহ সারা দেশের সব দোকান, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং শপিং মল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি।
আজ শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী বৃহস্পতিবার ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন উপলক্ষে ভোট গ্রহণে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে এবং ভোটাধিকার প্রয়োগে সুবিধা দিতে সরকারি সিদ্ধান্তের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আগামী বুধ ও বৃহস্পতিবার সারা দেশে দোকান, বাণিজ্যবিতান ও শপিং মল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক ও কর্মচারীদের জন্য ১০ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। এর ফলে ১০, ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি—টানা তিন দিন ছুটি থাকবে শিল্পকারখানার শ্রমিকদের।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগের দিন ১১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। নির্বাচনের দিন (১২ ফেব্রুয়ারি) এমনিতেই সাধারণ ছুটি থাকে। ভোটের পরের দুই দিন শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি আছে। ফলে নির্বাচন উপলক্ষে টানা কয়েক দিন ছুটি থাকছে।
এমএন
জাতীয়
সংসদ নির্বাচনে কোটিপতি প্রার্থীর ভিড়ে ৪১ শতাংশই স্বল্প আয়ের
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের দাখিল করা হলফনামা বিশ্লেষণে এক চমকপ্রদ আর্থিক চিত্র ফুটে উঠেছে। এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ২ হাজার ২৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ৮৩২ জন প্রার্থীর বার্ষিক আয় ৫ লাখ টাকার কম, যা মোট প্রার্থীর ৪১ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ।
আজ শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘সুশাসনের জন্য নাগরিক’ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, স্বল্প আয়ের এই প্রার্থীদের পাশাপাশি আরও ৭৪১ জন প্রার্থীর বার্ষিক আয় ৫ লাখ ১ টাকা থেকে ২৫ লাখ টাকার মধ্যে, যা মোট প্রার্থীর ৩৬ দশমিক ৫৭ শতাংশ। অর্থাৎ মোট প্রার্থীদের প্রায় চার ভাগের তিন ভাগের বার্ষিক আয় ২৫ লাখ টাকার নিচে।
ডেটা বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২৫ লাখ থেকে ৫০ লাখ টাকা আয় করেন ১৩২ জন প্রার্থী (৬.৫১%)। ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা আয় করেন ৭১ জন (৩.৫০%)। আর ১ কোটির বেশি আয় উল্লেখ করেছেন মাত্র ৯৫ জন প্রার্থী, যা মোটের ৪ দশমিক ৫৯ শতাংশ।
এ ছাড়া ১৫৫ জন প্রার্থী আয় সংক্রান্ত তথ্য অসম্পূর্ণ বা উল্লেখ করেননি, যা মোট প্রার্থীর ৭.৬৫ শতাংশ। বিশ্লেষকদের মতে, আয় গোপন বা অসম্পূর্ণ তথ্য রাজনৈতিক স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করছে।
দলভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, স্বল্প আয়ের প্রার্থীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি কিছু বড় ও মাঝারি রাজনৈতিক দলে। একই সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যেও কম আয়ের অংশ উল্লেখযোগ্য।
অন্যদিকে, ১ কোটির বেশি আয় করা প্রার্থীদের মধ্যে সর্বাধিক ৫১ জন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের, এরপর স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৫ জন এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থী রয়েছেন ৫ জন। এই তথ্য রাজনৈতিক দলগুলোর আর্থিক বৈষম্যের চিত্রও তুলে ধরে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তুলনায় এবার উচ্চ আয়ের প্রার্থীর হার কিছুটা কমেছে। তখন যেখানে ১ কোটির বেশি আয় করা প্রার্থীর হার ছিল ৮.৭৭ শতাংশ, এবারে তা নেমে এসেছে ৪.৫৯ শতাংশে। একইভাবে, ৫ লাখ টাকার কম আয় করা প্রার্থীর হারও কিছুটা কমেছে—তবে এখনও মোট প্রার্থীর প্রায় অর্ধেকই স্বল্প আয়ের।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি একদিকে রাজনীতিতে মধ্য ও নিম্ন আয়ের মানুষের অংশগ্রহণের ইঙ্গিত দিলেও, অন্যদিকে নির্বাচনী ব্যয় ও প্রকৃত আয়ের সঙ্গে হলফনামায় ঘোষিত আয়ের সামঞ্জস্য নিয়েও প্রশ্ন তোলে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আয় কম হলেও অনেক প্রার্থীর ব্যয় ও সম্পদের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি, যা নির্বাচনী রাজনীতিতে অর্থের অপ্রকাশ্য ভূমিকার দিকটি সামনে আনে। তারা বলছেন, হলফনামা সংস্কার ও কঠোর যাচাই ছাড়া প্রকৃত আর্থিক চিত্র পাওয়া কঠিন।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের ৩০০ আসনে মোট ২ হাজার ৩২ জন চূড়ান্ত প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী, প্রত্যেক প্রার্থীকে আয়, সম্পদ, দায়-দেনা ও মামলার তথ্য হলফনামায় উল্লেখ করতে হয়।
এমএন
জাতীয়
আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় ১৬ পুলিশ আহত : ডিএমপি
হাদি হত্যার তদন্ত ও বিচারের দাবিতে আন্দোলনরত নেতাকর্মী ও নবম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ১৬ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) ডিএমপি কমিশনার গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
ডিএমপি কমিশনার জানান, সংঘর্ষে ডিএমপির বিভিন্ন ইউনিটের অন্তত ১৬ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন একজন অতিরিক্ত ডিআইজি, একজন পরিদর্শক, একজন সার্জেন্ট ও একাধিক কনস্টেবল। তাদের বেশির ভাগেরই হাত, পা ও মাথায় আঘাত লেগেছে। কয়েকজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে, একজনের মাথায় সেলাই দিতে হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেল মোড় এলাকায় হাদি হত্যার বিচার দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের এবং নবম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে সরকারি চাকরিজীবীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। এ সময় আন্দোলনকারীরা প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে গেলে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এমএন
জাতীয়
পোস্টাল ব্যালটে প্রবাসীদের জোয়ার, দেশে পৌঁছেছে ৪ লাখ ২২ হাজার ভোট
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে প্রবাসীদের ভোটাধিকার প্রয়োগে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধনকারী প্রবাসীদের পাঠানো ৪ লাখ ২২ হাজার ৯৬০টি পোস্টাল ব্যালট বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) প্রবাসী ভোটার নিবন্ধনবিষয়ক ‘ওসিভি-এসডিআই’ প্রকল্পের টিম লিডার সালীম আহমাদ খান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, আজ সকাল সোয়া ১০টা পর্যন্ত ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধনকারী প্রবাসীদের কাছে মোট ৭ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬২টি ব্যালট পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ৫ লাখ ২৭ হাজার ৩৩ জন প্রবাসী তাদের ব্যালট গ্রহণ করেছেন এবং ৪ লাখ ৯৪ হাজার ১৮৫ জন ইতোমধ্যে ভোটদান সম্পন্ন করেছেন।
এ ছাড়া ৪ লাখ ৬৮ হাজার ৯১ জন প্রবাসী ভোটার তাদের ব্যালট সংশ্লিষ্ট দেশের পোস্ট অফিস বা ডাক বিভাগে জমা দিয়েছেন।
এর মধ্যে ২ লাখ ২৫ হাজার ১৬৮টি ব্যালট ইতোমধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তারা বুঝে পেয়েছেন।
বিদেশের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে (আইসিপিভি) অবস্থানরত ভোটারদের কাছেও পোস্টাল ব্যালট পাঠানো শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরে ৬ লাখ ৯৪ হাজার ১৪৬ জন নিবন্ধিত ভোটারের ঠিকানায় ব্যালট পাঠানো হয়েছে।
ইসির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আজ শনিবার সকাল সোয়া ১০টা পর্যন্ত দেশের ভেতরে ৩ লাখ ৮১ হাজার ৭ জন ভোটার তাদের ব্যালট গ্রহণ করেছেন।
এর মধ্যে ৩ লাখ ২১ হাজার ৬৯৫ জন ভোট দিয়েছেন এবং ২ লাখ ৭৬ হাজার ২৭২ জন পোস্ট অফিস বা ডাক বাক্সে তাদের ব্যালট জমা দিয়েছেন। রিটার্নিং কর্মকর্তারা এখন পর্যন্ত ৮৩ হাজার ৯৪২টি ব্যালট গ্রহণ করেছেন।
সালীম আহমাদ খান আরও জানান, এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে দেশে ও প্রবাসে মিলিয়ে মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৪ জন ভোটার ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে নিবন্ধন করেছেন।
এমএন
জাতীয়
দুর্গম ২৭টি ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তায় ৬ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন
আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে খাগড়াছড়ির পানছড়ি ও দীঘিনালা উপজেলার ২১.৮ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকাসহ নিরাপত্তা নিশ্চিতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। পানছড়ি ব্যাটালিয়নের (৩ বিজিবি) আওতায় থাকা দুর্গম ২৭টি ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় ইতোমধ্যে ৬ প্লাটুন সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিজিবি সদর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নির্বাচনী দায়িত্বের অংশ হিসেবে পানছড়ি উপজেলার ২৫টি এবং দীঘিনালা উপজেলার বাবুছড়া ইউনিয়নের ১টি। ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা জোরদারে গত ৩০ জানুয়ারি পানছড়ি উপজেলায় ৪টি বেইজ ক্যাম্প স্থাপন করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ৬ প্লাটুন সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
এছাড়া দীঘিনালার দুর্গম পাহাড়ি এলাকা নাড়াইছড়িতে অবস্থিত ১টি হেলি-সাপোর্টেড ভোটকেন্দ্রে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।
মোতায়েন করা বিজিবি সদস্যরা যানবাহন, পায়ে হাঁটা ও নদী পারাপারের মাধ্যমে নিয়মিত ডমিনেশন টহল পরিচালনা করছেন। একই সঙ্গে ভোটকেন্দ্র ও আশপাশের এলাকায় ড্রোন নজরদারি, বডি ওর্ন ক্যামেরা এবং আধুনিক রায়ট কন্ট্রোল সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে। নির্বাচন উপলক্ষে লোগাং বিজিবি ক্যাম্প ও গিলাতলী বিওপি এলাকায় ২টি চেকপোস্ট স্থাপন করে তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, সে লক্ষ্যে জনসংযোগ, জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম, ঝুঁকি বিশ্লেষণ এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বিত টহল পরিচালনা করা হচ্ছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সারাদেশে উপকূলীয় ৬টি উপজেলা ব্যতীত ৪৮৯টি উপজেলায় ৩৭ হাজারেরও বেশি বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে সীমান্তবর্তী ৬১টি উপজেলায় বিজিবি এককভাবে নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করছে। বিজিবি সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, সততা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে অঙ্গীকারবদ্ধ।
ভোটারদের ভোটাধিকার সুরক্ষা, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় বিজিবি অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।
এমএন
জাতীয়
সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রস্তুতি সম্পন্ন,ভোটারদের অপেক্ষায় কেন্দ্র: ইসি
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের জন্য নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এখন কেবল ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের অপেক্ষা।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা- বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমাদের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন। কিছু আসনে এখনও ব্যালট পাঠানো হয়নি, তবে আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই তা সম্পন্ন হবে।’
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, নির্বাচনে নিরাপত্তা নিশ্চিতে বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এতো বড় পরিসরে ডিপ্লয়মেন্ট এর আগে কখনো দেখা যায়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ভোটার উপস্থিতি প্রসঙ্গে মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, এবারের নির্বাচনে ভোটের হার ৫৫ শতাংশের কম বা বেশি হতে পারে বলে তার ধারণা।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, দেশের ১১৬টি সংসদীয় আসনে ইতোমধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ব্যালট পেপার পৌঁছে গেছে। বাকি সকল আসনে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ব্যালট পেপার পৌঁছানো হবে।
ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, আদালতের নির্দেশে শেষ মুহূর্তে কয়েকজন প্রার্থীর প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ায় কিছু আসনে ব্যালট পুনর্মুদ্রণ করতে হয়েছে। এ কারণেই ব্যালট পেপার পাঠাতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সব আসনে ব্যালট পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে তিনি জানান, নির্বাচনের আগে ও পরে মোট সাত দিন সেনাবাহিনী মাঠে থাকবে, আট দিন আনসার বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে। পুলিশ ইতোমধ্যেই মাঠে রয়েছে এবং সেনাবাহিনীও আংশিকভাবে মোতায়েন রয়েছে।
এছাড়া নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে ১ হাজার ৫০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েন করা হচ্ছে, যারা ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাঠে থাকবেন। মূলত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার দায়িত্বে থাকবেন তারা। বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটদেরও ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সাতদিন মাঠে থাকার কথা রয়েছে।
ইসি সূত্র জানায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, মহিলা ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন এবং হিজড়া ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ২৩২ জন।
ভোটার সংখ্যার দিক থেকে সবচেয়ে কম ভোটার রয়েছে ঝালকাঠি-১ আসনে— ২ লাখ ২৮ হাজার ৪৩১ জন। আর সবচেয়ে বেশি ভোটার রয়েছে গাজীপুর-২ আসনে— ৮ লাখ ৪ হাজার ৩৩৩ জন।
ইসির কর্মকর্তারা জানান, ৩০০ আসনে মোট ২ হাজার ৩৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে জামায়াতে ইসলামীর এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচন বাতিল করা হয়েছে।
নির্বাচনে মোট ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি— ২৮৮ জন। নিবন্ধিত ৯টি রাজনৈতিক দল কোনো প্রার্থী দেয়নি। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী আড়াই শতাধিক বলে জানিয়েছে ইসি।
সারাদেশের ৩০০ সংসদীয় আসনে মোট ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এসব কেন্দ্রে মোট ভোটকক্ষের সংখ্যা ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২টি।
ঢাকা-১২ আসনে সবচেয়ে বেশি, ১৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আর সবচেয়ে কম প্রার্থী রয়েছেন পিরোজপুর-১ আসনে— মাত্র ২ জন।
নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে প্রায় ৮ লাখ কর্মকর্তা নিয়োজিত থাকবেন। এর পাশাপাশি প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য নির্বাচন ও গণভোটে নিরাপত্তা দায়িত্ব পালন করবেন।
পর্যবেক্ষক প্রসঙ্গে ইসি জানায়, ৮১টি দেশি নিবন্ধিত সংস্থার ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন পর্যবেক্ষক দায়িত্ব পালন করবেন। এদের মধ্যে ৭ হাজার ৯৯৭ জন কেন্দ্রীয় পর্যায়ে এবং ৪৭ হাজার ৪৫৭ জন স্থানীয়ভাবে পর্যবেক্ষণে থাকবেন। এছাড়া প্রায় ৫০০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষকও নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন।
পোস্টাল ভোটের মাধ্যমে ভোটদানে মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৪ জন ভোটার নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে প্রবাসী ভোটার ৭ লাখ ৭২ হাজার ৫৪৬ জন এবং দেশের অভ্যন্তরে আইসিপিভি ভোটার ৭ লাখ ৬১ হাজার ১৩৮ জন।
ইতোমধ্যে ৪ লাখ ৮০ হাজার ৪১৬ জন প্রবাসী ভোটার ভোটদান সম্পন্ন করেছেন বলে ইসি জানিয়েছে।
এমএন



